তাদের সবার দৃশ্য দেখে কত ভালো লাগছে। আর এই "মা"ই কিনা একদিন আমাকে আর সাদ কে একা ফেলে চলে গিয়েছিল। সেই কথা মনে করলে আজ ও অন্তর কেপে উঠে। যখন আমি ৮ম শ্রেণী তে পড়ি তখন বাবা ঐ দূর আকাশে চলে গেলেন। তার পর ম্যাট্রিক পর্যন্ত পড়ে যখন কলেজে ভর্তি হলাম তখন পুরো পরিবার মিলে আমার পেছনে লাগলো যে আমাকে বিদেশ এ পাঠাবেন। কারন আমি "বাড়ির বড়" ছেলে। আর আমাদের অঢেল টাকা পয়সা ও নাই যে আমাদেত মন মতো চলবো। তখন আমার বয়স কত হবে আর ষোল কি সতের। আমি ও বুঝে উঠেছিলাম যে পড়ালেখা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না। যে স্বপ্ন ছিল মনের মাঝে পড়ালেখা নিয়ে যে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হব সেটা আর পূরণ হবে না। বলতে বলতে ভিসা ও চলে আসলো একদিন। আমি ও বাড়তি চিন্তা না করে প্রবাসে পাড়ি জমালাম। প্রবাসে জীবন চলছিলো চলার মতন ই। কিন্তু ঘটনা ঘটলো বিদেশ যাওয়ার বছর খানেক পর। হঠাৎ করে একদিন নানু আমাকে ফোন দিলো আর বললো যে আম্মু কে আবার বিয়ে দিতে চান। এবং পাত্র ও ঠিক করে ফেলেছেন। সেই পাত্রের এক ছেলে ও আছে উনিশ কি বিশ বছর বয়সের। তার প্রাক্তন স্ত্রী কোন এক কারনে মারা গেছেন। নানু আমার মতামত চাচ্ছেন। আমি আর কি বলবো পাত্র সহ নিয়ে এসে আমাকে জিজ্ঞাস করছে যে আমার মতামত কি। কেন যেন আমার হাসি পেলো খুব"বেপার টা এমন হয়ে গেলো যে গলায় গামছা আর লুঙ্গি নিয়ে গোসলে যাওয়ার অনুমতি চাচ্ছেন!"। তখন সাদ বড় হয়েছে কিন্তু একা চলার মতন বড় নয়। তারা এটা চিন্তা করলো না যে এরকম কিছু ঘটলে সাদের কি হবে। ও কিভাবে নিজেকে একা একা সামাল দিবে।
Friday, October 30, 2026
৩
তারপর থেকে একা ই হয়ে গেলাম আমরা দুই ভাই। আমি তো দেশের বাহিরেই ছিলাম কিন্তু সাদ বাসায় একা পরে গেল। ওকে নিয়ে ই আমার যত চিন্তা ছিল। তাই ওকে হোস্টেল এ দিয়ে দিলাম এবং আমি ও কাজের প্রতি নজর দিলাম। এভাবে প্রায় বছর পাঁচেক এর মত চললো। এই পাচ বছরে আমি আর দেশের দিকে মুখ করিনি। আমার আগে থেকে ই প্ল্যান ছিল যে দেশে কিছু করার। প্রবাস জীবন বড় অননান্দদায়ক। পরিবার থেকে দূরে থাকা যে কতটা কষ্টের সেটা যারা থাকে তারা ই বোঝে। তাই ভাবলাম এবার দেশে কিছু একটা করবো। ততদিনে সাদ ও বড় হয়ে গিয়েছে। আর আমার হাতে ও বেশকিছু টাকা জমেছে যাতে দুই ভাই মিলে স্বাচ্ছন্দ্যে ছোটখাটো একটা ব্যবসা শুরু করা যাবে। তাই ফিরে এলাম নিজের আপন ভূমি তে। এসে একটা ব্যবসা ধরলাম এবং পাশাপাশি সাদের পড়ালেখা। সাদ তখন অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। তাই পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ততা অনেক তার। জীবন এভাবে ই চলতে থাকলো। চলুক না যতদিন চলতে পারে। কিন্তু বছর দুয়েক আগে সাদ যেন আমার মাথায় চেপে বসলো আমাকে বিয়ে দিবে বলে। আমি বললাম যে আরও কটা দিন যাক না। কিন্তু ও যে নাছোড় বান্দা কিছুতেই মানবে না। আমাকে বিয়ে দিয়ে ই ছারবে। আমাকে নাকি কয়দিন পর আর কেউ মেয়ে ই দিবেনা। আর ওর ও একটা ভাবী চাই। চাই ই চাই। আমার ভাই টার আবদার কখনো ফেলে দেইনি। তাই রাজী হয়ে গেলাম। সাদ ও মাঠে নেমে গেলো ভাবীর খোজে আর অনেক খোজে দেখে বের করলো ওর বর্তমান ভাবী কে। এবং আমাকে বিয়ের পিরিতে বসিয়েই ছাড়ল। তারপর থেকে এই সংসার এর মূল চাবিকাঠি নীলার হাতে। আর এখন ভাগ্য 'মা'কে আবার আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। সবকিছু ই ঠিক আছে কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা। আমার ভাই টাকে ও বিয়ের পিরিতে বসাবো। তাহলে ই পরিবার টা পুরোপুরিভাবে পরিপূর্ণতা পাবে। তাই আমার এই কথা টা 'মা' ও নীলার কাছে বলতে তারা ও রাজী হয়ে গেলো। কারন সাদের ও বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। দিন দুই পর নীলা খোজ দিল যে ওর এক বান্ধবীর ছোট বোন আছে। আমরা দিনক্ষণ ঠিক করলাম যে পরের শুক্রবার তাকে দেখতে যাবো। সে ভাবেই সবাই তৈরি হতে লাগলো। দেখতে দেখতে ই শুক্রবার ঘনিয়ে আসলো। গেলাম আমরা নীলার বান্ধবীর বাড়িতে তার ছোট বোন কে সাদের জন্য দেখতে। মেয়ে দেখার পর আমাদের সবার ই পছন্দ হলো। হবেই না কেন মেয়ে ও ছিলো মাশা-আল্লাহ। এবার শুধু পাকা কথা দেওয়ার বাকি। বাড়ি ফেরার সময় নীলা হঠাৎ বললো ওর মাথা ঘুরাচ্ছে। আমি ওকে ধরতে না ধরতে ই আমার ওপর ঢলে পরলো। অবস্থা দেখি খারাপ। ও অজ্ঞান হয়ে গেছে তাই চটজলদি নিকটস্থ হাসপাতাল এ নিলাম ওকে। ডাক্তার চেকআপ শেষে বললো শরীর দূর্বল তাই এমনটা হয়েছে। এই সময় মহিলাদের একটু সাবধানে চলাফেরা করতে হয় আর পুষ্টিকর খাবার খেতে হয়। আমি জিজ্ঞাস করলা এই সময় মানে?. ডাক্তার উত্তরে বললো যে নীলা মা হতে চলেছে। এটা শ
১
আজ কয়েকদিন যাবত অনুশোচনায় ভুগছি। জিনিস টা কল্পনা করতে ও আমার গা সিওরে উঠে। কি করবো কিছু ভেবে উঠতে পারছি না। নীলা এবং সাদের সাথে ব্যাপার টা শেয়ার করবো ভাবছি। দেখি ও কি বলে। আসলে মূল ঘটনা হল আমার মা। কিছুদিন আগে এক বৃদ্ধাশ্রম এ গিয়েছিলাম তাদের সাথে কিছু সময় কাটাতে। কিন্তু গিয়ে যে তাদের মাঝে আমার মাকে দেখবো সেটা ভাবিনী। চমকে উঠি আমি মাকে তাদের মাঝে দেখে। প্রায় ১২/১৫ বছর পর মাকে দেখলাম। ভেবেছিলাম আমাকে চিনবে না। কিন্তু মা তো মা ই আমাকে চিনতে পেরে জড়িয়ে ধরে সেকি কান্না। কান্না থামাতে বললাম। যা হবার হয়ে গেছে। কিন্তু কিভাবে হলো। কেমনে কি। মাকে বললাম আর আমি মায়ের পায়ের কাছে বসলাম এরপর মাকে জিজ্ঞাস করলাম যে সে এখানে কিভাবে আসলো। মা যা বল্লো তার সার-সংক্ষেপ হচ্ছে তার বর্তমান ছেলের বউ তাকে বাড়িতে ঠাই দেয় নাই।
আপনাদের তো পরিচয় ই দিলাম না। তার আগে ই কত কথা বলে ফেললাম। আমি মারুফ হোসেন। ডাকনাম মীম। একটু আনকমন ই ডাকনাম টা তাই না, কেমন যেন মেয়ে মেয়ে ভাব নামের মাঝে। কি করবো বলুন। নাম তো নাম ই। যকি হোক। আমরা ২ ভাই। আমার ছোট ভাই এর নাম আসাদ হোসেন। আমার থেকে ৩ বছরের ছোট। বাসা ঢাকা জেলার অদূরস্থ কোন এক গ্রাম এ। পরিবার এ বর্তমানে আমরা ৩ জন। আমি, আসাদ, আর আমার একমাত্র বউ আর আসাদের একমাত্র ভাবী নীলা। এই ৩ জন নিয়েই আমাদের ছোট সংসার। আর এই সংসারের একমাত্র চাবিকাঠি নীলার হাতে। মেয়েটা যে কত সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে রেখেছে এই সংসার টাকে একমাত্র সেই জানে। এবার আসল কথায় ফিরি।
সাদ আর নীলাকে যখন মায়ের কথা বললাম তারা তো অবাক হয়ে গেল। নীলা তো আমাকে একপ্রকার ধমকাতে লাগলো যে মাকে এখন পর্যন্ত ওখানে কেন রেখেছি। আমার সাথে করে কেন নিয়ে আসলাম না। সাদ ও তার ভাবীর সাথে তাল মিলাচ্ছে। তখন আমি বললাম যে আজ বিকালে তাদের দুজন কে সাথে করে নিয়ে যেয়ে মাকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসবো। এটা শুনে তবে তারা ঠান্ডা হলো। তো ঐদিন বিকাল বেলায় নীলা এবং সাদকে নিয়ে বৃদ্ধাশ্রম এ গেলাম মাকে আনতে। মাতো তাদের দেখে পাগল প্রায়। দুজন কেই জড়িয়ে ধরে চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিচ্ছে। ঐ বিকালেই মাকে নিয়ে বাসায় ফিরলাম। এতদিন কিভাবে ছিল না ছিল সেগুলো পরে দেখা যাবে। আগে কয়েকদিন রেস্ট করুক। তারপর দেখা যাবে। সাদ আর আমি তো দিনিভর ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকি। আর নীলা তো মা বলতে পাগল।
গল্প: রাক্ষসী বউ (১ম পর্ব )
[প্রথম দেখা]
একটু শান্তিতে ঘুমাচ্ছিলাম কিন্তু
মায়ের তা আর সহ্য হলো নাহ।
সকাল নয়টা না বাঝতেই শুরু করছে
ঘ্যানোর ঘ্যানোর,,,,,
.
