"এই যে মি.নীল দাড়ান বলছি দাড়ান"
.
মেয়েটা বেশ কয়েকবার আমার নাম ধরে
ডাক দেওয়ার পরে ও পিছনে থাকালাম না।
খুব একটা অবাক হয়েছি মেয়েটা আমার নাম
ও জানে দেখি।
মেয়েটার সামনে দাড়িয়ে কথা বলার মত
সাহস আমার নেই।তাই বারবার ডাক
দেওয়ার পরে ও পিছনে না তাকিয়ে বা না
দাড়িয়ে তাড়াতাড়ি হাটার চেষ্টা
করলাম।কিন্তু ডাক দেওয়ার আওয়াজ টা
ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল।মনে হচ্ছে
মেয়েটা দৌড়ে আমার দিকে আসছে।হঠাৎ
কিছু বুঝে উঠার আগে মেয়েটি দৌডে এসে
আমার সামনে দাড়াল।আমি মাথা নিচু
করে আছি।মেয়েটির দিকে তাকানোর
সাহস ও পাচ্ছি না।নিশ্চয় মেয়েটি রাগী
মাখা মুখ নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে
আছে।তখন মেয়েটি বলল।
.
-কি কানে কম শুনেন নাকি।অনেকবার
ডাকার পরে ও না শুনার ভান করে চলে
যাচ্ছেন।
.
আমি কি বলব ভেবে পাচ্ছি না।আসলেই ত
আমি শুনে না শুনার ভান করে চলে
যাচ্ছিলাম।এখন যদি মিথ্যা বলি হয়ত
মেয়েটা আর ও রেগে যাবে।তার থেকে
কিছু না বলে চুপ করে থাকাটা ভাল।আমার
এভাবে চুপ করে থাকা দেখে মেয়েটা
আবার ও বলল।
.
-কি চুপ করে আছেন কেন।তখন ত খুব হেসে
হেসে ফোনে কথা বলছিলেন।আর দেখে ও
না দেখার ভান করে ধাক্কা দিয়ে চলে
গেলেন।
.
এইত সকালে উঠে নাস্তা করে কলেজ
যাওয়ার জন্য বের হলাম।সিড়ি দিয়ে
নামার সময় ফোন টা বেজে উঠল।পকেট
থেকে মোবাইল বের করে দেখি আমার এক
বন্ধুর ফোন।রিসিভ করে কথা বলছিলাম।
আর আনমনে সিড়ি দিয়ে তাড়াতাড়ি
নামছিলাম।কিন্তু বর্ষা যে আমার সামনে
পড়ে যাবে তা ভাবতে পারিনি।
তাড়াতাড়ি নামার কারণে থামতে গিয়ে
ও থামতে পারলাম না।যা হবার হল গিয়ে
বর্ষার সাথে ধাক্কা খেলাম।মেয়েটা তখন
আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে চেয়ে ছিল।ও
এমনে রাগী স্বভাবের ভাবছিলাম হয়ত
থাপ্পড় ও লাগিয়ে দিতে পারে।তাই যত
তাড়াতাড়ি সম্ভব ওর সামনে থেকে
পালাতে হবে।কিছু না বলে তাড়াতাড়ি ওর
সামনে থেকে ভূ দৌড় দিয়ে রিক্সা নিয়ে
কলেজের দিকে রওনা দিলাম।আর এই
মেয়েটা হল বর্ষা।তাই এ কারণে এতবার
আমাকে ডাকার পরে ও না থেমে চলে
যাচ্ছিলাম।কিন্তু আমার সামনে চলে
কারণে আর পালাতে পারলাম না।
.
-এই যে হ্যালো কি ভাবছেন এত হ্যা।আর
আমার কথার উওর দিচ্ছেন না কেন।
-আসলে আমি সরি।
-ইচ্ছা করে ধাক্কা মেরে সরি বলতে ত হবে
না।
-আসলে আমি ইচ্ছা করে ধাক্কা টা মারি
নি।
-আমার ও ভাল করে ছেলেদের জানা আছে।
.
কথাটা শুনার পর আবার ও কিছু না বলে চুপ
হয়ে আছি।আমার চুপ হওয়া দেখে বর্ষা
হেসে উঠল।আমি এদিকে ভয়ে চুপসে আছি
রাগী মেয়েটা কোন সময় কি না কি করে
বসে।আর উনি এদিকে হাসছেন।
.
