Wednesday, December 24, 2025

" বিবাহিত প্রেম"

" বিবাহিত প্রেম"
Writer-Sazia Afrin Sapna

আজ আমাদের দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী। আমি বাজার থেকে গিফট কিনে বাসায় ফিরে দেখি আমার সম্মানিত স্বামী অফিস থেকে বাসায় ফিরে এসেছে। একটা সারপ্রাইজ দিতে চেয়ে ছিলাম কিন্তু সেটা আর হলো না। দরজা খুলেই তার দুটি চোখ অটোমেটিক বড় হয়ে গেলো। হবে না-ই বা কেনো, এমন একটা গিফট এনেছি যেটা লুকিয়ে রাখার মত নয়। সে বিস্ময়কর স্বরে বললো-"মধুর মা তুমি এসব কি এনেছো?"
আমি-"কেনো এর আগে এটা হাটে বাজারে এমনকি মানুষের বাসায় দেখোনী?"
সে-"দেখেছি বাট তুমি এটা কেনো কিনেছো?"
আমি-"তোমার জন্য"
সে-"আমার জন্য মানে?"
আমি-"বিবাহ বার্ষিকীর গিফট এটা"
সে-"এমন গিফট আগে কেউ কখনো তার সদ্য নতুন বরকে দিয়েছে বলে তো মনে হয় না"
আমি-"কেউ দেয়নী আমি দেবো, তোমার আপত্তি আছে?"
সে-"একটু একটু আছে"
আমি-"কেনো?"
সে-"এত বড় গিফট এটা যদি নিই তাহলে তো আমি তোমাকে ভুলে যাবো মধুর মা"
আমি-"সেটাই তো আমি চাই"
সে-"মানে?"
আমি-"আমি চাই তুমি আমাকে ভালো না বেসে এই গিফটটাকে ভালোবাসো"
সে-"না এটা হবে না"
আমি-"হবে না মানে? হইয়েই ছাড়বো"
সে-"জোর করে দেবে নাকি?"
আমি-"অফকোর্স"
সে-"প্লীজ মধুর মা, এটা করো না!"
আমি-"তুমি কথা রাখোনী এটাই তার পানিসমেন্ট"
সে-"কোন্ কথা রাখিনী?"
আমি-"কথা ছিল বিয়ের পর তোমার বুকটা হবে আমার মাথার বালিশ, কিন্তু সেটা তো হয়-ইনী বরং তুমি আমাকে কোলবালিশ বানিয়ে ফেলেছো সো আমি তোমার জন্য কোলবালিশ কিনে এনেছি"
সে-"আসলে ঘুমিয়ে গেলে আমি বেহুশ থাকি মধুর মা, তাই বলে আমার বেহুশ অবস্থার অপরাধের শাস্তি তুমি হুশ থাকা অবস্থায় দিবা এটা কিন্তু অবিচার"
আমি-"হুশ বেহুশ বুঝি না, তোমার জন্য আমি 365+ 365=730দিন ঘুমাতে পারিনী তাই শাস্তি তোমাকে দিয়েই ছাড়বো"
সে-"বাহ্ কি চমৎকার! এত বছর ধরে শুনে আসছি তুমি অংক পারো না আজ দারুণ নির্ভুল যোগ করে ফেললে!"
আমি-"জটিল অংক পারি না তাই বলে যোগ বিয়োগ গুণ ভাগও যে পারি না এটা কবে বললাম?
সে-"সব কি বলতে হয় ম্যাডাম, কিছু কথা বুঝে নিতে হয়"
আমি-"এত্তো কিছু বুঝে নাও আর 730 দিন আমার যে ভাল ঘুম হয়নী সেটা বুঝতে পারো না? এত্তো বাহানা করে কোনো লাভ হবে না মধুর বাবা"
সে-"জানি লাভ হবে না কিন্তু মাথার বালিশটা কার জন্য এনেছো গো?"
আমি-"ওটা আমার জন্য"
আমার কথা শুনে সে এমন একটা হাসি দিলো যেনো আমি হাস্যকর কিছু করেছি। রাগে আমার শরীরে আগুন ধরে গেলো। আমার হাব ভাব দেখে ওর হাস্যজ্জ্বল মুখটা ধপ করে বন্ধ হয়ে গেলো। তারপর সে ভয়ে ভয়ে ফিস ফিস এর চেয়ে সামান্য জোরে বললো-
"জানো মধুর মা, এর আগে কখনো কাউকে দেখিনী যে, কেউ তার নিজের বিবাহ বার্ষিকীর গিফট নিজেই কিনে"
কথাটা বলেই সে বাথরুমে ঢুকে গেলো, বুঝলাম সে পালালো।
আমাদের বেডে একটাই বালিশ আর সেটা অর্নবের মাথার নিচে থাকে। আর আমি অর্নবের বুকে মাথা রেখে ঘুমাই। সকালে জেগে দেখি আমার মাথার নিচে কিছুই নেই। বরং আমি কোলবালিশ হয়ে আছি।

সেদিনের পর থেকে রোজ আমার আর একটা বাড়ছি কাজ যোগ হলো, সেটা হলো সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্লোর থেকে কোলবালিশ কুড়ানো। বুঝিনা রোজ কোলবালিশটা কি করে মেঝেতে পড়ে যায়! কোলবালিশটা কেনার পর থেকেই রাতে আমার একদম ঘুম হয় না। অর্নব যতোবার জেগে যায় ততোবার আমার মাথা টেনে তার বুকে উপর রাখে, আর তখনই আমার ঘুম ভেঙে যায়। হে আল্লাহ্ এই পাগোলটাকে সুস্থ করে দাও!

