গল্প: রাক্ষুসী বউ (২য় পর্ব)
[জামাই আদর]
সকাল দশটা বেজে গেছে,,
রাক্ষুসী টা অনেক আগে ঘুম থেকে
উঠে গেছে,,আমি ঘুমাচ্ছিলাম।
আমি আজীবন সকাল ১২টা পর্যন্ত
ঘুমাই আজও ঘুমাচ্ছিলাম,,
কিন্তু দশটা না বাজতেই সব গুলো
ফ্রেন্ড হুড়মুড়িয়ে আমার রুমে
চলে আসলো,,,
……
_ কি রে মাম্মা কেমন ঘুম হইলো রাতে???
আর ঘুম
_ আর ঘুম মানে?? কি হয়েছে??
কি আর হবে,,,
_ আরে বলনা মামা,,কি হয়েছে,?
কি আর হবে সারা রাত ধরে
তোর ভাবির নাকের পানি পরিস্কার
করতে হয়েছে,,
_ মানে???? (অবাক হয়ে সবাই
এক সাথে জিজ্ঞেস করলো)
মানে রাক্ষুসী টা রাতে একটু ও
ঘুমাইতে দেয় নাই,,,সারা রাত
প্যান প্যান করছে,,,
_ ক্যান???
ওনার নাকি বাড়ির কথা খুব
মনে পড়ছিল
_ ও তাই বল,,,
সেই কখন থেকে তো তাই বলে যাচ্ছি।
_ আচ্ছা মামা ক্ষেপিস নাহ,,,যাহ ফ্রেস
হয়ে আয়,,নাস্তা খাবো এক সাথে,,
আচ্ছা ঠিক আছে,,,
……
রাক্ষুসী টার নাকের পানি মুচতে
মুচতে আমি শেষ ,,,ছি! এই
নোংরা জামা নিয়ে কিভাবে ঘুমাইছি
আল্লাহ জানে,,,,নাহ তারাতারি ফ্রেস
হয়ে নিই,,,
ফ্রেস হয়ে বাহিরে আসলাম,,,
বন্ধুদের সাথে নাস্তা করলাম,,,
বাসায় এখনো অনেক মেহমান,,,
আমার কোন কাজ নাই তাই
বন্ধুদের সাথে অনেক্ষন আড্ডা দিলাম
মামাতো বোন একটা আইসা
ডাকাডাকি শুরু করছে
……
ও ভাইয়া,,ভাইয়া,,ভাইয়ারে
_ ওই তোর কি হয়েছে,??? এতো
চেঁচামেচি করছিস ক্যান,,,??
আমাদের বংসের সবার গলায় কি
এমন নাকি রে??
কথা কম বল,,আর কাজ কর
বেশি,,,
_ বেশি পাকনামি করিস নাহ,,,যাহ
এখান থেকে,,
আমি কিন্তু ফুফুনি কে বলে দিব,,
_ ওই থেড দেছ তুই আমারে,,,
_ ওই অভ্র কথা কম বলে জিজ্ঞাস
করনা কি কাজ করতে হবে (রবি)
_ হ্যা বলছি,,,আচ্ছা বল কি কাজ
করতে হিবে (আমি)
দাড়াও আমি একটু আসতেছি।
৫ মিনিট পরে এসে বললো
এই বালতির জামা কাপড় গুলো
ছাদে দিয়ে আয়,,,বারান্দায়
দেওয়ার জায়গা নেই,,,ফুফুনি বলেছে
ভাবির গুলো তোকে দিয়ে আসতে।
…..
আমার হাতে বালতি দিয়ে পিচ্ছি
টা এক দৌড় দিল,,,কিছু বলার সুযোগ
ই পেলাম নাহ,,,আমি ওর কান্ড
কালাপ দেখে হা করে দাড়িয়ে আছি
আমাকে দেখে আমার সব গুলো
বন্ধু হো হো হো করে হাসছে,,,,
আর আবির বললো
নে এখন থেকেই বউ এর চাকরামি
করা শুরু কর,,,
কি কপাল আমার বিয়ের একদিন
যেতে না যেতেই বউ এর
কাজ করতে হবে আমার মত
পোড়া কপাল মে বি আর কারোর
নাই,,
কি আর করার,,রাক্ষুসী টার কাপড়
ছাদে দিয়ে আসলাম,,
আজকে নাকি আবার বউ ভাত,,,
আমাকে আর রাক্ষুসী কে
এক সপ্তাহ ওদের বাড়িতে থাকতে
হবে ,, বিকাল বেলা ওদের বাসার
লোকেরা আমাকে আর রাক্ষুসী টাকে
ওদের বাসায় নিয়ে গেছে।
রাক্ষুসী টার কয়টা ছোট
বোন আছে,,,চাচাতো ,,মামাতো,,
ফুফাতো বোন,,,বোন থাকা ভাল কিন্তু
এগুলো বোন নাকি অন্য কিছু
আল্লাহ জানে,,,যতদিন ছিলাম
আমার পিছন ঘুর ঘুর করছে
কিছু করলেই রাক্ষুসী টার কাছে
যেয়ে বলে দেয়,,,এই এক জ্বালা
ছিল রাক্ষুসী দের বাড়িতে,,,,
ঘুম থেকে কে যেন ডাকছে আমাকে,,,
ইসস এটা রাক্ষুসীর কন্ঠ হতেই
পারে নাহ,,,,খুব সুন্দর করে
ডাকছে তাই পিছন ফিরলাম
ওরে আল্লাহ রে,,,এর থেকে তো
রাক্ষুসী ঘুম থেকে উঠানো অনেক
ভাল,,,পিছন ফিরে তো আমার
মরে যাওয়ার অবস্থা,,,এত
ভয়ংকর এটা কি??? ভুত টুত
নাকি,,, আমি ভয়ে বলছিলাম
আমাকে মেরোনা,,,তুমি কে
কি চাও,,,কার ভুত তুমি,?? (ও
হ্যা বলে রাখা ভাল আমি ভুত কে
অসম্ভব ভয় পাই) এটা নিয়ে
আমার বন্ধুরা আমাকে অনেক
ক্ষেপায়। কিন্তু সেই ভুত টা আমাকে
ভয় পেতে দেখে হো হো হো
করে হাসছে,,,এদিকে আমার
অবস্থা তো পুরা খারাপ,,শেষে
আমি সেন্সলেস হয়ে যাই,,,
পরে জ্ঞ্যান ফিরে দেখি আমার
বিছানার চারপাশে অনেক মানুষ
এর মাথা সাথে ওই ভয়ংকর মুখ
টাও আমি তখন ভয়ে দিলাম
এক লাফ,,,পরে রাক্ষুসী আমাকে
বলে ভিতুর ডিম কোথাকার,,,
এই মুখুস টা দেখে কোন
মানুষ ভয় পেতে পারে,,,আবুল
কোথাকার,,আর ভয়ংকর মুখুস
পরা ভুত টা হচ্ছে আমার এক শালী
কি ভাবলো কে জানে,,,নাহ
ভুত বলে কিছু নাই,,আজ থেকে
আর ভয় পাবো নাহ,,,হু
মনে মনে ভাবছিলাম এটা,,,
হঠাৎ রাক্ষুসী বলে উঠলো কি
এখনো ঘুমাবা??? যাও উঠো
মদন কোথাকার,,,এটা কি কইলো
আমারে???আমি মদন?? এই রাক্ষুসী
খবর দার আমাকে এগুলো
বলবানা,,,রাক্ষুসী টা বললো
হুহ আবার বড় গলায় কথা বলে,,একদম
চুপ,,,আমি এটাই বলবো, এবার
উঠো যাও,,,সবাই ওয়েট করছে
নাস্তা খাওয়ার জন্য,,,
যাই হোক ফ্রেস হয়ে ডায়নিং
টেবিল এ গেলাম,,,খুব আদর
করে আমার শাশুড়ি মা আমাকে
টেবিলে বসালো,,,,হায় আল্লাহ
এমন আদরের দরকার নাই,,,আমার
প্লেট এ এতো খাবার ক্যা,,,আমি
শাশুড়ি মাকে বললাম,,,
…..
