-তোমাকে দিয়ে কোন কাজই হবে না।(আমি)
-কেন?(ইপ্সিতা)
-কত কষ্ট করে আব্বুকে রাজি করিয়েছি তুমি জান?
-হ্যা জানি তো।
-কঁচু জান।জানলে অমন বেহায়ার মত সামনে এসে
বসতে না।
-মানে কি হুম।তুমিই তো বলেছিলে আব্বুর
সামনে শাড়ি পরে আসতে।
-হ্যা বলেছিলাম।তবে আগোছালো ভাবে
পরতে বলিনি।
-আমি তো পরেছিলাম ভালভাবেই,তারপর ভাবীও
তো দেখে বলল ভালই লাগছে।
-পঁচা লাগছিল।ঠোঁটে অমন করে লিপিষ্টিক মেখে
পেত্নি সেঁজেছিলে কেন?
-কই আমি তো একটুও লিপিষ্টিক লাগায় নি।আমার
ঠোঁট এমনিতেই লাল।
-যাই হোক চোখদুটো ট্যারা করে
রেখেছিলে কেন?
-কখন একেবারে না।
-তোমার চুলগুলো অনেক ছোট।
-কে বলল?আমার চুল অনেক লম্বা।
-চুপ একেবারে চুপ আব্বুর সামনে একটি দিনের
জন্য ভদ্র সেঁজে থাকা গেল না।
-আমি কিন্তু কান্না করব এভাবে কথা বললে।বল কি
হয়েছে?
-কি হয় নাই তাই বল?আব্বুর তোমাকে পছন্দ হয়নি।
-মানে?
-তিনি বলেছেন এমন অভদ্র মেয়েকে তিনি
কখনই তার পুত্রবধু হিসেবে গ্রহন করবেন না।
-আমার দোষটা কি সেটা তো বল?
-তুমি নাকি আমার আব্বুকে সালাম দাও নি।
-কিইই,এত বড় মিথ্যা কথা।আমি তো উনাকে সালাম
করেছি উনি খুশি হয়ে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে
দিয়েছিলেন।
-হতে পারে তবুও আব্বুর কোন কারনে
তোমাকে ভাল লাগেনি তাই আমাকে জানিয়ে দিল
আগামী সপ্তাহে আমার বিয়ে।
-বিয়ে মানে কার সাথে?
-আব্বু যাকে পছন্দ করবে।
-তাহলে আমি কি করব?
-তুমিও অন্য কাউকে বিয়ে করে নিবে।
-কি বললে তুমি মেরে তোমার ঠ্যাং ভেঙে দিব।
-সেটা আর হবেনা,আব্বু বলেছে বিয়ের আগে
যেন বাসা থেকে বের না হই।
-মানে কি?তুমি আমাকে এভাবে ঠকাতে পার না।
-আমি নিরুপায় আমার কিছুই করার নাই।তুমি আব্বুর
মনের মত হতে পারনি এটা তোমার দোষ।
-এখন এসব বলছ কেন?প্রেম করার আগে মনে
ছিলনা।(কান্না কন্ঠে বলল)
-এমনটা হবে জানলে প্রেম করতাম না।
-কিইই?কি বরলে তুমি?তোমার মত এতটা ভীতু
রামছাগলের সাথে প্রেম করাটাই আমার ভুল
হয়েছে।
-তাহলে সংশোধন করে নাও।
-মানে?
-ভুলে যাও।
-এত সহজে আমি তোমাকে ছেড়ে দিব না।
(কেঁদে কেঁদে বলল)
-তাহলে কি করবে শুনি?
-আমি সুইসাইড করে চিরকুটে লিখে যাব আমার
পেটে তোমার বাচ্চা ছিল,আমার অস্বীকার
করেছ বলে আমি সুইসাইড করেছি।
-করতে পার। আমার কোন সমস্যা নাই।
-কি বললে তুমি?আমি মরে গেলে তোমার কিছু
যায় আসে না।এতদিন শুধু অভিনয় করেছ?
-হুম।
-তুমি একটা ছ্যাচড়া,শয়তান।(কান্না কন্ঠে)
-আর কিছু।
-তুমি গিরগিটি,কুত্তা,ব্যাঙ উহু উহু উহু উহু...
টুট টুট টুট
-হ্যালো হ্যালো হ্যালো
যা চেয়েছিলাম তাই হল।আমার মিথ্যেগুলো
একেবারে টপ করে গিলে ফেলেছে।প্রচন্ড
রাগে অভিমানে কাঁদতে কাঁদতে ফোন
কেটেছে।এই যা আবার কল দিয়েছে...
-হ্যালো..(আমি)
-আমার সাথে কেন করলে এগুলা।
-ইচ্ছে হল তাই।
-ভালবাসাটা এতই সস্তা জিনিস চাইলেই ছুড়ে ফেলা
যায়।
-আমার কাছে ওরকমই কিছু একটা।
-আমার জীবনে সবথেকে ভুল কি জানো?
-কি?
-তোমাকে মনে প্রানে ভালবেসেছি।
-হতে পারে।
-একটা কথা শুনে রাখ অন্যকে কাঁদিয়ে নিজে
কখনও সুখী হওয়া যায় না।
টুট টুট টুট
-হ্যালো হ্যালো।
এবারও রেগে ফোন কেটে দিল।প্রচন্ড
রকমের ভালবাসে।আমি যে মিথ্যে গুলো
বলেছি বিশ্বাস করেছে,তবুও মাঝে মাঝে
ফোন দিয়ে বলবে এটা মিথ্যে তাই না শুভ্র।আমি
যদি বলি না আবার ফোন কেটে দিবে।তবুও
সহজে ভুল বুঝবে না।
.
ইপ্সিতাকে আমি সেই কলেজ লাইফ থেকে চিনি।
দেখতাম ভালই লাগত।ভাল লাগাটা কখন যে ভালবাসায়
পরিনত হয়ে বুঝিনি।সৌভাগ্যবশত কলেজ লাইফ
শেষে একই ভার্সিটিতে চান্স পাই দুজন।তারপর
থেকে হালকা হালকা কথাবার্তা হত ক্লাসের বিষয়ে।
একসময় বলেই ফেলি ভালবাসি তোমাকে।নরম
স্বভাবের এই মেয়েটি যে এত পাকনী,উত্তরটা
দেয় একমাস পরে,এরকম ছিল উত্তরটা,দেখ ওসব
ভালবাসায় আমার এ্যালার্জি আছে,ভালবাসি যদি বলি কাল
বলবে রুমে চল।আমি ওসব লুতুপুতু প্রেম করতে
চাইনা তাই ভাবাভাবির কোন ব্যাপার নাই।কি সাংঘাতিক
মেয়ে একমাস ভেবে এই উত্তর দিয়ে বলে
ভাবাভাবির সময় নাই।রাগে ক্ষোভে চরিত্র নিয়ে
কথা বলল বলে দিলাম ঝাড়ি।আর কি ভ্যা ভ্যা করে
কাঁদছে পিচ্চিদের মত।মুশকিল তো এত বড়
মেয়ে ক্যাম্পাসে কাঁদছে।হাত ধরে টেনে
বের করে বাইরে এসে বললাম চল ফুসকা খাই।নাহ
মহারানীর তেজ বেড়েছে,একটানে হাতছাড়িয়ে
নিয়ে বলে তুমি আমার কে হও শুনি তোমার
সাথে ফুসকা খাব কেন?যেতে বলছি বলে আবার
হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলাম।তখনই বুঝেছিলাম
প্রেমে না পড়লে অচেনা একটা ছেলে কোন
মেয়ের হাত ধরলে এতক্ষনে মুখে লাল রং ধারন
করত কিন্তু আমার তো হয়নি তাহলে নিশ্চয়ই...
এরপর প্রেম হয়ে গেল।পড়াশোনা শেষ তবু
বেকার।আম্মুর গলা জড়িয়ে ধরতে ধরতে হাতের
চামড়া উঠে গেছে।আম্মু বিয়ে করব।কিন্তু উনার
এক কথা,বেকার ছেলে বিয়ে দিবেন না।তাছাড়া
আব্বুর অনুমতি ছাড়া বিয়ে হবেনা।তাই গত একসপ্তাহ
ধরে আব্বুর খেদমত করতে করতে আম্মুর
রিকুয়েষ্টে রাজি হল ইপ্সিতাকে দেখতে যাবে।
কিন্তু পছন্দ না হলে কাল থেকে আব্বুর ব্যাবসায়
জয়েন করতে হবে।আর পছন্দ হলে বিয়ের
পরদিন থেকেই জয়েন করতে হবে।কি জ্বালা
আর ফ্রি থাকা হল না।আজকেই আব্বু আম্মু
গিয়েছিলেন ইপ্সিতাকে দেখতে।খুব পছন্দ
হয়েছে ওকে।হতেই হবে আমি কি কখনও খারাপ
কিছু চয়েস করি নাকি।যাই হোক মেয়েটি মেক-
আপ ছাড়াই সুন্দর।আব্বুর খুব ভাল লেগেছে।বাসায়
এসে আম্মুর কাছ থেকে গোপনসূত্রে খবর
পেয়েছি।একটু পরেই আব্বু ফোন দিয়ে ডেট
ফিক্সড করবে।তাই ভাবলাম পাগলীটাকে একটু
রাগিয়ে দেই।কিন্তু মনে হল একটু বেশিই হয়ে
গেছে।
.
সন্ধ্যা নেমেছে মাত্র।খুশিতে বিছানায় শুয়ে
একটু আরাম করছি আর ভবিষ্যতের দিনগুলোর কথা
চিন্তা করছি।হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠেছে।
স্ক্রীনে তাকিয়ে দেখি সুমি।ইপ্সিতার ফ্রেন্ড।
-হ্যালো(আমি)
-হ্যালো ভাইয়া আপনি কোথায়?
-এইতো বাসায় কেন?
-আপনি কিছু জানেন না?
-না তো।(অবাক হয়ে বললাম,অবাক হওয়ারই কথা)
-ইপ্সিতা সুইসাইড করতে গিয়েছিল,ওর আম্মু
দেখে ফেলছে এখন অনেক অসুস্থ।
-কিইইই বললে তুমি।(কেমন জানি খুব খারাপ লাগল)
-হ্যা ভাইয়া দেরি না করে তাড়াতাড়ি ওর বাসায় যান।
-হ্যা।
খুব খারাপ লাগছে,মেয়েটি সত্যি সত্যি যদি উল্টা পাল্টা
কিছু করে ফেলে তাহলে নিজেকে ক্ষমা
করতে পারব না।
তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়লাম।
কিছুক্ষন পর ওদের বাসায় পৌছে কলিং বেলে চাপ
দিলাম।
একটু পর দরজা খুলল আমার হবু শাশুড়ি,কেমন যেন
অবাক দৃষ্টিতে তাকালেন।দুদিন পর বিয়ে যার সাথে
সে আজ বেহায়ার মত শ্বশুর বাড়ি এসেছে।কিন্তু
উনার চোখে মুখে তেমন কোন আভাস
পেলাম না।সন্তান অসুস্থ থাকলে মায়েদের
মুখটাও ভারী থাকে।কিন্তু উনাকে দেখে
তেমন মনে হচ্ছেনা।যাই হোক জিজ্ঞাসা
করলাম,ইপ্সিতা কোথায়?একন কেমন আছে।কিছু
সময় ভ্রুঁ কুঁচকে থেকে জবাব দিলেন ওর রুমে।
দৌড়ে ওর রুমে গেলাম,গিয়ে তো ভুত
দেখলাম,যে অসুস্থ সে কিনা নখে নেইলপলিশ
লাগাচ্ছে।
-তুমি নাকি সুইসাইড করতে গিয়েছিলে?(হাপাত
ে হাপাতে বললাম)
-আমার দিকে একটু তাকিয়ে আবার নিজ কাজে মন
দিল।
-আমি তোমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করেছি?
-হ্যা বলো।
-তুমি নাকি সুইসাইড করতে গিয়েছিলে?
-কে বলল?
-সুমি।
-মিথ্যে বলেছে।
-কেন?
-আমি বলতে বলেছিলাম তাই।
-মানে?
-তুমি আমাকে যেমন মিথ্যে বলে কাঁদিয়েছ
আমিও তোমাকে কষ্ট দিলাম এটা তোমার শাস্তি।
আঙ্কেল ফোন করে বলেছে আমাকে উনার
খুব ভাল লেগেছে।
-তাই বলে এতটা মিথ্যে।
-তুমিও কম বলনি।আমিও অনেক কষ্ট পেয়েছি।
-চুপ একেবারে।
-তুমি চুপ।
-দিলাম ঠাশ করে একটা।এতটা বেহায়া হবে কেন।ও
জানে আমি কতটা ভয় পেয়েছি।কাঁদছে কাঁদুক।আমি
বেরিয়ে পড়লাম।
.
পাঁচদিন পর আমাদের বিয়েটা সম্পন্ন হল।হাসি
মুখেই বিয়েটা করল।কিন্তু আমি তো জানি সেদিন
চড় মেরেছি কিছু বলেনি,তার প্রতিশোধ
যেভাবেই হোক নিবে।আর যা ভেবেছিলাম ঠিক
তাই হল।সারাদিন কষ্ট শেষে বিয়ে করে যেইনা
আব্বু বলল শুভ্র খেয়ে নাও।অমনি সবার সামনে
চিৎকার করে বলে উঠল আব্বু ওর তো এসিটিডি
হয়েছে।এখন খেলে সমস্যা হবে।তাই নাকি
শুভ্র।সকলের সামনে কি আর বলব পেটে ক্ষুধা
থাকলেও মাথা নাড়তে হল মান ইজ্জতের ভয়ে।কি
সাংঘাতিক মেয়ে একটা থাপ্পড়ের প্রতিশোধ
এভাবে নিবি।আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে।
প্রচন্ড ক্ষুধা আর বিরক্তি নিয়ে রুমে গিয়ে শুয়ে
পড়লাম।এ পাশ ও পাস করতে করতে কখন ঘুমিয়ে
গেছি বুঝতে পারিনি।ঘুম ভাঙল ইপ্সিতার ডাকে...
-এই শুনছ উঠ উঠ তো
-কি হল আবার।(কোনভাবে চোখ মেলে
তাকিয়ে বললাম)
-খাবে উঠ।
-কি খাব?
-কি খাবে মানে রাতের খাবার খাবে।
-ফাজলামি পাইছ।তখন সবার সামনে ওরকম বলে এখন
ডাকছ খেতে খাবনা।
-এত রাগ কর কেন তুমি?
-মোটেও রাগ করিনি।
-এই আমি তো ইয়ার্কি মেরে বলেছিলাম,জানিনা
তো আমার জামাইয়ের এত রাগ।
-জাননা জানতে হবে না।
-আচ্ছা ঠিক আছে জানব না।এখন খেয়ে নাও
তো।
-খাব না বলেছি না?
-খেতে হবে
-না।
-তাহলে আমিও খাব না।
-ওকে খেওনা।
-এবার চোখে পানি ভরে গেছে,খাওনা বাবু
প্লিজ,আমি মাফ চাইছি তো।
-কান্নামুখটা আমি দেখতে চাইনা।
-বামহাত দিয়ে পানি মুছে ডান হাত ভাত মেখে আমার
মুখের সামনে ধরল।
-আমি কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে মুখে নিলাম খাবার।
এবার তুমি খাও।
-হুম।
খাওয়া শেষ করে বসে আছি ব্যালকুনিতে।চাঁদ
জোৎস্না আরও প্রিয় হয়ে উঠেছে প্রিয় মানুষটির
ছোঁয়া পেয়ে।আলতো করে কাঁধে মাথা
রেখেছে।আমি গভীর রাতের হাওয়াদের
সাথে ওর চুলের ঘ্রান নিচ্ছি।এতটা মায়া এতটা মায়াবী
এর আগে কখনও দেখিনি।সারাটি জীবন
এমনিভাবেই পাশে থাকতে চাই।।।
.
.
লিখা:অন্তহীন শ্রাবন
Wednesday, December 24, 2025
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment