Wednesday, December 24, 2025

- একি তুমি এখানে কেনো?? ব্যাগ ট্যাগ নিয়ে
কোথায় যাচ্ছো?? (অামি)
- ওই এত কথা বলবে না ভিতরে যাওয়ার জন্য জায়গা
দাও। (নিলা)
- হুমম।
- কি হইছে বলো এবার।
- বাবা বের হয়ে যেতে বলছে ঘর থেকে তাই
তোমার কাছে চলে এলাম।
- তুমি অাসছ যে জানে????
- না।
- অামি ফোন করে দিচ্ছি।
- না একদম করবে না।
- কেন?? চিন্তা করবে তো।
- চিন্তা তখন করে বলে নি কেনো। তুমি ফোন
করলে তোমার খবর অাছে।
- বিয়ের অাগে এভাবে কেউ স্বামীর কাছে
অাসে??
- ওই তোরে অামি বিয়েই করমু না।
- কেন??
- এত কথা বলো কেনো??
- ও অাচ্ছা ঠিক অাছে না করলে নাই।
- তোরে অাজ শেষ করে ফেলবো।
বুঝছি সেই রকম গরম হয়ে অাছে। কখন কি করে
কে জানে। অার রাগানো টা ভালো হবে না।
সেটা অামার জন্য খারাপ হয়ে যাবে।
যে দস্যু মেয়টা।
সেই কলেজ লাইপ থেকে ক বাদ দিয়ে অামার
লেজ দরছে। থুক্ক অামার তো লেজ নাই। অমার
পিছু নিছে।
ও পরিচয় দি অামি রাহুল মাত্র কিছু দিন অাগে পাওয়া
প্রাইবেট একটা চাকরি করছি। অার এতখন যার সাথে
কথা বলছি সে অামার হবু গিন্নী নিলা।
অামার সাথে পড়ালেখা শেষ করেছে।
দুজনের মাঝে ইয়ে মানে প্রেম নামক জিনিস
একটা অাছে না, সেটা থাকায় ওর বাবা অামার পিছনে
সীল মেরেদিছে স্টাম্পের মত।
- অাচ্ছা চা খাবা??
- হুমম।
- তো করবে কে??
- তোমার ঘরে অাসছি। তুমি।
- তুমি না কিছুখন অাগে বললে স্বামীর ঘরে
অাসছ। তো কখনো স্বামী কাজ করতে
দেখছো??
- অামি বলি নাই।
- ওও
চা নিয়ে এলাম। শালা কি কপাল।
নাজানি বিয়ের পর চাকরি বাদ দিয়ে ভাত রান্নার কাজ
করতে হয়।
মনে হয় করতেই হবে বড়লোকের মেয়ে
কখনো কিচেন এ গেছে কিনা সন্দেহ।
- অাচ্ছা এবার বলো কেন বাড়ি থেকে বের হয়ে
এলে।
- অামি না কাল রাতে মার্কেট করতে বের হয়ে
ছিলাম তো বাসায় অাসতে দেরি হয়। বাবা বকা শুরু
করে। এরকম করলে বাসা থেকে বের হয়ে
যেতে বলেছে।
- তো এখানে অাসতে কে বলেছে ??.
- কেউ বলে নি এমনি অাসছি। অামি এমন কি দোষ
করেছি যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে
বলছে।
- করনি অাবার এত রাতে কেউ বাসার বাইরে যায়??
- তুমিও বাবার পক্ষে?? বাবা বলছে বিয়ের অাগে
এসব করলে মানুষে রাখাপ বলবে।
- হুমম তাই তো।
- বিয়ে বলে কি বাইরে বের হওয়া নিষেধ নাকি??
- হুমম।
- যাও অামি অার কোথাও যাবো না (কান্না ভাব)
- না সোনা যেতে হবে না।
- না অামি চলে যাবো।
- কোথায় যাবা??
- যে দিকে দুই চোখ যায়।
- এই.এই মাত্র বললা কোথাও যাবানা এখন বলো
চলে যাবা।
- হুমম যাও
- অামার বাসা অামি থাকবো।
- এটা অামারও বাসা।
- এয়য় কে বলছে??
- কে অাবার বলবে।
- অামি তোমার বৌ তাই এটা অামারও বাসা।
- অামার বৌ নাই।
- নাই মানে। (রেগে)
- না না অাছে অাছে।
- অামার খুব খিদা পাইছে।
- তো কি করবো??
- খেতে দাও।
- মাত্রই তো চা খেলে।
- এটা খেয়ে কারো পেট ভরে??
- অামার ভরে।
- যাও কিছু নিয়ে অাসো।
- যাচ্ছি যাচ্ছি রাক্ষস
- রাক্ষস না রাক্ষসী (হেসে)
অগত্য বের হলাম খাবার অানতে। কি অার করবো
হবু বৌ ঘরে অাসছে।
কিন্তু একটা চিন্তা করি বৌ হয়ে পুরো পুরি ঘরে অাসার
অাগে এ অবস্তা পরে কি হবে কে জানে।
খাবার নিয়ে এলাম দুপুর হয়ে গেছে। মেয়েটা
কেন যে এত পাগলামি করে কে জানে। এত রাগ
ভালো না।
- এই নাও।
- কি এটাতে
- কিছু পাই নি তাই বিরিয়ানি নিয়ে এলাম।
- ও অাসো খেয়ে নি।
- তুমি অাগে খাও।
- না এক সাথে খাবো। অার তুমি খাইয়ে দিবে।
- মাগো।
- কি হইছে ??
- না কিছু না।
- অাসো।
মনে মসনে বলতেছি এত ভালো কেমনে
হইগেলো। অামি খাইয়ে দিবো??
রোমান্টিক লাগছে বিষয়টা
- কই দাও না।
- এই তো দিচ্ছি।
- অাহহহহ
- হি হি হি
- অাসলে একটা রাক্ষসী
- ব্যথা পাইছো??
- হুমম
- সরি
- হুহহ।
মনে মনে এত ভালো মানুষী ছিলো??
- সরি সরি অার করবো।
- হয়েছে খেয়ে নাও।
- তুমি একটু কাছে অাসো না।
- দূরেই ভালো অাছি।
- অাসো না প্লিজজ
- কেন গো? মাথায় উঠে বসতে??
- না গো কাছে অাসো না ।
- হুমম খেওয়া শেষ করে নাও
- শেষ অামি অার খাবো না।
- অাচ্ছা।
না খেলে নাাই অামার হাত কামড় দিয়েও মনে হয়
পেট ভরে গেছে।
- এখন একটু বিশ্রাম নাও।
- না তুমি অাসো।
- অার পারা গেলো না
- হি হি হি।
এসে বসলাম বিছানায়।
- কি হইছে বলো
- অামি তোমার কোলে মাথা দিয়ে ঘুমাবো
- অামি পারবো না। বালিশের অভাব পরছে নাকি।
- হুমম পরছে।
সবকিছু কে নিজের জোর খাটাতে চায়,এক
মেয়ে রে বাবা।
বসলাম অারে নিলা অামার কোলে মাথা দিয়ে অামার
মুখের দিকে তাকিয়ে অাছে। বেশ ভালোই
লাগছে। মেয়েটার পাগলামি টা তখন খুব অনূভব করি
যখন তার কথা খুব মনে পড়ে।
- এ জানো অামি না কাল ইচ্ছা করে দেরি করে বাড়ি
ফিরছি
- কেন??
- তোমাকে কত দিন দেখি না।
- তো?
- তোমার কাছে অাসার জন্য পথ খুজে পাচ্ছিলাম না।
ভাবলাম বকা খেতে হবে তারপর রাগ দেখিয়ে
তোমার কাছে চলে অাসবো।
- হাহাহা।
- হাসছো অার অামি তোমার জন্য বকা শুনছি।
- অামি বলছি??
- তুমি খুব নিষ্ঠুর।
- হুমম তাই।
এমন সময় তার বাবার ফোন
- হ্যালো বাবা তোমার কাছে নিলা গেছে? সকাল
থেকে তাকে বাসায় পাওয়া যাচ্ছে না। কাল বকা
দিয়েছি বলে বের হয়ে গেছে।
একসাথে সব বলে পেললো, ভীষন চিন্তায়
অাছে বুঝতে পারছি।
- হ্যা বাবা ও এখানেই অাছে। অাপনি চিন্তা করবেন না।
- ওহহ মেয়েটা অামাকে জ্বালিয়ে মারবে।
- হাহাহা চিন্তা করবেন বাবা।
- অাচ্ছা এখন রাখি।
ভাবছিলাম অার কিছু বলবে।
- দেখছো তোমার পাগলামির জন্য বাবা কতটা চিন্তায়
পড়ে গেছে।
- অামি অামার বরের কাছে অাসছি এটাতে চিন্তার কি
অাছে??
- তুমি তো তাদেরই মেয়ে তাই না।
- হুমম তাদের জন্য তোমার কাছেও অাসতে মানা।
হুহ
- এই রকম কর কেন অার কয়টা দিন। তারপর সারা
জীবনের জন্য চলে এসো।
- তুমি অামাকে সারা জীবন এভাবে ভালোবাসবে
তো??
- হুমম সন্দেহ টা অামারও হয়।
- যাহহ সব সময় ফাজলামি।
- তুমি ছাড়া অাছে অার কে?? মা বাবও নাই।
- এ একদম মন খারাপ করবেন না বলে দিচ্ছি। খবর
অাছে।
- হুমম মন খারাপ করে অার কি হবে।
- হুমম মনে থাকে যেন।
নিলার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে মেয়েটা কখন
ঘুমিয়ে পড়লো।
তার ফরসা চেহাটা অারো মায় ময় লাগছে।
অাসলে যখন কেউ ঘুমায় তখন কার অাসল রূপ দেখা
যায়। ঘুম মানুষ কে নিষ্পাপ চেহারায় পরিণত করে।
কোলের উপর মাথাটা রেখে দিয়েছি । জানি এমন
সুখ পাাবে না বালিশে ঘুমালে, যে সুখে সে
ঘুমাচ্ছে অামার কোলে।
কি দরকার তার সুখটাকে কেড়ে নেয়ার।
অামিও হেলাম দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। কখন যে টাইম
চলে গেলো।
নিলার ডাকে ঘুম ভাঙে। বিকাল হয়ে গেছে।
ভাবলাম তাকে নিয়ে একটু ঘুরে অাসি।
- এই রেড়ি হও অাজ একটু ঘুরতে যাবো।
- সত্যি??
- হ্যা তারাতারি কর।
- অাচ্ছা
এক রিক্সাকরে অনেকখন ঘুরলাম তার পর এতটা
মাঠে বড় একটা গাছের নিছে বসলাম। খুব
মনোরম পরিবেশ বেশ ভালো লাগলো।
অনেকখন ঘুরার পর তাকে বাসায় দিয়ে এলাম।
তার পাগলামির কারণে কিছু দিন পর অামাদের বিয়ে
হয়ে যায়।
খুব ভালো চলছে দিন কাল। অার তার পাগলামি টা
এখনো সেই রকমই অাছে। অামি চাও এটা সারা
জীবন থাকুক।

লেখক : AB de Rahul

No comments:

Post a Comment