Wednesday, December 24, 2025

গল্প: রাক্ষসী বউ (১ম পর্ব )
[প্রথম দেখা]
একটু শান্তিতে ঘুমাচ্ছিলাম কিন্তু
মায়ের তা আর সহ্য হলো নাহ।
সকাল নয়টা না বাঝতেই শুরু করছে
ঘ্যানোর ঘ্যানোর,,,,,
.
_ ওই অভ্র উঠ,,, কি বলেছিলাম
তোকে কালকে…মনে আছে??
মা প্লিজ ওইসব চিন্তা মাথা থেকে
দূর করো,,, আমি এখন ঘরে রাক্ষস
আনতে পারবো নাহ। যাও প্লিজ
_ যাও মানে?? উঠ বলছি…
মা তোমার আর বাবার মাথায় যে ভুত
ডুকছে তা দ্রুত বের করো…
আমি এই মুহূর্তে বিয়ে টিয়ে করতে
পারবো নাহ…….
_ তোকে উঠতে বলছি উঠ,তা না হলে
গায়ে পানি ঢেলে দিবো কিন্তু
.
কি আর করার?? দ্রুত ঘুম থেকে
উঠে গেলাম কেনোনা মা মোটেও
আমাকে ভয় দেখানোর জন্য এই কথা
বলে নাই  … একবার যখন বলেছে
না উঠলে পানি ঢেলে দিবে তার মানে
দিবেই,এরোকম ঘটনা আরো আগেও
ঘটেছে….
মায়ের বাদ্য ছেলের মতো উঠে
ওয়াশ রুমে চলে গেলাম। তারপর পরিপাটি
হয়ে খাবার খেতে গেলাম।
এবার শুরু হবে বাবার ঘ্যানোর ঘ্যানোর।
.
কিরে ,,, অফিস কেমন লাগছে???
_ বাবা তুমি প্রত্যেক দিন এই একি
কথা কেনো জিজ্ঞেস করো???
এমনি করি,, আচ্ছা যাই হোক
দেখছিস তো তোর মায়ের একা এই
সংসার চালাতে হিমসিম খায়,,, একটা
ব্যাবস্থা কর, ঘরে বউ দ্রুত আন,,,
_ বাবা বউ আনার কি দরকার??
একটা কাজের মেয়ে আনো সেই
ঘরের সব কাজ করবে…
তাহলে আর কি?? তোর সাথে একটা
কাজের মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেই…
_ এটা কি বললা বাবা???
সত্যি আমার ভাবতেই অবাক লাগে
তোর মতো আবুল কি করে যে আমার
ছেলে হলো ???
_  এটা তুমি বলতে পারলা???
আচ্ছা তোমাদের যা খুশি তাই করো..
আমাকে ফাঁসি কাটে ঝুলিয়ে তোমরা
রাক্ষস আনো….
তার মানে তুই রাজি এই তো???
_  হুম
:আচ্ছা শুন তাহলে,আমরা আজকেই
মেয়ে দেখতে যাচ্ছি….
_  তোমরা অলরেডি মেয়ে ঠিক ও
করে ফেলেছো???
হ্যা রে,,, শুধু তোর মুখ থেকে হ্যা
শোনার জন্য ওয়েট করেছি
_  [ কি বাবা মা রে,,,নিজের ছেলেকে
রাক্ষস এর হাতে তুলে দিচ্ছে তাও আবার
নিজ ইচ্ছায়] মনে মনে বললো অভ্র
কিরে??? কি এতো ভাবছিস??? অফিস
যাবিনা???
_ হুম,যাচ্ছি,,,byeee
bye,, ঠিক করে যাস,,
.
এবার বসের ঘ্যানোর ঘ্যানোর শুরু হবে…….
ওনার ধারনা আমি নাকি ঠিক মত
কাজে মন বসাতে পারছি নাহ
ঘরে বউ আনলে নাকি সব ঠিক হয়ে
যাবে,,, আচ্ছা বিয়ের পর কি বউ
আমার অফিসের কাজ কিরে দিবে???
যে বউ আসলে সব কাজ ঠিকঠাক
হবে,,,
নতুন জব বলে হয়তো একটু
ভুল ত্রুটি হয়,,,স্বাভাবিক,,ব্যাপার,
আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে
তাই বলে বউ আনতে হবে
আমার বন্ধুদের মধ্যে
অনেকেই বিয়ে করছে,,,তাদের অবস্থা
দেখে আমি আর ওই পথে হাটতে
চাইছি নাহ,,কিন্তু আমার ভাগ্য টাই
খারাপ  ,,,সবাই আমাকে ধরে
বেঁধে ওই পথেই পাঠাচ্ছে …
আর আমাকে তা নীরবে সহ্য করতে
হচ্ছে,,,
.
অফিসের কাজ শেষে বাসায় আসলাম,,
কলিং বেল দিয়েই যাচ্ছি কিন্তু
কেউ দরজা খুলছে নাহ, হঠাৎ মনে
পড়লো আজকে তো বাবা মা আবার
মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা
এখনো আসে নাই মনে হয়,,
সাইড ব্যাগ থেকে বাসার চাবি নিয়ে
ঘরে গেলাম,,, ফ্রেশ হয়ে একটা ঘুম
দিলাম,,,আল্লাহ জানে এমন শান্তিতে
আর ঘুমাতে পারবো কিনা,,,
তাই এখনি একটু আরামে ঘুম দিলাম
.
ঘুম থেকে ভোর ৫ টায় উঠে গেলাম।
কালকে রাত্রে একটু তাড়াতাড়ি ঘুমাইছি
তাই এতো সকাল উঠতে পারলাম….
আমার আবার খুব ভালো লাগে
সকাল সকাল এক মগ কফি ছাদে
গিয়ে খেতে,,,বিয়ের আগে নিজের
সব ভালো লাগার কাজ গুলো
সেরে ফেলতে চাই। আল্লাহ মালুম
বিয়ের পর আর করতে পারি কিনা
সন্দেহ….
কিছুক্ষন পর দেখি মা ছাদে আসছে
.
কিরে,, এতো সকাল সকাল উঠলি
যে???
_ কালকে দ্রুত ঘুমাইছিলাম তাই…
ওহ,,আচ্ছা ভাল করেছিস,,শুন মেয়ে
আমাদের খুব পছন্দ….
এবার তুই তোর বন্ধুদের সাথে গিয়ে
মেয়েকে দেখে আসিস,,তোর পছন্দ
হলেই ফাইনাল….
_ হুম,,,নিজেকে মারার অস্ত্র দেখতে
যাবো….
এমন ভাবে বলছিস কেন???
তুই একাই বুঝি বিয়ে করছিস,,, তোর
পছন্দ হলে ভাল,না হলে আরো ভাল,,
এই মেয়ের সাথেই তোর বিয়ে ফাইনাল
বুঝলি????
_ হুম,,,
.
আমি আমার মাকে একটু ভয় পাই…
মা যা বলে তাই করে,,,আর একবার
যখন বলেছে বিয়ে করাবে আমাকে
তাহলে করাবেই….
আমার মতো একটা রোমেন্টিক ছেলের
বিয়ে হয়ে গেলে আমার গার্ল ফ্রেন্ড
গুলোর কি হবে আল্লাহই জানেন????
.
এতো দিন আমি মেয়েদের উপর ছুরি
ঘুরাতাম আর এখন রাক্ষস বউ
আমার উপর ছুরি ঘুরাবে…
আমার সুন্দরী সুন্দরী গার্ল
ফ্রেন্ড দের ভুলে এবার নিশ্চয় একটা
রাক্ষুসীর সাথে ঘুরতে হবে।
.
সকাল নয়টায় সব বন্ধুরা চলে এসেছে
মেয়ে দেখতে যাবে বলে…
আসলে আমাকে ফাঁসি কাটে ঝুলাবে
বলে।,,
নিজেরা ঝুলেছে এবার আমাকে
ঝুলাবে
.
