Saturday, September 3, 2016

গল্পের নাম: "জোছনা বিলাস"

গল্পের নাম: "জোছনা বিলাস"
.
.
সাদিয়া আপন মনেই গান শুনছে ছাদের
কোনে বসে।রাত্রি তখন ৮:৩০ বাজে। প্লে
লিস্টের মোস্ট ফেভারিট গানটা বাজছে,
তাহাসানের "প্রেম তুমি আসবে
এভাবে,আবার হারিয়ে যাবে ভাবিনি" এই
গানটা সাদিয়ার খুব ভালো
লাগে,অনেকটাই তার জীবনের সাথে মিলে
যায়।কিন্তু এমনটা হবার কথা কখনোই
ছিলো না।ভাগ্য আজকে তার কাছে অসহায়
তাইতো এই গানটা এখন তার জীবনের না
বলা কথা গুলি বলে দেয়।
.
আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে
সাদিয়া,আর মনে মনে চিন্তা করে সেই
দিনগুলির কথা।সাইফের সাথে তার
সম্পর্কের কথা,যেই সাইফ এমন জোছনা ভরা
রাতে তাকে ফোন দিত।চাদের আলোয়
দুইজনের ভালোবাসা বিলিয়ে দিত,দুইজন
শুধু বলত দেখ আমরা তো অনেক দূরে তবুও চাঁদ
কিন্তু সবাইকে জোছনার আলো ছড়াচ্ছে।
তাইত তুমি বুঝে নিবে ওই জোছনার আলোয়
আমাদের দুইজনের ভালোবাসা মিশে
একাকার হয়ে আছে।
.
আজকে সাইফ কাছে থেকেও যেন অনেক
দূরে,আর কখনো ফিরবে কিনা সাদিয়ার
জীবনে তাও জানে না।সাইফের দূরে
থাকাটা খুব মনে পড়ে সাদিয়ার।এইত
সেইদিনের কথা।অজানাই ছিলো সাইফ
তার জীবনে।কোন এক জোছনাভরা রাতে
সাদিয়ার ফোনে এসএমএস, আকাশের দিকে
তাকিয়ে দেখ,জোছনা আজকে পাইকারি
দরে বিক্রি হচ্ছে,যতটুকু পারো কিনে
রাখো,এমন করে আর কখনো পাবে না।তাই
বলে বিল পরিশোধ করিতে ভুলো
না,জোছনার মালিক যে আমিই।
.
.
সাদিয়া চিন্তা করে একে তো অপরিচিত
নাম্বার তার উপর এমন পাগল টাইপের
এসএমএস।জোছনা কি শুধুই তার?আবার
পাইকারি দরে বিক্রিও করছে,একি
কাওরানবাজার এর তরকারি পাইছে নাকি?
একটু বিরক্ত নিয়েই রিপ্লাই করে সাদিয়া।
এইযে চাঁদ আমার ভ্যাট দিয়ে অনেক আগেই
কেনা হয়ে গেছে,এর জন্য কর দেই সরকার
কে,আর আপনি হইছেন জোছনার মালিক
আজব,কেস করবো কিন্তু আমি।
.
দুইজনেই ফাজলামি করতে ছিলো,যেমন
সাইফের এসএমএস তেমন সাদিয়ার উত্তর।
কেউ কারো থেকে কম নয়।অথচ কেউ এখনো
জানে না দুই প্রান্তের মানুষ-দুটির আসল
পরিচয়।এসএমএস এ প্রায় ১ঘন্টা তর্কের পর
এখন সাদিয়া রেগে গিয়ে কল দেই সাইফের
নাম্বারে,এখনো সে জানে না সাইফ
ছেলে।কল ধরার পর সাইফকে ইচ্ছা মত দুই-
তিন-মিনিট ঝাড়িদেয় সাদিয়া।সাইফ বলে
আপনি অবন্তী না?বলে না আমি
সাদিয়া,কিন্তু আপনি আমার নাম্বার কই
পাইলেন।আর অবন্তী নামে আমার এক
ফ্রেন্ড আছে।
.
সাইফ তখন বলে ০১৯১০৩২৩১৩.......... এইটা
আপনার নাম্বার না?সাদিয়া বলে হুম
আমার নাম্বার কিন্তু অবন্তী তো এই
নাম্বার ই দিলো।সাদিয়া বলে তবে ওই
শাঁকচুন্নি আবার ভুল করছে।ওর আর আমার
সিমের লাস্ট একটা ডিজিট আলাদা,যার
কারণে ফ্লাক্সি করতে গেলে ভুলে আমায়
টাকা দিবে,কাউকে নাম্বার দিতে গেলেও
ভুলে আমার টা দেয় জানতাম না।আগে তো
শুধু টাকাই দিত ভুলে,এখন জোছনার মালিক
দিচ্ছে।সাইফ বলে দেখুন আমি অর
কাজিন,আর ভুলেই হয়ত হয়েছে যাক সরি।
সাদিয়ার কাছ থেকে সাইফ অবন্তীর
নাম্বার টা নেয়,ফোন দিয়ে সব বলে।
অবন্তী হাসতে হাসতে শেষ।পরে বলে
আচ্ছা কালকে এসো ভাইয়া দুই জোছনার
মালিক আর মালকিন কে পরিচয় করিয়ে
দিব।
.
.
পরের দিন দুইজন হাজির,প্রথমে ঝগড়া
দিয়েই শুরু হয়।পরে অবন্তী মিলিয়ে দেয়
দুইজনকে।এর পর থেকে নিয়মিত কেয়ারিং
শেয়ারিং, গুড মর্নিং,গুড নাইট,মনে হয়
২৪ঘন্টায় তারা একই সাথে থাকতো।দিন
গুলি খুব তাড়াতাড়ি ই যাচ্ছিলো,কেউ
কাউকে কখনো কষ্ট দেয়নি,কখনো রাগ না
অভিমান না দুইজনের একটাই কথা এখন কার
প্রতিটা ন্যানো সেকেন্ড তাদের কাছে
মূল্যবান।কেনো অযথা ঝগড়া করে তাদের
জীবন থেকে কিছুটা সময় নষ্ট করবে?কেউ
তো আর কাউকে সারা জীবনের জন্য ছেড়ে
যাবে না.দুইজনের মাঝে একটা
প্রতিযোগিতা ছিলো,ভালোবাসার
প্রতিযোগিতা।কে কার থেকে কত বেশি
ভালোবাসতে পারে,কে কার কত কথা
রাখতে পারে,কে কত কেয়ার,শেয়ার করতে
পারে।
.
একটা সম্পর্কের মাঝে এমন প্রতিযোগিতা
যদি থাকে সেই ভালোবাসায় ফাটল ধরবে
না,ইনশাআল্লাহ।দিন গুলি স্বপ্নের মত মনে
হতো।এত তাড়াতাড়ি তাদের কাছে দিন
গুলি ফুরিয়ে যাচ্ছে মনে হয় সূর্যটাও তাদের
ভালোবাসা সহ্য করতে পারে না,তাই এত
জলদি জলদি অস্ত যায়।এমনি করে কেটে
যায় ১টা বছর।সাদিয়ার বাসায় জানানো
হয় সইফের কথা,সাইফ ও জানায়। দুই
পরিবারের কথাও হয়।পাকাপাকি হয় বিয়ের
দিন ক্ষণ।সাইফ ৫তারিখ সাদিয়াকে বলে
বিয়ের শপিং এ ঢাকায় যাবে,ফিরতে লেট
হবে।
.
সকাল গড়িয়ে দুপুর পার হয়,সাইফের কোন
ফোন আসে না।বিকাল বেলা সাইফের
নাম্বার থেকে ফোন আসে সাদিয়ার।
অপরিচিত একটা কণ্ঠ সাদিয়াকে বলে,এই
ফোনের মালিক কি হয় আপনার,সে
এক্সিডেন্ট করেছে,বাঁচবে বলে মনে হয়না
আপনি জলদি আসুন।সাদিয়ার চিৎকারে
তার বাবা মা চলে আসেন।ফোনের অপর
প্রান্তের লোকটার সাথে কথা হয়
সাদিয়ার বাবার ঠিকানা নিয়ে নেয় সে।
সাইফের বাবা-মাকে শত কষ্ট সহ্য করেও
খবর জানায় সাদিয়ার বাবা।
.
.
পাগলের মত ছুটতে থাকে দুইটি পরিবার,যখন
গন্তব্যে পৌছায় তখন আই,সি,ইউ তে সবাই
দোয়া করছেন আল্লাহ্ এর কাছে।ডাক্তার
বের হয়ে জানায় এক্সিডেন্ট মারাত্মক
ছিলো।সুস্থ হলেও হয়ত কোমায় চলে
যাবে,তবে চিন্তার কারণ নেই যথেষ্ট
কেয়ার পেলে আর সেবায় ও আল্লাহ্ চাইলে
যত দ্রুত সম্ভব ভালো হয়ে যাবে।
.
সত্যি সাইফ কোমায় চলে যায়,কিন্তু
সাদিয়ার ফ্যামিলি প্রথম কিছুদিন
সাইফের সাথে দেখা করতে দিলেও পড়ে
আপত্তি জানায়।পরে সাদিয়ার জোড়েই ওই
অসুস্থ অবস্থায় বিয়ে হয় সাইফ,আর
সাদিয়ার।সাদিয়ার একটাই ইচ্ছা বিয়ের
পর সাইফকে তার সেবা দিয়ে সুস্থ করে
তুলবেই।তিনটা মাস রাত দিন এক করে
সাইফের সেবা করতে থাকে।তিনটা মাস
সব চোখ দিয়ে দেখে গেছে সাইফ,সাদিয়া
তাকে কতটা ভালোবাসে।যা হয়ত ৩জনমে
ও সাদিয়াকে ভালোবাসলে শোধ হবার নয়।
.