দুই বছর আগে আমরা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছি। তার আগে আমাদের বছর খানেকের প্রেম ছিল। আমরা অন্যদের মতো খুব বেশী চ্যাটিং করতাম না তবে আমরা ফোনে প্রচুর কথা বলতাম। প্রায় সারা রাত ফোনে কথা বলতাম। সে সময়ই আমাদের বিয়ের পরের সব প্ল্যান করা হয়ে গেছিল। এমনকি ফ্যামিলী প্ল্যানিংও করা হয়ে গেছিল। কয়টা ছেলে মেয়ে নেবো সেই বিতর্কে আমি ওর কাছে হেরে গেছিলাম। শেষমেষ ওর কাছে বিতর্কে হেরে গিয়ে আমি ওর ইচ্ছেকেই মেনে নিয়েছি। শুধু ইচ্ছে বললে ভুল হবে ওটা ছিল ওর শর্ত গুলোর মধ্যে প্রধান শর্ত। শর্তটা হলো আমি কখনো বেবী নিতে পারবো না। এত বড় একটা কঠোর শর্ত পৃথিবীর কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই। এই শর্তটার পেছনে তার উল্লেখ যোগ্য কারণ হলো, "আমি যদি মরে যাই"। কোনো ভাবেই তাকে কিচ্ছু বোঝাতে পারিনী।
সবাই ভাবছেন তাহলে আমি মধুর মা কি করে হলাম তাই না? বিয়ের আগে থেকেই সে আমাকে মধুর মম বলতো আর আমি তাকে মধুর বাপী বলতাম। অথচ মধুই কখনো পৃথিবীতে এলো না।
আমার সারা দিনের একাকীত্বের কষ্ট ভুলিয়ে রাখতে সে প্রচুর বই কিনে আনে,  নতুন নতুন মুভি নাটক ইত্যাদি দেখে আমার দিন কাটে।
অর্নব মূলত খুব রাগী টাইপের কিন্তু সে কখনোই আমাকে রাগ দেখায় না। কিন্তু সে তার শর্ত গুলোর প্রতি আনেক কঠোর। আমার হিজাব ছাড়া বাহিরে যাওয়া যাবে না এটা ছিল তার দ্বিতীয় শর্ত। আমি অবশ্য কখনোই তার শর্ত গুলো ভাঙিনী।কিন্তু আমার শর্ত গুলো  ধীরে ধীরে মরিচা পড়ে গেছে। আমার শর্ত গুলো হলো, সারা জীবণ তাকে আমার প্রেমিক হয়েই থাকতে হবে। তাই সে রোজ গভীর রাতে আমাকে ফোন করে, তারপর আমি পাশের রুমে চলে যাই অতঃপর আমরা ফোনে প্রেমিক প্রেমিকার মত কথা বলি আর পরের দিন কি কি বাজার লাগবে সেটাও ফোনেই সেরে ফেলি। আমরা বিয়ের পর ফোনে কি কি কথা বলি জানেন?
সে-"মধুর মা আজ তুমি গোসল করে ভালো করে চুল মোছোনী, আমি স্পষ্ট দেখেছি তোমার চুল দিয়ে বৃষ্টির মত ঝরঝর করে পানি পড়ছে, এ জন্যই তোমার সারা বছর সর্দি লেগেই থাকে"
আমি-"তুমি লুঙ্গী ঠিকঠাক পরতে পারো না, তাহলে লুঙ্গি পরো কেনো মধুর বাবা?"
সে-"তোমাকে না বলেছি যে তুমি কাপড় কাঁচবা না, আমি অফিস থেকে এসে কাঁচবো; তবুও কেঁচেছো কেনো? আমার একটা কথাও তুমি শোনো না"
আমি-"তোমাকে সকাল বেলা ডাকতে ডাকতে আমি ক্লান্ত হয়ে যাই, এমন ভাল্লুক স্টাইলে তুমি ঘুমাও যে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে তোমাকে ডাকতে হয়। এত ঘুম কই পাও তুমি?"
সে-"আমার সাথে তুমিও একটু ভাল্লুক স্টাইলে ঘুমালেই তো পারো!"
আমি-"আমি যদি তোমার মত ঘুমাই তাহলে তোমার বস খুশি হয়ে বলবে অর্নব সাহেব আপনাকে আর কষ্ট করে অফিসে আসতে হবে না"
সে-"বলেছি তোমাকে ছাদে কাপড় মেলতে যাবা না কারণ পাশের ছাদে একটা লুচু বসে থাকে। ঐ লুচুর কি কোনো কাজ কর্ম নেই নাকি?"
আমি-"তো আমি কি করবো? আমি তো আর ঐ লোককে ছাদে বসে থাকতে অনুরোধ করিনী"
সে-"ঘরে সুন্দরী বউ রেখে কত টেনশনে যে অফিস করি সেটা শুধু আমিই বুঝি।"
আমি-"ওমা তাই নাকি? তো কাল থেকে অফিসে আমাকে সাথে নিয়ে যেও"
সে-"এই না না, আমার বসের চরিত্রও ঠিক নেই"
আমি-"শোনো মধুর বাবা এই সব প্যাঁচাল বাদ দিয়ে কাল কি কি কাঁচা বাজার লাগবে সেটা শোনো"
সে-"আল্লাহর সকালে ঘুম থেকে উঠে এই ভীড় ঠেলে বাজার করতে জঘন্য লাগে মধুর মা"
আমি-"তাহলে আমিই যাবো বাজার করতে"
সে-"এই না না, মেয়েদের এই সব বাজারে যেতে নেই"
আমি-"বলে ছিলে বিয়ের পর ব্রেকফাস্ট তুমি বানাবে অথচ তুমি সকালে দিব্যি ঘুমাও "
সে-"খাবার পুড়ে যায় বলেই তো তুমি ব্রেকফাস্ট বানাতে বারণ করেছো, ভুলে গেছো মধুর মা?"
আমি-"কাল কিন্তু মুভি দেখতে সিনেমাহলে নিয়ে যেতে হবে"
সে-"I love u Janpakhi❤❤"
আমি-"I love u too Pranpakhi💝"

বিয়ের পর থেকেই আমরা এভাবেই ফোনে কথা বলি ঘন্টার পর ঘন্টা। সবাই নিশ্চই বুঝতে পারছেন যে, বিয়ের আগে যে ধরনের কথা হতো সেগুলো বিয়ের পর চেঞ্জ হয়ে গেছে?
বছরখানেক আমাদের বিবাহিত প্রেম রেলগাড়ির মতই চলছিল। আমি পাশের রুমে শুয়ে থেকে ওর সাথে ফোনে কথা বলতাম আর একটু পর পর উঁকি দিয়ে দেখতাম সে কোন্ ভঙ্গিমায় কথা বলছে, মানে বিয়ের আগে কি ধরনের ভঙ্গিমায় থাকতো সেটাই বুঝার চেষ্টা করছিলাম। এক দিন উঁকি দিতে গিয়ে ওর মাথার সাথে এত্তো জোরে ঢিপ খেয়ে ছিলাম যে দু'জনই পড়ে গেছিলাম তারপর তিন দিন মাথায় ব্যাথা হয়ে ছিল।

আমার বরটাকে যতোটা বোকা সোকা ভাবি সে আসলে ততোটা বোকা নয়। খুব কৌশলে সে আমাকে তার আয়ত্তে রাখে। অফিস যাবার সময় আমাকে ওয়াদা করায় যেনো আমি ছাদে গিয়ে বৃষ্টিতে না ভিজি। আমি বর্ষাকালে ওর ওয়াদা ভেঙে বৃষ্টিতে ভিজি। ওর ওয়াদা করানোর কারণ হলো প্রথমত বৃষ্টির পানিতে আমার এলার্জী আছে তাই বৃষ্টিতে ভিজলেই আমার হাচিসহ সর্দি শুরু হয়ে যায়, দ্বিতীয়ত পাশের বাসার ঐ লুচু ভদ্রলোক কাজ নেই কাম নেই এদিকে দূরবিন ধরে রাখে। তবুও আমি মাঝে মাঝেই বৃষ্টিতে ভিজি।

এক দিন অফিস থেকে এসে সে দেখলো আমি সর্দি আর হাচির মেলা বসিয়েছি। রাগে ওর সিংহের মত অবস্থা দেখে আমি ঘুমের ভান করে থাকলাম। সে আমার কপালে হাত দিয়ে দেখলো গায়ে জ্বরও আছে। সারা রাত সে বউ সেবা করলো। আর পরের দিন অফিস যাবার সময় সদর দরজায় তালা মেরে রেখে গেলো। পাক্কা সাত দিন সে আমাকে তালা বন্ধ করে রেখে ছিল। আমিও কম যাই না, আমি জানালা দিয়ে কাপ বাড়িয়ে বৃষ্টির জল ধরে বালতি ভরতাম তারপর গোসল করতাম। অবশেষে সেই সর্দি। এক দিন সে অসময়ে বাসায় এসে সব দেখে ফেলে ছিল। আর বুঝে ছিল যে আমাকে তালা বন্ধ করে রেখেও কোনো লাভ নেই। কি করবো অসুস্থ অবস্থায় ওর এক্সটা ভালবাসার লোভ সামলাতে পারি না তাই মাঝে মাঝে অসুখকে দাওয়াত করে আনি।

অর্নব কখনোই আমার সাথে ঝগড়া করে না। অনেক রাগী ছেলেটা আমাকে ভীষণ ভয় পায়; অবশ্য এটা একটা ভালো দিক। স্বামীরা বউকে ভয় পাবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম কিন্তু সে ঝগড়াকে নয় আমার নিরবতাকে ভয় পায়। আমি ওর সাথে ঝগড়া করি না কারণ নিরবতা দিয়ে যদি শায়েস্তা করা যায় তাহলে খামাখা চেচামেচি করার কি দরকার। মানুষটা আমার খুব খেয়াল রাখে, আমার খুব কেয়ার করে। আমি ইচ্ছাকৃত মাঝে মাঝে ওকে মিথ্যা অপবাদে ফাঁসিয়ে দিয়ে আনন্দ পাই।

