Thursday, October 13, 2016

অতঃপর বিয়ে

অতঃপর বিয়ে

১)
জীবনে এতোটা পথ যখন একা
কাটিয়েছি তখন বাকীটাও কাটিয়ে
যেতে পারতাম। জীবনের এক্টা সময়
স্বিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমিও
সালমান ভাইজানের অনুসারী হবো!!
কিন্তু এখন আমার গুনধর আম্মা আমার
পুরুষত্ব উপর যখন প্রশ্ন তুললো তখন রাজি
নাহ হয়ে পারলাম নাহ।
আম্মা তো সেই খুশি। তার একমাত্র
ছেলের বিয়ে বলে কথা।
কিন্তু আমি যে নিষ্ঠুর। তার খুশিকে
নিমিষেই
দমে দিলাম নির্দয়ের মতো কিছু শর্ত
আরোপ করে।
কিছুদিন আগেই তো লেখাপড়ার
অধ্যায় শেষ করে এক্টা চাকুরিতে
জয়েন করলাম। চাকুরি আমি কখনোই
আমার পেটের জ্বালা
মিটানোর পথ মনে করতাম নাহ। এটা
হলো আমার প্যাশন। যা আমি কিছুদিন
উপভোগ করতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু আম্মাজান তা হতে দিবে নাহ
এই ভেবে উঠে পড়ে লেগেছে।
মাস খানিক হয়ে গেলো কিন্তু
আম্মাজান আমার শর্তানুরুপ মতো সম্বন্ধ
পায়নি। এ নিয়ে আম্মাজানের যেনো
দুঃখের শেষ নেই। মায়ের এরকম অবষ্থা
দেখে নিজেরই
খারাপ লাগা শুরু করলো। তাই আজ
অফিস আসার আগে মাকে নিজের
মতো মেয়ে দেখতে বললাম। কিন্তু মা
তো রাজি হয় নাহ। আম্মা বলে কি নাহ
আমার শর্তের মতো মেয়েই খুজে বের
করবে।
আমি হেসে বের হয়ে চলে আসলাম।
সে আমার মা আমার থেকে তার জেদ
যে বেশি হবে সেটাই স্বাভাবিক!!
আর আমি যে শর্তারোপ করেছি তা
কি আদৌ পাওয়া যাবে। কেনো নাহ
সবাই তো আমার মতো তার ছেড়া হয়
নাহ। আচ্ছা আমার মতো বিয়েতে
এলার্জি আছে এমন মেয়ে কি আছে।
আর থাকলেও সে আমাকে বিয়ে
করবে কেন???তার তো এলার্জি আছে।
আর এমন মেয়ে আমার আম্মাজান খুজেই
পাবো কই???জীবনটা তো আর গল্পের
মতো নয় যে তা লিখবো তাই পাঠকরা
পড়বে!! উফ আর পারছি নাহ যা হওয়ার
হবে দেখা যাবে!
২)
কিছুদিন পর আমার খালাত ভাইয়ের
বিয়ে।
নিজের বিয়ে তো হবার নয় তাই
ভাইয়ের বিয়েতে নাচতে নাচতে
চলে গেলাম।
বিয়ে অনুষ্ঠান জিনিসটা বরাবরই
আমার কাছে বোরিং ছিল। সবাই হবু
ভাবির সাথে সেলফি তুলছে অবশ্য
আমি বাদে। আমি তাদের থেকে এক্টু
দুরে বসে ফেবুতে রোমান্টিক গল্প
পড়ে বিয়ে করার ইচ্ছা দৃঢ় করছিলাম।
হঠাৎ করেই এক রমনীর ঝাজালো কথা
শুনতে পেলাম। হবু ভাবিকে এমন এমন পুরুষ
বিরোধী উপদেশ দিচ্ছিলো যেনো
সে দু চার টা বিয়ে করে বসে আছে। হুম
কি মনে হল জানি নাহ এক্টু পর যখন
ভাবির আশেপাশে কেউ ছিল নাহ তখন
হবু ভাবিকে জিজ্ঞেস করেই
ফেললাম রমনী সম্পর্কে। রমনী নাকি
খুবই রাগী পুরুষ বিরোধী এবং তার
বান্ধুবী। নাম তার কুহু। আহ কি নাম
একেবারেই এ্যান্টিক পিস। কিন্তু
রমনীর মুখদর্শন এখনো হয়নি। কেমন হয়
হোক এই রমনীকেই বিয়ে করবো। কিন্তু
রমনী যদি বিবাহিত হয়। ভাবির কাছে
তো তা জানাই হলো নাহ।
এক্টা রিস্ক নিতেই হবে। ছোটো
বোনটাকে দ্বারা আম্মাকে
জানাতে বললাম।
কিছুক্ষন পর আম্মা দেখছি কাদের
সাথে যেনো হেসে কথা বলছে ।
কিন্তু যাদের সাথে কথা বলছে তারা
যেনো নির্বাক মূর্তিরূপ হয়ে শুনছে।
কিছুক্ষন পর এক্টা রমনী এসে সবার
সাথে খারাপ ব্যবহার করা শুরু করল।
দেখতে শুনতে তো ভালোই কিন্তু
মাওয়া ফল যে শুধু দেখতেই সুন্দর তা
যেনো ভুলেই গেছিলাম।
যখন রমনী বেশি করে ফেলছিল তখন আর
দাড়িয়ে নাহ থেকে গেলাম
সেখানে। কিছু বলতে যাবো তখনি
আম্মাজান থামাই দিল। কিছু নাহ বলে
আম্মাকে বিয়ে থেকে আমার সাথে
চলে আসতে বললাম। নাহ রে এটা তোর
ভাইয়ের বিয়ে আমি খালা হয়ে নাহ
থাকলে কেমন হয়! আম্মা আমাকে এমন
সহজে বলল যেনো কিছুই হয়নি। আমি
চলে আসতে চাইলে যে ভাইটার
বিয়ে সে আটকায় দিলো আমাকে।
হবু ভাবির মা বাবা এ সম্পর্কে শুনে
