Monday, January 16, 2017

গল্প: বউ ইন শীতকাল

গল্প: বউ ইন শীতকাল

এমনিতেই প্রচন্ড শীত পড়েছে, তার
উপর এখন আবার শাস্তির বোঝা
মাথায় চেপে খালি গায়ে কম্বল/
চাদর ছাড়াই শুয়ে থাকতে হচ্ছে।
মাথার উপর আবার ফ্যান ঘুরছে। অথচ ইতু
আমার কাপাকাপি দেখে কম্বল
গায়ে জড়িয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।
একজনের পৌষ মাস তো আরেকজনের
সর্বনাশ।
।
আমার এই অদ্ভুদ শাস্তির কারন টা হচ্ছে
সকালে অফিসে যাওয়ার সময়
তাড়াহুড়ো করে গরম পানি না খেয়ে
শীতের ড্রেস না পড়ে বাসা থেকে
বের হয়ে যাওয়ার অপরাধে। ইতুর কড়া
নির্দেশ কোণ ভাবেই শীতে ঠান্ডা
পানি খাওয়া যাবেনা, শীতের
ড্রেস ছাড়া কোথাও যাওয়া
যাবেনা। আর আজ সময় স্বল্পতায় তা
পালন না করতে পারায় এখন আমাকে
আরো ঠান্ডায় রেখে শাস্তি দেয়া
হচ্ছে।
.
-ইতু, শীত লাগছে, কাথা টা দাওনা??
.
=এখন এতো শীত এলো কিভাবে??
সকালে মনে ছিলোনা??
.
-ওটাতো মিসটেক, সময় ছিলোনা,
আমার কি দোষ বলো!!
.
=চুপ বেয়াদব, সকালে আমি এতো
চিৎকার করে বললাম তবুও তোমার মনে
পড়েনি তাইনা?? তুমি জানো, তুমি
যাওয়ার পর আমি কতো কেদেছি??
এখন প্লিজ আমার রাগ সুদেআসলে
মিটাতে দাও, না হয় আরো শাস্তি
দিবো।
.
-ভাল, আমি অসুস্থ হলে কার কি যায়
আসে, সমস্যা নেই, আমি ছাদে
গিয়েই ঘুমাবো খালি গায়ে।
.
এই বলে উঠতেই ইতু পিছন থেকে আমার
হাত টা ধরে টান দিয়ে শুইয়ে দিয়ে
কাথা দিয়ে আমার গায়ে জড়িয়ে
দিলো..
.
=ভেবোনা কুত্তা আমি গলে
গিয়েছি, আমি কিন্তু রাগ করছি, কথা
বলবেনা আমার সাথে তুমি!!
.
ইতু আমার দিকে পিঠ দিয়ে অপর
দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। ইতুর
জামায় কাধের নিচের খালি অংশ
টুকু দেখা যাচ্ছে, আস্তে করে
সেখানে আলতো করে কয়েকটা আঙুল
বুলাতেই সুড়সুড়ি তে ইতু কেপে উঠে
চিৎকার দিয়ে আমার দিকে ফিরে
হেসে দিয়ে বললো..
.
=কুত্তা শয়তান, একটু রাগ করেও
আমাকে থাকতে দিবিনা তাইনা??
.
-আমি কি করলাম??
.
=আমি কি করলাম মানে?? তুমি আমার
কাধে সুড়সুড়ি দাওনি??
.
-কিহ!! আমি তোমার কাধে কেনো
টাচ করবো, রাগ তোমার নিজের
একার সম্পত্তি নাকি, রাগ আমিও
জানি, পোকা টোকা মনে হয় কাধে
পড়ছে, আর ওমনি কথা বলার ধান্দা
খুজে কথা বলতে আসছে, ছেচরি, হুহ..
.
=কিইইইহ!! তুউউউমি.....
.
ইতু আর কিছুই বলতে পারলোনা, রাগে
কাপতে কাপতে চোখ বুঝে ফেললো।
ইতু রাগ করলে ওর ঠোট আর নাক, দুটোই
অসাধারণ লাগে, নিচের ঠোট টা
অনবরত কাপছে, আর নাক ফুলছে
বারবার, চোখ বন্ধ করায় চোখ ও
কাপছে। আর আমি শুয়ে শুয়ে আমার
রাগওয়ালি বউটার মায়াবী
রাগান্বিত মুখ টা দেখছি।।
।
আমি জানি ইতুও বুঝতে পারছে আমি
এটা ইচ্ছে করেই বলেছি যাতে ওকে
রাগিয়ে দিতে পারি। তাই সে
রাগছে তবু কিছু বলছেনা। আর না হয়
যদি সত্যি রাগ হতো তবে সে
এতোক্ষনে কান্না করে,আমার বুকে
থাপ্পড় দিয়ে অবস্থা হালুয়া করে
দিতো।
।
আমার পাগলী টা এমন ই, অল্পতে খুশি,
অল্পতে দুঃখ, কারন ওর জীবন টা যে
শুধুই আমি ময়। আর আমার জীবন?? সেটাও
তো এই পাগলীময়।
.
যেদিন দীর্ঘ প্রেম জীবনের পর
আমাদের আংটি বদল হয়, সেদিন ও
নিজ হাতে সবাইকে চা দিচ্ছিলো,
ইতু সব সময় সাঝুগুজু করে না, কিন্তু
সেদিন আমার রিকোয়েস্ট এ
সেঝেছিলো, লাল শাড়ি, লাল টিপ,
পিওর বাঙালি বধু, আমি ওকে দেখে
এতোই অবাক হচ্ছিলাম যে কখন ও
চায়ের কাপ নিয়ে আমার সামনে
এসেছি বুঝতেই পারিনি, বুঝেছি যখন
আমার বুকের উপর গরম পানীয়র অস্তিত্ব
পেলাম, যখন হুশ এলো তখন বুঝলাম ইতুর
হাতের কাপ থেকে আমার গায়ে চা
পড়েছে। সবাই এতো জোড়ে
হাসছিলো যে রাগে আমি
ফুঁসছিলাম, কে যেনো ইতু কে বললো,
"যাও মা, জামাই কে ঘড়ে নিয়ে
যাও, ক্লিন হতে হেল্প করো"। আলাদা
রুমে যেতেই আমি বলে উঠলাম..
.
-ওই তুমি এটা কি করলা?? প্রথম দিন চা
দিয়া গোসল করালে পড়ে তো গরম
ডাল দিয়েও করাবে মনে হচ্ছে!!
.
=দরকার হলে তাই করবো জনাব,
আপনাকে কাছে পেতে এগুলো যদি
না করি তবে কি করে হয় বলুন??
.
-তুমি/তুই থেকে আপনি তে চলে এলে!!
বাহ, আদব কায়দায় এতো উন্নতি!!
.
=তুমি তো আমার স্বামী, তাই একটু
সম্মান দিচ্ছি আর কি!!
.
-ওয়াহ ওয়াহ!! শুনে ধন্য হলাম।।
.
=এই যে জামাইবাবু, শার্টা টা একটু
খুলুন!!
.
-ছিঃ কি বলো এসব, এখন ও বাসর হয়নি
তো!!
.
=ওই তোরে খুলতে কইছিনা?? খুল..
.
-এক মিমিটেই তোমার সম্মান শেষ!!
আপনি থেকে সোজা তুই!!
.
=যা বলছি বেশ বলছি, দরকার হলে যা
ইচ্ছে তা বলবো..
.
শার্ট খুলার পর ইতু আমার বুকের
যেখানে চা পড়েছে সেখান টায়
আস্তে করে চুমু খেয়ে জড়িয়ে ধরলো,
নিমিশেই বুকের গরম চায়ের
জলাপোড়া চলে গিয়ে অদ্ভুদ ভাল
লাগে কাজ করছিলো। বেশ কিছুক্ষণ
পর যখন ও সোজা হয়ে দাড়ালো তখন
লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে শাড়ির আচল
হাতে নিয়ে খুটতে খুটতে নিচে
তাকিয়ে রইলো। আমি বলে উঠলাম..
.
-আমার বউ এতো সুন্দর ডাক্তারি করবে
সেটা জানলে তো বলার আগেই খুলে
ফেলতাম!!
.
ইতু লজ্জায় মুচকি হেসে বুকে একটা
থাপ্পড় দিয়েই দৌড়ে অন্য রুমে চলে
যায়।।
।
পাগলীটার এমন আরো পাগলামী
ভাবতে ভাবতে অনেক টা সময় পাড়
হয়ে গেলো, ইতু যে কখন আমার আঙুল
গুলো পেঁচিয়ে ধরে অর্ধ ঘুমের মতো
হয়ে গিয়েছে বুঝতেই পারিনি, রাত
অনেক গভীর। হঠাৎ মনে পড়লো, যখন
বিয়ের আগে হঠাৎ একদিন মধ্য রাতে
ইতুর কল। ইতু সেদিন অসুস্থ ছিলো, আগে
আগেই তাই ঘুম পাড়িয়ে
দিয়েছিলাম। ইতুর কল পেয়ে ভয়
পেয়েছিলাম এই ভেবে যে কোনো
বড় সমস্যা হলোনা তো!! কিন্তু ফোন
করে আমার পাগলীটা বলে উঠলো..
.
-সামু, আমার না খুব ইচ্ছে হচ্ছে
তোমায় নিয়ে এই শীতের মধ্য রাতে
হাটতে বের হতে। আমি এখন ই যেতে
চাই..
.
কোণ ভাবে সম্ভব না হওয়ায় তখন
পাগলী টার ওই ইচ্ছে টা পূরণ করতে
পারিনি।
।
আর কিছু না ভেবেই ইতু কে জড়িয়ে
ধড়ে দু হাতে করে কোলে তুলে
নিলাম। ইতু জেগে উঠে চমকে গিয়ে
বলে উঠলো, কি হলো!! আমার আঙুল
গুলো ইতুর দু ঠোট চেপে আলতো স্পর্শ
করলো। দুজনে এক চাদর গায়ে জড়িয়ে
আস্তে করে রুম গুলো পাড় হয়ে ঘড়ের
দরজা টা খুললাম, ইতুকে কোলে
নিয়ে বের হয়ে পড়লাম সুনসান নিরব
রাস্তায়। পুরো রাস্তা জনশূন্য শুধু আমি
আর ইতু ছাড়া। নিয়নের আলো গুলো
যেনো আমাদের পাহাড়া দিচ্ছে।
ইতুকে কোলে নিয়ে হাটতে থাকলাম
দূর, বহু দূর..
ক্ষনিক পর ইতু কোল হতে নামলো,
আমার পা দুটোর আঙুল গুলোতে চাপ
দিয়ে ইতু দাঁড়িয়ে আমার ঠোট দুটো
খুব নিরবে স্পর্শ করে নিলো। ঝাপ্টে
ধড়ে আমার বুকের ঠিক মাঝ খান টায়
মাথা গুজিয়ে জড়িয়ে ধরলো। আমিও
জড়িয়ে নিলাম খুব শক্ত করে, খুব
বেশি কাছের করে, শুধু আমারি
প্রাণে..