মানুষটা সেই বিয়ের আগে থেকেই আমাকে হারানোর ভয়ে সব সময় আতঙ্কিত থাকতো। অবশেষে সেটা সত্যি হলো, হঠাৎ আমার পেট ব্যাথা শুরু হলো। অর্নব জানতো আমি ভাজা পোড়া পছন্দ করি তাই সেটা বন্ধ হয়ে গেলো। তবুও পেট ব্যাথা সারলো না। অবশেষে ডাক্তার বাড়ি ছুটলাম। অনেক টেস্ট করার পর শুনলাম আমার তেমন কিছুই হয়নী। ওষুধ খেয়ে পেট ব্যাথা কমে গেলেও মাঝে মাঝে খুব পেট ব্যাথা করে তবুও অর্নবকে বলি না কারণ অর্নব খুব টেনশন করে আমাকে নিয়ে। আমি অসুস্থ হবার পর থেকেই সে কেমন যেনো বদলে গেছে। সারাক্ষণ আমার খেয়াল রাখে এমন ভাবে যেনো আমি একটা বাচ্চা। আর যে মানুষটাকে বলে বলেও নামাজ পড়াতে পারিনী সে কেমন হুজুরের মত নামাজী হয়ে গেলো। অফিসের কাজে ওর মন নেই। বিয়ের প্রথম  থেকেই সে আমাকে প্রচুর সময় দেয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু আমার এই পেট ব্যাথার রোগটা হবার পর থেকে সে আরো বেশী সময় দেয়া শুরু করেছে। আমাকে সময় মত ওষুধ খাওয়ানো যেনো তার গুরুত্বপূর্ণ ডিউটি। প্রতি সপ্তাহে ডাক্তারের কাছে চেকআপ করতে করতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম। এক দিন অবাক হয়ে ছিলাম যখন দেখলাম আমার টেস্টের রিপোর্ট গুলো সে লুকিয়ে রাখে এবং অফিসে যাবার সময় সাথে করে নিয়ে যায়। ব্যাপারটাকে বেশ সন্দেহজনক মনে হলো তাই একদিন সে বাথরুমে গেলে আমি রিপোর্ট গুলো দেখে ফেললাম। আমি রিপোর্ট দেখে হতভম্ব হয়ে গেলাম। আমার একটা অভারীতে সিস্ট হয়ে ব্লক হয়ে আছে আর আরেকটা অভারীতে অনেক গুলো টিউমার হয়েছে আর তার মধ্যে একটা টিউমার ক্যান্সারের আকার ধারণ করতে চলেছে। আমি অর্নবকে বুঝতে দিলাম না যে আমি সব জেনে গেছি।

আমাদের বিয়েটা দুটি পরিবারের কেউ মেনে নেয়নী। তাই কোনো আত্মীয়দের সাথে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। একাকী বেচারা আমার টেনশনে কেমন যেনো শুখিয়ে গেছে। আমি জেনে গেছি এটা জানলে সে দিন রাত আমার সামনেই ভেউ ভেউ করে কাঁদবে, মরে যাবো এটা মেনে নিতে পারলেও ওর কাঁন্নাটা মেনে নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
আমাদের দিন গুলো কেমন যেনো বদলে গেছে। অর্নব আমাকে খুশি রাখার অনেক চেষ্টা করে আর আমিও খুশি থাকার ভান করি। অর্নব অভিনয়ে খুব কাঁচা, আমার টেস্টের রিপোর্ট পাবার পর থেকেই তার এই বদলে যাওয়াটা আমি খেয়াল করে ছিলাম।
ভালোই চলছে দুটো মানুষের দিন রাত অভিনয়ের কার্যক্রম।

এক দিন হঠাৎ সে অফিস থেকে ফিরেই বললো-" মধুর মা তোমার একটা ছোট্ট অপারেশ করাতে হবে। ভয় পেয়ো না, আমি আছি তো সোনা!"
আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম সারা পৃথিবীর ভয় ওর দুটি চোখ জুড়ে আছে। অথচ সে আমাকে সাহস দিচ্ছে। মানুষটা অভিনয়টাও ঠিকঠাক করতে পারে না। আমার ভয় তো একটাই আমার কিছু হয়ে গেলে সে নিজেকে সামলে নিতে পারবে না।

এক সপ্তাহ পর অপারেশন করাতে গেলাম। অপারেশন থিয়েটারে ঢুকার আগে অর্নব আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলো না। এত কাঁন্না শুরু করলো যে সারা হসপিটালের লোক জন ভীড় করে ওকে শান্তনা দিতে শুরু করলো। আমি ওকে প্রমিজ করলাম যে আমি ফিরে আসবো। অপারেশন থিয়েটারে ঢুকার পর নার্সকে বললাম অর্নবের দিকে লক্ষ্য রাখার জন্য তার কাছে যেনো কাউকে সর্বক্ষণ রাখা হয়।

আমার অপারেশটা সাকসেসফুল হলেও আমার জ্ঞান ফিরছিল না। অনেক ব্লাড দিতে হয়ে ছিল। চার ঘন্টা পর আমার জ্ঞান আসে। এর মাঝে অনেক কিছু ঘটে গেছিল। অনর্বকে কেউ কন্ট্রোল করতে পারছিল না। সে পাগলের মত ছুটাছুটি করছিল। অর্নবের অস্থিরতায় ওকে ঘুমের ইঞ্জেকশন করে ওকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়ে ছিল। পরের দিন আমার ক্যাবিনে যখন অর্নব ঢুকলো তখন ওকে দেখে মনে হলো,  অনেক দামী একটা হারিয়ে যাওয়া সম্পদ সে ফিরে পেয়েছে।

অবশেষে আমি সুস্থ হয়ে আমার সংসার নামক স্বর্গে ফিরলাম। আমার অভারী কেটে ফেলার কারণে আমি আর কখনোই মা হতে পারবো না। এটা একটা নারীর জন্য বিশাল একটা কষ্টের গভীর ক্ষত। অর্নব আমার সেই অক্ষমতার কষ্টটা গভীর ভাবে অনুভব করে ছিল। যে মানুষটা আমার ভেতরটা দেখতে পায় তার কাছে আমার লুকায়িত কিছু নেই। আমাদের পঞ্চম বিবাহ বার্ষিকী তে অর্নব আমাকে বিস্ময়কর গিফট দিয়ে দিল। সে অনাথ আশ্রম থেকে একটা পাঁচ মাসের মেয়ে বেবী এনে আমাকে গিফট করলো।
একটা ছোট্ট শিশু কোলে নিয়ে এসে সে বললো-"মধুর মা তোমার মধুকে এনেছি"
আমি মুগ্ধ নয়নে অর্নবের দিকে তাকিয়ে থেকে মনে মনে বললাম-"তোমার মত স্বামী যদি পৃথিবীর সব নারীর জীবণে থাকে তবে চিরুণী তল্লাসী করেও একটাও দুখী নারী খুঁজে পাওয়া যাবে না।"
আজ নিজেই নিজেকে সেরা স্বামী প্রাপ্তির Award দিতে ইচ্ছে করছে।
আমি বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নিয়ে মাতৃসুখ অনুভব করলাম, যে সুখটা ছিল অর্নবের দেয়া সেরা উপহার।
পৃথিবীর সেরা গিফট পেয়ে অবশেষে আমি মা হলাম, মধুর মা।

