তিন পর্বের প্রেম.
লেখকঃ ব্যঞ্জন বর্ণ (একটা পাগল)
.
(১ম পর্ব)
.
ভাঙা চালের ফুটো দিয়ে সূর্যের রশ্নি চোখে এসে পরেছে। বোঝা যাচ্ছে এখন সূর্যটি পশ্চিমের দিকে হেলে পরছে। আবিদ খুব ক্লান্ত ছিল। গত রাতের ট্রেন জার্নিটা খুব বেশি সুখকর ছিলনা। এমনিতেই ট্রেন ১ ঘন্টা লেট তার উপর পরোপকার করতে গিয়ে সারা রাত দাঁরিয়ে আসাতো আর অনেক সুখকর ঘটনা নয়?
.
অবশ্য কি’ই বা করার ছিল? আসার এক দিন আগে অগ্রীম টিকেট করতে গিয়েও দুইটির যায়গায় টিকেট পেয়েছে মাত্র ১ টি। অবশ্য মনে রাখতে হবে এটি আমাদের সোনার বাংলাদেশ। এখানে চাইলেই আর যাই পাওয়া যাক না কেনো? ট্রেনের টিকেট পাওয়া যায়না।
.
দুই বন্ধু আবিদ ও সামি। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শেষ করেই সামিদের দাদুর বাড়ীতে যাওয়ার প্ল্যান ওদের। টিকেট পেল একটি কিন্তু মানুষ দুইজন।
সামি আগেই বলেছিল, “দোস্ত এক টিকেটে যাওয়া সম্ভব নয়”। চল যাওয়ার ডেট চেঞ্জ করি। আবিদ কথাটায় সায় দিলনা, ও ভেবেছিল এক সিটে দুইজন মিলে শেয়ার করে চলে যাবে”। কিন্তু বাস্তবতা টা এতো সহজ নয়, ঘটে গেলো অন্য রকম ঘটনা।
.
আবিদ এর আগে কখনো ট্রেনে চড়েনি। কি ঘটতে পারে তার ব্যাপারে সম্পূর্নই অজানা তাই সামি ওকে সান্তনার বানী শুনাতে গিয়ে বলল, “ব্যাপারনা দোস্ত, দেখিস কোন সমস্যাই হবেনা, আমরা ঠিক চলে যেতে পারব”।
.
ট্রেন যথারিতি দুই ঘন্টা পর আসল। কমলাপুর থেকে ওরা সুন্দরবন এক্সপ্রেসের “ঘ” নং বগিতে উঠে গেল। অসহ্য গরম আর মানুষের চাপাচাপিতে ভীর ঠেলে ওরা নিজেদের সিট খুজতে লাগল। ১৯/২০ সিরিয়ালের ২০ নং সিটটিই ওদের দুইজনের ভাগের।
অনেক কষ্টের বিনিময়ে ওদের কাঙ্খিত সিটটি খুজে পাওয়ার পর ঘটলো আরেক বিপত্তি!!!
.
দেখল সিটে এক জন মধ্যবয়সী মহিলা বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। সামি মহিলাটিকে ভদ্রভাবে ডাকতে আরম্ভ করল। “এই যে আন্টি সিটটা ছেড়ে দিতে হবে যে, এটা আমাদের সিট। আবিদ সহজ ভাবেই কথা গুলো বলল কিন্তু অনেক বার ডেকেও ভদ্র মহিলার ঘুম ভাঙানো গেলনা।
আবিদ বলল- “একবার ঠিক করে দেখতো, আমাদের কোথাও ভুল হচ্ছে কিনা ?
সামি তৎক্ষনাৎ টিকিটটি মিলিয়ে দেখল।
লেখকঃ ব্যঞ্জন বর্ণ (একটা পাগল)
.
(১ম পর্ব)
.
ভাঙা চালের ফুটো দিয়ে সূর্যের রশ্নি চোখে এসে পরেছে। বোঝা যাচ্ছে এখন সূর্যটি পশ্চিমের দিকে হেলে পরছে। আবিদ খুব ক্লান্ত ছিল। গত রাতের ট্রেন জার্নিটা খুব বেশি সুখকর ছিলনা। এমনিতেই ট্রেন ১ ঘন্টা লেট তার উপর পরোপকার করতে গিয়ে সারা রাত দাঁরিয়ে আসাতো আর অনেক সুখকর ঘটনা নয়?
.
অবশ্য কি’ই বা করার ছিল? আসার এক দিন আগে অগ্রীম টিকেট করতে গিয়েও দুইটির যায়গায় টিকেট পেয়েছে মাত্র ১ টি। অবশ্য মনে রাখতে হবে এটি আমাদের সোনার বাংলাদেশ। এখানে চাইলেই আর যাই পাওয়া যাক না কেনো? ট্রেনের টিকেট পাওয়া যায়না।
.
দুই বন্ধু আবিদ ও সামি। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শেষ করেই সামিদের দাদুর বাড়ীতে যাওয়ার প্ল্যান ওদের। টিকেট পেল একটি কিন্তু মানুষ দুইজন।
সামি আগেই বলেছিল, “দোস্ত এক টিকেটে যাওয়া সম্ভব নয়”। চল যাওয়ার ডেট চেঞ্জ করি। আবিদ কথাটায় সায় দিলনা, ও ভেবেছিল এক সিটে দুইজন মিলে শেয়ার করে চলে যাবে”। কিন্তু বাস্তবতা টা এতো সহজ নয়, ঘটে গেলো অন্য রকম ঘটনা।
.
আবিদ এর আগে কখনো ট্রেনে চড়েনি। কি ঘটতে পারে তার ব্যাপারে সম্পূর্নই অজানা তাই সামি ওকে সান্তনার বানী শুনাতে গিয়ে বলল, “ব্যাপারনা দোস্ত, দেখিস কোন সমস্যাই হবেনা, আমরা ঠিক চলে যেতে পারব”।
.
ট্রেন যথারিতি দুই ঘন্টা পর আসল। কমলাপুর থেকে ওরা সুন্দরবন এক্সপ্রেসের “ঘ” নং বগিতে উঠে গেল। অসহ্য গরম আর মানুষের চাপাচাপিতে ভীর ঠেলে ওরা নিজেদের সিট খুজতে লাগল। ১৯/২০ সিরিয়ালের ২০ নং সিটটিই ওদের দুইজনের ভাগের।
অনেক কষ্টের বিনিময়ে ওদের কাঙ্খিত সিটটি খুজে পাওয়ার পর ঘটলো আরেক বিপত্তি!!!
.
দেখল সিটে এক জন মধ্যবয়সী মহিলা বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। সামি মহিলাটিকে ভদ্রভাবে ডাকতে আরম্ভ করল। “এই যে আন্টি সিটটা ছেড়ে দিতে হবে যে, এটা আমাদের সিট। আবিদ সহজ ভাবেই কথা গুলো বলল কিন্তু অনেক বার ডেকেও ভদ্র মহিলার ঘুম ভাঙানো গেলনা।
আবিদ বলল- “একবার ঠিক করে দেখতো, আমাদের কোথাও ভুল হচ্ছে কিনা ?
সামি তৎক্ষনাৎ টিকিটটি মিলিয়ে দেখল।
নাহ! এটাই আমাদের সিট। কিন্তু ভদ্র মহিলা উঠছে না কেন?
আবিদ বলল- “এখন কি করতে পারি সামি বলতো”
সামি - চল উনাকে ভাল করে ডেকে তুলি।
তারপর আবিদ ভদ্র মহিলাটিকে তুলতে গিয়ে মহিলার শরীর স্পর্শ করার সাথে সাথে আতকে উঠল। অনেকটা ছিটকে যাওয়ার মত মনে হল। ১০০ ভোল্ট বিদ্যুৎ স্পর্শ করেও কেউ এমন শক খায়না বলে মনে হয়না।
সামি - কিরে আবিদ, ছাড়লি ক্যান?
আবিদ - তুই ধরে দেখ সামি।
সামি কিছু না বলে ঐ মহিলাটিকে স্পর্শ করে ঘটনাটি বুঝতে পারলো। ভদ্র মহিলার গায়ে কম করে হলেও প্রায় ১০৩ ডিগ্রী জ্বর। এমন বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে একজন মানুষকে জ্বালাতন করা ঠিক হবেনা মনে করে, ওদের মনে মানবতার উদ্রেগ ঘটে।
.
মনে মনে ভেবে নেয়, হয়তো মহিলাটিও সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রেনে উঠেছিল কিন্তু অসুস্থতা তাকে ওদের খালি পরে থাকা সিটটিতে মহিলাকে ঘুমিয়ে পরতে বাধ্য করেছিল। হয়তো ভদ্র মহিলাটি ঘুমায়নি, বেহুশ হয়ে আছে।
অজানা ভবিষৎ সম্পর্কে মানুষ আগে থেকে কখনো কল্পনাও করতে পারে না। যদি পারতো তবে কেউ কখনো বিপদে পরতো না, অসুস্থ হতো না।
.
আবিদ সামিকে বলল- “দোস্ত, এই অবস্থা দেখে আর কিই বা করতে পারি বল, তার চেয়ে চল দুইজন দাঁড়িয়ে গল্প করতে করতে চলে যাই।”
সামি আবিদের মুখের দিকে নিরবে তাকিয়ে থাকে, কোন কথা বলেনা। কিছুক্ষন পর সামি বলে উঠে- “খুব কষ্ট দিচ্ছি তোকে, তাইনা রে?’’
আবিদ হেসে উঠে, বলে- আরেহহহহহ এটা কোন ব্যাপার না।
(২য় পর্বের অপেক্ষায় থাকুন গল্প চলবে................................)
আবিদ বলল- “এখন কি করতে পারি সামি বলতো”
সামি - চল উনাকে ভাল করে ডেকে তুলি।
তারপর আবিদ ভদ্র মহিলাটিকে তুলতে গিয়ে মহিলার শরীর স্পর্শ করার সাথে সাথে আতকে উঠল। অনেকটা ছিটকে যাওয়ার মত মনে হল। ১০০ ভোল্ট বিদ্যুৎ স্পর্শ করেও কেউ এমন শক খায়না বলে মনে হয়না।
সামি - কিরে আবিদ, ছাড়লি ক্যান?
আবিদ - তুই ধরে দেখ সামি।
সামি কিছু না বলে ঐ মহিলাটিকে স্পর্শ করে ঘটনাটি বুঝতে পারলো। ভদ্র মহিলার গায়ে কম করে হলেও প্রায় ১০৩ ডিগ্রী জ্বর। এমন বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে একজন মানুষকে জ্বালাতন করা ঠিক হবেনা মনে করে, ওদের মনে মানবতার উদ্রেগ ঘটে।
.
মনে মনে ভেবে নেয়, হয়তো মহিলাটিও সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রেনে উঠেছিল কিন্তু অসুস্থতা তাকে ওদের খালি পরে থাকা সিটটিতে মহিলাকে ঘুমিয়ে পরতে বাধ্য করেছিল। হয়তো ভদ্র মহিলাটি ঘুমায়নি, বেহুশ হয়ে আছে।
অজানা ভবিষৎ সম্পর্কে মানুষ আগে থেকে কখনো কল্পনাও করতে পারে না। যদি পারতো তবে কেউ কখনো বিপদে পরতো না, অসুস্থ হতো না।
.
আবিদ সামিকে বলল- “দোস্ত, এই অবস্থা দেখে আর কিই বা করতে পারি বল, তার চেয়ে চল দুইজন দাঁড়িয়ে গল্প করতে করতে চলে যাই।”
সামি আবিদের মুখের দিকে নিরবে তাকিয়ে থাকে, কোন কথা বলেনা। কিছুক্ষন পর সামি বলে উঠে- “খুব কষ্ট দিচ্ছি তোকে, তাইনা রে?’’
আবিদ হেসে উঠে, বলে- আরেহহহহহ এটা কোন ব্যাপার না।
(২য় পর্বের অপেক্ষায় থাকুন গল্প চলবে................................)
No comments:
Post a Comment