_ ওই অভ্র উঠ,,, কি বলেছিলাম
তোকে কালকে…মনে আছে??
মা প্লিজ ওইসব চিন্তা মাথা থেকে
দূর করো,,, আমি এখন ঘরে রাক্ষস
আনতে পারবো নাহ। যাও প্লিজ
_ যাও মানে?? উঠ বলছি…
মা তোমার আর বাবার মাথায় যে ভুত
ডুকছে তা দ্রুত বের করো…
আমি এই মুহূর্তে বিয়ে টিয়ে করতে
পারবো নাহ…….
_ তোকে উঠতে বলছি উঠ,তা না হলে
গায়ে পানি ঢেলে দিবো কিন্তু
.
কি আর করার?? দ্রুত ঘুম থেকে
উঠে গেলাম কেনোনা মা মোটেও
আমাকে ভয় দেখানোর জন্য এই কথা
বলে নাই … একবার যখন বলেছে
না উঠলে পানি ঢেলে দিবে তার মানে
দিবেই,এরোকম ঘটনা আরো আগেও
ঘটেছে….
মায়ের বাদ্য ছেলের মতো উঠে
ওয়াশ রুমে চলে গেলাম। তারপর পরিপাটি
হয়ে খাবার খেতে গেলাম।
এবার শুরু হবে বাবার ঘ্যানোর ঘ্যানোর।
.
কিরে ,,, অফিস কেমন লাগছে???
_ বাবা তুমি প্রত্যেক দিন এই একি
কথা কেনো জিজ্ঞেস করো???
এমনি করি,, আচ্ছা যাই হোক
দেখছিস তো তোর মায়ের একা এই
সংসার চালাতে হিমসিম খায়,,, একটা
ব্যাবস্থা কর, ঘরে বউ দ্রুত আন,,,
_ বাবা বউ আনার কি দরকার??
একটা কাজের মেয়ে আনো সেই
ঘরের সব কাজ করবে…
তাহলে আর কি?? তোর সাথে একটা
কাজের মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেই…
_ এটা কি বললা বাবা???
সত্যি আমার ভাবতেই অবাক লাগে
তোর মতো আবুল কি করে যে আমার
ছেলে হলো ???
_ এটা তুমি বলতে পারলা???
আচ্ছা তোমাদের যা খুশি তাই করো..
আমাকে ফাঁসি কাটে ঝুলিয়ে তোমরা
রাক্ষস আনো….
তার মানে তুই রাজি এই তো???
_ হুম
:আচ্ছা শুন তাহলে,আমরা আজকেই
মেয়ে দেখতে যাচ্ছি….
_ তোমরা অলরেডি মেয়ে ঠিক ও
করে ফেলেছো???
হ্যা রে,,, শুধু তোর মুখ থেকে হ্যা
শোনার জন্য ওয়েট করেছি
_ [ কি বাবা মা রে,,,নিজের ছেলেকে
রাক্ষস এর হাতে তুলে দিচ্ছে তাও আবার
নিজ ইচ্ছায়] মনে মনে বললো অভ্র
কিরে??? কি এতো ভাবছিস??? অফিস
যাবিনা???
_ হুম,যাচ্ছি,,,byeee
bye,, ঠিক করে যাস,,
.
এবার বসের ঘ্যানোর ঘ্যানোর শুরু হবে…….
ওনার ধারনা আমি নাকি ঠিক মত
কাজে মন বসাতে পারছি নাহ
ঘরে বউ আনলে নাকি সব ঠিক হয়ে
যাবে,,, আচ্ছা বিয়ের পর কি বউ
আমার অফিসের কাজ কিরে দিবে???
যে বউ আসলে সব কাজ ঠিকঠাক
হবে,,,
নতুন জব বলে হয়তো একটু
ভুল ত্রুটি হয়,,,স্বাভাবিক,,ব্যাপার,
আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে
তাই বলে বউ আনতে হবে
আমার বন্ধুদের মধ্যে
অনেকেই বিয়ে করছে,,,তাদের অবস্থা
দেখে আমি আর ওই পথে হাটতে
চাইছি নাহ,,কিন্তু আমার ভাগ্য টাই
খারাপ ,,,সবাই আমাকে ধরে
বেঁধে ওই পথেই পাঠাচ্ছে …
আর আমাকে তা নীরবে সহ্য করতে
হচ্ছে,,,
.
অফিসের কাজ শেষে বাসায় আসলাম,,
কলিং বেল দিয়েই যাচ্ছি কিন্তু
কেউ দরজা খুলছে নাহ, হঠাৎ মনে
পড়লো আজকে তো বাবা মা আবার
মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা
এখনো আসে নাই মনে হয়,,
সাইড ব্যাগ থেকে বাসার চাবি নিয়ে
ঘরে গেলাম,,, ফ্রেশ হয়ে একটা ঘুম
দিলাম,,,আল্লাহ জানে এমন শান্তিতে
আর ঘুমাতে পারবো কিনা,,,
তাই এখনি একটু আরামে ঘুম দিলাম
.
ঘুম থেকে ভোর ৫ টায় উঠে গেলাম।
কালকে রাত্রে একটু তাড়াতাড়ি ঘুমাইছি
তাই এতো সকাল উঠতে পারলাম….
আমার আবার খুব ভালো লাগে
সকাল সকাল এক মগ কফি ছাদে
গিয়ে খেতে,,,বিয়ের আগে নিজের
সব ভালো লাগার কাজ গুলো
সেরে ফেলতে চাই। আল্লাহ মালুম
বিয়ের পর আর করতে পারি কিনা
সন্দেহ….
কিছুক্ষন পর দেখি মা ছাদে আসছে
.
কিরে,, এতো সকাল সকাল উঠলি
যে???
_ কালকে দ্রুত ঘুমাইছিলাম তাই…
ওহ,,আচ্ছা ভাল করেছিস,,শুন মেয়ে
আমাদের খুব পছন্দ….
এবার তুই তোর বন্ধুদের সাথে গিয়ে
মেয়েকে দেখে আসিস,,তোর পছন্দ
হলেই ফাইনাল….
_ হুম,,,নিজেকে মারার অস্ত্র দেখতে
যাবো….
এমন ভাবে বলছিস কেন???
তুই একাই বুঝি বিয়ে করছিস,,, তোর
পছন্দ হলে ভাল,না হলে আরো ভাল,,
এই মেয়ের সাথেই তোর বিয়ে ফাইনাল
বুঝলি????
_ হুম,,,
.
আমি আমার মাকে একটু ভয় পাই…
মা যা বলে তাই করে,,,আর একবার
যখন বলেছে বিয়ে করাবে আমাকে
তাহলে করাবেই….
আমার মতো একটা রোমেন্টিক ছেলের
বিয়ে হয়ে গেলে আমার গার্ল ফ্রেন্ড
গুলোর কি হবে আল্লাহই জানেন????
.
এতো দিন আমি মেয়েদের উপর ছুরি
ঘুরাতাম আর এখন রাক্ষস বউ
আমার উপর ছুরি ঘুরাবে…
আমার সুন্দরী সুন্দরী গার্ল
ফ্রেন্ড দের ভুলে এবার নিশ্চয় একটা
রাক্ষুসীর সাথে ঘুরতে হবে।
.
সকাল নয়টায় সব বন্ধুরা চলে এসেছে
মেয়ে দেখতে যাবে বলে…
আসলে আমাকে ফাঁসি কাটে ঝুলাবে
বলে।,,
নিজেরা ঝুলেছে এবার আমাকে
ঝুলাবে
.
১০:৩০ এ বাসা থেকে বের হলাম
ঠিক যায়গায় এসেছি কিন্তু বাসাতো
চিনি
নাহ,,,আর আমার কাছে তাদের নাম্বার ও
নাই,,,কাওকে যে জিজ্ঞেস করবো
তার ও উপাই নাই,,,জিজ্ঞাস করার
মতো কোন মানুষ পাচ্ছি নাহ….
একটা মেয়েকে এতোক্ষনে দেখলাম
আহা মেয়েটা কি সুন্দর,,যদি
মেয়ে দেখতে না আসতাম তাহলে
একেও পটিয়ে ফেলতাম,,,
ইসস মা বাবা যদি এই মেয়েটার সাথে
বিয়ে ঠিক করতো,,,,
যাই হোক এসব ভেবে কোন কাজ
নাই,,,এখন অন্য মেয়েদের দিকে
তাকালেও অপরাধ,
.
_ এই যে শুনছে..????
আমাকে বলছেন???
_ হ্যা ,,,
জ্বী বলেন…
_ আচ্ছা আপনি কি আসিফ চৌধুরী দের
বাসা চিনেন???
কেনো বলুন তো???
_ আমরা ওই বাসায় যাবো
কি দরকারে যাবেন,,,
_ আপনাকে বলবো কেন???
না বললে বাসা দেখাবো নাহ,,
_ কেন???
আমার ইচ্ছা তাই
_ আমরা মেয়ে দেখতে আসছি
ওহহহহ,,,,জ্বী আপনারা সোজা গিয়ে বামে
জান,,,তার একটু সামনে গিয়ে আবার বামে
যাবেন,,,একদম লাষ্টের বাড়ি টা
ওনাদের…
_ আচ্ছা ধন্যবাদ
.
কি মেয়েরে বাবা,,, ধন্যবাদ দিলাম
একবার ঠিক আছে বা ওয়েলকাম ও
বললো নাহ….
