Tuesday, February 14, 2017

গল্পঃ সাইকো গার্লফ্রেন্ড

গল্পঃ সাইকো গার্লফ্রেন্ড
.
📝 লেখাঃ প্রিয় নীলকাব্য (স্বপ্নপরির হবু
বর)
.
-:ওই তুই অর্দির সাথে এত কি কথা বলিস?
তোকে না বলছি, কোন মেয়ের ধারের
কাছেও না ঘেষতে।
--কোই ঘেষলাম। সর্দি থুক্কু অর্দির সাথে
আমিতো নোট নিয়ে কথা বলছিলাম।
-:নোট-ফোট জাই হোক, আর কোন মেয়ের
সাথে ভুলেও কথা তো দূরে থাক চোখ তুলে
দেখলে তোর পিন্ডি এক্কে বারে গেলে
দিবো।
--কিন্তু....(কিছু না বলতে দিয়েই হন হন করে
চলে গেল)
.
এতক্ষন কথা হচ্ছিলো মৌ আর নীলের
সাথে। মৌ অত্যন্ত রাগি। বড়লোক বাপের
একমাত্র মেয়ে। আর ওভার প্রসেসিভ
টাইপের একটা মেয়ে। কিন্তু নীল শান্ত,
ভদ্র, আর একটু ফাজিল টাইপের ছেলে।
তারা দুই জনই দুজনাকে ভালবাসে। সাড়ে
এক বছর থুক্কু কি বলি, দেড় বছর তাদের
রিলেশনশিপ। তাদের রিলেশন শুরু হইছে
নীলের গালে দুইটা ঠাডা পরে। সরমের
কথা আর বলতে চাচ্ছি না। তাহলে বুঝেন
কতটা প্যারাই থাকে নীল।
.
আজকাল মৌ নীলকে একটু বেশিই প্যারা
দিচ্ছে। যেমনঃ
সকাল সকাল ঘুমাতে যাওয়া। (যদি রাতে
ফেবুতে দেখে, তাইলে আমার চৌদ্দ গুষ্টি
উদ্ধার)
খুব ভোরে উঠে নামায পড়ে হাটতে যাওয়া।
(ঘুমালে বাড়িতে এশে তুল কালাম বাধিয়ে
দেয়)
ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করা। বন্ধুদের সাথে
আড্ডা না দেওয়া। (দিতে দেখলে কান ধরে
এনে রাম কেলান কেলায়)
আর অন্য মেয়েদের সাথে কথা তো দূরে
থাক দেখলেয় কি করবে তা বুঝতেই
পারছেন।
.
তাই নীল অনেক ভাবা ভাবি করে (দুই
এক্কে দুই, তিন এক্কে তিন মিললো) তারপর
ঠিক করলো সে আর রিলেশন রাখবে না। সে
জানে রিলেশন না রাখলে কি হবে তার।
তবুও এত প্যারা আর সহ্য করতে পারছে না
নীল। তাই ঠিক করলো সে ব্রেকআপ করবে।
.
কলেজে পুকুর পাড়ে বসে আছে দুইজনঃ
-:কেমন আছে, আমার বাবুটা? (মৌ)
--ভাল আছি, তুমি?
-:আমার বাবুটার মুখ দেখলেই আমি ভাল
হইয়া যায়।
--আচ্ছা ভাল। তোমার সাথে আমার একটা
জরুরি কথা ছিল।
-:তোমার একটা কথা কেন? সারা জীবন শুধু
তোমার কথায় শুনে যেতে চাই। বলো, কি
বলবে?
--আমার ব্রেকআপ চাই।
মৌ নিজের কানকে বিশ্বাস করতে
পারছেনা
-: কি বললে?
--হ্যা, আমি ব্রেকআপ চাই। আমি আর
তোমার সাথে রিলেশন রাখতে চাই না।
-:কি বলছ? প্লিজ এইসব ফালামি কর না।
ভাল লাগে না আমার এইসব। (চোখে পানির
ঢেউ বইছে)
--আমি ফাজলামি করছি না। আমি একদম
সিরিয়াস। আমার ব্রেকআপ লাগবে।
-:প্লিজ নীল এইসব করো না। তুমি জানো
তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না।
কি দোস করেছি আমি? তুমি এমন করছো
কেন? (কেদে দিয়ে)
--আমার ভুল তোমার সাথে রিলেশন করে।
আর সেই ভুল করতে চাচ্ছি না। তুমি ভাল
থেকো। আমাকে ভুলে যাও।
-:নীল...নীল..
কিছু না বলতে দিয়েই নীল চলে গেল। আর
মৌ অঝর ধারাই কাদছে।
.