Friday, January 13, 2017

****'''মিষ্টি বর আর দুষ্টু বউ'''****

****'''মিষ্টি বর আর দুষ্টু বউ'''****

: এই যে। আপনি কিন্তু আমাকে আমার
অনুমতি ছাড়া স্পর্শ করবেন না।
: মানে কি!! বুঝলাম না।
: বুঝতে হবে না। আপনি আমাকে স্পর্শ
করবেন না। করলে কিন্তু আমি কান্না
করবো।
: ওকে, স্পর্শ করবোনা, কান্না করতে হবে
না। এখন একটু সরে বসেন, আমি ঘুমাবো।
এইভাবে বিছানার মাঝখানে বসে থাকলে
আমি ঘুমাবো কি ভাবে?
.
: শোনেন, আমি আপনার ৫ বছরের ছোট। তাই
আমাকে আপনি বলবেন না। আমাকে আপনি
তুমি করে বলবেন। আর আমি আপনাকে
আপনি করে বলবো।
: কেন এমনটা হবে? হয় দুজনে তুমি বলবো না
হয় আপনি।
: দেখুন কথা না শুনলে কিন্তু কান্না করবো।
: কি আজব,,,, কথায় কথায় কাদতে হবে
নাকি?
: না। আগে বলেন রাজি কিনা?
: ওকে, রাজি। তুমি ঘুমাবে না?
.
: শোনেন আজ রাতে আমি আপনি কেউ
ঘুমাবো না।
: কেন?
: আমি না সারা জীবন কোন প্রেম করিনি।
সব সময় ভেবেছি, যাকে বিয়ে করবো, তার
সাথেই প্রেম করবো। আর যত দিন তাকে
ভালবাসতে পারবো না ততোদিন তাকে
স্পর্শ করতে দিবো না।
: ওহহ আচ্ছা। এর সাথে না ঘুমানোর কি
কারণ বুঝলাম না।
: আপনি আজ ঘুমাবেন না। আজ সারা রাত
আপনার সাথে গল্প করবো।
: কি গল্প?
.
: আমার বরকে নিয়ে আমি যত স্বপ্ন
দেখছি,,,, সেই গল্প।
: এমা,,,,, আমি না আজ খুব ক্লান্ত। কাল গল্প
করি।
: না,,,,, আজকেই। আপনি ঘুমালে কিন্তু
আপনার গায়ে পানি ঢেলে দিবো।
: কয় কি (এই শীতের রাতে) । না থাক তার
চেয়ে বরং গল্প করি। বলো কি বলবে?
: আপনি তো আচ্ছা বরিং মানুষ। কথা
বলতেও পারেন না ঠিক ভাবে। আমার নাম
জিজ্ঞেস করেন।
.
: ওহহ আচ্ছা তোমার নামতো রিয়া, তাই
না।
: আরে ধুর এভাবে কি কেউ জিজ্ঞেস করে।
: তাহলে কি ভাবে জিজ্ঞেস করে?
: বলবেন,,,, "তোমার নাম কি। "
: কিন্তু আমি তো তোমার নাম জানি।
: ইহহহহ,,,,, আপনাকে কিন্তু । যা
বলতে বলছি তাই বলেন।
: ওকে,,,, তোমার নাম কি?
: আমি রিয়া ।
: কিসে পড়ো?
: অনার্স ২য় বর্ষ।
: আর কি?
: ধুর ছাই,,,, কি বরিং মানুষ আপনি।
: আবার কি করলাম!!
: ওকে আপনার প্রশ্ন করতে হবে না। আমি
নিজে থেকেই বলছি।
.
.
: জানেন আমার সব ফ্রেন্ড রা রিলেশন
করতো। কিন্তু আমি করতাম না।
: কেন??
: কারণ আমি আমার বরের দুষ্টু মিষ্টি বউ
হতে চাইছি সব সময়।
: কি রকম??
: আমি সব সময় চাইছি,,,, আমার সব
ভালবাসা আমি আমার বরকে দিবো। আর
ওকে খুব জ্বালাবো।
: কি রকম?
: জানেন, আমার চাহিদা গুলো খুব
সামান্য। আমার বাড়ি, গাড়ি, ভালো
পোশাক, দামি ফার্নিচার কিছুই চাইনা।
.
: তাহলে কি চাই??
: রোজ সকালে আপনি যখন অফিসে যাবেন,
তখন আমার কপালে একটা চুমু দিবেন।
: আর??
: দুপুরে খাবার আগে যেখানেই থাকেন,
আমাকে একটা কল দিবেন। না হলে আমি
না খেয়েই থাকবো।
: ওকে দিবো। আর??
: অফিস থেকে ফেরার সময় আমার জন্য,
চকলেট, আইসক্রিম, ফুসকা, কিছু না কিছু
আনতে হবে।
: আর??
.
: যদি কখনো ভুলে যান তবে আবার বাইরে
পাঠাই দিবো।
: ওকে আনবো। আর?
: ভালবাসা দিবস, মেরেজ ডে, সহ সব
ভালো ভালো দিনে আমায় নতুন করে
প্রপোজ করতে হবে। কিন্তু কোন ফুল দেওয়া
যাবে না।
: এটা কেমন কথা!!!
: জী এমনি কথা।
: আর??
: আমার কুয়াশা, চাদনী রাত, ঠান্ডা খুব
ভালো লাগে। তাই মাঝে মাঝে ঘুরতে
নিয়ে যেতে হবে। ব্যস্ত থাকলে বলবো না।
: ওকে।
.
: মাঝে মাঝে চাদনী রাতে, বেল কোনিতে
বসে এক কাপে দুজন কফি খাবো।
: এক কাপে কেন?
: হুম এক কাপেই খাবো।
: ওকে, আর??
: মাঝে মাঝে বৃষ্টির রাতে ছাদে গিয়ে
দুজন ভিজবো। আর আপনি কদম ফুল দিয়ে
আমায় প্রপোজ করবেন।
: এই শহরে কদম ফুল কই পাবো??
: আমি জানি না। আর রাগ করলেও কদম ফুল
দিয়ে রাগ ভাঙ্গাতে হবে।
: এটাতো রীতিমত টর্চার। সারা বছর কদম
ফুল কই পাবো?
: আমি জানি না।
: আচ্ছা অন্য ফুলের কথা বলো।
: না। কদম ফুল না দিতে পারলে আমায়
কোলে নিতে হবে, যতক্ষণ মন ভালো হয়নি
ততক্ষণ কোলে নিয়ে থাকতে হবে।
: এই ৪৮ কেজির বস্তা কোলে নিলে আমি
বাচবো!!
.
: আমি জানি না। কয়দিন পর আরো মোটা
হবো। তবুও কোলে নিতে হবে।
: বলে কি!! প্রথমের গুলাইতো ভালো
ছিলো।
: সব গুলাই ভালো, কোলে নিবে কিনা
বলেন?
: ওকে বাবা নিবো।
.
: শোনেন।
: হুম বলো।
: আপনার এই বোকা বোকা চশমাটা একটু
খুলবেন?
: কেন??
: আপনাকে দেখবো। এত মোটা ফ্রেমের
চশমা পড়েন, এখনো ভালো করে আপনাকে
দেখি নাই।
: আচ্ছা আমি ঘুমাবো,,,, কাল কথা হবে গুড
নাইট।
.
: এই যে শোনেন এখানে তো একটা বালিশ,
আমি কোথায় ঘুমাবো?
: আমার বুকের উপর।
: মানে?
: তোমার যেমন আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন।
ঠিক তেমন তোমাকে নিয়ে আমার একটা
স্বপ্ন। আমার বউ সব সময় আমার বুকে মাথা
দিয়ে ঘুমাবে। সারাদিন যত রাগ ঝগড়াই
হোক , রাতের বেলায় যেন কেউ কখনো
অন্যজনকে ছাড়া না ঘুমাতে পারে ।

Friday, December 9, 2016

ভয়ঙ্কর বাসর রাত

ভয়ঙ্কর বাসর রাত

# শখের_কবি
......
আজ আমার বিয়ে। বিয়েটা
পরিবারিক ভাবেই হচ্ছে। আমি আবির
আর মহারানির নাম মেঘা। মেঘা
আমার বাবার বন্ধুর মেয়ে। দেখতে
অসাধারন সুন্দর। আমার প্রেম প্রায় ৩বছর।
বিয়েটা ভালোই জমজমাট ভাবে হলো
আমিও বেশ খুশি। কিন্তু এই খুশিতে
বন্ধুরা আমায় ভালোয় বাশ দিয়ে
যাচ্ছে। আজ রাত আমার মহান বাসর
রাত। আল্লায় জানে কপালে কি
আছে। কিন্তে ঢুকতে তো হবে। এই
পাজি বন্ধুরা বড় আব্দার করেছে। শেষ
মেষ সব আব্দার মিটিয়ে ঘরে ঢুকলাম
মানে বাসর ঘরে। ঘরে ঢুকতেই ব্উ আমার
লক্ষি বউ এর মত সালাম করলো। আর
সেখানেই ঘটলো যত বিপত্তি। কারন
আমি বললাম। বেচে থাকো বউ বেচে
থাকো তুমি যেনো হাজার সন্তানের
জননী হও। দেখলাম মেঘা তো ক্ষেপে
গেছে।বলতে লাগলো
- তোমার সাহস তো কম না দাড়াও
তোমার দেখাচ্ছি মজা। এই রে কি
বলতে গিয়ে কি বললাম মনে হয়
কপালে শনির দশা আছে।
-তুমি থাকো তোমার হাজার সন্তান
নিয়ে আমার কাছে আসবে না
-না বউ সরি আর হবে না।
-সত্তি তো?
-হুম
আচ্ছা ঠিক আছে এবার মাফ করে
দিলাম মনে থাকে যেনো
।
আমি মেঘার পাশে বসতে যাবো এমন
সময় দেখলাম ফোন আসলো। ফোনটা বের
করে দেখলাম পাজি ফারিহা ফোন
দিয়েছেফোনটা হাতে নিয়ে ভয়ে
ভয়ে রিসিভ করলাম
-হ্যালো
-কিরে তোর গলা কাপছে কেনো কাজ
হয়ছে
(আমি আমার জালায় মরছি আর হালা
কি কয়)
-আরে ভাই কিছু হয়নাই বউকে জড়িয়ে
ধরে আদর করতেছি তো তাই
-ও তবে ঠিক আছে দেখিস ভয় করিস না
-ওকে বাই
মেঘা আমার দিকে এগিয়ে আসলো
আর ফোনটা চেক করলো। তারপর
ফারিহার নাম্বার দেখে তো আরও
ক্ষেপে গেলো আর বলতে লাগলো
-এই ডাইনির সাথে তোমার কি হ্য
------------
-অন্যের সাথে প্রেম করবা আর আমার
সাথে বিয়ে তোমার দেখাচ্ছি মজা
আজকে তোমার ঘরে জাইগা নাই
বাইরে যাও।
(ধমক দিয়ে)
-তাহলো শোবো কোথায়?
-তুমি জাহান্নামে যাও
বন্ধুরা একের পর এক ফোন দিচ্ছে যে
বাসর রাতের অবস্থা কেমন জানার
জন্যে। আরে সালারা আমার ফাটছে
আর তোদের আনন্দ। যদি হাতের কাছে
পেতাম না তাহলে দেখাতাম মজা।
কি আর করা বাইরে বসে চাদ দেখছি।
বাসর রাতে আমার ভালোই বাশ
গেলো। আগে তো ঘরে জাইগা
দিয়েছিলো কিন্তু এখন তো সোজা
বাইরে বের করে দিলো। চাদের
সাথে না হয় বাসর রাত হোক। তাই বলে
মনকে সান্তনা দিচ্ছি। আর পাগলিটার
কথা ভাবছি। মেঘাকে যেদিন প্রথম
দেখি সেদিনই ক্রাশ খাই। কিন্তু যে
রাগি বলার সাহসই হতো না। মেঘাকে
আমাদের বাসাতেই দেখেছিলাম
প্রথম। সেদিন রাতে আমি গিটার
বাজাচ্ছিলাম। হঠাৎ কখন যে একটি
মেয়ে আমার পাশে এসে বসেছে আমি
খেয়াল করি নি।তখন আমি
ভেবেছিলাম মনে হয় আমি স্বপ্নে
আছি তাই জড়িয়ে ধরেছিলাম। তখন
মেয়েটি চিললিয়ে গা মাথায়
করেছিলো। বাড়ির সবাই ছুটে এসে
জিজ্ঞেস করে আর আমি বাস্তবে
ফিরে এসে তো ভয়ে শেষ কারন
আব্বুকে ভয় পাই। তখন মেঘা কিছুই বলে
না শুধু তেলাপোকার নাম
দিয়েছিলো। তখন মা আমার সাথে
মেঘার পরিচয় করিয়ে দেয়। মেঘা নাম
শুনেই তো আমার ক্রাশ। কারন মেঘা
নামটা আমার প্রিয়।তারপর থেকে
মেঘার সাথে সময় কাটানো মেঘার
শেয়ারিং আর কেয়ারিং আমাকে
মুগ্ধ করেছিলো অবশেষে মেঘাকে
ভালোবেসে ফেলি। কিন্তু মেঘা খুব
রাগি। আর খুব জেদি যেটা বলে
সেটাই করে। আমাকে কোনো মেয়ের
সাথে কোনো কথা বলতে দেখলে তো
মহারানী রেগে আগুন। তাই আমার
নিষেধ ছিলো। কিন্তু আমায় খুব
ভালোবাসে আমিও অবশ্যয়
ভালোবাসি। আর একটু আগে যে
ফারিয়া ফোন দিয়েছিলো না
সেটা আমার ফ্রেন্ড বলতে জিগারের
দস্ত। ফারিহা শুধুই আমার বন্ধু তাও
মেঘা ওকে দেখতে পরে না কারন ও
ভাবতো আমাদের মধ্যে হয়তো ইটিস
পিটিশ মানে প্রেম আছে কিন্তু
বিশ্বাস করুন মেঘা শুধুই আমার ফ্রেন্ড।
আজ এই বজ্জাত মেয়েটার কারনে বাসর
রাতে বউ এর ভয়ংকর রাগ। তাই মন
খারাপ করে বাইরে তাকিয়ে আছি।
এমন সময় কারো স্পর্শ অনুভব করলাম।
খেয়াল করলাম মেঘা। আমিকিছু না
বলে অভিমান করে দাড়িয়ে আছি
মেঘা বলছে
-বাবুটার রাগ হয়েছে
-___________^
-বাবুটার মন খারাপ
.....................
*বাবুটাকে কে বকেছে?
-বউ!
-এই তুমি কি কিচ্ছু বোঝ না হ্যা?
(ধমক দিয়ে)
আমি নিচের দিকে তাকিয়ে আছি।
দেখলাম মেঘা আমায় শক্ত করে
জড়িয়ে ধরেছে।আমি তাও কিছু বলছি
না কারন দেখিনা পাগলিটা কি করে
মেঘা আমার মুখের দিকে তাকালো
তারপর ামার হাত ধরে টানতে টানতে
নিয়ে গেলো ঘরের ভিতরে। আমায়
খাটের উপর ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল।
তারপর আর কি আপনাগো বলবো
কেনো? বড়দের কথা শুনতে নেয়
.
অতপর শুরু হলো এক ভয়ংকর বাসর রাত
_________সমাপ্ত_______
বি:দ্র:-বন্ধুরা গল্পটির হয়তো শেষটি
ভালো হয়নি কিছু প্রতিবন্ধকতার
কারনে তার জন্য দু:খিত

Monday, November 28, 2016

গল্প: ভীষণ ভালবাসি মায়াবতী

গল্প: ভীষণ ভালবাসি মায়াবতী

-চলো খেতে চল।(আমি)
-হু।(মুখটা ঘুরিয়ে নিল)
-এই যে বোকা মেয়ে রাগটা তো আমার উপর
তাহলে খাবার কি দোষ করল।
-হু।
-আচ্ছা মুশকিল তো কথা তো বল।
-হু...।(এবার একটু জোরেই হু করল)
এবার আমার মহারানীর রাগের একটু
বিশ্লেষন করি।ঠোঁট ফুলিয়ে গাল ফুলিয়ে
কেঁদে কেঁদে একেবারে বিশ্রি অবস্থা।
কারন টা হচ্ছে আমি এতটাই কেয়ারলেস যে
বউকে দেয়া কথাটাই রাখতে পারিনা।
মেয়েটি এমনিতেই শান্ত শিষ্ট।নিজে
থেকে কিছুই চায় না।গতকাল রাতে আমিই
ওর হাতের আঙুল ধরে নাড়তে নাড়তে বলে
উঠেছিলাম কাল তোমাকে নিয়ে হাঁটতে
বেরোব।শুধু ওই বলা পর্যন্ত অফিসের কাজের
চাপে সময় মত আসা হয়নি।আর সেজন্যই
আমার মিষ্টি বউটা গাল ফুলিয়ে বসে
আছে।
-কথা দিচ্ছি কাল বিকেলে নিশ্চয়ই যাব।
-আচ্ছা শুভ্র একটা কথা বলব।(শান্তভাবে
মায়া বলল)
-হ্যা একটা কেন হাজারটা বল আমি আমার
মিষ্টি বউটার মুখে হাজারটা কথা শুনতে
চাই।
-আমি তোমাকে বড্ড জ্বালাই তাই না।
নিজে থেকে তো তোমার কোন কাজই
করতে পারি না উল্টা তোমাদের ঘাড়ে
বসেই শুধু খাই।আমি আসলেই একটা ইউজলেস
এই পৃথিবীতে।
-ছি মায়া এসব কি।কতবার বলব এসব কথা
বলবে না একদম।
-বললে কি আর না বললেও কি এটাই তো
সত্যি আমি করুনার পাত্রী।
-ভালবাসাটা তোমার কাছে করুনার মত
লাগে মায়া?
-নাহ সেটা না দেখ শুভ্র আমি বাইরের চোখ
দিয়ে দেখতে না পেলেও মনের চোখ দিয়ে
ঠিকই বুঝতে পারি।
-কি বুঝতে পার তুমি পাকা বুড়ি?
-তুমি একটা সুদর্শন পুরুষ।তোমার পাশে
থাকার কথা একটা পরীর মত মেয়ের।যে
তোমাকে নিজে হাতে রান্না করে
খাওয়াবে,অফিসের ব্যাগ গুছিয়ে দিবে,এত্ত
এত্ত আদর করবে।(গলাটা ধরে এসেছে
মায়ার)
-এই পাগলী এই এত্ত অভিমান কেন তোমার।
-কই শুভ্র আমার তো কোন অভিমান নেই
রাগ নেই।আর কেনইবা থাকবে বল তোমার
মত এত্ত ভাল একটা স্বামী আছে যার তার
কিসের অভিমান শুনি।
-মায়া তুমি যদি বাহ্যিক সৌন্দর্যের কথা
বল তুমি পরীর থেকে একটুও কম যাওনা।তুমি
জান না তুমি কতটা সুন্দর।তোমার পাশে
দাড়ানোর মত কোন যোগ্যতাই নেই আমার।
আর মনের সৌন্দর্য সেটাও তোমার অনেক
বেশি।
-আচ্ছা শুভ্র তুমি জেনে শুনে আমার মত
একটা জন্মান্ধ মেয়েকে বিয়ে করে নিজের
জীবনটা নষ্ট করলে বলতো?
-মায়া আমি ক্ষমাপ্রার্থী।বাবু আর কখনও
কথা দিলে কথা ভাঙব না।প্লিজ মায়া
এভাবে নিজে কষ্ট পেও না আমাকেও কষ্ট
দিওনা।
-ধুর পাগল আমি তোমার স্ত্রী।স্ত্রীর
কাছে কেউ ক্ষমা চায়।বল না কেন এমন
করলে।
-ভালবাসি তোমাকে।
-শুধুই ভালবাস বলে বিয়ে করলে।নাকি
একটা অন্ধ মেয়েকে সাহায্য করলে।
-মায়া প্লিজ চল খেতে চল।
-আমার প্রশ্নের উত্তর কিন্তু পেলাম না।
-কিছু প্রশ্নের উত্তর থাকেনা।
-কিন্তু আমি জানি উত্তরটা।
-চল খেতে চল আম্মু ডাকছে।
-শুভ্র আমি একটা ঝামেলা তাই না।
-মায়া প্লিজ।
-আচ্ছা তুমি যাও খেয়ে এস।
-তুমিও চল।
-আমার ক্ষুধা নাই।
-আমি কান ধরছি বাবু কাল সারাদিন
তোমাকে নিয়ে ঘুরব।
-হা হা হা হা...
-হাসছ যে...
-যার চোখ নেই তাকে সারাদিন ঘুরিয়ে কি
দেখাবে শুনি?
-মায়া এই টপিকটা কি বাদ দেওয়া যায় না।
-এটাই তো সত্যি।
-আমার চোখে দেখবে।আমার অনুভুতিতে
তুমি শিহরন পাবে।
-জীবনটা কি এতটাই সহজ।
-আমার মায়াবতী কি আজ এটা ভেবেই রাগ
করেছে যে কিছুতেই তার অভিমান
ভাঙানো যাবে না।
-আমাকে মায়াবতী ডাকবে না।
-কেন?
-আমি তোমার যোগ্য নই।
-তাই...
-হুম।
-এই কি করছ ছাড় আমাকে...(মায়াক
ে পাজাকোলা করে তুলে নিয়ে খাবার
টেবিলে বসালাম)
-চুপটি করে বসে থাক।
-শুভ্র আমি কিন্তু খাব না।
-কেন মা খাবে না কেন?(মা জিজ্ঞাসা
করল মায়াকে)
-ইয়ে মানে ক্ষুধা লাগে নি আম্মু।
-সে কি মা খেয়ে নাও ওই পাগলের উপর রাগ
করে না খেয়ে থাকবে কেন তুমি।
-আমি কারও উপর রাগ করিনি আম্মু।
-হা কর....(আমি)
-না খাব না।
-জোর করেই মুখের ভিতর দিলাম।যা হবার
তাই হল আঙুলটা কামড়ে দিয়েছে।খাবার
টেবিলে বসে তো আর চিৎকার দেওয়া যায়
না চেপে গেলাম।
জোর করেই খাইয়ে নিজে খেলাম।খাওয়া
শেষে রুমে এনে বেডের ওপর বসিয়ে দিলাম।
উল্টো দিকে মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে পড়ল।
-কফি খাবে?(আমি)
-না।
-একটু খাও।
-বললাম তো না।
-এই এতটুকু খেও।
-খাব না।(চিৎকার করে বলল)
-বাইরে ভীষন বৃষ্টি হচ্ছে।
-নিশ্চুপ।
-ভিজে ভিজে কফি খেতে কিন্তু দারুন
মজা।
-যাও না যাও একটা ভাল মেয়ে দেখে বিয়ে
করে যখন ইচ্ছা ভিজ আর কফি খেও।
-কেন তুমি কি পঁচা?
-হ্যা আমি পঁচা।
-তাহলে নিয়ে যাই এই পঁচাকে ছাদে।
-উহু শুভ্র একদম না।
-হে হে হে চল...
-শুভ্র ভাল হচ্ছে না কিন্তু এই রাত দুপুরে
ভিজলে মা কি বলবে।
-কিছু বলবেনা।
-আমার ঠান্ডা লাগবে।
-লাগুক সমস্যা নাই।
-হ্যা সমস্যা থাকবে কেন আমি অসুস্থ হয়ে
মরে গেলেই তো তুমি হাফ ছেড়ে বাঁচ।
-মায়া.....(কোল থেকে নামিয়ে দিলাম
বিছানার উপর)
মেয়েটা কি ভেবেছে ভালবাসি বলে
এতকিছু সহ্য করতে হবে।সামান্য একটু
অভিমান করেছে বলে সেই তখন থেকেই যা
ইচ্ছে তাই বলে যাচ্ছে।কিভাবে বোঝাব
তোকে ভালবাসতে বাসতে তোকে এমন
একটা জায়গায় এসে থেমেছি তোর আর
আমার মানেইতো আমাদের সব।তোর জন্যই
তো বেঁচে থাকা।তোকে ঘিরেই বেঁচে
থাকা।তুই ছাড়া কে আছে বল।কখনও মনে
হয়নি তুই অসুস্থ।তুই দেখতে পাস না আমার
চোখে দেখবি বলেই তো কথা দিয়েছিলি।
তাহলে মাঝপথে কেন এতটা আঘাত দিস।
কিছুক্ষন পর....
-এই শুনছ শুভ্র...(মায়া)
-চুপ করে আছি।
-এই তুমি কি রাগ করেছ?
-চুপচাপ।
-দেখেছ আমি কত হিংসুটে নিজের রাগের
গুরুত্ব দিতে গিয়ে তেমাকে কতটা কষ্ট
দিয়ে ফেললাম।
-চুপচাপ।
-এই তুমি কি আছ?চল নিয়ে যাবে না
আমাকে ছাদে।আমি ভিজব তোমার সাথে।
-চুপচাপ।
-এই বাবু আমি জানি তুমি আমার
আশেপাশেই আছ তোমার নিশ্বাসের শব্দ
পাচ্ছি।
-চুপচাপ।
-এবারের মত মাফ করে দাও না তোমার
পাগলীকে।তুমি ছাড়া আমার কে আছে
বলতো।একটু রাগ তোমার উপর আমি ছাড়া
কে করবে।
আলতো করে কোলে তুলে নিলাম।পাগলীটা
ফুঁপে ফুঁপে কান্নার শব্দ করছে।এই হল আমার
মহারানীর রাগের দূরত্ব আমাকে কষ্ট দেয়
যতটা তার থেকে বেশি পায় নিজে।
-ভালবাসি অনেক বেশি ভালবাসি
তোমাকে।
-জানি।
-কি জান?
-তুমি পঁচা মেয়ে হে হে হে।
-আর তুমি পঁচা ছেলে হি হি হি।
এই যা বৃষ্টিটাই থেমে গেছে।অগ্যতা আবার
নামতে হল ছাদ থেকে।ওকে রুমে বসিয়ে
কফি বানাতে গেলাম কিচেনে।পাগলীটা
বড্ড সরল।সেদিন ওভাবে আমার সামনে না
এলে হয়ত এভাবে আপন করে পাওয়াই
হতনা....
.
১বছর আগে.....
অফিস শেষে ক্লান্তি নিয়ে বাসায়
ফিরছি।রাস্তার পাশের টং দোকান থেকে
একটা সিগারেট জ্বালিয়ে আনমনে হাঁটছি।
আব্বুর অবশ্য গাড়ি আছে কিন্তু আমি সেটা
ইউজ করি না।যাই হোক সিগারেট ফুঁকতে
ফুঁকতে রাস্তা দিয়ে হাঁটতেছি।হঠাৎ করেই
আগাম বার্তা না দিয়ে আকাশ থেকে ঝুম
বৃষ্টি নেমেছে।বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার
জন্য সবাই বিভিন্ন ছাউনির নিচে আশ্রয়
নিচ্ছে।আমার অবশ্য সেদিকে কোন খেয়াল
নেই।বৃষ্টি নিজেই আমাকে হিংসে করে
কারন বৃষ্টি যদি দুই এক ফোঁটাও পড়ে আমি
তাতে ভিজবই।একসময় রাস্তায় শুধু গাড়ি
ছাড়া তেমন মানুষ নেই।দুই একজন অবশ্য
ছাতা নিয়ে চলাচল করছে।
আনমনেই আমার চোখ আটকে গেল একটা
অন্তহীন সৌন্দর্যে।প্রথমে ভেবেছিলাম
সে হয়ত বৃষ্টি পছন্দ করে। কিন্তু তাই বলে
রাস্তায় এভাবে চুপচাপ কেন ভিজবে।
তাছাড়া এই ঐশ্বরিক সৃষ্টি অপরুপ পরী
এভাবে ভিজছে কেন।আজকাল ঢাকা শহরে
তো স্বর্গের পরীরাও বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে
লাগলে ময়দা ধুয়ে বেরিয়ে আসে
শাঁকচুন্নির রুপ।কিন্তু সে একটু বেশিই
চুপচাপ।দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভাব বেশি।
হয়ত বড়লোক বাপের আদুরে মেয়ে তাইতো
রাস্তার মাঝে সং সেঁজে চোখে সানগ্লাস
পরে ভিজছে।কিন্তু বৃষ্টির পানি যতই তার
শরীরে পড়ছে ততই যেন আরও বেশি সুন্দর
হয়ে উঠছে মেয়েটা।ধুর কিসব ভাবছি আমি।
পঁচিশ বছর বয়স হল জীবনে কখনও প্রেম
আসলনা।অবশ্য দু একটা প্রপোজ
পেয়েছিলাম কিন্তু ভাল না লাগার দরুন তা
বাতিল করেছি।তবে কি জানেন তো মন যে
কখন চুরি হবে মনের মালিক বেচারা তাহা
জানেনা।জানলেও কিছু করার থাকেনা।
নাহলে এই ব্যস্ত আমি কখন যে এক জায়গায়
দাড়িয়ে হা করে চেয়ে আছি মেয়েটির
দিকে বুঝতেই পারিনি।
আমার সব কল্পনার সব চিন্তার বাধ ভেঙে
গেল মূহুর্তেই।একটা যুবক ছেলে মেয়েটের
হাত ধরে নিয়ে হাঁটতে লাগল।ধুর এভাবেই
যদি যাবি চলে তবে আশা দিলি কেন
মিছে।ভাবতে ভাবতে কিছু একটা চোখে
পড়ল।মেয়েটির এক হাত ছেলেটি ধরেছে
অন্য হাতটা মাঝে মাঝে গাড়ির হর্ন শুনে
সামনে হাতড়ানোর ভঙ্গিতে নাড়াচ্ছে।
আমার অলস মস্তিষ্ক খুব সহজেই বিষয়টা
বুঝে ফেলল।এত সুন্দর পরীটা অন্ধ।কিছুক্ষন
নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম। ওরা
মাধবী কলোনিতে ঢুকেছে।
তখনকার মত প্রস্থান নিলাম।মেয়েটিকে
নিয়ে ভাবার কোন আগ্রহই ছিলনা।কিন্তু
ওই যে বললাম মনের মালিক নিজেই
জানেনা কখন তার মন চুরি হয়ে যায়।ভোরে
স্বপ্ন দেখলাম মেয়েটির হাতটা ধরে ঘুরছি।
একটা অস্বস্তির মাঝে পড়ে গেলাম।
স্বপ্নটার ব্যাখা দিতে গিয়ে ভাবলাম কাল
মেয়েটাকে নিয়ে বেশি ভেবেছি তো তাই
হয় ঘুমের মধ্যেও তাকে দেখেছি।যাই হোক
তখনকার মত ওসব চিন্তা মাথা থেকে
ঝেড়ে ফেললাম।কোথাকার কে চিনিনা
জানিনা তাকে নিয়ে এত ভাবাভাবির
কারন নাই।
.
এভাবেই কেটে গেল একমাস।সকালে নাহিদ
(আমার বন্ধু)ফোন করে বলল দোস্ত বিকেলে
আমাদের এদিকে চলে আয় কিছুক্ষন আড্ডা
দেওয়া যাবে।তোর তো আজকে অফিসের
অফ ডে।আমিও রাজি হয়ে গেলাম।
এমনিতেও নাহিদদের এলাকাটা আমার
ভীষন ভাল লাগে।দুই পাশে উচু উচু দালান
মাঝখানে সরু রাস্তা।পরিচ্ছন্নও আছে।
বিকেলে রওনা দিলাম নাহিদদের
এলাকায়।মেইন রোড থেকে ভিতরে ঢুকতে
যাব ডানপাশে তাকাতেই দেখি স্তম্ভের
ওপর বড় করে লেখা মাধবী কলোনি।হঠাৎ
বুকটা আচমকা কেঁপে উঠল।আনমনে হাঁটছি
যদিও রাস্তার দিকে তাকিয়ে হাঁটছি তবুও
ব্যাচেলরদের একটা মহাদোষ আছে।সেটা
হচ্ছে আশেপাশের বাসার ব্যালকুনির
দিকে তাকানো।আমিও তাকাচ্ছি অবশ্য
আশানুরুপ কিছু দেখিনি এখনও।হঠাৎ করেই
চোখ আটকে গেল।সে ই তো হ্যা সে।
গ্রীলটা ধরে দাড়িয়ে আছে।দুপাশে ফুলের
টব ঝোলানো।যতটা পেরেছি রুপ সুধা পান
করেছি।আরও কিছুক্ষন থাকতে ইচ্ছে হচ্ছিল
কিন্তু ফোনের জ্বালায় থাকা হলনা।
নাহিদ ব্যাটা ইতোমধ্যে ১২ বার কল
দিয়েছে।না যাই না যাই করেও যেতে হল।
কিন্তু আড্ডাতে মন বসছেনা।নাহিদ
বিষয়টা হত খেয়াল করেছিল তাই অন্যদের
থেকে দূরে এনে আমাকে জিজ্ঞেস করল কি
রে কি হইছে তোর?
-মেয়েটা ওই মেয়েটা....(কেমন একটা ঘোরে
পড়ে মুখ থেকে বেরিয়ে আসল)
-কোন মেয়ে কিসের মেয়ে।
-কিছু না বাদ দে তো।
-দোস্ত তুই কিন্তু কিছু লুকিয়ে যাচ্ছিস।
-কিছু না বললাম তো।
-সত্যি তো।
-হ্যা।
-কিন্তু তোর চোখ বলছে তুই মিথ্যে বলছিস।
-ধুর তুই কি জ্যোতিষী নাকি।
-সত্যি করে বল না দোস্ত কি হয়েছে তোর।
-অগ্যতা প্রথম থেকে শেষ সবই বলে দিলাম।
নাহিদ বলল সে নাকি চিনে।মেয়েটা
জন্মান্ধ।তবে এত সুন্দর যে যে ছেলেই দেখে
পাগল হয়ে যায়। কিন্তু সমস্যাটা জেনে
কেউই আসেনা।মেয়েটা বাইরে বের হয় তার
ভাইয়ের সাথে মাঝেমধ্যে।নাহিদের
কথাগুলো কোনমতে কানে গেল।কেমন একটা
ঘোরের মধ্যে ডুবে আছি।আমার সমস্তটা
জুড়ে মেয়েটি।যেন হৃদয়ে তার ছবিটি কেউ
টাঙিয়ে দিয়েছে।
এই মূহুর্তে আমি যা ভাবছি তা নিতান্তই
বোকামী।ওরকম অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে
সংসার করাটা শুধু সিনেমাতেই মানায়।
ধরে নেই আমি পারব কিন্তু কতদিন পারব
তাকে আগলে রাখতে।আবার যখন বাস্তবতা
এসে ভর করছে তখন মনে হচ্ছে সব মিথ্যে।
অথচ আমার মনটা হারিয়ে গেছে মেয়েটার
মায়া মুখের মাঝে।মানুষ যতই বাস্তবমুখী
হোক না কেন সত্যিকারের প্রেমে পড়লে
আবাগেটাকেই বেশি প্রাধান্য দেয়।প্রথমত
আমাকে স্থির করতে হবে আমি কি চাই?
আমি কি সত্যিই পারব তাকে নিয়ে সংসার
করতে।আমি কি পারব আমার সবটুকু সুখ
দিয়ে তার অসহায়ত্বকে দূর করতে।
এরকম মানসিক যন্ত্রনার মধ্য দিয়েই কেটে
গেল আরও একটি মাস।আমি যতটা না
বাস্তবমুখী হতে চাইছি তার বেশি যেন
মেয়েটার উপর দুর্বল হয়ে পড়ছি।আমার কেন
জানি মনে হচ্ছে আমি পারব হ্যা সত্যিই
পারব মেয়েটার পাশে দাড়াতে।মনের
সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে সিদ্ধান্তে
পৌছালাম।প্রেম যখন আসে তখন না
জানিয়েই আসে ভরা জোয়ারের মত আর
আমি সে জোয়ারেই ভাসছি।
আব্বু আম্মু কে জানালাম।যদিও আমার আব্বু
ভীষন কড়া আর কম কথার মানুষ।তবুও ভয়ে
ভয়ে সেদিন আব্বুর সামনে দাড়িয়েছিলাম।
কিন্তু আব্বু কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে
থেকে বললেন দেখ শুভ্র তুমি এখন বড় হয়েছ।
ভাল মন্দ বোঝার ক্ষমতা তোমার আছে।
সংসার কি জিনিস এতদিনে নিশ্চয়ই
বুঝেছ।তো লাইফটা তোমার ডিশিসনটাও
তুমি নিবে।আশা করি নিজের ভাল বুঝেই
নিবে।
সেদিন আমার ভিতর নেশা চেপে বসেছিল।
মনে হচ্ছিল ওকে আমার পেতেই হবে।
আব্বুকে নিয়ে আম্মু গেলেন ওদের বাসায়।
কিন্তু উনারা প্রথমে প্রস্তাবে রাজি হতে
চাইলেন না।কারন তাদের মেয়েটি যতই
অসুস্থ হোক তাদেরই সন্তান।এতবড় করতে
পেরেছে যখন বাকি দিনটাও তারা খেয়াল
রাখতে পারবে।এরকম অসুস্থ মেয়ে অন্যের
ঘরে গেলে তার ঠিকমত খেয়াল রাখবে
কিনা এই নিয়ে ভীতি কাজ করছিল।আম্মু
অনেক বুঝিয়ে অবশেষে বিয়েতে রাজি
করালেন।আমি বিয়ের দিন আব্বু আম্মুকে
সব থেকে লম্বা সালাম দিয়েছিলাম।কেন
জানিনা হয়ত জীবনের শ্রেষ্ঠ সুখের দিন
ছিল সেটি।আমিও অপুর মত করে বলেছিলাম
অবশেষে আমি পাইলাম তাহারেই
পাইলাম।
কিন্তু যাকে পেয়েছি সে কি আমাকে
বুঝবে।তাকে কি বোঝাতে পারব আমার
হৃদয়ের টান।কিন্তু না মেয়েটির সবগুনই
আছে।আমি জানি ও চায় আমার সেবা
করতে।আমার অফিসের ব্যাগ গুছিয়ে
দিতে,আমার নাস্তা তৈরি করে
দিতে,আমাকে এক কাপ চা দিকে,অফিস
থেকে আসলে দৌড়ে এসে আমার বুকে
ঝাপিয়ে পড়তে কিন্তু পাগলীটা অতটা
পারেনা।অবশ্য বাসাতে ও একাই চলতে
অভ্যস্ত হয়ে গেছে তবে সব জায়গায় যেতে
পারেনা।আমি যতই নিশ্বব্দে লুকিয়ে আসি
না কেন ও ঠিকই ধরে ফেলবে আমাকে।কখনও
বুঝতে দেইনা ওর অসহায়ত্বকে।আসল
ে ভালবেসে সবই করা যায়।আমি ওকে
ওইভাবেই পেয়েই খুশি।যখন ওকে কোলে
তুলে নেই ও মুচকি হাসে।পাগলীটার রাগ
একটু বেশি এতটা জেদি যদি ও দেখতে পেত
হাজারবার বাপের বাড়ি যেত নিজে
থেকে।কিন্তু পাগলীটা তা পারেনা।
তাইতো লুকিয়ে কাঁদে।একটা জিনিসই
অদ্ভুত ওর ওর সবরকম অনুভুতি আছে।আমি
ওকেই চাই বার বার....।
পাগলীটা ঘুমিয়ে পড়েছে।কফি খেয়েছে
অবশ্য আমি খাইয়ে দিয়েছি।আজকে একটু
বেশিই রেগে গিয়েছিল।এমনিতেই বাসায়
বন্দী থাকে মুক্ত বাতাসের স্বাদ নিতে
সবারই ইচ্ছা করে।নিজের ইচ্ছা থাকলেও
যেতে পারেনা যদিও।তবু আমি তাকে আশা
দেখিয়ে আশা পূরন করিনি পাগলীটার রাগ
হওয়াই স্বাভাবিক।এই তো নিষ্পাপ মুখে
ঘুমিয়ে পড়েছে।কে বলবে এই অপরুপার এত
সৌন্দর্য থাকা সত্বেও নিজের চোখে সে
একটিবারের জন্যেও তা উপলব্ধি করতে
পারেনা।
.
পরেরদিন বিকালে.....
একটা হলুদ শাড়ি পরিয়েছি,হাতে চুরি
পরেছে ও নিজে নিজে।পাগলীটা এত খুশি
যে আনমনে আমার কপালে একটা চুমু এঁকে
দিয়েছে....
.
বিকাল ৫:৪৫...
একটা লেকের পাশে বসে আছি।বিকেলের
হলদে আলোয় হলদে রাজকন্যা আরও অপরুপা
হয়ে উঠেছে.....
-আচ্ছা শুভ্র।(মায়া)
-বল।
-তুমি আমাকে এত ভালবাস কেন?
-তোমার থেকেও বেশি কি?
-সব কথা এত প্যাঁচাও কেন?
-কই প্যাঁচালাম শুনি।
-তুমি জান তুমি আমার কতটা জুড়ে?
-জানি মনে হয়।
-কঁচু জান।
-তুমিই বল।
-প্রতিটি রক্ত কনায় জড়িয়ে।
-তাহলে নিজের সম্পর্কে এত বাজে কথা বল
কেন?আমাকে পরীর মত মেয়ে বিয়ে করতে
বল কেন?সত্যিই কি তুমি সইতে পারবে।
-আমি মরে যাব শুভ্র।আমার বেঁচে থাকার
কারন তুমি।
-তোমাকে তো ছাড়ব বলে কাছে ডাকি নাই
পাগলী।
-হুম শক্ত করে ধর।
-আচ্ছা শুভ্র এখন সূর্য্যের আলো কি রঙ
ছড়াচ্ছে?
-লালচে আভা।আর সেই আভায় তোমার
মুখটা মিষ্টি লাগছে খুব।
-যাহ দুষ্টু।
-পাগলী মেয়ে।
-সন্ধ্যা নামলে আমার হাত ধরে হাঁটবে?
-কেন?
-আমার খুব ইচ্ছে করে হাঁটতে।
-পারবে তো।
-আমাকে পারতেই হবে।
-পাগলী।
-পাগল আমার।
মাথাটা বুকে চেপে ধরলাম কয়েকফোঁটা
অশ্র ঝরে পড়ল।ভালবাসি এই মায়াবতীকে
ভীষন ভালবাসি।।।