১০:৩০ এ বাসা থেকে বের হলাম
ঠিক যায়গায় এসেছি কিন্তু বাসাতো
চিনি
নাহ,,,আর আমার কাছে তাদের নাম্বার ও
নাই,,,কাওকে যে জিজ্ঞেস করবো
তার ও উপাই নাই,,,জিজ্ঞাস করার
মতো কোন মানুষ পাচ্ছি নাহ….
একটা মেয়েকে এতোক্ষনে দেখলাম
আহা মেয়েটা কি সুন্দর,,যদি
মেয়ে দেখতে না আসতাম তাহলে
একেও পটিয়ে ফেলতাম,,,
ইসস মা বাবা যদি এই মেয়েটার সাথে
বিয়ে ঠিক করতো,,,,
যাই হোক এসব ভেবে কোন কাজ
নাই,,,এখন অন্য মেয়েদের দিকে
তাকালেও অপরাধ,
.
_ এই যে শুনছে..????
আমাকে বলছেন???
_ হ্যা ,,,
জ্বী বলেন…
_ আচ্ছা আপনি কি আসিফ চৌধুরী দের
বাসা চিনেন???
কেনো বলুন তো???
_ আমরা ওই বাসায় যাবো
কি দরকারে যাবেন,,,
_ আপনাকে বলবো কেন???
না বললে বাসা দেখাবো নাহ,,
_ কেন???
আমার ইচ্ছা তাই
_ আমরা মেয়ে দেখতে আসছি
ওহহহহ,,,,জ্বী আপনারা সোজা গিয়ে বামে
জান,,,তার একটু সামনে গিয়ে আবার বামে
যাবেন,,,একদম লাষ্টের বাড়ি টা
ওনাদের…
_ আচ্ছা ধন্যবাদ
.
কি মেয়েরে বাবা,,,  ধন্যবাদ দিলাম
একবার ঠিক আছে বা ওয়েলকাম ও
বললো নাহ….
যাই হোক মেয়ের বলা পথে গেলাম
ওমা একি এখানে তো
কোন বাড়িই নেই উল্টো ময়লা
ফেলার যায়গা,,, ময়লার গন্ধে মরে
যাওয়ার অবস্থা সবার
বুঝতে পারলাম নাহ
মেয়েটা কেন ডব দিলো….
মাকে ফোন দিলাম,,,দেন কোন রকমে
ওনাদের বাসায় গিয়ে পৌছালাম,,,,
গল্প: রাক্ষসী বউ (২য় পর্ব)
[লাল চোখ]
দুই তিন বার কলিং বেল চাপলাম,,,তারপর
একজন ভদ্র লোক
দরজা খুলে দিলেন,,, মা বার বার করে
বলে দিয়েছে সবাইকে পা ধরে সালাম
করতে,,,মা বলেছে সো করতেই হবে,,
লোকটার পা ধরে সালাম করে বললাম
আসসালামু আলাইকুম আংকেল।…
আমার বন্ধুরা আমার সালাম করা
দেখে পুরো হা করে তাকিয়ে আছে।
ও হ্যা ওদের অবাক হওয়ার ই কথা
আমি জীবনে কাওকে মুখে সালাম
পর্যন্ত দেই নাই আর সেই আমি
পা ধরে সালাম করছি তাই অবাক …
যাই হোক,,ভদ্র লোক আমাদের ভিতরে
নিয়ে গেলেন,,,এবার আরেক জন
লোক আসলো,,ইনি বেশ স্মার্ট
উনি কে ঠিক বুঝতে পারলাম নাহ…
তো এই ভদ্র লোক আমাকে জিজ্ঞেস
করলো..
.
তুমি-ই তাহলে আসফাক এর ছেলে…??
_ জ্বী….
তোমার নাম কি???
_ অভ্র আহসান চৌধুরী
হুম,,,
তো এবার আমি উঠে গিয়ে সালাম
করলাম,,,
মানুষ করে কথা বলার আগে সালাম
আর আমি পরে করলাম।
আচ্ছা তোমরা বসো,,আমি আসতেছি
_ জ্বী…
..
কৌতুহল বসত প্রথম ভদ্র লোক কে
জিজ্ঞেস করলাম উনি কে???
তো ভদ্র লোক বললেন উনিই আসিফ
চৌধুরী,,, আমি তো পুরাই অবাক,,
তাহলে আপনি কে???
আজ্ঞে আমি এই বাড়ির কাজের লোক,,
একটা বড় আকারের লজ্জা পেলাম,,
আরে সালাম করাতে নাহ,,আমি
বন্ধুদের বলে ফেলেছি ইনিই আসিফ
চৌধুরী হবেন হয়তো….
যাই হোক লজ্জা পেয়েছি যে তা বন্ধুদের
বুঝতে দেই নাই,,,ওরা আমার
দিকে কিভাবে যেন তাকিয়ে আছে,,,
আমি জীবনেও এতো নার্বাস ফিল
করি নাই,,,
এর থেকে তো,, ধুর মনে পড়ছে না কি যেন
ভাল,,
অনেক্ষন ধরে বসে আছি,কিন্তু
এই পর্যন্ত কেউ এক গ্লাস পানি
পর্যন্ত দেয়নি…
কি লোকরে বাবা…..
.
আমি একটা ম্যাগাজিন দেখছিলাম
হঠাৎ আমার এক ফ্রেন্ড
ওই অভ্র..
_ কি???
দেখ
_ আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে,,কি
দেখবো????
দেখি ও দরজার দিকে তাকিয়ে
আছে,,এবার আমিও ওইদিকে তাকালাম
ওমা একি এ যে ওই মেয়েটা,,,
দাড়াও মেয়ে এবার তোমার খবর
বের করছি…
.
_ ওই মেয়ে,,তুমি আমাদের ভুল
পথ দেখালে কেনো….
কখন
_ ইয়ে আল্লাহ,,এতো পুরো অস্বীকার
তুমি আমাদের ডাস্টবিনের পথ দেখাও
নাই..???
_ না তো… আর আপনি কে???
আমি কে নাহ,, তার আগে বলো
তুমি কে???
এখানে কেনো???
:মানে টা কি?? আমি আমার বাসায়,,
কিন্তু আপনি এখানে কেনো???
_  এটা তোমার বাসা???
হুম,,আর ভদ্রতা নাই আপনার,,,
চিনেন নাহ জানেন নাহ অথচ তুমি
করে বলছেন….
_ হ্যেহ আপনার ভদ্রতা আছে???
একটা অচেনা লোক কে ভুল যায়গায়
পাঠিয়ে দেন
.
এতোক্ষনে পুরো বাসার সবাই
চলে এসেছে আমাদের জগড়া শুনে
মেয়েটা আস্তে করে ভিতরে ডুকে
গেল,,আমার বন্ধুরা আমাকে সোফায়
এনে বসালো। মেয়ের কথা শুনে তো
আমি পুরাই….
এ কি মেয়েরে বাবা,,,
যাই হোক,,জগড়া করে গলা শুকিয়ে
গেছিল,,একটু পর দেখি ওই মেয়েই
কাপড় পড়ে নাস্তা নিয়ে আসছে,,,
এতোক্ষনে আমি নিশ্চিত হলাম
যে এর সাথে আমার বিয়ে হচ্ছে নাহ,,
এই মেয়ে এই বাসার কাজের মেয়ে
এই মেয়েকে পাত্রি ভেবে
এতোক্ষন একটু ভাব  মারলাম
যাতে সে আমাকে ভয় পায়….
.