যাই হোক মেয়ের বলা পথে গেলাম
ওমা একি এখানে তো
কোন বাড়িই নেই উল্টো ময়লা
ফেলার যায়গা,,, ময়লার গন্ধে মরে
যাওয়ার অবস্থা সবার
বুঝতে পারলাম নাহ
মেয়েটা কেন ডব দিলো….
মাকে ফোন দিলাম,,,দেন কোন রকমে
ওনাদের বাসায় গিয়ে পৌছালাম,,,,
গল্প: রাক্ষসী বউ (২য় পর্ব)
[লাল চোখ]
দুই তিন বার কলিং বেল চাপলাম,,,তারপর
একজন ভদ্র লোক
দরজা খুলে দিলেন,,, মা বার বার করে
বলে দিয়েছে সবাইকে পা ধরে সালাম
করতে,,,মা বলেছে সো করতেই হবে,,
লোকটার পা ধরে সালাম করে বললাম
আসসালামু আলাইকুম আংকেল।…
আমার বন্ধুরা আমার সালাম করা
দেখে পুরো হা করে তাকিয়ে আছে।
ও হ্যা ওদের অবাক হওয়ার ই কথা
আমি জীবনে কাওকে মুখে সালাম
পর্যন্ত দেই নাই আর সেই আমি
পা ধরে সালাম করছি তাই অবাক …
যাই হোক,,ভদ্র লোক আমাদের ভিতরে
নিয়ে গেলেন,,,এবার আরেক জন
লোক আসলো,,ইনি বেশ স্মার্ট
উনি কে ঠিক বুঝতে পারলাম নাহ…
তো এই ভদ্র লোক আমাকে জিজ্ঞেস
করলো..
.
তুমি-ই তাহলে আসফাক এর ছেলে…??
_ জ্বী….
তোমার নাম কি???
_ অভ্র আহসান চৌধুরী
হুম,,,
তো এবার আমি উঠে গিয়ে সালাম
করলাম,,,
মানুষ করে কথা বলার আগে সালাম
আর আমি পরে করলাম।
আচ্ছা তোমরা বসো,,আমি আসতেছি
_ জ্বী…
..
কৌতুহল বসত প্রথম ভদ্র লোক কে
জিজ্ঞেস করলাম উনি কে???
তো ভদ্র লোক বললেন উনিই আসিফ
চৌধুরী,,, আমি তো পুরাই অবাক,,
তাহলে আপনি কে???
আজ্ঞে আমি এই বাড়ির কাজের লোক,,
একটা বড় আকারের লজ্জা পেলাম,,
আরে সালাম করাতে নাহ,,আমি
বন্ধুদের বলে ফেলেছি ইনিই আসিফ
চৌধুরী হবেন হয়তো….
যাই হোক লজ্জা পেয়েছি যে তা বন্ধুদের
বুঝতে দেই নাই,,,ওরা আমার
দিকে কিভাবে যেন তাকিয়ে আছে,,,
আমি জীবনেও এতো নার্বাস ফিল
করি নাই,,,
এর থেকে তো,, ধুর মনে পড়ছে না কি যেন
ভাল,,
অনেক্ষন ধরে বসে আছি,কিন্তু
এই পর্যন্ত কেউ এক গ্লাস পানি
পর্যন্ত দেয়নি…
কি লোকরে বাবা…..
.
আমি একটা ম্যাগাজিন দেখছিলাম
হঠাৎ আমার এক ফ্রেন্ড
ওই অভ্র..
_ কি???
দেখ
_ আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে,,কি
দেখবো????
দেখি ও দরজার দিকে তাকিয়ে
আছে,,এবার আমিও ওইদিকে তাকালাম
ওমা একি এ যে ওই মেয়েটা,,,
দাড়াও মেয়ে এবার তোমার খবর
বের করছি…
.
_ ওই মেয়ে,,তুমি আমাদের ভুল
পথ দেখালে কেনো….
কখন
_ ইয়ে আল্লাহ,,এতো পুরো অস্বীকার
তুমি আমাদের ডাস্টবিনের পথ দেখাও
নাই..???
_ না তো… আর আপনি কে???
আমি কে নাহ,, তার আগে বলো
তুমি কে???
এখানে কেনো???
:মানে টা কি?? আমি আমার বাসায়,,
কিন্তু আপনি এখানে কেনো???
_ এটা তোমার বাসা???
হুম,,আর ভদ্রতা নাই আপনার,,,
চিনেন নাহ জানেন নাহ অথচ তুমি
করে বলছেন….
_ হ্যেহ আপনার ভদ্রতা আছে???
একটা অচেনা লোক কে ভুল যায়গায়
পাঠিয়ে দেন
.
এতোক্ষনে পুরো বাসার সবাই
চলে এসেছে আমাদের জগড়া শুনে
মেয়েটা আস্তে করে ভিতরে ডুকে
গেল,,আমার বন্ধুরা আমাকে সোফায়
এনে বসালো। মেয়ের কথা শুনে তো
আমি পুরাই….
এ কি মেয়েরে বাবা,,,
যাই হোক,,জগড়া করে গলা শুকিয়ে
গেছিল,,একটু পর দেখি ওই মেয়েই
কাপড় পড়ে নাস্তা নিয়ে আসছে,,,
এতোক্ষনে আমি নিশ্চিত হলাম
যে এর সাথে আমার বিয়ে হচ্ছে নাহ,,
এই মেয়ে এই বাসার কাজের মেয়ে
এই মেয়েকে পাত্রি ভেবে
এতোক্ষন একটু ভাব মারলাম
যাতে সে আমাকে ভয় পায়….
.
মেয়েটা সবার হাতে নাস্তা তুলে দিচ্ছে,
কিন্তু আমাকে দিলো নাহ,,,
জগড়া করে ক্ষিদে পেয়ে গেছিল
আরেকটু হলে কান্না করে দিতাম
কিন্তু আমার এক বন্ধু তার হাতের টা
আমার হাতে দিয়ে সে অন্য টা নিলো,,,
মেয়েটা আমার দিকে রক্ত লাল চোখে
তাকিয়ে আছে,,আমি তো
ভয় পেয়ে গেলাম,,, কোথায় ওর আমাকে
ভয় পাওয়ার কথা তা না
আমি পাচ্ছি ওকে ভয়,,,,
তো খাওয়া দাওয়া শেষে আমার
বন্ধুরা বললো মেয়ে কোথায় আন্টি…
আমাদের আবার যেতে হবে….
আন্টির কথা শুনে আমি তো শেষ
এই মেয়েই নাকি পাত্রি
শেষ মেষ সত্যিই একটা রাক্ষস জুটলো
কপালে,,,যে ভাবেই হোক
এই বিয়ে আটকাতে হবে,,,নাহলে
আমি শেষ,,,,
আন্টির কথা শুনে আমার বন্ধুরা
একটা চাপা হাসি নিয়ে আমার দিকে
তাকালো নিজেকে যে অই মুহূর্তে
কি যে করতে ইচ্ছে করছিল….
যাই হোক আমাদের আলাদা কথা
বলতে দেওয়া হলো….
বন্ধুরা বেস্ট অফ লাক দিলো
.
_ এই যে মি:
জ্বী বলেন???
_ আপনার নাম কি???
অভ্র আহসান চৌধুরী (কোথায় আমি
জিজ্ঞেস করবো তা না এই মেয়েটা
জিজ্ঞেস করছে ),,আপনার???
_ মিথিলা…এনিওয়ে আমি যে আপনাকে
ভুল পথ দেখাইছি এটা ভুলেও কাওকে
বলবেন নাহ কিন্তু,,
কেন (ওরে আল্লাহ মেয়ে তো হুমকি
দিচ্ছে,,রাক্ষস কোথাকার )
_ আমি বলছি তাই,,, আর হ্যা আজকে
থেকে সব মেয়েদের সাথে কথা বলা বন্ধ
করবেন,,,আর আমাকে রাক্ষসী বলার
কারনে অনেক বড় দু:খ আছে
আপনার কপালে,,
(মনে বললাম,হায় আল্লাহ এই মেয়ে কি
মনের কথাও বুঝে নাকি,,,নাহ আর কিছু
ভাবা যাবে নাহ মনে মনে)
_ কি হলো চুপ কেন,,,আমার কথা
বুঝেছেন???
হুম,,,
.
বাদ্য বাচ্ছা ছেলের মত মাথা নেড়ে
আসলাম আল্লাহ জানে এবার
না আবার মাথায় চড়ে বসে
একটা অদ্বুত শক্তি আমার মুখ দিয়ে
তখন কথা বের করতে দেয় নাই ….
এর পর ফ্রেন্ড রা কোন রকমে আমাকে
নিয়ে বাসায় ফিরেছে,,,
জীবন নিয়ে আসতে পারছি এই
অনেক ….
মা কে যদি এই কথা টা বলতে পারতাম
ওমা তোমার ছেলে তোমার সব কথা
শুনবে কিন্তু তারপর ও তাকে রাক্ষসীর
হাতে তুলে দিও নাহ
কিন্তু আমি জানি এতে আমি এক
বালতি আফসোস ছাড়া কিছুই পাবো নাহ
মা যখন বলেছে বিয়ে দিবে তার মানে
দিবেই, ,,আর এই মেয়ের সাথেই দিবে
[সুন্দরী রাক্ষুসী]
: এই অভ্র ঘুম থেকে উঠ….
_ ও মা,,আল্লাহ তোমারে এতো মোটা
গলা কেন দিলো,,,আই মিন তোমার
কন্ঠ স্বর,,,
এমন এক চিল্লান দেও যে বুক কেপে
উঠে…
এখন যদি তুই না উঠিস,,,অবস্থা
খারাপ হয়ে যাবে বললাম,,,আমার
কন্ঠ স্বর কে মোটা বলা,,দাড়া দেখাচ্ছি
মজা,,,
_ আউউউউউউউ,,,,
দেখ কেমন মজা,,,এবার না উঠলে
আরো চিমটি কাটবো
..