দুই দিন চলে গেল। নীল খুব ভালই আছে।
স্বাধীন ভাবে যাখন যা ইচ্ছা তাই করছে।
তবে মৌ কে একটু মিস করছে। তা মজা করার
পিছনে ভুলে যাচ্ছে।
এক সপ্তাহ হয়ে গেল। মৌ কে নীল
দেখিনি। কলেজেও আসেনা। বিকেলে
আড্ডা দিয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। বাড়িতে
ফিরছে হেটে হেটে। চারিদিকে অন্ধকার,
হঠাৎ পিছন থেকে মাথার উপরে সজরে
একটা বাড়ি। এক বাড়িতেই বেহুশ নীল।
অনেকক্ষণ পর নীলের জ্ঞ্যন ফিরলো।
মাথাই প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছে। চোখ
খুলতেই নীল নিজে আবিষ্কার করলো সে
কোন পুরাতন গোডাউনে একটা চেয়ারে
বাধা অবস্থায়। মাথার উপরে শুধু একটা
লাইট জলছে। তাছাড়া সব অন্ধকার। এসব
দেখে নীলের আর বুঝতে বাকি থাকলো না
সে কিডন্যাপ হইছে। অনেক চেঁচামেচি
করলো। তাতে তো কোন লাভ হইলো না।
আরো ভয় দেখিয়ে গেল:
--:সালার বেটা, বেশি চিল্লা-পাল্লা
করলে জিভ টাইনাছীড়া ফালাবোনে।
এই কথা শুনে নীল তো একদম চুপশে গেল। আর
কোন কিছু করল না।
সেদিন সারা রাত ইদুরের পার্টির জন্য
ঘুমাতে পারল না। সকালে একটু ঘুম লাগলেও
কিছু কথা শুনে ঘুম ভেংগে গেল।কথা গুলো
ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না।
কিছুক্ষণ পর দরজা দিয়ে তিন জন ভিতরে
ধুকলো। অন্ধকারের জন্য কিছুই বোঝা
জাচ্ছিল না। নীলের মাথার উপর লাইট
জলছিলো আর তার তার সামনে আশতেই
নীল দেখে এমন ভাবে আতকে উঠল, যে ভুত
দেখলেও এমন ভাবে অবাক হতো না।
হ্যা সে মৌ কে দেখল।
নীল মৌকে দেখে মাথাই দশ বারটা ঠাডা
পড়ল। নীলের কিছু বলার ভাষা খুজে পাচ্ছে
না। সে হা করে অবাক চোখে মৌ এর দিকে
তাকিয়ে আছে।
-:আপনারা বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করেন।
আমি যা করার করবো।(মৌ)
---জি আফা।(গুন্ডা)
কথা শুনে নীলের হুশ আসলো।
--তাহলে তুমি আমাকে কিডন্যাপ করেছে!
কিন্তু কেন?
-:খুব অবাক হচ্ছো। তাই না? আমিও
হইছিলাম তুমি যেদিন আমার সাথে
ব্রেকআপ করেছিলে।
--কিন্তু তাই বলে কিডন্যাপ?
-:হ্যা, কিডন্যাপ!
ব্যাগ থেকে বড় একটা চুরি বের করল। আর
আমার সামনে একটা টেবিল নিয়ে এশে
বসলো। এতক্ষণে নীল বুজতে পারল, তার
জীবনের টাইম টা ফুড়ুত হতে চলেছে। সে
আরও দেখল মৌ এর চোখ ফুলে লাল হয়ে
গেছে। মৌ ব্রেকআপের পর থেকে আর ঘুমাই
নি, শুধু কেঁদেছে।
-:জানো নীল, তোমাকে না আমি অনেক
ভালবেসেছিলাম। তোমাকে আমার জীবন
দিয়ে ছিলাম। কিন্তু তুমি তার কখনই দাম
দাও নি। শুধু অভিনয় করেছিলে। আর এই
জীবনে যেহেতু তুমি নেই, তাহলে আর লাভ
কি বেচে থেকে? (কেদে কেদে)
এই বলে মৌ নিজের হাতে এক পোস
মারলো। গল গল করে রক্ত গরিয়ে পড়তে
লাগল।
--মৌ প্লিজ এসব করনা। তুমি দরকার হই
আমাকে মার তবুও নিজে কে মের না।
-:তোমাকে নিয়ে অনেক সপ্ন বেধেছিলাম।
ছোট্ট একটা সংসার হবে আমাদের, ছোট্ট
একটা পরিবার। কিন্তু....
আবার হাতে ছুরি দিয়ে পোস মেরে কেটে
দিল। নীল প্রচন্ড জোরা জুরি করছে কিন্তু
কিছুই করে পারছে না। তার শরীর যে
বাধা।
--মৌ, মৌ। দয়া করে থাম। তুমি আমাকে
মেরে ফেল তাও হাত কেটও না। তুমি
বাচবে না।
-:বেচে থাকতে চাই না আমি। তোমাকে না
পেলে.......
অতিরিক্ত রক্ত পড়ে যাওয়ার কারনে মৌ
ঢুলে পড়ে গেল মাটিতে। তা দেখে নীল
চিল্লাতে শুরু করে দিল। বাইরে থেকে
গুন্ডারা এসে মৌ এর অবস্থা দেখে সব
জেনে বুঝতে পারল। তাদের সহায়তায় নীল
মৌ কে হাসপাতালে নিয়ে গেল।
.
হাসপাতালে মৌ কে রক্ত দিল নীল। অনেক
রক্ত দেওয়ায় নীলও অনেক দুর্বল হয়ে
পড়েছে। তাই নীলকেও মৌ এর পাশের
বেডে রাখল।
.
অনেকক্ষণ পর মৌ এর জ্ঞ্যান ফিরল।
জ্ঞ্যান ফিরতেয় মৌ দেখলে নীল তার হাত
ধরে কাদছে। মৌ নীলের হাত শক্ত করে
ধরতেই নীল মৌ এর দিকে তাকাল চোখ
মুছতে মুছতে। কিছু বলতে না দিয়েই নীল
মৌ কে গলাই জড়িয়ে ধরে আরো জোরে
কাদতে লাগল। এই দেখে মৌও আর নিজেকে
সামলাতে পারল না। সেও কেদে দিল।
--তুমি কেন, এমন করলা? তোমার যদি কিছু
হয়ে যেত? (নীল মৌ এর চোখ দুই হাত দিয়ে
মুছতে মুছতে বলল)
-:তুমি কেন, ব্রেকআপ করলে? তুমি জানো
না, তোমাকে ছাড়া আমি বাচব না। (দুই
জনই কাদছে)
--আমি তোমার উপরে কি একটু রাগও করতে
পারব না? আর তুমি কি করে ভাবলে
তোমাকে ছাড়া আমি বাচব।
-:তাহলে কেন ছেড়ে চলে যেতে
চেয়েছিলে? আমি অনেক কষ্ট পাইছি।
--আর কোন দিনও ছেড়ে চলে যাবো না। তার
জন্যই একটা ব্যবস্থা করছি।
-:কি ব্যবস্থা?
