Wednesday, December 24, 2025

দীর্ঘ বিশ বছর যাবৎ পাশাপাশি দুটো ফ্লাটে বসবাস করে আসছেন ফয়েজ আহম্মদ আর কবির সাহেব।
তারা দুজন খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাই ত একই সাথে একই বিল্ডিং এ ফ্লাট নেয়া..
তাদের দু পরিবারের মানুষজন রা ও খুবই ঘনিষ্ট এক অপরের সাথে ঠিক পরিবারের একটা গুরত্ব পূর্ণ অংশ একে অপরের।
ফয়েজ আহম্মদের দুই ছেলে মেয়ে
, ছেলে আদনান ফাইয়াজ জব করছে আর মেয়ে ফাইজা নূর আনন্দী বিবিএ ফাইনাল ইয়ারে পড়ছে... আদনান কে বিয়ে দিয়ে মিষ্টি একটা বউ মা ও ঘরে তুলেছেন ফয়েজ সাহেব এখন মেয়ে টা কে শ্বশুর বাড়ি পাঠানোর অপেক্ষা মাত্র। অপর দিকে কবির সাহেবের দুই ছেলে বড় ছেলে আইয়াজ কবির তিনি একজন আর্কিটেক্ট আর ছোট ছেলে আইমান কবির সবে ক্লাস টেন এ পড়ে।
.
দু পরিবারের একমাত্র আদরের কন্যা হলো আনন্দী তাই দুই পরিবারের সবাই আনন্দীর বিয়ের ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হলো যে যতোই ঝর তুফান পোহাতে হয় পোহাবে তবুও আইয়াজ আর আনন্দীর চার হাত এক করেই ছাড়বে যদিও ব্যাপার টা অনেক কঠিন থেকে কঠিনতর তবুও এই ছাড়া কোনো উপায় ও নেই এতো আদরের মেয়ে খানা তাকে দূরে পাঠিয়ে থাকা ত যাবেনা।
.
এই চারহাত এক করার ব্যাপার টা কঠিনতর কারণ আইয়াজ এবং আনন্দী একে অপর কে দুই চোখে সহ্য করতে পারে না...
সেই ছোট বেলা যখন কবির সাহেবের স্ত্রী আই মিন আইয়াজের মা আনন্দী কে আদর করে বলে ছিল একেই আমার বাড়ির বউ বানাবো .. আইয়াজ রেগে গিয়ে তার প্লাস্টিকের ব্যাট খানা দিয়ে আনন্দীর মাথায় সজোরে আঘাত করে আর তখন থেকেই এই ঝগড়ার শুভ সূচনা হয়..
.
সেই তখন থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো দিন যায় নি যেদিন আইয়াজ আর আনন্দীর ঝগড়া হয়নি .. তুচ্ছ থেকে অতি তুচ্ছ ঘটনায় ওরা ঘন্টার পর ঘন্টা ঝগড়া চালিয়ে যেতে পারে...
.
আইয়াজ প্রায় সেই সুখের দিন গুলোর কথা ভাবে আনন্দী র সাথে দেখা হয়ার আগে তার পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সে কত স্বাধীন ছিলো আহা... কত শান্তি ছিলো আইয়াজের চারদিক টা যদিও তেমন একটা মনে পড়ছেনা সে দিন গুলো তবুও তার ধারণা এই বাসায় আসার পর থেকে তার ন্যায্য সব প্রাপ্য ওই আনন্দী ই পাচ্ছে... যদি ও ছোট বেলায় আনন্দী কে বেশ কয়েকবার কোলে নেয়ার সুযোগ হয়েছিলো আইয়াজের যদি আইয়াজ বুঝত এই মেয়ে দিনে দিনে এমন ডাইনি টাইপ হবে আর আইয়াজের সব কিছুর উপর ভাগ বসাবে তবে সে এই মেয়ে কে সেই ছোট্ট বেলা ই ছাদ থেকে ফেলে মেরে ফেলতো...
এসব শুধু ভাবনাতেই হয় বাস্তবে এই মেয়ে কে একটা চিমটি দিলে ও আদালতে এই অন্যায়ের শাস্তি সরুপ আইয়াজের ফাসি ও হতে পারে...
.