আম্মার হাত ধরে ক্ষমা চাওয়া শুরু করে
দিল। এক পর্যায়ে হবু ভাবির মা তো
কেদেই দিল। আমার আম্মা যে নরম
মনের মানুষ তিনিই আরো উল্টো ক্ষমা
চাইলো এমব পরিস্তিথির জন্য।
অতঃপর বিয়ে সম্পন হলো। অন্তুিম সময়ে
ভাবির বিদায়কালে কুহু সেই রমনী
সে কি কান্না করল। আমার কেনো
জানি খারাপ লাগলো। কিন্তু তার
প্রতি আজকার ঘটনার জন্য রাগ কমলো
নাহ!!
৩)
বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হয়ে গেছে।
মাঝে মধ্যেই সেই রমনীর কথা মনে
পড়তো কিন্তু সেই বিয়ের দিনের কথা
মনে পড়লেই মন থেকে ঝুড়ে ফেলে
দিতাম তার ধারনা।
কিন্তু এক্টা বিষয় লক্ষ্য করছি আম্মা খুবই
বিষন্ন থাকে। থাকবেই নাহ কেনো
বাসায় যে অনেক্টা সময় একাই
থাকতে হয়। আব্বা ব্যবসার কাজে
বাইরেই বেশি থাকে। আর ছোট
বোনটা কলেজ প্রাইভেট এসব নিয়ে
ব্যস্ত। এদিক থেকে আম্মা একা পড়ে
যায়। আম্মার সাথে কথা বলতে হবে।
হুম এটাই কথা বলার মুক্ষম সময়!
আমি: আম্মা!
আম্মা: হুম বল। আমার কথা তোর আবার
মনে আছে
আমি: কি যে বল নাহ
আম্মা: ঠিকই বলেছি। কেথায় মায়ের
সাথে বসে এক্টু কথা বলবি,খোজ খবর
নিবি তা নাহ। আর বাকি ২জনের কথা
আর কি বলব তোকে!
আমি: ঠিক তো। কিন্তু তুমি চাইলেই
তো তোমার কাছে থাকবে এমব
ব্যবস্থা করতে পারো। কয়দিন তো খুব
বিয়ে বিয়ে পাগল করে দিছিলা এখন
কি হলো। আমার বুঝি আর বিয়ে হবে
নাহ!
আম্মা : ভুলিনি রে। তবে দ্বিধায়
ভুগছিলাম। আমি: কেমন দ্বিধা??
আম্মা: বিয়ের দিনের মেয়েটার কথা
মনে আছে তোর??
আমি: হুম কেনো??
আম্মা: জানিস তো মেয়েটা জীবনে
অনেক খারাপ সময় দেখেছে
আমি: কি বলছো আম্মা বুঝাই বল
আম্মা: জানিস তো মেয়েটা নাকি
একজনকে ভালবাসতো। কিন্তু ওর মা
বাবাকে ছেলেটাকে মোটেই পছন্দ
করতো নাহ। তবুউ মেয়ের সুখের কথা
ভেবে পারিবারিক ভাবেই তাদের
বিয়ের আয়োজন করে। কিন্তু বিয়ের
কয়েকদিন আগেই ছেলেটা বিয়ে
করতে মানা করে।
আমি; কিইইই কিন্তু কেনো??
আম্মা: মেয়েটার বাবা মার সাথে
কথা বলার দিন তারাই আমাকে
একথাগুলো বলে। ছেলেটি নাকি
মেয়েটার পরিবারকে যতোটা
বিত্তশালী মনে করতো ততোটা নাহ
হওয়ায় জানতে পেরে বিয়েটা
ভেঙ্গে দেয়। মেয়েটার জন্য খুব
খারাপ লাগছে
আমি: আমারও। তাই মেয়েটা
ছেলেদের দেখতে পারে নাহ
আম্মা??
আম্মা ; তাই হয়তো। শোন নাহ তোকে
কিন্তু আমার এক্টা কথা মানতে হবে।
আমি: জ্বি নির্দ্বিধায় বলো
আম্মা: আমি কিন্তু ওই মেয়েটাকে
তোর বউ হিসেবে দেখতে চাই।
আমি: কিন্ত আম্মমা!
আম্মা: জানি তুই কি বলতে চাস। তবে
জেনে রাখ মেয়েটা কিন্তু মনের দিক
দিয়ে খারাপ নয়। বিয়ের দিন হয়তো
বুকে চেপে রাখা আক্ষেপ থেকে
কথাগুলো বলছে। আমি মেয়েটার
বাবা মার সাথে কথা বলেছি
তাদের আপত্তি নেই। তুই শুধু
মেয়েটাকে যেভাবেই হোক রাজি
করা।
আমি আর কিছু নাহ বলে আম্মার রুম
থেকে চলে যাবো দরজায় পৌছাতেই
আম্মা আমাকে ডাক দিল, অভ্র
মেয়েটার নাম কি রে??? কুহু আম্মা এক্টু
হেসে বললাম। বলে চলে আসলাম।
৪)
যে করেই হোক কুহুকে বিয়ের জন্য
রাজী করাতেই। আম্মার কথা তো আর
ফেলতে পারি নাহ। আসলে সত্য বলতে
কি কুহুকে আমার প্রথম দেখাতেই ভাল
লেগে গেছে। তাই মনের মানুষটাকে
আপন করে নেয়া ইচ্ছা থাকবেই এটাই
স্বাভাবিক।
কিন্তু এর জন্য তো তাকে রাজি
করাতে হবে। আমার তো আবার
মেয়েলি বিষয়ে জ্ঞান নেই বললেই
চলে। ক্যামনে এক্টা মেয়ের মন জয়
করবো সেই প্রশ্ন তো পরীক্ষায় কমন
পড়েনি।
তবে এক্টা কাজ করা যায় বর্তমান টিন
এজ পোলাপানের কাছে সাজেশন
নেয়া। কেনো নাহ এরাই এখন পাক্কা
খেলোয়াড়। কিন্তু বয়সে ছোটো এমন
বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে কেমন
লাগে নাহ।
ওহহহ হারামী ছোট বোনটার শরনাপর্ন্ন
হলে কেমন হয়?? ভালোই হয় তা নয় তো
কি তাকেও এক্টু ভালো কাজ করে পূন্য
করার সুযোগ দেওয়াই যায়।
আজ অফিস ছুটি। তাই বোনকে বললাম
রেডি হতে বেড়াতে যাব। বোন তো
সেই খুশি। আসলে বোনটাকে এক্টু তো
তেল লাগাতেই হবে। নাহ হলে আমার
কাজ করবে কিভাবে!
আমার চোখ যেনো বিশ্বাসই করতে
পারছে
নাহ কুহু আমার সামনে বসে আছে।
রেস্তরায় অবশ্য কুহু একা নয় তার সাথে
আরো মেয়ে আছে। হয়তো তার
বান্ধুবী। আহ কি সুন্দর হাসি! আমি সেই
কখন থেকেই দেখে যাচ্ছি।
আর আমার বোন মন দিয়ে খাচ্ছে।
মনটা খারাপ হয়ে গেলো। কুহু চলে
যাবে এখন কিন্তু আমাদের এখন দেরী
আছে!
কুহু বিল দিতে গিয়ে যেনো থমকে
গেলো। যেনো অস্বাভাবিক কিছু
ঘটে গেছে। বোনটাকে ওয়াশরুমের
কথা বলে কুহুর
কাছে গেলাম। যা ভেবেছিলাম তাই
হলো। কুহু আমাকে দেখে যেনো
আরেকবার থমকে গেলো।
আমি স্বাভাবিক রয়ে বিল দেওয়ার
জন্য হাত বাড়ালাম। মনে মনে ভাবছি
বালিকা বিপদের সময় ইগো
জিনিসটা সাইডে রেখে দিতে হয়।
ইশশশ কুহু যদি টাকাটা দিতে মানা
করে কি বিশ্রী কথাই নাহ হবে। নাহ
কিছু হলো নাহ। আমি বিল দিয়ে চলে
আসতে ধরলাম তখনি কুহু বলল
শুনছেন??? আমি দাড়ালাম। নাম্বারটা
দিয়ে যান টাকাটা ফেরত দিতে
হবে নাহ কুহু বলল। আমি মোবাইল বের
করে কল দিলাম। কুহু অবাক দৃষ্টিতে
তাকিয়ে রয়েছে। আমি এক রহস্যময়
হাসি দিয়ে সেখান থেকে চলে
আসলাম।
যার জন্য একবুক আশা নিয়ে বসে
ছিলাম সেই বোন বলে কি নাহ যা
করার করবি কিন্তু টিপিকাল ছেলের
মতো আগে ভাগে প্রোপোজ করে
বসিস নাহ।
ধুর হারামী বোন এতো টুকুই বলল। এক্টু
ধারনা দিয়ে কি আর মেয়ের মন জয়
করা যায়!
৫)
দুদিন অফিসের কাজে এতোটাই ব্যস্ত
ছিলাম যে কুহুকে নিয়ে ভাবার
সুযোগই পাইনি। বিকেলে অফিস
ক্যান্টিনে বসে চা খাচ্ছি এমন সময়
ফোন বেজে উঠলো।
কুহু কল করছে। আমি অবশ্য অবাক হইনি।
কল ধরে চুপ করে রইলাম। কুহুও কিছু বলছে
নাহ।
দুতিন মিনিট নিরীবতাই পালন করলাম।
কুহু মুখ খুললো বলছিলাম অভ্র সাহেব
টাকাটা ফেরত দেয়ার কি সুযোগ
পাবো??? আমি: সেটাতো আপ্নার উপর
নির্ভর করে। কুহু: তো কাল বিকেল
৫টায় দেখা হচ্ছে সেই রেস্তোরায়।
আমি শুধু হুম বলে ফোনটা রাখতে
যাবো তখনি কুহু আবার বলল আমার
কিন্তু লেট করে আশা একদম পছন্দ করি
নাহ। আমি শুধু হাসলাম।
খুবই এক্সাইটেড ছিলাম। রাতে কুহুর
কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে
গেছি বলতেই পারি। সকালে দেরি
করেই উঠেছি। অফিস আজ ফাকি
দিছি। সময় যে কখন ফুরিয়ে গেলো
বুঝতে পারলাম নাহ।
এখন সেই রেস্তোরায় বসে আছি।
১৫মিনিট হয়ে গেছে আর তার আসার
নাম নেই। ঠিক ১মিনিট পর কুহুকে
আসতে দেখলাম। কুহুর সুন্দরতার বর্ননা
দেয়ার দুর্সাহস আমার নেই। কিন্তু
আম্মার পর কুহুকে আমাকে যেনো
পবিত্র রুপসী মনে হলো। হ্যা আম্মাও কম
সুন্দর নাহ তাইতো একসময় আব্বা তার
পিছনে লাটিম এর মতো ঘুরঘুর করতো।
থাক সেই গল্প আরেক দিন বল্ব।
হঠাৎ আমার ঘোর কাটলো। জনাব বসতে
পারি কুহু বলল। নাহ বললে কি বসবেন
নাহ আমি বললাম। কুহু এক্টু হেসে বসে
পড়লো। কি বলব কিছুই বুঝতে
পারছিলাম নাহ। কুহুরও মনে হয় একই
অবস্থা। কুহুকে কিছু অডার করতে
বললাম। আমি কিন্তু সেদিন রাগের
মাথায়
ওরকম ব্যবহার করেছিলাম কিছুক্ষন পর কুহু
হঠ্যাৎ বলল। আমাকে কি ক্ষমা করা যায়
নাহ??
কোথাও জানি পড়েছিলাম তুমি যদি
ক্ষমা করতে নাহ পারো তাহলে তুমি
কাউকে ভালবাসতে পারো নাহ।
হঠাৎ কথাটি মনে পড়ে গেলো। আমি
কিছু নাহ বলে এমন ভঙ্গিমা করলাম
যেনো ক্ষমা তো আপ্নাকে অনেক
আগেই করেছি। কুহুর মুখে চিলতে
হাসির আভা দেখতে পেলাম।
খাওয়া শেষে কুহু কে রিক্সায় করে
বাসায় রেখে আসলাম এক্টু আগে।
সেদিনের টাকাকা ফেরত দিতে
চাইলে আমি নেইনি।
এরপর বেশ কিছুদিন কেটে গেলো।
প্রায় দিন কুহুর সাথে দেখা করতাম।
মেয়েটা যে
এতো কথা বলতে পারে আমি কল্পনাও
করতে পারিনি। দুনিয়ার কথা বলতো
আমাকে।
একদিন দুপুর বেলা কুহুকে
মধ্যান্হভোজের জন্য আমন্ত্রণ করলাম।
কিন্তু কুহু সরাসরি আমাকে নিষেধ করল।
মন খারাপ করে কল কেটে দিলাম।
আধঘন্টা পর কুহুর কল এল। আমি আপ্মার
অফিসের নিচে ওয়েট করছি কল
রিসিভ করার সাথে সাথে কুহু বলল।
বলতে গেলে দৌড়ে কুহুর কাছে
গেলাম। কুহুকে নিয়ে অফিস
ক্যান্টিনে গিয়ে বসলাম। জানেন
তো আমার পেট খারাপ করছে কুহু বলল।
আমি বুঝে গেলাম কুহু কেনো তখন
নিষেধ করছিলো। আমার মনটা খারাপ
হয়ে গেলো। হঠ্যাৎই কুহুর হাত ধরে
অফিসের নিচে এক ফার্মেসিতে
নিয়ে গেলাম। সেখানে ঔষধ নিয়ে
যখন বের হলাম কুহু বলল আমি তো ঔষধ
খেতে পারি নাহ। খেতে পারেন নাহ
এখন থেকে খাবেন কথাটি এক্টু ধমকের
সুরে বললাম। অফিস নাহ গিয়ে কুহুকে
বাসায় রেখে আসলাম।
কুহুর সাথে এতোদিনে কিছু নাহ হলেও
বন্ধুত্ব পূর্ণ এক্টা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
একদিন হঠাৎ গভীর রাতে কুহুর কল। কল
ধরেই কুহু বলল আমাকে নাহ খুব ভয়
লাগছে। জানেন বাসায় আমি ছাড়া
আর কেউ নেই। আমার বুকটা যেনো
কেপে উঠলো। বাইক চালিয়ে যতো
দ্রুত সম্ভব কুহুর বাসায় পৌছে
কলিংবেল চাপ দিলাম। হুম ১৫মিনিট
হবে কুহুর সাথে কথা বলার। এতক্ষনে
কি মেয়েটা ঘুমিয়ে পড়লো নাকি।
দরজা খোলার শব্দে বাস্তবে
ফিরলাম। দরজার খোলার সাথেই কুহু
আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করা শুরু
করলো। মেয়েটা যে প্রচন্ড ভয়
পেয়েছে তা বুঝতে পারলাম। কুহুকে চুপ
করে বিছানায় শুয়ে দিলাম। কুহু আমার
হাত ধরে ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি কুহুর
মাথায় আরেক হাত বোলাতে
বোলাতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি
খেয়াল নেই। সকালে কুহুর ডাকে ঘুম
ভাঙ্গল। কুহু চা হাতে দাড়িয়ে আছে
সাথে মিষ্টি এক্টা হাসি তো
আছেই। কোনো মতো চায়ে চুমুক দিয়ে
চলে আসলাম। এখানে বেশিক্ষন থাকা
যাবে নাহ। তারপর আবার অফিসে আজ
মিটিং আছে।
বিকেল বেলা ফেবুতে অফিস
কলিগের সাথে তোলা এক্টা পিক
উপলোড দিলাম।আমি ফেবুতে ফটো
আপলোড দেই নাহ বললেই চলে।
কলিগের জোরাজুরিতে দিলাম
কিন্তু কিছুক্ষন পর পিকটাতে কুহুর
কমেন্ট দেখে অবাক হলাম। পুরুষ জাতি
এরকমি হয় বুঝি" এরকম কমেন্ট করার কারন
বুঝতে পারলাম নাহ। আচ্ছা কুহু পিক
দেখে আমাকে ভুল বুঝলো নাহ। সাথে
সাথে কুহু কে কল দিলাম মোবাইল বন্ধ।
আজ দুদিন ধরে কুহুর সাথে কোন
যোগাযোগ নেই আমার। অনেক চেষ্টা
করেও বিফল আমি।
আজ রাতে যখন গান শুনছি তখনই কুহুর কল।
কাপা কাপা হাতে কল রিসিভ
করলাম। কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছি
নাহ। কুহু ও চুপ করে আছে।
হঠাৎ কুহুর কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম।
আমি: কাদবেন নাহ আমার সহ্য হচ্ছে
নাহ।
কুহু: কি আপ্নি আপ্নি লাগাইছো হু তুমি
করে বলতে পারো নাহ
আমি: তুমিও তো কখন বলোনি!
কুহু: বাদ দাও। বিয়ে করবা আমাকে
আজ??
এই মেয়ে বলে কি?? যে কথা আমার
বলার কথা তা কুহু বলছে।
আমি; রেডি থেকো আমি আসছি
সন্ধ্যে বেলা।
বলেই কল কেটে দিলাম।
এখন নাহয় রেজিস্টারি করে রাখবো।
কিছুদিন পরে নাহ হয় বড় করে অনুষ্ঠান
করা যাবে।
যাই এখন আম্মাকে জানাতে হবে তার
হবু বউমা বিয়ে করতে রাজি হয়ে
গেছে।
অতঃপর তাহলে আমার বিয়ে হতে
যাচ্ছে!!

love to your wiffy

স্ত্রীকে ভালবাসুন, যখন সে আপনার চায়ে
ছোট্ট একটা চুমুক দেয়!
কারণ, সে নিশ্চিত হতে চায় সেটা আপনার
পছন্দ মত হবে কিনা..
স্ত্রীকে ভালবাসুন, যখন সে আপনাকে
সালাত আদায়ে জোর করে!
কারণ সে আপনারই সাথে জান্নাতে যেতে
চায়...
স্ত্রীকে ভালবাসুন, যখন সে আপনাকে
সন্তানদের সাথে খেলা করতে বলে!
কারণ সন্তানদের অভিভাবক সে একা নয়...
স্ত্রীকে ভালবাসুন, যখন সে আপনাকে
নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়!
কারণ, সে অন্যসব মানুষকে রেখে শুধুমাত্র
আপনাকেই বেছে নিয়েছে..
স্ত্রীকে ভালবাসুন, যখন তার কিছু দোষ
ত্রুটি আপনাকে বিরক্ত করে!
কারণ, আপনারও এমন অনেক দোষ ত্রুটি
রয়েছে...
স্ত্রীকে ভালবাসুন, যখন তার রান্না
খারাপ হয়!
কারণ, সে কিন্তু ঠিকই আপনার জন্য ভাল
রান্নার চেষ্টা করেছে...
স্ত্রীকে ভালবাসুন, যখন সকাল বেলায়
তাকে উষ্কখুষ্ক দেখায়!
কারণ, সে কিন্তু আবার আপনারই জন্য
সাজগোজ করবে...
স্ত্রীকে ভালবাসুন, যখন সে আপনাকে
সন্তানের লেখাপড়ায় সাহায্য করতে বলে!
কারণ সে চায় আপনাকে সংসারের অংশ
হিসেবে পেতে...
স্ত্রীকে ভালবাসুন, যখন সে জানতে চায়
তাকে মোটা লাগছে কিনা!
কারণ, আপনার মতামত তার কাছে অনেক
গুরুত্বপূর্ণ;তাকে বলুন - তুমি সত্যিই সুন্দর..
স্ত্রীকে ভালবাসুন, যখন তাকে সুন্দর
দেখায়!
কারণ সে আপনারই, তাই প্রশংসা করুন...
স্ত্রীকে ভালবাসুন, যখন সে তৈরি হতে
দীর্ঘ সময় পার করে দেয়!
কারণ সে চায় তাকে আপনার চোখে
সবচেয়ে সুন্দর লাগুক..
স্ত্রী কে ভালবাসুন, যখন সে এমন কোন
উপহার দেয় যা আপনার পছন্দ হয়নি!
কারণ সে আপনাকে খুশি করতে চায়,তাকে
বলুন, ঠিক এমন উপহারই আপনার প্রয়োজন
ছিল...
স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন তার মধ্যে কোন
বদঅভ্যাস গড়ে ওঠে!
কারণ আপনারও এমন অনেক বদঅভ্যাস
রয়েছে; ইচ্ছা আর কোমলতার সাথে তার
সেই বদঅভ্যাস পরিবর্তন করানোর সময়
এখনো আপনার আছে..
স্ত্রীকে ভালবাসুন...যখন সে কাঁদে!
তার কাছে কারণটা শুনুন, তাকে জড়িয়ে
ধরে বলুন সব ঠিক হয়ে যাবে...
স্ত্রীকে ভালবাসুন, যদি সে অসন্তোষজনক
কিছু করে ফেলে!
এরকম হতেই পারে এবং এর রেষ একসময়
কেটেও যাবে...
স্ত্রীকে ভালবাসুন, যখন সে আপনার
কাপড়ে ভুল করে দাগ লাগিয়ে ফেলে!
কারণ সেটার জন্য তার নিজেরও অনেক মন
খারাপ হয়...
স্ত্রীকে ভালবাসুন, যখন সে বারবার ফোনে
জানতে চায়- কোথায় আপনি!
কারণ সে শুধু চায় আপনি নিরাপদে থাকুন...
স্ত্রীকে ভালবাসুন, যখন সে তর্ক করে!
কারণ সে তাই চায় যা আপনাদের দুজনের
জন্যই ভাল হয়,তাকে বোঝান...
স্ত্রীকে ভালবাসুন...কারণ সে শুধুই আপনার!
এটি ছাড়াতো তাকে ভালবাসার আর কোন
বিশেষ কারণেরও প্রয়োজন নেই............

Wednesday, October 12, 2016

"লাইফ ইজ সো রোমান্টিক"

"লাইফ ইজ সো রোমান্টিক"
.
১|
হঠাৎ নাকের কাছে কিছু একটার
সুড়সুড়ি তে ঘুম ভেঙে গেলো। চোখ
খুলে দেখি নীলু ভেজা চুলে আমার
মুখের উপড়ে ঝুকে আছে। আর চুল দিয়ে
আমার ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা করছে।
আমি ঘুমের মাঝে নীলু কে জড়িয়ে
ধরলাম। নীলু গোসল করে একটা সবুজ
শাড়ী পরেছে। আমি নীলুর মুখটির
দিকে তাকিয়ে আছি অপলক কয়েকটি
নিস্তব্ধ মুহূর্ত যায়। নীলু মিষ্টি ভরাট
দুটো গালে গহীন টোল ফেলে হাসি
দেয়। নীলু আমার বুকে আঙুল দিয়ে
বিলি কাটতে কাটতে আদুরে গলায়
বলে উঠে।
_ কি মহারাজ ঘুম কেমন হলো?
_ ঘুমাতে দিলে কোথায়, ঘুম তো
ভাঙিয়ে দিলে?
_ অনেক ঘুমিয়েছো! উঠো আমাকে
নাস্তা তৈরি করতে হেল্প?
_ আজ তুমি একা রান্না তৈরি করো?
আমার বড্ড ক্লান্ত লাগছে।
_ তুমি জানো না। আমার একা
রান্নাঘরে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।
_ আজ রান্না না করলে হয় না?
_ রান্না না করলে খাবে কি
মহারাজ?
_ আমার মহারাণীর ভালবাসার
ভান্ডারে ভালবাসা কম পরেছে?
নীলু আমার ঠোটে আঙুল চেপে ধরে
বলে।
_ একদম দুষ্টামি করার চেষ্টা করবে না।
সারা রাত অনেক দুষ্টামি করেছেন
আপনি।
,,
নীলুর চোখে কপট রাগ। পারলে চোখ
দিয়ে ভস্ম করে দেবে। এই রাগ দেখে
ইচ্ছা না থাকা শর্তেও বিছানা
ছেড়ে উঠে ফ্রেস হতে গেলাম। এই
পাগলী টাকে রান্নায় হেল্প করা
মানে। সে রান্না করবে আর আমার
পিছন থেকে তার কোমর জড়িয়ে ধরে
রাখতে হবে। এতে নাকি স্বামী
স্ত্রী মাঝে মহব্বত বাড়ে। কোমর
জড়িয়ে ধরে রাখা অবস্থায়। যদি
রান্নায় লবণ মরিচ দেওয়া একটু
এদিকওদিক হয়। তাহলে মুখ বাংলার
পাঁচ বানিয়ে দিবে এক ঝামটা। তবে
সাবধান কোমর থেকে যেন হাত না
সরিয়ে যায়। যদি হাত টা ভুল ক্রমে
হাত ছুটে যায় তাহলে খুন্তি মুখের
সামনে ধরে ঝগড়া টা এমন হবে।
_ আমাকে আর ভালবাসতে ইচ্ছা করে
না বুঝি। করবে কিভাবে পাশে যদি
অমন সুন্দরী সুন্দরী কলিগ থাকে তাহলে
তো বউ এর কথা মনে থাকবেই না। মন শুধু
উড়াল উড়াল করে? একদম ডানা কেটে
বাসায় বসিয়ে রাখবো হু? হাতে কি
শক্তি নাই? শক্ত করে ধরে থাকো।
খুন্তি দিয়ে একদম চোখ তুলে ফেলবো!
বউ রেখে আশেপাশে তাকালে। কি
বলেছি মনে থাকবে?
_ হুম থাকবে।
_ তাহলে এখনো চুপ করে আছো কেন?
ধরো জড়িয়ে।
আমি আবার নিরীহ বালাক এর মতো
আবার কোমর জড়িয়ে ধরি। আমি
জানি আমার পাগলী বউটার এই ঝগড়া
গুলোর মাঝে কতো ভালবাসা
লুকিয়ে আছে।
২|
বাথরুম থেকে বেড়িয়ে দেখি নীলু
দেওয়ালে টাঙানো আমাদের
বিয়ের ছবিটার দিকে তাকিয়ে
আছে। আমি পিছন থেকে চুপিচুপি পা
টিপে যেয়ে কোলে তুলে নিলাম
নীলু ভুত দেখার মতো চুমকে উঠে আমার
গলা জড়িয়ে ধরে বলে।
_ কি ব্যাপার আজকে বউ এর প্রতি
ভালবাসা একদম উতলে উঠছে মনে হয়।
_ "জানো আমি আজো দেখেনি
মেঘের এতো রঙ। তবে তোমাকে
দেখেছি, সত্যি আকাশের ওই নীল
মেঘমালায়।
মেঘকন্যা হয়ে ঘুরে বেড়াতে।"
নীলু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে
টোল পরা সেই বিখ্যাত হাসিটা
দিলো। আমি মন্ত্রমুগ্ধ্যে সে হাসির
দিকে তাকিয়ে আছি।
আমি জানি আর কিছু বললেই এই
মেয়েটা নির্ঘাত কান্না করে
দিবে। এই মেয়েটা বেশি সুখে
কান্না করে দেয়। নীলুর চোখে পানি
টলমল করছে। যে কোন মুহূর্তে বৃষ্টি শুরু
হতে পারে। আমি আর কিছু না বলে
নীলুকে কোলে করে রান্নাঘরে
নিয়ে যাই।
প্রতিদিনকার মতো নীলু রান্না করছে
আর আমি পিছন থেকে নীলুর কোমর
জড়িয়ে ধরে আছি।
৩|
নাস্তার টেবিলে সামনা সামনি
দুটো প্লেটে সুন্দর গরম ভাত, আলু ভর্তা,
ডাউল আর ছোট মাছের চর্চরী।
ডাউলের পাত্রে উলটো করে রাখা
চামচ। গরম ভাতের ধুয়ো উড়ছে। মন
উত্থাল-পাথাল করা স্বর্গীয় পরিবেশ।
দুজনি কেউ কারও চোখের দিকে
তাকাতে পারছিনা। হঠাৎ নীলু উঠে
এসে মাথা নিচু করে আমার পাশে
বসে পরে। আমি জানি এই বসে পরার
মানে এখন তাকে খাইয়ে দিতে হবে।
আর নীলু ড্যাবড্যাব করে ছলছল চোখে
আমার দিকে তাকিয়ে থাকবে।
পাগলী টাকে একলা বাসায় রেখে
অফিসে যেতে ইচ্ছা করেনা। যতক্ষণ
বাসায় থাকবো বুকের সাথে লেপটে
থাকবে। অফিস থেকে ফিরার পর
আমার ঘামে ভেজা শরীর অনেকক্ষন
জড়িয়ে ধরে থাকবে। তারপর হঠাৎ
ঝামটা দিয়ে নিজে কে ছাড়িয়ে
বলবে।
_ অনেক হয়েছে এবার ঢং ছেড়ে ফ্রেস
হয়ে আসো, একদম লাই দিয়ে দিয়ে
মাথায় তুলে ফেলেছি। অফিস থেকে
এসেই বউ কে জড়িয়ে ধরতে হবে। এই সব
ঢং আমার একদম সহ্য না হু!
এক নিশ্বাসে সব বলে মুখ বাঁকিয়ে
ভেংচি কেটে চলে যাবে। আমি তখন
শুধু হাসি মাত্র। এই পাগলী টা কিছুতেই
আমাকে বুঝতে দিতে চায় না যে সে
আমাকে এতো ভালবাসে।
৪|
রাতে শুয়ে আছি আর নীলু আমার বুকে
মাথা রেখে নাক দিয়ে আমার গলায়
সুড়সুড়ি দিচ্ছে। আর জানালা দিয়ে
কিঞ্চিৎ চাঁদের আলো এসে পড়ছে
নীলুর মুখে। আমি নীলুর দিকে
তাকিয়ে আছি।
ভ্রু তে সেই কুঞ্চন, কি আদুরে আর কি
মায়াময় ঠোঁটের কোণে সেই তিল।
তার এলোমেলো রেশম রেশম চুল,
নিষ্পাপ ডাগর দুটি চোখ। নীলুর
অনিন্দ্য সুন্দর ঠোঁট দুটিতে কি এক
অভিমান। চোখ দুটিতে এক পৃথিবীর সব
সারল্য। হঠাৎ নীলু অভিমানী গলায়
বলে।
_ আমি তোমার সাথে এতো ঝগড়া
করার চেষ্টা করি। তুমি কেন আমার
সাথে ঝগড়া করো না?
_ ছোট ছোট ঝগড়া থেকে মান
অভিমানী শুরু হয়। আস্তে আস্তে এই
ছোট ছোট ঝগড়া থেকে বড় ঝগড়া
তৈরি হবে। তুমি চাইবে আমি যেন
তোমার কাছে আগে ক্ষুমা চাই আর
আমি চাইবো তুমি যেন আমার কাছে
ক্ষুমা চাও। এতে আমাদের মাঝে দূরত্ব
টা বাড়বে, ভালবাসা টা না। সবাই
যেন আমাদের দেখে বলে। আহ্ কি
সুন্দর মধুর তাদের ভালবাসা।
খেয়াল করলাম আমার বুক আস্তে
আস্তে নীলুর চোখের জলে ভিজে
যাচ্ছে। আমি জানি এটা সুখের
কান্না। মেয়েটা বেশি সুখ একদম সহ্য
করতে পারেনা। আমি শক্ত করে
জড়িয়ে ধরলাম। লাইফ ইজ সো
রোমান্টিক।

Tuesday, October 11, 2016

★ভালবাসার নতুন অধ্যায়★

★ভালবাসার নতুন অধ্যায়★

- তুই কইরে কুত্তা (সুপ্তি)
- সরি অাপনি ভূল নাম্বারে কল
দিয়েছেন। (অামি)
- কিহহহ
- কোনো কুত্তার কাছে এখনো
মোবাইল দেখিনি। অার অামি মানুষ।
- অামি অামার জানুর কাছে ফোন
করছি।
- অাপনি কে হ্যা একবার কুত্তা একবার
জানু
- ওই তুই এখন লেকের কাছে অায়।
- পারবো না।
- অায় নয়তো তোর কি হবে তুই নিজেও
জানস না।
- দেখি কে কি করে অামার।
- অাচ্ছা।
সকাল বেলা সূর্য্য উঠতে না উঠতে শুরু
হয়ে গেলো জ্বলানি। নয়টা বাজে
মাত্র উনার এখন দেখা করা লাগবে।
অার অামি মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম।
না জানি কি করে বসে। বাবাও
এখনো ঘরে বের হই কি করে??
- অান্টি রাহুল কই? (সুপ্তি)
- কেন মা তার রুমে। তুমি কে?? (মা)
- তার বৌ।
- এয়য় সে অামাদের না জানিয়ে
বিয়ে করছে?? (বাবা)
- হুমম।
রুমের বাইরে এসব অওয়াজ শুনে দরজা
ফাঁক করে দেখি কে। চোখ কপালে
উঠে গেলো।
এই রে অামার কি অবস্থা করলো কে।
- রাহুল (বাবা)
- হ্যাঁ বাবা।
- ও কে??
- সে অামার বান্ধবি।
- মিথ্যা বলছে (সুপ্তি)
- না বাবা অামি মিথ্যা বলছি না।
- সে তো তোর বৌ বলছে (বাবা)
- না বাবা মিথ্যা
- অামি সত্যি বলছি (সুপ্তি)
- উফফ পাগল করে দিবে যা বের হ
বাসা থেকে যা (বাবা)
দুষ্টামি ভরা হাসি দিয়ে টানতে
টানতে বের করে নিয়ে এলে। এই
মেয়েটা না এত পাগলামি করে।
- দেখলেন তো মশাই। (সুপ্তি)
- কি দেখবো হ্যাঁ বাবা কি ভাবছে
বলো তো
- কচু ভাববে। ছেলে বড় হয়েছে দেখছে
না।
- তো কি হইছে?? এখন বাসায় গেলে
ঝাড়ি খেতে হবে অারকি।
- অামার কথা না শুনতে এমন হবে।
- তুমি এমন কর কেন??
- তুমি বুঝো না।
- দেখো পাগলামির একটা সীমা
অাছে।
- তুমি কি অামার উপর বিরক্ত??
- এই দেখো সেটা অাবার বললাম
কখন??
- না তোমার কথা বুঝা যাচ্ছে।
- কি বুঝা যাচ্ছে?
- অামি তোমাকে অার বিরক্ত করবো
না।
কান্না ভাব নিয়ে মুখ ঘোমরা করে
অাছে।
- অাচ্ছা বিরক্ত করতে হবে না
ভালোবাসলে হবে।
- অামি তোকে ভালোবাসি না।
সারছে অাবার অামার ধফারফা
- তো অামাকে এখানে নিয়ে এলে
কেন??
- তোকে শাস্তি দেয়ার জন্য।
- অামি কি করছি??
- অামার কথা শুনস নাই।
- কখন??
- অামি যখন অাসতে বলছি তখন
অাসলিনা কেন??
- ও অাচ্ছা একখন কি শাস্তি দিবে?.
- অাগে লেকের কাছে চল।
.
- হুমম বলো। (অামি)
- কি?? (সুপ্তি)
- কেন এখানে নিয়ে এলে??
- অামি কি জানি?? তুমি কেন
অাসছো??
- তুমিই তো নিয়ে এলে।
- অামি পাগল হইছি নাকি??
- দেখো সুপ্তি তোমার এসব কাজ একদম
ভালো লাগে না।
- এরকম করো কেনো?? তোমাকে
দেখার জন্য মন কেমন করছিলো।
- ও অাচ্ছা।
- তোমার কি অামার কথা একটুও মনে
পড়ে না??
- পড়ে তো পাগলি।
- কচু।
- অাচ্ছা চলো নাস্তা করি।
- চলো।
নাস্তা করে তাকে তার বাসায়
দিয়ে নিজের বাসার দিকে এগুলাম।
কয়েক ঘন্টা অাগে ঘটে যাওয়া ঘটনার
জন্য ভয় পাচ্ছি। না জানি বাবা মাা
কি বলে।
ভয় যতটা পেয়েছি ততটা না। মাকে
বেশ হাসিখুশি দেখাচ্ছে।
- মেয়েটা কি তোর বৌ? (মা)
- অামি এতটা অবাদ্য ছেলে এখনো
হইনি।
- হুমম অামার ছেলে অনেক ভালো।
তবে মেয়েটা অনেক সুন্দর তাই না।
- তুমি জানো।
কথা বলে নিজের রুমে চলে এলাম।
সেদিন যে অরেকটি অধ্যায় শুরু হবে
জানি না।
মা বাবা সেদিনের কথা মতে সুপ্তি
কে ছেলের বৌ হিসেবে গ্রহন করে।
কথা গুলো চেয়ারে বসে বসে ভাবছি।
কয়টা বছর পার হয়ে গেলো। মেয়ে
হয়েছে অামাদের।
বাবা মা ছোট্ট সোনামণির সাথে
খেলা নিয়ে ব্যস্ত। গিন্নি রান্না
ঘরে যাই একটু উঁকি মারি। ইলিশ
ভাজার সুগন্ধ বেশ দারুন লাগছে। পেছন
থেকে জড়িয়ে দরলাম তাকে। চমকে
গিয়ে বলে
- কি হচ্ছে এসব বাবা মা অাছে।
- জানি।
- ছাড়ো।
- উহু।
এভাবে বেশ অনন্দে চলে যাচ্ছে দিন।
ভালোবাসার বন্ধন অাছে অটুট।

Sunday, October 2, 2016

*love frndz*

*love frndz*

- আজ তো আমাদের হলুদ ।যে আগে
অন্যজনকে হলুদ দিবে সে প্রথম কিস
করবে ।
: বললেই হলো ।
- কেন ?
- অর্ণব , তুই আমার সত্যিই ভালোবাসিস
তো ?
: হুম বাসি।
- ফ্রেন্ডই ভালো ছিলাম না ? বিয়ে
করার
দরকার আছে ।
: দরকার আছে ।কেন বিয়ে করবি না
না!
- বুঝতেছি না ।কি কি করবি
ভালোবাইসা?
আমরা তো প্রেম করি নাই।অড লাগবো
না তো?পরে ডিভোর্স দিয়া যাবি ।
: ধ্যাত। ওকে বিয়ের পর কাপলদের মত
কিস করুম , ডেট করুম । প্রেম করুম ।
ওকে ?
- কি হইছে তোর।ছিঃ ছিঃ লজ্জা
করে না
তোর।
: কাল বিয়ে আর আজ লজ্জা কইরা লাভ
আছে ? নওমী দেখ আমি সিরিয়াস।
অনন্যাকে অনেক মিস করি!
- অনন্যা কে?আগের গার্লফ্রেন্ড ?
একটা মেয়ের জন্য?ছিঃ ছিঃ । ফোন
রাখ
লুইচ্চা।
- ছিঃ ছিঃ কি বলিস ? নামটা সুন্দর
হইছে
না?আমি রাখছি!যদিও তোর ক্রেডিট
আছে !
: হু । তুই ওরে ভালোবাসিস ?
- হুম বাসবো।তোর চেয়ে বেশি ।
তোরে
আইডি লিংক দিতেছি ।
: আমায় চেয়ে বেশি?কুত্তা তোরে
জবাই
করমু। দেখ ফান করিস না !
- ওরে আর তোরে নিয়া একসাথে
থাকুম
ভাবতেই ভালো লাগতাছে ।
ফোন কেটে দেয় নওমী।মেজাজটা
খারাপ
হয়ে গেছে।ফেসবুকে অনন্যা নামের
আইডিতে ঢোকে।খুব কান্না পাচ্ছে
নওমীর !
এবাউটের লেখা পড়ে নওমীর চোখের
পাতা ভারী হয়ঃ
আমি জন্মাবো ২০২০ সালে ।
ছোটবেলায় আমার আম্মু ডায়েরীতে
লিখেছিলো যে আমার নাম হবে
অনন্যা।
সে ডায়েরী বাবা খুঁজে পায়।
বাবা মাকে অবাক করে দেয়ার জন্য
আমার
আইডি খোলে।
মা তুমি নিশ্চয়ই রাগ করেছো !
তাই না ?
বাবা তোমাকে অনেক ভালোবাসে।
আমাকে যদি একটু বেশি ভালোবাসে
তুমি
কি রাগ করবে ?
দ্রুত অর্ণবকে ফোন দেয়।কিন্তু অর্ণব
ফোন ধরে না।
আধাঘন্টা হয়ে গেছে।বাসায় সবাইকে
বলছে
ফোন দিতে।সবাই হেসেই উড়িয়ে
দিচ্ছে।
হলুদের অনুষ্ঠান একটু পরেই।
ঘরে এসে দেখে ঘরের বাতি
নেভানো।সুইচ
দেয়ার আগেই কেউ একজন অন্ধকার
জড়িয়ে ধরে।হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে
বলেঃ
তোকে ভালোবাসি কখনো বলা হয়নি।
তাই প্রোপজ করেছি এভাবে।তুই তো
চেয়েছিলি যেন সবচেয়ে আলাদা
করে
প্রপোজ করি।
জানিস তো তুই ছাড়া আমি কত
এলোমেলো!
প্লিজ!
তুই ছাড়া আমি কোন কাজ করতে পারি
না।
তাই ,
I'm sorry for being selfish. but i
need
you !
i love you !
নওমী চুপ করে আলতো করে অর্ণবের
গালে চুমু দিয়ে বলেঃ দেখেছিস
আমি কত
কেঁদেছি ?
প্রমিস কর আর কাঁদাবি না !
I LOVE YOU TOO
অর্ণব বলেঃ
হাতটা একেবারে ধরবো বলে প্রোপজ
করি নি ।সোজা বিয়ের আয়োজন
করেছি।
জীবন একটাই , বিয়েও তাই।
হাতটা ধরে রাখিস !
নওমী আবার বলেঃ আর একটা প্রমিস
কর !
অর্ণবঃ কি ?
নওমীঃ অনন্যাকে আমার চেয়ে বেশি
ভালোবাসবি !
অর্ণবঃ হোক তো আগে !
নওমীঃ ডেটটা একটু আগানো যাবে?
এতদিন
পর কেন?
অর্ণবঃ আশ্চর্য ! বিয়ের পর আগে
কয়েকবছর প্রেম করবো না !
বলেই গালে হলুদ লাগিয়ে দেয় নওমীর।
নওমী বলেঃ হবে না । বলেই হলুদ নিয়ে
দৌড়াতে থাকে অর্ণবের পিছে।
আধাঘন্টা পর দুজন হলুদে মাখামাখি
হয়ে
যায়।
হঠ্যাত্ স্বভাবসুলভ কন্ঠে নওমী বলেঃ
দোস্ত আমি তো হলুদ খাইয়া ফেলছি।
: ভালো হইছে। বিয়ের পর দোস্ত কইবি
না জান ?
- দুর হ ।
: আচ্ছা দোস্তই পারফেক্ট।
- কেন জান ডাকলে কি ?
: হাসি লাগে ।
নওমী ঘরে ঘোমটা দিয়ে বসে আছে।
অর্ণব দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।
ভালোবাসার অপেক্ষার অসাধারণ
প্রহরগুলো ধরে রাখার উপায় থাকলে
দারুন হতো !
ওদের ভালোবাসা টিকে থাকুক!!!!