Wednesday, November 4, 2026

তিন পর্বের প্রেম
.
লেখকঃ ব্যঞ্জন বর্ণ (একটা পাগল)
.
(৪র্থ পর্ব )
সকাল থেকে বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। সারা দিন পর কিছুক্ষন আগেই বিদ্যুতের দেখা পাওয়া গেল। আবিদ হতচকিত হয়ে উঠল। গত রাত থেকে এখন পর্যন্ত ওর ফোন বন্ধ ছিল। বিদ্যুতের অভাবে ফোনে চার্জ ছিলনা কিন্তু বাসায় কথা বলা খুব প্রয়োজন। ফোনে চার্জ দেওয়ার জন্য চার্জার পোর্টে এক্সার্জার ঢুকালো। বারবার চেষ্টা করার পরও কিছুতেই চার্জ হচ্ছিলনা। আবিদের মেজাজ বিগরে যেতে লাগলো। সামির ছোট চাচি অর্থাৎ অর্ণির মা হঠাৎ ঘরে আসলো। আবিদের এমন অসুবিধায় পরতে দেখে সে বলল – আরে এই পোর্ট আগে থেকেই নষ্ট হয়ে আছে। তুমি আমাদের ঘরে গিয়ে ফোনটা চার্জে দিয়ে এসো, ওখানে পোর্ট খালি আছে। আবিদ যেন দেহে প্রান ফিরে পেল। কাঁদামাখা ঊঠোন পেরিয়ে এক দৌড়ে গিয়ে সোজা ঢুকলো অর্ণির ঘরে।
.
ঘরে ঢুকেই একটা অদ্ভুত পরিস্থিতির সামনে পরলো আবিদ। ঘটনাটা এই দিকে মোর নেবে তা কারো পক্ষেই আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব নয়। ঠিক ঐ সময় অর্ণি গোসল করে মাত্র ঘরে এসে কাপড় পাল্টাচ্ছিল আর সে মুহুর্তেই আবিদ ঐ ঘরে এসে ঢুকে পরেছে । কি বিশ্রী অবস্থা!
.
কিছু মূহুর্তের জন্য সময় স্তব্ধ হয়ে গেছে আবিদ আর অর্ণির দুজনারই। অর্ণি লজ্জায় কাচুমাচু করছিল, মুখের ভাষা কোথায় যেন বিলিন হয়ে গেছে ওর। এক মূহুর্ত পর আবিদের ধ্যান ভাঙল। চুপচাপ মাথাটা নিচু করে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেল।
হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই অস্বাভাবিক ঘটনাটির ওরা দুই জন ছাড়া আর কেউ স্বাক্ষী রইলনা। আবিদ নিজের ঘরে চলে এসেছে। কিছুক্ষন আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটির অস্বাভাবিকতা আবিদের মনে বার বার দাগ কেটে যাচ্ছে। ভেজা কাপড়ে একটি যুবতী মেয়ের এমন ভাবে দর্শন ঘটাটা ওর অবুজ মনে কেমন যেন একটা নাড়াচাড়া দিয়ে ফিরছে । আবিদ সব ভুলে যেতে চেষ্টা করে, কিন্তু পারেনা।
.
মানুষিক ভাবে আবিদ ক্লান্ত হয়ে উঠেছে। দুপুরের কড়া রোদে ওর চোখে ঘুম নিয়ে আসে। আমি চোখ বুজে। কল্পনায় ভেসে আসে অর্ণি নামের ঐ মেয়েটির ছবি।
.
সন্ধ্যা হয়ে গেছে। বাঁশ বাগানের ফাঁক দিয়ে রূপালি চাঁদট আলো দিয়ে যাচ্ছে। এসময়ে স্বপ্ন নিয়মিত চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকে। কল্পনা বিলাশী মানুষদের চাঁদের আলো ভাল লাগে। স্বপ্নের মুখছবিতে কেমন যেন একটা সুখ সুখ ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মনের ভিতর অজানা সুখভাবনা কাজ করলে মানুষের চোখ ও মুখের তার প্রতিচ্ছবি ভেসে ঊঠাটা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি।
.
আবিদেরও চাঁদ ভাল লাগে। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থেকে চাঁদ দেখার সাধ ওর বহু দিনেই ইচ্ছা কিন্তু সময় ও সুযোগের অভাবে ইচ্ছাটা ইচ্ছাই রয়ে গেছে । আজ ওর সেই সুযোগটা এসেছে।
স্বপ্ন চাঁদের দিকে চেয়ে ছিল, হঠাৎ আবিদের হাত স্বপ্নের কাঁধে এসে পরেছে, স্বপ্ন চমকে পেছনে তাকায়!
ও আবিদ! তুমি এখানে ? স্বপ্ন হাসি মুখে জিজ্ঞেস করে।
.
আবিদ ওর মনের লালিত স্বপ্নের কথা স্বপ্নকে জানিয়ে দেয়। স্বপ্ন খুশি হয়। কিন্তু এদের দুজনের অনুপস্থিতি বাড়ীতে টের পেয়ে যাওয়ায় বাড়ির ছোট ছোট বাচ্চারাও পাটি নিয়ে এসেছে। জ্যোৎস্না রাতে বাড়ীর এই যায়গাটি অদ্ভুত সৌন্দর্য ফুটে উঠে। মূলত এই জায়গাটি বাড়ীর সবার কাছে অনেক প্রিয় কিন্তু রাতের বেলায় একা একা এখানে আসাটাও কম কথা না ! গ্রামাঞ্চলে ভূত, পেত্নী কথা গুলো মানুষ খুব বিশ্বাসের সাথে দেখে তাই এই ভয়ে কেউ এখানে আসেনা, বাঁশ বাগান বলে কথা।
.
সবাই ভয়ার্ত পরিবেশের মজাটা নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে কথা বলছে । অর্ণি আসেনি। বাড়ীর উঠানে একটি চেয়ার পেতে একলা একলা বসে আছে। ওখান থেকে এই জায়গাটি সরাসরি চোখে পড়ে।
বাড়ীর ভেতর থেকে স্বপ্নের মায়ের আহাজারি ভেসে আসছে। স্বপ্ন বিচলিত হয়ে ঘরের দিকে ছুটে গেল। এই ফাঁকে অর্ণি নিজের চেয়ারটা নিয়ে বাঁশ বাগানের দিকে এগিয়ে এল। ওর মনের কোন একটা দুর্বলতার কারনে হয়তো এতক্ষন আসতে পারেনি। হয়ত স্বপ্ন এতোক্ষন এখানে ছিল বলে আসতে সাহস হচ্ছিলনা অর্ণির।
আবিদ এক মনে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। মনের ভেতর নানান ভাবনা খেলা করছে কিন্তু মুখ দেখা যাচ্ছেনা। চাঁদের জ্যোৎসার আলো বাঁশ বাগানের আরালে ঢেকে পরিবেশটা আবছা অন্ধকার করে তুলেছে, ঐ অন্ধকারে এক টুকরো আবিদের মুখে এসে পড়েছে।
.
বাড়ীর এদিকটা অনেক রকম গাছ-পালা আর গুল্মে ভরপুর। এমনিতে অর্ণি এদিকটাতে আসেনা। আজ কি মনে করে অর্ণি এদিকটাতে এসেছে তা একটা ছলনার ভেতর রয়ে গেল অর্ণির মনে।
.
চেয়ার নিয়ে ও সোজা আবিদের পেছনে এসে বসেছে। গতকালের ঘটনাটা অর্ণির মনে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক জীবন যাপনে ঘটনাটি যেন অস্বাভাবিকতায় পরিনত হয়েছে।
.
অর্ণির মনে অন্যরকম একটা বাতাস বইছে। আবিদের ঘটনাটি এখন মনে নেই। ওর মনে চাঁদ আর জ্যোৎস্নার পরিবেশ খেলা করছে।
আবিদ এই মূহুর্তে জংলার মাঝে জোঁনাকি পোকার আলো জ্বালানোটা মন দিয়ে দেখছে । একটা প্রশ্ন তৈরি করার পায়তারা করছে আবিদ।
.
সামি ছোট বাচ্চাদের সাথে অনেক মজা করছে আর মন খুলে হাসাহাসি করছে। ছোট বাচ্চাদের সাথে সামি এমনিতেই খুব অল্প সময়ে ভাব জমাতে ওস্তাদ, তার উপর বাড়ীর সব বাচ্চারাতো সামির অনেক আদরের, অনেক স্নেহের।
অনেক্ষন পর আবিদ হঠাৎ সামিকে উদ্দেশ্য করে বলল-
বলতো সামি, জোঁনাকিরা কেন আলো জ্বালায় ? সামি মাথা নেড়ে জানায় ও জানেনা ।
আবিদ অবাক!
তুই জানিস না ? আজব, তুইনা সাইন্সের স্টুডেন্ট ?
অর্ণি পেছন থেকে হঠাৎ বলে উঠে- “আমি জানি”
আবিদ চমকে উঠে!
পেছনে তাকিয়ে দেখে অর্ণি গোমরা মুখে আবিদের দিকে চেয়ে আছে।
.
(৫ম পর্বের অপেক্ষায় থাকুন, গল্প চলবে- )

No comments:

Post a Comment