কি আর করার উঠে গেলাম,,ও হ্যা
এগুলো নতুন ব্যাপার না,, সেই
জ্ঞ্যান হবার পর থেকে প্রতিদিনের
ঘুম আমার এভাবেই ভাঙা হয়
হয়,চিমটি,,,না হয় পানি ঢালা,,আরো
অনেক উপায় আছে যা দারা মা
আমার ঘুম ভাঙায় , এই ধরেন
যেমন : চিমটি,কানে,,,পায়ে,,,নাকে
সুড়সুড়ি দেওয়া,পানি ঢালা,,
আর ওই যে মশলা গুড়ো
করার মেশিং গুলো
আছে নাহ ওগুলো আমার কানের
সামনে বাঝানো …
আরো অনেক কিছু। মা বাবার ঘুম
ও এভাবে ভাঙায়,আল্লাহ জানে
ওই মেয়েটা না আবার এভাবে
আমার ঘুম ভাঙায় ,,,, তাহলে আমি
শেষ ….
কোথায় আমি স্বপ্ন দেখতাম একটা
সুন্দর বউ সকাল বেলা তার
চুলের পানির ঝাপটা দিয়ে আমার
ঘুম ভাঙাবে,,,তার হাতে এক কাপ
চা থাকবে,,সে আআমাকে চা দিবে
আমি চা টা তার হাত থেকে নিয়ে খাবো
আর তাকে একটু পর পর দেখবো,,,
সে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি
দিবে…. আর এখন ভাবছি
আমার বউ এর ই কোন
দরকার নাই,,খাল কেটে কুমির
আনতে কেই বা চায়,,,বলুন???
…….
যাই হোক ঘুম থেকে উঠে ওয়াস
রুমে চলে গেলাম,,,এটাই হয়তো
আমার এক মাত্র শান্তির যায়গা
যেখানে বিয়ের পর বউ ও কিছু
করতে পারবে নাহ,,,আমি প্রায়
মায়ের চিল্লানি শুনে ঘুম থেকে উঠে
বাথরুমে যেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি
আজকেও ঘুমালাম,,,কিছুক্ষন পর
একটা
আওয়াজে আমার ঘুম ভাঙলো,,,
ও হ্যা কে যেন বাথরুমের দরজা
ঢাক্কা দিচ্ছে,,,,বাবারে বাবা কে এমন
জোরে ঢাক্কা দিচ্ছে,,,নিশ্চয় বাবা হবে
কারন ছেলেরা ছাড়া কোন
মেয়ে মানুষ এতো জোরে ঢাক্কাতে
পারে নাহ,,,কিন্তু বাবা তো কখনো
এমন করে নাহ তাহলে কে???
দ্রুত দরজা খুললাম,,আর একটু
হলে দরজা টা ভেঙেই যেতো,,,
দরজা খুলে তো
আমি পুরা হা
.
_ আপনি???
হ্যা আমি,,,এক ঘন্টা হলো আপনার
রুমে বসে আছি,,আন্টি বললো
আপনি ফ্রেশ হচ্ছেন বাথরুমে ।
_ ইয়ে মানে হ্যা,,,কিন্তু আপনি
এখানে কেনো????
আমার শশুর বাড়িতে আমি এসেছি
তাতে আপনার,,কি???
_( এখনো তো বিয়েই হয় নাই
আর এই মেয়ে এখনি শশুর বাড়ির
অধিকার বুঝতে আসছে… )
আমার কি মানে,, ?? আমার রুমে
দাড়িয়ে আমার কি জিজ্ঞেস করছেন??
সাহস তো মন্দ নয় ….
আমার সাহস বরাবরিই একটু বেশি
আর আপনার রুম মানে,,,???
এটা আমার ও রুম আজকে থেকে,,
আপনার মা বলেছে,,,ও হ্যা যেটা
বলছিলাম বাথরুমে কি ঘুমাচ্ছিলেন???
_ (এই কেলো করেছে,,,মেয়েটা জানলো
কিভাবে আমি ঘুমাচ্ছিলাল) আপনি
কি করে জানলেন???
: তার মানে সত্যিই আপনি
ঘুমাচ্ছিলেন??????
_ নাহ,,কখন ঘুমালাম,,আমি
তো,,ফ্রেস হচ্ছিলাম,,,
ফ্রেস হতে কি দুশো ঘন্ট লাগে???
যত্ত সব পাগলের দল,,
_ ( কান্না করা ছাড়া আমার কোন
উপায় নাই)
আচ্ছা দ্রুত এই জামাটা পরে
বের হন….
….
মহারানীর আদেশ অনুসারে
শার্ট টা পরে বের হলাম,,, Opss sorry
রাক্ষুসীর আদেশ অনুসারে
এখনি এরকম করছে বিয়ে হলে
যে কি করবে আল্লাহ ই ভাল জানে
এসে জিজ্ঞেস করলাম, জামা কেন
পড়ালেন??? যা বললো আমি
তো পুরাই শেষ, এখন এই
মাথা ফাটা রোদে কিনা শপিং
করতে যেতে হবে…
মেয়েরা নাকি শপিং করতে
গেলে দোকান থেকে বের-ই হতে
চায় নাহ,,,
বাবা মার বেশির ভাগ জগড়া এই
শপিং করা নিয়েই হয়,,,
বাবা কখনো মা কে নিয়ে শপিং
করতে নিয়ে যেতে চায় নাহ,,,
যাই হোক সাহস করে জিজ্ঞেস করলাম…..
.
_ শপিং এ কেনো???
মানুষ শপিং এ কেনো যায়?? বোকার
মতো প্রশ্ন করেন কেনো???
আবুল কোথাকার…
_ এই যে মিস রাক্ষুসী,,, যাই বলেন
আবুল বলবেন নাহ,,,
কেনো বলবো নাহ,,আবুল কে তো
আবুল-ই বলবো … আর কি বললেন
আপনি?? আমি রাক্ষুসী,,,হ্যা
আমি রাক্ষুসী এবার আমি আপনার
ঘাড় মটকাবো হুহাহাহা,,,,
_ নাহ..
হইছে হইছে চলেন এখন….
.
মিস রাক্ষুসীর পিছন পিছন শপিং এ
গেলাম
আল্লাহ রে এটা মেয়ে নাকি
অন্য কিছু,,,,?? আমাকে কি
পাইছে আল্লাহ মালুম,,,যা যা শপিং
করছে সব আমার হাতে
দিয়ে রাখছে……
আমি যেন ওনার চাকর,,,আর
আমিও কেমন জেনো কার্টুন হয়ে
গেলাম,,যা বলছে তাই করছি,,,
সন্ধার আজান দিয়ে দিবে
একটু পর অথচ এই মেয়ের
শপিং এখনো শেষ হয় নাই,,,
এদিকে ঘামে,,গরমে আমার
অবস্থা পুরাই খারাপ,,,এত্তো
গুলো ব্যাগ নিয়ে আমি হাঁটছি
আর রাক্ষসী টা আরাম
করে হাটছে,, পুরো, মার্কেট টাই
মনে হয় কিনে ফেলবে….
আসে পাশের মানুষ গুলো
আমার দিকে ফেল ফেল
করে তাকিয়ে আছে যেন
আমি জোকার একটা…
আল্লাহ মনে হয় রহমত দিছে
রাক্ষুসী টাকে…
ক্যামনে ক্যামনে বললো,,,চলেন শপিং
শেষ,,,আহ কি শান্তি টাই
না পাইলাম,,
বাসায় যাওয়ার জন্য রিক্সা ডাকতে
গেলাম,,,,
হঠাৎ মেয়েটা এমন জোরে চিৎকার
দিলো যে আমি লাফিয়ে উঠলাম
আর সাথে সাথে আমার হাতের
সব গুলো ব্যাগ পড়ে গেলো…
রাক্ষুসী টা ইয়া বড় চোখ করে
আমার দিকে তাকালো
ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ
হয়ে গেলো….
.
_ কয়টা ব্যাগ ও সামলাতে পারেন
নাহ??? যত্ত সব ছাগল….
আপনি এতো জোরে চিল্লান
দিলেন দেখেই তো,,সব ব্যাগ পড়ে
গেলো….
_ওহ এখন সব দোষ আমার….
আচ্ছা হইছে হইছে রাস্তার মধ্যে
আর…….
চিল্লান দিলেন কেন,,তা এখন বলেন???
_ ফুসকা খাবো, চলেন….
এখন আবার ফুসকা???
_ কেনো ??? কোন সমস্যা?
হ্যা,এখন বাসায় যাবো,,চলেন
_ নাহ আমি ফুসকা খাবো,,,
আপনি চলে যান,,আমি ফুসকা
খেয়ে আসবো….
.
আল্লাহ রে কি ত্যাড়া মেয়েরে বাবা….
এখন একা রেখে চলে গেলে মা
আমাকে মেরেই ফেলবে
কোন উপায় না পেয়ে রাক্ষুসীর
পিছন পিছন গেলাম,,,
_ আপনি খাবেন???
নাহ,,, আপনিই খান, হুহ
_ ঠিক আছে আপনার খাওয়ার দরকার
নাইইই……
……
,,,আমি ব্যাগ গুলো নিয়ে
দাড়িয়ে আছি।,,, আর রাক্ষুসী টা
খাচ্ছে,, দোকানদার টাকেও শান্তি
দিচ্ছে নাহ,এই টক,চায়,এই ঝাল
চায়,,,বুঝি নাহ মেয়েরা
এতো টক ঝাল কিভাবে
খায়,,,
কিভাবে কিভাবে একটা ফুসকা
আমার মুখের সামনে ধরলো
মাথা নেড়ে খেতে বললো
আহ কি রোমেন্টিক সিন,,,
আমি ও ফুসকা টা মুখে নিলাম
ও আল্লাহ রে মরে,,যাচ্ছি,,,
কি ঝাল,,পানি পানি পানি,,,
আমার এই অবস্থা দেখে
রাক্ষুসী টা হা হা হা করে হাসছিল
কোন মতে নিজেকে
সামলে উঠলাম……
নাহ,,মেয়েটা পুরো খারাপ
নাহ,,, আমাকে পানি এনে দিল,পরে,,
তারপর জিজ্ঞেস ও করলো
ঠিক আছেন???
আমিও মাথা নাড়লাম,,,,
সত্যি কথা বলতে মেয়েটা যখন
হাসছিল,,তখন খুব সুন্দর
লাগছিল,,,,
আমার রাক্ষুসী সুন্দরী হবু বউ,,,,
তুমি যদি সবসময় এরোকম হাসি
খুশি থাকতা??? কতই না
ভাল হতো কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য,,তুমি
একটা রাক্ষস ,,,শুধুই রাক্ষস….
সরি,রাক্ষুসী