Saturday, November 5, 2016

গল্প: জীবন টা এতো সুন্দর ক্যারে

গল্প: জীবন টা এতো সুন্দর ক্যারে

প্রথম থেকেই মেয়েটাকে আড়চোখে
ফলো করছি। বুঝতে পেরেছে কি না
কে জানে। তবে আমার দিকে মাঝে
মাঝে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে
নিচ্ছে। বিয়েবাড়ি বলে কথা।
মেয়েদের একটু রিস্ক বেশিই থাকে।
সারাক্ষন যদি আমার দিকে ড্যাব
ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে তাহলে
লোকে দেখলে বলবে কি? সেই ভয়ে
হয়ত মাঝে মাঝে তাকাচ্ছে। আমি
কিন্তু কোন কিছুর পরোয়া করছিনা।
তাকিয়েই আছি। মেয়েটা একটু দুরে।
তার সামনে দিয়ে অনেক মানুষ হেঁটে
যাচ্ছে। তাই মাঝে মধ্যে ঘাড়
নাড়িয়ে দেখতে হচ্ছে। মেয়েটাও
দেখছে। বিষয়টা কে কেমন ভাবে
নিচ্ছে আমি জানিনা।কিন্তু একি
মেয়েটা কই। ওকে এখন দেখা
যাচ্ছেনা কেন? বারবার ঘাড়
নাড়িয়ে দেখছি। কিন্তু না
মেয়েটাকে দেখছিনা। হঠাত আমার
পেছন থেকে কোন মেয়েলি কন্ঠ
শুনলাম। পিছনে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখি
মেয়েটা।
-- সমস্যা কি আপনার??
- জ্বি.. আমার কোন সমস্যা নেই তো।
-- জীবনে কোন দিন মেয়ে দেখেন
নি?
- দেখেছি। কিন্তু কেন?
-- আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে
আছেন কেন?
- না মানে আপনার মত মেয়ে আগে
কখনো দেখিনি।
-- মানে কি। সব মেয়ে তো একই রকম
- মোটেও না। আপনার চেহারা কি
অন্য কোন মেয়ের সাথে মিলে
নাকি। আপনার চেহারা আপনার মত
অন্য মেয়ের চেহারা অন্য মেয়েদের
মত।
-- এত কিছু বুঝিনা। আপনি আমার দিকে
আর তাকাবেন না।
- কেন?
বলেই আমি সানগ্লাস টা চোখে
পরলাম। তারপর মেয়েটির দিকে
তাকালাম।কিছু বলছেনা। মুচকি মুচকি
হাসছে।আমি বললাম
- কেন সেটা বলবেন না??
-- এমনিতেই তাকাবেন না। আর
রাতের বেলা সানগ্লাস চোখে
দিছেন কেন?
- আচ্ছা আপনি সূর্যের দিকে খালি
চোখে তাকাতে পারবেন??
-- আমি বলছি কি আর আপনি বলছেন
কি??
- বলেন না। আমার কথার উত্তর দেন।
-- সূর্যের দিকে কেউই খালি চোখে
তাকাতে পারবেনা।
- হুম.... আপনিও ঠিক সুর্যের মত সুন্দর তাই
এখন খালি চোখে তাকাতে
পারছিনা। চোখ ঝলসে যাবে।
-- এটা কোন কথা হল?? তাহলে এতক্ষন
কিভাবে খালি চোখে
তাকিয়েছিলেন।
- এতক্ষন তো আপনি চাঁদের মত সুন্দর
ছিলেন তাই খালি চোখে
তাকিয়েছিলাম। আর চাঁদের দিকে
সানগ্লাস পরে তাকালে চাঁদের
আলোর অবমাননা করা হবে।
-- কি সব বলছেন আপনি। কিছুই বুঝতে
পারছিনা।
- বেশি বোঝা ভালোনা।
-- তাই নাকি?
- হুম।
-- সে যাই হোক। আপনি আমার দিকে
আর তাকাবেন না।
বলেই মেয়েটি চলে যাচ্ছে।
একবারো পিছনে তাকাচ্ছেনা।
তাড়াতাড়ি করে সানগ্লাস খুলে
ফেললাম। কেউ যদি দেখে আমি
রাতের বেলা সানগ্লাস পরেছি
তাহলে সবাই ভাববে আমার মাথার
তার ছিঁড়ে গেছে। মেয়েটা ঘরের
ভিতর চলে যায়।
.
মেয়েটাকে যে আমি আজ প্রথম
দেখলাম,তা নয়..এর আগেও এই
মেয়েকে আর একবার দেখেছি।
কয়েকদিন আগেই একবার শপিংমলে
মেয়েটাকে দেখে আমি থমকে যাই।
আসলে আমি ভাবতে থাকি..আমি কি
মেয়ে দেখলাম, নাকি একটা পরী
দেখলাম?
.
এটা আমার বন্ধু শাকিলের বিয়ে। ও
আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। হবু ভাবি আর
শাকিলের জন্য কেনাকাটা নিয়ে
সবাই যখন ব্যাস্ত,আমি একটু সিগারেট
খাওয়ার জন্য একপাশে সরে আসি।
উপরে চোখ যেতেই এই মেয়েটাকে
দেখি। এক ঝলক... মুহুর্তেই হারিয়ে
গেলো। তারপর অনেক খুজেছিলাম।
শপিং বাদ দিয়ে পুরো শপিংমল
মেয়েটাকে গরু খোজা খুজলাম কিন্তু
পেলাম না। শেষে আবার বকাও
খেলাম বন্ধুদের কাছে হুট করে না বলে
যাওয়ার জন্য। আমি তো আশাই ছেড়ে
দিয়েছিলাম। কিন্তু ভাগ্যে থাকলে,
কি না হয়? মেয়েটাকে আজ পেয়ে
গেলাম বিয়ে বাড়িতে। সেদিনে
হারিয়ে গিয়েছিলো, সেই ভয়েই
মেয়েটাকে আজ চোখের আড়াল
করতে ভয় হচ্ছে। আবার যদি হারিয়ে
যায়? বিয়েতে যেহেতু এসেছে,
সেহেতু নীরা ভাবির আত্মীয়, নয়তো
বান্ধবী। এই একটা ভরসা আছে।
.
খাওয়ার পর্ব শেষ। কিছুক্ষন পর ই নীরা
ভাবিকে নিয়ে আমরা শাকিলের
বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হবো। এর মধ্যে
আমার পরীটাকে আমি আর দেখিনি।
ইস..একটু যদি দেখতে পারতাম। আমার
দু'চোখ এদিক সেদিক শুধু পরীটাকেই
খুজে যাচ্ছে।
.
আমার এ অবস্থা,বন্ধুদের চোখ এড়ালো
না। রিহান আমার পাশে একটা চেয়ার
টেনে বসতে বসতে বললো..........
--কি অবস্থা দোস্ত?
--কি?
--এদিক ওদিক তাকাস কেন?কাকে
খুজোস?
--কই..নাতো।কাকে খুজবো?
--কাউকে না খুজলে উকি-ঝুকি
মারতাসোস কেন?
--আসলে...মানে...
--কি?বল...
--নীরা ভাবিকে নিয়ে আসেনা
কেন?দেখিই নাই এখনো তাকে।
--কিইইই???তুই ভাবিকে দেখোস নাই?
শাকিল আর ভাবির এংগেজমেন্ট এর
সময় ও তো তুই ছিলি। গতকাল গায়ে
হলুদেও তো দেখলি।
--আসলে.....উমমম...বিয়ের সাজে তো
দেখিনি।
--চল...দেখিয়ে আনি।এখানে বসে
থাকলে দেখবি কিভাবে?
--ভিড় তো প্রচুর..
.
রিহান আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে
যাচ্ছে। আমি চাইলেই ওকে পরীর কথা
বলতে পারতাম। কিন্তু বিষয়টা হচ্ছে,
আমার বন্ধুরা জানে আমি প্রেমের
বিরোধী। এর অপকারিতার উপর প্রায়ই
ওদের লম্বা লম্বা ভাষন দেই। সেই
আমি কিভাবে বলি,আমি প্রেমে
পড়েছি।
.
নীরা ভাবির রুমে প্রচুর ভিড়।
অনেকেই ছবি তুলছে। ভিড় ঠেলে
যেতে ইচ্ছা করছে না। রিহান হাত
ধরেই রেখেছে, ছাড়ছে না।
কোনোমতে নীরা ভাবির পাশে
গিয়ে দাড়িয়েই আমি আবার থমকে
গেলাম। পরীটা ভাবির পাশেই বসে
আছে গম্ভীর মুখে। দু'চোখে কালো
মেঘ জমেছে।
.
চট করে আমার মাথায় একটা বুদ্ধি
এলো। আমি রিহানকে আমার ফোনটা
দিয়ে বললাম ভাবির সাথে আমার
ছবি তুলতে। নীরা ভাবি পরীটার হাত
ধরে বসে আছে। তারমানে পরীটা
উঠবে না। আমি পরীটার সাথেই ছবি
তুলতে পারবো। বিয়ে বাড়িতে,কে
কার সাথে ছবি তুলছে..এ নিয়ে কেউ
নিশ্চই মাথা ঘামায় না।ছবি তোলার
পরপরই আমি রিহানকে ভেতরে রেখে
বাইরে চলে আসি।
.
বাইরে এসে মোবাইলটায় আমার
পরীটার ছবি দেখছি। কিন্তু পরী
অন্যদিকে ফিরে আছে। নীরা ভাবি
মাঝখানে বসে আছে। আমি হ্যাবলার
মত একপাশে দাঁড়িয়ে আছি।
পরীটাকে দারুন লাগছে। এমন সময়
রিহান আসে।
- কিরে মোবাইলে কি দেখছিস?
আমি মোবাইল টা পকেটে রেখে
দিয়ে বলি
-- কই.... কিছুনা.. তো
- তখন দেখলাম এদিক ওদিকে কাকে
খুজছিস আর নীরা ভাবির সাথে ছবি
তোলার পর দেখছি মোবাইলে ভাবির
ছবি দেখছিস। ঘটনা কি?? ভাবির উপর
ক্রাশ খাইছস নাকি?
-- ঐ বেটা ভাবির উপর ক্রাশ খাইলে
শাকিল আমারে আলুর ভর্তা বানিয়ে
ফেলবে।
- তাইলে কি ভাবির বান্ধবীর উপর?
-- ভাবির বান্ধবী কে?
- আরে ঐ যে ভাবির পাশে বসা ছিল ঐ
মেয়েটা। নামটা কি যেন........ হ্যাঁ
মনে পড়েছে। মেয়েটার নাম ইরা।
-- ইরা??? তাহলে তো আমার সাথে
মিল আছে..
- তোর সাথে আবার কিসের মিল?
-- আরে আমার নাম ইমরান পরীর নাম
ইরা।
- পরী আবার কোথাথেকে আসলো। এই
তোর ভাবগতি ভাল দেখতাছিনা। তুই
কি ইরার উপর ক্রাশ খাইছস??
-- দোস্ত জানিনা রে।
আমার কথা শুনে রিহান আমার মাথায়
থাপ্পড় মারতে মারতে বলল
- ঐ ফইন্নি ঐ.. এতদিন আমরা তোমারে
প্রেমের কথা বললে তুমি লম্বা লম্বা
ভাষন দিতা এখন দেখি ডুবে ডুবে জল
খাও।
রিহানের কথাটাই ঠিক। কিন্তু কি
করব। ক্রাশ তো খেয়েই ফেলেছি। এখন
তো আর উগলে ফেলে দিতে পারবনা।
ওটাকে হজম করে নিতে পারলেই হয়।
রিহানকে সবকিছু খুলে বলি। রিহান
বলল
- ব্যাপার না। ইরা নীরা ভাবির
সাথে যাবে আজ।
-- কোথায় যাবে?
- কোথায় আবার,, শাকিলের
বাড়িতে।
-- তুই জানছ কেমনে??
- আরে ওরা ভেতরে কথা বলার সময়
শুনছি।
মনে মনে ভাবছি এইটাই মোক্ষম সুযোগ।
কাজে লাগাতে হবে। আমি আবার
প্রেম টেমের ব্যাপারে এক্কেবারে
আনাড়ি। কি করব কিছুই বুঝতে
পারছিনা।
.
নীরাভাবিকে নিয়ে গাড়িতে উঠল
শাকিল। সাথে ইরাও আছে। আমিও চট
করে ঐ গাড়িতে উঠে পড়ি। আমি
ড্রাইভারের সাথে বসে আছি।
নীরাভাবির হাত ধরে ইরা বসে
আছে। আমি বারবার পেছন ফিরে
ইরার দিকে তাকাচ্ছি।ইরাও
ব্যাপারটা খেয়াল করেছে।সে
জানালা দিয়ে বাইরের দিকে
তাকিয়ে আছে। মুখ দেখে বোঝা
যাচ্ছে যে সে অনেক কষ্টে মুচকি
হাসিটাকে চেপে রেখেছে।
- ঐ ইমরাইন্না কি দেখছ বারবার পেছন
ফিরে।
হঠাত এই বাক্যটা শুনে আমি চমকে
উঠলাম।পিছনে ফিরে বুঝতে পারি
শাকিল বলছে।
-- শাকিল্লা.... আমার নাম কি তোর বউ
রাখছে নাকি। সুন্দর করে ডাকবি।
- ও আচ্ছা.... ইমরান ভাইয়া আপনি
বারবার পেছন ফিরে কি দেখছেন??
-- দেখতেছি তোরে বর সাজে কেমন
লাগে। আর ভাবতাছি কবে আমিও
শেরওয়ানি পরব।
- তোর আর শেরওয়ানি পরা হবেনারে।
তোর কপালে বউ নাই।
-- কেন তোর একথা মনে হল??
- আরে তোরে সেই কলেজ লাইফ
থেকে দেখে আসছি। আসলে তোর
প্রেমে,বিয়ে এই দুটোতে এলার্জী
আছে। তাই আজ পর্যন্ত কোন মেয়ের
মুখে জান ডাকা শুনতে পারিসনি।
-- আরে দেখিস..... বিয়ে করে যখন ঘরে
তুলবনা তখন দেখবি আরো অনেক কিছুই
ডাকবে।
শেষ কথাটা ইরার দিকেই তাকিয়ে
বললাম। ইরা আর হাসি আটকে রাখতে
পারেনি। আর কি? সে হাসছে। আমি
দেখছি। ভাবছি কিভাবে ওর সাথে
কথা বলা যায়। শাকিল আমার কথা
শুনে বলল
- আগে তো কর তারপর দেখিনা
তোরে কি বলে ডাকে।
-- দেখে নিস সমস্যা নাই।
- কিরে একটা ব্যাপার বুঝলাম না
তো?
-- কি?
- এত দিন তোরে প্রেম বিয়ের কথা
বললে তুই হ্যাবলা মার্কা ভাষণ দিতি
আর আজ প্রেম বিয়ের কথা বলতে তোর
মুখে আটকাচ্ছেনা। ঘটনা কি??
-- এ আবার কি ঘটনা। আমি কি
ছেলেনা? আমার কি বিয়ের শখ নাই।
তুই বিয়ে করতে পারিস আমি পারবনা
কেন?
- আচ্ছা। তা মাইয়া টাইয়া পছন্দ করে
রেখেছিস নাকি?
-- ঐ শাক ফইন্নি... মাইয়া টাইয়া কি
রে?? পরি বল পরি।
- বাবা.... হ্যাবলা আজ হঠাতই রোমিও
হয়ে গেছে।
-- আরে জুলিয়েট সামনে থাকলে সব
হ্যাবলাই রোমিও হয়।
- আচ্ছা তোর জুলিয়েট টা কে?
-- কে আবার??? তোর বউ।
- ঐ ফইন্নি তাইলে আমার বউয়ের দিকে
নজর দিতাছ। চোখ খুইলা ফালামু
কইলাম।
-- ওমা... আজই বউ পাগলা হয়ে গেলা
নাকি? তুই তো মনে হয় আগামী একমাস
ঘর থেকে বেরই হবিনা।
শাকিল কিছু একটা বলতে যাবে এমন
সময় আমার পরী ইরা বলল
- এই নীরা... তোর বর আর ঐ হ্যাবলা এত
প্যাক প্যাক করছে কেন জিজ্ঞেস কর
তো??
ইরার মুখে হ্যাবলা শুনে শাকিল আর
নীরা দুজনেই হাসতে শুরু করল। আমার
আবার উপস্থিত বুদ্ধি কম। কি বলব
ভাবতাছি। কিছু ভেবে না পেয়ে
বললাম
- যে আমাকে হ্যাবলা বলে সে এক
নম্বরের হ্যাবলি।
আমার দোষ নাই। মুখে এটা আসছে
এটাই বলে দিছি। তবে কেউ রাগ
করেনি। উল্টো সবাই হেসেছে। আমি
তো আমার পরীর হাসি দেখছি।
দেখতে দেখতেই শাকিল এর বাড়ি
কখন যে এসে গেছি তা টেরই পাইনি।
.
রাতে খুব হৈচৈ হলো। আমরা তো
নানান প্লান করে রেখেছিলাম।
সবার মোবাইল নিয়ে শাকিলের রুম এ
১০ মিনিট পর পর এলার্ম সেট করে
লুকিয়ে রেখেছিলাম। আমার
পরীটাও আমাদের সাথে ছিলো। খুব
মজা করে ঘুমাতে গেলাম রাত ৩ টার
পর।
.
সকালে বরফের মতো ঠান্ডা পানির
ছিটা চেহারায় পড়তেই ধড়মড়িয়ে ঘুম
থেকে উঠলাম। মেজাজ বিগড়ে
গেলো। কিছু একটা বলতে
যাবো,তাকিয়ে দেখি আমার পরী
টা হাতে গ্লাস নিয়ে সামনে
দাঁড়িয়ে। ওকে কি আর বকা যায়?
তারপর ও বললাম...
--কি হলো এটা?
--কই? কিছুই তো হলো না।
--আমার উপর পানির ছিটা দিলেন
কেন?
--আমি তো আর আপনাকে গায়ে হাত
দিয়ে ঠেলে তুলতে পারি না। তাই
না
--আমাকে এতো সকালে তোলার ই বা
কি দরকার?
--আসলে গ্লাস এর পানি কোথায়
ফেলবো ভাবছিলাম। আপনাকে
পেয়ে গেলাম,তাই আপনার উপর ই
ফেললাম।
.
বলেই পরী টা হাসতে লাগলো। আমি
একটু রাগী চেহারা নিয়ে ওর সামনে
থেকে উঠে গেলাম। রাগী ভাব
ধরাতে একটা সুবিধা হবে। ও ভাববে
আমি রাগ করেছি। তাই রাগ
ভাঙানোর জন্য আশেপাশে ঘুরঘুর
করবে। আমাকে আর ওকে দেখার জন্য
ওর পিছু নিতে হবে না। .
যা ভেবেছিলাম তাই হলো। ফ্রেস
হয়ে রুম।এ এসে দেখি পরী টা রুম এই
বসে আছে। আমি কথা না বলে শীতের
পোশাক না নিয়ে পড়তে লাগলাম।
ইদানীং বেশ ঠান্ডা পড়ছে। আর এতো
সকালে তো ঠান্ডার কোনো অভাব ই
হয় না। বাড়ি টা এখনো বেশ নীরব।
তেমন কেউ উঠে নাই। কয়েকজন উঠে
হাটাহাটি করছে মাত্র। পরীটা
আমাকে কিছু বলতে যাবে,আমি রুম
থেকে বেরিয়ে গেলাম।
মেয়ে..এবার বোঝো...আমরা
ছেলেরাও কম অভিনয় করতে পারি না।
.
ছাদে বসে আছি। পরীটা আমার
থেকে একটু দূরে বসে বললো...
--সরি...
--...........
--নাহয় একটু সকাল সকাল ঘুম
ভাঙিয়েছি। তাই বলে এতো রাগ
দেখানোর কিছু হয় নি।
--শাকিলের বন্ধু শুধু আমি না। আরো
অনেকে আছে। শাকিলের ভাই ও আছে
অনেকগুলা। তাদের জ্বালান না।
আমাকে কেন?
--সরি..
.
পরীটার চোখ ছলছল করছে। আমি বলে
উঠলাম...
মেঘ জমেছে তোর চোখেতে..
বৃষ্টি যেন না নামে...
মায়াবী চোখের মায়ার বাধনে...
বাধিস না আজ আমারে....
.
পরী টা হেসে ফেললো। বললো...
--বাহ!!!ভালো কবিতা বানাতে
পারেন তো।
--ওই একটু আধটু ....
--আচ্ছা,আমি এখন যাই। নীরার
ফ্যামিলি আসবে আজ। তৈরি হতে
হবে। আপনি যাচ্ছেন তো নীরার
বাড়িতে আড়াই দিনের মেহমান হয়ে?
--হুম।অবশ্যই যাবো।
.
পরীটা উঠে চলে গেলো। আড়াই দিন
না হয়ে ১ সপ্তাহ হলে ভালো হতো। ১
মাস হলে আরো ভালো হতো। যাই
হোক..যা করার এই আড়াই দিনেই করতে
হবে।
.
আল্লাহর নাম নিয়ে উঠে পড়লাম
গাড়িতে। আমি, শাকিল,রিহান,নীর
া ভাবি আর আমার পরী আমরা
একসাথে।সবাই কথা বলছে হঠাতই
রিহান বলে উঠল
- শাকিল,,, তুই জানিস হ্যাবলা
ইমরাইন্যা ক্রাশ খাইছে।?
-- কি কছ..... কার উপর
- রিহাইন্যা চুপ করবি? ( আমি)
-- আরে দাড়া বলতে দে।(রিহান)
- হুম তুই বল (শাকিল)
-- কালকে দেখি এদিক ওদিকে
তাকিয়ে কাকে খুজছে আর
মোবাইলে কার ছবি দেখছে।(রিহান)
- কালকে সে প্রেম বিয়ে নিয়েও
কথা বলছে।(শাকিল)
-- কি কছ.... সে তো আগে মেয়েদের
থেকে ১০০ হাত দুরে থাকত।
আমি তো ওদের কথা শুনে চুপ হয়ে
আছি। হঠাত আমার পরীটা বলে উঠল
- তাই বলে কি একটা মানুষ চেঞ্জ হতে
পারেনা।(আমার পরী)
কেউ কিছু বলার আগেই আমি বললাম
-- হুম.... দেখছিস... উনি আমার পক্ষে
আছে।
- তুই হ্যাবলা। তোর পক্ষে তো
হ্যাবলিই থাকবে।(শাকিল)
সবাই হাসতে শুরু করল। আমার পরীটার মুখ
লজ্জায় লাল হয়ে আছে।
- ঐ তোরা ওনারে হ্যাবলি বলছিস
কেন? বললে আমাকে বল।(আমি)
-- ঐ দেখ। হিরোইনের জন্য হিরোর
অন্তরে লাগছে।(শাকিল)
- তার মানে সামথিং সামথিং
(রিহান)
-- নীরা ভাবি.... আপনার বর
শাকিল্লারে সামলান আমি
রিহাইন্যারে দেখতাছি।
- আমি আর কি বলব। সব তো আপনারাই
করছেন। শুধু শুধু ইরারে পঁচাইতেছেন।
(নীরা ভাবি)
-- থাক আমার জন্য কেউ হ্যাবলি ডাক
শুনতে হবে না। ঐ শাকিল, রিহান,
তোরা যা বলবি আমাকে বল কিন্তু
ওনাকে কিছু বলিস না।
সবাই কেমন যেন একটু সিরিয়াস হয়ে
গেল। আর কোন কথা হয়নি। সবাই চুপ
ছিল। আমরা নীরা ভাবিদের
বাড়িতে পৌঁছে গেলাম।
.
পরীটাকে খুঁজছি। কোথাও পাচ্ছিনা।
কি যে করি। হাতে মাত্র সময় আড়াই
দিন। এর মাঝে যদি ওকে ইম্প্রেস করতে
পারি তাহলেই হবে। কিন্তু ওর তো
দেখাই পাচ্ছিনা। অনেকক্ষন পরে
ওকে দেখলাম। একা একা বসে আছে।
আমিও এই সুযোগ টার অপেক্ষা
করছিলাম। আমি পরীটার কাছে
গিয়ে বসি।
- স্যরি
-- স্যরি????? কেন???
- আমার জন্যেই আপনাকে হ্যাবলি
ডাক শুনতে হল।
-- আরে ওটা তো দুষ্টুমি করে বলছে।
সমস্যা নাই।
- আসলে শাকিল,রিহান যা বলেছে
সবই সত্যি। আমি কখনোই প্রেমে আগ্রহী
ছিলাম না। কিন্তু হঠাতই কেমন যেন
হয়ে গেলাম। একজনকে বারবার
দেখতে ইচ্ছে করে। কয়েকদিন আগে
শপিং মল এ মাত্র এক পলক
দেখেছিলাম। তারপর হারিয়ে যায়।
আর দেখিনি। কিন্তু ভাবিনি
শাকিলের বিয়েতে তার সাথে
আবার দেখা হবে।
-- ওয়াও...... তাহলে আমাকে একটু
দেখান না। সেই মেয়েটা কে।
- এখন না পরে। সময় হোক।
-- এখন সমস্যা কি?
- এখনই দেখতে হবে???
-- হ্যাঁ।
- আচ্ছা একটু আয়না আনতে পারবেন?
-- কেন?
- না মানে আমার চুলগুলো
এলোমেলো হয়ে গেছে। ঠিক করতে
হবে।
-- আচ্ছা। আনছি।
ইরা আয়না আনতে চলে গেল। আমি
তো অনেক কনফিউশনে আছি। কি না
কি হয়। আমি যে ওকে পছন্দ করি সে কি
জানে। বলে দেব ভাবছি। পরীটা
আয়না নিয়ে আসে।আমার কাছে দেয়।
আমি আয়নায় চুল ঠিক করা তো দুরের
কথা নিজের চেহারাটাও দেখছিনা।
আয়নাটা হাতে নিয়ে বসে আছি।
-- কি হল? চুল ঠিক করবেন না?
- না।
-- তাহলে আয়না আনার জন্য কেন
বললেন?
আমি এই কথার জন্যেই এতক্ষন অপেক্ষা
করছি। উঠে দাঁড়িয়ে পরীটার মুখের
সামনে আয়নাটা ধরি। আর বললাম
- এইটাই সেই মেয়ে যাকে আমি
ভালবেসে ফেলেছি। যার জন্য আমার
অনুভুতি গুলো বদলে গেছে।
পরীটা কিছু বলতে পারছেনা। লজ্জা
পেয়েছে মনে হয়। লজ্জা পাওয়া ভাল।
লজ্জা নারীর ভুষণ। সে কিছু না বলে
নিচের দিকে তাকিয়ে চলে গেল।
আমি তাকে আর ফেরালাম না।
.
.
সারাদিনে আর পরীটার সাথে কথাই
বলতে পারলাম না। সামনে পড়লেই
দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। বিকেলে
কতগুলা মেয়ে একসাথে বসে আড্ডা
দিচ্ছিলো। নীরা ভাবির বোনেরা
হবে। পরীটা আমাকে এড়িয়ে চলছে
দেখে আমি আর আমার বন্ধু,আর
শাকিলের ভাইয়েরা গেলাম ওদের
সাথে আড্ডা দিতে। সম্পর্ক তো
বিয়াই-বিয়াইন। আড্ডা দিলে কেউ
সিরিয়াসলি নেবে না। মাহি
নামের একটা মেয়ে আছে। নীরা
ভাবির কাজিন। আমি গিয়ে ওর
সাথে ফাজলামি করতে লাগলাম। একটু
পরেই পরীটা উঠে গেলো।
.
কোথাও পরীটাকে খুজে না পেয়ে
ছাদের দিকে ছুটলাম। গিয়ে দেখি এক
কোণায় দাঁড়িয়ে আছে। আমি আস্তে
করে ওর পাশে দাঁড়িয়ে ওকে
রাগানোর জন্য বললাম.......
--একজন যদি রাজী না হয়, অন্য একজনকে
তো খুজতেই হবে। তাই না?
পরীটা তখনো নীরব। কিছুই বলছে না।
ওদিক ফিরেই আছে। আমি আবার
বললাম.......
--যে যাই বলুক...মাহি কিন্তু খুব সুন্দরী।
এখানে ওর মতো সুন্দরী মেয়ে আর
একটাও নেই।
.
এবারো পরীটা চুপ। আমি ওর বাহু ধরে
ওকে ঘোরালাম। পরীটা কাদছে।
আমার বুকের বাম পাশ টা মোচড় দিয়ে
উঠলো। ইচ্ছা করছিলো ওকে জড়িয়ে
ধরে বলি
"এই পরীটা, কাদো কেন? আমি তো
তোমার ই"
আমার হাত ছাড়িয়ে পরী আবার মুখ
ঘুড়িয়ে বললো.....
--এখানে এসেছেন কেন? মাহি আছে
তো নিচে। শিলা, আভা,
নুসরাত,সাথী, আনিকা,সারিকা,কু
মকুম ..আরো অনেক অনেক মেয়ে আছে।
মেয়ের অভাব নেই। একজন কে না
পেলে অন্যরা তো আছেই।
--হুম। ঠিক ই তো। তাহলে নিচেই যাই।
মেয়ে পটানো লাগবে তো।
বলেই হাটার মিথ্যে অভিনয় করতে
লাগলাম। পরীটা আমার হাত ধরে
বললো....
--মাইর চিনো???
আমি একটু চমকে উঠলাম। পরীটা এই প্রথম
আমাকে তুমি করে বললো। আমি
বললাম.....
--নাতো। মাইর কি? খায় না মাথায়
দেয়?
--পিঠে মাইর পড়লে বুঝবা। যদি খালি
মেয়েদের আশেপাশে ঘুড়ঘুড় করতে
দেখি। মেরে হাত-পা ভেঙে দেবো।
--১ টা প্রশ্ন ছিলো।
--হুম। করো।
--তুমি মেয়ে তো?
--এটা কেমন প্রশ্ন?
--উত্তর দাও। তারপর বলছি....
--হুম। মেয়ে...তো?
--তাহলে তো আমার এখন এখান থেকে
যাওয়া উচিত। মেয়ে,তোমার
আশেপাশে থাকা যাবে না।
--কি বললা?????
--তুমিই তো বললা মেয়েদের
আশেপাশে থাকা যাবে না।
--তাই না??? দাড়াও...তোমার মাথার
চুল গুলা যদি না ছিড়সি আজ....
.
আমি দৌড়াচ্ছি আর পরীটা আমাকে
ধাওয়াচ্ছে। আমি একটু থেমে ওকে
জড়িয়ে ধরে বললাম......
--এই পরী। আমার উত্তর দাও...
--ছাড়ো আমাকে।
--উত্তর না দেয়া অবধি ছাড়বো না।
--কিসের উত্তর?
--ভালোবাসো?
--হুম...ওই আকাশ,পাখি,ফুল দের খুব
ভালোবাসি।
--তাই না???
--হুম...
.
সিড়িতে আওয়াজ হচ্ছে। মানে কেউ
আসছে। পরীটা বললো.....
--এই,ছাড়ো প্লিজ। কেউ আসছে....
--উত্তর না দিলে ছাড়বো না।
--জানিনা...
--তাহলে আমিও ছাড়বো না।
--.................
--এই পরী। বলনা.....
--ভালোবাসি.....
.
আমি পরীটাকে ছেড়ে দিতেই ও
বললো..
--ভালোবাসি না।
বলেই ছুট....আমি লুকানোর জায়গা
খুজতে লাগলাম। কেউ ওকে যেতে
দেখে আমাকে ছাদে দেখলে নিশ্চই
কিছু ভেবে বসবে। কিন্তু লুকানোর
দরকার হলো না। পরীকে খুজতেই
আসছিলো ওরা। পরীটা ওদের নিয়ে
নিচে চলে গেলো। যাক!!!এবারের
মতো তো বেচে গেলাম। মনের মধ্যে
লাড্ডু ফুটছে। পরীটা আমার হয়েই
গেলো।
.
রাতে খাওয়া দাওয়া সেরে
ফেলেছি। কেমন জানি বোর লাগছে।
সারাদিন পরিটার আর দেখা পাইনি।
হয়তো বা লজ্জায় সামনে আসেনি।
ভীষন লাজুক আমার পরীটা। এখন খুব
দেখতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কোথায়
পরি। দেখছিনা তো। ধ্যাত!!!!! বাইরে
বের হলাম। বের হতেই দেখি পরি
উঠোনের এক কোনে দাড়িয়ে আছে।
আমায় দেখেই সরে যেতে চাইলো।
কিন্তু তার আগেই আমি তার হাত ধরে
ফেলি।
-- এই কেউ দেখবে তো। হাত ছাড়ো।
- তার আগে বল সারাদিন কই ছিলা।
সামনে আসোনি যে।
-- এমনিতে আসিনি।হাত ছাড়োনা।
- ছাড়বনা বলছি ছাড়বনা।
-- ভালো লাগছেনা কিন্তু।
এবার আমি হাত ছেড়ে দিই। পরি চলে
যেতে চাইলো। আমি ডাকতেই আবার
দাড়িয়ে পেছন ফিরে আমার দিকে
তাকালো।
- ইরা... তুমি জানোই যে আমি
তোমাকে ভালবাসি। তারপরো এত
ইগ্নোর করছ কেন?
-- ইগ্নোর করছিনা। অনেক টেনশন হচ্ছে।
- কেন? কি হইছে?
-- আজ বাবা ফোন দিয়েছিল।
তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে বলেছে।
উনি এবার আমার বিয়ের
চিন্তাভাবনা করছেন।
- তুমি কি চাও?
-- আমি কি চাইব?
- আমাকে বিয়ে করার ইচ্ছে নেই?
-- থাকবেনা কেন। মনে হচ্ছে আমি
ভালোবাসিনা।
- তো তুমি চিন্তা করোনা। আমি
ব্যবস্থা করব।
-- সত্যি তো?
- হুম সত্যি।এবার একটা কথা রাখবে?
-- বল
- একবার জড়িয়ে ধরি?
-- না।
- আমি ধরছি।
-- না না।
আমি পরির সামনে গিয়ে ওকে
জড়িয়ে ধরি।পরি একটুও ছাড়ার চেষ্টা
করেনি। আমার বুকে মাথা দিয়ে
রেখেছিল। আমি ওর মাথায় হাত
বুলিয়ে দিচ্ছি। এমন সময় কে যেন ঘর
থেকে বেরিয়ে উঠোনে এল। আমরা
দুজনেই চমকে উঠি। পরি আমায় ছেড়ে
দেয়। আমি মাথা ঘুরিয়ে দেখলাম
শাকিল বের হয়েছে নিরাভাবি সহ।
আমাদের দেখে দুষ্টুমি করে বলছে
- কিরে লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করছিস
নাকি?
-- হ্যা করছি। তোর সমস্যা।
- বাহবা!!!!!
-- মনে হচ্ছে অবাক হচ্ছিস?
- অবাক তো হবই।
-- কেন হবি?
- তুই আগে কি ছিলি আর এখন কি হলি।
-- আগের কথা বাঘে খাইছে।
- সত্যি?
-- হুম। সত্যিনা তো কি। ভাবি... এই
ফইন্নিরে আপনি আড়ালে নিয়ে যান
আর প্রেম করেন আর আমি এখানে প্রেম
করি। যান।
আমার কথা শুনে সবাই হাসল। তারপর
চারজনে উঠোনে বসে আড্ডা মারি।
.
রাতে আমি আর রিহান শুয়ে আছি।
আমার ঘুম আসছেনা। রিহান বলল
- কিরে কি হইছে তোর?
-- কিছুনা রে।
- বল। আমি জানি কিছু একটা হইছে। বল
সমস্যা নাই।
রিহানের কথা শুনে উঠে বসলাম। ইরার
সাথে আমার যা যা হইছে সবকিছু খুলে
বললাম। রিহান আমায় বলছে
- ধুর গাধা....এটা নিয়ে চিন্তা করার
কি আছে। আমি শাকিল কে সবকিছু
বুঝিয়ে বলব। দেখবি ও ঠিকই একটা
ব্যবস্থা করবে।
-- বলছিস?
- হ্যাঁ বলছি।
-- আয় তোরে একটা লাথি মারি
- কিতা কইলি হ্যাবলা
-- স্যরি আয় তোরে একটা উম্মা দিই।
- ভাগ ফইন্নি। ঘুমা এখন।
তারপর আমি আর রিহান দুজনেই ঘুমিয়ে
পড়ি। আমার ঘুম আসছেইনা। সারাক্ষন শুধু
পরির কথা মনে পড়ছে। ওর কথা ভাবতে
ভাবতেই আমি ঘুমিয়ে পড়ি।
.
সকাল বেলা টের পেলাম আমার মুখের
উপর বৃষ্টি হচ্ছে। এমনিতে শীত লাগছে।
তার উপর বৃষ্টি। চোখ খুলে দেখি আমার
পরি গ্লাস হাতে নিয়ে দাড়িয়ে
আছে। রিহান ঘুমাইতাছে এখনো। আমি
বললাম
- এখন থেকেই আমার ঘুমের বারোটা
বাজিয়ে যাচ্ছ। না জানি বিয়ের
পরে আমাকে ঘুমাতে দিবে কি না।
-- ও তাই নাকি।
- তাই না তো কি। আমার মুখে পানি
ছিটিয়ে দিলে কেন?
-- গ্লাস এর পানি ফেলবার আর জায়গা
পাইনি তাই।
- ভালো। তোমার ভালোবাসা
ফেলবার জায়গাও যেন আর না থাকে।
-- থাকবেওনা। এত জোরে বলছ কেন।
রিহান ভাইয়া উঠে যাবে তো।
- আরে ঐ ফইন্নি মোষের মত ঘুমায়।
উঠবেনা।
-- তাইলে তো উনার বউরে কেউ
নিয়ে গেলেও উনি টেরই পাবেনা।
- আরে ঐটার কথা বাদ দাও। একবার আই
লাভ ইউ বলনা।
-- না।
- বলনা।
-- না বলছিনা।
- না বললে কিন্তু আবার জড়িয়ে ধরব।
-- বলছি বলছি.... আই লাভ ইউ।
- আই লাভ ইউ টু।
আমি খাট থেকে নামব এমন সময় শুনি
--- আই লাভ ইউ থ্রী
আমি আর পরি চমকে উঠি। কে বলল
কথাটা। তাকিয়ে দেখি রিহান চোখ
খুলে তাকিয়ে আছে।পরি তো লজ্জা
পেয়ে দৌড় দিল।
- রিহাইন্যা উঠার আর সময় পেলিনা।
-- আগে বল আমি মোষ তাইনা।
- না কেডা কইছে।
-- ফইন্নি... ঠাকুর ঘরে কে,আমি তো
কলা খাইনি। তাইনা?
- স্যরি বন্ধু.... আরে বেটা পরির সামনে
নিজেকে হিরো সাজাতে হবেনা।
-- ভাল কথা হিরো সাজবি। আমাকে
কেন জিরো বানালি।
- প্যাঁচাল পাড়িস না।যা কিছু করতে
পারছ কিনা দেখ।
-- ও হ্যাঁ ভালো কথা মনে করেছিস।
আমি এখনই শাকিলের সাথে কথা
বলছি এ ব্যাপারে।
.
১ বছর পর....
প্রচন্ড শীত। এই শীতে সকাল সকাল
আমার পরীটা আমাকে নিয়ে বাইরে
হাটটে বেড়িয়েছে। এটা কিছু হলো?
কুয়াসা প্রচুর। অবশ্য হাটতে ভালোই
লাগছে। আমার ঘুম ভাঙানোর পদ্ধতি
সেই একইরকম আছে। পরীটা গ্লাসের
পানি আর কোথাও ফেলার জায়গা
পায় না। আমার উপর ফেলে।
ভালোবাসাও আর কোথাও ফেলে
নি।
অনেক কষ্টে পরীটাকে নিজের করেই
নিলাম।
.
আড়াই দিন নীরা ভাবিদের ওখানে
থেকে যখন বাড়ি ফিরি। তখন খুব
খারাপ লাগছিলো। পরীকে খুব মিস
করছিলাম। শাকিল আর নীরা
ভাবিকে
সব খুলে বললাম। ওরা আমাকে ভরসা
দিলো ওরা সব ঠিক করবে। অন্যদিকে
ইরার বাবা ভালো ছেলে পেয়ে
তাড়াতাড়ি ইরার বিয়ে দিতে
চাচ্ছিলো। এদিকে আমি কোনো
কাজ
করিনা। আম্মুর সাথে যথেষ্ট ফ্রি
হলেও
নিজের বিয়ের কথা কিভাবে বলি?
.
এর কয়েকদিন পর একদিন হঠাৎ শাকিল
আর নীরা ভাবি আমার বাড়িতে চলে
এলো। নানান রকম কথাবার্তার পর
আমার বিয়ের কথা তুললো তারা। আম্মু
বলেছিলেন যে আমি কাজ করিনা।
ওরা বুঝিয়েছে, আংটি পড়িয়ে
রাখেন। বিয়ে কিছুদিন পর হলো।
তারপর ও কাজ হলো না দেখে নীরা
ভাবি বলেই দিয়েছিলো আমি, ইরা
কে মনে মনে পছন্দ করি। এতে আম্মুর মন
একটু নরম হলো। আব্বুর সাথে কথা বলে
আমাকে আব্বুর অফিসে জয়েন করিয়ে
দিলেন। তারপর প্রস্তাব নিয়ে
গেলেন
ইরার বাড়িতে।
*****************
.
--এই ইমু...চলো না বাড়ি ফিরে যাই।
--আচ্ছা...চলো।
--এই ইমু..
--হুউউউউউম।
--আমার হাতগুলো ঠান্ডা হয়ে গেছে।
তোমার হাতের মাঝে নাও না।
--হুম। এখন চলো।
.
পরীটার হাত নিজের হাতের মাঝে
নিয়ে হেটে যাচ্ছি। পরীটা কথা
বলছে। আমি শুনছি।
.
মাঝে মাঝে জীবনটা কে সপ্ন ভেবে
ভুল করে ফেলি। সময়টাকে আটকে
রাখতে ইচ্ছা হয়। এখানেই থেমে যাক
না সময়। আমি আমার পরীকে নিয়ে
এভাবেই থাকি।

গল্প: গার্লফ্রেন্ড এর পেরা

গল্প: গার্লফ্রেন্ড এর পেরা

- তুই কইরে কুত্তা (সুপ্তি)
- সরি অাপনি ভূল নাম্বারে কল
দিয়েছেন। (অামি)
- কিহহহ
- কোনো কুত্তার কাছে এখনো
মোবাইল দেখিনি। অার অামি মানুষ।
- অামি অামার জানুর কাছে ফোন
করছি।
- অাপনি কে হ্যা একবার কুত্তা একবার
জানু
- ওই তুই এখন লেকের কাছে অায়।
- পারবো না।
- অায় নয়তো তোর কি হবে তুই নিজেও
জানস না।
- দেখি কে কি করে অামার।
- অাচ্ছা।
সকাল বেলা সূর্য্য উঠতে না উঠতে শুরু
হয়ে গেলো জ্বলানি। নয়টা বাজে
মাত্র উনার এখন দেখা করা লাগবে।
অার অামি মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম।
না জানি কি করে বসে। বাবাও
এখনো ঘরে বের হই কি করে??
- অান্টি রাহুল কই? (সুপ্তি)
- কেন মা তার রুমে। তুমি কে?? (মা)
- তার বৌ।
- এয়য় সে অামাদের না জানিয়ে
বিয়ে করছে?? (বাবা)
- হুমম।
রুমের বাইরে এসব অওয়াজ শুনে দরজা
ফাঁক করে দেখি কে। চোখ কপালে
উঠে গেলো।
এই রে অামার কি অবস্থা করলো কে।
- রাহুল (বাবা)
- হ্যাঁ বাবা।
- ও কে??
- সে অামার বান্ধবি।
- মিথ্যা বলছে (সুপ্তি)
- না বাবা অামি মিথ্যা বলছি না।
- সে তো তোর বৌ বলছে (বাবা)
- না বাবা মিথ্যা
- অামি সত্যি বলছি (সুপ্তি)
- উফফ পাগল করে দিবে যা বের হ
বাসা থেকে যা (বাবা)
দুষ্টামি ভরা হাসি দিয়ে টানতে
টানতে বের করে নিয়ে এলে। এই
মেয়েটা না এত পাগলামি করে।
- দেখলেন তো মশাই। (সুপ্তি)
- কি দেখবো হ্যাঁ বাবা কি ভাবছে
বলো তো
- কচু ভাববে। ছেলে বড় হয়েছে দেখছে
না।
- তো কি হইছে?? এখন বাসায় গেলে
ঝাড়ি খেতে হবে অারকি।
- অামার কথা না শুনতে এমন হবে।
- তুমি এমন কর কেন??
- তুমি বুঝো না।
- দেখো পাগলামির একটা সীমা
অাছে।
- তুমি কি অামার উপর বিরক্ত??
- এই দেখো সেটা অাবার বললাম
কখন??
- না তোমার কথা বুঝা যাচ্ছে।
- কি বুঝা যাচ্ছে?
- অামি তোমাকে অার বিরক্ত করবো
না।
কান্না ভাব নিয়ে মুখ ঘোমরা করে
অাছে।
- অাচ্ছা বিরক্ত করতে হবে না
ভালোবাসলে হবে।
- অামি তোকে ভালোবাসি না।
সারছে অাবার অামার ধফারফা
- তো অামাকে এখানে নিয়ে এলে
কেন??
- তোকে শাস্তি দেয়ার জন্য।
- অামি কি করছি??
- অামার কথা শুনস নাই।
- কখন??
- অামি যখন অাসতে বলছি তখন
অাসলিনা কেন??
- ও অাচ্ছা একখন কি শাস্তি দিবে?.
- অাগে লেকের কাছে চল।
.
- হুমম বলো। (অামি)
- কি?? (সুপ্তি)
- কেন এখানে নিয়ে এলে??
- অামি কি জানি?? তুমি কেন
অাসছো??
- তুমিই তো নিয়ে এলে।
- অামি পাগল হইছি নাকি??
- দেখো সুপ্তি তোমার এসব কাজ একদম
ভালো লাগে না।
- এরকম করো কেনো?? তোমাকে
দেখার জন্য মন কেমন করছিলো।
- ও অাচ্ছা।
- তোমার কি অামার কথা একটুও মনে
পড়ে না??
- পড়ে তো পাগলি।
- কচু।
- অাচ্ছা চলো নাস্তা করি।
- চলো।
নাস্তা করে তাকে তার বাসায়
দিয়ে নিজের বাসার দিকে এগুলাম।
কয়েক ঘন্টা অাগে ঘটে যাওয়া ঘটনার
জন্য ভয় পাচ্ছি। না জানি বাবা মাা
কি বলে।
ভয় যতটা পেয়েছি ততটা না। মাকে
বেশ হাসিখুশি দেখাচ্ছে।
- মেয়েটা কি তোর বৌ? (মা)
- অামি এতটা অবাদ্য ছেলে এখনো
হইনি।
- হুমম অামার ছেলে অনেক ভালো।
তবে মেয়েটা অনেক সুন্দর তাই না।
- তুমি জানো।
কথা বলে নিজের রুমে চলে এলাম।
সেদিন যে অরেকটি অধ্যায় শুরু হবে
জানি না।
মা বাবা সেদিনের কথা মতে সুপ্তি
কে ছেলের বৌ হিসেবে গ্রহন করে।
কথা গুলো চেয়ারে বসে বসে ভাবছি।
কয়টা বছর পার হয়ে গেলো। মেয়ে
হয়েছে অামাদের।
বাবা মা ছোট্ট সোনামণির সাথে
খেলা নিয়ে ব্যস্ত। গিন্নি রান্না
ঘরে যাই একটু উঁকি মারি। ইলিশ
ভাজার সুগন্ধ বেশ দারুন লাগছে। পেছন
থেকে জড়িয়ে দরলাম তাকে। চমকে
গিয়ে বলে
- কি হচ্ছে এসব বাবা মা অাছে।
- জানি।
- ছাড়ো।
- উহু।
এভাবে বেশ অনন্দে চলে যাচ্ছে দিন।
ভালোবাসার বন্ধন অাছে অটুট।

গল্প: তোকে ছাড়া ইম্পসিবল

গল্প: তোকে ছাড়া ইম্পসিবল

:কি ভেবেছেন নিজেকে?আপনার মত
কালো একটা মেয়েকে আমি নিজের
জীবন সঙ্গীনী হিসেবে ভালবেসে
যাব?কখনোই সম্ভব না।মনে রাখবেন।
.
:আমি হাসান।ঢাকায় একটা জব করছি।
বাবা মা গ্রামে থাকেন।বিয়ের
আগে দেখা হয়নি যাকে বিয়ে করছি
সে কেমন।বাবা মায়ের পছন্দের উপর
কথা বলার সাধ্য বা সাহস কখনো হয়ে
উঠেনি। এই কারণেই হয়ত তাদের
পছন্দকে মেনে নিয়েছি একবারও না
দেখে।শুধু মেয়েটির নাম জানতাম।
নীলা।ভেবেছিলাম নামের মতই সুন্দর
হবে আমার বউ।আমার ভাবনাটা যে ভুল
তা বুঝতে পারলাম বিয়ের দিন বাসর
রাত্রীতে।
.
.
নীলা দেখতে সম্পূর্ণ কালো তবে
চেহারার মাঝে অন্যরকম এক মায়া
ছিল।বেশির ভাগ মানুষের মতই আমিও
সৌন্দর্যের পূজারী,,সৌন্দর্যের
অন্বেষণকারী।বাসর রাতে যখন
দেখলাম আমার বউ কালো তখন
মাথাটা ঠিক রাখতে পারলাম না।খুব
খারাপ ব্যবহার করে ফেললাম।একটা
মেয়ের এই রাতে কত স্বপ্ন থাকে,, কত
স্বপ্ন শুরু হয় তা কিছুটা হলেও ছেলেরা
জানে।নীলার স্বপ্নকে তছনছ করে
দিলাম অনেকাংশেই।
.
.
উপরের কথাগুলো শুনে ফুপিয়ে ফুপিয়ে
কাঁদছিল ও আর আমি স্বার্থপরের মত
শুয়ে পড়লাম।রাত সাড়ে তিনটার
দিকে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে যায়।
দেখলাম মেয়েটা আমার বুকের উপর
ঘুমুচ্ছে আর মুখের উপর পড়া চাঁদের
আলোটা যেন ওর চেহারার মায়াটা
বাড়িয়ে দিচ্ছে।নিজের কাছে
নিজেকেই অপরাধী মনে হতে লাগল।
কত স্বপ্ন ছিল মেয়েটার আর আমি সব
শেষ করে দিলাম।নীলা কালো এটা
তো ওর দোষ না।নীলাকে সৃষ্টিকর্তা
এভাবেই সৃষ্টি করেছে।ইচ্ছা করছিল ওর
কাছে ক্ষমা চেয়ে নিই।মনের মধ্যে
অন্য রকম জিদও কাজ করতে লাগল।না
আমি যা বলেছি তাই করব।আর এই
মেয়েকে নিয়ে কোথাও যাওয়াটা
আমার পক্ষে অসম্ভব।বারবার কেন
জানি মনে হচ্ছিল ওর মায়াবী
চেহারাটা শুধু আমার জন্যই।
.
.
বাতাসে নীলার চুলগুলো ওর মায়াবী
চেহারাটা দেখার কাজে বিঘ্ন
সৃষ্টি করল।আস্তে করে চুলগুলো সরিয়ে
দিলাম যাতে জেগে না যায়।
মাথাটা উঁচু করে ওর কপালে আস্তে
করে একে দিলাম ছোট্ট একটা চুমু।
সাথেই সাথেই ও ধড়ফড় করে উঠে গেল
আর নিজেকে আমার বুকের উপর
আবিষ্কার করতে পেরে খানিকটা
লজ্জাও পেল।যার মায়াবী চেহারার
প্রেমে আমি একটু একটু করে পড়ছি
তাকে কেন যেন আবার আচ্ছা মত
বকলাম।
.
.
:ঘুমিয়ে গেছি দেখে বুকের উপর শুয়ে
পড়েছেন তাই না?(আমি)
.
: ...........................
.
:কি হল কথা বলুন?
.
:আমি বসে থাকতে থাকতে কখন যে
ঘুমিয়ে গেছি ঠিক বুঝতে পারিনি।
(খানিকটা কাচুমাচু করে বলল নীলা)
.
:এসব ন্যাকামী আমার মোটেও ভাল
লাগেনা।এরপর যেন না হয়(আমি)
.
:জ্বী আচ্ছা।(নীলা)
.
.
নীলা বিছানার অন্য পাশে গুটিশুটি
মেরে শুয়ে পড়ল।আমার দিকে পিঠ
করে রাখায় ওর মায়া মাখানো
চেহারাটা আর দেখতে পাচ্ছিলাম
না।নিজের উপরই খানিকটা রাগ হল।
আচ্ছা আমি কেন ওর চেহারাটা
দেখার জন্য ছটফট করছি?কেন ওকে আদর
মাখা চুমু দিলাম?ও তো একটা কালো
মেয়ে যার সাথে আমার যায়না।
মনকে খানিকক্ষন শাসালাম।এরপর কখন
ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতে পারিনি।
সকালে আটটার সময় ঘুম ভাঙল।দেখলাম
নীলা গোসল করে নীল রঙের একটা
শাড়ী পরেছে।বিছানার পাশের
চেয়ারে মনমরা হয়ে বসে আছে।বুঝতে
পারলাম ওর মন খারাপের জন্য আমি
দায়ী।আমাকে উঠতে দেখে বলল,
:চলুন নাস্তা খাবেন।
.
:নাস্তা খেতে হবে সেটা কি
তোমাকে বলে দিতে হবে?(একি
আমি যে আপনি থেকে তুমি বলে
ফেললাম)আচ্ছা যাও আমি আসছি
ফ্রেশ হয়ে।
.
.
নীলা খুব বেশি রাগ করেনি বুঝলাম
তার হাসিতে।বরের কাছ থেকে তুমি
ডাকটা সব মেয়েরাই চায়।ফ্রেশ হয়ে
খাবার টেবিলে এসে বসলাম।আম্মা
আব্বাও এল খেতে।বিচ্ছু ইরাটাকে
(আমার একমাত্র আদরের ছোট বোন।যার
কোন কথা আমি ফেলতে পারিনা।খুব
বেশি ভালবাসি বোনটাকে) দেখতে
পেলাম না।আম্মুকে জিজ্ঞেস করতেই
আম্মু বলল ইরার খেতে ইচ্ছে করছেনা।
সাথে সাথে গেলাম ইরার রুমে।
দেখি শুয়ে আছে বিচ্ছুটা।
.
:এই যে মহারাণী ইরাবতী!নাস্তা
খাবেন না?
.
:নাহ মহারাজ হাসান।আপনি আপনার
বউকে নিয়ে খান।আমার কথা তো আর
কারো মনে পড়বে না।কত ক্ষুধা
লাগছে আর মহারাজ আসছে এতক্ষনে
ডাকতে।
এতক্ষনে বুঝলাম কেন বিচ্ছুটা
খাবেনা বলছে আম্মুকে।
.
:যাবি নাকি কান টানা খাবি?(আমি)
.
:এহ আমার কান টানলে তোর খবর করব।
আমি আর একা না ভাবীও আছে বুঝলি?
(ইরা)
.
:হুম বুঝলাম। এবার নাস্তা খেয়ে উদ্ধার
করেন।(নীলার কথা শুনে একটু অন্য মনষ্ক
হয়ে ভাবছিলাম ওর সাথে কি আমার
কখনো স্বামী স্ত্রীর প্রকৃত সম্পর্ক হবে?)
.
.
নাস্তা খেয়ে টিভি দেখছিলাম।কখন
যে বেলা হয়ে গেছে খেয়ালই
করিনি।হঠাৎ নীলা এসে জিজ্ঞেস
করল,,
.
:হালকা কিছু খাবেন?
.
:না খাবনা।(দুপুর বারটার দিকে কিছু
খাওয়া আমার নিত্যদিনের রুটিন।অল্প
হলেও খাওয়া লাগবেই।এই মেয়েটা
কিভাবে জানল? নাকি এমনি প্রশ্ন
করল?ভাবনার অতল সমুদ্রে হারিয়ে
গেলাম।)
.
.
.
চার পাঁচ মিনিট পর পিছন দিকে
তাকাতেই দেখি ও ছলছল চোখ দিয়ে
আমার দিকে তাকিয়ে আছে।বুঝলাম
আমার এমন আচরণে বেচারী কষ্ট
পাচ্ছে।
.
:আচ্ছা যাও হালকা কিছু নাস্তা
নিয়ে আসো।কান্না ভাবের মুখটা
মুহুর্তেই পরিবর্তন হয়ে হাসি হাসি
ভাব হয়ে গেল।ছুটে গেল নাস্তা
আনতে।বারবার ভাবছি নীলার সাথে
খারাপ ব্যবহার করবনা তবু কেন যেন ও
সামনে আসলে ভাল ভাবে কথা বলতে
পারছিনা।আবার খারাপ ব্যবহার করে
নিজেরও খারাপ লাগছে।আচ্ছা ওকে
তো আমি ভালবাসিনা তবু কেন ওর
জন্য খারাপ লাগছে?মনকে দ্বিতীয়
দফা শাসালাম।সাতদিনের ছুটি
নিয়ে বাড়িতে এসেছিলাম বিয়ের
জন্য।দেখতে দেখতে সাতটি দিন শেষ
হয়ে এল।আব্বু আম্মুর থেকে বিদায়
নিয়ে নীলাকে নিয়ে ফিরে এলাম
কর্মস্থলে।আগে একা একটা ছোটখাট
বাসা নিয়ে থাকতাম।বুয়া রান্না
করে দিয়ে যেত এখন আর বুয়া
লাগবেনা।আমার মিষ্টি বউটা
রান্না করবে।ও তো দেখতে মোটেও
মিষ্টি না তবু কেন ওকে মিষ্টি বলছি?
নাহ মেয়েটার প্রেমে পড়েই যাচ্ছি।
পালাতে চাইলেও নীলা ওর অদৃশ্য
মায়ার বন্ধন দিয়ে কাছে টানছে।
.
.
অফিস থেকে বাসায় ফিরতে রাত
৯টা বেজে যেত।মেয়েটা আমার জন্য
বসে থাকত।বাসায় এসে কলিংবেল
বাজানোর সাথে সাথেই দরজা খুলে
দিত যেন ও আমার জন্য দরজার পাশে
বসে অপেক্ষা করছিল।বিয়ের দুটো
মাস পেরিয়ে গেল তবু স্বামী স্ত্রীর
সম্পর্ক আমাদের হয়নি।ও কখনো কিছু
আব্দার করেনা।হয়ত বাসর রাতের
কথাটি ও মনে রেখেছে খুব ভাল করে।
.
.
প্রতিদিন ও ঘুমিয়ে পড়ার পর এক
দৃষ্টিতে ওর মায়াবী চেহারাটার
দিকে তাকিয়ে থাকা যেন আমার
নিত্যদিনের রুটিন হয়ে গিয়েছিল।
রাতে বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে বসে
আছি।হঠাৎ নীলা এসে বলল,একটা কথা
বলব?(নীলা)
.
:হুম বলো(আমি)
.
:বকবেন না তো(নীলা)
.
:না বকবনা বল।(আমি)
.
:আজকের চাঁদটা না খুব সুন্দর।আমার
সাথে একটু ছাদে যাবেন?খুব ইচ্ছে
করছে ছাদটা আপনাকে পাশে নিয়ে
দেখতে।(নীলা)
.
:হুম চল।(অবাক দৃষ্টিতে কিছু মুহুর্ত
তাকিয়ে থাকার পর বললাম আমি)
.
ওর মুখটা মুহুর্তেই হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে
উঠল।মায়াবিনীর প্রেমে আমি
ইতিমধ্যেই হাবুডুবু খাচ্ছি।ছাদে
গেলাম নীলাকে সাথে নিয়ে।
ছাদের দোলনাটাতে দুজনে
পাশাপাশি বসে আছি।নীলা এক মনে
চাঁদটাকে দেখছে আর আমি দেখছি
আমার পাশের মায়াবিনী কন্যাকে।
হঠাৎ চাঁদের দিক থেকে চোখ
ফিরিয়ে আমার দিকে তাকাল
নীলা।আমার চোখ তখনও নীলার
চেহারাতে আবদ্ধ।আমার এক দৃষ্টির
চাহনী দেখে লজ্জায় খানিকটা লাল
হয়ে গেল আমার বউটা।
.
:আজকের চাঁদটা দারুণ তাইনা?(নীলা)
.
:হুম আজকের দুটো চাঁদই খুব দারুণ।(আমি)
.
:দুটো চাঁদ মানে?(নীলা)
.
:আমার পাশের চাঁদ আর আকাশের চাঁদ
(আমি)
:এই কি বলছেন এগুলা?(নীলা)
.
:কিছুনা।চল বেশ রাত হয়ে গেছে।কাল
আবার অফিস আছে(আমি)
.
.
খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়লাম।নীলা
ঘুমিয়ে পড়ার পরে ওকে দেখার
রুটিনটা পালন করার সময় কখন যে
ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই।সকালে
ঘুম থেকে উঠে নাস্তা খেয়ে
অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি।
নীলা রুমে এসে বলল,,
:আমি একটু বাইরে যেতে পারি কি?
.
:তুমিএই অচেনা শহরে আবার কোথায়
যাবে?(আমি)
.
:একটু দূরেই আমার খালার বাসা।খালা
আর খালাত বোন অনেকদিন ধরে
ডাকছিল সেটা আপনাকে বলার সাহস
হয়নি।আজ খালাত বোন নিতে আসবে।
আপনার অনুমতি পেলে যেতাম।(নীলা)
.
:অনুমতি দিলাম।যাবেন সমস্যা নেই।
সাবধানে যাবেন।সমস্যা হলে ফোন
করে জানাবেন।
.
.
এই বলে বাসা থেকে বের হয়ে এলাম।
অফিসে বিভিন্ন ফাইল পত্রের কাজে
ব্যস্ত হঠাৎই নীলার নম্বর থেকে ফোন।
প্রতিদিন ও ফোন দেয় ঠিক দুপুর
আড়াইটাই খেয়েছি কি না তা
জিজ্ঞেস করতে।আজ এই সময়ে ওর ফোন
দেখে কিছুটা অবাকই হলাম।অবশ্য
স্ত্রীর পূর্ণ অধিকার আছে স্বামীকে
যে কোন সময় ফোন দেয়ার।তাই আর
কিছু না ভেবে ফোনটা রিসিভ
করলাম।অপরপ্রান্ত থেকে ভেসে এলো
এক পুরুষালি কণ্ঠ।অবাক হওয়ার
মাত্রাটা তখন আরো অনেক বেশি।
জিজ্ঞেস করলাম,,,
.
:কে আপনি?আর এটা তো আমার
ওয়াইফের নম্বর আপনি কোথায়
পেলেন?(আমি)
.
:মিসেস নীলা হাসান কি আপনার
ওয়াইফ?(অচেনা লোকটি)
.
:জ্বি হ্যা কেন বলুন তো?(আমি)
.
.
লোকটি যা বলল তা শুনে পুরোদমে
নির্বাক হয়ে গেলাম।না আমার নীলা
আমাকে ছেড়ে যেতে পারেনা।
আমি আমার বউকে যেতে দিবনা।
.
.
খালাত বোনের সাথে রিক্সায় করে
খালার বাসায় যাওয়ার সময় একটা
মিনি ট্রাক আমার নীলার রিক্সাকে
ধাক্কা মারে।ভাগ্যক্রমে ওর খালাত
বোনের তেমন বড় ক্ষতি না হলেও
নীলার মাথায় আঘাত লেগেছে।
অচেনা লোকটি নীলাকে
মেডিকেল নিয়ে গেছে আর নীলার
ফোন থেকে আমাকে ফোন করেছে।
সাথে সাথে ছুটে বেরিয়ে গেলাম
আমার নীলার কাছে।হাসপাতালে
এসে দেখলাম আমার নীলার মাথায়
ব্যান্ডেজ।ডাক্তার বলল মাথার আঘাত
গুরুতর। আগামী ৭২ঘন্টার মধ্যে জ্ঞান
না ফিরলে কিছু করার থাকবেনা।
অচেনা লোকটিকে ধন্যবাদ দিলাম
নীলার জন্য এত করেছেন তিনি।
নীলার খালা,,খালুকেও দেখতে
পেলাম।তাদের সাথে কিছু কথা বলে
নীলার পাশে গেলাম।আমি আর
নীলা ছাড়া রুমে কেউ ছিলনা।আমার
মায়াবিনীর মুখটা কেমন যেন হয়ে
আছে।হয়ত এত বড় আঘাতের কারণে।
সত্যি খুব ইচ্ছা করছিল মায়াবিনীকে
জড়িয়ে বলি মায়াবিনী আমাকে
ফেলে পালানোর চিন্তা তাইনা?
বুঝনা বড্ড ভালবেসে ফেলেছি যে
তোমায়?খুব অভিমান হচ্ছিল
মায়াবিনীর উপর।কাঁদলাম
মায়াবিনীকে হারিয়ে ফেলার
ভয়ে।
.
.
৫২ঘন্টা কেটে গেল তবু মায়াবিনীর
জ্ঞান এল না।খুব চিন্তা হচ্ছিল
মায়াবিনীকে নিয়ে।সারাক্ষন ওর
পাশে বসে থেকেছি এই সময়গুলোতে।
ডাক্তাররাও খুব চিন্তায় ওর জ্ঞান না
ফেরায়।তিনদিনেও যখন জ্ঞান
ফিরলনা তখন ডাক্তাররা বলে দিলেন,
আমাদের আর কিছু করার নেই।দুয়া
করেন।একমাত্র আল্লাহই ভরসা।
ডাক্তাররা চলে যাবার পর জড়িয়ে
ধরে কাঁদতে থাকি আমার বউটাকে।
বিয়ের পর কখনো জড়িয়ে ধরিনি আজই
প্রথম।নীলার মুখের দিকে তাকাতেই
দেখি ওর চোখগুলো পিট পিট করে
আমাকে দেখছে আর কাঁদছে।তৎক্ষণাৎ
ওর বুক থেকে নিজের বুক আলাদা করে
নিলাম আর জিজ্ঞেস করলাম,,এখন
কেমন বোধ করছ?নীলা উত্তর দিল
মাথায় হালকা ব্যথা করছে তাছাড়া
ভাল।ডাক্তারকে ডাকলাম।ডাক্তারও
খুব খুশি আমার নীলার জ্ঞান
ফেরাতে।ডাক্তার বলল আর একদিন পর
আমরা নীলাকে রিলিজ দিব।হাসান
সাহেব আপনি তো এই কইদিনে বাসায়
যাননি,,খাবারও ঠিক মত খাননি এখন
যান নিশ্চিন্তে বাসায় গিয়ে আরাম
করুন।ভয়ের কোন কারণ নেই।
.
.
নীলাকে বললাম আমি একটু বাসায়
যাচ্ছি।তুমি নিজের খেয়াল রেখ।
রুটিন চেক আপের সময় ডাক্তার এল
নীলাকে চেক করতে আর আমি তখন
বাসায়।
.
:আচ্ছা উনি কি এই কইদিনে বাসায়
যাননি?(নীলা)
.
:জ্বি না মিসেস হাসান।উনি
সারাক্ষনই আপনার পাশে বসে
থাকতেন।সত্যি আপনি খুব লাকী এত
ভাল হাজবেন্ড পেয়েছেন।(ডাক্তার)
.
.
নীলা খানিকটা আনমনা হয়ে
ভাবছিল কেন ও এত করেছে আমার জন্য?
কেন নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে আমার
পাশে বসে?কেন আমার জ্ঞান না
ফেরায় ও আমাকে জড়িয়ে ধরে
কাঁদছিল?প্রশ্ন গুলোর উত্তর পেতে
খানিকটা বেগ পেতে হল নীলাকে।
তাহলে কি ও আমাকে ভালবাসেন?
.
.
ফ্রেশ হয়ে একটু রেস্ট করে আবার
হসপিটালে গেলাম।দেখলাম নীলা
আনমনে বসে আছে।আমাকে দেখে
খানিকটা হতচকিত হয়ে নিজেকে
সামলে নিল।
.
:এখন কি আর কোন সমস্যা হচ্ছে?(আমি)
.
:জ্বী না আর কোন সমস্যা হচ্ছে না।
(নীলা)
.
.
.
ভালবেসে ফেলেছি এটা আগে
বুঝলেও এই কইদিন নীলার অজ্ঞান
থাকা আমাকে হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে
দিয়েছে আমার জীবনে নীলার
প্রয়োজনীয়তা ঠিক কতটা।ওকে ছাড়া
চলা সম্ভব না আমার পক্ষে।জাস্ট
ইম্পসিবল।মায়াবিনীটাকে বলতে
হবে বড্ড ভালবাসি।তারপরের দিন
দুপুরে নীলাকে রিলিজ দেয়
হাসপাতাল কতৃপক্ষ।বাসায় আসার পরও
ওকে কিছু করতে দিইনি।এক প্রকার
জোর করেই ওকে শুইয়ে রেখেছি আর
রান্না বান্নার কাজটা আমি
সামলাচ্ছি।দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে
রেস্ট নেয়ার জন্য শুলাম।নীলা আমার
পাশ ঘেষেই শুয়ে আছে।
.
.
আজ জোৎস্না।সেদিনের মতই দারুণ
একটা পূর্ণাঙ্গ চাঁদ আজও আকাশে
দৃষ্টিগোচর হচ্ছে।নীলাকে বললাম
ছাদে যাবে?দারুণ একটা চাঁদ উঠেছে?
(আমি)
নীলা তো মহাখুশী।
.
:আপনি নিয়ে গেলে অবশ্যই যাব।
(নীলা)
.
:আচ্ছা আমি নিয়ে যাব।চল।(আমি)
.
:আচ্ছা চলেন।
.
বাসার গেইট থেকে বের হওয়ার সময়
নীলাকে বললাম ছাদে যেতে।আমি দু
এক মিনিটের মধ্যেই আসছি।ও চলে
গেলে আমি ঘরের ভিতর রাখা জরুরী
একটা জিনিস নিলাম।ছাদে যেয়ে
দেখি আমার মায়াবিনী চাঁদের
দিকে তাকিয়ে বসে আছে।
মায়াবিনীর সামনে গিয়ে হাঁটু
গেড়ে বসে পড়লাম আর বললাম,,,
জানিনা কোন অদৃশ্য শক্তি আমায়
তোমার প্রেমে ফেলেছে।মনের
মাঝে ছোট্ট একটা সাম্রাজ্য আছে
আমার।সেই রাজ্যের রাণীর আসনটা
ফাকা।রাণীর আসনে বসতে হলে কোন
ফর্সা চেহারার মেয়ে লাগবেনা
একটা ফর্সা মনের মায়াবিনী
লাগবে।হবে আমার রাজ্যের
মায়াবিনী রাণী?হবে বাবুর আম্মু
যেই বাবুর আব্বু হব আমি?
.
গোলাপ ফুলটা তখনও আমার হাতে।এখনও
নেইনি মায়াবিনী।চোখ দিয়ে
পানি পড়ছে মায়াবিনীটার।হাত
থেকে গোলাপটা নিয়ে নিল।তখনও
কেঁদে চলেছে।
.
:মাফ করে দিয়ে হওয়া যায়না কি
আমার বাবুর আম্মু?(আমি হাটু গেড়ে
তখনও বসে আছি)
.
:.................................(নীলা)
.
:কাঁদছ কেন মায়াবিনী?হবেনা
তাহলে আমার বাবুর আম্মু?(আমি)
.
:(কান্নার মাত্রা আরো বাড়িয়ে
দিয়ে)আমি তো প্রথমদিন থেকেই
আমার রাজ্যের রাজার আসনটা
তোমায় দিয়ে রেখেছি।তোমার
বাবুর আম্মু হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই তো
তোমায় বিয়ে করেছি।এটা কি আবার
জিজ্ঞেস করতে হয় নাকি?আর কান্না!!
মানুষ যখন খুব খুশি হয় তখনও অনেকে
কেঁদে ফেলে।আমিও তেমনই কাঁদছি।
(এক নাগাড়ে কথাগুলো বলল নীলা)
.
:আচ্ছা বাবুর আম্মু চল এবার রাত হয়ে
গেছে।অনেক কাজ আছে।(আমি)
.
:এত রাতে কি কাজ আবার(নীলার
মুখে দুষ্টু হাসি)
.
কিছু না বলে নীলাকে কোলে
উঠিয়ে নিয়ে চলে এলাম নীচে।খুব
শক্ত ভাবে আমাকে আকড়ে ছিল বাবুর
আম্মুটা।বাবুর আম্মুটাকে বিছানায়
শুইয়ে দিলাম।আর আমি দুষ্টু হাসি
দিয়ে ওর উপর আস্তে আস্তে ঝুকে
পড়ছি।
.
:এই না না কোন দুষ্টুমী চলবেনা।খবরদার
না।(দুষ্টু হাসি নিয়েই বলল নীলা)
.
মুখে মানা করলেও বাঁধা দেয়ার কোন
প্রচেষ্টাই ওর ছিলনা।গভীর একটা চুমু
দিলাম ওর ঠোটে।মায়াবিনীটা আর
কিছু বলছেনা।সেদিন রাতে ওর সাথে
অনেক দুষ্টামী হল।পরেরদিন সকালে
উঠে দেখি মায়াবিনী গোসল করে
আমার পছন্দের নীল রঙের শাড়ি
পরেছে।আমাকে ডাকতে এল যখন তখন
উঠার বদলে ওকে আবার জড়িয়ে
কাছে টেনে নিলাম।
.
:সারারাত অনেক দুষ্টুমী হয়েছে আর
না বলছি।(নীলা)
.
:আমার বউয়ের সাথে দুষ্টুমী করব না
তো কার সাথে করব?আচ্ছা তুমি যখন
চাওনা তখন ঠিক আছে আর কখনও দুষ্টুমী
করব।
.
অভিমানে ওর দিক থেকে চোখ
সরিয়ে নিলাম।হঠাৎ বুঝতে পারলাম
আমার গালে নীলার ঠোট।
.
:এই যে মহারাজ অভিমান ভাঙল নাকি
আরো চায়?(নীলা)
.
:ঠোঁটে লাগবে একটা।(আমি)
.
:নাহ পারবনা লজ্জা করছে।(নীলা)
.
এবার ওকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে
আবার লম্বা করে চুমু দিলাম।মেয়েটা
নিশ্চুপ হয়ে আছে।
১বছর পর
কনগ্র্যাচুলেশন মিঃ হাসান।আপনার
মেয়ে হয়েছে।খুশিতে তখন কেঁদেই
ফেললাম।নীলাকে রুমে আনার পর
দেখতে গেলাম বেশ হাসি খুশিই
আছে।আমি প্রথমে ওর কপালে তারপর
বাবুর কপালে আদর একে দিলাম।
মেয়েটির নাম দিয়েছিলাম অধরা।
সত্যি যেই কালো মেয়েটিকে আমি
প্রথম রাতে এত কথা বলেছিলাম
তাকে ছাড়া আমার চলা অসম্ভব।আমার
জীবনটা যেন ওর কাছে থাকে।দুজনের
ভালবাসায় কখনো কমতি হয়নি।দুজন যে
দুজনকে সত্যিকারের ভালবাসি।