সমাপ্ত

চুমু খাওয়া বা বুকের উপর পড়ে থাকাটা ভালবাসার অংশ হলেও
আরো কিছু স্পর্শ আছে যা তোমাকে শুন্যে ভাসিয়ে
নিয়ে যাবে।
যার অর্থ শুধু কামনা না, ভালবাসি তোমাকে। প্রচন্ড ভালবাসি।
তোমার ভালবাসার মানুষটা যখন তোমার সামনে শাড়ি পড়া, তার
পেছনে দাঁড়িয়ে আঁচল সরিয়ে পিঠে একটা চুমু খাওয়ার
মানে জানো?
তোমার চুমু তাকে বলে দিচ্ছে তুমি তার ভরসা। তোমার
ঠোঁট তার পিঠ ছুতেই সারা শরীর কেঁপে উঠবে। সে
জানবে তার সামনে হাজার বাঁধা এলেও তার পিঠের উপর
তোমার নিশ্বাস আছে। এক রাশ ভরসা দিয়ে তুমি তাকে
আগলে রেখেছ।
তোমার ভালবাসা যখন তোমার সামনে স্লীভ লেস ব্লাউজ
পড়া, তুমি তখন তার পেছনে দাঁড়িয়ে কাঁধে হাত রাখ। বাহুতে
নাক ঘষে দাও। হাতের তালুতে পুরো হাত টা ছুঁয়ে দাও। এর
মানে কি জানো?
সে তোমার আমানত। তোমার সর্বস্ব জুড়ে শুধুইই সে ।
হাতের উলটো পিঠে চুমু খাওয়ার মানে জানো?
ইউ আর মাই প্রিন্সেস। নট আই যাস্ট লাভ ইউ। আই রিস্পেক্ট
ইউ মোর।
পেটের উপর নাভির ডান পাশে চুমু খাওয়ার মানে জানো?
আমার অস্তিত্ব তোমার মাঝে। আমি স্বামী, আমি বাবা, আমি
সংসার।
ঘাড় থেকে চুল সরিয়ে কানের পেছনে চুমু খাওয়ার
মানে জানো?
প্রচন্ড আদর চাই। তোমার ভালবাসার তাপে চোখের
সামনে আমি আইস্ক্রিমের মত গলে যেতে চাই।
হাতের উপর শুইয়ে দিয়ে গলার ঠিক মাঝ খানে চুমু খাওয়ার
মানে জানো?
আজ তোমায় স্বর্গ দেখিয়ে দিব ।
দুহাত দিয়ে গাল চেপে নাকে নাক ঠেসে ধরার মানে
জানো?
মানে হচ্ছে পাগলী একটা। আমার ভালবাসার পরী।
কোমড়ের উপর পিঠের ঠিক নিচে একদম মেরুদন্ড বরা
বর চুমুটা কি বলে জানো?
আমি তোর রাজা এ রাজ্যে রানী শুধু তুই.........
আর যদি কাওকে ভালবেসে খুন করতে চাও তাহলে,
মুখো মুখি সামনে গিয়ে দাঁড়াও। কপালের উপর সিথী বরাবর
ঠিক দুই ভুরুর মাঝে ঠোঁট লাগিয়ে পড়ে থাক অনন্তকাল। মাথা
তুলে দেখবে জলে ভরা এক জোড়া চোখ কি পরম
শ্রদ্ধায় তাকিয়ে আছে তোমার দিকে।
( ইহাতে স্বামীস্ত্রীর প্রেম ভালোবাসা বোঝানো
হয়েছে। দয়া করে এই ভালোবাসার মাঝে কেউ
অশ্লীলতার তকমা দিয়েন না।)।
লিখাঃ আশিক রহমান

"প্যারা বউ"

Writer:- Yea Sin

-এইদিকে আসো। (নিহা)

-আসতেছি,(নুয়েল)

-আসতেছি মানে।(নিহা)

-আরে বাবা, একটু দাড়াও আসতেছি।

-ওই আমি আবার কোনদিন তোমার বাবা হলাম।(নিহা)😈😈

-আরে রাগ করো কেনো,এমনি বললাম আরকি।

-ওই আমি কিসের রাগ করছি.?(নিহা)

-না থাক, বাদ দাও।

-কী বাদ দিবো,হ্যা..?(নিহা)

-তুমি কী ঝগড়া করবা, নাকি কী জন্য ডাকছো সেটা বলবা।

-কী😡, আমি ঝগড়া করি..? (নিহা)

-আরে না না, তুমি না আমি ঝগড়া করতেছি, সব দোষ আমার।

-মিথ্যা বলো কেনো,দোষ তো আমার ও আছে।(নিহা)

-তুমি না একটা প্যারা।

-উহু,প্যারা না, মহা প্যারা।(নিহা)

-ধন্যবাদ, স্বীকার করার জন্য।

-কী,আমি মহা প্যারা না।আমি তোমাকে প্যারা দিই হু,ওকে থাক তুমি আমি গেলাম।(নিহা)

এই কথা বলে নিহা ব্যাগ ঘোচাতে থাকলো।নিহা আর নুয়েল স্বামী -স্ত্রী। পারিবারিক ভাবেই তাদের বিয়ে হয়েছিল।নিহা এখন বাপের বাড়িতে যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছে।পিছন থেকে নুয়েল এসে......

-হা হা হা হা,বাপের বাড়ি যাবে।আমাকে বললেই তো হয়।ঝগড়া করে যাওয়া লাগে।আর যেই ব্যাপার নিয়ে ঝগড়া করছো,মানুষ শুনলে হাসবে।(নুয়েল)

-(কথা নেই...নিহা)

-আরে শুধু শুধু সকাল বেলা প্যাঁচাল করতেছো কেনো।ব্যাগ রেখে রান্না ঘরে যাও।(এই বলে নিহার হাত থেকে ব্যাগ নিয়ে নেয় নিহা)

-এই  তুই ব্যাগ দে,(নিহা)

-তোমার কী মাথা খারাপ, সামান্য একটা ব্যাপার নিয়ে তুমি তুই তুইকারি করতেছ।

-ব্যাগ দিবেন কিনা,সেটা বলেন।(নিহা)

-শুন নিহা,সামান্য এই ব্যাপার নিয়ে কথা বাড়িয়ে লাভ নেই।যাও রান্না ঘরে যাও।

-থাক ব্যাগ লাগবেনা। (নিহা)

এই বলে নিহা বাসা থেকে বেড়িয়ে যায়।নুয়েল তো অনেক অবাক, সামান্য একটা ব্যাপার নিয়ে নিহা এইই রকম করবে তা বিশ্বাস হচ্ছে না।ব্যাগ টা ও নেয় নাই।অবশ্য বাপের বাড়ি বেশি দূরে না,যেতে ২০ মিনিট সময় লাগে।নুয়েল সকালে নাস্তা করছে।কিছি রান্না  করে নাই নিহা, এখন কী খাবে। আর কী করা দুপুরে বাইরে থেকে খেয়ে এসে ঘুমিয়ে পড়ল নুয়েল।

ঘুম থেকে উঠে দেখে,রাত ৯ টা। থেকে উঠে ফ্রেস হলো।হঠাৎ মনে হলো,আজকে তো তাদের ২য় বিবাহবার্ষিকী। নুয়েল বুজতে পারে কেনো নিহা সকালে  বাপের বাড়ি যায়।নুয়েল দেরি না করে চলে যায় তার শশুর বাড়ি।গিয়ে দেখে নিহা রুমে নেই।নুয়েল বুঝতে পারে নিহা ছাদে। তাই নুয়েল ও ছাদে যায়।গিয়ে দেখে নিহা কান্না করতেছে।নুয়েল বুঝতে পারে,নিহা হয়তো ভাবছে নুয়েল আসবেনা।তাই কান্না করতেছে।নুয়েল নিহার রাগ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য.............

