Friday, October 30, 2026

৩

তারপর থেকে একা ই হয়ে গেলাম আমরা দুই ভাই। আমি তো দেশের বাহিরেই ছিলাম কিন্তু সাদ বাসায় একা পরে গেল। ওকে নিয়ে ই আমার যত চিন্তা ছিল। তাই ওকে হোস্টেল এ দিয়ে দিলাম এবং আমি ও কাজের প্রতি নজর দিলাম। এভাবে প্রায় বছর পাঁচেক এর মত চললো। এই পাচ বছরে আমি আর দেশের দিকে মুখ করিনি। আমার আগে থেকে ই প্ল্যান ছিল যে দেশে কিছু করার। প্রবাস জীবন বড় অননান্দদায়ক। পরিবার থেকে দূরে থাকা যে কতটা কষ্টের সেটা যারা থাকে তারা ই বোঝে। তাই ভাবলাম এবার দেশে কিছু একটা করবো। ততদিনে সাদ ও বড় হয়ে গিয়েছে। আর আমার হাতে ও বেশকিছু টাকা জমেছে যাতে দুই ভাই মিলে স্বাচ্ছন্দ্যে ছোটখাটো একটা ব্যবসা শুরু করা যাবে। তাই ফিরে এলাম নিজের আপন ভূমি তে। এসে একটা ব্যবসা ধরলাম এবং পাশাপাশি সাদের পড়ালেখা। সাদ তখন অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। তাই পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ততা অনেক তার। জীবন এভাবে ই চলতে থাকলো। চলুক না যতদিন চলতে পারে। কিন্তু বছর দুয়েক আগে সাদ যেন আমার মাথায় চেপে বসলো আমাকে বিয়ে দিবে বলে। আমি বললাম যে আরও কটা দিন যাক না। কিন্তু ও যে নাছোড় বান্দা কিছুতেই মানবে না। আমাকে বিয়ে দিয়ে ই ছারবে। আমাকে নাকি কয়দিন পর আর কেউ মেয়ে ই দিবেনা। আর ওর ও একটা ভাবী চাই। চাই ই চাই। আমার ভাই টার আবদার কখনো ফেলে দেইনি। তাই রাজী হয়ে গেলাম। সাদ ও মাঠে নেমে গেলো ভাবীর খোজে আর অনেক খোজে দেখে বের করলো ওর বর্তমান ভাবী কে। এবং আমাকে বিয়ের পিরিতে বসিয়েই ছাড়ল। তারপর থেকে এই সংসার এর মূল চাবিকাঠি নীলার হাতে। আর এখন ভাগ্য 'মা'কে আবার আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। সবকিছু ই ঠিক আছে কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা। আমার ভাই টাকে ও বিয়ের পিরিতে বসাবো। তাহলে ই পরিবার টা  পুরোপুরিভাবে পরিপূর্ণতা পাবে। তাই আমার এই কথা টা 'মা' ও নীলার কাছে বলতে তারা ও রাজী হয়ে গেলো। কারন সাদের ও বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। দিন দুই পর নীলা খোজ দিল যে ওর এক বান্ধবীর ছোট বোন আছে। আমরা দিনক্ষণ ঠিক করলাম যে পরের শুক্রবার তাকে দেখতে যাবো। সে ভাবেই সবাই তৈরি হতে লাগলো। দেখতে দেখতে ই শুক্রবার ঘনিয়ে আসলো। গেলাম আমরা নীলার বান্ধবীর বাড়িতে তার ছোট বোন কে সাদের জন্য দেখতে। মেয়ে দেখার পর আমাদের সবার ই পছন্দ হলো। হবেই না কেন মেয়ে ও  ছিলো মাশা-আল্লাহ। এবার শুধু পাকা কথা দেওয়ার বাকি। বাড়ি ফেরার সময় নীলা হঠাৎ বললো ওর মাথা ঘুরাচ্ছে। আমি ওকে ধরতে না ধরতে ই আমার ওপর ঢলে পরলো। অবস্থা দেখি খারাপ। ও অজ্ঞান হয়ে গেছে তাই চটজলদি নিকটস্থ হাসপাতাল এ নিলাম ওকে। ডাক্তার চেকআপ শেষে বললো শরীর দূর্বল তাই এমনটা হয়েছে। এই সময় মহিলাদের একটু সাবধানে চলাফেরা করতে হয় আর পুষ্টিকর খাবার খেতে হয়। আমি জিজ্ঞাস করলা এই সময় মানে?. ডাক্তার উত্তরে বললো যে নীলা মা হতে চলেছে। এটা শ

No comments:

Post a Comment