Wednesday, December 24, 2025

গল্প :অব্যক্ত ভালবাসা

গল্প :অব্যক্ত ভালবাসা

লেখা :উপমা পরি (পরির আম্মু)
.
. # প্রথম_পর্ব
.
< আচ্ছা আপনাকে না বলছি, রুমে আসতে
অনুমতি
নিয়ে আসবেন?? অথবা গলায় হালকা কাশি
দিয়ে
দিবেন, তারপর রুমে আসবেন????
.
>আমার রুমে আমি আসবো এতে অনুমতি
নেওয়ার
কি আছে??????
.
>না মা বলেছে এখন থেকে এই রুম আমার
আমাকে এই ঘরেই থাকতে বলেছে।
.
> বললেই হলো নাকি?? আর আমি আপনাকে
রুম
দিয়ে দিবো? কি করে ভাবলেন?
.
> ভাবার কি আছে?? আমার অধিকার আছে
তাই বললাম।
আর যা বললাম মনে থাকে যেনো।
.
কথা হচ্ছে, সামান্তরিক আর বিন্দুর। আজ
দুপুরে
ওদের বিয়ে হয়েছে, আর এসব কথা হচ্ছে আজ
সন্ধ্যায়।
.
বিন্দু বিছানায় বসে বসে ইয়ার ফোন দিয়ে
গান
শুনতে লাগলো। আর সামান্তরিক ল্যাপটপ
নিয়ে
কাজে বসে। সামান্তর মা মানে বিন্দুর
শাশুড়ি মা এসে
গল্প করতে থাকে বিন্দুর সাথে।
সামান্তরিককে
সবাই সামান্ত বলে ডাকে।
.
জানো মা সামান্ত ছোট্ট বেলায় এতো দুষ্টু
ছিলো, অন্যের কিছু দেখলে সেটা ওর চাই,
আর
সেম জিনিস ছাড়া নিতোনা। কত যে কষ্ট
হয়েছে
ছোট বেলায় মানুষ করা। তবে আস্তে আস্তে
বড় হচ্ছিলো আর জিদ কমে যাচ্ছিলো।
একটা সময়
আসলো তখন দরকারী জিনিস চাইতোনা
ঠিক
মতো।
.
আমি আম্মার গল্প শুনে হাসতেছিলাম,
কারণ আমার
আম্মু এই গল্প গুলো আগেই শুনাইছে। আমার
আম্মুর পছন্দে এখানে সামান্তর সাথে
বিয়ে
দিয়েছে। সামান্ত সম্পর্কে আমার বড়
খালাম্মার
ছেলে। তবে তেমন যাতায়াত ছিলো না, যে
যার
সংসার নিয়ে বিজি ছিলো। ছোট থাকতে
আসছি বড়
হয়ে আর আসা হয়নি। সম্পর্ক টাকে ধরে
রাখার
জন্য আমাদের বিয়ে দিয়েছে, বলা যায়
দুজনকে
জোর করেই।কথা গুলো ভাবছিলো বিন্দু।
তখনি
সামান্তরিক মা বলে উঠলো এই অনেক রাত
হয়ছে,
আর গল্প না, আয় খেতে দেয়। আজ তোর কাজ
করতে হবে না, তোদের আজ বিশেষ একটা
দিন।
.
বিন্দু চুপচাপ শাশুড়িআম্মার সাথে যায়,
দেখলো আব্বু
আম্মু, বাবা বসে গল্প করছে। বিন্দু বকাঝকা
করবে
এই ভয়ে আম্মু আমার রুমে যায়নি। বিন্দুকে
এখানে
বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে এসে বিয়ে
দিয়েছে। বিন্দু সরাসরি না করে
দিয়েছিলো, পরে
বিন্দুর মা বলেছিলো তুই আজ বিয়ে না
করলে???