-এই তাড়াতাড়ি বাসায় চলো।(নুয়েল)

-তুমি এখানে,? আমি বাসায়  যাবো না।(নিহা)

-সকালে শুধু শুধু ঝগড়া করে এখানে আসছো।এখন আর ঝগড়া না করে, সোজা বাসায় চলো।

-আমি যাবো না বলছি যাবো না,তুমি এখান থেকে যাও।(নিহা)

-আচ্ছা, তাহলে আমি যাই।তুমি সকালে যেও( নিহাকে রাগিয়ে দেওয়ার জন্য বলে নুয়েল)

-যাও,যাও,আমি আর জীবনে ও ওই বাসায় যাবো না😡(অনেক রাগী ভাবে বলে নিহা)

নুয়েল নিহা কে আর না রাগিয়ে......

-কেক আনছো(নুয়েল)

নিহা তো শুনে অবাক।তাহলে পাগলা টার মনে আছে।

-কিসের কেক(একটু ভাব নিয়ে)

-ও হ্যা,ঠিকই তে কিসের কেক।(নুয়েল)

নিহা নুয়েলের কাছে এসে শার্ট এর কলার ধরে....

-আর কত রাগাবে আমায় (নিহা)

-আচ্ছা নিছে চলো।(নুয়েল)

-হুম চলো।

-উহু,সারা দিন আমাকে কস্ট দিছো। এখন তার সুদে-আসলে নিই(এই বলে নিহা কে জড়িয়ে ধরে নুয়েল)

-আরে এখন ছাড়,আগে সব কিছু শেষ হোক তারপর।(নিহা)

-উহু, বাকির নাম ফাঁকি।

-ব্যাপার টা বুজ।(নিহা)

-আচ্ছা, সুদ-টা এখন দাও আসল রুমপ গিয়ে দিও।(নুয়েল)

-তুমি না!এই নাও,উমমমমা(নিহা)

-ওমা,সারাদিনে মাত্র একটা।মানি না,১০ টা দিবা।

-পাগল একটা।

(৯ টা দেওয়ার পর)

-ওয়েট,এইবার এই একটা ঠোটে দিবা।(নুয়েল)

-পারবো না।

-তাহলে আমি যাই।

-এই নাও

নুয়েলের ঠোটে এখন নিহার নরম ঠোট।

#বাকিটা_ইতিহাস।

দীর্ঘ বিশ বছর যাবৎ পাশাপাশি দুটো ফ্লাটে বসবাস করে আসছেন ফয়েজ আহম্মদ আর কবির সাহেব।
তারা দুজন খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাই ত একই সাথে একই বিল্ডিং এ ফ্লাট নেয়া..
তাদের দু পরিবারের মানুষজন রা ও খুবই ঘনিষ্ট এক অপরের সাথে ঠিক পরিবারের একটা গুরত্ব পূর্ণ অংশ একে অপরের।
ফয়েজ আহম্মদের দুই ছেলে মেয়ে
, ছেলে আদনান ফাইয়াজ জব করছে আর মেয়ে ফাইজা নূর আনন্দী বিবিএ ফাইনাল ইয়ারে পড়ছে... আদনান কে বিয়ে দিয়ে মিষ্টি একটা বউ মা ও ঘরে তুলেছেন ফয়েজ সাহেব এখন মেয়ে টা কে শ্বশুর বাড়ি পাঠানোর অপেক্ষা মাত্র। অপর দিকে কবির সাহেবের দুই ছেলে বড় ছেলে আইয়াজ কবির তিনি একজন আর্কিটেক্ট আর ছোট ছেলে আইমান কবির সবে ক্লাস টেন এ পড়ে।
.
দু পরিবারের একমাত্র আদরের কন্যা হলো আনন্দী তাই দুই পরিবারের সবাই আনন্দীর বিয়ের ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হলো যে যতোই ঝর তুফান পোহাতে হয় পোহাবে তবুও আইয়াজ আর আনন্দীর চার হাত এক করেই ছাড়বে যদিও ব্যাপার টা অনেক কঠিন থেকে কঠিনতর তবুও এই ছাড়া কোনো উপায় ও নেই এতো আদরের মেয়ে খানা তাকে দূরে পাঠিয়ে থাকা ত যাবেনা।
.
এই চারহাত এক করার ব্যাপার টা কঠিনতর কারণ আইয়াজ এবং আনন্দী একে অপর কে দুই চোখে সহ্য করতে পারে না...
সেই ছোট বেলা যখন কবির সাহেবের স্ত্রী আই মিন আইয়াজের মা আনন্দী কে আদর করে বলে ছিল একেই আমার বাড়ির বউ বানাবো .. আইয়াজ রেগে গিয়ে তার প্লাস্টিকের ব্যাট খানা দিয়ে আনন্দীর মাথায় সজোরে আঘাত করে আর তখন থেকেই এই ঝগড়ার শুভ সূচনা হয়..
.
সেই তখন থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো দিন যায় নি যেদিন আইয়াজ আর আনন্দীর ঝগড়া হয়নি .. তুচ্ছ থেকে অতি তুচ্ছ ঘটনায় ওরা ঘন্টার পর ঘন্টা ঝগড়া চালিয়ে যেতে পারে...
.
আইয়াজ প্রায় সেই সুখের দিন গুলোর কথা ভাবে আনন্দী র সাথে দেখা হয়ার আগে তার পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সে কত স্বাধীন ছিলো আহা... কত শান্তি ছিলো আইয়াজের চারদিক টা যদিও তেমন একটা মনে পড়ছেনা সে দিন গুলো তবুও তার ধারণা এই বাসায় আসার পর থেকে তার ন্যায্য সব প্রাপ্য ওই আনন্দী ই পাচ্ছে... যদি ও ছোট বেলায় আনন্দী কে বেশ কয়েকবার কোলে নেয়ার সুযোগ হয়েছিলো আইয়াজের যদি আইয়াজ বুঝত এই মেয়ে দিনে দিনে এমন ডাইনি টাইপ হবে আর আইয়াজের সব কিছুর উপর ভাগ বসাবে তবে সে এই মেয়ে কে সেই ছোট্ট বেলা ই ছাদ থেকে ফেলে মেরে ফেলতো...
এসব শুধু ভাবনাতেই হয় বাস্তবে এই মেয়ে কে একটা চিমটি দিলে ও আদালতে এই অন্যায়ের শাস্তি সরুপ আইয়াজের ফাসি ও হতে পারে...
.
আইয়াজ আর আনন্দী একই স্কুলে পড়েছে যদি ও আনন্দী ৩ বছরের জুনিয়র ছিলো আইয়াজ থেকে তবুও এই মেয়ের জন্য কোনো মেয়ে বন্ধুর সাথে মিশতে পারেনি আইয়াজ .. কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখলেই বাসায় গিয়ে যা তা রকম প্যাচ লাগিয়ে বকা খাওয়াতো... ছুটির পর আনন্দীর ব্যাগ টা অনিচ্ছা স্বত্বে ও আইয়াজ কেই বয়ে নিয়ে যেতে হতো আর আনন্দী স্বাধীন দেশের নাগরিকের মত লাফাতে লাফাতে বাসায় যেতো... আইয়াজের বন্ধুরা প্রায় আইয়াজ কে নিয়ে হাসতো... বেচার আইয়াজ আনন্দীর এসব অন্যায় এর বিচার বাসায় দিলে উলটো নিজেই বকা খেতো... তবে আইয়াজ ও কি কম যায় নাকি আইয়াজ ও আনন্দী কে কোনো ছেলে ফ্রেন্ডের সাথে মিশতে দেখলে বাসায় গিয়ে তার চে বেশি বানিয়ে প্যাচ লাগাতো... ব্যাস এভাবে চলতে থাকলো...
বড় হতে হতে ঝগড়া করার টপিক ও চেঞ্জ হতে লাগলো...
আইয়াজ ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লিট করে এখন জব করছে কিন্তু ঝগড়াঝাঁটির ব্যাপারে এখনও আগের মত অ্যাক্টিভ।
এনিওয়ে এ ছিল ইতিহাস এখন বর্তামানে আসা যাক...
.
দু পরিবারের বিয়ের ডিসিশন টা জানার পর থেকে আইয়াজ আর আনন্দী অনেক অন্বেষণ টনেষণ করে ও তাদের সিদ্ধান্ত চেঞ্জ করতে পারেনি.... আনন্দীর একটা ই কথা আইবুড়ো হয়ে মরে গেলে ও আইয়াজ কে বিয়ে করবেনা আর আইয়াজের ও একই কথা পৃথিবীর সবচে অসুন্দর মেয়েটিকে যদি বিয়ে করতে বলা হয় তবে সে রাজী তবুও আনন্দী কে বিয়ে করা জাস্ট ইম্পসিবল।
কে শোনে কার কথা..... বাসার মানু্ষ গুলো নিজেদের মত কাজ চালিয়েই যাচ্ছে.... বিয়ের কার্ড পর্যন্ত ছাপাতে দেয়া হয়ে গেছে... ।
দুপরিবার এক পক্ষ আর অন্য পক্ষে আইয়াজ আর আনন্দী .. এই একটা ব্যাপারে দুজনের একই মতামত।
.
দুজন মিলে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেল্লো পালাবে ওরা... যেঈ ভাবা সেই কাজ সিলেটে চলে এসেছে...।
আনন্দীর ছোট চাচা সিলেট থাকেন.. প্রেমে ব্যর্থ হয়ে তিনি আর বিয়ে করেন নি... সিলেটে চাকুরীর সুবাদে থাকেন ..একাই থাকেন।
আনন্দী আর আইয়াজ উনার বাসাতেই এসেছে.. কিন্তু উনার বাসায় তালা দেয়া এই সময় উনি অফিসে থাকেন ঘর তালা দেয়া..ফোন করে ব্যাপার টা জানানো রিস্কি তাই উনাকে ফোন না করে উনি আসার অপেক্ষায় বাসার বাইরে অপেক্ষা করতে থাকলো..
.
: সব তোমার জন্যই হয়েছে..(আইয়াজ)
.
: তোমার জন্য হয়েছে ( আনন্দী)
.
: তুমি মেয়েটা যবে থেকে আমার লাইফে আসছো পুরো লাইফ টা ঈ আমার নরক হয়ে গিয়েছে...
.
:ওই চুপ.. উল্টো এটা বলতে পারো যে তুমি ছেলেটার জন্য আমার লাইফে একটা শান্তিতে শ্বাস নিতে পারিনি আমি।
.
:ওলে বাবা লে!! সাক্ষাত যম নাকি আমার জন্য শান্তিতে শ্বাস নিতে পারেনাই...
.
: ওই বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্ত.. চুপ..
.
: তুমি চুপ...
.
: তো তো তোরা এখানে.. ( আনন্দীর চাচা বাসার সামনে হঠাত এদের দেখে কিছুটা শক খেলো)
.
:চাচ্চু আগে তালা খুলে ভেতরে যেতে দাও তারপর বলছি... (আনন্দী)
.
:আচ্ছা ওকে ( ফাহাদ সাহেব)
.
#আনন্দীর চাচা ফাহাদ সাহেব সব শুনলেন ওদের মুখে সব...
.
: আমি ভাবলাম কয়েক দিন পর তোদের বিয়ে এটেইন করতে যাবো আর তোরা ঈ কিনা আমার বাসায় এসে হাজির! বাসায় কত চিন্তা করছে না জানি...
.