--বিয়ে করবে, আমাই? আমার পাগল
বাবুনিটা। (পকেট থেকে আংটি বের করে
সোজা সুজি প্রোপোজ)
মৌ কিছুই বলতে পারছে না। শুধুই কেদে
চলেছে। কিছু না বলতে দিয়েই আংটিটা
পরিয়ে দিল।
-:ওই আমি কি বলেছি। তোমাকে আমি
বিয়ে করবো?
--আইচ্ছা, খুলে দাও। হসপিটালের নার্সগুলা
না যা সুন্দর। তাদের যে কোন একজন কে
পড়িয়ে দিয়ে আসি।
-:ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দিব। আমাকে
বিয়ে করে আবার অন্য মেয়ে দের দিকে
তাকানো।
--তুমিই তো বললা, বিয়ে করবা না।
-:কখন বললাম? তোমাকে বিয়ে করবো
নাতো কাকে করবো। খালি বেশি বুঝে!
--সরি, সরি। মাফ করেন, বউ পাখি।
-:হি হি হি।
নীলকে প্যারা থেকে এই জীবনে আর কেউ
বাচাতে পারবে না। এই ভেবে নীলও হা হা
হা.....
.
[চলতে থাক তাদের খুনশুটি ভালবাসা। কোন
কিছু জাতে ভাংতে না পারে তাদের এই
বাধন। সবাই দোয়া করবেন।]

গল্পঃ অনুভূতি।

গল্পঃ অনুভূতি।

লেখকঃ Md Bayazid (আবেগহীন মানব).
.
.
পাগলিটা গাল ফুলিয়ে বসে আছে। আমাকে
গান শোনাতে বলেছিলো কিন্তু আমি ত
গান পারিনা। তাই উনি অভিমান করেছেন
আমার উপর।
-আচ্ছা গান শোনাব তাহলে আমাকে কি
দেবে?
-তুমি যা চাও তা যদি সাধ্যের মধ্যে হয়।
(অনেক খুশি হয়ে)।
-না। দেখি তুমি আমাকে কি দাও।
-অতো দেখতে হবেনা। কি চাও সেটা বল।
পাগলীটাকে আরো রাগালে সে আবার
অভিমান করে বসে থাকবে তাই আমি কিছু
না বলে একটা গান সুরু করলাম।
"াজ শ্রাবণের ভরা বরষায়, আমি ভিজবো
তোর সাথে, আমার এই হাত দুটো তো
থাকবে তোরি হাতে। তোর জন্য আনব
কিনে একটি রংিন দিন, সময়টাকে থামিয়ে
দিয়ে হবো জে রংিন। আমি তোকে নিয়ে
ভাসব সুখের মেঘের ই ভেলায়, তোর সাথে
কথা হবে বসে নিরালাই, তুই রাজি কিনা
বলে দে আমায়, তোকে ভালবেসে বাচতে
দে আমায়।
তোকে নিয়ে পুর্নিমার চাদের আলই কর্ব
জোৎস্না স্নান, তোর কোলে মাথা রেখে
গাইব সুখের গান। চাদের ও আলো মাখিয়ে
দেবো তোর ওই মুখে, সারারাত জেগেই
কাটিয়ে দেবো তোর অসুখে, তুই রাজি
কিনা বলে দে আমায়, তোকে ভালবেসে
বাচতে দে আমায়, তুই রাজি কিনা বলে দে
আমাই, তোকে ভালবেসে বাচতে দে
আমায়।"
.
একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ও।
আমিও তাকিয়ে আছি ওর মায়াবী চোখের
দিকে।
।
আমি একটা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি
করি তাই খুব ব্যাস্ত থাকতে হয়। তাই
পরিবারকে হয়্ত যথেষ্ট সময় দিতে পারিনা
তাতে অবষ্য পাগলিটার কোনো অভিযোগ
নেই। পাগলিটার সাথে আমার বিয়ে
হয়েছে মাত্র ১৫ দিন আগে। সব ঝামেলা
শেষ করে আজ ই এই বাড়ীটাতে উঠেছি। ওহ।
ওর নামটাই ত বলা হয়্নি। অর্নি নাম ওর।
-আইস ক্রিম খাব।
-এই রাতে? ঠান্ডা লাগবে তো।
-আমি খাব। চুপচাপ নিয়ে আসো।
জানতাম পাগলিটা খুব আইস ক্রিম পছন্দ
করে তাই আগে থেকেই নিয়ে এসেছিলাম
নাহলে এখন বাইরে জাওয়া লাগতো।
-এই নাও তোমার আইস ক্রিম।
-খাইয়ে দাও।
-অক। এদিকে আস। নাও।
-এবার আমার হাতে দাও।
-কেনো? আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
-না দাও।
একটু মন খারাপ করে ওর হাতে দিয়ে
দিলাম। মুচকি হেসে নিয়ে নিলো।
-দেখি হা করো।
-কেনো?
-এবার আমি তোমাকে খাইয়ে দেবো।
-না আমি খাব না।
-এত খেলে আমার ঠান্দা লাগ্বে তো।
কেমোন একটা অনুনয় এর সুর পেলাম। ওর
দিকে তাকিয়ে আর না করতে পারলাম না।
-দাও।
-হুম। নাও। এবার আমাকে খাইয়ে দাও।
-অকে পাগলি।
-হিহিহিহি। পাগল একটা।
-হুম। তোমার পাগল।
-ছাদে যাবে?
-এতো রাতে?
-হুম।
-আমি কিন্তু কোলে করে নিয়ে যেতে
পারবো না।
-আমি তোমার কোলে করেই যাবো।
ওকে কোলে তুলে নিলাম। আর আমার
গলাটা দুহাতে জড়িয়ে ধরলো। ছাদে পৌছে
হাল্কা চাদের আলোতে ওকে অসম্ভব
মায়াবী লাগছে।
-তুমি ঘেমে গেছ তো।
-তোমার মতো মুটকি কে কোলে নিতে হলে
আমি তো ঘেমে যাবই।
-ওকে। থাক। নামিয়ে দাও আমাকে।
(অভিমানি সুরে)।
-না। নামাব না। আমার বৌকে আমি
কোলে রাখবো। তাতে তোমার কি?
আমার দিকে তাকিয়ে থেকে ওর আচল
দিয়ে আমার মুখটা মুছে দিলো। আমিও ওর
চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-এবার তুমি আমাকে গান শোনাও।
কিছু না বলে গান শুরু করলো,
" আমারো পরাণে যাহা চায়, তুমি তাই,
তাই গো আমারো পরাণে যাহা চাই।"
-খুব সুন্দর।
-না।
-কে বললো না?
-তাহলে তুমি আরেকটা গান শুনাও।
-এখন?
-ত কখন?
-ওকে।
"েই চাদের আলোই তোকে রাখব বেধে,
পারবি কি তুয় আমায় হতে? আলকিত রাত
টাও অন্ধকার হলে, তোকে আগলে রাখব
আমার কোলে, তুই থাকবি কি না সেটা
তোর ইচ্ছা, তোকে শোনাব চাদের ও
কিচ্ছা! মেখে দেব তোর মুখে চাদের ও
আলো, তাকিয়ে থাকব আমি নিভে যাক না
আলো! তোকে নিয়ে সাজাবো একটা মুহুর্ত,
থাকবে সেখানে তোর সব শর্ত। তুই থাকবি
কিনা সেটা তোর ইচ্ছা, আমি শোনাব
তোকে চাদের ও কিচ্ছা। তুই শুনবি কিনা
সেটা তোর ইচ্ছা!"
গান শেষে ওর কপালে একটা চুমু একে
দিলাম। আর ও লজ্জাই লাল হয়ে উঠলো।
-দেখ, চাদটা লজ্জা পেয়ে মেঘের আরালে
গেছে। (আমি বললাম)।
-লজ্জা ভাংবে কখন?
-জানিনা। তবে আমার কোলে যে চাদটা
আছে সেটা তো আর লুকাতে পারবে না।
একথা সুনে আমার বুকে মুখ লুকালো ও।
অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম তাই ওকে
নামিয়ে দিলাম কোল থেকে। তারপর
আমার কাধে মাথা রেখে বসলো ও।
-চলো room এ যাই।
-থাকি আরেকটু?
-সেহরি খেতে উঠতে হবে চলো।
-আচ্ছা।
আবার কোলে করে নামিয়ে আনলাম ওকে।
-তুমি আজ সোফাই ঘুমাবে। (অর্নি)
-কেনো? (আমি)
-আমার ইচ্ছা তাই।
-হাহাহাহা।
-হাসো কেনো?
-ঘুমাতে পারবে?
-এত কথা বলো কেন?
পাগলিটাকে জরিয়ে ধরে সুয়ে পরলাম। একটু
পরে বাচ্চাদের মতো জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে
পরলো। আমি কিছুক্খন ওর দিকে তাকিয়ে
থাকলাম। কি ইনোসেন্ট চেহারা! আমিও
ঘুমাবো এখন নাহলে সেহরি মিস হয়ে যেতে
পারে।

গল্পঃ 'বউ মানেই অনিবার্য, চার পর্বের মিষ্টি ঝগড়া

গল্পঃ 'বউ মানেই অনিবার্য, চার পর্বের
মিষ্টি ঝগড়া'

লেখকঃ ডাকনাম ইমু-ইমরান।
.
দেহের মাঝে সর্বচ্চ রাগ নিয়ে ঘরের দরজা
চাপিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে বসে আছে নওশিন।
ইমুর মাঝেও আজ নওশিনের সমান সমান
রাগ। ইমু ঘরে ঢুকতেই নওশিন বলে উঠলো---
--এসে পরেছিস! আমি এতক্ষণ তোর জন্যই
অপেক্ষা করছিলাম। আমি চলে যাচ্ছি! আর
কোনদিনও ফিরবোনা। নিজের খেয়াল
রাখিস। আর শুন! গরমটা অনেক বেশি তাই
বেশি করে পানি পান করিস!
.
ইমু ঢের টের পাচ্ছে নওশিন অনেক রেগে
আছে। কারণ রেগে গেলেই নওশিন কেবল
ইমুকে তুইতোকারি বলা শুরু করে। তবে তার
মাঝেও রয়েছে সীমাহীন ভালবাসা। যা
শুধু ইমু নিজেই উপলদ্ধি করতে পারে। ইমু কি
হয়েছে, না হয়েছে জিজ্ঞাসু না করে বলল---
--ঐ যে আলমারির ড্রয়ারটায় কিছু টাকা
রাখা আছে! ঐ টাকাটা নিয়ে যা, পথে
লাগতে পারে।
--এলিয়েন! তুই কিন্তু এইবার আমার পিছুপিছু
ছুটবিনা!
--ঠিকাছে! ঠিকাছে! তোর পিছুপিছু ছুটতে
আমার বয়েই গেছে। তা কোথায় যাবি
সিদ্ধান্ত নিয়েছিস? টিকিট কেটেছিস? না
কাটলে বল, আমিই একটা টিকিট কেটে
দিচ্ছি!
--তোকে বলবো কেন? আমার যে দিকে
দুচোখ যায় সেদিকে চলে যাবো! তোর
টিকিট কাটা লাগবেনা!
--তোর দুচোখতো বাবার বাড়ি ছাড়া আর
কোনদিকেই যায়না! চল তোকে এগিয়ে
দিয়ে আসি!
--তোর এগিয়ে দিতে হবেনা। আমি একাই
যেতে পারবো।
--তাহলে এইবারের মতো আমার জন্য
টেবিলে খাবারটা বেরে রেখে দিয়ে যা!
--খবরদার! একদম আমার রাগ কমানোর
চেষ্টা করবিনা। এইবার বাবা তোর একটা
বিহিত করবে। তবেই ফিরবো, নয়তো না!
--আরে যা যা, খাবারটা বেরে দিয়ে চলে
যা, বাবা আমাকে খুব ভালো করেই জানে,
আমি কেমন! আর এটাও জানে তার মেয়েটা
কেমন!
--হ্যা যাচ্ছি, জিন্স প্যান গুলা যখন কাঁচবি
তখন কাঁদবি আর বলবি, "কি ভুলটাই না
করলাম" যখন সকাল বেলা আরামের ঘুম
ভেঙ্গে রান্না করে খেয়ে যেতে হবে, 'তখন
শুধু কষ্টে চোখের পানি আর নাকের পানি
ফেলবি। আমি যাচ্ছি....!
--যা, বাবাকে গিয়ে আমায় একটা ফোন
দিতে বলিস।
--চিন্তা করিসনা, উনি এখানে আসতেও
পারে। অল্প দুরত্ব তো! ফোন নাও দিতে
পারে!
--মানে?
--হা হা হা, তুই ভেবেছিস আমি আমার
বাবার কাছে যাবও তাইনা! ভুল ভেবেছিস,
আমিতো আমার শ্বশুর আব্বাজানের কাছে
চলে যাচ্ছি! তারপর সেই তোকে এসে
বুঝাবে "কত ধানে, কত চাউল"!
.
ইমু একটু থমকে গেলো নওশিনের কথা শুনে।
ভাবছে বাবাকে ও কিছু বললে আমায় আস্ত
রাখবেনা। পুরও কাহিনীটা তখন
উল্টোদিকে মোড় নেবে। ইমু একটু কাপা
কন্ঠে বলল---
--কেন! কেন! তুই আমার বাবার কাছে যাবি
কেন?
--বারে তুইয়ি তো বসর রাতে বলেছিলি!
'আজ থেকে তোর মা, আমার মা! তোর
বাবা, আমার বাবা! তোর ছোটভাই, আমার
ছোটভাই! আমিতো সেদিন থেকেই তাদের
নিজের মা-বাবাই জেনেছি। তাই আমার
বাবার কাছে আমি চলে যাচ্ছি।
--তোর বাবাতো বগুরাতে সেখানে যা!
আমার বাবার কাছে যাবি কেন?
--তোর বাবা বগুরা, তুই বললিনা, 'বাবা
আমাকে ভাল করেই জানে' দেখি কতটা
জানে!
--পাখি শুন, তোর কোথাও যাওয়া
লাগবেনা। আমি তোকে কাল বিকেলে
ঠিকি ঘুরতে নিয়ে যাবো,
--তোর এমন কাল আমি বিয়ের পর থেকেই
শুনছি। কতদিন হলো একটু বাইরে সবুজে
ঢাকা লেকের পারে গিয়ে বসিনা। একটু
বাতাসে দাঁড়াই না। চার দেয়ালের মধ্যে
থাকতে থাকতে আমার সব কোলাহল দিন
দিন নিমেষ হয়ে যাচ্ছে।
.
ইমু মনে মনে বলল, 'এমনিতেই যে
কোলাহলময়ী, এর পরেও আবার কোলাহল
বাড়াতে চাচ্ছে"
--বললাম তো কাল তোমায় নিয়ে সত্যি বেড়
হবো,
--সত্যিতো?
--সত্যি,
--না! না! তুই এইবারও মিথ্যা বলছিস!
.
কথাটা বলেই নওশিন ব্যাগের হুট টেনে
হাটা শুরু করলো। ইমু দৌড়ে গিয়ে সামনে
দু'হাত মেলে দাঁড়িয়ে বলল---
--পাখি প্লিজ যেওনা, আমি তোমায় সত্যি
বলছি কাল বেড়াতে নিয়ে যাবো।
.
নওশিন একটু আড়চোখে ইমুর দিকে তাকিয়ে
বলল--
--কি ব্যাপার আদরটা এতো বাড়লো কেন!
অনেক বেশি বেশিই লাগছে! ও তোর বাবার
বাড়িতে যাবার কথা বলেছি বলে তাইনা?
আমি সত্যিই যাচ্ছি, ভালো থাকিস।
--প্লিজ যেওনা পাখি,
--বাবাকে দেখে তোর খুব ভয় লাগে?
--হুম, তুমিতো সেটা জানোই!
--ঠিকাছে আমি যাবোনা, তবে তোকে এখন
একটা কাজ করতে হবে।
--কি বলো, তুমি যা বলবে আমি তাই করবো।
পাপ্পি দিতে হবে! খায়িয়ে দিতে হবে!
মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম আনাতে হবে?
--জ্বী না, আপাতত নিচে নেমে আমার
জন্যে একটা আইসক্রিম আনলেই হবে।
--আমিতো মাত্র উঠলাম, এখন আইসক্রিম
খেতে হবেনা পাখি। তার চেয়ে ভালো,
চলো তোমায় ভাত খায়িয়ে দেই।
--ঐ তুই যাবিনা, আচ্ছা যেতে হবেনা,
আমিই চললাম!
.
নওশিন কথাটা বলেই ব্যাগের হুট আবার
ধরলো। ইমুও নওশিনের সাথে সাথে হাত
দিয়ে ব্যাগের হুট ধরে বলল---
--ঠিকাছে, ঠিকাছে, আমি যাচ্ছি। তুমি
একটু আমার জন্য খাবারটা বেরে রাইখো
কেমন!
--ঠিকাছে যা....
.
ইমু মুখটা মলিন করে টেনে টেনে কয়েক পা
বাড়িয়ে দরজার সামনে যাওয়াতেই নওশিন
ডাকলো---
--এই শোন এলিয়েন! কষ্ট করে আর এখন
নামতে হবেনা। যা গিয়ে ফ্রেস হয়ে নে,
আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি। তুই
আইসক্রিম আনার বদলে শুয়ে শুয়ে আমার
মাথায় হাত বুলিয়ে দিবি।
.
ইমু আস্তে আস্তে বলল---
--রাক্ষসী! আগে খেয়ে নেই, তারপর কার
মাথায় কে হাত বুলিয়ে দেয় দেখা যাবে!
--কিরে কি বলছিস বিড়বিড় করে?
--কই, কই নাতো!
--তাহলে আমি যে শুনলাম,
--আমিতো বললাম, তোমার ব্যাগ থেকে
জামাকাপড় সব বের করে আলমারিতে
রেখে দিয়ো!
--ঐ ব্যাগটা ঐভাবেই গোছানো থাকবে,
কিছু বললেই বাপের বাড়ি। আমার না, তোর
বাপের বাড়ি মনে রাখিস!
.
ইমু হ্যা সূচক মাথা নাড়িয়ে উত্তর দিলো।
নওশিন বলল---
--যা এইবার ফ্রেস হয়ে আয়,
--হুম যাচ্ছি,
.
ইমু ফ্রেস হয়ে খাবার টেবিলে এসে বসলো।
বেগুনভাজি, চিংড়িমাছ কচুরি দিয়ে
রান্না। ইমুর সামনে দেওয়াতেই বলল---
--এই জন্যেই তো এতো গলা চুলকায়!
.
নওশিন ভাতের মধ্যে রাখা চামিচটা
হাতে ধরে একটু উঁচু করেই রাগান্বিত গলায়
বলল---
--কি আমার গলা চুলকায়?
--তোমায় তো বলিনি! বললাম আমার, আমার
গলা চুলকায়।
--তাহলে তোর খাওয়া লাগবেনা, আমি ডিম
ভাজি করে নিয়ে আসি।
--না না, তা লাগবেনা এই দিয়েই চলবে। আর
কিছুই করতে হবেনা। এইটা তো আমার খুব
পছন্দের খাবার।
--হুম তাহলে এখন শুরু করোও,
--তুমি খাইছো?
--না,
--কেন?
--এমনিই তুমি খাবে তারপর খাবো,
--এখন বাজে কয়টা?
.
নওশিন দেয়ালঘড়িটার দিকে তাকিয়ে
বলল---
--৩ টা ৩৭ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড,
--তাহলে এখনো না খেয়ে বসে আছো কেন?
--তুমি তাহলে এতো দেরি করে এলে কেন?
--আজব! আমার কাজ থাকতে পারেনা?
--হুম পারে!
--তাহলে না খেয়ে আছো কেন?
--তোমার সাথে একসাথে খাবো বলে,
--তাহলে তোমার প্লেট কই? শুধু আমার জন্য
একটা প্লেট নিয়ে এলে যে?
--আমারতো বসে বসে তোমার খাওয়া
দেখতে ভালোলাগে, তাই তোমায় খাওয়া
শেষ হলে আমি খেতে বসবো!
--থাপ্পর দিয়ে তোর দাঁত ফালাই দিমু
(দুঃখিত ভয় পাবেন না, আপনাকে বলিনি)
এতক্ষণ যাবৎ না খেয়ে বসে আছিস কেন!
আবার এখন বলছিস আমার খাওয়া দেখতে
তোর ভালোলাগে। প্লেট আনলিনা কেন?
.
নওশিন এবার ইমুর মেজাজটা দেখে একটু ভয়ই
পেলো। নওশিন ভয়ে ভয়ে বলল---
--আমিতো তোমার প্লেটে খাবো বলে
একটাই প্লেট এনেছি!
.
নওশিন মুহূর্তের মধ্যে ইমুকে সাত পাঁচ বুঝটা
বুঝাতে চাইলো। তবে ইমু সেটা ঠিকি টের
পেয়েছে। ইমু নওশিন-কে তার পাশের
চেয়ারে আসতে বলল। নওশিন আস্তে করে
এসে ইমুর পাশের চেয়ারে বসলো। পাগলীটা
মাথা নিচু করে বসে আছে। ইমু বুঝতে
পারছে। হয়তো একটু ভয় পেয়েছে। ইমু ভাত
মাখিয়ে একনলা ভাত নওশিনের মুখের
সামনে ধরলো। নওশিন ভাতটা মুখে নিয়ে
চিবাইতে চিবাইতে বলল---
--তুমি আমায় ধমক দাও কেন?
--পাগলী আমার, তুই না খেয়ে থাকিস কেন?
আমি কখন বাসায় ফিরি নাফিরি তার কি
নির্দিষ্ট সময় আছে নাকি। এখন থেকে না
খেয়ে বসে থাকবিনা।
--থাকবো! ১০০ বার থাকবো! তুমি না খেলে
আমি আগে খাবো কেন?
.
কথাটা শেষ না করতেই নওশিনের গলায়
ভাত আটকে গেল। ইমু সাথে সাথে টেবিল
থেকে পানির গ্লাসটা নিয়ে নওশিনের
মুখে ধরলো। পাগলীটার চোখ দিয়ে একদম
সচ্ছ পানি চলে এসেছে। মুখটাও অনেক
রক্তবর্ণ হয়ে গেছে। দেখে মনে হচ্ছে
শরীরের সমস্ত রক্ত নাকের ডগায় এসে ভীর
জমিয়েছে। পাগলীটার এই লাল টুকটুকে
নাকটা যখন খুব বেশি রেগে যায় তখন দেখা
যায়। আর যখন ইমুর হাতের একটু শিহরণ পায়
তখন। ইমু নওশিনের উরনাটা দিয়ে
নওশিনের চোখের পানি গুলো মুছে দিলো।
নওশিন বলে উঠলো---
--কি ব্যাপার!
--কি?
--তুমি না খেয়ে শুধু আমায় খায়িয়ে দিচ্ছ
কেন?
--কই, আমি এইবার দিয়ে পাঁচ বার খেলাম
আর তোমায় দিলাম চারবার,
--একদম মিথ্যা বলবেনা, তুমি ভেবেছো
আমি খেয়াল করিনি না!
.
নওশিন টান দিয়ে ভাতের প্লেট নিয়ে আরও
ভাত নিলো। এইবার ভাত মাখিয়ে নওশিন
ইমুকে খায়িয়ে দিতে লাগলো।
ইমু আর নওশিনের বিয়ের আজ দের বৎসর।
ছোট্ট একটি ঘর। কিছু ছোট্ট হাড়ি
পাতিলার সাথে নওশিনের সারাবেলা
খেলাধুলা। আর একটু অবসরে টিভিসেটের
সামনে বসে ইমুর প্রতি ভাবনা। সব
মিলিয়ে ভাবনায় নওশিনের ভিষন
ব্যস্ততা। রাতদিন ২৪ ঘন্টরার মধ্যে
প্রতিদিন ৪ ঘন্টাই তাদের তুমুলঝগড়া করে
কাটে।
(১ম পর্ব) সকালের ঝগরাঃ
ভোর বেলা নওশিন ঘুম থেকে উঠেই ইমুকে
ডাকা শুরু করবে---
--এই উঠো, উঠো বলছি, কি হলোও শুনতে
পাচ্ছনা? উঠো!
.
ইমু ডাকটা না শুনার জন্য পাশ থেকে
নওশিনের বালিশটা নিয়ে মাথার উপরে
রাখে! একটা বালিশ মাথার নিচে, আরেক
উপরে! তবুও যদি ভোরের কাকের চেঁচামেচি
থেকে বাঁচা যায়। ইমু বালিশ চেপে আরও
গাপ্পি মেরে ঘুমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু
নওশিন ইমু মাথার উপর থেকে বালিশ টেনে
আরও জোড়ে চেঁচিয়ে ইমুকে ডাকে।
নওশিনের এই ডাকে আসে পাশের বাসার
মানুষ গুলোও ইমুর সাথে জেগে যায়। ইমু
রেগে গিয়ে নাকের মাথায় কথা বাজিয়ে
বলে---
--এই তোমার সমস্যা কি?
--আমার সমস্যা তুমি!
--মানে?
--হুম, ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নাও। আমি
চা নাস্তা আনছি।
--তো তুমি আগে নাস্তা বানাও, তারপর
আমার ডাকো।
--না,
--কি না?
--আমি তোমায় ছেড়ে একলা বিছানা থেকে
উঠবো না!
--তাহলে শুয়ে থাকো!
--তাহলে নাস্তা কে বানাবে?
--ভূতে বানাবে নাস্তা!
.
ইমু কথাটা বলে অন্যপাশ ঘুরে শুয়ে পরলো।
নওশিন ইমুর পাশেই হাটুভেঙ্গে বসে আছে।
ইমু চোখের পাতাটা নামাতেই নওশিন ইমুর
গালে পাপ্পি দিয়ে বলল---
--তুমি শুয়ে থাকলে। আমার তোমার বুকের
উপর শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। আমার আর
কিছুই করতে ভালোলাগেনা!
.
ইমু নওশিনের দিকে ঘুরে তাকালো।
পাগলীটার কথা শুনে ইমু দু'হাত ধরে টেনে
নওশিন কে বুকে টেনে নিয়ে বলল---
--সারারাত বুকে উপর ঘুমিয়েছিস, ঘুম হয়নি?
.
নওশিন বুকে মাথা রেখেই বলতে লাগলো---
--আমিতো এই বুকে সারাজীবনের জন্য
ঘুমিয়ে যেতে চাই,
.
ইমু নওশিনকে বুকে থেকে দু'হাত দিয়ে
সরিয়ে নিজেও উঠে বসলো। নওশিনের
চোখে চোখ পাখরিয়ে বলল---
--সাঁঝ সকালবেলা তোর এইসব কথা না বললে
হতোনা?
.
নওশিন ইমুকে একটু রাগান্বিত দেখেই শক্ত
করে জরিয়ে ধরে বলল---
--ভুল বলিনি এই বুকটায় সারাজীবনের জন্য
ঘুমাতে পারলে আমার আর কিছুই চাইবার
থাকবেনা।
--হ হ হইছে তোর নায়িকা নায়িকা ভাব!
--এই তুমি নায়িকা ভাব দেখলে কই? আমি
কিছু বললেইতো তোমায় নায়িকা নায়িকা
ভাব লাগে! সারারাত কি স্বপ্নে
নায়িকাদের সাথে কাটাস! আমার কিন্তু
মেজাজ খুব খারাপ হচ্ছে! তুই আমাকে
নায়িকা বলিস কেন?
--তো কি তুইতো সব গল্পেই ইমুর নায়িকা
তাইনা?
--না,
--না মানে?
--আমি হইলাম আমার ইমুর নওশিন,
--হা হা হা পাগলী যাও নাস্তা বানাও,
আমি ফ্রেস হয়ে আসছি।
.
ঘুম থেকে উঠার এই পর্ব শেষ হতে না হতেই
খাবার টেবিলে শুরু হয়ে যাবে।
.
(২য় পর্ব) নাস্তার সময়ঃ ইমু বলবে---
--সকালে একটু সবজী ভাজি করলে তো
পারো। প্রত্যেকদিনই ঘোড়ার ডিম ভাজি।
দাদা নিশ্চয় কর্ক মুগরীর ব্যবসায়ী ছিল!
--ঐ তুমি কিন্তু আবোলতাবোল পেচাল
পারবেনা। যা বানিয়েছি সেটাই খাবে।
আর যদি ভালো না লাগে, রান্নাঘরটা
ওদিকে আছে!
--না এবার মনে হচ্ছে করেই ফেলতে হবে!
--কি?
--কিছুনা....!
--বলো বলছি?
--দিয়ার কথা ভাবছি, মেয়েটা আর কিছু
পারুক না পারুক বাসায় গেলে কত ধরনের
রেসিপি এনে যে সামনে ধরতো! রাজি হয়ে
যাওয়াটাই তখন ভাল ছিলো। অন্তত কব্জি
ডুবিয়ে তো অনেক খাবার খেতে পারতাম।
--ঐ তুই আমার পাশে বসে অন্য মেয়ের কথা
ভাবিস! শোন! এইসব খাবার তোকে
পটানোর জন্যেই খাওয়াতো। বিয়ের পর
আমিতো তোকে রুটি বানিয়ে খাওয়াচ্ছি,
ও এলে তোকে পোড়া চাপরি খাওয়াতো!
তখন বুঝতি কেমন লাগে তোর বিয়ের পরের
রেসিপি।
.
ইমু রুটি চিবাতে চিবাতে বলল---
--এসব তোমার চিন্তা ভাবনা,
--তাহলে যা, তোর ঐ জিঞ্জার ভার্শন
বান্ধবীটাকেই নিয়ে আয়, তোকে
রান্নাবান্না করে খাওয়াক!
.
কথাটা বলেই নওশিন হাতের কাছের কাচের
গ্লাসটা ভেঙ্গে রুমে গিয়ে ভেতর থেকে
ছিটকানি মেরে দিলো। আর এদিকে ইমু
পিছন পিছন গিয়ে দরজায় নক করতে করতে
গিয়ে দু'হাত লাল করে ফেলল। বেশ কিছুক্ষণ
পর নওশিন চোখ মুছতে মুছতে এসে দরজা
খুলল। ইমু বলল---
--কি ব্যাপার তুমি কান্না করছো কেন?
--কেন তুই জানিস না! তুই শুধু অন্য মেয়েদের
কথা আমায় শুনাস! তুই অন্যদের কেই
ভালবাসিস, তাদের সাথেই থাকিস। আমার
কথা তোর শুনতেও হবেনা, আর বলতেও
হবেনা।
.
এইটা হলো দিনের ২য় পর্বের ঝগড়া। অনুভব
করা যায় কতটুকু ভালবাসা তাদের মাঝে?
আমি কিন্তু দিশেহারা। ইমু তারপরেই তার
কর্মস্থলে চলে যায়। আর নওশিন একা একাই
রুমের মাঝে এটা ওটা পায়চারী করতে
থাকে। যতটুকু সময় ইমু বাহিরে থাকে ততটুকু
সময়ই নওশিনের মুখ বন্ধ থাকে। তবে এর
মধ্যেও যদি ইমু কিছু উলটপালট করে রাখে
তাহলেই ফোন কলে শুরু হয় দিনের ৩য় পর্বের
ঝগড়াঃ
.
--হ্যালো,
.
নওশিনের হাই/হ্যালো বাদ দিয়েই বকতে
শুরু করে---
--ঐ তোকে না বলছিলাম কাল বাজার থেকে
ভেন্ডী, আলু, পোটল আনতে! তুই করোল্লা,
ড্যারোস আনছিস কেন? আজ বাসায় আর
রান্না হবেনা। বাইরেই কিছু খেয়ে নিশ!
--তুমি?
--আমার কথা তোর ভাবতে হবেনা, আমি
আমার জন্য অনেক আগেই ফ্রিজে দুইখন্ড
তেলাপিয়া মাছ রেখে দিয়েছিলাম।
সেটাই রান্না করে খাবো।
--তাহলে আমি আসবোনা কেন?
--তুই আগের সাপ্তাহে বাজার থেকে
তেলাপিয়া মাছ এনেছিলি?
--না,
--তাহলে খেতে চাস কি করে? আর তাছাড়া
তুই খুব ভালো করেই জানিস তেলাপিয়া
মাছ আমার খুব পছন্দের, খেতে গেলে
দুইটুকরাই লাগে।
--আচ্ছা ঠিকাছে রান্না করে খাও,
.
ইমু খুব ভালো করেই জানে নওশিন
রান্নাবান্না শেষ করে তার জন্য অপেক্ষা
করবে। আর এইটাও জানে ওর কথা বলার
ইচ্ছে হয়েছিলো তাই ফোন দিয়ে
আবোলতাবোল বকলো। বিকেলটা একটু
ব্যস্ততায় যায় বলে আর ঝগড়া হওয়ার সুযোগ
থাকেনা। রাতের খাবার শেষ করে যখন
ঘুমাতে যায়। তখনই শুরু ৪র্থ পর্বের ঝগ্রা।
নওশিনের ঠিকঠাক করা বিছানাটার উপর
ইমু গড়িয়ে পরে। নওশিন খাবারের প্লেট
ধুয়ে মেজে রুমে এসে দেখে ইমু শুয়ে আছে।
নওশিন ইমুকে একলা শুয়ে যাওয়া দেখে
বলে---
--কি ব্যাপার! তুমি শুয়ে পরলে কেন?
মশারী টানাবে কে? উঠো উঠে মশারী
টানিয়ে শুয়ে পর।
.
ইমু ঘুম ঘুম গলায় বলে---
--ইমু ঘুমিয়ে গেছে, ওকে আর ডেকো না!
--ফ্যাজলামি করো উঠো বলছি, বিছানা
আজ আমি ঠিক করছি, তুমি মশারী
টানাবে। এইটায় কথা ছিলো। উঠো,
--তুমি আজ টানাও, কাল আমি সব করবো!
--আমাকে আজ দুইদিন ধরে একই বাক্য
শুনাচ্ছো, আমি এতটা বোকা নই, উঠো
বলতেছি,
.
নওশিন ইমু টেনে তুলল। অতঃপর মশারীর
দু'কোনের রশি ইমুর হাতে ধরিয়ে দিলো।
ইমু ঘুম ঘুম চোখে পাগলী বউটার কথা শুনেই
শুয়ে পরলো। আর নওশিন বরাবরের মতো
তার বুকে।