তোর পড়াশোনা বন্ধ। আর হোস্টেলে
থাকতে
পারবিনা বাসায় বসে থাকতে হবে। বিন্দু
জানে ওর মা
খুব জিদি যা বলবে?? তাই করবে। সেই জন্য
বিয়েটা
করে নেয়। যদিও বিন্দুর অনেক ইচ্ছে ছিলো,
অনেক জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে বিয়ে হবে, তবে
সেটা তিনবছর পরে। কিন্তু কি দুঃখজনক
আজই
এইভাবে কোন বন্ধু ছাড়া, অচেনা একটা
ছেলের
সাথে বিয়ে হলো।অচেনা বলা যায়না ছোট
বেলায়
দেখেছে বড় হয়ে আর দেখেনি।
.
ডায়নিং এ বসে আছে, কারও সাথে কথা
বলছেনা,সামান্তর আম্মা ভাত দিয়েছে।
বিন্দুর আম্মু
খাওয়াইয়ে দিতে চেয়েছিল, বিন্দু অবশ্যই
কিছু
বলেনি, অল্প একটু খেয়ে রুমে চলে আসে।
এতো সময় কিছু মনে হয়নি, এখন কেন জানি
হাত পা
অবস হয়ে যাচ্ছে। বিন্দুর মনের ভিতরে ঝড়
শুরু
হতে লাগলো। এতোদিন কত বড়াই করে
বলছে,
এতো আগেই বিয়ে করে জীবনকে হেল
করবোনা।বান্ধবীরা যারা বিয়ে করতো?
তাদের
নিয়ে হাসাহাসি করতো। নাহ হোস্টেলে
যেয়ে
কাউকে কিছু বলা যাবেনা যে,আমার বিয়ে
হয়েছে।
হোস্টেলের কথা ভেবে বিন্দুর মন ভাল হয়ে
গেলো। যাক তবু তো হোস্টেলে যেতে
পারবে।
.
--সামান্ত খেয়ে রুমে আসে, দেখে বিন্দু
শুয়ে
আছে বিছানায়।
>কি ব্যপার??? আপনি বিছানায়?? আমি
কোথায়
ঘুমাবো??????
>আপনার জায়গা ফ্লোরে, ঔই দেখেন
ওখানে
কাথা আর বালিশ দেওয়া আছে। ফ্লোরে
বিছানা
দিয়ে ঘুমান।
.
>বিন্দুর কথা শুনে সামান্ত অবাক, শুনেন
এটা আমার ঘর,
আমি বিছানায় ঘুমাবো। পারলে আপনি
ফ্লোরে
ঘুমান। আর হ্যাঁ আপনি বিছানায় থাকলে
আমার কোন
প্রবলেম নাই। হাহাহাহাহা
.
>বিন্দু আর ঝগড়া করে না, ঠিক আছে
আপনিও বিছানায়
ঘুমাবেন। তবে একটু ওয়েট করেন আমি
বিছানা ঠিক
করে দেয়। বিন্দু বিছানা ঠিক করে মাঝে
কোলবালিশ দিয়ে বলে, এইটুকু আপনার
জায়গা???
আর এইটুকু আমার জায়গা। যদি কেউ কারও
জায়গা
ছেড়ে যায়??? তাহলে তাকে চিমটি দিয়ে
শাস্তি
দেওয়া ।
.
>সামান্ত বলে ওকে ডান।
.
>সামান্তর ঘুমের ভিতরে হটাৎ পা চলে
যায়, আর অমনি
বিন্দু চিমটি দিয়ে দেয়।
>সামান্ত লাফ দিয়ে উঠে, চোখ কুচুরমুচুর
করে
দেখে বিন্দু হাসছে,তখন রাতের কথা মনে
পরে
গেলো।আর কি করা?
.
সামান্ত নেইলকাটার দিয়ে বলে,
তারাতারি আপনার নখ
কাটবেন। আমার হাতে যতবড় নখ, আপনিও
ততবড়
করবেন। তাহলে দুজনের চিমটি এক মাপের
হবে।
.
>বললেই হলো নাকি????? আপনার ছোট নখ
দিয়ে
যত জোরে দিবেন?? আমি বড় নখ দিয়েও
এতো
জোরে দিতে পারবোনা। আপনি বেশী
শক্তি
দিয়ে দিবেন, আর আমার কম শক্তি হবে।
এজন্য
দুজনে চিমটি সমান সমান হবে। আমি এখন
নখ কাটতে
পারবোনা ব্যাস।
.
>সামান্ত আর কি করবে??? চুপচাপ শুয়ে পরে,
তবে
এখন খুব সাবধানে ঘুমায়।
.
>সকালে উঠে সামান্ত, বিন্দুর হাতে
চিমটি দেয়, আর
বিন্দু ঘুম ভেঙে যায়। কি ব্যপার আপনার
জায়গায় তো
আমি যায়নি??? তাহলে চিমটি দিলেন
কেন????
.
>আপনি দেননি??? কিন্তু আপনার শাড়ির
আচল কেন
আমার জায়গায় আসছে??? শাড়িতে তো আর
চিমটি কাটা
যায়না??? এজন্য আপনার হাতে দিয়েছি।
.
>বিন্দু রাগে কটমট করে, কিছু না বলে ফ্রেশ
হতে যায়।
.
>ফ্রেশ হয়ে আসার পরে এসে দেখে বিন্দুর
আম্মু বসে আছে।
>কিরে তোর এতো বেলা করে ঘুম থেকে
উঠতে হবে??? এই বদ অভ্যাস একটু ছাড়িস
এখন।
সকালে উঠে আমার বোনকে হেল্প করবি।
এখন
তুই বাসার মেয়ে না??? বাসার বউ??? সো
সেই
হিসাবে কাজ করবি। যা এখন আমার
বোনকে বল কি
করতে হবে??? হাতে হাতে কাজ করে দে।
.
বিন্দু কিছু না বলে রান্নার রুমে যেয়ে বলে,
আম্মা
কি করতে হবে???? দেন আমি সাথে করে
দেয়।
.
>না মা তুমি রুমে যাও, তোমার কিছু করতে
হবে না।
>আম্মা আমাকে কিছু দেন আমি পারবো
তো!
>না তুমি রুমে যাও তো! যাও
>বিন্দু রুমে আসে,দেখে বাদুড় টা কার
সাথে
যেনো কথা বলছে। সামান্তর কথা বলা
দেখে??
বিন্দু ওর বান্ধবীদের কল দিয়ে কথা বলে।
.
তারপর আম্মা নাস্তা দেয়, নাস্তা করার
পর থেকে,
আশেপাশের ফ্লাটের লোকজন বউ দেখতে
আসে। খুব বোরিং এই কাজ গুলো। অসহ্য
লাগছিলো সবার সামনে চুপচাপ বোকার মত
বসে
থাকতে। উফ্ আজকে দিন আর রাতটা গেলে
বাঁচি।
আগামীকাল আমি হোস্টেলে যাব, আহ
আমি আবার
স্বাধীন।কথা মনে পরাতে আমার ফুরফুরে
আনন্দ
বয়ে যাচ্ছে ।
.
আম্মা বিকেলে ঘুরতে যেতে বললো, আমি
যায়নি কারন ওই বাদুড়টার সাথে যেতে হবে
তাই যায়নি।
.
>রাতে সবাই বসে আলাপ করছে,
আগামীকাল
আমাকে হোস্টেলে যেতে দিবে কিনা????
সামান্তর মা, বাবা রাজি। বলছে না
বিন্দুর পড়াশোনার
ক্ষতি হচ্ছে, আসলে এভাবে বিয়ে দেওয়া
টা ঠিক
হয়নি। তবু ছেলে মেয়ে ভুল যাতে না করে??
এজন্য এভাবে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর
এখন
পড়াশোনা করুক ঠিক মত, সামান্ত মন দিয়ে
ব্যাবসার
কাজ করুক। কিন্তু আমার মা খুতখুত করছিল,
যে আর
কিছু দিন পরে যেনো যাই।শেষে আমার
জোরাজুরিতে রাজি হয়।
.
--আবার সেই অসহ্য রাত আসে, গতকালের
মতইই
বিছানা ঠিক করা হয়। সামান্ত এসে বলে
আপনার জায়গায়
তো বেশি নিয়েছেন??? আমার জায়গা
এতো কম
কেন???
.
>কই ঠিকি তো আছে??? আপনার চোখের
প্রবলেম আছে, আপনি চোখে চশমা দেন।
.
>আসলে সামান্ত রাগানোর জন্য এই কথা
বলছে।
জোরে করে হেসে দেয় সামান্ত,
হাহাহাহাহা আমি
তো মজা করছিলাম আর আপনি রেগে
গেলেন???
.
>আপনি একদম হাসবেন না,
.
>আমি আমার মুখ দিয়ে হাসছি তাই
আপনার কি?????
>শুনেন আপনার হাসিটা দেখলে আমার
অসহ্য লাগে,
যাইহোক আমার ঘুম পেয়েছে এখন কোন কথা
বলবেন না।
>আপনার সাথে কথা বলতে কে যাচ্ছে???
আমিও
এখন ঘুমাবো।
>আজ মাঝ রাতে সামান্ত হালকা করে
চিমটি কাটছে,
একটু বিন্দুর হাত আসছিলো তাই। কিন্তু
বিন্দু খুবই ভয়
পেয়ে সামান্তকে জড়িয়ে ধরে কান্না
করতে
থাকে। সামান্ত নিজেও অবাক হয়ে যায়,
বিন্দু যে
এতো ভয় পাবে বুঝতে পারেনি। তাই
বিন্দুকে
বুঝাচ্ছিলো যে আমি দিয়েছি ভয়ের কিছু
নাই। বিন্দু
শক্ত করে সামান্তকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে
উঠছে। সামান্ত বারবার বুঝানোর চেষ্টা
করছে, কিছু
সময় পরে বিন্দুর ভয় কেটে যায়। তারাতারি
সামান্তকে ছেড়ে দিয়ে সরি বলে।
.
>সামান্ত নিজেও সরি বলে, আসলে আপনি
এতো
ভয় পাবেন বুঝতে পারিনি সরি।
.
>আচ্ছা ঠিক আছে, আপনার কোন দোষ নাই।
আমাদের যেটা নিয়ম ছিলো সেটাই
করছেন।
ওকে ঘুমান।
.
>দুজনি যে যার মত ঘুমিয়ে যায়।
.
>সকালে নাস্তা খেয়ে বিন্দু সব গোছাতে
থাকে।
শাশুড়িমা বলে তুমি গুছিয়ে নাও সামান্ত
তোমাকে
রেখে আসবে। না আম্মা আমি একাই যেতে
পারবো।
>তাই বললে কি হয়?? তুমি মেয়ে হয়ে একা
যাবে??? না, না তুমি রেডি হও আমি
সামান্তকে বলছি
রেখে আসবে।
.
>আম্মা বেশি দূর তো না, তিন ঘন্টা
লাগবে যেতে,
আমি একাই যেতে পারবো। এসব বিন্দু
বলছিলো
এমন সময় সামান্ত রুমে আসে।
>বাবা তুই রেডি হয়ে নে। বিন্দু আজ
হোস্টেলে
যাবে তুই রেখে আয়।
.
>মা এর অডার দুজনের আর কিছু বলার ছিলো
না।
দুজন বের হচ্ছে, বিন্দু সবার কাছে বিদায়
নেয়।
বিন্দুর মা বিন্দুকে অনেক উপদেশ দেয়,
বাবা সহ
অনেক ভাল ভাল কথা বলে। শেষ পর্যন্ত
বাসা
থেকে বের হয়।
.
>বাস ট্যান্ডে এসে বিন্দু বলে আপনার আর
আসতে হবে না।আমি এখন একাই যেতে
পারবো।
.
>কিন্তু , আম্মার অডার আমার মানতেই
হবে,
আপনাকে হোস্টেলে দিয়ে দেন বাসায়
আসবো।
.
--বাসের মধ্যে যাচ্ছে, দুজন বেশ জায়গা
রেখে
বসে আছে। দুইজনই মোবাইল বের করে
ফেসবুক চালাতে থাকে।
.
>সামান্ত বলে আচ্ছা আপনার ফেসবুক
আইডি কি
নামে????? আমরা দুজন এ্যাড হলে তো আর
প্রবলেম নাই?
>রাগারাগ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সামান্তর
দিকে .....
>আচ্ছা ঠিক আছে এ্যাড হতে হবে না, কিছু
টা ভয়
নিয়ে সামান্ত বললো।
.
>সম্পূর্ণ পথে তারা ফোন নিয়ে সময় পার
করলো।
>বাস থেকে নেমে একটা রিক্সা নিলো,
বিন্দু
বললো দুটো রিক্সা নিয়ে আসেন। একটাই
আমি
যাব, অন্যটাই আপনি যাবেন।
>কিন্তু কেন??? আমি এতো মটা না যে দুটো
নিতে হবে। একটা রিক্সাই দুজন ভালভাবে
হয়ে
যাবে।
.
>দেখেন আমি যা বললাম তাই করেন।
আমার ভার্সিটি
দিয়ে আপনার সাথে রিক্সায় যেতে
পারবোনা।
কেউ দেখলে আমি কি বলবো????
.
>সেটা আপনার সমস্যা, আমার কিছুই না।
হাহাহাহাহা।
.
>ওই রিক্সা যাবেন????? বিন্দু নিজেই অন্য
একটা
রিক্সা ঠিক করে।
>শেষে দুজন দুই রিক্সায় যায়, সামান্ত
বিন্দুকে
হোস্টেলে দিয়ে বাসায় আসে।
সামান্ত বাসায় আসার পরে, খাওয়া দাওয়া
করে রুমে যায়।
সামান্তর আম্মু বলে কিরে??? বিন্দুর কোন
খবর
নিয়েছিস???
.
--মা আমি এতো খবর নিতে পারবোনা,
দরকার হইলে
তুমি নাও।
.
--সেকিরে বাবা??বিন্দু তোর বউ। আর
দেখাশোনা,
খোজ খবর নেওয়া তোর দায়িত্ব।
.
--এটা বলেই সামান্তর মা বিন্দুকে কল করে।
--হ্যালো আম্মা!!!
--হ্যাঁ মা।
- কেমন আছেন????
--এইতো মা ভাল আছি তুমি??
--আমিও ভাল আছি।
--আচ্ছা প্রতিদিন একবার হলেও আমাদের
খবর নিবে
কেমন??
-- ঠিক আছে আম্মা। আপনি কি করেন?
--এইতো সামান্তর সাথে কথা বলছিলাম,
সামান্ত
তোমার খবর নিতে বললো। আমি কল দিয়ে
তোমার খবর নিচ্ছি।
.
--মা এর এমন কথাতে সামান্ত আশ্চর্য হয়।
.
-মা সামান্তর দিকে তাকিয়ে মিটমিট
করে হাসে। আচ্ছা
মা সকালে কল দিও এখন রাখছি।
-আচ্ছা।
.
--সামান্ত বাবা তুই অনেক ট্রয়াড এখন
ঘুমাহ।
.
--আচ্ছা।
.
--আম্মা চলে যাওয়ার পরে, সামান্ত গত
দুদিনের কথা
ভাবছিলো আর হাসছিলো। এখন যেনো
ঘরটা খালি
খালি লাগছে।
.
--যাক ভালোই হয়েছে, আজ রাতে শান্তি
মত
ঘুমাতে পারবো।
.
--সামান্ত আর বিন্দুর কখনো ফোনে কথা
হতোনা।
সামনে বিন্দুর পরীক্ষা।
.
--বিন্দু রেগুলার শাশুড়ির খবর রাখতো।
একদিন কল
দিয়েছে, সামান্তর মা বাসায় নাই। রিং
বেজেঁই যাচ্ছে,
সামান্ত যেয়ে দেখলো বিন্দু কোলিং, তাই
দেখে ফোন রিসিভ করে।
.
--হ্যাঁলো আম্মা তো বাসায় নাই,
--কই গিয়েছে?
-- পাশের ফ্লাটে গিয়েছে।
.
--ও আচ্ছা (চুপচাপ রয়েছে বিন্দু কি বলবে? )
--হ্যাঁ, আপনি কেমন আছেন? (সামান্ত)
-জী ভাল আছি। (বিন্দু)
-ও কি করছেন?? (সামান্ত)
-আচ্ছা এখন আমি পড়ছি, রাখি। (বিন্দু)
.
--সামান্তর কথা বলতে ভালোই লাগছিলো,
কিন্তু তিনি
রেখে দিলেন।
.
-সামান্ত রুমে যেয়ে বিন্দুর কথা ভাবে,
সেই রাতে
ভয় পেয়ে জড়িয়ে ধরেছিলো। এটাই মনে
পরে বেশি, আর নিজে নিজেই হাসে।
সামান্তর
মনে অনেক টা জুড়ে বিন্দুর স্হান হচ্ছে।
সামান্ত
নিজেও বুঝতে পারছে। মাঝে মাঝে বিন্দুর
মুখটা
ভাসে। আহহ মেয়েটাকে রাগলে অনেক
দারুণ
লাগে।
.
--বিন্দুর পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে, উনিশ
তারিখে
পরীক্ষা শেষ হবে। আর পরীক্ষা শেষ হলেই
সামান্ত আনতে যাবে। এটাই দুই পরিবারের
সিদ্ধান্ত।
.
-পরীক্ষা শেষ, বিন্দুর মা কল করে বলে
তোকে সামান্ত আনতে যাবে।
.
--আচ্ছা মা!! আমি কি একাই যেতে
পারিনা?? আগে কি
একা যেতাম না???
.
--আগে আসতি এখন আসবিনা ব্যাস।
সামান্ত যাচ্ছে
তোকে আনতে আর ওখান থেকে একবারে
মার্কেট করে আসবি।
.
--আচ্ছা দেখা যাবে।
.
-বিন্দু ফোন রেখে ভাবতে থাকে কতদিন
বাসায়
যায়না। এখন ওই বাদুড় টা নিতে আসলে
সোজা শশুড়
বাসায় নিয়ে যাবে!! নাহ আমি আমার
বাসায় যাব এজন্য
আগে বাবাকে রাজি করাতে হবে। যেই
কথা? সেই
কাজ!
.
--বিন্দু কল করে বাবাকে রাজি কড়াই কিন্তু
বিন্দুর
আম্মুর কথা, ঠিক আছে তবে সামান্তর
সাথে
আমাদের বাসায় আসবি।
.
বিন্দুর না করার সাহস ছিলো না। বলে ঠিক
আছে।
.
-সামান্ত বিন্দুর হোস্টেলের সামনে আসে
কতবার
কল করে কল রিসিভ করেনা। পরে মেসেজ
দেয়, আমি সামান্ত কল রিসিভ করেন।
.
-বিন্দু মেসেজ পেয়ে তারাতারি কল
রিসিভ করে,
.
--আপনি কই?? আপনার হোস্টেলের সামনে
অনেক সময় ওয়েট করছি।
.
--আচ্ছা ঠিক আছে, আপনি ওয়েট করুন আমি
দুইমিনিটের ভিতরে আসছি।
.
--বিন্দু আসতে আসতে দশমিনিট পরে একটা
বড়
ব্যাগ নিয়ে বের হয়।
.
--এই আপনার দুমিনিট হলো?? পুরো দশমিনিট
লেট
করেছেন।
--আচ্ছা ঠিক আছে, এখন তো আসছি।
--আপনার হাতে এতো বড় ব্যাগ কেন?
--আমি বাড়ি যাব একবারে বের হলাম।
--আগে মার্কেট করে আসি তারপর ব্যাগ
নিয়ে
যাওয়া যাবে।
--আপনি পাগল হয়েছেন?? আবার উল্টা হয়ে
এখানে
আসবো???
.
--আচ্ছা ঠিক আছে, আপনার ব্যাগ আপনি
টানবেন আমি
টানতে পারবোনা।
--আপনি কি বলছেন?? আমি এতো বড় ব্যাগ
টানতে
পারবো??
--তো কি আপনার ব্যাগ আমি টানবো কেন?
--তাহলে আপনি এখানে আসছেন কেন??
--আমি আসছি আপনারে নিতে ব্যাগ নিতে
না।
.
--আচ্ছা ঠিক আছে, আমি মার্কেটে যাব
না। আমি
একবারে বাসায় যাব এইবার খুশি?
.
--আরে না না, আমি ব্যাগ নিচ্ছি তবু চলেন।
-এই রিক্সা যাবেন? বাস স্ট্যান্ড?
--হ্যাঁ উঠেন।
-বাবা রিক্সা ঠিক করা হয়ে গিয়েছে, থাক
আজ বাসায়
যায়। পরে দুজনই রিক্সায় উঠে বাস
স্ট্যান্ডে
আসে। দুটো টিকিট কাটে।
.
--দুজন বাসের ভিতরে যাচ্ছে। এক জায়গায়
থেকে
বিন্দুর স্কুল বান্ধবী উঠলো। বিন্দু দেখে
তো
সেই খুশি।
.
--আচ্ছা আপনি একটু ওই সিটে বসেন আমার
বান্ধবীর সাথে একটু গল্প করি। অনেক দিন
পরে
তো দেখা হয়েছে।
.
-সামান্ত বলে শুনুন এটা আমার সিট আর
আমিই এখানে
বসবো।
.
--প্লিজ একটু বোঝার চেষ্টা করুন, আচ্ছা
আপনি
একটু পরে আপনার সিটেই বসেন। অল্প একটু
গল্প করিতো। প্লিজ ওই সিটে বসেন।
.
--সামান্ত রাগারাগ করে ওই সিটে বসে।
--কিরে দিয়া কেমন আছিস???
--এইতো ভাল আছি, আচ্ছা ওই ছেলেটা
কেরে????
--বাদ দে তোর শুনতে হবে না।
--না বলনা, আমি শুনবো।
.
--এদিকে সামান্ত মনে মনে অনেক রাগে,
যে
ভাবছে সারাটা পথে বিন্দুর পাশে পাশে
থাকবে। তা
আর হলোনা। একসময় সামান্ত ঘুমিয়ে যায়।
.
--বিন্দু সব ঘটনা টা দিয়ার কাছে বলে।
ঘটনা শুনে দিয়া
বুঝায়। দেখ মেয়েদের জীবনে বিয়ে একটাই,
হ্যাঁ বুঝলাম তোকে জোড় করে বিয়ে
দিয়েছে, কিন্তু তুই কি তাকে ছেড়ে দিয়ে
অন্য
কোথাও বিয়ে করতে পারবি???
.
--হ্যাঁ, তুই যদি বিয়ে করিসও কিন্তু এই
সম্মান টা কারও
কাছে পাবিনা। আর তোর কথা শুনে মনে
হচ্ছে
ছেলেটা অনেক ভাল আছে। দেখতেও অনেক
সুন্দর। তোর আর কি চাই?? যা ওই ছেলের
মাঝে
নাই???
.
-- দিয়া আমি এতো তারাতারি বিয়ে
করতে চাইনি। আমার
ইচ্ছে ছিলো পড়াশোনা শেষ করে যখন জব
করবো? কখন একটা রিলেশন করে বিয়ে
করবো।
.
--দেখ যেভাবে হোক বিয়ে টা এখন হয়ে
গিয়েছে, তাই তোর উচিত হাজব্যান্ড
হিসেবে
মেনে নিয়ে, ভাল করে সংসার করা। এমন
কিছু করিস
না যাতে সারাজীবন কষ্ট পেতে হয়।
.
--তুই তো জানিস আসাদের কথা?? আসাদকে
ভালবেসে বিয়ে করেছিলাম, আর এখন ও
আমাকে
কত কষ্ট দেয়?? ঠিক মত খোঁজ খবর রাখেনা।
এটা
বলেই দিয়া কাঁদছে।
.
--আচ্ছা দিয়া কাঁদিস না। একদিন সব ঠিক
হয়ে যাবে।
.
--বিন্দু মনে মনে ভাবে, দিয়া কথা গুলো
খারাপ
বলেনি।
.
--বাস এসে থামছে সবার নামতে হবে।
দিয়ার কাছ
থেকে বিদায় নিয়ে দুজন রিক্সা নেয়।
বিন্দুর এলাকার
লোকজন জানে, বিন্দুর বিয়ে হয়েছে, কিন্তু
এখনো ছেলে দেখেনি। আজ হটাৎ বিন্দুর
সাথে
একটা ছেলেকে রিক্সায় দেখে সবাই চেয়ে
আছে, ভাবছে এটাই বিন্দুর বর। এভাবে
লোকজন
চেয়ে থাকা দেখে বিন্দুর অনেক রাগ হয়।
অসহ্য
পরিবেশ এভাবে হা করে তাকিয়ে থাকার
কি আছে??
সবাই কি চিড়িয়াখানার জীব জন্ত
দেখছে?যেভাবে
তাকিয়ে আছে?? মনে হচ্ছে তাই দেখছে।
.
--বাসায় যাওয়ার পরে বিন্দুর অনেক ভাল
লাগছে,
অনেক দিন পরে আজ বাসায় আসলো। বিন্দুর
ছোট কাজিন ভাই বিন্দুর বাসায় থাকে,
নাম নিরব। সবাই
খুব ভালবাসে, আর বিন্দু অনেক ভালবাসে।
ছোট
ভাইটার জন্য বিন্দু একটা ঘড়ি কিনে নিয়ে
আসছে।
ঘড়িটা পেয়ে নিরব অনেক খুশি হয়েছে।
.
--এই প্রথম বাসায় মেয়ের বর এসেছে।
সামান্তর মা
বা দুজনই জামাই আদর নিয়ে বিজি আছে।
সামান্তর
মুটামুটি নিরবের সাথে সময় পার হচ্ছে।
.
--রাতে ডিনার করে বিন্দু তার রুম গুছাতে
থাকে।
.
তখন বিন্দুর আম্মু সামান্তর সাথে করে রুমে
ঢুকে।
এই বিন্দু তারাতারি বিছানা ঠিক করে দে,
ছেলেটা
অনেক ট্রায়াড।
.
--কি মা।!!এই রুমে ঘুমাবে?? আরও তো রুম
আছে।
আমি এই রুমে ঘুমাবো। তুমি অন্য রুম ঠিক
করে দাও।
.
-সামান্ত অন্য রুমে ঘুমাবে কেন??? এই রুমেই
শুবে । বিন্দুর মা বুঝে দুজনের বিয়ে হলেও
তারা
এখনো দুজন দুজনকে মেনে নিতে পারিনি।
তাই
নিজের সিদ্ধান্তর উপর অটল থাকলো।
.
--বিন্দু কোন উপায় না ভেবে, বিছানা ঠিক
করে
দেয়। মাঝে একটা কোলবালিশ দিয়ে দেয়।
সেদিন
দুজনই সুন্দর করে ঘুমায়, কেউ কারও জায়গায়
যায়না।
.
--সকালে ঘুম থেকে উঠে সামান্ত রেডি
হয়ে
নেয়, আম্মা আমার যেতে হবে আজই।
দরকারী
একটা কাজ আছে।
.
--এদিকে সকালে সামান্তর মা কল করে
বিন্দুকে
বলেছে, মা তোমাকে অনেক দিন দেখিনা,
তুমি
সামান্তর সাথে এসে দুদিন থেকে যাও আর
আমাদের দেখে যাও।
.
-বিন্দু ওর মা এর কাছে এসে বলে মা আমিও
যাব।
কিন্তু দুদিন পরে তোমার নিয়ে আসতে
হবে।
মেয়ের যাওয়ার কথা শুনে মা একটু খুশি হয়।
বিয়ে টা
না মানলেও শশুড় শাশুড়ির সাথে মেয়ে
ভাল ব্যবহার
করে। এটা বুঝে ভালোই লাগছে।
.
সকালের খাবার খেয়ে দুজন বের হয়।
.
--বাসে উঠে, বাসের ভিতরে দুজন ঘুমিয়ে
যায়, ঘুম
ভেংগে দুজন দেখে একজন একজনের কাঁধে
মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে এবং দুজনের হাত ধরে
আছে।
.
--দুজনই তাকিয়ে লজ্জা পেয়ে দূরে দূরে
বসে।
আর পনেরো মিনিট পরেই বাসা পেয়ে
যাবে।

No comments:

Post a Comment