: চাচ্চু তুমি কিন্তু একেবারেই বলবেনা বাসায় .. আমার মতামতের কোনো ভ্যালু যাদের কাছে নেই তাদের এমন প্রেসার দেয়া ঈ উচিত! তুমি বলো আমি নাকি এরকম একটা একটা ছেলে কে বিয়ে করবো!!
.
: ইশরে এমন একটা ছেলে কে বিয়ে করবো!! মনে হয় ছেলে টা তোমাকে বিয়ের করার জন্য বসে আছে.. আরে তোমার মত মেয়ে কে আইয়াজ পাত্তা ও দেয় না...
.
:দেখলা চাচ্চু দেখলা কেমন বিহ্যাভিয়র!!
.
: তোমার আচরণ ত একেবারে কি বলতাম আর..
.
: আজীব ত.. এই তোরা একটু চুপ করবি! (ফাহাদ সাহেব)
.
: আচ্ছা ওকে.. এখন তুমি বলো কি করবো...
.
: দেখ আমি আমার লাইফে এই তোদের প্রথম দেখছি... ছেলে মেয়ে বিয়ে করবেনা বলে বাসা থেকে এক সাথে পালিয়েছে... তোরা ত পুরাই হিস্টরি করে ফেলছিস!
.
: দেখো চাচ্চু মাথায় যা আসছে তা করছি... বাবা মার মাথা থেকে এই ভূত টা নামলে দেন বাসায় ফিরে যাবো তার আগে না.. তুমি ওদের কিছু বলোনা কিন্তু পরে ওরা এখান থেকে আমাদের ধরে নিয়ে যাবে..
.
: আচ্ছা সেটা পরে দেখা যাবে... .
.
#ফাহাদ সাহেব পুরো ঘটনা টাই আনন্দী আর আইয়াজের বাবা মা জানিয়েছে .. ফাহাদ সাহেব আরো বলেছে ওরা কিছুদিন এখানে থাকুক একসাথে ঘুরেবেড়িয়ে যদি ডিসিশন চেঞ্জ হয়... ব্যাপার টা ওদের বাসায় জানানো হয়েছে যে সেটা আবার ওদের জানানো হয় নি.....
.
#পরদিন ফাহাদ সাহেব ওদের কে চা বাগান দেখতে নিয়ে গেলেন... উঁচুনিচু পাহাড়ি পথ তাই আনন্দী মাঝে মাঝে হুচুট খাচ্ছে আর আইয়াজ তাকে ধরে পরে যাওয়া থেকে রক্ষা করছে.. ওদের ঝগড়া তখন ও চালু.. আন্ধি সামলে হাটতে পারোনা আরো ব্লা ব্লা বলে... ওরা কেবল ওদের ঝগড়া টা দেখতে পাচ্ছে কিন্তু ফাহাদ সাহেব দেখতে পাচ্ছে একটা পবিত্র ভালোবাসা যেটা ওদের কেউ ঈ উপলব্ধি করছেনা.. ওরা একজন আরেকজনের উপর কত টা ডিপেন্ডেন্ট ওরা নিজেরা ও জানেনা... এক সাথে পালানো এক সাথে ঝগড়া করা... ওদের চিন্তা ভাবনা সব কিছু ঈ এক রকম কিন্তু হয়ত বুঝার মত ক্ষমতা নেই বা বুঝার মত গ্যাপ টা ওরা একে অপর কে দিচ্ছেনা, এসব ভাবতে ভাবতে ফাহাদ সাহেব আনমনে হাসছেন।
.
#পর দিন সকাল বেলা বুয়া আসেনি ফাহাদ সাহেবের বাসায়... তাই নাস্তা রেডি করার সময় ফাহাদ সাহেব ওদের দুজন কে হেল্প করতে বল্লো ...
.
: চাচ্চু তুমি আর মানুষ পেলেনা তোমার ভাতিজি করবে তোমাকে হেল্প হাসালে..
.
: কেন আমার ভাতিজি হেল্প করবেনা নাকি!
.
: সে যদি কিছু পারতো তবেই ত হেল্প করতো.. শুধু গিলতে ঈ শিখেছে আর কিছু করতে জানেনা..
.
:চাচ্চু ওকে থামতে বলবে.. সেই তখন থেকে কি সব বলছে আর তুমি সব শুনে আছো!
.
: আমি আর কি বলবো তুই এক কাজ কর আজ নাস্তা রেডি করে ওর মুখের উপর জবাব দিয়ে দে...
.
: না মানে আমি নাস্তা বানাতে পারিনা..
.
: এই যে দেখলা চাচ্চু যা বলছিলাম হিহিহি মিল্লো ত.... এবার তুমি বলো এমন একটা মেয়েকে আমি কেন বিয়ে করবো যাকে আমার রান্না করে খাওয়াতে হবে তার বিনিময়ে সারাক্ষণ প্যান প্যান করে আমার মাথা খাবে...
.
: চাচ্চু তুমি ওকে থামতে বলবে .. আমি মনে হয় ওকে বিয়ে করার জন্য বসে আছি.. আরে আমাদের বাসা কাজের বুয়ার মেয়ে ও ওকে বিয়ে করতে রাজী হবেনা.. এহ নিজেকে কি যে কি ভাবে.. পাত্তা না পেলে মানুষ কত কিছু বলে..
.
: এই যে থামেন ম্যাডাম.. পাত্তা না পেলে মানে কি!! আমি মনে হয় আপনাকে বিয়ে করার জন্য বসে আছি.. আপনার চে চৌদ্দ গুণ সুন্দরি বউ পাবো আমি দেখে নিয়েন..
.
:তোরা থামবি... এই যা তোরা কিচেন থেকে যা... আমি ই একা ই রেডি করতেছি...
.
#রান্না বান্না করে ফাহাদ সাহেব অফিসে চলে গেলেন এবং বিকেলে অফিস থেকে ফিরে এসে দেখে ঘরের মধ্যে টর্নেডো বয়ে গেছে.. টিভির রিমোট আত্মহত্যা করেছে সারা ঘরে কাঁচা সবজি ছিটানো.. সোফার কুশন গুলোর জান প্রায় যায় যায় অবস্থা...
আনন্দী ভিতরের রুমে শুয়ে আছে আর আইয়াজ ড্রয়িং রুমে...
ফাহাদ সাহাবের বাসার অবস্থা চেঞ্জ হয়ে গেছে...
পরে বাসার অবস্থা আগের রুপে ফিরিয়ে আনতে ফাহাদ সাহেব কে আইয়াজ যথেষ্ট হেল্প করেছে.... আনন্দী রুম থেকে বের ই হয় নি।
রিমোট টাকে সুস্থ করে আনা হয়েছে বাজার থেকে আবার সবজি ও আনা হয়েছে...
তবে রাতের জন্য সিম্পল খাবার রান্না করছেন ফাহাদ সাহেব ডিম আর ডাল..
.
: চাচ্চু তোমার আদরের ভাতিজি কিন্তু ডিম খায় না.. তুমি জানোনা.. ? (আইয়াজ)
.
: আসলেই ত আমি ভূলেই গিয়েছিলাম.. .
#আনন্দীর জন্য আবার মুরগি রান্না করতে হলো তবে আইয়াজ ই এই ব্যাপারে যথেষ্ট সাহয্য করেছে..
ফাহাদ সাহেব আসলে ওদের ঠিকঠাক বুঝতে পারছেনা কখনও মনে হচ্ছে এদের একসাথে থাকা পসিবল না আবার কখনও মনে হচ্ছে দে আর মেইড ফর ইচ আদার... .
.
পরদিন আবার অফিস থেকে এসে দেখে একই অবস্থা .. আজ আর রিমোট টাকে খুজেই পাওয়া গেলো না... কুশন গুলোর তুুলো উড়ছে সারাঘরে... তবে আজ দুজন ই ঘর গোছাতে ও ব্যস্ত হয়ত ফাহাদ সাহেব আরেকটু পরে আসলে ঘরখানা একটু খানি হলে ও গুছানো পেতেন.. ফাহাদ সাহেব খুবই হতাশ হলেন।
.
.
গত রাতেই
নুতুন রিমোট আনা হলো... তবে আজ অফিসে আসার সময় ফাহাদ সাহেব তা ব্যাগে করেই নিয়ে এসেছেন .. ফাহাদ সাহেবের নিজেকে আজ বড্ড বুদ্ধিমান মনে হচ্ছে.. আহা আগে যদি এমন বুদ্ধি থাকতো তবে নীলু আজ তার ই থাকতো সে কথা ভেবে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে কাজে মনযোগী হলেন।
.
এভাবে প্রায় ছয় দিন কেটে গেলো একেকদিন ফাহাদ সাহেব বাসার একেক রুপ দেখতেন... ওদের ঝগড়াঝাঁটি মোটে ও কমার নয় .. সব ভেবে চিন্তে ফাহাদ সাহেব অানন্দী আর অাইয়াজের বাসায় বলে দিলেন ওদের আসলে বিয়ে দেয়া উচিৎ হবেনা.. ওদের সংসার দুদিন ও টিকবেনা...
.
কি আর করার ভেঙে গেলো ওদের বিয়ে ওরা ও বাসায় ফিরে এলো..
তবে আনন্দীর বাইরে বিয়ে ঠিক করা হয়েছে...
এই ব্যাপারে আনন্দীর না বলার মত কোনো ওয়ে ছিলোনা...
.
আনন্দীর বিয়ে হয়ে গেলে ও এই বাসা ছেড়ে চলে যাবে আর তবেই আইয়াজের স্বীধনতা ফিরে আসবে এমন টা ই ধারণা ছিলো আইয়াজের কিন্তু না আইয়াজের কেন যেন খুশি লাগছেনা ব্যাপার টাই..
বিকেলে বাসার গেইটের সামনে অাইয়াজ অফিস থেকে বাসায় আসছিলো আর আনন্দী যাচ্ছিলো .. অাইয়াজ খেয়াল করলো রিকশা তে আনন্দীর ফিয়ন্সে বসে আছে আর আনন্দী সেই রিকশাতেই ওই লোকটার পাশে গিয়ে উঠে বসলো...
ও যার সাথেই যাক বা যার সাথেই বসুক আইয়াজের কেন কষ্ট হচ্ছে! এটাই ভেবে পাচ্ছেনা...
.
অন্যদিকে অানন্দি মনে মনে ভাবছে.. ওকে এই লোকটার পাশে বসতে দেখে না জানি আইয়াজ কি ভাবছে.. নেহাত বাসা থেকে বলেছে ওর সাথে গিয়ে অাকদের শাড়ি পছন্দ করতে নাহয় কে আসতো... আচ্ছা আইয়াজ কি ভাবলো না ভাবলো এটা নিয়ে সে কেন ভাবছে.... .
সন্ধ্যায় আইয়াজ ছাদে দাড়িয়ে নিচে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে... আনন্দী কখন ফিরে সেটা দেখার জন্য... কিন্তু এটা দেখে ওর কি লাভ সেটাই বুঝতে পারছেনা আইয়াজ।
কিছুক্ষণ পর দেখলো একটা রিকশা এসে গেটের সামনে থামলো ... আনন্দীর ফিয়্যান্সে নেমে আনন্দী কে হাত ধরে নামালো.. এটা দেখে আইয়াজের খুব রাগ লাগলো.. রাগে ওয়ালের সাথে একটা পান্স ও মারলো। কিন্তু ওর কেন এমন লাগছে এটা ই বুঝতে পারছেনা...
.
পরদিন অফিস থেকে ফেরার সময় আইয়াজের সাথে একটি মেয়ে আসলো.. আর আইয়াজ সবাই কে মেয়েটিকে আইয়াজের জিএফ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় ...
অানন্দি দের বাসায় গিয়েও মেয়েটির সাথে সবার পরিচয় করিয়ে দিলো... মেয়েটি যথেষ্ট সুন্দরি ও তবে আনন্দীর কেন যেন এই মেয়েটিকে সহ্য হলোনা.. রাগে জ্বলে যাচ্ছিল।
রাতে আইয়াজদের বাসায় ডিনার করে তারপর মেয়েটি বাসায় চলে গেলো...
.
পরদিন আনন্দীর আকদের দিন ফিক্স করা হলো .. আগামিকাল আকদ আর এর পর সুবিধা মত তারিখ ঠিক করে অনুষ্টান করা হবে.. এদিকে আনন্দীর আকদের ব্যাপার টা জেনে আইয়াজ ও বাসায় ডিকলায়ার করে দিলো সে ও তার জিএফ কে কয়েকদিনের মধ্যেই বউ করে নিয়ে আসবে। কারো পরিবার তাদের কাউকেই বাঁধা দিচ্ছে না তবুও ওরা নিজেরাই খুশি না.. ..
সন্ধ্যায় আইয়াজ ছাদে উঠে দেখে আনন্দী উদাস মনে আকাশের দিকে চেয়ে আছে...
.
:যাক ফাইনালি এই ছাদে আকাশ টা আমি একা দেখার চান্স পাচ্ছি... আজ যতো ইচ্ছে দেখে নাও (আইয়াজ)
.
: ওমা একা কেন দেখবে তোমার বউ ও ত থাকবে তখন ( আনন্দী)
.
: হ্যা তা অবশ্য ঠিক... সময় টা তখন খুব রোমান্টিক থাকবে...
.
: তুমি না আমার চে চৌদ্দ গুন সুন্দরি মেয়ে বিয়ে করার কথা .. এই মেয়ে কি আমার চে সুন্দরি...?!
.
: তা ত অবশ্যই সুন্দরি...
.
: এহ সুন্দর হলে কি হবে ! সেদিন দেখলাম রাতের 10 টা বাাজে মেয়েটা ডিনার করে বাসায় ফিরেছে তোমাদের বাসা থেকে.. ভাল মেয়েরা এত রাতে বাসার বাইরে থাকে!
.
: ভালো মেয়েরা ত সারা বিকেল কাটিয়ে সন্ধা পর্যন্ত একটা লোকের সাথে হাত ধরাধরি করে রিকশায় ঘুরে বেড়ায় তাই না...!
.
: ছি! ও আমার উড বি হাজব্যান্ড আর বাসা থেকে বলাতে আমি ওর সাথে বের হয়েছি নাহয় আমার যাওয়ার শখ ছিলো না...
.
: নিধি ও আমার উড বি ওয়াইফ সো আমাদের বাসায় এত রাতঅব্দি থাকা দোষের কিছু না...
.
: আচ্ছা যাও... বিয়ে করো তোমার নিধি কে আমার কি.. আমি ত তোমাকে শান্তির জীবন দিয়ে চলে যাচ্ছি .. আর জ্বালাবোনা সুখে থেকো তুমি.. বিয়ের পর ও আর আসবোনা এই বাসায় দেখে নিও।
.
: এই আনন্দী তুমি খুশি নও এই বিয়েতে?
.
:আমি খুব খুশি...
.
: তোমার ফেইচ কিন্তু তা বলছেনা..
.
: তাতে তোমার কি!
.
:নাহ কিছু না
.
:আচ্ছা দেখো তুমি আকাশ একলা ই দেখো ... আমি যাচ্ছি।
.
:আর কিছুক্ষণ থাকোনা...
.
:কেন! তোমার ত খুশি হয়ার কথা একাই আকাশ দেখবে...
.
:হতে পারছিনা ত খুশি... আমার সব কিছুই উলট পালট লাগছে মনে হচ্ছে মনের মধ্যে একটা অব্যক্ত ব্যথা চেপে আছে যেটা খুব ভারি লাগছে... নিতে পারছিনা।
.
:ত আমাকে কেন বলছো যাও না তোমার জিএফ কে গিয়েই বলো না....
.
:কারণ এসব কিছু তোমার কারণেই হচ্ছে .. তুমি কখনও আমাকে শান্তি তে থাকতে দাওনি আগে ভাবতাম তোমার থেকে দূরে থাকলে আমি শান্তিপূর্ণ জিবন পাবো আজ যখন তুমি চলে যাচ্ছো আমার মনে হচ্ছে আমার সুখ গুলো হারিয়ে যাচ্ছে...
.
: সুখেই থাকবা তুমি বউ নিয়ে .. আনন্দী তোমাকে আর জ্বালাবেনা...
.
: এই বেয়াদব মেয়ে আমি কি এতক্ষণ এসব বলছি!
.
: ত কি বলছো!
.
: আমার তোকে লাগবে সব সময় আমার পাশে.. আমার তোকে অন্য কারো সাথে সহ্য হয়না আগে ও হতোনা .. তুই যখন তোর ছেলে ফ্রেন্ড দের সাথে কথা বলতি আমার খুব রাগ লাগতো. শুধু বুঝতে পারিনি কেন লাগতো তোকে হারানোর ভয় কখনও কাজ করেনি ত এর আগে হয়ত তাই ..
বলনা আমাকে ছাড়া তুই সুখে থাকবি?
.
:তুমি আমাকে তুই বল্লা! :'(
.
:ও মাই আল্লাহ.. একটা চড় মারবো বেয়াদব মেয়ে..
.
: এই আমাকে ছাড়া থাকতে না পারার নমুনা!
.
: আচ্ছা স্যরি.. তুমি যা বলবে এখন থেকে সেটা ই হবে..
.
:সত্যি ত! মশারি টানা তে পারবা প্রতিদিন?
.
:হুম
.
: রান্না করতে পারবা?
.
:হুম
.
: ঘর ক্লিন করতে পারবা?
.
:হুম
.
:আমি মাইর দিলে সহ্য করতে পারবা?
.
:হুম
.
: আচ্ছা রান্না আর ঘর ক্লিন যদি তুমি করো আমি কি করবো!
.
: হুম
.
:কি হু?
.
:তুমি আমার পাশে থাকলেই চলবে..
.
:একটা কথা বলি?
.
: কি!
.
: আমার ও না তোমাকে নিধির সাথে দেখলে ভাল্লাগেনা .
.
:দেখলা এখন ও নিজের অনুভূতি টা হাইড করে সেই আমাকে দিয়েই সব বলিয়ে নিলে..
.
:আমি এমন ই ভাল না লাগলে কেটে পরো ..
.
:আচ্ছা ওকে আমার এমন ই চলবে..
.
:.. এনিওয়ে তোমাকে না প্রত্যেক দিন রান্না করতে হবেনা আমি ও করবো!
.
:কি!! খেয়ে বাঁচবো ত!
.
:আবার!
.
: আচ্ছা ওকে ...কাল ত তোমার আকদ ত কি করব এখন?
.
:আমি কি জানি..
.
: চলো পালিয়ে যায়
.
: আবার! কোথায়?
.
: তোমার ফাহাদ চাচ্চুর বাসায় ..
.
: ওওয়াও গুড আইডিয়া....
.
#এভাবে সারা রাত তাদের কাজ ভাগাভাগি গল্প আর অল্প সল্প ঝগড়া ঝাটি করে কাটিয়ে দিলো.. খুব ভোরেই দুজন বাসা থেকে বের হয়ে গেছে...
এখন তারা সিলেট যাওয়ার পথে আনন্দী আইয়াজের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমোচ্ছে আর তার অবাধ্য চুল গুলো বাতাসে উড়ে বার বার ছুয়ে দিচ্ছে আইয়াজের মুখ... আইজের অনুভূতি টা এখন অসাধারণ যায় হোক না কেন এই মেয়ে কে ছাড়া থাকা যাবেনা... তবে একটা ব্যাপার ভেবে হাসি পাচ্ছে আইয়াজের ফাহাদ চাচ্চু ওদের কে তার ঘরে দেখে হার্ট অ্যাটাক করবেনা ত আবার!

.
.
Israt Rahman (ইশু)