Wednesday, August 31, 2016

childhood love

childhood love

চার তলার ফ্লাট দুটোকে মাতিয়ে রাখার জন্য আমিই
যথেষ্ট।পাশের ফ্লাট আর নিজেদের ফ্লাটের
মধ্যে কোনো তফাৎ দেখতাম না।যখন
যেখানে খুশি শুয়ে বসে কাটিয়ে দিতাম।আন্টি
অবশ্য আমাকে অনেক ভালবাসতেন।আহারে
,আফসোস হয়,আন্টি আমাকে কতই না ভালবাসে
আর আমার মা কি না পাশের বাসার ওই পিচ্চি
মেয়েটাকে আদর করে?ওর সামনে আমাকে
পাত্তাই দেয় না?আর মেয়েটাও হয়েছে,সারাদিন
এসে আম্মুর পিছে পিছে লেগে থাকে।নাহ এ
মেয়েকে তো সুবিধার মনে হচ্ছে না।আমার
আদরে ভাগ বসায়?হুম্মম্ম।।।বুদ্ধি পেয়েছি,ও
সারাদিন আমাদের বাসায় যেহেতু থাকে,তো ওর
বাসায় ওর খেলনা,ড্রয়িং খাতা,রং পেন্সিল সব ওলট পালট
করে রাখব।হাহাহা কি মজা হবে।যেই বুদ্ধি সেই
কাজ।ওদিকে ওই পিচ্চি কি করছে কে জানে।
:আন্টি আমাকে পুতুল বানিয়ে দিবা?(পিচ্চি)
:অবশ্যই মামনি,তুমি কাপড় নিয়ে আসো,দিব।(আমার
মা)
:একটা জামাই পুতুল আরেকটা বউ পুতুল বানাইয়া দিবা
:ওলে বাবালে,কি বিয়ে দিবা?
:হু।
:আচ্ছা আম্মু দিব।নাসিম ভাইয়ার খেলনা গুলা একটু
গুছিয়ে দিবা মা?
:ওকে আন্টি দিতেছি।
:এইতো লক্ষী আম্মু।
যার খেলনা অগোছালো করে আসলাম সে
আমার কত ছোট হয়েও আমার খেলনা গুলো
গুছিয়ে রাখছে।ইসসস।কি কাজটাই না করলাম।
তবে ওকে ক্ষেপাইতে খুব ভাল লাগত।কিন্তু
মেয়েটা খুব বোকা,ওকে রাগাইতে পারতাম না।ঝারি
দিলে চুপচাপ শুনত মাথা নিচু করে।যেন আমার বিয়ে
করা বউ ছিল।যদিও আজকালকার বউরা কথা বললে
বরকে মাথা নিচু করে শুনতে হয়।
মেয়েটার নাম তিথি।সেই ছোট্ট থেকে
একসাথেই বড় হয়েছি।তিথি আমার চেয়ে দু
বছরের ছোট।ওরা আর আমরা একত্রে থাকি
অনেকবছর ধরে।আর আমাদের দুই পরিবারের
মধ্যেও একটা অটুট বন্ধন আছে।আন্টিও আমাকে
অনেক স্নেহ করতেন।কিন্তু ছোট থেকে
আমি ছিলাম দুষ্টের শিরোমণি।সারাদিন এটা ওটা করে
বেড়াতাম আর সুযোগ পেলে তিথিকে বোকা
বানাইতাম।আর বোকা মেয়েটার নাজেহাল অবস্থা
করতাম।
তখন আমার বয়স সাত বছর,তিথির পাচ।ওকে একদিন
ডেকে বলি এই মেয়ে শোন,আমার সাইকেল টা
মুছে দে তো।
:আমি কেন মুছে দিব?
:এই বড়দের মুখে মুখে কথা?জানিস আমি তোর
কী হই?
:কী হও?
:আমি তোর জামাই।জামাইর কথা শুনতে হয়।
দেখিসনি তোর আম্মু যেমন তোর আব্বুর কথা
শোনে?
:ও আচ্ছা,ঠিকাছে ভাইয়া দিচ্ছি।
:ওই জামাইকে কেউ ভাইয়া বলে?
:তাহলে কী বলে?
(এই রে,নিজেই তো জানি না)
:সে আমি জানি না।পরে বলব
তিথিকে সাইকেল মুছতে দিয়ে গেলাম বন্ধুদের
সাথে চডুইভাতি করতে।গাধীটা আমার সাইকেল
মুছতে শুরু করল।আম্মু আর আন্টি এসে দেখে
তিথি সাইকেল মুছতেছে।আম্মু জিজ্ঞাসা করল
:একি মামনি তুমি সাইকেল মুছতেছো কেন?বাদরটা
কই?
:ভাইয়া মুছতে বলছে আন্টি
:ও বললেই করতে হবে?
:ভাইয়া বলছে ও নাকি আমার জামাই।আর জামাইয়ের
কথা শুনতে হয়।
মা আর আন্টি দুজনেই হেসে উঠে।আম্মু ওকে
কোলে নিয়ে আদর করে বলে ওলে আমার
লক্ষী বউ মা।কী কষ্ট।
এভাবেই হাসি আনন্দে কেটে যাচ্ছিল দিনগুলি।
পরের বছর আমি ক্লাস থ্রি তে প্রমোশন
পেলাম আর তিথি কেবল ওয়ানে ভরতি হল।আমার
বাঁদরামির কারনে মা বাবা দুজনেই সিদ্ধান্ত নিলেন
আমাকে ঢাকায় রেখে আসবে মামার বাসায়।ওখান
থেকে পড়ালিখা করব।আমার মন খুশিই হয়েছিল,মামার
কাছে যখন যা খুশি আব্দার করতে পারবো।ঢাকায়
যাওয়ার দিন তিথির মুখটা ভার মনে হল।আন্টি বলে
উঠল,"কীরে জামাই যাবে দেখে মুখ ভার
করেছিস"
ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গেছে বুঝতে পারছি,সবাই
হেসে উঠল।বাবার সাথে লঞ্চে করে পাড়ি দিলাম
রাজধানী শহর ঢাকায়।মামার বাসায় পড়ালিখা শুরু করলাম।
মামাত ভাই আর আমি একত্রে স্কুলে যেতাম
কোচিং করতাম।বছরে একবার বাড়ি আসতাম।তাও
অল্পকিছুদিন থেকে চলে যেতাম।ঢাকায় গিয়ে
জীবনটা কেমন যন্ত্রে পরিনত হল।শৈশবের
পুরোটাই প্রায় ঢাকায় কাটাতে হল।
তখন আমি অষ্টম শ্রেনিতে পড়ি,বাড়িতে
বেড়াতে এলাম।তিথি তখন ক্লাস সিক্সে মাধ্যমিকে
ভরতি হল।আমি যখন বাড়িতে পৌছালাম তখন তিথি
স্কুলে।বিকেলে এসে আমার রুমে চুপচাপ উকি
দিয়েই দৌড়ে পালিয়ে গেল।ভাবলাম যাই গাধীটাকে
একটু জ্বালিয়ে আসি।ওর ঘরে গেলাম।ওকে
পেলাম না।ওকে খুজে পেয়ে ভয় দেখানোর
জন্য পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম।ও নিজেকে
ছাড়ানোর চেষ্টা করল কিন্তু পারল না।পরে বলে
উঠল নাসিম ভাইয়া প্লিজ,ছেড়ে দাও না।কেমন যেন
মনে হল।ছেড়ে দিলাম।ও দৌড়ে চলে গেল।
বাড়িতে বেশীদিন ছিলামও না।আর আমার মন
পড়েছিল ঢাকায়,ক্লাস নোটস আর টিউটোরিয়াল এর
মধ্যে।দুদিনের মধ্যে ফিরে এলাম আবার।
আমি দশম শ্রেনীতে টেষ্ট পরীক্ষা দিয়ে
শীতের সময় একবার বরিশালে এলাম।বিকেলে
ছাদে হাটছি আনমনে,এমন সময় তিথি এল।ওমা তিথি
শাড়ী পরেছে।শাড়ীতে ওকে অপরুপ
অপ্সরীর মত লাগছে।চোখ ফেরাতে পারছিলাম
না।অপলক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়েছিলাম।তিথিকে
আজ মনে হয় একটু বেশী সুন্দর লাগছে।এতদিন
ওইভাবে দেখিনি ওকে।দিনে দিনে কত বড়
হয়েছে ও।
:ওভাবে কী দেখছ?(তিথি)
:অপ্সরী।।।(আমি)
ঘোরের মাঝেই ওর উত্তর দিলাম।ও বোধহয়
লজ্জাই পেয়েছে।ওর মুখেও কথা নেই আমিও
নির্বাক।মনে হচ্ছে তিথিকে আজ নতুন দেখছি।
যৌবনের প্রারম্ভিক পর্যায়ের এক কিশোরীর রুপ
মুগ্ধ নয়নে শুধু দেখেই যাচ্ছি।
সারা সন্ধ্যা সারা রাত শুধু আমার একটাই চিন্তা তিথি।কী
ব্যপার আগে তো কখনো এরকম অনুভুতি হয়নি।
তবে কী আমার কিশোর মনে প্রেম বাসা
বুনতে শুরু করেছে?এসবের উত্তর খুজতে
খুজতেই সেবার ঢাকায় চলে আসলাম।এস এস সির
পর আবার বরিশালে।অধীর আগ্রহে বসে আছি
ওকে দেখার জন্য।বিকেলে ছাদে আসল তিথি।
খুব সুন্দর করে সেজেছে
:কেমন আছো?(তিথি)
:হুম ভাল।তুমি?(এই প্রথম ওকে তুমি বললাম,বুকের
ভেতর যেন একটা শিহরণ বয়ে গেল)
:এই তো।পরীক্ষা কেমন দিলে?
:ভালই।একটা কথা বলব?
:হুম বল।(আগ্রহ নিয়ে)
:আজ আবার একটু শাড়ী পরে আসবে?
অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তিথি।
:কী হল?যাও না,শাড়ী পড়ে এস।
:পারব না।আমি কী তোমার বউ নাকি যে যা বলবে
শুনতে হবে?
আমি কিছু বলার আগেই চলে গেল তিথি।ধ্যৎ মনটাই
খারাপ হয়ে গেল।আনমনে ভাবছি তিথি রাগ করল কি
না?একটু পর একটা কাশির শব্দে পিছনে ঘুরে
তাকালাম।
আবারো আমার চোখটা কেড়ে নিল তিথি।শাড়ী
পরে এসেছে।হলুদ শাড়ী খোলা চুল,দারুন
লাগছিল ওকে।বিভোর হয়ে ওকে দেখছিলাম।
:অনেক সুন্দর লাগছে।
:সুন্দর না ছাই।আমি গেলাম।
চলে যেতে চাইলো।আমি হাত টেনে ধরলাম।
:বউকে কথা বললে শুনতে হয়।তুমি না আমার বউ।
:যাও তো জানি না।
লজ্জা পেয়ে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড় দিল।সাথে
আমার মনটাকেও নিয়ে গেল।মনের মাঝে
উপলব্ধি করতে পারলাম যে প্রেমে পড়েছি।
এরপর থেকে তিথি আমার সামনে তেমন আসত
না।ছোট থেকেই মেয়েটা শান্ত আর লাজুক।
আমাদের মনের মাঝেই যেন দুজনে এক হয়ে
থাকতাম।
নটরডেম কলেজে ভরতি হয়ে আবার ফিরে এলাম
ঢাকায়।আর আমার প্রেম মনের মাঝেই থেকে
গেল।আমিও ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।কিন্তু
একাকীত্বের সময় ওকে অনুভব করতাম আমার
মাঝে।বাড়িতে এলে ওর লাজ রাঙা মুখটা একবার
দেখার জন্য পাগল হয়ে যেতাম।আর তিথিও চুপি চুপি
আমার রুমে এসে উকি দিয়ে পালিয়ে যেত।কিন্তু
মুখফুটে আমরা কেউ কাউকে ভালবাসার কথা বলিনি।
চলুক না এভাবে।বুকের মাঝে এক অজানা শিহরণ
নিয়ে বেশ আছি।
এইচ এস সি শেষ করলাম,ঢাকা ইউনিভারসিটি থেকে
সিএসই ও প্রায় শেষের পথে।তিথিও বিবিএ করছে
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।এমন একদিন ফোনে
মেসেজ আসল একটা অচেনা নাম্বার থেকে
"কাল আমার বিয়ের পাকা কথা বলতে পাত্রপক্ষ
আসবে,যদি ভালবেসে থাক তবে এর আগে
এসো"
চোখে অন্ধকার দেখছিলাম।ওকে পাওয়ার
আগেই হারানোর বেদনা আমাকে পেয়ে বসল।
বন্ধুর পালসার নিয়ে ছুটে চললাম বরিশাল।আমার
পৌছাতে পৌছাতে সন্ধ্যা হল।সোজা তিথিদের বাসায়।
দেখলাম কিছু মেহমান ওদের ড্রয়িংরুমে বসে
আলাপ করছে।আমার মা বাবাও আছেন।ভয় পাবো
নাকি এগিয়ে যাবো বুঝতে পারলাম না।নাহ আজ
আমাকে পারতেই হবে।বাংলা সিনেমার নায়কের
মত দৌড়ে এন্ট্রি নিলাম ড্রয়িংরুমে।তিথিও ছিল।সোজা
ওর সামনে গিয়ে হাটু গেড়ে বসে পড়ে চিৎকার
দিয়ে বললাম
না আ আ আ আ
এ হতে পারে না। i love her from my childhood.i
just love her.
বলেই আমি কেদে দিলাম।চারিদিকে পিন পতন
নিরবতা।কিছু বুঝলাম না।কী হল।হঠাৎ শুনি সবাই হো
হো করে হেসে উঠল।বিষয় কী বুঝলাম না।
তিথির দিকে তাকিয়ে দেখি মিটি মিটি হাসছে।আন্টি
বলে উঠল
:ওরে আমার জামাই,তোমার সাথেই দিব
মেয়েকে।সমস্যা নাই।
সবাই আবার হেসে উঠল।পরে বুঝলাম যে তিথি
কে আমি আজীবন গাধী বানিয়েছি আজ সে
আমাকে গাধা বানাইলো।আসলে ওখানে আমার আর
তিথির বিয়ে নিয়েই আলোচনা হচ্ছিল।ওকে একা
পেয়ে দুষ্টুমি করতে চাইলাম।কিন্তু আমাকে
বোকা বানিয়ে আবার ও চলে গেল।
:এই,বউ,জামাইর কথা শুনতে হয়
:কচু শুনবো।
আমাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে চলে গেল।
ভেতর থেকে ডাক্তার বের হয়ে হাসি মুখে
বললেন wellcome Mr. Nasim u have a baby girl.
খুশিতে আত্নহারা হয়ে গেলাম।অপারেশন
থিয়েটারের পাশে বসে এতক্ষন আমাদের কথা
গুলো মনে পড়ছিল।আজ সেই ছোট্ট তিথির
কোল জুড়ে আরেকটা ছোট্ট পরী আসল।
তিথির ইচ্ছেতে ওর নাম দিলাম অজান্তা।নাজমীন
ফারাবী অজান্তা।সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।।।

.....চকলেটি ভালবাসা.....

.....চকলেটি ভালবাসা.....

-লেখা: Ochena Rana( সারিকার চাচ্চু)
'
'
আমাকেও একটা চকলেট দিন।
-আপনাকে কেন দিব?(চোখ বড় করে)
-তাহলে এদের কেন দিচ্ছেন?
-এরা তো বাবু তাই।আর আপনি তো কত্ত
বড়...
-আমার মা এখনও আমাকে বাবু বলে ডাকে।
চকলেট পাওয়ার জন্য এই লাইসেন্স টুকু কি
যথেষ্ট নয়?
-আচ্ছা এই নিন চকলেট।
-আপনি এত কিপ্টা কেন?
-কিপ্টামির কি করলাম হুম?
-একটা চাইছি বলে একটাই দিলেন।
-আপনিতো বাবু আর বাবুদের বেশি চকলেট
খেলে দাঁতে পোকা ধরে।হি হি হি....
'
'
দিন দিন অলসের গোডাউন হয়ে যাচ্ছি।
কোনো বিশেষ কাজ ছাড়া বাইরে বের
হতে একদমই ইচ্ছা করে না।সারাদিন ঘরে
থাকি বলে মা আজ এত্তগুলা বকা দিছে
আমাকে।তাই আজ বিকালে একটু হাটতে
বের হলাম।স্কুল মাঠের দিকে এসেই
দেখলাম কালো ড্রেস পরিহিত একটা মেয়ে
কিছু বাচ্চাদের চকলেট দিচ্ছে। আমার
প্রিয় রং কালো।আমার মা বলে ফর্সা
মানুষের কালো রং এ খুব মানায়।সত্যিই
মেয়েটা কে খুব সুন্দর লাগছে।কখনও পরী
দেখেনি যদি দেখতাম তাহলে পরিদের
সাথে একটু তুলনা করতাম।বাচ্চারা চকলেট
পেয়ে যেমন খুশি তার থেকেও বেশি খুশি
দেখাচ্ছে মেয়েটা কে।আমি আবার
ফাজিলের ডিব্বা।তাই ফাইজলামি করার
জন্য মেয়েটার কাছে গিয়ে চকলেট
চাইলাম।আর তখনি উপরের কথোপকথন গুলি
বিনিময় হল।
মেয়েটা চলে যাবার পর বাচ্চাদের কাছে
শুনলাম সে প্রতি শুক্রবার এখানে আসে
ওদের চকলেট দেওয়ার জন্য।নাম জানতে
চাওয়ায় বলল আপুনি,আমারা ওনাকে আপুনি
বলেই ডাকি।বুঝলাম এরা ওর নাম জানে
না।
'
আজ শুক্রবার। আবারও যাচ্ছি চকলেট
নেওয়ার জন্য সরি মেয়েটা কে দেখার জন্য।
'
-আমার চকলেট টা দিন।
-আপনি আজ আবার আসছেন?
-কেন আমার আসা নিষেধ নাকি।কই চকলেট
টা দিন।
-বললাম না,বেশি চকলেট খেলে দাঁতে
পোকা হয়।
-তাহলে এদের দিচ্ছেন কেন,এদের বুঝি
দাঁতে পোকা হয় না।
-এদের তো দাঁত নেই পোকা হবে কি করে।
হি হি হি।
-মেয়েটা তো আমার থেকেও ফাজিল।আই
মিন ফাজিলের ফ্যাক্টরি।চুপচাপ দাড়িয়ে
রইলাম।
-থাক আর মন খারাপ করা লাগবে না।এই
নেন চকলেট।
-থ্যাংকইউ আপুনি।
-এই যে মিস্টার, আমি আপনার ছোট।আর
আমি আপনার আপুনি না।
-ও তা নাম কি আপনার।
-আপনাকে কেন বলব?
-থাক বলা লাগবে না,আপনার নাম তো
জরিনা বেগম।আর দেখতে তো জরিনার মতই
দেখায়।
-আমার নাম ঈশানা।
-কি নাম রে বাবা নিশানা।
-ওই হ্যালো, নিশানা নয়,ঈশানা।ঈশানা
হক।
-যাক বুদ্ধি করে নামটা জানতে পারলাম।
-মানে?
-কিছু না।টা টা.......
'
'
'
বন্ধুদের কাছে খোজ নিয়ে জানতে পারলাম
মেয়েটা বরিশাল বি.এম.কলেজে
ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পরছে।এরপর থেকেই
নিশানাকে থুক্কু থুক্কু ঈশানাকে ফলো করা
শুরু করলাম। ওদের বাসা থেকে শুরু করে
কলেজ,কোচিং সব জায়গাতেই আমার
উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক......
'
'
'
ওর কলেজ শেষ হতে আর কিছুক্ষন বাকি।
তাই কলেজ থেকে একটু দূরে ওয়েট
করছিলাম। কিছুক্ষন বাদে পিছন থেকে কে
যেন ডাক দিল...
"এই যে মিস্টার ফলোয়ার"...
পিছনে ফিরে দেখি ঈশানা।ওর তো কলেজ
থেকে বের হওয়ার কথা ছিল।তাহলে পিছন
থেকে আসল কিভাবে?
-কি খুব অবাক হচ্ছেন তাই না।আমি অনেক
দিন থেকেই লক্ষ্য করছি আপনি সব
জায়গাতেই আমাকে ফলো করেন।তাই
আপনাকে ধরার জন্যই আজ কলেজ থেকে
আগে বের হইছি।
কি ব্যাপারটা কি হুম।(কোমরে দুই হাত
দিয়ে)।
-না,মানে,ইয়ে চকলেট নিতে এসেছি।
-মানে কি?আমি কি চকলেট মন্ত্রী নাকি
যে আপনি আমার কাছে চকলেট নিতে
এসেছেন।
-না মানে আপনার দেওয়া চকলেট গুলি
অনেক টেস্টি।আর চকলেট গুলি কোথাও
পাইনি তো তাই।
-আচ্ছা, অনেক টেস্টি। তা আমার বাসার
সামনে ঘোরাঘুরি করেন কেন?
-এই রে।একদিন ও তো ওকে ওর বাসার
সামনে গিয়ে দেখতে পেলাম না।তাহলে
ফাজিলটা আমাকে দেখল কিভাবে।
-বাইরে থেকে আপনি আমাকে দেখতে না
পেলেও থাই গ্লাসের ভিতর থেকে আমি
ঠিক আপনাকে দেখতে পাই।
-মাইনকা চিপায় পইরা গেছি।তাই চুপটি
করে দাড়িয়ে রইলাম।
-আপনার মোবাইলটা দিন।
-বলতে দেরি, দিতে দেরি নাই।
-এটাত লক করা।পাসওয়ার্ড বলুন।
-জি,N I S A N A
-একটা মুচিকি হাসি দিয়ে বলল ফাজিল...
এটা আমার নাম্বার।যদি কখনও চকলেটের
দরকার পরে তাহলে এই নাম্বারে কল দিবেন
বাট বাসা, কলেজে ঘোরাঘুরি করবেন না।
এটা আমার পছন্দ না।
কথাটা বলেই ঈশানা একটা রিকশা নিয়ে
চলে গেল।কিছুক্ষন বাদেই আমি মোবাইল
টা বের করে ওর নাম্বারে কল দিলাম।
ডিসপ্লে তে চকলেট নাম টা ভেসে উঠল।
-হ্যালো।
-এটা কি chokletisana
-কিছুক্ষন হাসির শব্দ।জি বলছি বলুন।
আপনার কি ধরনের চকলেট লাগবে।
-জি,লাভ চকলেট লাগবে।
-এটা তো স্টক সীমিত।তাই মাত্র একটা
আছে।
-আমার ঐ একটা হলেই যথেষ্ট। দেওয়া যাবে
কি।
-যত্ন করে রাখতে পারবেন তো নাকি
দেওয়া মাত্র খেয়ে শেষ করে ফেলবেন।
-খুব পারব।আমার কাছে একটা আছে।
আপনার টা আর আমার টা খুব যত্ন করে
রাখব।
-আর আপনার চোখের নিশানা?
-নিশানা নামটা যেহেতু আপনাকেই
দিয়েছি,সেহেতু চোখের নিশানা টা সব
সময় আপনার দিকেই থাকবে।
-হুম,মনে থাকে যেন।
'
'
'
'সম্পর্ক শুরু হওয়ার ছয় মাস পর.....
'
-আচ্ছা,তোমাদের পদবী কি হক।
-হুম,তোমাদের কি?
-মিঞা।
-হি হি হি।সোহেল মিঞা।হি হি হি।
-খুব মজা পাচ্ছ তাই না।আমার নিজেরই তো
ভাল লাগে না পদবী টা।তোমাকে কি বলব।
-কেন,ভালই তো,বিয়ের পরে তুমি যখন অফিস
থেকে বাসায় আসবে,আর মা যখন বলবে কে
এসেছে?তখন আমি কি বলব জানো?
-কি?
-বলব মিঞার বেটা মিঞা আসছে।হি হি
হি।
-খুব মজা তাই না।
-হুম।
-তবে আমি একটা জিনিস ঠিক করছি।
-কি?
-মেয়েরা তো বিয়ের পর তার হাজবেন্ড এর
পদবী ইউস করে।তাই আমি এবার রেকর্ড
ব্রেক করব।
-মানে?
-বিয়ের পর আমি তোমার পদবী ইউস করব।
ঈশানা হকের হাজবেন্ড সোহেল হক।হা হা
হা
-হি হি হি।এই দুষ্টু যদি কেউ জেনে যায়।
-আরে, আমরা আমরাই তো।আর এটা তো শুধু
আমি আর তুমি জানব।
-ওকে,মিস্টার সোহেল হক।
-হা হা হা।থ্যাংকইউ আমার চকলেট টা।

"ভালোবাসার সম্মান"

"ভালোবাসার সম্মান"

বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছে রিমি।
বিয়ের পর এটা তৃতীয়বারের মত রিমির এখানে
আসা।
রিমির বাবা দুইদিন আগেই রিমির বর
সারোয়ারকে বলেছিলেন, সারোয়ার যেন
সকাল সকাল রিমিকে এখানে দিয়ে যায়
আর রাতে এসে রিমিকে নিয়ে যায়।
সারোয়ার সকালে অফিসে যাবার আগেই
রিমিকে এখানে রেখে গেছে।
রিমির কাছে ব্যাপারটা মোটেও ভাল
লাগেনি।
বিয়ের আগে রিমি যখন প্রথম তার বাবাকে
সারোয়ারের কথা বলে, তখন তার বাবা
বিয়েতে রাজি ই হলেন না। অনেক কষ্টে
রিমি তার বাবাকে বিয়েতে রাজি করায়।
বিয়ের আগ থেকে আজকের দিন পর্যন্ত
রিমি খেয়াল করেছে, রিমির বড় দুই বোন
এমন কি রিমির মা ও কথায় কথায়
সারোয়ারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
সারোয়ারকে ছোট করার কোন সুযোগ ই
তারা ছাড়েন না।
রিমির দুই বোনের বিয়ে হয়েছে রিমির
চাইতে ধনী পরিবারে। আর তাই দুই
বোনেরই সে নিয়ে গর্বের শেষ নাই।
সকাল বেলাতেই নাস্তা খাবার সময় যেমন
রিমির বড়বোন বলে উঠেছিল, "এবারের ঈদে
শপিং করতে তোদের দুলাভাইয়ের সাথে
ইন্ডিয়া যাচ্ছি!"
আর প্রায় সাথে সাথেই রিমির মেজবোন
বলে উঠল, "আপা, তুই যাবার আগে বলবি,
আমরাও যাব।"
রিমির বড়বোন তখন বলে উঠলেন, "আচ্ছা,
বলব।
রিমি সারোয়ারকেও বলিস, যদি সে কোন
জায়গা থেকে টাকা ম্যানেজ করতে পারে
তবে তোরাও গেলি।"
কথাটা শুনে রিমি কিছু একটা বলতে
চেয়েছিল। কিন্তু তার আগেই রিমির মা
এসে থামিয়ে দিলেন দুই বোনকে।
দুপুরে খাওয়ার পর রিমির মা এসে তিন
মেয়ের পাশে বসলেন। রিমি বেশ বুঝতে
পারছিল, সারোয়ারকে নিয়েই হয়ত মা কিছু
বলতে চাইছেন।
রিমির মা বলে উঠলেন, "হ্যাঁ রে রিমি,
তোর শ্বশুরবাড়ির লোকজন কেমন?"
-- "কেমন মানে? এটা কেমন প্রশ্ন, মা?"
রিমি উত্তর দিল।
-- "মানে তোর সাথে কেমন ব্যবহার করে।
হলুদের দিন তোর শাশুড়ি যে ঝগড়া করল
তোর ফুপির সাথে!"
রিমি কোন উত্তর দিল না। তার মেজাজ
খারাপ হয়ে যাচ্ছে। মা ভাল করেই
জানতেন হলুদের দিন তার শাশুড়ির কোন
দোষ ই ছিল না। যা দোষ ছিল, পুরোটাই
তার ফুপির। তারপরেও মা আপুদের সামনে...
রিমির বড়বোন বলে উঠল, "থাক মা, ওইসব
কথা বলে লাভ নাই। সারোয়ারের মা তো
আর জানেন না আমার ফুপি কেমন! কত্তো
বড়লোকের বউ!"
রিমি এবার বলে উঠল, ''তোমরা কথা বলো
আমি বাবার সাথে একটা কথা বলে আসছি!"
এই বলেই সে রুম থেকে বের হয়ে অন্য রুমে
চলে গেল।
কিছুক্ষণ একা একা কান্না করে
সারোয়ারকে ফোন করল।
--- ''কি করছো তুমি?"
-- '' তোমাকে মিস'" সারোয়ার উত্তর দিল।
-- "থাক, আর বানিয়ে বলতে হবেনা। মিস
করলে তো একটা ফোন ই দিতে!" অভিমানী
কন্ঠে রিমি বলল।
-- "সত্যি মিস করছিলাম। ভাবলাম, বাবার
বাড়িতে তুমি মা আর আপুদের সাথে গল্পে
বিজি, তাই বিরক্ত করিনি।"
-- "তুমি আসবে কখন? রাতে এখানে এসে
খাবে কিন্তু!" রিমি বলে উঠল।
-- "খাবো কিভাবে? তোমার বাবা তো
আমাকে ওইখানে খাওয়ার কথা কিছু বলেন
নি।"
রিমি চুপ করে রইল। আসলেই তো তার বাবা
সারোয়ারকে রাতে খাওয়ার ব্যাপারে
কিছুই বলেন নি। এমনকি রিমিকেও
সারোয়ারের কথা কিছুই জিজ্ঞেস করেন
নি। অথচ তার দুইবোনের জামাইকে এর
মধ্যে দুইবার ফোন করে রাতে এসে খেয়ে
যেতে বলেছেন।
রিমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে সারোয়ারকে বলল,
"আচ্ছা, ঠিক আছে। খেতে হবে না তোমার।
তাড়াতাড়ি এসে আমায় নিয়ে যেও।"
--- "জ্বি, ম্যাডাম! আমি চলে আসবো!"
সন্ধ্যা হতেই রিমির মা রাতের খাবার
রান্নার জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
নানারকমের সুস্বাদু খাবারের আয়োজন
করছেন তিনি।
রিমি কাছে গিয়ে বলল, "মা, আমি রেডি।
কিছুক্ষণ পরেই চলে যাচ্ছি!"
রিমির মা অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন, "চলে
যাচ্ছি মানে? রাতে খেয়ে যাবি না?
এতসব আয়োজন তবে কার জন্যে??"
মুচকি হেসে রিমি উত্তর দিল, "তোমার দুই
মেয়ের জামাই আসবে তো। তাদেরই না হয়
এসব খাইয়ে দিও!"
রিমির মা গম্ভীর স্বরে বললেন, "সারোয়ার
আসবে না তোকে নিতে? সে না খেয়ে
গেলে ব্যাপারটা কেমন হবে? তোর
শ্বাশুড়ি যখন জানবে তার ছেলে নতুন
শ্বশুরবাড়ি থেকে না খেয়ে এসেছে তখন
তোর বাবার মানসম্মান থাকবে?"
রিমি হাতের চুড়ি নাড়াতে নাড়াতে বলল,
"তোমরা তো কেউ ই সারোয়ারকে রাতে
খেয়ে যাবার কথা বলো নি। বিনা
দাওয়াতে আমার স্বামী এখানে খেলে
আমার কি মানসম্মান থাকবে?"
রিমির মা চোখমুখ শক্ত করে বললেন, "ঠিক
আছে, তুই একাই খেয়ে যা!"
-- "যে খাবার খাওয়ার ভাগ্য আমার
স্বামীর হল না , সেটা আমি কি করে খাব?"
রিক্সায় বসেই রিমি সারোয়ারের হাত
ধরে বলল, "আমাকে তো আসতেই দিচ্ছিল না
মা। বাবা বারবার বলছিলেন, জামাই না
খেয়ে চলে যাবে কেমন কথা? আমি মাকে
বলেছি, আজ রাতে তুমি আমাকে বাইরে
খাওয়াবে। ভাল করেছি না, বলো?"
রিমির দিকে তাকিয়ে একটু হেসে
সারোয়ার বলল, ''খুব ভাল করেছো। আমরা
বাইরে থেকে খেয়েই বাসায় ফিরব।"
সারোয়ারের হাতটা শক্ত করে জাপটে ধরে
রিমি মনে মনে বলল, "আমার কাছে তোমার
সম্মান, তোমার ভালোবাসা পৃথিবীতে
সবচাইতে দামী। তোমার হাত ধরে রিক্সায়
ঘুরা বিদেশে গিয়ে শপিং করার চাইতে
অনেক আনন্দের। তুমি শুধু আমার পাশে
থেকো, একটু ভালোবেসো, আমি সব কষ্ট, সব
অপমান, সব বিদ্রূপ হাওয়ায় মিলিয়ে দিয়ে
তোমার সুখেই ভাসবো! ""

লেখা---- সানজানা নিকিতা (Saanjana Nikita)

"ভালোবাসার সম্মান"

"ভালোবাসার সম্মান"

বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছে রিমি।
বিয়ের পর এটা তৃতীয়বারের মত রিমির এখানে
আসা।
রিমির বাবা দুইদিন আগেই রিমির বর
সারোয়ারকে বলেছিলেন, সারোয়ার যেন
সকাল সকাল রিমিকে এখানে দিয়ে যায়
আর রাতে এসে রিমিকে নিয়ে যায়।
সারোয়ার সকালে অফিসে যাবার আগেই
রিমিকে এখানে রেখে গেছে।
রিমির কাছে ব্যাপারটা মোটেও ভাল
লাগেনি।
বিয়ের আগে রিমি যখন প্রথম তার বাবাকে
সারোয়ারের কথা বলে, তখন তার বাবা
বিয়েতে রাজি ই হলেন না। অনেক কষ্টে
রিমি তার বাবাকে বিয়েতে রাজি করায়।
বিয়ের আগ থেকে আজকের দিন পর্যন্ত
রিমি খেয়াল করেছে, রিমির বড় দুই বোন
এমন কি রিমির মা ও কথায় কথায়
সারোয়ারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
সারোয়ারকে ছোট করার কোন সুযোগ ই
তারা ছাড়েন না।
রিমির দুই বোনের বিয়ে হয়েছে রিমির
চাইতে ধনী পরিবারে। আর তাই দুই
বোনেরই সে নিয়ে গর্বের শেষ নাই।
সকাল বেলাতেই নাস্তা খাবার সময় যেমন
রিমির বড়বোন বলে উঠেছিল, "এবারের ঈদে
শপিং করতে তোদের দুলাভাইয়ের সাথে
ইন্ডিয়া যাচ্ছি!"
আর প্রায় সাথে সাথেই রিমির মেজবোন
বলে উঠল, "আপা, তুই যাবার আগে বলবি,
আমরাও যাব।"
রিমির বড়বোন তখন বলে উঠলেন, "আচ্ছা,
বলব।
রিমি সারোয়ারকেও বলিস, যদি সে কোন
জায়গা থেকে টাকা ম্যানেজ করতে পারে
তবে তোরাও গেলি।"
কথাটা শুনে রিমি কিছু একটা বলতে
চেয়েছিল। কিন্তু তার আগেই রিমির মা
এসে থামিয়ে দিলেন দুই বোনকে।
দুপুরে খাওয়ার পর রিমির মা এসে তিন
মেয়ের পাশে বসলেন। রিমি বেশ বুঝতে
পারছিল, সারোয়ারকে নিয়েই হয়ত মা কিছু
বলতে চাইছেন।
রিমির মা বলে উঠলেন, "হ্যাঁ রে রিমি,
তোর শ্বশুরবাড়ির লোকজন কেমন?"
-- "কেমন মানে? এটা কেমন প্রশ্ন, মা?"
রিমি উত্তর দিল।
-- "মানে তোর সাথে কেমন ব্যবহার করে।
হলুদের দিন তোর শাশুড়ি যে ঝগড়া করল
তোর ফুপির সাথে!"
রিমি কোন উত্তর দিল না। তার মেজাজ
খারাপ হয়ে যাচ্ছে। মা ভাল করেই
জানতেন হলুদের দিন তার শাশুড়ির কোন
দোষ ই ছিল না। যা দোষ ছিল, পুরোটাই
তার ফুপির। তারপরেও মা আপুদের সামনে...
রিমির বড়বোন বলে উঠল, "থাক মা, ওইসব
কথা বলে লাভ নাই। সারোয়ারের মা তো
আর জানেন না আমার ফুপি কেমন! কত্তো
বড়লোকের বউ!"
রিমি এবার বলে উঠল, ''তোমরা কথা বলো
আমি বাবার সাথে একটা কথা বলে আসছি!"
এই বলেই সে রুম থেকে বের হয়ে অন্য রুমে
চলে গেল।
কিছুক্ষণ একা একা কান্না করে
সারোয়ারকে ফোন করল।
--- ''কি করছো তুমি?"
-- '' তোমাকে মিস'" সারোয়ার উত্তর দিল।
-- "থাক, আর বানিয়ে বলতে হবেনা। মিস
করলে তো একটা ফোন ই দিতে!" অভিমানী
কন্ঠে রিমি বলল।
-- "সত্যি মিস করছিলাম। ভাবলাম, বাবার
বাড়িতে তুমি মা আর আপুদের সাথে গল্পে
বিজি, তাই বিরক্ত করিনি।"
-- "তুমি আসবে কখন? রাতে এখানে এসে
খাবে কিন্তু!" রিমি বলে উঠল।
-- "খাবো কিভাবে? তোমার বাবা তো
আমাকে ওইখানে খাওয়ার কথা কিছু বলেন
নি।"
রিমি চুপ করে রইল। আসলেই তো তার বাবা
সারোয়ারকে রাতে খাওয়ার ব্যাপারে
কিছুই বলেন নি। এমনকি রিমিকেও
সারোয়ারের কথা কিছুই জিজ্ঞেস করেন
নি। অথচ তার দুইবোনের জামাইকে এর
মধ্যে দুইবার ফোন করে রাতে এসে খেয়ে
যেতে বলেছেন।
রিমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে সারোয়ারকে বলল,
"আচ্ছা, ঠিক আছে। খেতে হবে না তোমার।
তাড়াতাড়ি এসে আমায় নিয়ে যেও।"
--- "জ্বি, ম্যাডাম! আমি চলে আসবো!"
সন্ধ্যা হতেই রিমির মা রাতের খাবার
রান্নার জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
নানারকমের সুস্বাদু খাবারের আয়োজন
করছেন তিনি।
রিমি কাছে গিয়ে বলল, "মা, আমি রেডি।
কিছুক্ষণ পরেই চলে যাচ্ছি!"
রিমির মা অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন, "চলে
যাচ্ছি মানে? রাতে খেয়ে যাবি না?
এতসব আয়োজন তবে কার জন্যে??"
মুচকি হেসে রিমি উত্তর দিল, "তোমার দুই
মেয়ের জামাই আসবে তো। তাদেরই না হয়
এসব খাইয়ে দিও!"
রিমির মা গম্ভীর স্বরে বললেন, "সারোয়ার
আসবে না তোকে নিতে? সে না খেয়ে
গেলে ব্যাপারটা কেমন হবে? তোর
শ্বাশুড়ি যখন জানবে তার ছেলে নতুন
শ্বশুরবাড়ি থেকে না খেয়ে এসেছে তখন
তোর বাবার মানসম্মান থাকবে?"
রিমি হাতের চুড়ি নাড়াতে নাড়াতে বলল,
"তোমরা তো কেউ ই সারোয়ারকে রাতে
খেয়ে যাবার কথা বলো নি। বিনা
দাওয়াতে আমার স্বামী এখানে খেলে
আমার কি মানসম্মান থাকবে?"
রিমির মা চোখমুখ শক্ত করে বললেন, "ঠিক
আছে, তুই একাই খেয়ে যা!"
-- "যে খাবার খাওয়ার ভাগ্য আমার
স্বামীর হল না , সেটা আমি কি করে খাব?"
রিক্সায় বসেই রিমি সারোয়ারের হাত
ধরে বলল, "আমাকে তো আসতেই দিচ্ছিল না
মা। বাবা বারবার বলছিলেন, জামাই না
খেয়ে চলে যাবে কেমন কথা? আমি মাকে
বলেছি, আজ রাতে তুমি আমাকে বাইরে
খাওয়াবে। ভাল করেছি না, বলো?"
রিমির দিকে তাকিয়ে একটু হেসে
সারোয়ার বলল, ''খুব ভাল করেছো। আমরা
বাইরে থেকে খেয়েই বাসায় ফিরব।"
সারোয়ারের হাতটা শক্ত করে জাপটে ধরে
রিমি মনে মনে বলল, "আমার কাছে তোমার
সম্মান, তোমার ভালোবাসা পৃথিবীতে
সবচাইতে দামী। তোমার হাত ধরে রিক্সায়
ঘুরা বিদেশে গিয়ে শপিং করার চাইতে
অনেক আনন্দের। তুমি শুধু আমার পাশে
থেকো, একটু ভালোবেসো, আমি সব কষ্ট, সব
অপমান, সব বিদ্রূপ হাওয়ায় মিলিয়ে দিয়ে
তোমার সুখেই ভাসবো! ""

লেখা---- সানজানা নিকিতা (Saanjana Nikita)