হঠাৎ কারো হাতের স্পর্শে কল্পনার ইতি
ঘটে সাদিয়ার,দেখে সাইফ তার ঘারে হাত
রেখে দাঁড়িয়ে আছে।সাদিয়া কান্না করে
জিজ্ঞেস করে তুমি সুস্থ হয়ে গেছো?আমি
তো চিন্তাই করতে পারছিনা।সাইফ বলে
একটু আগে হাতে-পায়ে শক্তি অনুভব করতে
পাড়ি,মা সাহায্য করলো ছাদে আসতে।
তুমি যে ছাদে আছো এইটা শুনে আর থাকতে
পারিনি,অনেক কষ্ট দিয়েছি মাফ করে দিও
আমায়।সাদিয়া কান্না করতে শুরু
করে,সাইফ আস্তে করে জড়িয়ে ধরে
সাদিয়াকে।আর বলে ঐ দেখ জোছনা
আজকেও পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে একটু
কিনে রেখ।সাইফের কাঁদে মাথা রেখে
সাদিয়া জোছনা-বিলাস করে,আর সারাটি
জীবন এমন করেই থাকতে চায় পাশাপাশি
বসে,দুজনে জোছনা-বিলাস করতে। (সমাপ্ত)
.
.
ডেডিকেটেড টু: "লাজুক রাজকন্যা"

Friday, September 2, 2016

অনুভবে স্পর্শময়!

অনুভবে স্পর্শময়!

-(পাবনার অদ্ভুত ছেলে)
.
প্রতিদিনের মতোই প্রভাতে ব্যায়াম করার
জন্য বাসা বের হয়েছি। জিমনাস্টিক
ক্লাবের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। কিন্তু
বাসা থেকে বের হয়ে, এলাকার মামার
দোকানে চা খাওয়ার জন্য বসেছি। হঠাৎ
চোখ গিয়ে পড়ল মামার দোকানের সামনেই
একটা সাদা রং করা বিল্ডিং এ। দ্বিতীয়
তলায় একটা অসম্ভব সুন্দরী মেয়ে দাড়িয়ে
আছে। আর আমার দিকে অপলোক দৃষ্টিতে
তাঁকিয়ে আছে। আমি স্তব্ধ এবং বিস্মিত
হয়ে সেই অসম্ভব সুন্দর মেয়েটির দিকে
তাঁকিয়ে আছি। আচমকা মামা চা দিয়ে
বলল, চা নাও। আর দৃষ্টিকটু হয়ে পড়ি।
কিছুক্ষণ পর মেয়েটিও বারান্দা ছেঁড়ে রুমে
চলে গেল। আমিও চা' খেয়ে জিমনাস্টিক
ক্লাবের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। সেই মুহূর্ত
থেকে শুধু সেই মেয়েটার প্রতিচ্ছবি আমার
অন্তরালে ভেসে উঠছিল সব কেমন যানি,
অন্যরকম লাগছিল। ভালোবাসার অর্থেই
নদীর স্রোত ঢেড তুলছে বোধ হয়। শুধুই
মেয়েটার চিন্তায় মগ্নচৈতন্য হয়ে পড়েছি।
জিমনাস্টিক ক্লাবে এসেও কোন কিছু
প্রতি মনোসংযোগ করতে পারছি না।
মাষ্টার দেখে দেখে বলল, কি ব্যবপার কোন
সমস্যা, আজ তোমায় খুব চিন্তিত মনে
হচ্ছে? না তেমন কিছু না। অতপর মাষ্টার
চলে গেল। আজ আর ব্যায়াম করা হলো না।
এজন্য জিমনাস্টিক ক্লাব থেকে বের হয়ে
চলে আসলাম।
.
এখন প্রায় প্রতিদিনই প্রভাতে মামার
চা'য়ের দোকানে এসে চা' খাওয়ার ভান
ধরে মেয়েটির বাসার বারান্দার দিকে
তাঁকিয়ে থাকি। মনের মধ্য অফুরন্ত
ভালোবাসার ধ্বনি ভেসে উঠে। কিন্তু
সেদিন খুবই আশ্চর্য্য হয়েছিলাম। মেয়েটি
আমাকে দেখে সানগ্লাস পড়ে রুমের মধ্য
চলে গেল। সেদিন খুবই আশ্চর্য্য হয়েছিলাম।
আমাকে দেখেও এভাবে অতিক্রম করে চলে
গেল। দেখেও না দেখার ভান করল। সেদিন
খুব চিন্তাতরঙ্গ হয়ে পড়েছিলাম। রাস্তার
পাশ দিয়ে ফাহিম যাচ্ছিল। এজন্য ডাক
দিলাম।
-আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।
-ওলাইকুম আসসালাম। কেমন আছিস ফাহিম?
-ভাল ভাইয়া। আপনি?
-ভাল। আচ্ছা তোদের এ্যাপারমেন্ট এ
দ্বিতীয় তলায় কারা উঠেছে রে?
-এটা ঠিক বলতে পারছি না। বাবা যানে।
-আচ্ছা ঠিক আছে। যেতে পারিস।
-আচ্ছা ভাইয়া আসি।
.
একদিন ফাহিমদের এ্যাপারমেন্ট এ গিয়ে
সেই মেয়েটার বাসার দরজায় নক করলাম।
বেশ কিছুক্ষণ ধরে নক করছিলাম কিন্তু কোন
সাড়াশব্দ পাচ্ছিলাম না। এজন্য চলে
আসছিলাম ঠিক সেই মুহূর্তে মেয়েটি পিছ
থেকে বলল শুনুন। আমি পিছ ফিরে তাঁকিয়ে
দেখি মেয়েটি সাদা রংয়ের থ্রী পিছ পড়ে
এবং চোখে কালো চশমা। দেখে অসম্ভব
ভাল লাগছিল কিন্তু আমি আশ্চর্য্য
হয়েছিলাম রুমের মধ্য কালো চশমা পড়া
দেখে। যাইহোক কথা না বাড়িয়ে মেয়েটি
বলল ভিতরে এসে বসুন।
-ধন্যবাদ
-আচ্ছা আপনি কার কাছে এসেছেন?
-জ্বি আপনার কাছে। আচ্ছা আপনার মা-
বাবা কোথায়?
-আমি কী আপনাকে চিনি? আর আম্মু-আব্বু
অফিসে গিয়েছে ফিরে আসার সময়ও হয়ে
এসেছে।
-আপনি আমাকে নাও চিনতে পারেন কিন্তু
আমি আপনাকে প্রায় মাস ধরে অনুসরণ
করছি।
-কিন্তু কেন?
-আপনাকে আমার অসম্ভব ভাল লাগে।
(মেয়েটি আমার এ কথা শুনে আট্টহাঁসি
দিল, আমি এমন হাঁসি দিতে কাউকে
দেখিনি)
-আপনি তা খুবই মজার মানুষ! যাইহোক।
-আচ্ছা আজ আসি।
-ঠিক আছে। সময় করে পড়ে আবার আসবেন
কিন্তু।
-অবশ্যই।
.
মেয়েটার কণ্ঠসর এবং কথা বলার ধরণ।
আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে। আমি মেয়েটাকে
অনেক ভালোবেসে ফেলেছি। আমি বড্ড
বোকা! কারণ মেয়েটার নামটাও যানা
হয়নি। এবং অনেক কিছুই অজানা রয়ে গেল।
আমি কখনোই পূর্ণতা অর্জন করতে পারিনি
শুধু অপূর্ণই রয়ে গেল। এবার চিন্তা ভাবনা
করলাম আগামী শুক্রবার মেয়েটির বাসায়
যাব। এজন্য সেই পরিকল্পনা করছিলাম কী
নিয়ে যাওয়া যায়। হঠাৎ মনে হলো
মেয়েরা মেয়েরা বই খুবই পছন্দ করে। এজন্য
উইলিয়াম শেক্সপিয়রের "রোমিও জুলিয়েট"
বই এবং কিছু চকলেট নিলাম। এবার যাওয়ার
জন্য প্রস্তুত হলাম। বাসা থেকে বের হয়ে
এ্যাপারমেন্টের উদ্দেশ্য বের হলাম। সেই
মেয়েটার রুমে সামনে গিয়ে নক করলাম।
কিন্তু সাথে সাথে দরজা খুলে দিল
মেয়েটা আর সেই সাথে আমাকে বলল কেমন
আছেন? ভাল। কিন্তু আপনি বুঝলেন কী করে
দরজার ওপাশ থেকে যে আমি। অন্য কেউও
তো হতে পারত। আমি উপলব্ধি করেছিলাম
আপনিই হবেন। রুমের ভিতর থেকে কণ্ঠসর
ভেসে আসল! সাদিয়া কার সঙ্গে কথা বলছ।
আম্মু অদ্ভুত একটা মানুষের সঙ্গে। এরপর ওর
আম্মু-আব্বু বের হয়ে আসল। আমাকে
জিজ্ঞেস করল।
-তুমি কে বাবা?
-আঙ্কেল পাশেই আমাদের বাসা।
-অহ আচ্ছা ভিতরে আসো। বাহিরে
দাড়িয়ে আছো কেন।
-আচ্ছা!
-আম্মু এর আগেও একদিন আসছিল। (সাদিয়া
বলল)
-আচ্ছা! সাদিয়া তুমি রুমের মধ্য কালো
চশমা পড়ে থাকো কেন তোমাকে চশমা
ছাড়ায় অনেক ভাল লাগে। (কথাটা বলার
সঙ্গেই চশমা খুলে ফেলল)
-সাদিয়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি! (সাদিয়ার বাবা
বলল)
আমি শুনে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিলাম। এছাড়াও
সাদিয়া কে দেখে মনে হয় না। সে
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি!!! যত যায় হোক না কেন।
আমি সাদিয়া কে ভালোবেসে ফেলেছি।
চাইলেও পিছিয়ে যাওয়া সম্ভব না।
-সাদিয়া তোমার জন্য বই আর কিছু চকলেট
নিয়ে আসছি।
-হ্যাঁ সেটা বুঝতে পেরেছি।
-কীভাবে?
-ঘ্রাণ এর মাধ্যমে! চকলেট অনছ বুঝতে
পারছি। আর আমি বই নিতে পারব না।
দুঃখিত। তোমার দেওয়া বই আমি কখনোই
পড়তে পারব না।
-তুমি এতো চিন্তা করো না। আমি
তোমাকে বই পড়ে শুনাব।
আঙ্গেল আমি সাদিয়া কে দেখা শোনার
দায়িত্ব নিতে চাই। ঠিক আছে বাবা।
যেটা তুমি ভাল মনে করো। আচ্ছা সাদিয়া
কে নিয়ে আমি বাহিরে যাচ্ছি।
-আপনি আমার জন্য এতো কিছু করছেন কেন?
-তোমাকে ভালোবাসি। প্রতিটা মুহূর্ত
তোমাকে নিজের করে রাখতে চাই। তুমি
কী থাকবে না প্রতিটা মুহূর্ত আমার সাথে
কাটিয়ে দিতে?
-আমার মনে হয়। আপনার সাথে আমার যায়
না। কারণ আপনি খুবই ভাল মানুষ।
-তোমার এসব মনে হচ্ছে কেন?
-আমি দেখতে পায় না।
-তাতে কী হয়েছে? তৃমি আমার চোখ দিয়ে
দেখবে।
-আমার মনে হয় আপনি খুব ভুল করছেন।
আপনার বিশেষভাবে চিন্তা করার
প্রয়োজন বোধ করছি।
-আমি অনেক আগেই তোমাকে নিয়ে ভেবে
রেখেছি। ভালোবাসা শুধুই অনুভব করতে হয়।
এবং তোমাকে প্রতিটা মুহূর্ত অনুভব করি
এবং তুমি মিশে আছো অন্তরস্থলে। এবার
তুমিই বলো আমার কী আর বিশেষভাবে
চিন্তা করার প্রয়োজন আছে?
-আপনি সত্যিই আমাকে এতোটা
ভালোবাসেন! আমি সত্যিই ভাবতে পারছি
না। আমার মনের গহীন কোণে আপনার
মতোই একজনের স্বপ্নবৎ করে আসছিলাম।
আজ আমার খুবই আনন্দের দিন। আজকের
দিনের অপেক্ষা এতোদিন যাবত করে
আসছিলাম।
-আমি কী তোমার স্বপ্নের রাজকুমার?
-অবশ্যই! আচ্ছা তোমাকে একটা অনুরোধ
করব, রাখবে?
-কী কথা বলো?
-তুমি আমাকে কখনো ছেঁড়ে চলে যাবে না!
বলো? কথা দাও...
-তোমাকে কখনো ছেঁড়ে যাব না এবং
প্রতিটা মুহূর্ত তোমাকে চক্ষুকর্ণ করে
রাখব। কখনো আড়াল হতে দেব না।
-তুমি অল্পতেই আমার অন্তরস্থলে জায়গা
অর্জন করে নিয়েছ। প্রতিটা মুহূর্ত
তোমাকে পেতে চাই, আমার মন...!
ভালোবাসা অন্ধ! প্রতিটা ক্ষেত্রে!
প্রতিটা মুহূর্তেই!
ভালোবাসা স্পর্শ করার জন্য নয়! শুধুই
অনুভবে মিশে থাকে ভালোবাসার
মানুষের হৃদয়ের স্পর্শ।

প্রেমের বিজয়

প্রেমের বিজয়
.
লেখকঃ- (শেষের পৃষ্ঠার পরের পৃষ্ঠা)
.
.
কলেজের একটা দুষ্টু জুটির নাম
আরিয়ান-মারিন।
এমন কেউ নেই যে তাদেরকে
চিনেনা। আর
চিনবে না কিভাবে, পুরো কলেজটা
ওদের
কাবুতে। তাদের দুষ্টুমির মাত্রা দেখে
যে কেউ
বলবে ওরা ৪-৫ বছরের শিশু। শিশুরা
যেভাবে
দুষ্টুমি করে সারা বাড়ি-বাসা
মাতিয়ে
রাখে
সেভাবে তারা কলেজ মাতিয়ে
রাখে।
কলেজে
স্টুডেন্টরা যেখানে বিদ্যা অর্জন
করতে
আসে
সেখানে তারা রেসলিং ম্যাচ করে।
এমন
কোন
দিন নাই যে মারিন আরিয়ানের
শার্টের
বোটাম
ছিড়ে নি। আর আরিয়ানও মারিনের
কান
টানে
নি। ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে প্রতিদিন
তাদের
ঝগড়া হয়। আর বিষন্নমুড নিয়ে বাসায়
ফিরে
ফোনে কথা বলে সরি আদান-প্রদান হয়।
কে
আগে
সরি বলবে তা নিয়ে কিন্তু কেউ আবার
ঝগড়া
করে না। একদিন আরিয়ান আগে বলবে,
অন্যদিন
মারিন, তারপর আবার আরিয়ান, আবার
মারিন।
এভাবে খুনসুটি ঝগড়া আর সরি নিয়ে
তাদের
দুষ্টুমিগুলা টম-জেরি-র মতো এগুতে
লাগলো।
..
দুজনকে দুজনকে সেই পিচ্ছি বয়স থেকেই
চিনে।
বাসা দুটো পাশাপাশি শুধু মাঝে
একটা
দেয়াল।
প্রতিদিন একসাথে স্কুলে যেতো আর
আসতো।
বাসা থেকে দুজনই টিফিন নিতো
কিন্তু
কাড়া-
কাড়ি করে নিয়ে না খেলে তাদের
টিফিন
টাইম
বৃথা। আরিয়ান লুকিয়ে লুকিয়ে
মারিনের
ব্যাগে
পাতা-কাগজ, চিপ্সের প্যাকেট, পাথর
ইত্যাদি
ঢুকিয়ে ব্যাগভর্তি করে রেখে চুপ-চাপ
নিজের
জায়গায় বসে থাকতো। মারিন ব্যাগ
খুলে
এসব
দেখে অনেক চেঁচা-মেচি করতো
কিন্তু
কোন লাভ
হতো না। সে জানেনা কে করে এসব।
এদিকে
আরিয়ান যখন বাসায় যেত, ব্যাগ খুললেই
দেখতো
তার ব্যাগভর্তি ময়লা। তার মাথায়
ঢুকতো
না
কে এসব করতো। আসলে আরিয়ানের
ব্যাগে
ময়লা
মারিন-ই ঢুকাতো। দুজন দুজনের ব্যাগে
ময়লা
রাখতো কিন্তু কেউ জানতো না
তাদের
ব্যাগে
কে ময়লা রাখতো। অবশেষে তারা
দুজনই
ধরা
পড়ে। কিন্তু ঝগড়া হয় নি উল্টো
অট্টহাসিতে
ভেঙে পড়ে।
..
ছোটবেলার কাহিনী বাদ-ই দিলাম।
এখনকার
কথা বলি। তাদের জুটিকে অনেকে
মনে
করে
তারা দুজন প্রেমিক-প্রেমিকা।
অনেকে
এসব বলে
আরিয়ানকে ক্ষেপায় কিন্তু সে কোন
পাত্তাই
দেয় না। কিন্তু মারিন এসবের একেকটা
কথাকে
অনেক গুরুত্বসহকারে দেখে। আস্তে
আস্তে
মারিন
তাদের দুষ্টুমিকে অন্য পর্যায়ে নিতে
থাকলো।
মারিন সত্যি সত্যি আরিয়ানকে
ভালোবেসে
ফেলেছে। সে আগের মতো আর
আরিয়ানের
সাথে
ঝগড়া করে না, কথা বলে না, কিছু
শেয়ার
করে
না, তার থেকে দূরে থাকে, এক কথায়
মারিন পুরো
চেঞ্জ। আরিয়ান জিজ্ঞেস করছিলো
তাকে
তার
এরকম পরিবর্তনের কারন কি? সবকিছু ঠিক
আছে
তো? মারিন ঢোক একটা গিলে হ্যা
বললো।
আরিয়ানও আর বেশি কিছু ভাবে নি।
সে
চলে
গিয়ে ফ্রেন্ডদের সাথে আড্ডায় লিপ্ত
হয়।
এদিকে মারিন লুকিয়ে লুকিয়ে
ফুপিয়ে
কাঁদছে।
বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা সৃষ্টি হয় শুধু
মারিনের
ক্ষেত্রে। যে আরিয়ান আগে তার শুধু
বন্ধুই
ছিলো
এখন সে তার পথ চলার সাথী হিসেবে
অনুমান
করছে। আরিয়ান এমনিতেই মারিনের
পথ
চলার
সাথী কিন্তু বন্ধুত্বের খাতিরে। আর
মারিন,
মারিন তাকে নিয়ে আজীবনের স্বপ্ন
বুনতে
শুরু
করে তার ভালোবাসার মানুষ
হিসেবে।
কিন্তু
মারিনের অনেক রাগ হয় আরিয়ানের
জন্য।
কেন
সে তার মনের কথা বুঝতে পারছে না?
কেন
তার
চোখের ভাষা বুঝে না? হাসিমাখা
মুখের
পিছনে অভিমানী চেহারাটা কেন
তার
সামনে
ভাসে না? আরিয়ান কি আদৌ এসবের
কিছু
বুঝে
না? নাকি জেনেও না জানার ভান
করছে।
এসব
ভাবতে ভাবতে মারিনের কষ্টের
বোঝা
বাড়তে
থাকলো। কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলতে
পারছে
না।
..
একদিকে মারিন একাধারে কাঁদছে
আর তা
লুকানোর চেষ্টা করছে আর অন্যদিকে
আরিয়ান
আড্ডায় মগ্ন। হঠাৎ মারিন দেখতে
পেলো,
আরিয়ান একটা মেয়ের সাথে হেসে
হেসে
কথা
বলতেছে। এমন ভাবে হেসে হেসে
কথা
বলতেছে
যেন মনে হয় ওরা একে-ওপরকে শত জনম
জনম
ধরে
জানে। ওরা যতই হাসতেছে মারিনের
কান্নার
বেগ ততই বাড়তেছে। মারিন নিজেকে
আর
কন্ট্রোলে রাখতে পারছে না। দাঁতে
দাঁতে
ঘর্ষন
হচ্ছে, দু-কান থেকে গরম হাওয়া বের
হচ্ছে,
সাদা
মুখটা লাল টমেটোর মতোর হয়ে
যাচ্ছে।
ব্রেঞ্চে
বসে থাকার মুড রইলো না তার। উঠে
আরিয়ানের
দিকে এগুতে লাগলো। আরিয়ানের
দিকে
তো
তাকাচ্ছেই সাথে ওই মেয়েটার ওপরও।
আরিয়ানের শার্টের কলার ধরে দাঁড়
করিয়ে
এদিক-ওদিক না তাকিয়ে টাস-টুস করে
দুগালে
চড়ের দাগ বসিয়ে দিলো। আশে-
পাশের
বন্ধুরা
তা দেখে বিন্দুমাত্রও বিচলিত হয় নি।
স্বাভাবিক ভাবেই বসে আছে। কারন,
সে
অনেকবারই আরিয়ানের গালে
এভাবে দাগ
বসিয়েছে। তাই তারা অবাক না হয়ে
আবার
আড্ডায় মনোযোগ দিলো। আসার পরে
আরিয়ান
সেই থেকেই যে মারিনের চোখে
চোখ
রাখছিলো, এখনো সরায় নি। আরিয়ান
বুঝতে
পারছে তার গালে কিছু একটা পড়েছে
কিন্তু
একবারও গালে হাত দেয় নি।
মারিনের
দিকে
একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সে বুঝতে
পারছে
আজকের চড়গুলা অন্যদিনের চড়ের মতো
নয়।
আজকের চড়ের সাথে অন্যকিছু মিশে
আছে।
তার
এক ঝটগাতেই আরিয়ান কিছুটা পিছনে
সরে
যায়।
পা টা থামাতে থামাতে দেখতে
পারে
মারিন
ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।
আরিয়ানও এক
সেকেন্ড লেইট না করে তার পিছু নেয়।
..
তখন বিকেল ৫ টা। মারিন দিহানা
পার্কে
গিয়ে
আনমনে বসে আছে। আরিয়ান তার পিছু
পিছু
গেছে
সে জানে কিন্তু কিছু বলে নি।
আরিয়ান
চুপটি
মেরে তার পাশে বসে আছে। প্রায় ১০
মিনিট
ধরে দুজনই চুপ। কেউ কোন কথাই বলছে
না।
অবশেষে আরিয়ান নিস্তব্ধতা
ভাঙলো।
-- কি হলো, কিছু বলছিস না যে,,,,
(আরিয়ান)
-- কিছু বলার নাই। (মারিন)
-- কেন কেন? বলার নাই কেন?
-- যা বলার তুই তো দেখাই দিলি।
-- আমি আবার কি দেখাইলাম?
-- ওই মেয়েটা কে?
-- কোন মেয়ে?
-- যাহহহ, আর ঢং করিস না।
-- ওহহ আচ্ছা, ওই মেয়ে? ওটাতো আমার
ফ্রেন্ড।
-- ফ্রেন্ড ইয়া গার্লফ্রেন্ড??
-- আরে নাহ। শুধু ফ্রেন্ড।
-- ওহ।
-- গার্লফ্রেন্ড তো অন্যজন।
-- কে? (আগ্রহের সহিত)
-- তুই কে তোকে বলবো?
-- ওহহ আচ্ছা।
-- একটা সত্যি কথা বল,,
-- কি?
-- তুই কি কাউকে ভালোবাসিস?
-- তুই কে তোকে বলবো?
-- আচ্ছা, যদি তুই সত্যিটা বলিস
তাহলে
আমিও
অন্যজনের কথাটা বলবো।
-- আমি কাউকে ভালোবাসি না। এখন
তুই
বল
অন্যটা কে?
-- হি হি হি। সত্যিটা না বললে আমিও
বলবো
না।
-- আমি তো সত্যি কথাই বললাম।
-- আমার চোখের দিকে তাকিয়ে
একথা
বলতে
পারবি?
-- কেন পারবো না? অবশ্যই পারবো।
-- তাহলে বল,,,
-- আমি_____ (আর কিছু বলতে পারেনি।
মারিন
আরিয়ানের চোখে টিক-ই
তাকিয়েছে
কিন্তু
কথাটা বলতে পারেনি।)
-- কি হলো বল,,,
-- পারবো নাহহহ।
-- তুই এরকম কেন রে?
-- কিরকম?
-- যাকে ভালোবাসিস তাকে
ভালোবাসার
কথাটা বলতে পারিস না কেন?
-- ও আমাকে ভালোবাসে না। অন্য
কাউকে
ভালোবাসে।
-- তুই জানিস অন্যকেউ কে??
-- নাহহ।
-- তাহলে এতো শিউর হলি কিভাবে
অন্যকেউ
আছে?
-- না মানে ইয়ে___ (মাথায় আউলা-
ঝাউলা হয়ে
গেলো)
-- কি হলো বল,,, (সে মারিনের চোখের
জল
মুছিয়ে দিলো)
-- তার মানে অন্যজন আমি??
-- হি হি হি। উম।
-- তাহলে বললি না কেন?
-- আমি চেয়েছিলাম তুই বলবি।
-- হাহা। আমরা মেয়েরা বস, এতো
সহজে
কিছু
বলি না।
-- উম, তা তো বুঝতেই পারছি।
-- কি বুঝতে পারছিস?
-- এই, যে তোদের বুক ফাটবে তবুও মুখ
ফুটবে
না।
-- কাআআআআআরেক্ট।
-- হিহিহি পাগলি রে, কি করে যে
তোকে
বলি
তুই কে আমার।
--তোদের জন্য তো অনেক সহজ, তাহলে
এতো
নাচালি কেন?
-- হিহিহি, দেখতে চেয়েছিলাম
নাচলে
তোকে
কি রকম লাগে?
-- তো কিররকম লাগলো শুনি,,,
-- পুচকির মতো লাগছিলো।
-- হি হি হি।
-- আমি তোকে নিয়ে গড়বো এক
পৃথিবী
ভালোবাসা, তার প্রত্যকটা সুঁতোয়
তোকে
রাখবো আমার ভালোবাসা দিয়ে।
তোকে
নিয়ে
গড়বো আমি প্রেমেরই ভূবন,
ভালোবেসে
যাবো
শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত। তুই কি আমায়
ভালোবাসবি?
-- উমম। (লজ্জামিশ্রিত স্বরে)
-- সারাজীবন?
-- শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত।
-- কখনো ছেড়ে যাবি না তো?
-- যদি যাই, তাহলে দুজন একসাথে
যাবো।
-- হাত টা ধর,
-- উমম।
-- গোল্ডেন ওয়ার্ডস বলবি না??
-- ভালোবাসি তোকে, খুব খুব
ভালোবাসি।
-- আমিও তোকে খুব ভালোবাসি।
..
সারাদিনের আলো বিলিয়ে সূর্য যখন
পশ্চিমাকাশে প্রকৃতির দিগন্তে
হারিয়ে
যাবার
উপক্রম হয়, ধারন করে লাল বর্ণ তখনই
সূর্যাস্তলগন
শুরু হয়। একসময় ক্লান্ত সূর্য দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন
করে
লুকিয়ে যায় দিগন্ত রেখার নিচে, এ
সময়ই
সন্ধা
নামে পৃথিবী জুড়ে। আরিয়ান
মারিনের
হাত
ধরে পশ্চিমাকাশের সাদা মেঘের
সাথে
রাস্তার একপাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে
অজানা
গন্তব্যের দিকে............!!!