আইয়াজ আর আনন্দী একই স্কুলে পড়েছে যদি ও আনন্দী ৩ বছরের জুনিয়র ছিলো আইয়াজ থেকে তবুও এই মেয়ের জন্য কোনো মেয়ে বন্ধুর সাথে মিশতে পারেনি আইয়াজ .. কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখলেই বাসায় গিয়ে যা তা রকম প্যাচ লাগিয়ে বকা খাওয়াতো... ছুটির পর আনন্দীর ব্যাগ টা অনিচ্ছা স্বত্বে ও আইয়াজ কেই বয়ে নিয়ে যেতে হতো আর আনন্দী স্বাধীন দেশের নাগরিকের মত লাফাতে লাফাতে বাসায় যেতো... আইয়াজের বন্ধুরা প্রায় আইয়াজ কে নিয়ে হাসতো... বেচার আইয়াজ আনন্দীর এসব অন্যায় এর বিচার বাসায় দিলে উলটো নিজেই বকা খেতো... তবে আইয়াজ ও কি কম যায় নাকি আইয়াজ ও আনন্দী কে কোনো ছেলে ফ্রেন্ডের সাথে মিশতে দেখলে বাসায় গিয়ে তার চে বেশি বানিয়ে প্যাচ লাগাতো... ব্যাস এভাবে চলতে থাকলো...
বড় হতে হতে ঝগড়া করার টপিক ও চেঞ্জ হতে লাগলো...
আইয়াজ ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লিট করে এখন জব করছে কিন্তু ঝগড়াঝাঁটির ব্যাপারে এখনও আগের মত অ্যাক্টিভ।
এনিওয়ে এ ছিল ইতিহাস এখন বর্তামানে আসা যাক...
.
দু পরিবারের বিয়ের ডিসিশন টা জানার পর থেকে আইয়াজ আর আনন্দী অনেক অন্বেষণ টনেষণ করে ও তাদের সিদ্ধান্ত চেঞ্জ করতে পারেনি.... আনন্দীর একটা ই কথা আইবুড়ো হয়ে মরে গেলে ও আইয়াজ কে বিয়ে করবেনা আর আইয়াজের ও একই কথা পৃথিবীর সবচে অসুন্দর মেয়েটিকে যদি বিয়ে করতে বলা হয় তবে সে রাজী তবুও আনন্দী কে বিয়ে করা জাস্ট ইম্পসিবল।
কে শোনে কার কথা..... বাসার মানু্ষ গুলো নিজেদের মত কাজ চালিয়েই যাচ্ছে.... বিয়ের কার্ড পর্যন্ত ছাপাতে দেয়া হয়ে গেছে... ।
দুপরিবার এক পক্ষ আর অন্য পক্ষে আইয়াজ আর আনন্দী .. এই একটা ব্যাপারে দুজনের একই মতামত।
.
দুজন মিলে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেল্লো পালাবে ওরা... যেঈ ভাবা সেই কাজ সিলেটে চলে এসেছে...।
আনন্দীর ছোট চাচা সিলেট থাকেন.. প্রেমে ব্যর্থ হয়ে তিনি আর বিয়ে করেন নি... সিলেটে চাকুরীর সুবাদে থাকেন ..একাই থাকেন।
আনন্দী আর আইয়াজ উনার বাসাতেই এসেছে.. কিন্তু উনার বাসায় তালা দেয়া এই সময় উনি অফিসে থাকেন ঘর তালা দেয়া..ফোন করে ব্যাপার টা জানানো রিস্কি তাই উনাকে ফোন না করে উনি আসার অপেক্ষায় বাসার বাইরে অপেক্ষা করতে থাকলো..
.
: সব তোমার জন্যই হয়েছে..(আইয়াজ)
.
: তোমার জন্য হয়েছে ( আনন্দী)
.
: তুমি মেয়েটা যবে থেকে আমার লাইফে আসছো পুরো লাইফ টা ঈ আমার নরক হয়ে গিয়েছে...
.
:ওই চুপ.. উল্টো এটা বলতে পারো যে তুমি ছেলেটার জন্য আমার লাইফে একটা শান্তিতে শ্বাস নিতে পারিনি আমি।
.
:ওলে বাবা লে!! সাক্ষাত যম নাকি আমার জন্য শান্তিতে শ্বাস নিতে পারেনাই...
.
: ওই বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্ত.. চুপ..
.
: তুমি চুপ...
.
: তো তো তোরা এখানে.. ( আনন্দীর চাচা বাসার সামনে হঠাত এদের দেখে কিছুটা শক খেলো)
.
:চাচ্চু আগে তালা খুলে ভেতরে যেতে দাও তারপর বলছি... (আনন্দী)
.
:আচ্ছা ওকে ( ফাহাদ সাহেব)
.
#আনন্দীর চাচা ফাহাদ সাহেব সব শুনলেন ওদের মুখে সব...
.
: আমি ভাবলাম কয়েক দিন পর তোদের বিয়ে এটেইন করতে যাবো আর তোরা ঈ কিনা আমার বাসায় এসে হাজির! বাসায় কত চিন্তা করছে না জানি...
.
: চাচ্চু তুমি কিন্তু একেবারেই বলবেনা বাসায় .. আমার মতামতের কোনো ভ্যালু যাদের কাছে নেই তাদের এমন প্রেসার দেয়া ঈ উচিত! তুমি বলো আমি নাকি এরকম একটা একটা ছেলে কে বিয়ে করবো!!
.
: ইশরে এমন একটা ছেলে কে বিয়ে করবো!! মনে হয় ছেলে টা তোমাকে বিয়ের করার জন্য বসে আছে.. আরে তোমার মত মেয়ে কে আইয়াজ পাত্তা ও দেয় না...
.
:দেখলা চাচ্চু দেখলা কেমন বিহ্যাভিয়র!!
.
: তোমার আচরণ ত একেবারে কি বলতাম আর..
.
: আজীব ত.. এই তোরা একটু চুপ করবি! (ফাহাদ সাহেব)
.
: আচ্ছা ওকে.. এখন তুমি বলো কি করবো...
.
: দেখ আমি আমার লাইফে এই তোদের প্রথম দেখছি... ছেলে মেয়ে বিয়ে করবেনা বলে বাসা থেকে এক সাথে পালিয়েছে... তোরা ত পুরাই হিস্টরি করে ফেলছিস!
.
: দেখো চাচ্চু মাথায় যা আসছে তা করছি... বাবা মার মাথা থেকে এই ভূত টা নামলে দেন বাসায় ফিরে যাবো তার আগে না.. তুমি ওদের কিছু বলোনা কিন্তু পরে ওরা এখান থেকে আমাদের ধরে নিয়ে যাবে..
.
: আচ্ছা সেটা পরে দেখা যাবে... .
.
#ফাহাদ সাহেব পুরো ঘটনা টাই আনন্দী আর আইয়াজের বাবা মা জানিয়েছে .. ফাহাদ সাহেব আরো বলেছে ওরা কিছুদিন এখানে থাকুক একসাথে ঘুরেবেড়িয়ে যদি ডিসিশন চেঞ্জ হয়... ব্যাপার টা ওদের বাসায় জানানো হয়েছে যে সেটা আবার ওদের জানানো হয় নি.....
.
#পরদিন ফাহাদ সাহেব ওদের কে চা বাগান দেখতে নিয়ে গেলেন... উঁচুনিচু পাহাড়ি পথ তাই আনন্দী মাঝে মাঝে হুচুট খাচ্ছে আর আইয়াজ তাকে ধরে পরে যাওয়া থেকে রক্ষা করছে.. ওদের ঝগড়া তখন ও চালু.. আন্ধি সামলে হাটতে পারোনা আরো ব্লা ব্লা বলে... ওরা কেবল ওদের ঝগড়া টা দেখতে পাচ্ছে কিন্তু ফাহাদ সাহেব দেখতে পাচ্ছে একটা পবিত্র ভালোবাসা যেটা ওদের কেউ ঈ উপলব্ধি করছেনা.. ওরা একজন আরেকজনের উপর কত টা ডিপেন্ডেন্ট ওরা নিজেরা ও জানেনা... এক সাথে পালানো এক সাথে ঝগড়া করা... ওদের চিন্তা ভাবনা সব কিছু ঈ এক রকম কিন্তু হয়ত বুঝার মত ক্ষমতা নেই বা বুঝার মত গ্যাপ টা ওরা একে অপর কে দিচ্ছেনা, এসব ভাবতে ভাবতে ফাহাদ সাহেব আনমনে হাসছেন।
.
#পর দিন সকাল বেলা বুয়া আসেনি ফাহাদ সাহেবের বাসায়... তাই নাস্তা রেডি করার সময় ফাহাদ সাহেব ওদের দুজন কে হেল্প করতে বল্লো ...
.
: চাচ্চু তুমি আর মানুষ পেলেনা তোমার ভাতিজি করবে তোমাকে হেল্প হাসালে..
.
: কেন আমার ভাতিজি হেল্প করবেনা নাকি!
.
: সে যদি কিছু পারতো তবেই ত হেল্প করতো.. শুধু গিলতে ঈ শিখেছে আর কিছু করতে জানেনা..
.
:চাচ্চু ওকে থামতে বলবে.. সেই তখন থেকে কি সব বলছে আর তুমি সব শুনে আছো!
.
: আমি আর কি বলবো তুই এক কাজ কর আজ নাস্তা রেডি করে ওর মুখের উপর জবাব দিয়ে দে...
.
: না মানে আমি নাস্তা বানাতে পারিনা..
.
: এই যে দেখলা চাচ্চু যা বলছিলাম হিহিহি মিল্লো ত.... এবার তুমি বলো এমন একটা মেয়েকে আমি কেন বিয়ে করবো যাকে আমার রান্না করে খাওয়াতে হবে তার বিনিময়ে সারাক্ষণ প্যান প্যান করে আমার মাথা খাবে...
.
: চাচ্চু তুমি ওকে থামতে বলবে .. আমি মনে হয় ওকে বিয়ে করার জন্য বসে আছি.. আরে আমাদের বাসা কাজের বুয়ার মেয়ে ও ওকে বিয়ে করতে রাজী হবেনা.. এহ নিজেকে কি যে কি ভাবে.. পাত্তা না পেলে মানুষ কত কিছু বলে..
.
: এই যে থামেন ম্যাডাম.. পাত্তা না পেলে মানে কি!! আমি মনে হয় আপনাকে বিয়ে করার জন্য বসে আছি.. আপনার চে চৌদ্দ গুণ সুন্দরি বউ পাবো আমি দেখে নিয়েন..
.
:তোরা থামবি... এই যা তোরা কিচেন থেকে যা... আমি ই একা ই রেডি করতেছি...
.
#রান্না বান্না করে ফাহাদ সাহেব অফিসে চলে গেলেন এবং বিকেলে অফিস থেকে ফিরে এসে দেখে ঘরের মধ্যে টর্নেডো বয়ে গেছে.. টিভির রিমোট আত্মহত্যা করেছে সারা ঘরে কাঁচা সবজি ছিটানো.. সোফার কুশন গুলোর জান প্রায় যায় যায় অবস্থা...
আনন্দী ভিতরের রুমে শুয়ে আছে আর আইয়াজ ড্রয়িং রুমে...
ফাহাদ সাহাবের বাসার অবস্থা চেঞ্জ হয়ে গেছে...
পরে বাসার অবস্থা আগের রুপে ফিরিয়ে আনতে ফাহাদ সাহেব কে আইয়াজ যথেষ্ট হেল্প করেছে.... আনন্দী রুম থেকে বের ই হয় নি।
রিমোট টাকে সুস্থ করে আনা হয়েছে বাজার থেকে আবার সবজি ও আনা হয়েছে...
তবে রাতের জন্য সিম্পল খাবার রান্না করছেন ফাহাদ সাহেব ডিম আর ডাল..
.
: চাচ্চু তোমার আদরের ভাতিজি কিন্তু ডিম খায় না.. তুমি জানোনা.. ? (আইয়াজ)
.
: আসলেই ত আমি ভূলেই গিয়েছিলাম.. .
#আনন্দীর জন্য আবার মুরগি রান্না করতে হলো তবে আইয়াজ ই এই ব্যাপারে যথেষ্ট সাহয্য করেছে..
ফাহাদ সাহেব আসলে ওদের ঠিকঠাক বুঝতে পারছেনা কখনও মনে হচ্ছে এদের একসাথে থাকা পসিবল না আবার কখনও মনে হচ্ছে দে আর মেইড ফর ইচ আদার... .
.
পরদিন আবার অফিস থেকে এসে দেখে একই অবস্থা .. আজ আর রিমোট টাকে খুজেই পাওয়া গেলো না... কুশন গুলোর তুুলো উড়ছে সারাঘরে... তবে আজ দুজন ই ঘর গোছাতে ও ব্যস্ত হয়ত ফাহাদ সাহেব আরেকটু পরে আসলে ঘরখানা একটু খানি হলে ও গুছানো পেতেন.. ফাহাদ সাহেব খুবই হতাশ হলেন।
.
.
গত রাতেই
নুতুন রিমোট আনা হলো... তবে আজ অফিসে আসার সময় ফাহাদ সাহেব তা ব্যাগে করেই নিয়ে এসেছেন .. ফাহাদ সাহেবের নিজেকে আজ বড্ড বুদ্ধিমান মনে হচ্ছে.. আহা আগে যদি এমন বুদ্ধি থাকতো তবে নীলু আজ তার ই থাকতো সে কথা ভেবে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে কাজে মনযোগী হলেন।
.
এভাবে প্রায় ছয় দিন কেটে গেলো একেকদিন ফাহাদ সাহেব বাসার একেক রুপ দেখতেন... ওদের ঝগড়াঝাঁটি মোটে ও কমার নয় .. সব ভেবে চিন্তে ফাহাদ সাহেব অানন্দী আর অাইয়াজের বাসায় বলে দিলেন ওদের আসলে বিয়ে দেয়া উচিৎ হবেনা.. ওদের সংসার দুদিন ও টিকবেনা...
.
কি আর করার ভেঙে গেলো ওদের বিয়ে ওরা ও বাসায় ফিরে এলো..
তবে আনন্দীর বাইরে বিয়ে ঠিক করা হয়েছে...
এই ব্যাপারে আনন্দীর না বলার মত কোনো ওয়ে ছিলোনা...
.
আনন্দীর বিয়ে হয়ে গেলে ও এই বাসা ছেড়ে চলে যাবে আর তবেই আইয়াজের স্বীধনতা ফিরে আসবে এমন টা ই ধারণা ছিলো আইয়াজের কিন্তু না আইয়াজের কেন যেন খুশি লাগছেনা ব্যাপার টাই..
বিকেলে বাসার গেইটের সামনে অাইয়াজ অফিস থেকে বাসায় আসছিলো আর আনন্দী যাচ্ছিলো .. অাইয়াজ খেয়াল করলো রিকশা তে আনন্দীর ফিয়ন্সে বসে আছে আর আনন্দী সেই রিকশাতেই ওই লোকটার পাশে গিয়ে উঠে বসলো...
ও যার সাথেই যাক বা যার সাথেই বসুক আইয়াজের কেন কষ্ট হচ্ছে! এটাই ভেবে পাচ্ছেনা...
.
অন্যদিকে অানন্দি মনে মনে ভাবছে.. ওকে এই লোকটার পাশে বসতে দেখে না জানি আইয়াজ কি ভাবছে.. নেহাত বাসা থেকে বলেছে ওর সাথে গিয়ে অাকদের শাড়ি পছন্দ করতে নাহয় কে আসতো... আচ্ছা আইয়াজ কি ভাবলো না ভাবলো এটা নিয়ে সে কেন ভাবছে.... .
সন্ধ্যায় আইয়াজ ছাদে দাড়িয়ে নিচে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে... আনন্দী কখন ফিরে সেটা দেখার জন্য... কিন্তু এটা দেখে ওর কি লাভ সেটাই বুঝতে পারছেনা আইয়াজ।
কিছুক্ষণ পর দেখলো একটা রিকশা এসে গেটের সামনে থামলো ... আনন্দীর ফিয়্যান্সে নেমে আনন্দী কে হাত ধরে নামালো.. এটা দেখে আইয়াজের খুব রাগ লাগলো.. রাগে ওয়ালের সাথে একটা পান্স ও মারলো। কিন্তু ওর কেন এমন লাগছে এটা ই বুঝতে পারছেনা...
.
পরদিন অফিস থেকে ফেরার সময় আইয়াজের সাথে একটি মেয়ে আসলো.. আর আইয়াজ সবাই কে মেয়েটিকে আইয়াজের জিএফ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় ...
অানন্দি দের বাসায় গিয়েও মেয়েটির সাথে সবার পরিচয় করিয়ে দিলো... মেয়েটি যথেষ্ট সুন্দরি ও তবে আনন্দীর কেন যেন এই মেয়েটিকে সহ্য হলোনা.. রাগে জ্বলে যাচ্ছিল।
রাতে আইয়াজদের বাসায় ডিনার করে তারপর মেয়েটি বাসায় চলে গেলো...
.
পরদিন আনন্দীর আকদের দিন ফিক্স করা হলো .. আগামিকাল আকদ আর এর পর সুবিধা মত তারিখ ঠিক করে অনুষ্টান করা হবে.. এদিকে আনন্দীর আকদের ব্যাপার টা জেনে আইয়াজ ও বাসায় ডিকলায়ার করে দিলো সে ও তার জিএফ কে কয়েকদিনের মধ্যেই বউ করে নিয়ে আসবে। কারো পরিবার তাদের কাউকেই বাঁধা দিচ্ছে না তবুও ওরা নিজেরাই খুশি না.. ..
সন্ধ্যায় আইয়াজ ছাদে উঠে দেখে আনন্দী উদাস মনে আকাশের দিকে চেয়ে আছে...
.
:যাক ফাইনালি এই ছাদে আকাশ টা আমি একা দেখার চান্স পাচ্ছি... আজ যতো ইচ্ছে দেখে নাও (আইয়াজ)
.
: ওমা একা কেন দেখবে তোমার বউ ও ত থাকবে তখন ( আনন্দী)
.
: হ্যা তা অবশ্য ঠিক... সময় টা তখন খুব রোমান্টিক থাকবে...
.
: তুমি না আমার চে চৌদ্দ গুন সুন্দরি মেয়ে বিয়ে করার কথা .. এই মেয়ে কি আমার চে সুন্দরি...?!
.
: তা ত অবশ্যই সুন্দরি...
.
: এহ সুন্দর হলে কি হবে ! সেদিন দেখলাম রাতের 10 টা বাাজে মেয়েটা ডিনার করে বাসায় ফিরেছে তোমাদের বাসা থেকে.. ভাল মেয়েরা এত রাতে বাসার বাইরে থাকে!
.
: ভালো মেয়েরা ত সারা বিকেল কাটিয়ে সন্ধা পর্যন্ত একটা লোকের সাথে হাত ধরাধরি করে রিকশায় ঘুরে বেড়ায় তাই না...!
.
: ছি! ও আমার উড বি হাজব্যান্ড আর বাসা থেকে বলাতে আমি ওর সাথে বের হয়েছি নাহয় আমার যাওয়ার শখ ছিলো না...
.
: নিধি ও আমার উড বি ওয়াইফ সো আমাদের বাসায় এত রাতঅব্দি থাকা দোষের কিছু না...
.
: আচ্ছা যাও... বিয়ে করো তোমার নিধি কে আমার কি.. আমি ত তোমাকে শান্তির জীবন দিয়ে চলে যাচ্ছি .. আর জ্বালাবোনা সুখে থেকো তুমি.. বিয়ের পর ও আর আসবোনা এই বাসায় দেখে নিও।
.
: এই আনন্দী তুমি খুশি নও এই বিয়েতে?
.
:আমি খুব খুশি...
.
: তোমার ফেইচ কিন্তু তা বলছেনা..
.
: তাতে তোমার কি!
.
:নাহ কিছু না
.
:আচ্ছা দেখো তুমি আকাশ একলা ই দেখো ... আমি যাচ্ছি।
.
:আর কিছুক্ষণ থাকোনা...
.
:কেন! তোমার ত খুশি হয়ার কথা একাই আকাশ দেখবে...
.
:হতে পারছিনা ত খুশি... আমার সব কিছুই উলট পালট লাগছে মনে হচ্ছে মনের মধ্যে একটা অব্যক্ত ব্যথা চেপে আছে যেটা খুব ভারি লাগছে... নিতে পারছিনা।
.
:ত আমাকে কেন বলছো যাও না তোমার জিএফ কে গিয়েই বলো না....
.
:কারণ এসব কিছু তোমার কারণেই হচ্ছে .. তুমি কখনও আমাকে শান্তি তে থাকতে দাওনি আগে ভাবতাম তোমার থেকে দূরে থাকলে আমি শান্তিপূর্ণ জিবন পাবো আজ যখন তুমি চলে যাচ্ছো আমার মনে হচ্ছে আমার সুখ গুলো হারিয়ে যাচ্ছে...
.
: সুখেই থাকবা তুমি বউ নিয়ে .. আনন্দী তোমাকে আর জ্বালাবেনা...
.
: এই বেয়াদব মেয়ে আমি কি এতক্ষণ এসব বলছি!
.
: ত কি বলছো!
.
: আমার তোকে লাগবে সব সময় আমার পাশে.. আমার তোকে অন্য কারো সাথে সহ্য হয়না আগে ও হতোনা .. তুই যখন তোর ছেলে ফ্রেন্ড দের সাথে কথা বলতি আমার খুব রাগ লাগতো. শুধু বুঝতে পারিনি কেন লাগতো তোকে হারানোর ভয় কখনও কাজ করেনি ত এর আগে হয়ত তাই ..
বলনা আমাকে ছাড়া তুই সুখে থাকবি?
.
:তুমি আমাকে তুই বল্লা! :'(
.
:ও মাই আল্লাহ.. একটা চড় মারবো বেয়াদব মেয়ে..
.
: এই আমাকে ছাড়া থাকতে না পারার নমুনা!
.
: আচ্ছা স্যরি.. তুমি যা বলবে এখন থেকে সেটা ই হবে..
.
:সত্যি ত! মশারি টানা তে পারবা প্রতিদিন?
.
:হুম
.
: রান্না করতে পারবা?
.
:হুম
.
: ঘর ক্লিন করতে পারবা?
.
:হুম
.
:আমি মাইর দিলে সহ্য করতে পারবা?
.
:হুম
.
: আচ্ছা রান্না আর ঘর ক্লিন যদি তুমি করো আমি কি করবো!
.
: হুম
.
:কি হু?
.
:তুমি আমার পাশে থাকলেই চলবে..
.
:একটা কথা বলি?
.
: কি!
.
: আমার ও না তোমাকে নিধির সাথে দেখলে ভাল্লাগেনা .
.
:দেখলা এখন ও নিজের অনুভূতি টা হাইড করে সেই আমাকে দিয়েই সব বলিয়ে নিলে..
.
:আমি এমন ই ভাল না লাগলে কেটে পরো ..
.
:আচ্ছা ওকে আমার এমন ই চলবে..
.
:.. এনিওয়ে তোমাকে না প্রত্যেক দিন রান্না করতে হবেনা আমি ও করবো!
.
:কি!! খেয়ে বাঁচবো ত!
.
:আবার!
.
: আচ্ছা ওকে ...কাল ত তোমার আকদ ত কি করব এখন?
.
:আমি কি জানি..
.
: চলো পালিয়ে যায়
.
: আবার! কোথায়?
.
: তোমার ফাহাদ চাচ্চুর বাসায় ..
.
: ওওয়াও গুড আইডিয়া....
.
#এভাবে সারা রাত তাদের কাজ ভাগাভাগি গল্প আর অল্প সল্প ঝগড়া ঝাটি করে কাটিয়ে দিলো.. খুব ভোরেই দুজন বাসা থেকে বের হয়ে গেছে...
এখন তারা সিলেট যাওয়ার পথে আনন্দী আইয়াজের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমোচ্ছে আর তার অবাধ্য চুল গুলো বাতাসে উড়ে বার বার ছুয়ে দিচ্ছে আইয়াজের মুখ... আইজের অনুভূতি টা এখন অসাধারণ যায় হোক না কেন এই মেয়ে কে ছাড়া থাকা যাবেনা... তবে একটা ব্যাপার ভেবে হাসি পাচ্ছে আইয়াজের ফাহাদ চাচ্চু ওদের কে তার ঘরে দেখে হার্ট অ্যাটাক করবেনা ত আবার!

.
.
Israt Rahman (ইশু)

No comments:

Post a Comment