-এই যে নীল সাহেব আপনার এত ভয় পাওয়ার
কিছু নেই।ধাক্কা মারার শাস্তি স্বরুপ....
.
কথাটা শেষ না করে বর্ষা পাশে যাওয়া
একটা রিক্সাকে ধাক দিল।রিক্সাটা কাছে
আসতেই ও রিক্সাওয়ালাকে জ্ঞিজেস করল।
.
-মুরাদপুর কত
-আপা বিশ টেহা।
-কি বিশ টাকা।সকালে আসলাম পনের
টাকা দিয়ে।এখন বিশ টাকা।মগের মুল্লুক
পাইছেন নাকি।
.
মেয়েটা দেখি রিক্সাওয়ালাকে ও ছাড়ে
না।শেষ পর্যন্ত বাড়া পনের টাকা মিটমাট
করে।ও রিক্সায় উঠে আমার দিকে তাকিয়ে
বলল।
.
-কি দাড়িয়ে আছেন কেন।
.
আমি ওর মুখ থেকে কথাটি শুনা মাত্র
বিন্দুমাত্র না ভেবে বললাম।
.
-আচ্ছা ঠীক আছে আপনি যান।আমি অন্য
রিক্সায় করে আসছি।
.
কথাটি শুনা মাত্র বর্ষার মুখ নিমিষেই
লাল হয়ে গেল।আমি জানি ও কি বলতে
চেয়েছে।আমি হাটার জন্য পা বাড়ানোর
আগেই ও আমার হাত ধরে টেনে রিক্সায়
তুলে বলল
.
-আপনি নিজেকে অনেক চালাক ভাবেন
তাই না।
.
আমি ওর কথাটি শুনে চুপ করে আছি।রিক্সা
চলতে শুরু করল।আমি ওর পাশে বেশ
জড়োসড়ো হয়ে বসেছি।আমি ভাবতে ও
পারিনি ও আমার হাত ধরবে।আর আমি এক
সাথে রিক্সায় ওর সাথে যাব।
.
কলেজ টা বেশ পাশে হওয়ায় এই এলাকায়
বাসা ভাড়া নিয়েছি বেশ কয়েক মাস হবে।
আর বর্ষা হল আমাদের বাড়িওয়ালার
একমাত্র মেয়ে।প্রথম যেদিন ওকে দেখি
সেদিন খুব একটা বড় ধরনের ক্রাশ খায় ওর
উপর।ও আমার এভাবে তাকিয়ে থাকা
দেখে একটা হাসি দিয়ে আমার সামনে
থেকে চলে যায়
হাসলে ওর গালে ঢোল পড়ে যার জন্য
হাসির সৌন্দর্য টাকে আর ও বাড়িয়ে তুলে।
.
একদিন দুপুরে কারেন্ট না থাকায় ছাদে
গিয়ে দাড়িয়ে ছিলাম।সে সময় ছাদে প্রচুর
বাতাস হচ্ছিল।আর ভাল ভাবে ছাদে থাকা
গাছগুলো দেখছিলাম।আর অবাক করা বিষয়
হল ফলের গাছগুলোতে কিছু পাখি ও বসে
আছে।একটা গাছে একজোড়া পাখি দেখতে
পেলাম।মনে হয় তারা প্রেমিক প্রেমিকা।
খুব ভাল মানিয়েছে তাদের।কিছু সময় পর পর
ডাক দিচ্ছে একজন আরেকজনের দিকে
তাকাচ্ছে।আমার মতে তারা প্রেম
বিনিময় করছে।আর এই সুন্দর সময়টা উপলব্ধি
করছিলাম।
.
একটু পর দেখলাম বর্ষা এসে আমার বেশ একটু
দূরে এসে দাড়ায়।বাতাসে ওর খুলা চুলগুলো
বেশ উড়ছিল।মেয়েটা দেখতে এমনে ও
অনেক সুন্দর।এ অবস্থায় ওকে অপরুপ সুন্দর
লাগছিল।আমি এক দৃষ্টিতে ওর দিকে
তাকিয়ে ছিলাম।যেন কোন এক কল্পনার
রাজ্যে হারিয়ে গেলাম।ও আমার এভাবে
তাকিয়ে থাকা দেখে কিছু আচঁ করতে
পেরে আমার দিকে তাকিয়ে বেশ হাসি
মুখে জ্ঞিজেস করল।
.
-এভাবে কি দেখছেন।
.
আমি ওর কথা শুনে মুহুর্তে নিজেকে সামলে
নিয়ে বেশ স্বাভাবিক ভাবে বললাম।
.
-না কিছু না।
.
ও আমার কথাটি শুনে আর ও বেশি করে
হাসতে শুরু করল।আমি আবার ও ওর হাসি
দিকে তাকিয়ে আছি।এরপর ও কিছু না বলে
চলে যায়।তারপর ও যেন ওর হাসি আমার
চোখের উপর ভাসছে।আমার এই ক্রাশটা যে
ভালবাসায় রুপান্তরিত হবে তা আমি
ভাবতে ও পারিনি।এরপর থেকে আমি
নিজে থেকে সবসময় ওর সাথে কথা বলার
চেষ্টা করতাম।একি কলেজ হওয়াতে ওকে
সবসময় লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম।মাঝে
মাঝে বাইরে বের হলে ওকে ফলো করতাম।ও
এসব দেখে ও না দেখার ভান করে চলে
যেত।
.
একদিন বিকালে বাইরে যাওয়ার জন্য সিড়ি
দিয়ে নামছিলাম।আমরা পাচঁ তালায় আর
ওরা চার তালায় থাকে।সিড়ি দিয়ে
নামার সময় ওদের বাসায় কাছাকাছি
আসতেই বেশ জোরে জোরে কেউ চিৎকার
করছে সেই শব্দ শুনতে পেলাম।কিছু একটা
হয়েছে ভেবে তাড়াতাড়ি গিয়ে দরজা
সামান্য একটু খুলা থাকায় উকি মেরে
দেখলাম।বর্ষা ওর বাবার সাথে কিছু একটা
বিষয় নিয়ে বেশ ঝগড়া করতে দেখলাম।ওর
বাবা ওকে বারবার শান্ত ও বুঝানোর
চেষ্টা করলে ও তারপর ও চিৎকার দিয়ে
দিয়ে কথা বলতেই লাগল।এক পর্যায়ে ঘরের
জিনিস পত্র ভাঙতেই শুরু করল।
.
তখন থেকে ওকে প্রপোজ করার ভূতটা আমার
মাথা থেকে নেমে যায়।সুন্দর ও ভদ্র
চেহারার পিছনে যে রাগী কর্কশ মার্কা
চেহারা লুকিয়ে আছে ভাবতে ও পারিনি।
রাগী ও বাড়িওয়ালার মেয়ে আমার
পরিবারের আত্নসম্মান এবং শেষ পর্যন্ত
বাসাটা ও হারাতে হবে।এই সব ভেবে
ভালবাসার ভূতটা নিজের মধ্যে চেপে
ধরলাম।এরপর থেকে ওকে দেখলে এড়িয়ে
চলার চেষ্টা করতাম।দেখলে ও না দেখার
ভান করে চলে যেতাম।
.
কিন্তু আজ একটা এরকম ঘটনা ঘটে যাওয়ার
পরে ও আমাকে কিছু না বলে।অবাক করে
দিয়ে হাত ধরে রিক্সায় তুলা এবং এক
সাথে রিক্সায় করে যাব ভাবতে ও
পারিনি।
.
-এই যে নীল সাহেব কোন ভাবনার জগতে
হারিয়ে গেলেন।ঠীক করে বসুন।মানুষ
দেখলে কি বলবে।
.
আমি ওর কথাটি শুনে বেশ স্বাভাবিক
ভাবে বসার চেষ্টা করলাম।আর ভয় টাও চলে
গেল।বেশ অর্ধেক পথ আসার পর ও
রিক্সাওয়ালে থামতে বলল।এখানে রিক্সা
থামানোর কারণ টাও বুঝলাম না।ও আমাকে
রিক্সা থেকে নামতে বলে নিজে ও রিক্সা
থেকে নেমে।ভাড়া দিয়ে আমাকে বলল।
.
-চুপ করে থাকবেন একটা কথা ও বলবেন না।
আমি যেখানে যাচ্ছি চুপচাপ আমার সাথে
আসবেন।
.
আমি ওর কথাটি শুনে আর ও বেশি অবাক
হলাম।পাশে ফিরে দেখালাম রিক্সাটা ও
চলে গেছে।
ফাজি মেয়েটা কি না করে বসে তার ঠীক
নেই।চিন্তা করছি দৌড় দিব নাকি।আমার
এভাবে এদিক ওদিক তাকানো দেখে ও এসে
আমার হাতটা ধরে বলল।
.
-সোজা কথায় কাজ হবে না দেখছি।
.
কথাটি বলে ও আমার হাত ধরে কোথায় যেন
নিয়ে যাচ্ছে।আর ওর রাগী মাখা
চেহারাটা নিয়ে আমার দিকে বারবার
তাকাচ্ছে।আমি কিছু না বলে ওর সাথে
যেতে লাগলাম।
.
রাস্তার বাম পাশে ছোট্ট আরেকটি
রাস্তা তার দু'পাশে সরু গাছপালা।একটু পর
খানিকটা দূরে খুলা বড় ধরনের পার্কের মত
জায়গা দেখতে পেলাম।এক কথায় সুন্দর
নিরব ও মনোরম পরিবেশ।প্রচুর বাতাসে
লম্বা ঘাসগুলো দোল খাচ্ছিল। সেখানে
গিয়ে আমি এদিক সেদিক দেখতে লাগলাম।
আসলেই জায়গাটা অনেক সুন্দর।এখানকার
মত একটা শহুরে পরিবেশে এরকম একটা সুন্দর
জায়গা থাকতে পারে ভাবতেই পারিনি।
.
বর্ষা আমার হাত ছেড়ে দিয়ে পাশে থাকা
একটা বেঞ্চে বসল।আমার দিকে তাকিয়ে
বেশ আস্তে করে বলল।
.
-বসুন।
.
আমি কথাটি শুনে ওর থেকে খানিকটা দূরে
গিয়ে বসলাম।আমার এভাবে দূরে বসা
দেখে ও চোখ দুটো তালের মত করে আমার
দিকে তাকাল।তারপর এসে আমার গাঁ
ঘেসে বসে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে।ও
অন্যদিক থেকে ফিরে আমার দিকে
তাকিয়ে বেশ গম্ভীর ভাবে বলল।
.
-প্রেমের ফাদেঁ ফেলে এভাবে সবসময় দূরে
থাকার মানে কি।
.
কথাটা বলার পর ওর মুখটা বেশ কাঁদো
কাঁদো অবস্থা হয়ে যায়।বাতাসে ওর চুল
গুলো উড়ার কারণে কিছুটা চুল আমার মুখে
এসে পড়ছিল।আমি বেশ ওর চুলে ঘ্রাণ
নিচ্ছিলাম।তারপর উড়ন্ত চুলগুলো ওর কানে
গুজে দিলাম।আমি নিজে ও বিশ্বাস করতে
পারছিনা আমার এত সাহস এল কোথায়
থেকে।ও আমার কান্ডটা দেখে আমার
দিকে বেশ অবাক চোখে তাকিয়ে বলল।
.
-এই কাজ টা করতে তোমার এতদিন সময়
লাগল।
.
কথাটা বলে ও সত্যি সত্যি কেঁদে দিল।
আমি হাত দিয়ে ওর চোখের পানি মুছে
দিতে লাগলাম।ও আমার হাত দুটো আগলে
ধরে কাধে মাথা রেখে ধূসর সীমানার
দিকে তাকিয়ে আছে।আর আমি অবাক
চোখে মায়াবি চেহারার দিকে তাকিয়ে
আছি।
কিছু কিছু ভালবাসার সম্পর্কে ভালবাসি
কথাটা বলতে হয় না।দু'টি মনের অজান্তে
গভীর ভালবাসা সৃষ্টি হয়।বেচেঁ থাকুক
চিরকাল পৃথিবী জুড়ে ভালবাসা।
.
লিখা: রক্তাক্ত লেখক হিমু (মি. নীল)
Wednesday, December 24, 2025
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment