Tuesday, January 17, 2017

********সৎ মায়ের ভালোবাসা********

********সৎ মায়ের ভালোবাসা********
.
.
.
.
আজ মায়ের মৃত্যুর চারদিন পূর্ণ
হলো,চারদিন আগে আমার মা আমায়
একা রেখে পাড়ি জমিয়েছে না
ফেরার দেশে।কোনদিন মা কে
ছাড়া থাকি নি,মা মুখে তুলে খাইয়ে
না দিলে খাই নি,সেই আমি
কিভাবে এই চারদিন কাটালাম?মা
নেই তাই চারদিন পানি ছাড়া কিছুই
খাই নি,যদিও খালা,ফুপু ও অনান্যেরা
খাওয়ানোর অনেক চেষ্টা করছে তবুও
পারে নি,মা যে পরম মমতা নিয়ে মুখে
খাবার তুলে দিতো সেটা অন্য কেউ
পারবে না তাই খাই নি।
মায়ের অসুখটা আগেই ধরা পড়েছিলো
কিন্তু মা সেটা বুঝেও চেপে
গিয়েছিলেন,বাবা অনেকবার বলেও
মাকে ডাক্তারের কাছে নিতে
পারে নি,মা হেসে বলতো কিছু হয়
নি,এমনি ই কমে যাবে।কিন্তু সেটা
যে কমবে না বরং মা কে আমার
থেকে চিরদিনের জন্য আলাদা করে
দেবে সেটা মা বা বাবা জানতেও
পারে নি।তাই তো মা আমার আমায়
একা রেখে চলে গেলো, ঘুমিয়ে
গেছেন চিরনিদ্রায়।
.
মায়ের মৃত্যুর আজ একমাস পূর্ণ হলো,এই
একমাস আমার কাছে একযুগ মনে
হয়েছে,দিনগুলি যে কতটা কষ্টে
কেটেছে সেটা যাদের মা নেই
তারাই ভালো বুঝবে ,একটা মা হারা
ছেলে যে কতটা অসহায় সেটা অন্যরা
কি বুঝবে?বুকের মাঝে কষ্টগুলি দলা
পাকিয়ে থাকে,দীর্ঘশ্বাস বুক চিরে
বেড়িয়ে আসতে চায়,কান্নাগুলি
বৃষ্টির মতো অঝোর ধারায় ঝরতো
প্রতিদিন রাতে,প্রতিদিন মায়ের
কবরের কাছে গিয়ে মায়ের কবরটা
জড়িয়ে ধরে কাঁদতাম আর বলতাম ও মা
তুমি কেন আমায় ছেড়ে চলে গেলে?
কিভাবে তোমার বুকের
মানিকটাকে ছেড়ে একা ঘুমাচ্ছো?
তোমার কি একবারো আমার কথা মনে
পড়ছে না মা?জানো মা আজ কেউ
তোমার মত আদর করে না,না খেয়ে
থাকলে মুখে তুলে খাইয়ে দেয়
না,,গল্প শোনায় না,ও মা আমায়ও
তোমার কাছে নিয়ে যাও,তোমায়
ছাড়া আমার আর ভালো লাগে না,ও
মা তোমার মানিকটাকেও তোমার
কাছে নিয়ে যাও মা,আমি তোমায়
ছাড়া একা থাকতে পারবো না
মা,,,,,বলে প্রতিদিন রাতে মায়ের কবর
জড়িয়ে ধরে কাঁদতাম আর ওইভাবে কখন
যে ঘুমিয়ে পড়তাম সেটা টের ও
পেতাম না।
.
আজ কিছুদিন ধরে বাসায় সব ফুপুরা
মিলে মিটিং করছে(বাবারা
ছিলেন তিন বোন আর এক ভাই),,তাদের
আলাপ আলোচনা শুনে বুঝতে পারলাম
তারা বাবাকে আবার বিয়ে করাবে
ও সেই জন্য সবাই মিলে আলোচনা
করছে আর বাবাকে বুঝাচ্ছে,কিন্তু
বাবা বিয়ে করতে চাইছেন না।তার
এক কথা সৎমা যদি আমার যত্ন না নেয়?
আমায় পর করে দেয়,,,তাই বাবা রাজি
হচ্ছেন না।আমার ফুপুরা বাবাকে বুঝায়
যে আমায় দেখাশোনা করার জন্য আর
বৃদ্ধ দাদীর সেবাযত্ন করার জন্যও তো
কাউকে দরকার,এভাবে কতদিন
চলবে,তাদের ও তো সংসার আছে
বলে বাবাকে বুঝায়।
বহুবার বুঝানোর পর অবশেষে বাবা
রাজি হলেন কিন্তু শর্ত দিলেন যে
যাকে বিয়ে করবেন সে আমায় কখনো
কষ্ট দিতে পারবে না,আমায় নিজের
সন্তানেরর মত আদর করবে,,তবেই বাবা
বিয়ে করবেন নাইলে না।ফুপুরা
বাবাকে বললেন আচ্ছা ঠিক আছে
সেটাই হবে বলে তারা বাবার জন্য
মেয়ে দেখতে লাগলেন।
কিছুদিন খোজাঁর পর একজনকে তাদের
পছন্দ হলো,তারা বাবাকে ছবি
দেখায় কিন্তু বাবা বলে তোমরা যখন
পছন্দ করেছ তাহলে আমর আর আপত্তি
নেই,যা ভালো মনে করো সেটাই
করো।
.
কিছুদিন পর ফুপুদের পছন্দ করা মেয়ের
সাথে বাবার বিয়ে হয়ে যায়,বিয়ের
দিন আমায় আমার খালার বাসায়
রেখে আসা হয়,বিয়ের পরেরদিন এক
ফুপু এসে আমায় নিয়ে যায়
বাসায়,বাসায় যাওয়ার পর বাবা
আমায় নতুন মায়ের কাছে নিয়ে যায় ও
পরিচয় দিয়ে বলে আজ থেকে ও
তোমারও ছেলে,ওকে নিজের
ছেলের মত মানুষ করো,আদর করো,,
কেমন।নতুন মা কেমন করে যেন আমার
দিকে তাকালো,মনে হলো উনি
আমায় পছন্দ করে নি,আসলে উনি
কেনো,কোন মেয়ে ই চায় রেডিমেড
বাচ্চার মা হতে??তবুও উনি আমার
দিকে চেয়ে হাসলেন,আমার কাছে
মনে হলো উনি জোড় করে হাসলেন।
.
রাতে বাবার কাছে ঘুমাতে যেতে
চাইলে দাদী বললো এখন থেকে তার
সাথে ঘুমাতে,বাবা নতুন মায়ের
সাথে ঘুমাবেন।আমি বাবার সাথে
ঘুমাবো বলে কান্না করলাম কিন্তু তবুও
দাদী যেতে দিলো না,মা মারা
যাওয়ার পর সবার এই দাদী ছাড়া
বাকি সবার আদরও কমে গেছে,কেউ
আগের মত খেয়ালও রাখে না,ঠিক
গাছে জট পাকিয়ে থাকা আগাছার
মতো,কেউ নজরও দেয় না।কান্না করতে
করতে ঘর থেকে বেড়িয়ে মায়ের
কবরের কাছে চলে গেলাম আর মায়ের
কবর জড়িয়ে ধরে কেদেঁ কেদেঁ সবার
বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে করতে
ঘুমিয়ে গেলাম।
.
বিয়ের কিছুদিন পর বাবা ব্যবসার জন্য
শহরে চলে গেলেন,বাবা যতদিন
ছিলেন ততদিন নতুন মা একটু হলেও আদর
করতেন,খেয়াল রাখতেন কিন্তু বাবা
চলে যাওয়ার পর নতুন মা সেটাও করা
বন্ধ করে দিলেন, ঠিকমতো খাবারও
দেন না,কোনদিন এমনও গেছে
সারাদিন না খেয়েও থাকতে
হয়েছে তবুও কেউ একবার জিজ্ঞেসও
করে নি খেয়েছি কি না(দাদী
ছাড়া),,,সবাই নিজ নিজ কাজ নিয়ে
ব্যস্ত, তাদের এখন আমার জন্য আদর মায়া
মমতা নেই বললেই চলে।নতুন মা আমায় দু
চোখে দেখতে পারতেন না,নানা
ভাবে আমায় কষ্ট দিতেন,অপমান
করতেন,দুর দুর করতেন কিন্তু তবুও আমি
তার কাছে যেতাম একটু ভালোবাসা,
আদর ও মমতার জন্য,আমি যে
ভালোবাসার কাঙাল, কিন্তু নতুন মা
আমায় তাড়িয়ে দিতেন,অনেক কটু
কথা শোনাতেন।এসব শুনে মনে অনেক
কষ্ট পেতাম তবুও যেতাম না,কারন উনি
আমায় ছেলে না ভাবতে পারেন
কিন্তু আমি তো উনাকে মা
ভাবি,তাই বারবার উনার কাছে ছুটে
যাই একটু ভালোবাসা পাবার
জন্য,কিন্তু প্রতিবার ই একবুক হতাশা
নিয়ে ফিরে আসতে হতো।
.
বাবা শহর থেকে কিছুদিন পর পর
বাসায় আসতেন,বাবা এলেই নতুন মা
আমার নামে রাজ্যের অভিযোগ তুলে
ধরতেন,আমি এটা করেছি সেটা
করেছি,ঠিকমতো পড়াশোনা করি না
(তখন আমি সবেমাত্র ক্লাশ ফাইভ
থেকে সিক্সে ওঠেছিলাম),বাজে
ছেলেদের সাথে চলাফেরা
করি,আরো নানা অভিযোগ করে করে
বাবার মন বিষিয়ে তুলতো,বাবাও এসব
শুনে আর বিয়ের পর কেমন পরিবর্তন হয়ে
গিয়েছিলেন,সৎমার কথা শুনে আমায়
অনেক বকা দিতেন,আমার একটা কথাও
শুনতেন ও বিশ্বাস করতেন না।
একবার নতুন মা তার গলার হার খুজেঁ না
পেয়ে বাবার কাছে মিথ্যা
অভিযোগ করলেন সেটা নাকি
সরিয়েছি,আমার চুরির অভ্যস আছে,এর
আগেও চুরি করেছি এটা সেটা বলে
বাবার কাছে আমার নামে নালিশ
করলো,বাবা মার কথা শুনে সেদিন
আমায় প্রচন্ড মার দিলেন,মারের
চোটে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই,রক্ত
বের হয় শরীর থেকে,তবুও বাবা
থামে নি,দাদী আমার চিৎকারের শব্দ
শুনে এসে আমায় অজ্ঞান ও রক্তাত্ত
দেখে টেনে নিজের ঘরে নিয়ে
যান,নিয়ে গিয়ে আমার রক্ত মুছে দেন
ও আমার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে
ঘুম পাড়িয়ে দেন।আমিও সেদিন
দাদীর কোলে মাথা রেখে ঘুমাই।
এরই মাঝে আমার খালা অনেকবার
আমায় তাদের কাছে নিতে
চেয়েছেন কিন্তু আমি যাই নি,কারন
উনি আমায় ছেলে না ভাবলেও
আমিতো উনাকে মা ভাবি,আর মা
কে ছেড়ে তার ছেলে কোথায়
যাবে?কিভাবে যাবে?তাই এত
মারধোর,অপমান আর কষ্ট সত্ত্বেও
খালার সাথে যাই নি।
.
এতকিছু হওয়ার পরও আমি লেখাপড়া
ছাড়ি নি,আবার স্কুলে যাওয়া শুরু
করলাম কিন্তু কেউ সহজে আমার সাথে
মিশতে চাইতো না,কথা বলতে
চাইতো না,পাশে বসতে চাইতো
না,,সবাই বলতো তোর তো মা নেই,তুই
ভালো ছেলে না,তুই আমাদের সাথে
মিশবো না।এসব শুনে অনেক
কাঁদতাম,নিজেকে অনেক একা
ভাবতাম।
কিন্তু আল্লাহ সবার জীবনেই এমন একজন
কে পাঠান যে শতকিছুর পরও পাশে
থাকে,কখনো দুরে যায় না,ছায়া হয়ে
পাশে থাকে,,,তেমন আমার জীবনেও
একজন ছিলো,আমার বন্ধু জীবন,সবাই
আমার দুর দুর করলেও ও কখনো আমায় দুর দুর
করে নি,তাড়িয়ে দেয় নি, পাশে
রেখেছে, কথা বলেছে,আমার মা নেই
সেই জন্য আফসোস করতো,,আমায় ভরসা
দিতো।যদিও সবাই জীবনকে খারাপ
ছেলে বলেই জানতো কারন ও
ইচড়েঁপাকা ছিলো,এই বয়সেই
সিগারেট খেতো,বড় মানুষের মত কথা
বলতো,ঠিকমতো পড়াশোনা করতো না
তাই কেউ ওর সাথে মিশতো না।ও
যতক্ষণ স্কুলে থাকতো সবসময় আমার
পাশেই থাকতো,কথা বলতো,এমনও
হয়েছে সকালে না খেয়ে স্কুলে
গিয়েছি,, ও জানতে পেরে আমায় ওর
বাসা থেকে খাবার এনে খাইয়েছে,
ওর টিফিন সবসময় আমার সাথে ভাগ
করে খেয়েছে।
ও সবসময় আমায় সাহস দিতো।ওর সাথে
চলতে চলতে আমিও সিগারেট খাওয়া
শুরু করি কারন ও বলতো সিগারেট
খেলে নাকি কষ্ট কমে,মনটা হালকা
হয়।তাই আমিও কষ্ট ভুলতে সিগারেট
খাওয়া শুরু করি।এতটুকু বয়সে কেউ
সিগারেট খায় এটা কেউ বিশ্বাস
করতে চাইবে না।করার কথাও
না,কিন্তু আমি খেতাম,কষ্ট ভুলে
থাকতে।
.
আজ দাদীর মুখে শুনলাম আমার নাকি
বোন হবে,এটা শুনে আমি অনেক
খুশি,,বাড়ির সবাই সৎমাকে নিয়ে
ব্যস্ত, এখন কেউ আমায় দেখে না শুধু
দাদী ছাড়া,বাবাও আমায় দেখতে
পারেন না,যে বাবা আমার কথা
ভেবে বিয়ে করতে চান নি সেই
বাবা আজ আমায় দু চোখে দেখতে
পারেন না ভাবতেই চোখ দিয়ে
অঝোর ধারায় পানি পড়ে,এখনো
মাঝে মাঝে মায়ের কবরে গিয়ে
মায়ের কবরটা জড়িয়ে ধরে কাদিঁ আর
অনেক অভিযোগ করি,কেন আমায় একা
রেখে গেলে মা,,আজ তুমি নেই তাই
কেউ আমার খেয়াল রাখে না,,জানো
না বাবাও অনেক বদলে গেছে,আমায়
দেখতে পারেন না,আমার আর ভালো
লাগে না মা,তুমি আমায় তোমার
কাছে নিয়ে যাও মা,আমি তোমার
কাছে যাবো,, বলে মায়ের কবর
জড়িয়ে ধরে কাঁদতাম।
.
একমাস হলো আমার বোন
হয়েছে,শুনেছি অনেক সুন্দর হয়েছে
দেখতে,কারন আমি এখনো ওকে
দেখতে পাই নি,পাই নি বলতে সৎমা
দেখতে দেয় নি।উনার কথা হচ্ছে আমি
অপয়া,আমার ছায়া ওর উপর পরলে ওরও
আমার মত অবস্থা হবে,এটা সেটা
বলতেন।আমার খুব ইচ্ছে হত ওকে কোলে
নিতে কিন্তু যেখানে ওকে দেখতেই
পেতাম না সেখানে ওকে কোলে
নেয়ার চিন্তা করাটাও বাতুলতা।ওর
একটা নামও দিয়েছিলাম,,কুট্টি।
অনেক আজব একটা নাম,,এই নামেই ওকে
ডাকবো বলে স্থির করি।
একদিন সৎমা ঘরে ছিলেন না,আমি
লুকিয়ে ঘরে গিয়ে দেখি কুট্টি
( আমার সৎ বোন হলেও আমি ওকে আপন
বোন ই ভাবতাম)ঘুমিয়ে আছে, কত সুন্দর
মায়াবী চেহারা,কি ফর্সা
শরীর,তুলতুলে গাল,খাড়া নাক,চোখ!!
একদম আমার মতো দেখতে।আমি
কুট্টিকে কোলে নেয়ার লোভ
সামলাতে না পেরে কোলে
নেই,তখনি হঠাৎ ও কেদেঁ ওঠে,ওর
কান্নার আওয়াজ পেয়ে সৎমা দৌড়ে
আসে ও কুট্টিকে আমার কোলে দেখে
আমার কোল থেকে নিয়ে নেন ও
আমায় অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে
থাকেন ও বাবা এলে মিথ্যা নালিশ
করে মারও খাওয়ান,আমার দোষ আমি
কেন ওনার মেয়েকে কোলে নিলাম!!
তাই আমায় এত নির্যাতন সহ্য করতে
হলো।কিন্তু আমি এসব নীরবে সয়েছি
কারন আমি তো আমার কুট্টিকে
কোলে নিয়েছি,আদর করতে
পেরেছি, এটা ভেবে সব নির্যাতন
ভুলে গেলাম
.
এরই মাঝে আমি সিগারেট খাই এটা
জানাজানি হয়ে যায়,বাবাও এখন আর
আমায় কিছু বলে না,আমার অবস্থা
ছাড়া গরুর মত হয়ে গেছে।কেউ খোজ
খবর নেয় না(দাদী,খালা ও জীবন কে
বাদে),আদরও করে না।এই তিনজন ই
ছিলো আমার সব,আর একজন ছিলো,সে
হলো আমার বোন,আমার কুট্টি।ওকে
অনেক ভালোবাসতাম,আদর করতাম।
যদিও ওর কাছে যেতে পারতাম না।
ইদানীং বাসায়ও সিগারেট
খাই,এটা নিয়ে বাবা ও সৎ মা মাথা
ঘামান না,তারা হয়তো ভাবেন আমি
মারা গেলে তাদের কিছু যায় আসবে
না,আপদ যত দ্রুত বিদায় হবে ততই মঙ্গল।
যদিও দাদী ও খালা মানা করতেন ও
বকতেন তবুও আমি খেতাম,কারন
কষ্টগুলি আমি ভুলে থাকতে চাইতাম।
আর মনের সব অব্যক্ত কথাগুলি একটা
ডায়েরীতে লিখে রাখতাম।
যেখানে মা মারা যাওয়ার পর
থেকে এখন পর্যন্ত যা যা হয়েছে সব
লিখে রেখেছি,,ডায়েরী টা সবসময়
আমার কাছেই রাখতাম,কাউকে
দেখতে দিতাম না,লুকিয়ে রাখতাম।
কেউ জানতো না ডায়েরীর কথা।
ডায়েরীতে আমার মনের কথাগুলো
লিখে রাখতাম,,.....
***আজ মা মারা গেছেন,আমি
হাওমাউ করে কাঁদছি, সবাই আমায়
ধরে রেখেছে,মার কাছে যেতে
দিচ্ছে না।কিছুক্ষন পর কিছু লোক মা
কে গোসল করিয়ে সাদা কাপড়ে
মুড়িয়ে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে,
আমাকে যেতে দেয় নি।
***মা মারা গেছেন আজ
চারদিন,অনেকে খাবার জন্য জোর
করছেন কিন্তু আমি খাই নি,কারন সবসময়
মা ই আমায় খাইয়ে দিতেন পরম
মমতায়,উনার হাতে ছাড়া আমি
খেতাম না তাই খাই নি।
***মা মারা যাওয়ার পর এখনও প্রায় ই
রাতে মায়ের কবরে গিয়ে মায়ের
কবরটা জড়িয়ে ধরে কাদিঁ,কেন উনি
আমায় ছেড়ে একা রেখে চলে
গেলেন?আমায় ছেড়ে থাকতে কি
তোমার কষ্ট হয় না মা,,জানো কেউ
আমায় এখন আদর করে না,মুখে তুলে
খাইয়ে দেয় না,তুমি আমায় তোমার
কাছে নিয়ে যাও মা,নিয়ে যাও।
***আজ বাসায় শুনলাম বাবাকে নাকি
আবার বিয়ে করাবে,কিন্তু বাবা
রাজি না,সবাই অনেক বলে কয়ে
বাবাকে রাজি করালো বিয়ের
জন্য,আমিও খুশি হলান কারন আমি নতুন
মা পাবো,উনি আমায় আদর করে
খাইয়ে দেবেন পরম মমতায়,অনেক
ভালোবাসবে।
***আজ বাবা নতুন মা কে নিয়ে
এসেছেন, আমি উনার সামনে গেলাম
কিন্তু নতুন মা আমায় কাছে টেনে নেন
নি,কেমন যেন বিরক্ত ভাবে আমার
দিকে তাকালেন,মনে হলো আমায়
উনি পছন্দ করেন নি,তবুও আমি কিছু মনে
করি নি কারন যা ই হোক উনি আমার
মা।
***নতুন মা আমায় দুচোখে দেখতে
পারেন না,সবসময় দুর দুর করেন,একটুও আদর
করেন না,ভালেবাসেন না,তারপরও
আমি বারবার উনার কাছে ছুটে যাই
একটু ভালোবাসার জন্য কারন আমি যে
ভালোবাসার কাঙাল,কিন্তু
বিনিময়ে মার,খারাপ কথা ও অপমান
ছাড়া কিছুই জুটতো না।তবুও আমি কিছুই
মনে করতাম না কারন শত হলেও উনি
আমার মা।
***আজ নতুন মা বিনা দোষে বাবার
হাতে আমায় অনেক মার
খাওয়ালেন,বিয়ের পর বাবাও অনেক
বদলে গেছেন, নতুন মায়ের কথা শুনে
আমায় প্রচন্ডভাবে মেরে রক্তাত্ত
করেছেন,মার খেয়ে আমি অজ্ঞান
হয়ে গিয়েছিলাম, আমার আর্তনাদ
শুনে দাদী দৌড়ে এসে আমায় টেনে
তার ঘরে নিয়ে যান।
***আজ প্রথমবার সিগারেট খাচ্ছি,
জীবন বলেছে সিগারেট খেলে
নাকি কষ্ট কমে,দুঃখ হালকা হয় তাই
খাচ্ছি,সিগারেট জ্বালিয়ে টান
দিতেই খকখক করে কাশতে
লাগলাম,,জীবন বললো অভ্যাস নেই
তাই এমন হচ্ছে,আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে
যাবে।ও ঠিক ই বলেছিলো,কষ্ট দুর
হয়,পরে সিগারেট খাওয়াটা অভ্যাস
হয়ে যায়।
***আজ আমি অনেক খুশি কারন আমার
বোন হয়েছে,ওর একটা নামও রেখেছি,,
কুট্টি,নতুন মা এখনও আমায় ওকে দেখতে
দেয় নি,তবে শুনেছি ও দেখতে অনেক
সুন্দর হয়েছে,ইশ!কবে যে কুট্টিকে
দেখবো আর আদর করবো।
***আজ কুট্টিকে দেখেছি ও কোলেও
নিয়েছি, ও দেখতে অনেক সুন্দর
হয়েছে,একদম আমার মত,আমি কোলে
নিতেই ও কেদেঁ দেয়,ওর কান্না শুনে
নতুন মা দৌড়ে এসে কুট্টিকে আমার
কোল থেকে কেড়ে নেন ও বাবার
হাতে অনেক মার খাওয়ান,তবুও আমি
খুশি কারন আজ আমি আমার বোনকে
কোলে নিতে পেরেছি।
***আজ হঠাৎ কুট্টির কি যেন হয়েছে,ওর
নাকি খিচুনি ওঠেছে,নতুন মা
পাগলের মত হয়ে গেছে, বাবা বাসায়
ই ছিলেন,, বাবা দ্রুত কুট্টিকে
হাসপাতালে নিয়ে গেলেন,নতুন মাও
কাঁদতে কাঁদতে পেছন পেছন
গেলেন,ওর কিছু হলে আমি কার সাথে
কথা বলবো?কাকে কুট্টি বলে
ডাকবো?না ওর কিছু হবে না ,,
সারারাত দু হাত তুলে কেদেঁ কেদেঁ
আল্লাহর কাছে বলেছি হে আল্লাহ
তুমি আমার প্রান নিয়ে নাও তবুও
আমার বোনের কোন কিছু করো
না,,সারারাত কেঁদেছি, মোনাজাত
করেছি আল্লাহর কাছে।আল্লাহ হয়তো
আমার ডাক শুনেছিলেন, আমার কুট্টির
কিছু হয় নি,ও সুস্থ হয়ে গিয়েছিলো।
পরদিন বাবা ওকে নিয়ে বাসায়
আসেন,ও আগের মতই হাসি খুশি ছিলো।
***আজ কুট্টির ছ মাস পূর্ণ হলো,আধো
আধো কথাও বলতে পারে,আমি ওর মুখে
ভাই ডাকটা শুনতে ব্যকুল হয়ে আছি
কিন্তু নতুন মা তো আমায় ওর ধারে
কাছেও যেতে দেয় না,কিভাবে ওর
আধো মুখে ভাই ডাক শুনবো?ওর
জন্মদিনেও আমায় ওর কাছে যেতে
দেয় নি,দুরে দুরে রেখেছে,খুব
কেঁদেছি আমি।
***না আর থাকবো না,যেদিকে দুচোখ
যায় চলে যাবো,আমার জন্য সবার
অসুবিধা হচ্ছে,নতুন মা ও আমায় সহ্য
করতে পারে না,বাবাও আদর করে
না,কাল সকালেই বাসা ছেড়ে চলে
যাবো অনেক দুরে,কুট্টি কে ছেড়ে
যেতে মন চাইছে না,আমি কিভাবে
থাকবো ওকে ছাড়া??ও যে আমার
কলিজার টুকরা,আমার জীবন,অনেক
কান্না পাচ্ছে,নতুন মাকেও ছেড়ে
যেতে মন চায় না,খুব ইচ্ছে করে
উনাকে মা বলে ডাকতে,উনার আদর ও
ভালোবাসা পেতে,কিন্তু উনি আমায়
দেখতেই পারেন না,আমি না
থাকলেই উনি যদি ভালো
থাকেন,সবাই ভালো থাকে তবে
সেটাই হবে,কাল ই চলে যাবো।অনেক
দুরে..........
.
ডায়েরীটা পড়া শেষ করলাম,আর
কোনদিন হয়তো এখানে লেখা হবে
না,কাল ই তো চলে যাবো,তবে খালি
হাতে যাচ্ছি না,সাথে নিয়ে
যাচ্ছি কুট্টির হাসি,খালা,দাদী ও
জীবনের ভালোবাসা সাথে নিয়ে
যাচ্ছি।
খুব মিস করব সবাইকে,ভাবতেই অনেক
কান্না পাচ্ছে
যাওয়ার আগে শেষবারের মত মায়ের
কবরে গেলাম,মায়ের কবরটা জড়িয়ে
ধরে হাউমাউ করে কাঁদলাম, আজকের
পর হয়তো আর আসা হবে না,আগে কষ্ট
পেলে মায়ের কবরে এসে কাঁদতাম
কিন্তু দুরে চলে গেলে কষ্ট পেলে
কিভাবে থাকবো?
.
বাসায় এসে বাইরে দাড়িয়ে
সিগারেট খাচ্ছি, খুব খারাপ
লাগছে,কাল সবাই কে ছেড়ে,আমার
বোন, মা বাবা, দাদী,খালা ও
জীবনকে ছেড়ে অনেক দুরে চলে
যাবো,কিভাবে থাকবো,কোথায়
যাবো কিছুই জানি না,শুধু এটাই
জানি যে আমায় চলে যেতে
হবে,তাতেই মা খুশি হবেন,ছেলে হয়ে
মায়ের জন্য তো এতটুকু করতেই পারি।
এসব ভাবছি আর সিগারেট খাচ্ছি,কখন
যে নতুন মা পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে
টের ও পাই নি,উনি আমার পেছন
থেকে যখন সামনে এসে
দাঁড়ালেন,হঠাৎ খেয়াল করলাম উনার
হাতে আমার ডায়েরী, আরে!!এটা নতুন
মার হাতে গেলো কিভাবে??মনে
পড়লো মায়ের কবরে যাওয়ার আগে
ডায়েরীটা টেবিলে রেখেই
কাঁদতে কাঁদতে দ্রুত চলে
গিয়েছিলাম,তাই লুকাতে মনে
ছিলো না।আচ্ছা নতুব মা কি ডায়েরী
টা পড়েছেন? মনে হয় না পড়েছেন,আর
পড়লেই বা কি,আমি তো কাল চলে
যাবো,,,অনেক দুরে।নতুন মা আমায়
ডাকলেন,,,,
----আকাশ(নতুন মায়ের মুখে আমার নাম
শুনে অবাক হলাম কারন নতুন মা কখনোই
আমার নাম ধরে ডাকে নি)।
----জ্বী বলুন(হাতে তখনো সিগারেট)।
----কুট্টি কে ছেড়ে দুরে থাকতে
পারবি? (উনি আমায় এই প্রথম তুই করে
ডাকলেন)।
----না পারলেও থাকতে হবে,কারন
আমি না থাকলেই সবাই ভালো
থাকবে,আমি কারো বোঝা হয়ে
থাকতে চাই না,তাই চলে যাবো।
-----তোর মা কে ছেড়েও চলে যাবি?
-----(অবাক হয়ে)আমার মা নেই,মরে
গেছেন।
-----আমি কি তোর মা নই?আমায় তুই মা
ভাবিস না?
-----না ভাবি না,কারন আপনি আমার
মা নন।
-----যদি মা না ই ভাবিস তাহলে
কেনো আমি বারবার অপমান করার
পরেও আমার কাছে যেতিস?শত কষ্ট
পেয়েও কেন আমায় ছেড়ে যাস নি?
কেনো আমায় মা বলে ডাকতি বল...
----কে বললো,এই যে কাল ই চলে
যাচ্ছি আমি।
----আমার ভুলগুলো কি সংশোধন করার
সুযোগটাও দিবি না বাবা(ছলছল
চোখে বললেন নতুন মা)।
----আপনি কোন ভুল করেন নি,আপনার
কোন দোষও নেই,আমি নিজের ইচ্ছা ই
চলে যাবো।
----সন্তান ভুল করলে মা ক্ষমা করে,আর
আজ মা তার সন্তানের কাছে নিজের
কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইছে,আমায়
ক্ষমা করে দে বাবা(কেদেঁ দিয়ে
বললেন নতুন মা)।
-----আপনি কোন দোষ করেন নি।
-----তাহলে কোনো চলে যেতে
চাইছিস আমায় ছেড়ে,তোর কি কষ্ট
হবে না?তুই কি আমায় মা ভাবিস না?
----না।
----তাহলে এখানে কেন লিখেছিস
যে মায়ের ভালোবাসা পেতে,তার
কোলে মাথা রেখে ঘুমাতে ,মা
বলে ডাকতে ইচ্ছে হয়,,এগুলো কি
মিথ্যা? বল
-----না,, সব সত্যি,, এগুলো ভাবতাম
কিন্ত এখন আর ভাবি না,কারন লাভ
নেই।
-----আমায় তোর মা হওয়ার সুযোগ
দিবি?
-----না,,,আমার মা মারা গেছেন।
-----বুঝেছি, তুই আমায় ক্ষমা করিস
নি,আমার ভুলের কোন ক্ষমা নেই,কিন্তু
তুই একবার আমার মাথায় হাত রেখে বল
তুই আমায় মা ভাবিস না আর আমায়
ছেড়ে দুরে যেতে চাস,, বল(বলেই
আমার হাতটা টেনে নিয়ে উনার
মাথায় রাখলেন)।
-----(হাতটা দ্রুত সরিয়ে)নাআআআ...
-----এতই যখন ভালোবাসিস তখন কেন
দুরে যেতে চাস আমায় ছেড়ে,তোর
কুট্টি কে ছেড়ে,,আমার ভুলগুলো
শুধরাতে দে বাবা,আমায় ক্ষমা করে
দে, আমায় ছেড়ে যাস নে(বলেই
অঝোরে কাঁদছেন নতুন মা)।
মায়ের চোখের পানি সহ্য করতে
পারে এমন সন্তান দুনিয়াতে কোথাও
নেই,আমিও সিগারেট টা ফেলে
মায়ের চোখের পানি মুছে দিয়ে
বললাম...
----কাদবেনঁ না,আমি কোথাও যাবো
না,আপনার কথায় আমি কখনো কিছু মনে
করি নি তাই ক্ষমা করার প্রশ্ন ই আসে
না।
----আমায় ক্ষমা করলে কেন আপনি
আপনি করছিস?আমায় কি মা বলে
ডাকতে পারিস না বাবা,,একবার মা
বলে ডাক বাবা,,কলিজাটা ঠান্ডা
কর মা বলে ডেকে(কেদেঁই বলেছেন
নতুন মা)
এটা শুনে আর সহ্য হলো না,নিজেকে
ধরে রাখতে পারলাম না,,, "মা"বলে
ডেকেই মা কে জড়িয়ে ধরে অঝোরে
কাঁদতে লাগলাম,এ কান্না সুখের
কান্না,এ কান্না ফিরে পাওয়ার
কান্না,আজ আমি আমার হারিয়ে
যাওয়া মা কে আবারো খুজেঁ
পেয়েছি,মা ও আমায় বুকে শক্ত করে
জড়িয়ে ধরে অঝোরে কেদেঁই
চলেছে আর চুমুতে চুমুতে আমায় ভরিয়ে
দিচ্ছে,আজ যে আমার পরম আনন্দের
দিন।আমি এখন আর এতিম নই,আমারো
এখন সবার মত মা আছে....
কিছুক্ষণ পর মা আমার হাত ধরে তার
ঘরে নিয়ে যান ও কুট্টি কে আমার
কোলে দিয়ে বলেন নে,এবার নিজের
বোনকে প্রান ভরে দেখ আর আদর
কর,আজ থেকে ও তোর আপন ছোট
বোন,ওর সাথে খেলবি,আদর করবি সব
করবি,বুঝেছিস মা পাগল ছেলে......
আমি মার দিকে চেয়ে হাসলাম,সত্যি
মায়েরা এমন মমতাময়ী ই হয়,যার দিকে
তাকালে সব কষ্ট নিমিষেই দুর হয়ে
যায়,যার কথা শুনলে মনটা ভরে
যায়,যার একটু হাসিতে পৃথিবীর সব সুখ
তুচ্ছ মনে হয়,,সে হলো একজন
মা,মমতাময়ী মা.......
আজ মা আমায় নিজের হাতে ভাত
খাইয়ে দিচ্ছেন,আমি মায়ের দিকে
তাকিয়ে খাচ্ছি আর দেখি মা
কাঁদছেন,মা কে জিজ্ঞেস করলে মা
উত্তর দেন আরে পাগল ছেলে এটাতো
সুখের কান্না,তুই বুঝবি না...
আমি হাসি,আমার হাসি দেখে মা ও
হাসছে.........আমার মা,,,মমতাময়ী
মা.........
.
মোবাইলের রিংটোনের আওয়াজে
বাস্তবে ফিরে আসি,এতক্ষণ ধরে
নিজের ছোটবেলার কথাগুলো
ভাবছিলাম ,কত দ্রুত সব বদলে
গিয়েছিলো,সময় কত দ্রুত চলে যায়,আজ
আমি দেশের বড় শিল্পপতিদের
একজন,,অনেক নামডাক আমার,,তবে এসব
নিয়ে আমি বিন্দুমাত্র ভাবি
না,কারন আমার কাছে আমার মা আর
বোন ই সব,,কারন যার মা আছে সে
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনী....
মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখে মা
ফোন করেছে,রিসিভ করতেই মা ধমক
দিয়ে বললেন......
----তোর এতক্ষণ লাগলো ফোন ধরতে?
তোর বোনের জন্মদিন এটাও কি ভুলে
গেলি?
-----( হেসে বলি) না মা ভুলি
নি,ভুলবো কেনো।
----(মা বললেন) জলদি আয় বাবা,তোর
বোন জেদ ধরে বসে আছে সে তার
ভাইয়াকে ছাড়া কেক কাটবে না,তুই
জলদি চলে আয়।বোনটাও একদম ভাইয়ের
মতই হয়েছে..
-----আচ্ছা মা আসছি,,,বলে ফোনটা
রেখে দিই।
এখন আমায়বদ্রুত বাসায় যেতে হবে
নাইলে পাগলীটা কেক কাটবে না
আর গাল ফুলিয়ে বসে থাকবে,মা ও
বকা দিবে,,বলেই কুট্টির জন্য কেনা
সারপ্রাইজ গিফটটা নিয়ে গাড়িতে
করে বাসার দিকে রওনা
দিই,যেখানে অপেক্ষা করছে আমার
মমতাময়ী মা আর প্রানের চেয়ে
প্রিয়,আমার আদরের ছোট বোন
কুট্টি..........
(কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে
দেখবেন)
প্রচেষ্টায়:-Md.Samrat Hossain Sajib(বিবর্ণ
ধূসর আকাশ)

Monday, January 16, 2017

গল্প: বউ ইন শীতকাল

গল্প: বউ ইন শীতকাল

এমনিতেই প্রচন্ড শীত পড়েছে, তার
উপর এখন আবার শাস্তির বোঝা
মাথায় চেপে খালি গায়ে কম্বল/
চাদর ছাড়াই শুয়ে থাকতে হচ্ছে।
মাথার উপর আবার ফ্যান ঘুরছে। অথচ ইতু
আমার কাপাকাপি দেখে কম্বল
গায়ে জড়িয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।
একজনের পৌষ মাস তো আরেকজনের
সর্বনাশ।

আমার এই অদ্ভুদ শাস্তির কারন টা হচ্ছে
সকালে অফিসে যাওয়ার সময়
তাড়াহুড়ো করে গরম পানি না খেয়ে
শীতের ড্রেস না পড়ে বাসা থেকে
বের হয়ে যাওয়ার অপরাধে। ইতুর কড়া
নির্দেশ কোণ ভাবেই শীতে ঠান্ডা
পানি খাওয়া যাবেনা, শীতের
ড্রেস ছাড়া কোথাও যাওয়া
যাবেনা। আর আজ সময় স্বল্পতায় তা
পালন না করতে পারায় এখন আমাকে
আরো ঠান্ডায় রেখে শাস্তি দেয়া
হচ্ছে।
.
-ইতু, শীত লাগছে, কাথা টা দাওনা??
.
=এখন এতো শীত এলো কিভাবে??
সকালে মনে ছিলোনা??
.
-ওটাতো মিসটেক, সময় ছিলোনা,
আমার কি দোষ বলো!!
.
=চুপ বেয়াদব, সকালে আমি এতো
চিৎকার করে বললাম তবুও তোমার মনে
পড়েনি তাইনা?? তুমি জানো, তুমি
যাওয়ার পর আমি কতো কেদেছি??
এখন প্লিজ আমার রাগ সুদেআসলে
মিটাতে দাও, না হয় আরো শাস্তি
দিবো।
.
-ভাল, আমি অসুস্থ হলে কার কি যায়
আসে, সমস্যা নেই, আমি ছাদে
গিয়েই ঘুমাবো খালি গায়ে।
.
এই বলে উঠতেই ইতু পিছন থেকে আমার
হাত টা ধরে টান দিয়ে শুইয়ে দিয়ে
কাথা দিয়ে আমার গায়ে জড়িয়ে
দিলো..
.
=ভেবোনা কুত্তা আমি গলে
গিয়েছি, আমি কিন্তু রাগ করছি, কথা
বলবেনা আমার সাথে তুমি!!
.
ইতু আমার দিকে পিঠ দিয়ে অপর
দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। ইতুর
জামায় কাধের নিচের খালি অংশ
টুকু দেখা যাচ্ছে, আস্তে করে
সেখানে আলতো করে কয়েকটা আঙুল
বুলাতেই সুড়সুড়ি তে ইতু কেপে উঠে
চিৎকার দিয়ে আমার দিকে ফিরে
হেসে দিয়ে বললো..
.
=কুত্তা শয়তান, একটু রাগ করেও
আমাকে থাকতে দিবিনা তাইনা??
.
-আমি কি করলাম??
.
=আমি কি করলাম মানে?? তুমি আমার
কাধে সুড়সুড়ি দাওনি??
.
-কিহ!! আমি তোমার কাধে কেনো
টাচ করবো, রাগ তোমার নিজের
একার সম্পত্তি নাকি, রাগ আমিও
জানি, পোকা টোকা মনে হয় কাধে
পড়ছে, আর ওমনি কথা বলার ধান্দা
খুজে কথা বলতে আসছে, ছেচরি, হুহ..
.
=কিইইইহ!! তুউউউমি.....
.
ইতু আর কিছুই বলতে পারলোনা, রাগে
কাপতে কাপতে চোখ বুঝে ফেললো।
ইতু রাগ করলে ওর ঠোট আর নাক, দুটোই
অসাধারণ লাগে, নিচের ঠোট টা
অনবরত কাপছে, আর নাক ফুলছে
বারবার, চোখ বন্ধ করায় চোখ ও
কাপছে। আর আমি শুয়ে শুয়ে আমার
রাগওয়ালি বউটার মায়াবী
রাগান্বিত মুখ টা দেখছি।।

আমি জানি ইতুও বুঝতে পারছে আমি
এটা ইচ্ছে করেই বলেছি যাতে ওকে
রাগিয়ে দিতে পারি। তাই সে
রাগছে তবু কিছু বলছেনা। আর না হয়
যদি সত্যি রাগ হতো তবে সে
এতোক্ষনে কান্না করে,আমার বুকে
থাপ্পড় দিয়ে অবস্থা হালুয়া করে
দিতো।

আমার পাগলী টা এমন ই, অল্পতে খুশি,
অল্পতে দুঃখ, কারন ওর জীবন টা যে
শুধুই আমি ময়। আর আমার জীবন?? সেটাও
তো এই পাগলীময়।
.
যেদিন দীর্ঘ প্রেম জীবনের পর
আমাদের আংটি বদল হয়, সেদিন ও
নিজ হাতে সবাইকে চা দিচ্ছিলো,
ইতু সব সময় সাঝুগুজু করে না, কিন্তু
সেদিন আমার রিকোয়েস্ট এ
সেঝেছিলো, লাল শাড়ি, লাল টিপ,
পিওর বাঙালি বধু, আমি ওকে দেখে
এতোই অবাক হচ্ছিলাম যে কখন ও
চায়ের কাপ নিয়ে আমার সামনে
এসেছি বুঝতেই পারিনি, বুঝেছি যখন
আমার বুকের উপর গরম পানীয়র অস্তিত্ব
পেলাম, যখন হুশ এলো তখন বুঝলাম ইতুর
হাতের কাপ থেকে আমার গায়ে চা
পড়েছে। সবাই এতো জোড়ে
হাসছিলো যে রাগে আমি
ফুঁসছিলাম, কে যেনো ইতু কে বললো,
"যাও মা, জামাই কে ঘড়ে নিয়ে
যাও, ক্লিন হতে হেল্প করো"। আলাদা
রুমে যেতেই আমি বলে উঠলাম..
.
-ওই তুমি এটা কি করলা?? প্রথম দিন চা
দিয়া গোসল করালে পড়ে তো গরম
ডাল দিয়েও করাবে মনে হচ্ছে!!
.
=দরকার হলে তাই করবো জনাব,
আপনাকে কাছে পেতে এগুলো যদি
না করি তবে কি করে হয় বলুন??
.
-তুমি/তুই থেকে আপনি তে চলে এলে!!
বাহ, আদব কায়দায় এতো উন্নতি!!
.
=তুমি তো আমার স্বামী, তাই একটু
সম্মান দিচ্ছি আর কি!!
.
-ওয়াহ ওয়াহ!! শুনে ধন্য হলাম।।
.
=এই যে জামাইবাবু, শার্টা টা একটু
খুলুন!!
.
-ছিঃ কি বলো এসব, এখন ও বাসর হয়নি
তো!!
.
=ওই তোরে খুলতে কইছিনা?? খুল..
.
-এক মিমিটেই তোমার সম্মান শেষ!!
আপনি থেকে সোজা তুই!!
.
=যা বলছি বেশ বলছি, দরকার হলে যা
ইচ্ছে তা বলবো..
.
শার্ট খুলার পর ইতু আমার বুকের
যেখানে চা পড়েছে সেখান টায়
আস্তে করে চুমু খেয়ে জড়িয়ে ধরলো,
নিমিশেই বুকের গরম চায়ের
জলাপোড়া চলে গিয়ে অদ্ভুদ ভাল
লাগে কাজ করছিলো। বেশ কিছুক্ষণ
পর যখন ও সোজা হয়ে দাড়ালো তখন
লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে শাড়ির আচল
হাতে নিয়ে খুটতে খুটতে নিচে
তাকিয়ে রইলো। আমি বলে উঠলাম..
.
-আমার বউ এতো সুন্দর ডাক্তারি করবে
সেটা জানলে তো বলার আগেই খুলে
ফেলতাম!!
.
ইতু লজ্জায় মুচকি হেসে বুকে একটা
থাপ্পড় দিয়েই দৌড়ে অন্য রুমে চলে
যায়।।

পাগলীটার এমন আরো পাগলামী
ভাবতে ভাবতে অনেক টা সময় পাড়
হয়ে গেলো, ইতু যে কখন আমার আঙুল
গুলো পেঁচিয়ে ধরে অর্ধ ঘুমের মতো
হয়ে গিয়েছে বুঝতেই পারিনি, রাত
অনেক গভীর। হঠাৎ মনে পড়লো, যখন
বিয়ের আগে হঠাৎ একদিন মধ্য রাতে
ইতুর কল। ইতু সেদিন অসুস্থ ছিলো, আগে
আগেই তাই ঘুম পাড়িয়ে
দিয়েছিলাম। ইতুর কল পেয়ে ভয়
পেয়েছিলাম এই ভেবে যে কোনো
বড় সমস্যা হলোনা তো!! কিন্তু ফোন
করে আমার পাগলীটা বলে উঠলো..
.
-সামু, আমার না খুব ইচ্ছে হচ্ছে
তোমায় নিয়ে এই শীতের মধ্য রাতে
হাটতে বের হতে। আমি এখন ই যেতে
চাই..
.
কোণ ভাবে সম্ভব না হওয়ায় তখন
পাগলী টার ওই ইচ্ছে টা পূরণ করতে
পারিনি।

আর কিছু না ভেবেই ইতু কে জড়িয়ে
ধড়ে দু হাতে করে কোলে তুলে
নিলাম। ইতু জেগে উঠে চমকে গিয়ে
বলে উঠলো, কি হলো!! আমার আঙুল
গুলো ইতুর দু ঠোট চেপে আলতো স্পর্শ
করলো। দুজনে এক চাদর গায়ে জড়িয়ে
আস্তে করে রুম গুলো পাড় হয়ে ঘড়ের
দরজা টা খুললাম, ইতুকে কোলে
নিয়ে বের হয়ে পড়লাম সুনসান নিরব
রাস্তায়। পুরো রাস্তা জনশূন্য শুধু আমি
আর ইতু ছাড়া। নিয়নের আলো গুলো
যেনো আমাদের পাহাড়া দিচ্ছে।
ইতুকে কোলে নিয়ে হাটতে থাকলাম
দূর, বহু দূর..
ক্ষনিক পর ইতু কোল হতে নামলো,
আমার পা দুটোর আঙুল গুলোতে চাপ
দিয়ে ইতু দাঁড়িয়ে আমার ঠোট দুটো
খুব নিরবে স্পর্শ করে নিলো। ঝাপ্টে
ধড়ে আমার বুকের ঠিক মাঝ খান টায়
মাথা গুজিয়ে জড়িয়ে ধরলো। আমিও
জড়িয়ে নিলাম খুব শক্ত করে, খুব
বেশি কাছের করে, শুধু আমারি
প্রাণে..

Friday, January 13, 2017

****'''মিষ্টি বর আর দুষ্টু বউ'''****

****'''মিষ্টি বর আর দুষ্টু বউ'''****

: এই যে। আপনি কিন্তু আমাকে আমার
অনুমতি ছাড়া স্পর্শ করবেন না।
: মানে কি!! বুঝলাম না।
: বুঝতে হবে না। আপনি আমাকে স্পর্শ
করবেন না। করলে কিন্তু আমি কান্না
করবো।
: ওকে, স্পর্শ করবোনা, কান্না করতে হবে
না। এখন একটু সরে বসেন, আমি ঘুমাবো।
এইভাবে বিছানার মাঝখানে বসে থাকলে
আমি ঘুমাবো কি ভাবে?
.
: শোনেন, আমি আপনার ৫ বছরের ছোট। তাই
আমাকে আপনি বলবেন না। আমাকে আপনি
তুমি করে বলবেন। আর আমি আপনাকে
আপনি করে বলবো।
: কেন এমনটা হবে? হয় দুজনে তুমি বলবো না
হয় আপনি।
: দেখুন কথা না শুনলে কিন্তু কান্না করবো।
: কি আজব,,,, কথায় কথায় কাদতে হবে
নাকি?
: না। আগে বলেন রাজি কিনা?
: ওকে, রাজি। তুমি ঘুমাবে না?
.
: শোনেন আজ রাতে আমি আপনি কেউ
ঘুমাবো না।
: কেন?
: আমি না সারা জীবন কোন প্রেম করিনি।
সব সময় ভেবেছি, যাকে বিয়ে করবো, তার
সাথেই প্রেম করবো। আর যত দিন তাকে
ভালবাসতে পারবো না ততোদিন তাকে
স্পর্শ করতে দিবো না।
: ওহহ আচ্ছা। এর সাথে না ঘুমানোর কি
কারণ বুঝলাম না।
: আপনি আজ ঘুমাবেন না। আজ সারা রাত
আপনার সাথে গল্প করবো।
: কি গল্প?
.
: আমার বরকে নিয়ে আমি যত স্বপ্ন
দেখছি,,,, সেই গল্প।
: এমা,,,,, আমি না আজ খুব ক্লান্ত। কাল গল্প
করি।
: না,,,,, আজকেই। আপনি ঘুমালে কিন্তু
আপনার গায়ে পানি ঢেলে দিবো।
: কয় কি (এই শীতের রাতে) । না থাক তার
চেয়ে বরং গল্প করি। বলো কি বলবে?
: আপনি তো আচ্ছা বরিং মানুষ। কথা
বলতেও পারেন না ঠিক ভাবে। আমার নাম
জিজ্ঞেস করেন।
.
: ওহহ আচ্ছা তোমার নামতো রিয়া, তাই
না।
: আরে ধুর এভাবে কি কেউ জিজ্ঞেস করে।
: তাহলে কি ভাবে জিজ্ঞেস করে?
: বলবেন,,,, "তোমার নাম কি। "
: কিন্তু আমি তো তোমার নাম জানি।
: ইহহহহ,,,,, আপনাকে কিন্তু । যা
বলতে বলছি তাই বলেন।
: ওকে,,,, তোমার নাম কি?
: আমি রিয়া ।
: কিসে পড়ো?
: অনার্স ২য় বর্ষ।
: আর কি?
: ধুর ছাই,,,, কি বরিং মানুষ আপনি।
: আবার কি করলাম!!
: ওকে আপনার প্রশ্ন করতে হবে না। আমি
নিজে থেকেই বলছি।
.
.
: জানেন আমার সব ফ্রেন্ড রা রিলেশন
করতো। কিন্তু আমি করতাম না।
: কেন??
: কারণ আমি আমার বরের দুষ্টু মিষ্টি বউ
হতে চাইছি সব সময়।
: কি রকম??
: আমি সব সময় চাইছি,,,, আমার সব
ভালবাসা আমি আমার বরকে দিবো। আর
ওকে খুব জ্বালাবো।
: কি রকম?
: জানেন, আমার চাহিদা গুলো খুব
সামান্য। আমার বাড়ি, গাড়ি, ভালো
পোশাক, দামি ফার্নিচার কিছুই চাইনা।
.
: তাহলে কি চাই??
: রোজ সকালে আপনি যখন অফিসে যাবেন,
তখন আমার কপালে একটা চুমু দিবেন।
: আর??
: দুপুরে খাবার আগে যেখানেই থাকেন,
আমাকে একটা কল দিবেন। না হলে আমি
না খেয়েই থাকবো।
: ওকে দিবো। আর??
: অফিস থেকে ফেরার সময় আমার জন্য,
চকলেট, আইসক্রিম, ফুসকা, কিছু না কিছু
আনতে হবে।
: আর??
.
: যদি কখনো ভুলে যান তবে আবার বাইরে
পাঠাই দিবো।
: ওকে আনবো। আর?
: ভালবাসা দিবস, মেরেজ ডে, সহ সব
ভালো ভালো দিনে আমায় নতুন করে
প্রপোজ করতে হবে। কিন্তু কোন ফুল দেওয়া
যাবে না।
: এটা কেমন কথা!!!
: জী এমনি কথা।
: আর??
: আমার কুয়াশা, চাদনী রাত, ঠান্ডা খুব
ভালো লাগে। তাই মাঝে মাঝে ঘুরতে
নিয়ে যেতে হবে। ব্যস্ত থাকলে বলবো না।
: ওকে।
.
: মাঝে মাঝে চাদনী রাতে, বেল কোনিতে
বসে এক কাপে দুজন কফি খাবো।
: এক কাপে কেন?
: হুম এক কাপেই খাবো।
: ওকে, আর??
: মাঝে মাঝে বৃষ্টির রাতে ছাদে গিয়ে
দুজন ভিজবো। আর আপনি কদম ফুল দিয়ে
আমায় প্রপোজ করবেন।
: এই শহরে কদম ফুল কই পাবো??
: আমি জানি না। আর রাগ করলেও কদম ফুল
দিয়ে রাগ ভাঙ্গাতে হবে।
: এটাতো রীতিমত টর্চার। সারা বছর কদম
ফুল কই পাবো?
: আমি জানি না।
: আচ্ছা অন্য ফুলের কথা বলো।
: না। কদম ফুল না দিতে পারলে আমায়
কোলে নিতে হবে, যতক্ষণ মন ভালো হয়নি
ততক্ষণ কোলে নিয়ে থাকতে হবে।
: এই ৪৮ কেজির বস্তা কোলে নিলে আমি
বাচবো!!
.
: আমি জানি না। কয়দিন পর আরো মোটা
হবো। তবুও কোলে নিতে হবে।
: বলে কি!! প্রথমের গুলাইতো ভালো
ছিলো।
: সব গুলাই ভালো, কোলে নিবে কিনা
বলেন?
: ওকে বাবা নিবো।
.
: শোনেন।
: হুম বলো।
: আপনার এই বোকা বোকা চশমাটা একটু
খুলবেন?
: কেন??
: আপনাকে দেখবো। এত মোটা ফ্রেমের
চশমা পড়েন, এখনো ভালো করে আপনাকে
দেখি নাই।
: আচ্ছা আমি ঘুমাবো,,,, কাল কথা হবে গুড
নাইট।
.
: এই যে শোনেন এখানে তো একটা বালিশ,
আমি কোথায় ঘুমাবো?
: আমার বুকের উপর।
: মানে?
: তোমার যেমন আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন।
ঠিক তেমন তোমাকে নিয়ে আমার একটা
স্বপ্ন। আমার বউ সব সময় আমার বুকে মাথা
দিয়ে ঘুমাবে। সারাদিন যত রাগ ঝগড়াই
হোক , রাতের বেলায় যেন কেউ কখনো
অন্যজনকে ছাড়া না ঘুমাতে পারে ।