_আন্টি আমি এতো খাবার খেতে
পারবো নাহ,,,
খেতে পারবানা মানে,,,সব খেতে
হবে,,আর আমাকে মা বলে ডাকবা
বুঝেছো বাবা??
_ সে না হয় ডাকবো ,,কিন্তু আমি
এতো খাবার খেতে পারবো
নাহ,,
…
আমার কথা কে শুনে,,,পিচ্ছি
শালী গুলো জামাই বাবু
জামাই বাবু বলে সব খাইয়ে
দিল এতো খেয়েছি যে দাড়াতে
পারছি নাহ,,পেট টা মনে হয়
ফেটে যাবে,,,আর এটা যদি
জামাই আদর হয় তাহলে আমি
আর জীবনেও শশুর বাড়ি আসবো
নাহ এই এক সপ্তাহ ধরে আমাকে
এই জ্বালা গুলো সহ্য করতে
হয়েছে,,,এই কয়দিন এ আমি
শিওর আমার ওজন ৮০ কেজির
উপরে হইছে,,,আমার এই
স্মার্ট শরীর টার কি অবস্থা
করলো এই রাক্ষুসীর পরিবার
এখন তো কোন মেয়ে ভুলেও
আমার পাশ দিয়ে হাটবে নাহ
এক সপ্তাহ পর বাসায় ফিরলাম।
আমাকে দেখে আমার
বন্ধুরা পুরো হা,,,আমার
এই অবস্থা দেখে, আমাকে দেখে
আতিফ বললো,,,
কিরে এত আদর খাইলি যে
৩০ কেজি ওজন বাড়িয়ে আনলি???
আমি বললাম আদর না ছাই,,,,
দেখছিস আমার এই সুন্দর
ফিগার টার কি অবস্থা করছে
তুই বল এখন আমাকে দেখে আর
কোন মেয়ে ক্রাস খাবে????
ওই তুই এখনো মেয়ে নিয়ে
পড়ে আছিস,, দাড়া ভাবিকে বলছি।
তুই আমার বন্ধু নাহ শত্রু রে বল ত???
আচ্ছা যাহ বলবো নাহ
…….
এরপর থেকে রাক্ষুসী টার
চিল্লানিতে প্রত্যেকদিন
ঘুম ভাঙে আমার ,,,এমন যদি
প্রতিদিন হয় তাহলে আমি নিশ্চিত
আমার হার্ডে প্রবলেম হবে ,,,
দেখতে দেখতে আর বকা খেতে
খেতে বিয়ের এক মাস কেটে
গেল,,, আমার মায়ের চ্যাঁচানো টা
কমেছে আর রাক্ষুসীর টা দিন দিন
বাড়ছে ,,,,
অফিস থেকে বাসায় আসলাম
খাওয়া দাওয়া করলাম,,,করে
টিভি দেখছিলাম,,
আম্মু এসে পাশে বসলো,,
…..
অভ্র তোকে একটা কথা বলার
ছিল….
_ হ্যা মা বলো,,,
বলছিলাম যে আমরা মানে তোর
বাবা আর আমি এখন থেকে গ্রামের
বাড়িতে থাকব
_ কি বলছো এগুলো,,,কেন যাবে??
দেশের ঘর বাড়ি পড়ে আছে দেখার
মত মানুষ নাই,,,তাই,,তুই চিন্তা করিস
নাহ আমরা মাঝে মধ্যে আসবো
এখানে,,
_একে বারে যাওয়ার কি দরকার,,
মাঝে মধ্যে যাও
নারে বাবা,,তুই আর না করিস নাহ,,
আমরা সব ঠিক করে রেখেছি
কয়েক দিন পরে চলে যাব,,
_ :'(আচ্ছা আর কি করার,,যাও তাহলে
…….
মা-বাবা চলে গেলে তো রাক্ষুসী টা
আমাকে একা পেয়ে পুরো
মেরেই ফেলবে
আমার জীবনের প্রদীপ খানা এবার
পুরাই নিভে গেল
বাচাঁর সব আশা শেষ আমার,,,
আল্লাহ তুমি আমারে এ কেমন
মা বাবা দিলা,,,রাক্ষুসীর হাতে
ছেলেকে রেখে নিজেরা আরাম
করতে চলে যাচ্ছে এদের মত
মা-বাবা আর রাক্ষুসীর মত বউ
আমার শত্রুকেও দিও নাহ পিলিজ…
যার এমন মা-বাবা আর বউ
আছে সেই জানে জীবনের
মানে কী….
অভিমান]
দেখতে দেখতে অনেক দিন হয়ে
গেল বিয়ের,,, বিয়ের পর একদিন
ও শান্তিতে ঘুমাইতে পারি নাই
তবে যাই বলি আমার রাক্ষুসী
বউ টা অনেক রাগী ঠিক আছে
কিন্তু খুব কাজের,,,আমি সব সময়
আমার মা কে দেখেছি এত সুন্দর করে
কাজ করতে,,, আর রাক্ষুসী টাও
অনেক সুন্দর করে ঘরের কাজ
করে,,,মা আর বাবা চলে যাওয়ায়
আমার অনেক ক্ষতি হয়েছে,,,
যেই আমি জীবনেও বাজার করা
তো দূরে থাক বাজারের পাশ দিয়ে
হাটি নাই সেই আমি কে এখন মাছ
টিপে দেখে আনতে হয়
যদি মাছ নরম পড়ে বা খারাপ
পড়ে রাক্ষুসী টা আমাকে চিবিয়ে
খায়,,, অফিসের বস ও এখন
অনেক খুশি আমি নাকি
বিয়ের পর খুব সুন্দর করে কাজ
করি,,,বউ আনাতে নাকি কাজে মন
বসেছে….কষ্ট করে কাজ করি আমি
আর সুনাম টা পায় রাক্ষুসী,,,
এখন আর কোন মেয়ের
সাথে দেখা করা দূরে থাক কথাও
বলতে পারি নাহ আর আমার
সবচেয়ে প্রিয় সিগেরেট এর মুখ
টা অনেক দিন দেখি নাই,,,
মনে হয় কয়েক যুগ সিগেরেট এর
সাথে আমার দেখা নাই,,,
বন্ধুদের সাথে আড্ডাও কমে গেছে
ভোর বেলা এখন আর কফি
খাওয়া হয়না,,,কেননা ওই টাইমে
বাজার যেতে হয়,,,
বিয়ের আগেই বুঝেছি আমার
জীবনের সব প্রিয় জিনিস প্রিয়
কাজ আমি বলি দিতে যাচ্ছি,,,
অফিস থেকে একটু লেট করে
ফিরবো তার ও কোন উপায় নাই
রাক্ষুসী টা প্রতিদিন খাবার নিয়ে
বসে থাকে,,, আমি খাওয়ার পর
নিজে খায়,,, এটা খুব ভাল দিক,,,
আমি জীবনে কখনো নিয়ম
মেনে চলি নাই আর সেই আমি
কে এখন প্রত্যেক টা কাজ সময় মতো
করতে হয়,,,,
আজকে শুক্রবার তাই একটু
ঘুমাবো বেলা করে,,,
বিয়ের পর একদিন ও ১২ টার
পর ঘুম থেকে উঠি নাই সকাল
৭ টার মধ্যে উঠতে হয়,,,,
তবে আমার বউ টা এক দিক
দিয়ে খুব ভাল,,,তার চাওয়া
পাওয়া খুব কম,,,আর খারাপ
দিক হচ্ছে সে এই যুগের মেয়ে
কিন্তু একটু ও রোমান্টিক নাহ,,
আমার মতো রোমান্টিক ছেলের
সাথে এটারেই পড়তে হলো
…..
_ এই তুমি ঘুম থেকে উঠবা???
প্লিজ রাক্ষুসী একটু ঘুমাতে
দেও নাহ,,, আজকে তো
শুক্র বার,,,অফিস ও নেই,,,প্লিজ
_ আচ্ছা কাজ করতে হবে নাহ,,,
তুমি উঠো,,,আর দেখ আমি
তোমার জন্য কি রান্না করেছি,,,
কি করেছো???
_ তুমি উঠে দেখোনা,,,
আচ্ছা পরে খাব,,,তোমার কাজ শেষ???
_ হ্যা,,কেন???
তাহলে তুমি ও ঘুমাও আসো
_ ইসস সখ কতো,,, উঠ বলছি,,,
প্লিজ একটু ঘুমাতে দেও না,,,আর
তুমি ও ঘুমাও আসো,,,তুমি তো
আমার কোন কথা শুনো নাহ,,
আজকে একটু শুনো প্লিজ
_ আচ্ছা হইছে হইছে,,,
জানিনা কিভাবে আজকে আমার
কথা শুনলো?? খুব খুশি মনে হয়,,,
আজকের দিন টা আমার মতো করেই
কাটলো,,, আর আমার প্রিয় সব
খাবার রাক্ষুসী টা একা একা রান্না
করেছে,,ওর হাতের রান্না টা
আবার খুব ভাল ।
আমি প্রায় রাতে সিগেরেট খেয়ে
চকলেট খেয়ে আসি অফিস থেকে
যাতে রাক্ষুসী টা না বুঝে,,তাও
মাঝে মধ্যে ধরা খেয়ে যাই,,,
আজকে অফিসের কাজটা একটু
তাড়াতাড়ি শেষ হলো
তাই সেই মামার দোকানে গেলাম
সোজা ,,, যেয়ে দেখি
আবির,রবি,আতিফ,সবাই ওখানে
অনেক দিন পর ওদের সাথে দেখা
হলো,,, ওদের দেখে খুব খুশি
হলাম,,আমাকে দেখে রবি বললো
আরে অভ্র তুই,?? কত
দিন তোর সাথে দেখা হয়না
কেমন আছিস?? আমাদের ভুলে
গেলি নাকি??? আমি ওরে
থামিয়ে বললাম আরে আস্তে আস্তে
এক সাথে এতো প্রশ্ন করলে
উত্তর দিব কোনটার?? আচ্ছা
যাই হোক তোরা কেমন আছিস বল,,,
তোরাও তো আমাকে ভুলে গেলি
একবার ও আমার বাসায় আসলি
নাহ,,,……….
অনেক কথা হলো ওদের সাথে,,,
অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা দিয়েছি
ভুলেই গিয়েছিলাম রাক্ষুসী টা
আমার জন্য ওয়েট করছে,,,
অন্য দিকে সিগেরেট ও খেয়েছি
চকলেট আনতেও ভুলে গেছি
কি যে হবে আজকে আমার আল্লাহ
জানে,,
দরজার সামনে যেয়ে কলিং বেল
দিলাম,,সাথে সাথে দরজা
খুললো আর শুরু করলো,,,
এই তুমি কই ছিলা,,,কয়টা বাজে
দেখেছো,,,তোমার কি আমার
কথা একটু ও মনে পড়েনা,,,আরে
বাসায় সারাটা দিন আমি একা
থাকি এখন কি রাত্রেও আমাকে
একা থাকতে হবে??? আর ফোন
বন্ধ কেন তোমার,,,আমি চুপ
কারন আমি সিগেরেট খেয়েছি
এখন যদি কিছু বলি তাহলে
বুঝে যাবে আমি সিগেরেট খেয়েছি,,,
তাই চুপ,,, মোবাইলের চার্জ ছিলোনা
তাই অফ ছিলো,,,
ওই এখন কি সং এর মত
দরজার সামনে দাড়ায় থাকবা???
ঘরে চলো,,,আমি খাবার
দিচ্ছি তুমি ফ্রেস হয়ে আসো,,,
আমি যেয়ে ফ্রেস হয়ে আসলাম,,,
এসে দেখি খাবার দিচ্ছে,,,
আমি এসে বসলাম,,,
প্লেট এ ভাত দিচ্ছিলো
ভুল বসত বলে ফেলেছি আর
দিওনা,,আর ও বুঝে গেছে আমি
সিগেরেট খেয়েছি,,, আজকে
যদি কিছু বলে তাহলে আমি ও বলবো
ভাতের বাটি টা অনেক জোরে
টেবিলে বাড়ি দিয়ে বললো
…
_ এই তুমি সিগেরেট আজকেও
খেয়েছো???
কতবার বলেছি তোমাকে সিগেরেট
খেতে নাহ,আরে আমি কি আমার
ভালর জন্য বলি?? নাকি তোমার
ভালর জন্য হ্যা??
:এই তুমি চুপ করবা?? আর হ্যা আমি সিগেরেট
খেয়েছি তো???আরে কি
পেয়েছো আমাকে?? আমি
কি তোমার কাজের লোক,,যে যা
বলবা তাই শুনতে হবে,,আরে
তোমার জন্য আমার লাইফ টা শেষ
হয়ে গেছে,,,কি মনে করো নিজেকে???
আমার প্রত্যেক টা প্রিয় কাজ
তোমার জন্য অফ হয়ে গেছে,,,
কখনো আমার ইচ্ছাটা জানতে
চেয়েছো??? তোমার প্রত্যেকটা
ইচ্ছা আমার উপর চাপিয়ে দিয়েছো….
এই বলে প্লেট টা ফেলে চলে আসলাম
ওকে কথা বলার সুযোগ দেই নাই।
আমি ওর চোখের কোনায়
পানি দেখেছি,,,
আসার সময় দেখেছি
প্লেটের টুকরা গুলো উঠাচ্ছে,,
দরজার কাছে গিয়ে দেখি
হাত কেটে ফেলেছে,,তারাতারি
কাছে গেলাম,,,কাটা হাত মুখে
ডুকিয়ে দিলাম,,,হাত টা টেনে
বের করে ফেললো আর বললো
আমাকে নিয়ে আপনার ভাবতে হবে
নাহ,,আর আমাকে যদি এতো টা
অসহ্য লাগে তাহলে বিয়ে করেছেন
কেনো??? বিয়ের আগে বলতে
পারেন নাই আপনি আমাকে বিয়ে
করবেন নাহ …আরে আপনার মতো
ছেলেকে বিয়ে করতে আমার
বয়ে গেছে,,শুধু মাত্র আপনার
মা – বাবার অনুরোধে আমি
আপনাকে বিয়ে করেছি,,,
আপনার মতো ছেলের কোন
যোগ্যতা নেই আমার লাইফ
পার্টনার হওয়ার,,,আর
আগেই বলতে পারতেন আপনার
ব্যাপারে আমি যেন নাক না গলাই
আপনি নিজে নিজেকে কি মনে
করেন .তা..আমি জানি নাহ,,,আর
হ্যা আমাকে যখন আপনার সহ্য
হয়না তখন বিয়ে টা ভেঙে দেন,,,
আমি কালকেই চলে যাচ্ছি
আপনার লাইফ থেকে,,,
মেয়েটা কথাটা বলেই কান্না
করতে করতে হন হন করে চলে গেল ।
হাতের রক্ত গুলো ফ্লোর এ পড়ে
রয়েছে,,,অনেক টা কেটে
গেছে,,, আমি মনে হয় একটু
বেশিই বলে ফেলেছি এতোটা
রাগ করতে কখনো দেখি নাই
দূর কি যে করলাম,,,রুমের
দরজা টাও লাগিয়ে দিয়েছে।
কে জানে হাত টা তে ঔষুধ দিয়েছে
কিনা… আমি যে কি করি নাহ
যে ভাবেই হোক কালকে
রাগ ভাঙাতে হবেই,,,
[সারপ্রাইজ]
রাতে আর ঘুম হলো নাহ,,,সারাটা
রাত মিথিলার কথা ভেবেছি,,,
কে জানে হাত টার কি অবস্থা,,,
কত টা অভিমান করলে মেয়েটা
বিয়ে ভাঙার কথা বলে,,,
যে ভাবেই হোক আজকে রাক্ষুসী
টার রাগ ভাঙাতে হবে,,,আজকে
সেই রাত থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি
হচ্ছে। আবির কে ফোন দিলাম,,,
_ হ্যালো আবির?
হ্যা বল,,,কি হইছে এতো ভোরে
ফোন দিয়েছিস যে,,,
_ দরকারে দিয়েছি রে,,,একটা
হেল্প করতে পারবি????
কি হেল্প বল,,,
_ মিথিলার সাথে জগড়া হইছে
রে,,,এই মূহুর্তে আমার কিছু জিনিস
প্রয়জন তুই একটু আসতে পারবি??
আচ্ছা তুই থাক আমি আসছি,,,রবি
কে নিয়ে,,,
_ ওকে…
…….
আবির চলে এসেছে,,,দেরি করলাম
নাহ দ্রুত বাসা থেকে বেরিয়ে
পড়লাম,,,,,অনেক কষ্টে
একটা কাপড়ের দোকান খোলা
পেলাম,,, নীল কালারের একটা সাড়ি
কিনলাম,,,রাক্ষুসী টার নীল গোলাপ
অনেক পছন্দ,,,,তাই একটা ফুলের
দোকানে ফোন দিলাম,,,পরিচিত
দোকান,,,সব গুলো গার্ল ফ্রেন্ড কে
এই দোকান থেকেই ফুল কিনে
দিয়েছি,,,লোকটার ভাল কাষ্টমার
ছিলাম তাই নাম্বার দিয়ে দিছিল,,,
প্রয়জনে দরকার হয় যদি তাই,।
ভোর ছিল,,তারাও মাত্র ফুল নিয়ে
এসেছিল,,,একে বারে তাজা অনেক
গুলো গোলাপ কিনলাম,,,কিছু কাচের
চুড়ি পেলে অনেক ভাল হতো,,,
কিন্তু কোথাও দোকান খোলা নাই
তাই বাসায় চলে যাচ্ছিলাম,,,
দেখি একজন মহিলা,,ঝুড়ি করে
চুড়ি নিয়ে যাচ্ছে,,,কোথায় নাকি
কি মেলা আছে তাই,,,যাক ভালই
হলো দুই মুঠো নীল চুড়ি নিলাম,,,
বাসায় আসলাম,,, রাক্ষুসী টা
এখনো,,, দরজা খোলে নাই,,,চুপি
চুপি আমরা ভিতরে গেলাম,,,
খাটের পাশের ড্রয়ারে জিনিস গুলো
সাজালাম,,, ওরা কাজ সেরে চলে
গেছে,,,থাকলে ভাল হতো,,,সাহস
পেতাম কিন্তু ওদের নাকি কি কাজ
আছে,,,তাই যেতে হবে,,
যাই,,,,সকালে নিজে কফি বানিয়ে খেয়েছি,,,
তারপর মুড অফের অভিনয়
করে সময় মতো অফিস চলে আসলাম,,
বস কে সব বললাম,,, উনি বললেন
কি সব ব্যাবস্থা করবে,, আমি তো
কিছুই বুঝলাম না শুধু ছুটি চেয়েছি,,,
যাই হোক ওসব ভেবে কাজ নাই
বাসায় ফোন দিলাম অনেক বার
রিং হলো কিন্তু মিথিলা ধরলো নাহ
অনেক্ষন দেওয়ার পর রিসিব
করেছে কল টা
…….
_ হ্যালো,,, মিথিলা?
হ্যা বল,,, (রেগে কথাটা বললো মিথিলা)
_ হ্যা শুনো বাপের বাড়ি যাবা ভাল
কথা,,,আমি আমার একটা ফাইল,,
আমার রুমের খাটের পাশের
প্রথম ড্রয়ারে রেখে এসেছি,,,প্লিজ
একটু দয়া করে নিয়ে আসো,,,, (অনেকটা
রেগে কথা গুলো বললাম,,,)
পারব নাহ,,নিজে এসে নিয়ে যান
_ আমি একটা মিটিং এ আছি,,
প্লিজ একটু নিয়ে আস প্লিজ
আচ্ছা আমি নিয়ে এসেছি,,,
……
রুমে একটা ক্যামেরাও ফিট করে
রেখে এসেছি,,
ও কি করে তা দেখার জন্য,,,
দ্রুত ল্যাপটপ টা অন করলাম,,,
দেখি রুমে ডুকেছে,,,প্রথম
ড্রয়ার টা খুললো,,, মুখ দেখে বুঝলাম
পুরো চমকে গেছে,,,,
গোলাপ গুলো হাতে নিল,,,আমাকে
মনে হয় ফোন করতে যাবে এমন
টাইমে চিঠি টা চোখে পড়লো,,,
হাতে নিল চিঠিটা,,,,আমি পারি
আর ল্যাপটপ এর ভিতরে ডুকে
যাই,,, ,,,
চিঠিতে যা লেখা:
আমার সুইট রাক্ষুসী বউ প্লিজ আর
রাগ করো নাহ,,,আই এম সো সরি জান
আমি তোমাকে অনেক অনেক
ভালবাসি ,,প্লিজ আমাকে
ছাড়িয়া যাইয়ো নাহ তুমি তাহলে
আমি অনেক কানমু আর হ্যা
সেকেন্ড ড্রয়ার টা খোল মাই সুইট
রাক্ষুসী বউ
….
চিঠিটা পড়ে রাক্ষুসী হাসতেছে আর
চোখের পানি মুছতেছে,,,বুঝলাম
প্লেন এ কাজ হচ্ছে,,,
এবার দ্বিতীয় ড্রয়ার টা খুললো,,,
এটাতে নীল সাড়ি টা আছে,,, হাতে
শাড়িটা নিল রাক্ষুসী,,, শাড়ির নিচের
চিঠি দেখে সেটা
হাতে নিল,,আবার চোখের
পানি মুছলো,,,বুঝিনা মেয়েদের
চোখে এত পানি কোথা থেকে আসে
……
হুম শুনো মাই সুইট রাক্ষুসী বউ
এই নীল শাড়িটা পড়,,,শাড়ি টাড়ি
কিনতে পারি নাহ ,,,,নিশ্চয় খুব
খারাপ হয়েছে,,,প্লিজ কিছু মনে
করোনা (মনে হয় এই কথাটা
পড়েই শাড়িটা বুকে ঝড়িয়ে বলেছে আমার
শাড়িটা খুব পছন্দ হয়েছে খুব,,কান্না করতে
করতে বলছিল)
এই শাড়িটা পড়ো তারপর
তৃতীয় ড্রয়ার টা খোল,,,তার আগে
খুলবে না প্লিজ রাক্ষুসী,,,,
………
ওয়াস রুমে যেয়ে শাড়ি টা পরলো,,,
তারপর তৃতীয় ড্রয়ার টা খুললো,,,,
চোখ গুলো ইয়া বড় হয়ে গেছে
রাক্ষুসীর,,,,আর মুখে এক রাশ
হাসি বুঝেছি রাক্ষুসী টার চুড়ি গুলো
খুব পছন্দ হয়েছে,,,হাতে চুড়ি
গুলো নিয়ে দেখছে,,,স্বর্নের চুড়ি
পেলেও মনে হয় মানুষ এতো
খুশি হয় নাহ,,,যতটা রাক্ষুসী হয়েছে,,,
মেয়েটার চাহিদা এত কম জানতাম
নাহ,,,,
যাই হোক চুড়ি গুলো পেয়ে রাক্ষুসী
দেখছিল তারপর শেষ চিঠিটা
হাতে নিল,,,,পড়তে পড়তে হাসছিল,,,
চিঠিতে যা লেখা ছিল:
হুম শুনো চুড়ি গুলো পড়ো
তারপর তোমার ওই ঘন কালো
লম্বা চুলে খোপা বেধেঁ নীল
গোলাপ গুলো খোপায় দেও,,,
আর হ্যা শুনো চোখে কাজল
দিও প্লিজ আর কপালে একটা
কালো টিপ দিও প্লিজজ, তারপর
সোঝা,,,আমার অফিসের সামনে
চলে আসো,,,,সাবধানে আসবা,,,একদন
তাড়াহুড়ো করবা নাহ,,,বুঝলা বাবু
…….
চিঠিটা পড়ে সব গুলো চিঠি
আর গোলাপ গুলো জড়িয়ে খুব
কান্না করছে ,,আবার হাসছেও
বুঝলাম এই কান্না সুখের কান্না,,,
নীল শাড়ি পড়েছে,,,খোপা বেধেঁ তাতে
দুই টা নীল গোলাপ দিল,,,
আর বাকি গোলাপ গুলো আমাদের
রুমে নিয়ে কি করেছে তা দেখি নাই
ওই রুমে ক্যামেরা ফিট করা নাই,,,
প্রায় অনেক্ষন পরে রাক্ষুসী টা
আসলো,,, মুখ টা মনে হয় আমাকে
দেখে কালো করে রেখেছে,,,
রাক্ষুসী টাকে বড্ড সুন্দর লাগছে
আজকে,,, এতো সুন্দর রাক্ষুসী টা
আগে জানতাম নাহ,,,বড্ড বেশি
সুন্দর লাগছে ওকে,,,,নজর ফিরাতে
পারছি নাহ,,,আজকে ও আমার রুপা
শুধুই আমার রুপা
আমি অফিস রুমে আজকে
একটা হলুদ পাঞ্জাবি পড়েছি,,,
হিমু হতে বড্ড ইচ্ছে করছে,,,তাই,,
আমাকে হলুদ পাঞ্জাবি আর
খালি পায়ে দেখে আশে পাশের লোক
আর ও মনে হয় একটু অবাক
ই হচ্ছে,,,অনেক এ আমার দিকে
বাঁকা চোখেও তাকাচ্ছে,,,
সারা দিন অনেক ঘুরলাম,,,সন্ধা
হয়ে গেছে,,,এবার আশে পাশের
একটা চাইনিজ এ গেলাম,,,এবার
তো আমি পুরা অবাক,,, আমার
সব গুলো ফ্রেন্ড আর বস এখানে।
পুরো চাইনিজ সাঝানো,,,চাইনিজ
এ আর কোন মানুষ নাই,,,বুঝলাম
বস এই ব্যাবস্থাই করতেছিল,,,
কিন্তু এর থেকে বেশি অবাক হলাম
ওরা যখন সবাই এক সাথে বললো
হ্যাপি ম্যারেজ ডে অভ্র এন্ড মিথিলা
ভাবি,,,,,, ( আজ আমার বিবাহ
বার্ষিকি,,)
,,,, এই শয়তান গুলো
সারাদিন এক বার ও উইশ করে
নাই নিশ্চয় এই সারপ্রাইজ দিবে
বলে,,,এক বছর হয়ে গেছে আমি
এই রাক্ষুসী সাথে কাটিয়েছি,,,কিভাবে
সময় গেল কিছুই বুঝতেছিনা,,,
এই দিন টার কথাও মনে ছিল,নাহ,,
রাক্ষুসী টা ভাবছে আমি মনে হয়
এই সারপ্রাইজ টার কথা জানতাম,,
আর আমিই ওকে সারপ্রাইজ দিয়েছি
যাক এই বার বন্ধুরা বাচিঁয়ে দিয়েছে
এর পর থেকে মনে রাখতে হবে
তা না হলে,,,আমি শেষ ,,,,
এবার ওরা কোন রকমে বাচিঁয়ে দিয়েছে।
যাই হোক ওরা বাগানে ক্যান্ডেলাইট
ডিনার এর ব্যাবস্থা করেছে,,,ওখানে
আমি আর মিথিলা শুধু ডিনার করেছি,,
অনেক রোমেন্টিক দৃশ্য ছিল
এই মূহুর্ত টা,,,বন্ধুরা এই মূহুর্ত টাকে
ক্যামেরা বন্ধি করে রাখলো,
মিথিলার মন টা অনেক ভাল হয়ে
গেল,,,অনেক রাতে বাসায় ফিরলাম,,,
মিথিলা,,,আমাকে ড্রয়িং
রুমে দাড়া করিয়ে রুমে দরজা
লাগালো,,,বললো কিছুক্ষন
দাড়াতে ও আসতেছে,,,,কিছুক্ষন
পর এসে আমাকে রুমে নিয়ে গেল
আমি তো পুরো অবাক ,,,
সকালের সেই
নীল গোলাপ আর অনেক গুলা লাল গোলাপ
দিয়ে রুমটা সাঝানো,,,
পুরো রুমে অনেক কালারের মোম,,,
অন্ধকার রুমটা মোমের আলোয়
অনেক সুন্দর লাগছে,,,সেই মোমের
আলোয় আমার রুপা টাকে আরো
অনেক অনেক সুন্দর লাগছে,,,লাজুক
মুখে,,নিচে তাকিয়ে আছে মেয়েটা,,,
মুখটা তুললাম,,,খুব অপূর্ব লাগছে
মেয়ে টাকে,,,আগে কোন দিন
এতো সুন্দর লাগে নাই
এই রাক্ষুসী টা কে,,,,,ওর এই অপূর্ব মুখ
থেকে আমার চোখ-ই নামছে না দুজন
দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে
আছি,,,আজকে সারাদিন গুড়ি গুড়ি
বৃষ্টি পড়ছিল,,,মনে হয় এখন
অনেক বৃষ্টি হবে,,,হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকে
উঠলো,,,আর ও আমার হাত থেকে
হাত সরিয়ে জড়িয়ে ধরলো আমাকে,,,
আমিও জড়িয়ে ধরলাম,,,মিথিলা,,,
চোখ বন্ধ করে বললো কথা
দেও আর কখনো আমাকে ছেড়ে
যাবা নাহ,,,,সব সময় আমাকে এমন
আগলে রাখবা,,,, আমি বলে উঠলাম
কথা দিলাম আর কখনো তোমার
সাথে খারাপ ব্যাবহার করবো নাহ
মাই সুইট রাক্ষুসী,,,,
_এই তুমি কি বললা,,,আবার রাক্ষুসী
বললা,,,শয়তান আবুল,,,তোমার
সাথে কথা নাই,,,আমাকে ছাড়িয়ে
বুকে কয়টা ঘুসি দিলো,,,বুঝলাম
অভিমানের মাইর এটা,,,কিছুক্ষন
মারলো,,,যদিও একটা তেও ব্যাথা
লাগলো নাহ এবার আমি বললাম
আরে আরে করছো কি ব্যথা লাগে তো,,
একটা রাক্ষুসী মানুষ কে মারলে
সে তো মরে যাবে,,,,মেরে ফেলবা
নাকি???
কথা টা বলার সাথে সাথে আমার
মুখ চেপে ধরলো,,,আর বললো,,এই
ভুলেও আর এই কথা বলবানা তাহলে
কিন্তু আমিই সত্যি মেরে দিব,
এটা বলেই আবার জড়িয়ে ধরলো
রাক্ষুসী টা,,,জানলা টা খোলা ছিল
দমকা হাওয়ায় অনেক গুলো
মোম নিবে গেল,, দুই তিন টা মোম
জ্বলছিল,,,ভয়ে মেয়েটা আমাকে
আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো,,,,,
এই বাধন মনে হয় আমি জীবনেও
ছাড়তে পারবো নাহ,,,ইচ্ছা থাকলেও
নাহ,,,,,,,, আর আমি ছাড়তেও
চাই নাহ এই রাক্ষুসী টাকে
[গিফট
_ এই শুনছো
হ্যা শুনছি,,,
_ আরে শুনছো যখন তাহলে উঠো,,
আর কত ঘুমাবা,,,???
হুম,,
_ আরে কি হুম?? উঠো নাহ,,,
হুম
_ এই যে কি পাইছেন মি. উঠেন
নাহ কেন???
আরেকটু ঘুমাতে দেও না জানু
_ জানু টানু বলে কাজ হবে নাহ,,,
উঠো,,,নাহলে পানি ঢেলে দিব,,,
তুমি না আমার লক্ষী বউ,,
পিলিজ আরেক টু ঘুমাতে দেও,,,
_ নাহ আমি তোমার রাক্ষুসী বউ,,
এবার,,উঠো অফিস যেতে হবে তো,,
আজকে না গেলে বস কিছু বলবে
নাহ,,,তাও একটু ঘুমাতে দেও,,,
_ নাহ সোজা আঙুলে ঘি উঠবে নাহ,,,
আঙুল ব্যাকাতেই হবে,,,
আরে আরে এখন রান্না করবা নাকি???????
_ হুম তোমাকে রান্না করবো,,,খাওয়ার
জন্য,,বুঝেছো,,,
কি বউ রে আল্লাহ,,,নিজের স্বামী
কে নাকি রান্না করবে,,,
_ রাক্ষুসী রা স্বামী টামী বুঝে নাহ,,
এখন উঠো প্লিজ,,
আচ্ছা উঠছি,,,
_ হুম,,দ্রুত,,,আমি ফ্রেস হয়ে এসে
যেন দেখি উঠে গেছ,,,
…..
এই বলে রাক্ষুসী টা চলে গেল,,
ও আসতে দেরি আছে তাই আবার
ঘুমিয়ে গেলাম,,,মুখে পানির ঝাপটা
পেয়ে ঘুম থেকে উঠলাম,
ভেবেছিলাম রাক্ষুসী টা মনে
হয় গায়ে পানি ঢেলে দিছে,,,তাই
চিল্লায়ে উঠলাম আরে আরে
করছো কি,,, ধূর ও,,,
কিছু ভাঙার শব্দে চোখ টা খুললাম,,
দেখি মিথিলা রুদ্র মুর্তি চোখে
আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,,
আর নিচে চায়ের কাপ টা ভাঙা
এবার বুঝলাম মেয়েটার চুলের
পানি আমার মুখে পড়েছে আর আমি
কিনা গায়ে পানি ঢেলেছে ভেবে
চিৎকার করলাম,,,হয়তো
হাতের ঢাক্কায় চায়ের কাপ টা
পড়ে গেছে এটা আমি কি করলাম,,,
আসলে আমি কোন দিন
ভাবিনি রাক্ষুসী টা এভাবে আমার
ঘুম ভাঙাবে ,,,, নাহ আর
চুপ করে থাকা ঠিক হবে নাহ,,,
সরি সরি জানু,,,আসলে আমি
ভেবেছি তুমি আমার গায়ে পানি ঢেলে
দিছ তাই,,,এমন করলাম,,,
মেয়েটা কিছু বললো নাহ,,,
সোঝা উঠে চলে গেছে,,,যাই হোক
তারাতারি উঠে ফ্রেস হয়ে
আসলাম,,দেখি নাস্তা দিচ্ছে টেবিল
জামা কাপড় পড়ে টেবিলে গেলাম।
খাবার যখন দিচ্ছিল তখন
দেখি হাত টা ফুলে আছে,,,নিশ্চয়
তখন গরম চা হাতে পড়েছে,,,
আমি টেবিল থেকে উঠলাম,,,
আরে আরে না খেয়ে কই যাচ্ছ???
_ দাড়াও আসছি,,,তুমি খাবার দেও,,
আচ্ছা,,,
রুমে এসে ঔষুধ নিলাম,,,ডায়নিং
এ গিয়ে বললাম,,হাত টা দেও
তো,,,প্রথম বাম হাত দিল,,আমি
বললাম আরে যেই হাত পুড়ে গেছে
ওটা দেও,,,প্রথম দিতে চায়নি
কিন্তু আমিই জোর করে ঔষুধ টা
লাগিয়ে দিলাম,,,
……
প্রায় অনেক দিন ধরে মিথিলা
কেমন জানি ব্যবহার করছে,,অনেক
টা বাচ্ছাদের মত,,,আর একটু অসুস্থ
ও দেখাচ্ছে,,,নিজে একা একা
ডাক্তারের কাছে গিয়েছে,,,কিছু
হয় নাই বলছে,,,কিন্তু আমার
মনে হচ্ছে সিরিয়াস কিছু হয়েছে,,
অফিসের ব্যাস্ততায় জিজ্ঞেস করব
করব বলেও আর করা হয় নাহ,,
একদিন বাসায় আসলাম,,দেখি
পাগলের মত কি জানি খুজতেছে,,
আমি জিজ্ঞেস করলাম
আরে আরে এমন করে কি খুজতেছো???
আচার খুজতেছি,,,
_ আচার দিয়ে কি করবা???
আচার মানুষ কি করে??
_ খায়,,কিন্তু তোমাকে আগে কখনো
খেতে দেখেনি,,,ইদানিং তুমি
খুব আচার খাচ্ছ,,,
হ্যা খাচ্ছি,,,আমার খুব খেতে
ইচ্ছে করছে প্লিজ এনে দেও না,,,
_ আচ্ছা দিচ্ছি,,,যাও তুমি গিয়ে
বসো,,,
বাহিরে এসে আচার কিনে বাসায়
গেলাম,,,পাগলের মত আচার গুলা
খেল,,রাতে ঘুমাচ্ছিলাম হঠাৎ
কান্না শুরু করলো,,,আমি জিজ্ঞেস
করলাম আরে আরে কান্না করছো কেন??? যা
বললো তাতে তো আমার
চোখ কপালে উঠে গেল,,,এই ঠান্ডায়
নাকি সে আইস্ক্রিম খাবে তাও এতো
রাতে,,,বুঝতেছি নাহ ওর এই অদ্ভুত
ব্যবহারের কারন,,,নাহ কালকে
মাকে বলতেই হবে,,,খুব
সিরিয়েস কিছু হয়েছে হয়ত,,,এই মাঝ
রাতে যেয়ে ওর জন্য আইস্ক্রিম কিনে
আনলাম,,তাও তিন টা,,,
এক বসায় সব গুলো খেল, আবার
বাচ্ছাদের মত ঘুমিয়ে পড়লো
এবার খুব টেনসেন হচ্ছে
হঠাৎ এমন বাচ্ছাদের মত কেন
ব্যাবহার করছে,,,সকালে ঘুম থেকে
উঠে মা কে ফোন দিলাম
_ হ্যালো মা,,আসসালামু আইলাইকুম,,,
হ্যা বাবা বল,,,এতো সকালে
ফোন দিলি যে??
_ মা তোমাকে কিছু বলার আছে
হ্যা বল,,,
মাকে সব বললাম,,মা আজকেই
বাসায় চলে আসবে,,তাও একেবারে
বুঝতেছি নাহ মা হঠাৎ চলে আসার
কথা কেন বললো,,
রাতে মা-বাবা চলে আসলো,,,
মা মিথিলার খুব কেয়ার করছে,,
ওকে কোন কাজ করতে দিচ্ছে নাহ
আমি কিছু জিজ্ঞেস করলে তার
কোন উত্তর দিচ্ছে নাহ,, প্রায়
মা মিথিলাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে
যায়,,এবার আমি পুরো শিওর
ওর কিছু হয়েছে,,,খুব কান্না পাচ্ছে
মা কিছুই বলছে নাহ,,,
….
মা এই মা কি হয়েছে বলবা??
তোমরা ওর সাথে এমন ব্যাবহার
কেন করছো,,,মা ওর কিছু হয়
নাই তো??প্লিজ তোমরা আমাকে
বলো আমি ভেঙে পড়বো নাহ
তাও বল প্লিজ ওর কি হয়েছে???
মা ওর কিছু হলে আমি বাচঁবো নাহ
প্লিজ বলো নাহ।কান্না করতে করতে
কথা গুলো বলছিলাম,,,আমার চিৎকার
শুনে বাবা আর মিথিলা চলে
আসলো,,,মিথিলাও কান্না করছে,,
মা ও কান্না করছে,,,
এবার মা বললো আরে আমার
বোকা ছেলে,,মিথিলার কিছু
হয় নাই,,,তুই বাবা হতে চলেছিস,,বুদ্ধু
আমরা তোকে বলি নাই কারন
শিওর হতে চেয়েছি,,তারপর তোকে
বলতে চেয়েছি,,আর আমরা এখন
শিওর তুই বাবা হতে চলেছিস,,,
মায়ের মুখে কথাটা শুনে,,আমি
আর কিছু বলতে পারলাম নাহ,,,
হাসবো নাকি কান্না করবো
বুঝতেছি নাহ,,,বাবা মার সামনেই
মিথিলাকে জড়িয়ে ধরলাম।
মেয়েটা লজ্জা পেয়ে সরে গেল,,,
আর বাবা মাও রুমে চলে গেল,,,
এবার বললাম এই রাক্ষুসী তুমি
আমাকে বল নাই কেন আমি আর
তুমি বাবা মা হতে চলেছি,,যাই
হোক এসব বলে এখন কোন কাজ
নাই তুমি এই কয়দিন সম্পুন্য রেস্ট
এ থাকবা বুঝলা?? আমার সব কথা
শুনে চলবা,,,আচ্ছা আমার কিন্তু
একটা ছোট রাক্ষুসী চাই বুঝলা,,,
নাহ আমার একটা ছোট অভ্র চাই
_ শুন,,আমি ওর বাবা আর আমার
একটা ছোট রাক্ষুসী চাই,,
আমি ওর মা,,আর আমার একটা
ছোট অভ্র চাই,,,
_ আচ্ছা জগড়া করে লাভ নাই
যাই হোক,,তাতেই আমি খুশি
হুম,,
বন্ধুদের এই কথা যখন বলেছি
ওরা কেও বিশ্বাস-ই করে নাই
আমি,,,আমি বাবা হতে চলেছি,,,
তবে এই কয়দিন সবাই আমাকে
ভুলে গেল,,,রাক্ষুসী টার যত্ন সবাই
করছে এমন কি আবির,রবি,আতিফ
আমার সব বন্ধু,,,ও যা চায় তাই এনে
দেয় ওরা মা ওর সব প্রিয়
খাবার রান্না করে খাওয়ায়,,,,
আমার প্রিয় খাবারের নাম ও মনে
হয় এরা ভুলে গেছে
একদিন রাত্রে ঘুমাচ্ছিলাম হঠাৎ
মিথিলা চিৎকার দিয়ে কান্না করতে
লাগলো,,,ওর নাকি পেটে ব্যাথা
করছে,,,,বাবা মা দ্রুত ওকে
হাসপাতালে নিয়ে গেল,,সব বন্ধুরা
এই রাত্রে বেলা চলে আসলো,,,
সবার মুখে এক রাশ চিন্তা,,,কিছুক্ষন
পর ডাক্তার এসে বললো,,,
কংগ্রেস আপনি বাবা হয়েছেন আর
আপনার একটা ফুট ফুটে
সুন্দর মেয়ে হয়েছে,,,,,
মা মেয়ে দুজন সম্পুন্য ঠিক আছে
আমার মেয়ে হয়েছে,,,আমি বিশ্বাস
করতে পারছি নাহ,,জীবনে মনে হয়
এতো খুশি কখনো হই নাই,,,
মা-বাবা সবাই অনেক খুশি,,,কেও
হাসি আর ধরে রাখতে পারছে নাহ,,,
মা – বাবা ডাক্তারের সাথে কথা
বলছে,,, আর বন্ধুরা আমাকে নিয়ে
কি যে করছে বলে বুঝানো যাবে নাহ,,,
এবার আমি রাক্ষুসী টার কাছে
গেলাম,,,হাসি মুখে আমার দিকে
তাকিয়ে আছে,,,বাচ্ছাটা পাশে
ঘুমিয়ে আছে,,,কি সুন্দর আমার মেয়েটা
পুরো আমার মত ,,,
প্রথম ওকে ধন্যবাদ দিলাম এতো
সুইট একটা মেয়ে আমাকে গিফট
দেওয়ার জন্য,,,তারপর বললাম,,
_ দেখছো,,আমার মেয়েটা পুরা
আমার মত হয়েছে
ইসস ও আমার মেয়ে আমার মত
হয়েছে,,,
_ আমি বলছি আমার মত,,,
হাসপাতালেই জগড়া শুরু করলাম।
মা এসে বললো আরে আরে কি
শুরু করলি,,তোরা,,,এত জগড়া
করছিস কেন,,,থাম,,আর মিথিলা
দেখ কে এসেছে,,,তোমার বাবা মা,,,
ওর বাবা মা এসেছে সবাই অনেক
খুশি,,,,
……
ঘুমাচ্ছিলাম হঠাৎ কে যেন গায়ে
পানি ঢেলে দিল,,,আরে আরে কে
গায়ে পানি ঢাললো???
_ এই যে আমি ঢেলেছি,,,,অরিন,,,
তুমি ভুলে গেছ তাই নাহ,,,
ওহ আমার পিচ্ছি রাক্ষুসী
_ বাবাই ভাল হচ্ছে নাহ,,,তুমি
আমাকে রাতখুসী ডাকবা নাহ,,তাহলে
আমি তোমার সাতে কথা বলবো নাহ,
:হা হা হা,,, আচ্ছা ঠিক আছে বাবাই অরিন কে আর
রাক্ষুসী ডাকবে নাহ,,,তাও
যেন রাগ করিস নাহ,,,আর আমি
কি ভুলে গেছি রে???
_ কিছুনা,,,
এবার তুমি উথো,,,অফিস যাবা তো
আম্মু ডাকছে,,,
আচ্ছা উঠছি,,,
আজ আমার অরিন এর ৫ম জন্ম
দিন,,,ও নিশ্চয় ভেবেছে আমি
ভুলে গেছি,,,কিন্তু আমি কি
আমার মিষ্টি রাক্ষুসী টার জন্মদিন
ভুলতে পারি??অফিস থেকে ফিরার
সময় অনেক গুলো গিফট নিয়ে বাসায়
গেলাম,,,কলিং বেল চাপলাম,,,
মা এসে দরজা খুললো,,বাসায়
আমার সব বন্ধু,,মিথিলার বাবা মা
ফ্রেন্ড সবাই এসেছে,,,সবাই কে
দেখছি কিন্তু অরিন কে দেখছি নাহ
মা কে জিজ্ঞাস করলাম,,অরিন কই??
বললো রুমে আমার জন্য অপেক্ষা করছে,,,
আমি রুমে একা একা গেলাম,,,,যেয়ে দেখি মুখ
কালো করে বসে আছে,,,সরি বললাম
শুনলো নাহ,,গিফট দিলাম,,তাও
নিলো নাহ,,লাষ্ট কানে ধরে উঠবস
করলাম,,,এবার হেসে উঠলো
দেখি অনেকে হাসছে,,দরজার
পাশে দাড়িয়ে,,,আমাকে কানে ধরতে
দেখে ,,,দ্রুত কান থেকে
হাত নামালাম,,,খুব আনন্দ করলো
সবাই এই দিনটি তে,,,
সত্যি ওর ব্যাবহার পুরো মিথিলার
মত,,,মায়ের মত আমাকে নাকানি
চুবানি খাওয়ায় প্রতিদিন কিন্তু
অরিন তার বাবাই কে খুব ভালবাসে,,,
আর আমিও খুব ভালবাসি আমার
সুইট মেয়ে অরিন কে,,,,
দেখতে দেখতে হয়তো একদিন
আমার এই মেয়ে টা অনেক
বড় হয়ে যাবে।…..
……
সমাপ্ত…….
লেখাঃ অরণ্যানী অনামিকা
Wednesday, December 24, 2025
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment