Wednesday, November 4, 2026

গল্প: ব্রেকাপ, অত:পর বিয়ে।
.
--অদৃশ্য মানব
বন্ধুদের সাথে আড্ডা শেষে মাত্র ভার্সিটি থেকে ফিরল শান্ত।শরীরটা প্রচন্ড ক্লান্ত।আর ক্লান্তি নিয়েই ধপ করে বিছানায় শুয়ে যায় ও।কিছুটা মাথা ব্যাথাও করছে।ঠিক তখনই কোথা থেকে যেন বিড়ালের ডাক ভেসে আসে।
আযব তো, বিড়াল আসল কোথ্থেকে? সে বিছানা থেকে উঠে রুমের চারপাশে ভাল করে খুঁজতে থাকে বিড়ালটা।খাটের তলায়, টেবিলের নিচে, আলমারীর পিছনে এবং শেষমেষ টেবিলের ড্রয়ারে। কিন্তু না, কোথায়ও বিড়ালের চিহ্ন পর্যন্ত নেই।শেষে সে আবিষ্কার করে আওয়াজটা বালিশের আশপাশ থেকেই আসছে।সে একটা লাঠি নিয়ে এসে বালিশটা সরিয়েই চোখ বন্ধ করে সাজোরে দেয় এক বাড়ি।কিন্তু হায় হায় একি!!! মোবাইলটা যে ভেঙে দুই টুকরো!!!
তাহলে কি শান্তের মোবাইলের রিংটোনেই বিড়ালের ডাক সেট করা ছিল?কিন্তু এমন ছেলেমানুষী তো ও করে নি!!তাহলে কে করল?
.
শান্তকে আর তেমন কিছু ভাবতে হল না।সে হঠাৎ দেখতে পেল তার ছোট বোন অর্পি দরজায় দাড়িয়ে হি হি করে হাসছে।ওর আর কিছুই বুঝতে বাকি রইল না।এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা তাহলে তার এই বজ্জাত বোনটা?ও-ই শান্তের মোবাইলের রিংটোন চেইন্জ করে দিয়েছে। শান্ত লাঠিটা আবার নিচ থেকে হাতে তুলে নেয়।আর এটা দেখেই ভোদৌড় মারে ওর বোন।এক দৌড়েই রুমে গিয়ে দরজা আটকে দেয়।আর এদিকে রাগে গজগজ করতে থাকে শান্ত।
.
মেয়েটা শান্তকে প্রায় সময়ই বিপদে ফেলে দেয়।মেয়েটা কয়েকদিন আগে অত্রি(শান্তের GF)-র একটা ছবি শান্তের মোবাইলের স্ক্রিনে ওয়ালপেপার হিসেবে সেট করে দেয়। এতে ছবিটা শান্তের আম্মুর চোখে পড়ে।আর এর পরপরই শুরু হয় জেরা।শেষে অত্রিকে বান্ধবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ঐ দিনের মত বেঁচে যায় ।
.
ভাঙা মোবাইলটা ময়লার ঝুড়িতে ফেলে অন্য একটা মোবাইলে সীম লাগিয়ে নেয় শান্ত।তখন অত্রি কল দিয়েছিল।তাই সাথে সাথেই কল ব্যাক করে
--হু কল রিসিভ কর নাই কেন তখন? (অত্রি)
--বিড়াল মারছিলাম।
--কিহ?বিড়াল?
--হুম।
--এই তুমি কোথায় বলত?আমি তো জানি বিড়াল বাসর রাতে মারতে হয়।তুমি বিয়ে টিয়ে করে পেলনি তো আবার?
--তুমি আবার প্যাঁচাল শুরু করলা?
--আচ্ছা বাদ দাও। কেমন আছ?
--ভাল না।মেজাজ গরম।
--কেন?
--পরে বলব।
--ওকে।কি কর?
--শুয়ে আছি।
--দুপুর বেলা শুয়ে আছ কেন?গোসল করছ?
--না।
--কিহ?কেন?
--পানি ভিজা।
--মানে কি?
--ঠান্ডা লাগছে।
--এই তুমি গোসল করছ যে আজকে কয়দিন?
--কই আর কত দিন?মাত্র তো ৪ দিন।
--কি?ইয়াকক। এক্ষন যাও, গোসল করে আস।
--না আজকে করব না।কাল করি?
--না তুমি এক্ষন যাবা।
--না, যাব না।
--কি?যাও ব্রেকাপ।
.
অবশেষে অত্রি শান্তকে আর কিছু না বলার সুযোগ দিয়ে ৪৭ তম বারের মত ব্রেকাপ করে ধুম করে ফোনটা রেখে দেয়।এই ব্যাপারটা শান্তের কাছে প্রচন্ড বিরক্ত লাগে।কথায় কথায় ব্রেকাপ?মেয়েরা সব অদ্ভুত কারনে ব্রেকাপ করে।যেমন-
এই তুমি শার্টের বোতাম খোলা রাখছ কেন? যাও ব্রেকাপ। আই তুমি আজকে নীল শার্ট পরে আস নাই কেন?যাও ব্রেকাপ। এই তুমি ওই মেয়েটার দিকে তাকাইছ কেন? যাও ব্রেকাপ।এই তুমি এত কথা বল কেন?যাও ব্রেকাপ।আবার কিছুক্ষন পর, এই তুমি চুপ করে আছ কেন?যাও ব্রেকাপ।?
মানে কি এগুলা কি!!এসবের কোন মানে হয়।
.
বিকেলে অত্রির কল পেয়ে পার্কে ওর সাথে দেখা করতে যায় শান্ত।কিন্তু হঠাৎ এমন জরুরী তলবের কারন বুঝতে পারছে না ও।
--কি হয়েছে?হঠাৎ জরুরি তলব কেন?
--তুমি গোসল করছিলা?
--ইয়ে ম-মানে, হু করছিলাম।
--মিথ্যা বল কেন?
--সত্যি বলছি।তোমার মুখে মাখানো ওই আটা, ময়দা, সূজির কসম।
--থাপ্পর দিব একটা।আমি মুখে আটা, ময়দা, সূজি মাখি?
--জানি না।
--তোমাকে জানতে হবে না।আগে বল তুমি গোসল কর নাই কেন?
--আগে তুমি আমাকে বল যে তোমাকে কে বলল আমি গোসল করি নাই?
--তোমার বোন অর্পি।
--কিহ?ওই ডাকাইতনী বলছে।
--চুপ কর তুমি।আজকে থেকে আমাকে আর কখনও কল দিবা না তুমি ।আমার কথার কোন মূল্যই যখন তোমার কাছে নেই তখন এই সম্পর্কটারও কোন মানে হয় না।আমি চললাম। ভাল থেক।Bye.
--বাড়ি থেকে মুখস্ত করে আসছ নাকি কথাগুলো?
--কি?
--না মানে, এক নি:শ্বাসে সব বললে তো তাই জিজ্ঞেস করলাম।
.
অত্রি রেগেমেগে সেখান থেকে উঠে চলে গেল।আজকে মনে হয় একটু বেশি ফাজলামো হয়ে গেছে।কপালে কি আছে আল্লাহ মালুম।
.
আজ দুইদিন অত্রির মোবাইল বন্ধ।শান্ত এবার কিছুটা ভয় পেয়ে যায়।ভালবাসা হারানোর ভয়।আর এদিকে হঠাৎ করেই শান্তের ফ্যামিলি থেকে ওর বিয়ের কথা চলছে।ওনাদের কথা হল- 'শান্ত ফাইনাল দিয়ে দিয়েছে।দুইদিন পর চাকরী করবে।এরপর তো বিয়ে করতেই হবে।তাই এখন থেকেই মেয়ে দেখা শুরু।'
আর এদিকে শান্ত তার পরিবারকে অত্রির কথা বলতে পারছে না কারন আজ কিছুদিন যাবত অত্রির সাথে যে তার যোগাযোগ নেই।
.
এভাবে প্রায় দুইমাস কেটে গেল।এই দুইমাস অনেক চেষ্টা করেও অত্রির সাথে যোগাযোগ করতে পারে নি শান্ত।একদিন সন্ধ্যায় শান্তের আম্মু আসে ওর ঘরে
--আমরা তোর জন্য একটা মেয়ে পছন্দ করেছি।
--আম্মু প্লিজ।আমি এখন বিয়ে করতে পারব না।
--পারবি না?তাহলে অত্রির ফ্যামিলিকে কি না করে দিব?
--হুম দাও।
--আচ্ছা।
.
শান্ত হঠাৎ করে ওর আম্মুকে পিছন থেকে ডাক দেয়।
--আম্মু আম্মু আম্মু আম্মু তুমি কি অত্রির কথা বললে?
--কোন অত্রি?
--এই যে একটু আগে বললে না যে অত্রির ফ্যামিলিকে না করে দিবে কিনা?
--কই নাতো।আমি তো রিয়ার কথা বলেছি।অত্রি কে রে?
--না আম্মু কেউ না।যাও তুমি।
শান্তের মা মুচকি হেসে রুম থেকে বের হয়ে যায়।আসলে উনি অত্রির কথাই বলেছিলেন।এই পুরো ব্যাপারটা একটা সাজানো নাটক।আর এ নাটকের ডিরেকশন দিচ্ছে শান্তের বোন অর্পি।
অর্পি ওর মা কে শান্ত আর অত্রির রিলেশানের কথা বলে দেয়।তাই শান্তের পরিবার অত্রির পরিবারের সাথে কথা বলে দুজনের বিয়ে পাকা করে ফেলে।কিন্তু পুরো ব্যাপারটাই ঘটেছে শান্তের অজান্তে।
.
অবশেষে সব নাটকের অবসান।আজ অত্রি ও শান্তের বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়।বিয়ের সব ঝামেলা চুকিয়ে শান্ত রুমে আসে।এসে দেখে অত্রি লম্বা একটা ঘোমটা টেনে বসে আছে।শান্ত ওর কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই অত্রি জিজ্ঞেস করে উঠে
--এই আজকে গোসল করছিলা?
--হুম করছিলাম তো।
--মিথ্যা বলবা না।
--আরে বাবা সত্যি বলছি।আজকে গরম পানি দিয়ে গোসল করছি।
--কিহ?গরম পানি দিয়ে?
--হু। কেন কি সমস্যা?
--হবে না।যাও এখনই ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করে আস।
--কিইই?এই রাতের বেলা ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে তো নিউমোনিয়া হয়ে যাবে।
--হয়ে যাক।
--কি জল্লাদ বউ রে বাবা।
--তুমি যাবা?
--না।
--যাও ব্রেকাপ।
--কিহ?ব্রেকাপ? ওহে ম্যাডাম, আপনি এখন আমার গার্লফ্রেন্ড নয়। আমার বউ।
--তুমি যাবা নাকি ডিভোর্স দিব?
--মানে?বিয়ের ৫ ঘন্টার মাথায় ডিভোর্স?
--ধুর!!! তোমার সাথে কথা বলা মানেই সময় নষ্ট।
এটা বলেই অত্রি শান্তের কান ধরে ওকে বাথরুমে ঢুকিয়ে দেয়।
আর বাথরুমে শান্ত গায়ে হিমশীতল পানি ঢালছে আর ভাবছে-বিয়েটা মনে হয় গরমকালেই করা উচিত ছিল।গল্প: ব্রেকাপ, অত:পর বিয়ে।
.
--অদৃশ্য মানব
বন্ধুদের সাথে আড্ডা শেষে মাত্র ভার্সিটি থেকে ফিরল শান্ত।শরীরটা প্রচন্ড ক্লান্ত।আর ক্লান্তি নিয়েই ধপ করে বিছানায় শুয়ে যায় ও।কিছুটা মাথা ব্যাথাও করছে।ঠিক তখনই কোথা থেকে যেন বিড়ালের ডাক ভেসে আসে।
আযব তো, বিড়াল আসল কোথ্থেকে? সে বিছানা থেকে উঠে রুমের চারপাশে ভাল করে খুঁজতে থাকে বিড়ালটা।খাটের তলায়, টেবিলের নিচে, আলমারীর পিছনে এবং শেষমেষ টেবিলের ড্রয়ারে। কিন্তু না, কোথায়ও বিড়ালের চিহ্ন পর্যন্ত নেই।শেষে সে আবিষ্কার করে আওয়াজটা বালিশের আশপাশ থেকেই আসছে।সে একটা লাঠি নিয়ে এসে বালিশটা সরিয়েই চোখ বন্ধ করে সাজোরে দেয় এক বাড়ি।কিন্তু হায় হায় একি!!! মোবাইলটা যে ভেঙে দুই টুকরো!!!
তাহলে কি শান্তের মোবাইলের রিংটোনেই বিড়ালের ডাক সেট করা ছিল?কিন্তু এমন ছেলেমানুষী তো ও করে নি!!তাহলে কে করল?
.
শান্তকে আর তেমন কিছু ভাবতে হল না।সে হঠাৎ দেখতে পেল তার ছোট বোন অর্পি দরজায় দাড়িয়ে হি হি করে হাসছে।ওর আর কিছুই বুঝতে বাকি রইল না।এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা তাহলে তার এই বজ্জাত বোনটা?ও-ই শান্তের মোবাইলের রিংটোন চেইন্জ করে দিয়েছে। শান্ত লাঠিটা আবার নিচ থেকে হাতে তুলে নেয়।আর এটা দেখেই ভোদৌড় মারে ওর বোন।এক দৌড়েই রুমে গিয়ে দরজা আটকে দেয়।আর এদিকে রাগে গজগজ করতে থাকে শান্ত।
.
মেয়েটা শান্তকে প্রায় সময়ই বিপদে ফেলে দেয়।মেয়েটা কয়েকদিন আগে অত্রি(শান্তের GF)-র একটা ছবি শান্তের মোবাইলের স্ক্রিনে ওয়ালপেপার হিসেবে সেট করে দেয়। এতে ছবিটা শান্তের আম্মুর চোখে পড়ে।আর এর পরপরই শুরু হয় জেরা।শেষে অত্রিকে বান্ধবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ঐ দিনের মত বেঁচে যায় ।
.
ভাঙা মোবাইলটা ময়লার ঝুড়িতে ফেলে অন্য একটা মোবাইলে সীম লাগিয়ে নেয় শান্ত।তখন অত্রি কল দিয়েছিল।তাই সাথে সাথেই কল ব্যাক করে
--হু কল রিসিভ কর নাই কেন তখন? (অত্রি)
--বিড়াল মারছিলাম।
--কিহ?বিড়াল?
--হুম।
--এই তুমি কোথায় বলত?আমি তো জানি বিড়াল বাসর রাতে মারতে হয়।তুমি বিয়ে টিয়ে করে পেলনি তো আবার?
--তুমি আবার প্যাঁচাল শুরু করলা?
--আচ্ছা বাদ দাও। কেমন আছ?
--ভাল না।মেজাজ গরম।
--কেন?
--পরে বলব।
--ওকে।কি কর?
--শুয়ে আছি।
--দুপুর বেলা শুয়ে আছ কেন?গোসল করছ?
--না।
--কিহ?কেন?
--পানি ভিজা।
--মানে কি?
--ঠান্ডা লাগছে।
--এই তুমি গোসল করছ যে আজকে কয়দিন?
--কই আর কত দিন?মাত্র তো ৪ দিন।
--কি?ইয়াকক। এক্ষন যাও, গোসল করে আস।
--না আজকে করব না।কাল করি?
--না তুমি এক্ষন যাবা।
--না, যাব না।
--কি?যাও ব্রেকাপ।
.
অবশেষে অত্রি শান্তকে আর কিছু না বলার সুযোগ দিয়ে ৪৭ তম বারের মত ব্রেকাপ করে ধুম করে ফোনটা রেখে দেয়।এই ব্যাপারটা শান্তের কাছে প্রচন্ড বিরক্ত লাগে।কথায় কথায় ব্রেকাপ?মেয়েরা সব অদ্ভুত কারনে ব্রেকাপ করে।যেমন-
এই তুমি শার্টের বোতাম খোলা রাখছ কেন? যাও ব্রেকাপ। আই তুমি আজকে নীল শার্ট পরে আস নাই কেন?যাও ব্রেকাপ। এই তুমি ওই মেয়েটার দিকে তাকাইছ কেন? যাও ব্রেকাপ।এই তুমি এত কথা বল কেন?যাও ব্রেকাপ।আবার কিছুক্ষন পর, এই তুমি চুপ করে আছ কেন?যাও ব্রেকাপ।?
মানে কি এগুলা কি!!এসবের কোন মানে হয়।
.
বিকেলে অত্রির কল পেয়ে পার্কে ওর সাথে দেখা করতে যায় শান্ত।কিন্তু হঠাৎ এমন জরুরী তলবের কারন বুঝতে পারছে না ও।
--কি হয়েছে?হঠাৎ জরুরি তলব কেন?
--তুমি গোসল করছিলা?
--ইয়ে ম-মানে, হু করছিলাম।
--মিথ্যা বল কেন?
--সত্যি বলছি।তোমার মুখে মাখানো ওই আটা, ময়দা, সূজির কসম।
--থাপ্পর দিব একটা।আমি মুখে আটা, ময়দা, সূজি মাখি?
--জানি না।
--তোমাকে জানতে হবে না।আগে বল তুমি গোসল কর নাই কেন?
--আগে তুমি আমাকে বল যে তোমাকে কে বলল আমি গোসল করি নাই?
--তোমার বোন অর্পি।
--কিহ?ওই ডাকাইতনী বলছে।
--চুপ কর তুমি।আজকে থেকে আমাকে আর কখনও কল দিবা না তুমি ।আমার কথার কোন মূল্যই যখন তোমার কাছে নেই তখন এই সম্পর্কটারও কোন মানে হয় না।আমি চললাম। ভাল থেক।Bye.
--বাড়ি থেকে মুখস্ত করে আসছ নাকি কথাগুলো?
--কি?
--না মানে, এক নি:শ্বাসে সব বললে তো তাই জিজ্ঞেস করলাম।
.
অত্রি রেগেমেগে সেখান থেকে উঠে চলে গেল।আজকে মনে হয় একটু বেশি ফাজলামো হয়ে গেছে।কপালে কি আছে আল্লাহ মালুম।
.
আজ দুইদিন অত্রির মোবাইল বন্ধ।শান্ত এবার কিছুটা ভয় পেয়ে যায়।ভালবাসা হারানোর ভয়।আর এদিকে হঠাৎ করেই শান্তের ফ্যামিলি থেকে ওর বিয়ের কথা চলছে।ওনাদের কথা হল- 'শান্ত ফাইনাল দিয়ে দিয়েছে।দুইদিন পর চাকরী করবে।এরপর তো বিয়ে করতেই হবে।তাই এখন থেকেই মেয়ে দেখা শুরু।'
আর এদিকে শান্ত তার পরিবারকে অত্রির কথা বলতে পারছে না কারন আজ কিছুদিন যাবত অত্রির সাথে যে তার যোগাযোগ নেই।
.
এভাবে প্রায় দুইমাস কেটে গেল।এই দুইমাস অনেক চেষ্টা করেও অত্রির সাথে যোগাযোগ করতে পারে নি শান্ত।একদিন সন্ধ্যায় শান্তের আম্মু আসে ওর ঘরে
--আমরা তোর জন্য একটা মেয়ে পছন্দ করেছি।
--আম্মু প্লিজ।আমি এখন বিয়ে করতে পারব না।
--পারবি না?তাহলে অত্রির ফ্যামিলিকে কি না করে দিব?
--হুম দাও।
--আচ্ছা।
.
শান্ত হঠাৎ করে ওর আম্মুকে পিছন থেকে ডাক দেয়।
--আম্মু আম্মু আম্মু আম্মু তুমি কি অত্রির কথা বললে?
--কোন অত্রি?
--এই যে একটু আগে বললে না যে অত্রির ফ্যামিলিকে না করে দিবে কিনা?
--কই নাতো।আমি তো রিয়ার কথা বলেছি।অত্রি কে রে?
--না আম্মু কেউ না।যাও তুমি।
শান্তের মা মুচকি হেসে রুম থেকে বের হয়ে যায়।আসলে উনি অত্রির কথাই বলেছিলেন।এই পুরো ব্যাপারটা একটা সাজানো নাটক।আর এ নাটকের ডিরেকশন দিচ্ছে শান্তের বোন অর্পি।
অর্পি ওর মা কে শান্ত আর অত্রির রিলেশানের কথা বলে দেয়।তাই শান্তের পরিবার অত্রির পরিবারের সাথে কথা বলে দুজনের বিয়ে পাকা করে ফেলে।কিন্তু পুরো ব্যাপারটাই ঘটেছে শান্তের অজান্তে।
.
অবশেষে সব নাটকের অবসান।আজ অত্রি ও শান্তের বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়।বিয়ের সব ঝামেলা চুকিয়ে শান্ত রুমে আসে।এসে দেখে অত্রি লম্বা একটা ঘোমটা টেনে বসে আছে।শান্ত ওর কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই অত্রি জিজ্ঞেস করে উঠে
--এই আজকে গোসল করছিলা?
--হুম করছিলাম তো।
--মিথ্যা বলবা না।
--আরে বাবা সত্যি বলছি।আজকে গরম পানি দিয়ে গোসল করছি।
--কিহ?গরম পানি দিয়ে?
--হু। কেন কি সমস্যা?
--হবে না।যাও এখনই ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করে আস।
--কিইই?এই রাতের বেলা ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে তো নিউমোনিয়া হয়ে যাবে।
--হয়ে যাক।
--কি জল্লাদ বউ রে বাবা।
--তুমি যাবা?
--না।
--যাও ব্রেকাপ।
--কিহ?ব্রেকাপ? ওহে ম্যাডাম, আপনি এখন আমার গার্লফ্রেন্ড নয়। আমার বউ।
--তুমি যাবা নাকি ডিভোর্স দিব?
--মানে?বিয়ের ৫ ঘন্টার মাথায় ডিভোর্স?
--ধুর!!! তোমার সাথে কথা বলা মানেই সময় নষ্ট।
এটা বলেই অত্রি শান্তের কান ধরে ওকে বাথরুমে ঢুকিয়ে দেয়।
আর বাথরুমে শান্ত গায়ে হিমশীতল পানি ঢালছে আর ভাবছে-বিয়েটা মনে হয় গরমকালেই করা উচিত ছিল।

No comments:

Post a Comment