মেয়েটা সবার হাতে নাস্তা তুলে দিচ্ছে,
কিন্তু আমাকে দিলো নাহ,,,
জগড়া করে ক্ষিদে পেয়ে গেছিল
আরেকটু হলে কান্না করে দিতাম
কিন্তু আমার এক বন্ধু তার হাতের টা
আমার হাতে দিয়ে সে অন্য টা নিলো,,,
মেয়েটা আমার দিকে রক্ত লাল চোখে
তাকিয়ে আছে,,আমি তো
ভয় পেয়ে গেলাম,,, কোথায় ওর আমাকে
ভয় পাওয়ার কথা তা না
আমি পাচ্ছি ওকে ভয়,,,,
তো খাওয়া দাওয়া শেষে আমার
বন্ধুরা বললো মেয়ে কোথায় আন্টি…
আমাদের আবার যেতে হবে….
আন্টির কথা শুনে আমি তো শেষ
এই মেয়েই নাকি পাত্রি
শেষ মেষ সত্যিই একটা রাক্ষস জুটলো
কপালে,,,যে ভাবেই হোক
এই বিয়ে আটকাতে হবে,,,নাহলে
আমি শেষ,,,,
আন্টির কথা শুনে আমার বন্ধুরা
একটা চাপা হাসি নিয়ে আমার দিকে
তাকালো  নিজেকে যে অই মুহূর্তে
কি যে করতে ইচ্ছে করছিল….
যাই হোক আমাদের আলাদা কথা
বলতে দেওয়া হলো….
বন্ধুরা বেস্ট অফ লাক দিলো
.
_ এই যে মি:
জ্বী বলেন???
_ আপনার নাম কি???
অভ্র আহসান চৌধুরী (কোথায় আমি
জিজ্ঞেস করবো তা না এই মেয়েটা
জিজ্ঞেস করছে  ),,আপনার???
_ মিথিলা…এনিওয়ে আমি যে আপনাকে
ভুল পথ দেখাইছি এটা ভুলেও কাওকে
বলবেন নাহ কিন্তু,,
কেন (ওরে আল্লাহ মেয়ে তো হুমকি
দিচ্ছে,,রাক্ষস কোথাকার  )
_ আমি বলছি তাই,,, আর হ্যা আজকে
থেকে সব মেয়েদের সাথে কথা বলা বন্ধ
করবেন,,,আর আমাকে রাক্ষসী বলার
কারনে অনেক বড় দু:খ আছে
আপনার কপালে,,
(মনে বললাম,হায় আল্লাহ এই মেয়ে কি
মনের কথাও বুঝে নাকি,,,নাহ আর কিছু
ভাবা যাবে নাহ মনে মনে)
_ কি হলো চুপ কেন,,,আমার কথা
বুঝেছেন???
হুম,,,
.
বাদ্য বাচ্ছা ছেলের মত মাথা নেড়ে
আসলাম আল্লাহ জানে এবার
না আবার মাথায় চড়ে বসে
একটা অদ্বুত শক্তি আমার মুখ দিয়ে
তখন কথা বের করতে দেয় নাই  ….
এর পর ফ্রেন্ড রা কোন রকমে আমাকে
নিয়ে বাসায় ফিরেছে,,,
জীবন নিয়ে আসতে পারছি এই
অনেক ….
মা কে যদি এই কথা টা বলতে পারতাম
ওমা তোমার ছেলে তোমার সব কথা
শুনবে কিন্তু তারপর ও তাকে রাক্ষসীর
হাতে তুলে দিও নাহ
কিন্তু আমি জানি এতে আমি এক
বালতি আফসোস ছাড়া কিছুই পাবো নাহ
মা যখন বলেছে বিয়ে দিবে তার মানে
দিবেই, ,,আর এই মেয়ের সাথেই দিবে
[সুন্দরী রাক্ষুসী]
: এই অভ্র ঘুম থেকে উঠ….
_ ও মা,,আল্লাহ তোমারে এতো মোটা
গলা কেন দিলো,,,আই মিন তোমার
কন্ঠ স্বর,,,
এমন এক চিল্লান দেও যে বুক কেপে
উঠে…
এখন যদি তুই না উঠিস,,,অবস্থা
খারাপ হয়ে যাবে বললাম,,,আমার
কন্ঠ স্বর কে মোটা বলা,,দাড়া দেখাচ্ছি
মজা,,,
_ আউউউউউউউ,,,,
দেখ কেমন মজা,,,এবার না উঠলে
আরো চিমটি কাটবো
..
কি আর করার উঠে গেলাম,,ও হ্যা
এগুলো নতুন ব্যাপার না,, সেই
জ্ঞ্যান হবার পর থেকে প্রতিদিনের
ঘুম আমার এভাবেই ভাঙা হয়
হয়,চিমটি,,,না হয় পানি ঢালা,,আরো
অনেক উপায় আছে যা দারা মা
আমার ঘুম ভাঙায় , এই ধরেন
যেমন : চিমটি,কানে,,,পায়ে,,,নাকে
সুড়সুড়ি দেওয়া,পানি ঢালা,,
আর ওই যে মশলা গুড়ো
করার মেশিং গুলো
আছে নাহ ওগুলো আমার কানের
সামনে বাঝানো …
আরো অনেক কিছু। মা বাবার ঘুম
ও এভাবে ভাঙায়,আল্লাহ জানে
ওই মেয়েটা না আবার এভাবে
আমার ঘুম ভাঙায় ,,,, তাহলে আমি
শেষ ….
কোথায় আমি স্বপ্ন দেখতাম একটা
সুন্দর বউ সকাল বেলা তার
চুলের পানির ঝাপটা দিয়ে আমার
ঘুম ভাঙাবে,,,তার হাতে এক কাপ
চা থাকবে,,সে আআমাকে চা দিবে
আমি চা টা তার হাত থেকে নিয়ে খাবো
আর তাকে একটু পর পর দেখবো,,,
সে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি
দিবে…. আর এখন ভাবছি
আমার বউ এর ই কোন
দরকার নাই,,খাল কেটে কুমির
আনতে কেই বা চায়,,,বলুন???
…….
যাই হোক ঘুম থেকে উঠে ওয়াস
রুমে চলে গেলাম,,,এটাই হয়তো
আমার এক মাত্র শান্তির যায়গা
যেখানে বিয়ের পর বউ ও কিছু
করতে পারবে নাহ,,,আমি প্রায়
মায়ের চিল্লানি শুনে ঘুম থেকে উঠে
বাথরুমে যেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি
আজকেও ঘুমালাম,,,কিছুক্ষন পর
একটা
আওয়াজে আমার ঘুম ভাঙলো,,,
ও হ্যা কে যেন বাথরুমের দরজা
ঢাক্কা দিচ্ছে,,,,বাবারে বাবা কে এমন
জোরে ঢাক্কা দিচ্ছে,,,নিশ্চয় বাবা হবে
কারন ছেলেরা ছাড়া কোন
মেয়ে মানুষ এতো জোরে ঢাক্কাতে
পারে নাহ,,,কিন্তু বাবা তো কখনো
এমন করে নাহ  তাহলে কে???
দ্রুত দরজা খুললাম,,আর একটু
হলে দরজা টা ভেঙেই যেতো,,,
দরজা খুলে তো
আমি পুরা হা
.
_ আপনি???
হ্যা আমি,,,এক ঘন্টা হলো আপনার
রুমে বসে আছি,,আন্টি বললো
আপনি ফ্রেশ হচ্ছেন বাথরুমে ।
_ ইয়ে মানে হ্যা,,,কিন্তু আপনি
এখানে কেনো????
আমার শশুর বাড়িতে আমি এসেছি
তাতে আপনার,,কি???
_(  এখনো তো বিয়েই হয় নাই
আর এই মেয়ে এখনি শশুর বাড়ির
অধিকার বুঝতে আসছে… )
আমার কি মানে,, ?? আমার রুমে
দাড়িয়ে আমার কি জিজ্ঞেস করছেন??
সাহস তো মন্দ নয় ….
আমার সাহস বরাবরিই একটু বেশি
আর আপনার রুম মানে,,,???
এটা আমার ও রুম আজকে থেকে,,
আপনার মা বলেছে,,,ও হ্যা যেটা
বলছিলাম বাথরুমে কি ঘুমাচ্ছিলেন???
_ (এই কেলো করেছে,,,মেয়েটা জানলো
কিভাবে আমি ঘুমাচ্ছিলাল)  আপনি
কি করে জানলেন???
:  তার মানে সত্যিই আপনি
ঘুমাচ্ছিলেন??????
_ নাহ,,কখন ঘুমালাম,,আমি
তো,,ফ্রেস হচ্ছিলাম,,,
ফ্রেস হতে কি দুশো ঘন্ট লাগে???
যত্ত সব পাগলের দল,,
_   ( কান্না করা ছাড়া আমার কোন
উপায় নাই)
আচ্ছা দ্রুত এই জামাটা পরে
বের হন….
….
মহারানীর আদেশ অনুসারে
শার্ট টা পরে বের হলাম,,, Opss sorry
রাক্ষুসীর আদেশ অনুসারে
এখনি এরকম করছে বিয়ে হলে
যে কি করবে আল্লাহ ই ভাল জানে
এসে জিজ্ঞেস করলাম, জামা কেন
পড়ালেন??? যা বললো আমি
তো পুরাই শেষ, এখন এই
মাথা ফাটা রোদে কিনা শপিং
করতে যেতে হবে…
মেয়েরা নাকি শপিং করতে
গেলে দোকান থেকে বের-ই হতে
চায় নাহ,,,
বাবা মার বেশির ভাগ জগড়া এই
শপিং করা নিয়েই হয়,,,
বাবা কখনো মা কে নিয়ে শপিং
করতে নিয়ে যেতে চায় নাহ,,,
যাই হোক সাহস করে জিজ্ঞেস করলাম…..
.
_ শপিং এ কেনো???
মানুষ শপিং এ কেনো যায়?? বোকার
মতো প্রশ্ন করেন কেনো???
আবুল কোথাকার…
_ এই যে মিস রাক্ষুসী,,, যাই বলেন
আবুল বলবেন নাহ,,,
কেনো বলবো নাহ,,আবুল কে তো
আবুল-ই বলবো … আর কি বললেন
আপনি?? আমি রাক্ষুসী,,,হ্যা
আমি রাক্ষুসী এবার আমি আপনার
ঘাড় মটকাবো হুহাহাহা,,,,
_ নাহ..
হইছে হইছে চলেন এখন….
.
মিস রাক্ষুসীর পিছন পিছন শপিং এ
গেলাম
আল্লাহ রে এটা মেয়ে নাকি
অন্য কিছু,,,,?? আমাকে কি
পাইছে আল্লাহ মালুম,,,যা যা শপিং
করছে সব আমার হাতে
দিয়ে রাখছে……
আমি যেন ওনার চাকর,,,আর
আমিও কেমন জেনো কার্টুন হয়ে
গেলাম,,যা বলছে তাই করছি,,,
সন্ধার আজান দিয়ে দিবে
একটু পর অথচ এই মেয়ের
শপিং এখনো শেষ হয় নাই,,,
এদিকে ঘামে,,গরমে আমার
অবস্থা পুরাই খারাপ,,,এত্তো
গুলো ব্যাগ নিয়ে আমি হাঁটছি
আর রাক্ষসী টা আরাম
করে হাটছে,,   পুরো, মার্কেট টাই
মনে হয় কিনে ফেলবে….
আসে পাশের মানুষ গুলো
আমার দিকে ফেল ফেল
করে তাকিয়ে আছে  যেন
আমি জোকার একটা…
আল্লাহ মনে হয় রহমত দিছে
রাক্ষুসী টাকে…
ক্যামনে ক্যামনে বললো,,,চলেন শপিং
শেষ,,,আহ কি শান্তি টাই
না পাইলাম,,
বাসায় যাওয়ার জন্য রিক্সা ডাকতে
গেলাম,,,,
হঠাৎ মেয়েটা এমন জোরে চিৎকার
দিলো যে আমি লাফিয়ে উঠলাম
আর সাথে সাথে আমার হাতের
সব গুলো ব্যাগ পড়ে গেলো…
রাক্ষুসী টা ইয়া বড় চোখ করে
আমার দিকে তাকালো
ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ
হয়ে গেলো….
.
_ কয়টা ব্যাগ ও সামলাতে পারেন
নাহ??? যত্ত সব ছাগল….
আপনি এতো জোরে চিল্লান
দিলেন দেখেই তো,,সব ব্যাগ পড়ে
গেলো….
_ওহ এখন সব দোষ আমার….
আচ্ছা হইছে হইছে রাস্তার মধ্যে
আর…….
চিল্লান দিলেন কেন,,তা এখন বলেন???
_ ফুসকা খাবো, চলেন….
এখন আবার ফুসকা???
_ কেনো ??? কোন সমস্যা?
হ্যা,এখন বাসায় যাবো,,চলেন
_ নাহ আমি ফুসকা খাবো,,,
আপনি চলে যান,,আমি ফুসকা
খেয়ে আসবো….
.
আল্লাহ রে কি ত্যাড়া মেয়েরে বাবা….
এখন একা রেখে চলে গেলে মা
আমাকে মেরেই ফেলবে
কোন উপায় না পেয়ে রাক্ষুসীর
পিছন পিছন গেলাম,,,
_ আপনি খাবেন???
নাহ,,, আপনিই খান, হুহ
_ ঠিক আছে আপনার খাওয়ার দরকার
নাইইই……
……
,,,আমি ব্যাগ গুলো নিয়ে
দাড়িয়ে আছি।,,, আর রাক্ষুসী টা
খাচ্ছে,, দোকানদার টাকেও শান্তি
দিচ্ছে নাহ,এই টক,চায়,এই ঝাল
চায়,,,বুঝি নাহ মেয়েরা
এতো টক ঝাল কিভাবে
খায়,,,
কিভাবে কিভাবে একটা ফুসকা
আমার মুখের সামনে ধরলো
মাথা নেড়ে খেতে বললো
আহ কি রোমেন্টিক সিন,,,
আমি ও ফুসকা টা মুখে নিলাম
ও আল্লাহ রে মরে,,যাচ্ছি,,,
কি ঝাল,,পানি পানি পানি,,,
আমার এই অবস্থা দেখে
রাক্ষুসী টা হা হা হা করে হাসছিল
কোন মতে নিজেকে
সামলে উঠলাম……
নাহ,,মেয়েটা পুরো খারাপ
নাহ,,, আমাকে পানি এনে দিল,পরে,,
তারপর জিজ্ঞেস ও করলো
ঠিক আছেন???
আমিও মাথা নাড়লাম,,,,
সত্যি কথা বলতে মেয়েটা যখন
হাসছিল,,তখন খুব সুন্দর
লাগছিল,,,,
আমার রাক্ষুসী সুন্দরী হবু বউ,,,,
তুমি যদি সবসময় এরোকম হাসি
খুশি থাকতা??? কতই না
ভাল হতো কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য,,তুমি
একটা রাক্ষস  ,,,শুধুই রাক্ষস….
সরি,রাক্ষুসী
[হলুদ সন্ধা]
সময় যত যাচ্ছে আমার ভয় ততো তীব্র
হচ্ছে,,  আর বেশি দিন নেই, মাত্র
তিন দিন পর আমার বিয়ে,,
সামনে রোজা বলে সবাই বিয়ে টা
দ্রুত দিতে চাচ্ছে,,,
আমি জানি সবাই মুখে এটা
বললেও তাদের আসল উদ্দেশ্য
আমাকে রাক্ষুসীর হাতে মারার
কোথায় নিজের বিয়েতে অনেক
মজা করবো,,বন্ধুরা মিলে
রাত ভর আড্ডা দিব তা না
আমাকে এখন ভয়ে দিন রাত
কাটাতে হচ্ছে,,  ,তবে এর মধ্যে
একটা ভাল খবর আছে তা হলো
রাক্ষুসী টা এই তিন চারদিন
আমার বাড়িতে আর আসবে নাহ,,
কিন্তু এইটুকু ভালোর বদলে সারা
জীবন আমাকে কাদঁতে হবে
যে ভাবেই হোক আমাকে এই বিয়েটা
আটকাতে হবে,,,একটা বন্ধু ও
আমার দলে নাই,,,সব গুলা আমারে
রাক্ষসের হাতে দেওয়ার জন্য উঠে
পড়ে লেগেছে,,।
মা-বাবা বন্ধুরা সবাই আমাকে রাক্ষুসীর
হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে
আই মিন বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে….
কালকে আমার গায়ে হলুদ।
হ্যা মুরগি রান্না করার আগে যেমন
গায়ে, লবন হলুদ ভাল করে মাখে
যাতে মাংসে স্বাদ আসে,,আমাকেও
সেই রকম করবে.
ভাল করে হলুদ মেখে,রান্না করে
রাক্ষুসীর হাতে তুলে দিবে,,
আর রাক্ষুসী আমাকে আরাম
করে চিবিয়ে খাবে  ,,,
আর রাক্ষুসীর এই মহা ভোজের
আয়োজন করছে আমার মা-বাবা
আর বন্ধুরা,,,
নাহ এতো সাত পাচঁ ভেবে লাভ
নাই,,বিয়ের পর তো
আর ঠিক করে ঘুমাতে পারবো নাহ
বরং এখনি একটু আরামে
ঘুমাই,,, যা হবার হবে,,মনে
সাহস রাখলে আমি নিশ্চয় এই
রাক্ষুসী কে মেরে তার ভিতরের
রাজকন্যা কে বের করতে পারবো,,
ওতো টাও খারাপ নাহ,মেয়েটা,,
.
_ওই উঠ তারাতারি,,, দিন ১২ টা
বেজে গেলো,,আর মহারাজ এর
এখনো ঘুম-ই ভাঙে নাই…
ওই যে কথায় বলে নাহ যার বিয়ে
তার হুস নাই পাড়াপরশির ঘুম নাই
এর ও হইছে একি অবস্থা,,কিরে
উঠবি????
:  ,, (কত কথা বলতে পারে আল্লাহ যানে,,যাই
বলুক,আজকে আমি আর
উঠছি নাহ)
_ কিরে,,আমি তো একাই বকে যাচ্ছি
তুই উঠবি??? নাকি ঢালবো
পানি???
…. (ঢালো ঢালো,,তাও আমি উঠবো
নাহ  দেখি কত চিল্লাইতে পারো)
_ তারাতারি উঠ বাবা, আমার অনেক
কাজ আছে,,,
… (আমার তো কোন কাজ নাই,,,
তাহলে আমাকে কেন ডাকছে?? ডাকুক
গে আমার কি?? বিয়ের উদ্দেশ্যে অফিস
বন্ধ সো নো চিন্তা  )
_ বুঝেছি,,এই ডাকে কাজ হবে নাহ,,
কিছু একটা করতে হবে
(করো করো যা খুশি করো,,আমি
যখন বলেছি উঠবো নাহ,সো উঠবো
নাহ,,আমি তো তোমারই ছেলে…এক
কথার মানুষ  )
……
আহ কি শান্তি,,চলে গেছে মা,,
কত যে চিল্লাইতে পারে আল্লাহ
যানে, আমি বরং ঘুমাই,,,
আহ কি সুন্দর স্বপ্ন দেখছি,,
আমি আর রাহি পার্কে বসে আছি,
একজন আরেক জনের
হাত ধরে আছি,,,
রাহি ধীরে ধীরে আমার কাছে
আসছে,,,,
এইইইইইইইইইইই
হচ্ছে টা কি,, এতো পানি এলো
কোথা থেকে,,,
মা তুমি???
.
_হ্যা মা,,,পুরা বাপের মতো হইছোস
ঘুমের মধ্যে অন্য মেয়ের নাম নেওয়া??
দুইদিন পর বউ আসবে আর তুই
এখনো স্বপ্ন দেখিস অন্য মেয়েরে
নিয়ে ..
তো এখানে বাবার মতো হওয়ার
মানে কি???
_ তোর বাবা ঘুমায় আমারে নিয়ে
আর স্বপ্ন দেখে অন্য মেয়েরে নিয়ে
আর তোর ও সেই একি অবস্থা,,,
এখন যদি কোন ভাল
কাজ করতাম না মা,,তাহলে তুমি
কি বলতা জানো???
_ কি???
আমার ছেলেটা পুরো মায়ের
মতো হইছে,,
_হইছে হইছে,,এবার উঠ,,, (মুচকি হেসে)
উঠছি,,,যাও তুমি।
.
ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে,,,ড্রয়িং
রুমে গেলাম,,,সবাই খুব বেস্ত
আমার দিকে কেও তাকাচ্ছে ও
নাহ,,,ক্ষিদে পেট জ্বলে যাচ্ছে,,,
ও মা কিছু খেতে দেওনা??
:তুই রান্না ঘর থেকে একটু নিয়ে
খা বাবা, আমার কাজ আছে,,
……
হায়রে বিয়ে,, কারোর একটু আমারে
খাবার দেয়ার ও সময় নাই
যাই হোক রান্না ঘর থেকে খাবার
নিয়ে রুমে চলে,,গেলাম,,,
আহ এমন আরাম করে হয়তো
আর কখনো খাওয়া হবে নাহ,,,
আবির কে ফোন দিলাম,,
…..
_ হ্যালো আবির??
হ্যা বল অভ্র
_আচ্ছা শুন না আমার সাথে একটা
যায়গায় যাবি???
কোথায়???
_ আরে রাহি আমার উপর রাগ করছে,,
ওরে কে বলছে বল তো
আমার বিয়ে,,?? তাই ওর সাথে দেখা
করবো…
শালা তোর বিয়ে দুইদিন পর
আর তুই কিনা অন্য মেয়েরে
নিয়ে এখনো পড়ে আছিস,,?? দারা
ভাবি আসুক,,ভাবি কে সব বলবো
_ ওই তুই কি আমাকে হুমকি দিচ্ছিস??
তোর যদি তাই মনে হয় ,তাহলে
তাই….
_ এখন তুই যাবি কিনা বল??
বিয়ের কাজ নিয়ে বেস্ত আছি,,,
পরে কথা বলবো …বায়
টুট… টুট…টুট…
হায় হায় এই মেয়েতো দেখি
ভালোই দল পাকাইছে,, আমার
সব আপন জনরে আমার কাছ
থেকে কেড়ে নিচ্ছে  এরকম
চলতে থাকলে তো আমি শেষ হয়ে
যাবো  অচিরেই ….
কি আর করার সারাদিন বাসায় বসে
ছিলাম,,
সন্ধা হয়ে গেছে,,আর একটু পরেই
সবাই চলে আসবে,,আমার হলুদ
সন্ধা
এই বলতে বলতে সবাই চলে এলো
:আরে আরে কোথায় নিচ্ছিস
আমাকে,,,
_ ওই গরু আজকে না তোর হলুদ
চল আমাদের সাথে,,,
হ্যা চল
চলে গেলাম ওদের সাথে,,,শহর
তাই ছাদে হলুদ টা হবে,,,
আরে এরা তো অনেক সুন্দর করে
হলুদ এর ব্যাবস্থা করেছে,,
ওই বাড়ি থেকে কয়েক টা মেয়ে
এসেছে,,, আমাকে নিয়ে একটা
যায়গায় বসিয়ে মেহেদি দেয়া শুরু
করলো  হায় আল্লাহ এখন কি
মেয়েদের মতো মেহেদি ও দিতে
হবে,,,?
আমাকে আর আটকানোর সময়
দিলো নাহ,,মেহেদি দেওয়া
শুরু করলো,,
নাহ হলুদ টা অনেক মজা হচ্ছে,,,
গান বাজনা প্রায় রাত দুইটা
পর্যন্ত হলো,,, এর পর সবাই
ছাদেই ঘুমিয়ে গেলো,,,, আর
আমি হাতে মেহেদি নিয়ে বসে আছি।
মা অনেক্ষন পর ছাদে আসলো, ,
এসে দেখে আমি ঘুমাই নাই,,
তাই মা মেহেদি উঠিয়ে দিল,,,
মা তারাতারি ঘুমাতে বললো
কালকে নাকি দ্রুত উঠতে হবে,,,
ওই বাড়িতে একটার আগে যেতে হবে
ওখানেই বিয়ে হবে,,,আমি আর ছাদে
ঘুমাই নাই,,এই হলুদ মাখানো শরীর
নিয়ে রুমে চলে গেলাম,,,
যেয়ে ফ্রেস হয়ে ঘুমালাম,,,
রাক্ষুসী টা এখন কি করছে কে জানে,,
আমার এসব ভেবে কাজ নাই
ঘুমিয়ে পড়লাম,, কালকে তো
আবার রাক্ষুসীর হাতে
আমাকে তুলে দেওয়া হবে,,
এটাই হয়তো আমার শান্তির শেষ ঘুম
[বিয়ে]
রাতে অনেক দেরিতে ঘুমিয়েছি,,তাও
আজকে অনেক ভোরে উঠে
গেলাম,,, কিছুই ভাল লাগছে নাহ
তাই নিজেই এক মগ কফি
বানিয়ে ছাদে গেলাম,,,ছাদে এখনো
সবাই ঘুমাচ্ছে,,শুধু আমার
চোখেই ঘুম নেই,,আর কিছুক্ষন
পরেই আমার বিয়ে,,,মাত্র
কয়েক ঘন্টা আমি স্বাধীন আছি,,,
আচ্ছা রাক্ষুসী টাও হয়তো এখন
ঘুমাচ্ছে,,তাই নাহ,? হুম হয়তো
তাই,,,কেনো জানি আজকে
দুইদিন আমি ওর কথা ভাবছি,,,
নাহ অনেক দিন সিগেরেট এর
টান দেই নাই,,,বিয়ের পর হয়তো
এটাও নিষেধ হয়ে যাবে,,,
কিন্তু সিগেরেট আনবে কে???
ধুর আমিই যাই,,ভাল
লাগছে নাহ,,,কফিটা খেয়ে
বাহিরে যাওয়ার জন্য
টিশার্ট পরলাম,,,দরজার কাছে
যেতে না যেতেই দেখি মা উঠে
গেছে,,, আমাকে দেখলেইই
এখন প্যাচাল মারা শুরু
করবে তাই আস্তে আস্তে লুকিয়ে
বাহিরে চলে আসলাম,,
জুতা পায়ে পরলাম নাহ,,আজকে
হিমু হতে ইচ্ছে করছে,,,
কিন্তু আমার কপালে রুপা নাই
আছে রাক্ষুসী
কোন দোকান খোলা নেই,,
তাই পাশের গলির মামার
দোকানে যাচ্ছি,,আরে আরে আমার
আপন মামা না,,ওনার দোকান থেকে
আমরা সব বন্ধুরা,,চা সিগেরেট খাই
তাই ওনাকে মামা ডাকি
আরকি….
মামার দোকান সারা রাত খোলা
থাকে,,,কত রাত এখানে
আড্ডা দিছি তার হিসাব নেই,,,
…..
_ ও মামা,,কেমন আছো ..????
কেরে???
_ আমি অভ্র,,চিনো নাই??
ওহ,,অভ্র??? হ্যা বাবা ভাল আছি
তুমি কেমন আছো???
_ আর ভাল থাকা,,,আমার
ভাল থাকার দিন শেষ মামা,,,
আচ্ছা যাই হোক মামা একটা সিগেরেট
আর এক কাপ চা দাও,,অনেক
দিন তোমার হাতের চা খাই নাই….
দাড়াও বাবা দিচ্ছি,,,তা তোমার ভাল
থাকার দিন শেষ কেনো???
সবে তো শুরু হওয়ার কথা,,,,
_ বুঝবানা তুমি,,,
থাক,,না বুঝাই ভাল,,এই নাও
চা,আর,সিগেরেট,,,,
_ হুম দাও,,,
…..
অনেকদিন পর সিগেরেট মুখে দিলাম
রাক্ষুসী টা সিগেরেট খাওয়া টাও
বন্ধ করে দিছে,,,
একদিন তো সরাসরিই ধরা খেয়েছি,,,
ছাদে দাড়িয়ে সিগেরেট টানছিলাম
আর পিছন ফিরে দেখি
ইয়া বড় চোখ নিয়ে
রাক্ষুসী টা দাড়িয়ে আছে,,,
আমি তো ভয়ে,,শেষ,
আল্লাহ জানে কি না কি করে,,,
আমার হাত থেকে সিগেরেট
টা নিয়ে নিছে ফেলে দিল,,
আর বলা শুরু করলো
আর জীবনে যদি আপনার
হাতে আমি সিগেরেট দেখি
তাহলে আমার একদিন কি
আপনার,,,একে বারে খুন করে
ফেলবো বলে দিলাম,,,সেই
ভয়ে আমি আর সিগেরেট ধরি
নাই,,আল্লাহ জানে কখন আবার
সামনে চলে আসে,,,
আজ শিওর আসবে নাহ,,তাই
খাচ্ছি  ।।
নাহ আর বাহিরে থাকা যাবে নাহ
আট টা বেজে গেছে,,বাসায়
যেতে হবে,,,আরো এক প্যাকেট
সিগেরেট নিয়ে বাসায় গেলাম,,
যেয়ে দেখি আম্মু দরজার
সামনে দাড়ানো,,,
যেহেতু টিশার্ট সো কোন পকেট
নাই, এখন সিগেরেট এর
এই প্যাকেট লুকাই কোথায়,,
হাত পিছনে নিয়ে বাসায় ঢুকতে
যাচ্ছিলাম,,আর আম্মু বলে উঠলো
…..
_ কোথায় গিয়েছিস????
এই একটু সামনে,,,
_ ওহ,,আচ্ছা ,,যা ঘরে
হুম,,
_ দাড়া,,
কি???
_ তোই হাত পিছনে রেখেছিস কেনো???
ইয়ে মানে এমনি আম্মু
_ দেখি হাত সামনে আন…
আরে আম্মু বলছি তো
কিছুনা,,,
_ তোকে আমি হাত সামনে
আনতে বলছি….

কি আর,,করার হাত সামনে নিলাম
আর শুরু হলো আম্মুর
তুই এখনো সিগেরেট খাস??
তোর এত্ত বড় সাহস তুই
সিগেরেট এর প্যাকেট বাসায়
এনেছিস,,তুই কি ভুলে গেছিস,
তোর মা এখনো বেচেঁ আছে,,,
মায়ের প্যাচাল এখন বন্ধ হবে নাহ,,
আম্মুর গলার আওয়াজ শুনে
আবির নিচে এলো, ,
ও না থাকলে আজকে আমি
শেষই হয়ে যেতাম,,,কোন মতে
ও আম্মুকে সামাল দিয়ে বললো
আন্টি আমি অভ্র কে আনতে বলছি
আমি জানতাম না এটা আনা
নিষেধ,,,তাহলে আমি কখনোই
বলতাম নাহ,,সরি আন্টি,,,
ওর কথা শুনে আম্মু আর আমাকে
কিছু বললো নাহ,,, শুধু বললো
ফ্রেস হয়ে নিতে,,,আর ছাদ থেকে
সবাই কে ডাকতে,,,নাস্তা খেয়ে
আবার কাজ করতে হবে
নাকি ওনাদের,,,,
যাই হোক নাস্তা টাস্তা খাওয়া দাওয়া
হলো,,,সবাই কাজ করছে
আর আমি ফেসবুক গুতাচ্ছি,,,
কিছুক্ষন পর সব বন্ধুরা এসে আমাকে
শেরোয়ানি পড়ালো,,,
রাক্ষসের হাতে তুলে দেওয়ার আগে
সাজানো হচ্ছে আমাকে
শেষ পর্যন্ত বিয়েটা হয়েই
যাচ্ছে আর আটকানো হলো নাহ,,,
দুপুর ১২ টার দিকে আমাদের
বাসা থেকে সবাই রাক্ষুসী দের বাসায়
গেলো,,,ওমা গেটের কাছে
আসতে না আসতে কতগুলো
মেয়ে এসে হাজির হলো,,,
তাদের হাতে ট্রে ছিল,,,
আর ট্রেতে সরবত বিভিন্ন রকমের
কোন টা ঝাল,কোন টাতে লবন
কোন টা তিতো,,নাকি আছে,,আর
একটা ভাল,,,আমাকে এখন
এর থেকে একটা বেছে খেতে হবে
যদি ভাল সরবত খাই তাহলে
নাকি কিছু করবে নাহ,,আর
যদি খারাপ টা খাই তাহলে
১০ হাজার টাকা দিতে হবে  …
এটা আবার কোন নিয়ম
জীবনেও শুনি নাই,,যাই হোক বন্ধুরা
একেক জন একেক টা
খেতে বললো,,কোনটা যে
খাই কিছুই বুজিতেছি নাহ
যাই হোক শেষে একটা গ্লাস তুলে
দিলাম মুখে ওয়াক থু, ,
ও আল্লাহ রে এটা কি
নিম পাতার রস নাকি,,,
মেজাজ টাই গরম হয়ে গেল
আর আবির রে ইচ্ছে মত পিটাইতে
ইচ্ছে করছিল শালা আমাকে
এই গ্লাস নিতে বলেছে,,,,
ও আল্লাহ রে কি তিতা,,,বমি পাচ্ছে আমার,,,মান
সম্মানের ব্যাপার
তাই মুখ বুঝে সহ্য করছি
কিন্তু এই বিচ্ছু মেয়ে গুলা আমার
অবস্থা দেখে
হো হো হো করে হাসতেছে,
একে তো মুখের এই অবস্থা তার
উপর এখন ১০ হাজার টাকাও দিতে
হবে,,,কোন মতে বন্ধুরা জগড়া
করে সাঁত হাজার টাকা দিয়েছে,,,
এবার আমাকে আর বন্ধুদের
একটা যায়গায় নিয়ে বসালো,,,
কতক্ষন পর কিছু হুযুর আসলো
আর আমাকে কবুল বলতে
বললো,,,ইচ্ছে করছিল চিৎকার করে
বলি আমি কবুল বলবো নাহ
আমি রাক্ষুসী রে বিয়ে করবো
নাহ,,,কিন্তু সেই উপায় নাই,,,
শেষ মেষ কবুল বলে দিলাম,,,কবুল
আর সবাই বলে উঠলো
আলহামদুলিল্লাহ আর আমি
মনে মনে বললাম নাউজুবিল্লা
আর কিছুক্ষন পর আমি মরবো ।
হ্যা রাক্ষুসী টাও কবুল
বলে ফেলেছে,,,শেষ পর্যন্ত রাক্ষুসীর
হস্তে তুলে দেওয়া হলো
আমাকে  ……
[ফুলশয্যা]
বিয়ে খুব ভাল ভাবে সম্পুন্য হলো
মানে খুব ভাল ভাবে রাক্ষুসীর
হাতে আমাকে তুলে দেওয়ার
আয়োজন সম্পুন্য হলো,,,,,
খাওয়া দাওয়া শেষ করে হাত
ধুইলাম,,,অনেক বেলা হয়ে গেছে
একটু পর আবার আমাদের বাসায়
যাওয়া হবে। এর আগে কিছু
নিয়ম টিয়ম নাকি আছে,,
ওগুলো পালন করার আছে.
রাক্ষুসীর রুমে নিয়ে যাওয়া হলো
আমাকে,,,
কিছুক্ষন পর আন্টি মানে আমার
শাশুড়ি মা আসলেন
তারপর আমাকে আর রাক্ষুসী
কে পাশাপাশি বসালেন…….।
নাহ রাক্ষুসী টাকে অনেক
সুন্দর লাগছে,,,হেহ কি ভাবছি
আমি,,রাক্ষুসী আবার
সুন্দর হয় নাকি?? এগুলো
হচ্ছে পার্লারের কেরামতি,,,
শুনছি পার্লারে ডুকে সকিনা আর
বের হয় ক্যাটরিনা কাইফ,,,
আর আমার দিকে হয়েছে উল্টা
ডুকেছে রাক্ষুসী আর বের হয়েছে
ময়দা মাখা রাক্ষুসী  ,, হেহে,,
কিন্তু আজকে অনেক চুপচাপ
রাক্ষুসী টা,,,হয়তো বিয়ে বলে,,
যাই হোক রাক্ষুসীর মা
আমাদের দুধ ভাত খাওয়ালেন,,,
আরো অনেক নিয়ম পালন
করেছে,,,এবার আমাদের যাওয়ার
পালা,,,
বিছানায় বসিয়ে ছিল আমাদের
তাই জুতা খুলতে হয়েছে,,,
কিন্তু বিছানা থেকে নেমে দেখছি
আমার জুতা নাই
হায় হায় জুতা গেল কই,,
আমার বন্ধুরা বিছানার নিচে পর্যন্ত
ডুকে গেছে জুতা ভিতরে
আছে কিনা তা দেখতে,,,কিন্তু
জুতার কোন দেখা নাই,,হাওয়া
হয়ে গেল নাকি
আবার সেই বিচ্ছু মেয়ে গুলো
হো হো হো করে হাসছে,,,এবার
বুঝেছি এগুলো এদের-ই কান্ড
ওদের দলের মধ্যে একটা পিচ্ছি
মেয়ে বলে উঠলো পাচঁ হাজার টাকা
না দিলে জুতা দিবো নাহ  ,,,
ওকে থামিয়ে আরেকটা মেয়ে
বললো আরে পাচঁ হাজার কি
কোন টাকা নাকি??? দশ হাজার
পুরো দিতে হবে,,
হায় আল্লাহ আমি কি বিয়ে
করতে আসছি নাকি ফকির হতে
আসছি,,,এরা তো দিনে দুপুরে
ডাকাতি করছে
আমি এবার পুরাই শেষ,,,  রাক্ষুসী
টা আমাকে দেখে মুচকি মুচকি
হাসছে,,, ওর হাসি দেখে
আমার শরীর টা জ্বলে যাচ্ছে
আমার বন্ধু রবি এবার
আমার মনের কথাটা বলে দিলো
আরে আপনারা কি ডাকাতি
শুরু করলেন নাকি????
ওরে থামিয়ে আবির বললো
কুল ম্যান কুল,,,কোন
টেনসেন করিস নাহ,,, আমি জানতাম
ওরা এমন কিছু করবে। কারন
আমার বিয়ে তেও একি
অবস্থা হইছে:'( ,,, যাই হোক
এবার আমি হার মানছি
নাহ,,,আমার বন্ধুর বিয়ের প্রস্তুতি
আমি নিয়ে এসেছি  ,,,
ওই রবি আমার ব্যাগ টা নিয়ে
আয় তো,,,রবি যেয়ে
ব্যাগ টা নিয়ে আসলো,,,,
আরে একেই বলে বন্ধু
তখন আমাকে পঁচাইলেও এখন
একটা দারুন কাজ করেছে
আরেক জোড়া জুতা নিয়ে এসেছে
জুতা গুলো দেখে ওই মেয়ে গুলোর
হাসি মাখা মুখ গুলো পুরা বাংলার
পাচঁ এর মত হয়ে গেছে
এখন ইচ্ছে করছে আমি হো হো হো
করে হাসি,,কিন্তু সেই উপায়
নেই,,নতুন জামাই তো তাই
জুতা গুলো পরে গাড়িতে উঠলাম।
রাক্ষুসী টা অনেক কান্না
করছে,,,ওর মা-বাবা সবাই
খুব কান্না করছে,,এই প্রথম
রাক্ষুসী টাকে কান্না করতে দেখছি,,
খুব খারাপ লাগছে রাক্ষুসী টার জন্য।
আমাকে আর রাক্ষুসী কে
একটা গাড়িতে উঠালো ,,, সারা
রাস্তা একটা কথাও বললো নাহ
রাক্ষুসী টা চুপচাপ ছিল…আর কান্না
করছিল পুরো পথে,,,,,
কিছুক্ষন পর আমরা সবাই
বাসায় এসে পৌছালাম,,,,
ওমা গো এতো ভিড় কেন,,,
সবাই হুড়মুড়িয়ে রাক্ষুসী কে
নিয়ে পরলো,,,
নতুন বউ এসেছে নতুন বউ
এসেছে বলে সবাই
দৌড়ে আসলো,,,
আমাকে সবাই ভুলে গেছে
আমাকে ঢাক্কা দিয়ে ফেলে দিল,,
আর ওরে সবাই ঘরে নিয়ে যাচ্ছে
আমি আমার মা-বাবার কান্ড দেখে
হা করে আছি,,, পিছন থেকে
আবির এসে বললো
দোস্ত তোর দিন শেষ,,,আমাদের ও
একি অবস্থা হইছিল,,,,
যাই হোক আমি আমার রুমে গিয়ে
ফ্রেশ হলাম,,, অনেক ধকল
গেছে বন্ধুরা মিলে তারপর অনেক্ষন
আড্ডা দিয়েছি,,,,
বন্ধুরা সেই তখন থেকে বলছে
আজকে রাত্রে যে ভাবেই হোক
তোকে বিড়াল মারতে হবে,,,
আমি ওদের কথার কোন
মাথা মুন্ডুই বুঝছি নাহ,,,হঠাৎ বিড়াল
মারবো কেন???
…..
_ ওই আবির,,,আজকে বিড়াল
মারবো ক্যান রে???
আরে আজকেই তো মারবিরে
গরু,,আজকে যদি না
মারতে পারিস তাহলে তোর লাইফ
শেষ,,,
_ একটা বিড়াল না মারলে
আমার লাইফ শেষ??
ওরে আবুল,,,ওই বিড়াল নাহ, (আতিফ)
_ তাহলে
……
এতক্ষনে বুঝলাম কোন বিড়াল
এর কথা বলছে,,,এটা ছোট বিড়াল
নাহ বড় বিড়াল এর কথা বলছে।
আই মিন রাক্ষুসী বিড়াল,,,,
রবি কিছুক্ষন পরে এসে বললো
বাসর ঘর সাজানো শেষ,,,
অভ্র কে নিয়ে চল,,,
আমিই জানি ওটা বাসর ঘর
নাকি বাঁশের ঘর,,,
আমাকে নিয়ে ওরা ফুলশয্যার
রুমে গেল,,,
কিন্তু দরজার সামনে যেতে না
যেতে আমার পিচ্ছি মামাতো
বোন আরো অনেক মেয়ে এসে
দরজায় আটকালো আমাদের,,,
ওদের ১০ হাজার ৫০১ টাকা দিতে
হবে না হলে রুমে ডুকতে দিবে নাহ
আমি তো মনে মনে দারুন খুশি
রাক্ষুসীর সাথে থাকতেও হবে
নাহ আর টাকাও দিতে হবে নাহ
আর তাই আমি বলে উঠলাম
ঠিক আছে আমি তাহলে আসি,,,
টাকা আমি দিবো নাহ
আর রাক্ষুসীর সাথে থাকবো ও
নাহ,,,আমার কথায় বেচারি
দের মুখ পুরো কালো হয়ে
গেল,,আর আমি অনেক খুশি
হলাম,,কিন্তু আমার সুখ
আমার বন্ধু দের সহ্য হলো নাহ
ওরা ওদের বললো
দেখছিস তো অভ্র কি বলেছে
এখন তোরা যদি ৫ হাজার টাকায়
রাজি থাকিস তাহলে বল
নাহলে আমরা যাই এই বলে
আবির আমাকে নিয়ে চলে যাচ্ছিল
আমি তো মহা খুশি,,কিন্তু
পিছন থেকে মেয়ে গুলো
বললো আমরা পাচঁ হাজার
৫০১টাকায় রাজি:'(
সাথে সাথে আমার মাথায় বাজ পরলো
আবির ওদের টাকা দিল
ওরা টাকা পেয়ে এক দৌড় দিল
আর আবির,রবি,আতিফ আর
অন্য বন্ধুরা ভাল করে বললো
বিড়াল মারার কথা,,,
আমার গলা পুরো শুকিয়ে কাঠ
হয়ে গেছে,,
ওরা আমাকে রুমের ভিতর
ঢাক্কা দিয়ে ডুকিয়ে দরজা লক
করে দিল
আমি বিছানা থেকে অনেক
দূরে দাড়িয়ে আছি,,
আর রাক্ষুসী টা মাথায় গোমটা
দিয়ে ফুলের বিছানার মাঝ খানে
বসে আছে মাথা নিচু করে ।
অামাকে দেখে মাথা উঠালো,,,
আমি ভয়ে পুরো চুপসে
আছি  আর এখনো বিছানা
থেকে অনেক দূরে দাড়িয়ে আছি।
মাথা উঠিয়ে রাক্ষুসী যা বললো
তাতে আমার চোখ কপালে
উঠে গেছে,,,,
রাক্ষুসী টা আমাকে বলে
কি হলো ওই দিকে দাড়িয়ে আছেন
কেন??? বিড়াল মারবেন নাহ,,
আজকে না মারলে তো
আপনার লাইফ শেষ,,,
ও এগুলো কিভাবে
জানলো তা বুঝতেছি নাহ
আমি মনে হয় এখন পুরাই শেষ …
কিন্তু রাক্ষুসী তেমন কিছু
করলো নাহ,, বিছানা থেকে নেমে
আমার কাছে এসে আমাকে
সালাম করলো,,,,,
আমি তো পুরাই অবাক,,,
আমি ওকে উঠিয়ে দেখলাম
নাহ খুব সুন্দর লাগছে রাক্ষুসী টা কে
ও আমাকে জড়িয়ে ধরলো
প্রথম একটু অবাক ই
হলাম,,কিন্তু বেশি কিছু না
ভেবে আমি ও জড়িয়ে ধরলাম
রাক্ষুসী টা কেন জানি
অনেক কান্না করছে,,,, আমি
ওকে তুলে ওর চোখের
পানি মুছে দিলাম,,, আর
জিজ্ঞেস করলাম,,,কি হয়েছে???
কান্না করছো কেনো? ??
ও বললো
বাড়ির কথা মনে পড়ছে,,,
আমি বললাম ও আল্লাহ কি
বলে সেই দিন বললো
এটা নাকি তার বাড়ি
এখন আবার ওই বাড়ির জন্য
কান্না করছে,,বিয়ের আগে
অধিকার বুঝতে এসেছিলে নাহ??
তবে এখন কেন কান্না করছো ???
বোকা মেয়ে কান্না করে নাহ,,,
কেন জানি আরো জোরে
কান্না করছে….
কি নিয়ম দুনিয়ার ছোট থেকে মেয়েরা
এক যায়গায় থাকে আর বিয়ের
পর সেই যায়গা ত্যাগ করে……

No comments:

Post a Comment