Wednesday, November 4, 2026

গল্প: বন্ধু

-আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে,বেচারা শুভ্র কিচেনে নাক ডাকে। (রাফি) -হ্রামী চুপ করবি না গরম তরকারী গায়ে ফেলব।(শুভ্র) -হায়রে কি কপাল,একটা ভাল রাধুনী পাইলাম না,যারে আবার পাইলাম শুভ্রর পছন্দ হইলনা।(সৌরভ) -ওই কুত্তা তোরা থামবি।(শুভ্র) -খামোস এত্ত বড় সাহস আমার জানু শুভ্ররে চেতাস তোরা হা হা হা সবকয়টাকে গর্দান দিমু।(সুমন) -শয়তান তুই ও উহু উহু উহু যা আর বাঁচুমই না। (শুভ্র) -কেন সোনা বাঁচবি না কেন?(রাফি) -তোরা এত প্যারা দিস ক্যারে।(শুভ্র) -দোস্ত এ সপ্তাহটা পরে মরিস।(সৌরভ) -কেন আরও জ্বালাবি?(শুভ্র) -না মানে এসপ্তাহে রান্নার দায়িত্বটা তোর তাই বুঝতেই পারছিস না খেয়ে থাকতে হবে তুই মরলে। -ওরে শয়তান আমার দুঃখ দেখে মজা নিস তাই না।(শুভ্র) -জানু তুই ছাড় তো ওদের কথা দেখি কি রান্না করলি খেতে দে তো।(সুমন) -এই হ্রামী খেতে দিব মানে কি?রান্না মাত্র চাপাইছি চোখে দেখস না?(শুভ্র) -জানু এতক্ষন কি হাওয়া খাইতেছিলা চুলার পাশে,রাত ১১টা বাজে খেয়াল আছে। -তোর জানুর টুট করি।রান্না যখন হবে তখন খাবি। -আহা বেচারা শুভ্র ঘেমে একেবারে নাজেহাল।(সৌরভ) -উফফ ও মোর খোদা মোরে তুমি উঠায় নাও আর পারিনা।(শুভ্র) -বেঈমান দিল বড় বেঈমান.....ও কিরে শুভ্র তোর ফোন বাজে রে....(রাফি) -আন্টির ফোন দাড়া.... (সৌরভ) -এই হ্রামী ভাল হচ্ছেনা কিন্তু দে বলছি। (শুভ্রর মায়ের ফোন) -হ্যালো আন্টি আসসালামু ওলাইকুম,কেমন আছেন?(সৌরভ) -আলাইকুম আসসলাম,জ্বি ভাল আছি বাবা তোমরা? -এই তো আন্টি কুল....(সৌরভ) -কুল মানে? (মা) -কিছুনা আন্টি।(সৌরভ) -শুভ্র কোথায়? -আর বলবেন না আন্টি কাল এক্সাম আর উনি নাক ডাকছে। -কি শুভ্র ঘুমে? -হ্যা আন্টি। -কান ধরে ডেকে তোল। -নাহ আন্টি শেষে ঘুম ভাঙলে মেরে হালুয়া বানাবে। -কিছু বলবেনা আমি বলছি ডেকে তোল। -সত্যি আন্টি? -হুম। -শয়তানটা আমার পিছনে মারল একটা লাথি।কথা বলব সুমন আর রাফি মুখ চেপে ধরে আছে। -আন্টি উঠেনা?(সৌরভ) -আবার কান ধরে টান মার। -এই ঢুশ.... -শয়তানটা আবার লাথি মারছে।চেচিয়ে উঠলাম এবার। -এইতো আন্টি ঘুম ভাঙছে।(ফোনটা আমার দিকে ছুড়ে মেরে তিন শয়তান রুম থেকে পালাল। -হ্যা আম্মু কেমন আছ।(শুভ্র) -কেমন আছি না জানলেও চলবে।কাল তোমার এক্সাম আর তুমি ঘুমাচ্ছ ছি ছি শুভ্র। -আম্মু কাল..... -থাক তোমার লজ্জা করেনা তোমার ক্লাসমেটরা এতরাত জেগে পড়ছে আর তুমি... -আম্মু আমি.... -তোমার পকেট খরচ এবার থেকে পাঁচশত কমিয়ে দিব। -আম্মু উহু উহু উহু। -রাখছি খেয়ে নিও সময়মত। -আম্মু....... টুট টুট টুট শয়তানগুলো এবার হাঁসতে হাঁসতে ভিতরে ঢুকল।শালা দেখাচ্ছি মজা বলেই গরম খুন্তি নিয়ে এলাম বাবা মা বলে তিনটা পগার পার।অবশেষে মন খারাপ নিয়ে রান্না শেষ করলাম।খেতে বসেছি তবু শয়তান তিনটে নিন্দুকের মত রান্নার নিন্দা করছে ইচ্ছা করছে একটা একটা করে মাথায় বাড়ি মারি। খাওয়া শেষ করে শুতে যাব বালিশ নেই। হ্রামীরা এই মধ্যরাতেও জ্বালাবি। -এই সৌরভ বালিশ কোথায়?(শুভ্র) -আবে ওই মন্টু আমি কি বালিশের দোকানদার? (সৌরভ) -দোস্ত তোর বালিশ তোর অদৃশ্য রাজকুমারীর কাছে চলে গেছে।(রাফি) -শয়তান মাইর খাবি কইলাম। -জানু আমার মনে হয় বালিশটা কালোজাদু জানে কেমন ভ্যানিশ হয়ে গেছে।(সুমন) -দাড়া হ্রামী কালোজাদু বের করছি। (বলেই কয়েকটা এলো পাতাড়ী কিল ঘুশি পড়তেই বালিশ বেরিয়ে এল) অতঃপর মহাসুখে শুয়ে পড়তেই গায়ের উপর তিনটা ঠ্যাং এসে পড়ল।মু হা হা হা শয়তানগুলো চেপে মারবে দেখি।কোনভাবে উঠে নিচে গিয়ে শুয়ে পড়েছি।সেখানেও হাজির শান্তি নেই।অবশেষে চারটে একসাথে জড়িয়ে ঘুম।।। . এই হল আমার প্রানপ্রিয় খচ্চর বন্ধুগুলো। সারাদিন বাশ দিতেই থাকবে।আমিই শুভ্র,ওরা সুমন,রাফি,সৌরভ।কেউ প্রথমবার দেখলে বলবে ভাই ভাই।কিন্তু না আমরা চারজন চার জায়গায়।ভাগ্যক্রমে হোস্টেলে সিট না পেয়ে একটা মেসে উঠেছি।ইচ্ছা করলে রাধুনী কিংবা বুয়া রাখতে পারি কিন্তু সেটা করলে আমাদের আনন্দটাই মাটি হবে।চার খচ্চর এক এক সপ্তাহে এক খচ্চরের ডিউটি পড়বে অন্য তিনটে মজা নিবে।এই সপ্তাহে আমার পড়েছে।যার যে সপ্তাহ তাকে সেই সপ্তাহে সব কাজই করতে হবে।সাথে পচানী তো আছে।তবে আমি একটু বেশিই খাই।ইহার পিছনে যথেষ্ট কারন আছে।এতদিন সিংগেল থাকার পর কলেজ লাইফে এসেই প্রেমটা করে বসলাম।নতুন প্রেম করছি দোস্ত এটা খাব ওটা খাব।পকেট জিএফ খালি করবে কি তিন তিনটে হাতির বাচ্চা থাকতে।শালারা এক প্যাকেট সিগারেট কিনলে একদিনে শেষে করবে। আমার আম্মু ফোন দিলে তো কথাই নেই যতধরনের পচানী দেওয়া যায়।আজ মিথ্যে এক্সাম বলে পকেট খরচ পাঁচশত কমাল। . তবে হ্যা আমাদের জুটি কলেজ সেরা। লেখাপড়াতে ভাল না হলেও ইয়ার্কি ফাজলামিতে একেবারে এ+ পেয়ে বসে আছি।ওই তিনটা প্রেম করে স্কুল লাইফ থেকে বাটা চাপা মারে তারা সাধু যেন পকেট না ফাকা হয়।সারাদিন ফাজলামি করেও শান্তি নেই বাসায় এসে সেই একই। সত্যিই দিনগুলো ভীষন রঙিন এখন।যতই পঁচানি যে যাকে দেয় না কেন একটা ছাড়া অন্যটা অচল।কেতে বসতে শুতে একসাথে। ছেলেরা আর কিছু পারুক বা না পারুক অল্প সময়ে বন্ধুকে ক্লোজ করে নিতে জানে।যার দরুন পঁচানী খেয়ে আসছি জানি খাব। এতকিছুর পরও খুব ভাল লাগে এই হাসিমুখগুলো দেখে সত্যিই এরাই তো সব।। . আজ আমি প্রতিষ্ঠিত।একটা জব করছি আল্লাহর রহমতে।এখন আর কষ্ট করে রান্না করতে হয়না।সেই মেয়েটিকে বিয়ে করে ঘরে তুলেছি।পকেট খরচের জন্য আম্মুর কাছে হাত পাততে হয়না।সেই বালিশটাও আজ হারিয়ে যায় না।হারাবেই কেন চারটি প্রানী এখন চার জায়গায়।যে যার মত রাধুনী খুঁজে সংসারী হয়েছে।মাঝে মাঝে কনফারেন্সে আড্ডা চলে।হাজার হলেও সেই বন্ধুত্ব তো যাবে কোথায়।সবাই সুস্থ আছি। মাঝে মাঝে চারজন যখন একসাথে হই ভুলে যাই আমাদের নিজেদের বাচ্চা রয়েছে। সেই কলেজ লাইফের ইয়ার্কি শুরু করি।আজ আর টাকার অভাবে নেভি খেতে হয় না। গুল্লিফ কিংবা বেনসনের প্যাকেট সবার পকেটে থাকে।তবুও যখন একসঙ্গে নেভি চলবেই।মাঝে মাঝে মানিব্যাগটা রেখে ভাবি এই হয়ত রাফি কিংবা সুমন না হয় সৌরভ পাঁচশত টাকা সরিয়ে খেয়ে এসে বলবে দোস্ত তোর পকেট মেরেছি।হা হা হা সেগুলো সবই অতীত।ভালবাসি রে তোদের খুব ভালবাসি।সম্ভব হলে ফিরতাম সেই দিনগুলোতে।।।। . . লিখা:অন্তহীন শ্রাবন

No comments:

Post a Comment