গল্প: "ভালোবাসার নিস্তব্ধ
প্রকৃতি"
.
.
লেখক: Naimul Islam Rubel (নিশ্চুপ জীবনের
লুকোচুরি)
.
.
না এই বেলুনওয়ালে নিয়ে আর পারা গেলো
না।এত যায়গা থাকতে এই যায়গায় ই কি
বেলুন বিক্রি করতে আসা লাগে?কথা গুলি
চিন্তা করছে অবন্তী।সে বুঝতে পারে না
এই বেলুন ওয়ালা এত যায়গা থাকতে
এখানেই কেনো আসে?আর তার ছোট ভাইকে
প্রতিদিন বেলুন কিনে দিতে হবে।দিনের
পর দিন এমন চলতে থাকার পরে বিরক্তি
চলে আসে অবন্তীর।
.
ভাইয়ের হাত ধরে নিচে নেমে আসে
অবন্তী,একটা লাল হলুদ রঙ এর বেলুন কিনে
ভাইয়ের জন্য।যখন অবন্তী বেলুন ওয়ালার
কাছে টাকা দিয়ে চলে যাবে তখন বেলুন
ওয়ালা অবন্তীর ছোট ভাইকে ডাক দিয়ে
বলে ভাইয়া একটু শুনো।এই নাও আরো একটা
বেলুন এইটা তোমাকে গিফট দিলাম।
বেলুনটা ছিলো একদম লাল আর একটু অন্যরকম
দেখতে সব বেলুনের থেকে আলাদা।
অবন্তীর ভাই ছোট তাই দুইটা বেলুন রাখতে
পারবে না এই জন্য লাস্টের বেলুনটা
অবন্তীই হাতে নেয়।অবন্তী জিজ্ঞেস করে
কেনো গিফট দিবেন ও গিফট নিবে না এই
বেলুন নিন।বেলুন ওয়ালা বলে না আজকে
আমার জন্মদিন তাই সবাই কে একটা গিফট
দিচ্ছি।
.
.
অবন্তী বলে আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস
করি আপনার পোশাক,বয়স,কথাবার্তা সব
কিছু দেখে মনে হয়না আপনি বেলুন বিক্রি
করেন।সত্য করে বলুন তো কে আপনি আর
এইখানেই কেনো প্রতিদিন এই নির্দিষ্ট
টাইমে আসেন।বেলুন ওয়ালা বলে না এমনিই
বিকালের দিকে আমি এইখানেই আসি
বিক্রি করতে।অবন্তী আর কথা বাড়ায়
না,ভাইকে নিয়ে বাসায় চলে যায়।
.
বাসায় গিয়ে অবন্তীর মনে পড়ে ইসসস
ছেলেটাকে তো জন্মদিনের শুভেচ্ছাও
জানানো হলো না।ভাবতেই খারাপ লাগে
অবন্তীর।চিন্তা করে না আবার নিচে
গিয়ে বলে আসবে শুভ জন্মদিন।যেই ভাবা
সেই কাজ কিন্তু নিচে নেমে দেখে
ছেলেটি বেলুন নিয়ে দাঁড়িয়ে নেই।কেমন
যেন একটা খারাপ লাগা শুরু করে অবন্তীর
মনের মাঝে।এই খারাপ লাগা কি শুধুই
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে
পারেনি তাই নাকি অন্য কোন কারণে
বুঝতে পারেনা অবন্তী।চিন্তা করে এখন
অপেক্ষা কালকে পর্যন্ত ছেলেটি কালকে
আসলেই আগে শুভেচ্ছা জানবে..............
.
পরের দিন অবন্তী ছেলেটিকে খুঁজতে লাগে
কিন্তু কোথাও আর পায়না।অনেক অপেক্ষার
পরে যখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে তখন অবন্তীর
একটু একটু খারাপ লাগতে শুরু করে।কিন্তু
কিসের জন্য এই খারাপ লাগে বুঝতে পায়না
অবন্তী।রাতের দিকে তার ছোট ভাই
বেলুনটা নিয়ে তার রুমে আসে।অবন্তী তখন
ও খাটের উপর শুয়ে শুয়ে চিন্তা করছে ওই
ছেলেটির কথা।অবন্তীর ভাই বলে
আপু বেলুনটি একটু বড় সুতা দিয়ে বেধে দাও
না, আমি উড়াবো।তখন অবন্তী বলে না তুই
যা আমি এখন পারবো না।অবন্তীর ভাই
কান্না শুরু করে দেয়।বাধ্য হয়ে অবন্তী বলে
দে আমি দিচ্ছি বেধে।
.
অবন্তী প্রথমে হলুদ বেলুনটায় সুতা বেধে
দেয়, এর পরে যখন লাল বেলুনটা বাঁধতে যায়
তখনই হাতের নখের আছড়ে ফেটে যায়।তাই
দেখে অবন্তীর ভাইয়ের কান্না,বলে তুই
আমার বেলুন এনে দিবি।এই কান্না করতে
করতেই অবন্তীর ভাই তার মায়ের রুমের
দিকে চলে যায়।অবন্তীর কোলের উপর ই
ছিলো বেলুনটা ফেটে যাওয়ার কারণে
একটা ভাজ করা কাগজ তার কোলর উপর পরে
ছিলো।হঠাৎ সেই কাগজের দিকে নজর যায়
অবন্তীর।কিসের কাগজ বেলুনটার ভিতরে
যা লাল-নীল ঝরি তার কোলের উপর পরে
যা কাগজটির গায়ে লেগে ছিলো।
.
অবন্তী কাগজটি খুলতে যাবে তখন ই তার
মা হাজির রুমে এসে তার ভাইয়ের হাত
ধরে।অবন্তী মা কে দেখে কাগজটি লুকিয়ে
ফেলে।অবন্তীর আম্মা জিজ্ঞেস করে
কিরে অবন্তী তুই নাকি আবিরের বেলুন
ফুটো করে দিছিস এখন বেলুন কিনে এনে
দিবি।অবন্তী বুঝতে পারে তার মা
আবিরকে শান্ত করতেই অবন্তীকে বকা
দিচ্ছে।অবন্তী বলে ঠিক আছে আম্মা আমি
কালকেই ওকে ৫টা বেলুন কিনে এনে দিব।
অবন্তীর আম্মা আবির কে নিয়ে চলে যায়
রুম থেকে।মায়ের যাওয়ার সাথে সাথেই
অবন্তী কাগজটি বের করে ভাজ খুলে
কাগজের ভাজ খোলার পরেই অবন্তী বুঝতে
পারে এইটা একটা চিরকুট।পড়তে শুরু করে
অবন্তী.....চিরকুটটি
.
.
অবন্তী,
হয়ত ভাবছো আমি কে?হ্যাঁ আমিই সেই
বেলুন ওয়ালা,যে রোজ বিকেলে তোমাকে
দেখার জন্য তোমার বাড়ির সামনে বেলুন
বিক্রি করতে আসতাম।জানি হয়ত যখন তুমি
এই চিরকুটটি পাবে
আমাকে খুঁজবে।কিন্তু আমি এই খোজার
দিনটি আরো আগে দেখতে চেয়েছিলাম।
.
প্রায় তিন মাস ধরে তোমার রোজ বিকালে
তোমায় দেখার জন্য তোমাদের বাড়ির
সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম।তুমি যখন
তোমার ভাইকে নিয়ে আসতে খুব ইচ্ছা
করতো তোমাকে বলে দেই মনের মাঝের
কথা গুলি।
.
কিন্তু আজ বলি কাল বলি করে আর বলা
হয়না,শেষ পর্যন্ত ঠিক করে নেই আমার
জন্মদিনের দিন তোমায় বলবো।তবে
সেইদিন ও যে বলতে পারবো না তা আগে
থেকেই বুঝতে পেরে এই চিরকুট দেওয়ার
সিদ্ধান্ত নেওয়া।
.
জানি না চিরকুট টা তুমিই পাবে
কিনা,নাকি তোমার ভাই উড়িয়ে দিবে
আকাশে।তবে এইটুকু বিশ্বাস নিয়েই দেওয়া
আমার ভাগ্যে যদি তোমায় আল্লাহ্ লিখে
রাখেন তবে হয়ত তুমি চিরকুটটি পাবে
ইনশা আল্লাহ্।
.
হয়ত তুমি ভাবছো কে আমি,কিভাবে চিনি
তোমায়?তুমি একটু মনে করে দেখ কোন এক
শপিং মলের দোকানে তোমার রেখে
যাওয়া মোবাইলটা ফেরত দেওয়া ছেলেটার
কথা মনে পড়ে কিনা?যদি মনে পড়ে আর
আমায় ভালোবেসে থাকো আমার
ভালোবাসার কথা বুঝতে পারো তবে একটু
খুঁজে দেখ আমি তোমার অপেক্ষায় থাকবো।
.
.
অবন্তীর এইবার মনে পড়তে লাগে,এর জন্যই
ছেলেটিকে তার চেনা চেনা লাগে।কিন্তু
কতটা অভিনয় করছে ছেলেটি।যে এতটা
স্মার্ট,সেই ছেলেটা এমন পোশাকে দিন নয়
সপ্তাহ নয় কয়েকটা মাস ধরে তার বাসার
সামনে দাঁড়িয়ে থাকতো তার জন্য অথচ সে
বুঝতে পারেনি কতটা বোকা নিজেই
চিন্তা করে মুচকি হাসি দেয় অবন্তী হ্যাঁ
সেও ভালোবাসে তার বেলুন ওয়ালাকে।
.
.
পরের দিন অবন্তী যায় তার বেলুন
ওয়ালাকে খুঁজতে,সেই শপিং কমপ্লেক্সে।
প্রথমে গিয়ে জিজ্ঞেস করে বেলুন ওয়ালার
বর্ণনা দিয়ে যে তাকে চিনে কিনা সবাই
বলে আপনি মনে হয় নিস্তব্ধ ভাইয়ার কথা
বলছেন।ভাইয়া মিটিং এর জন্য চিটাগাং
গেছেন আসবে দুইদিন পর।অবন্তী জিজ্ঞেস
করে উনি কি করেন আর উনি কি এই
দোকানে চাকরী করতেন?অবন্তীর কথা শুনে
সবাই অবন্তীর দিকে হা করে তাকিয়ে
আছে?বলে না এইটা নিস্তব্ধ ভাইয়ার
শপিং মল আর এই শপটা তার একটা ছোট শপ
মাত্র।এছাড়া অনেক গার্মেন্টস আর ব্যবসা
আছে তার।
.
অবন্তী তখন চিন্তা করে সে ভুল করছে না
তো,তখন জিজ্ঞেস করে আচ্ছা নিস্তব্ধ
সাহেবের কোন ছবি আছে আপনার কাছে।
দোকানের ছেলেটা তখন হাত দিয়ে একটা
ছবির দিকে দেখিয়ে দিয়ে বলে ওইটা
আমাদের নিস্তব্ধ ভাই,উনি ই আমাদের টি-
শার্টের মডেল এ এড দিছেন।অবন্তী
তাকিয়ে দেখে হুম এই সেই বেলুন ওয়ালা
যাকে সে চিনত।অবন্তী অনেক বুঝিয়ে
নিস্তব্ধের কন্টাক্ট
নাম্বার নেন,এবং বাসায় চলে আসেন।
.
অবন্তী চিন্তা করে রাতে ফোন
দিবে,কিন্তু না তাকে যেমন চমক দিয়েছে
সেও দিবে।সে ফোন দেয় নিস্তব্ধকে,বলে
আপনি তো নিস্তব্ধ বলছেন।নিস্তব্ধ বলে
হ্যাঁ আপনি কে বলছেন?আমি অবন্তী বলছি।
অবন্তী নামটা শুনে নিস্তব্ধ একটু সময়
সত্যিই নিস্তব্ধ হয়ে যায়,বুঝতে পারে
অবন্তী তার চিরকুট পেয়েছে।অবন্তী বলে
দেখুন আপনি আমাকে ভালোবাসেন আমি
জানতে পেরেছি কিন্তু আপনি খুব দেড়ি
করে ফেলেছেন বাড়ি থেকে আমার বিয়ে
ঠিক করে ফেলেছে তাই আপনাকে আমি
কোন কথাই দিতে পারলাম না আপনাকে
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো খুব দরকার
ছিলো তাই ফোন দেওয়া "শুভ জন্মদিন"।
.
নিস্তব্ধ কিছু বলার আগেই অবন্তী ফোন
রেখে দেয়।নিস্তব্ধ পরে চেষ্টা করলেও আর
কল দিতে পারে না।সেই রাতেই গাড়ি
নিয়ে রওয়ানা হয় অবন্তীর বাড়ির উদ্দেশ।
ভোরের দিকেই এসে নিস্তব্ধ পৌছায়
নিজের বাড়িতে।মা-বাবাকে অনেকটা
ঘুমের অবস্থায় ডেকে তুলে। বাবা-মা কে
বলে মা বাবা তোমরা আমাকে বিয়ে করার
জন্য বলতে না,আজকে আমি বলছি তোমরা
চলো আমার জন্য মেয়ে দেখতে।আর আজকে
যদি ওকে বলতে না পাড়ি অর পরিবার
থেকে ওকে বিয়ে দিয়ে দিবে।নিস্তব্ধের
বাবা-মা দুইজনই মুচকি হাসি দিচ্ছে বলে
তাই বলে এত সকালে?
.
নিস্তব্ধ বলে হ্যাঁ চলো এখনই,মামাকে আমি
বলে রেখেছি ফোন দিলে সে চলে আসবে।
মামাকে নিয়ে তারা অবন্তীদের বাসায়
পৌঁছায়। নিস্তব্ধের বাবা দেখে বলে এই
বাড়ি?বলে হুম বাবা মেয়েটার নাম অবন্তী
খুব ভালো মেয়ে।নিস্তব্ধের বাবা-মা
দুইজনেই মুচকি হাসছেন।কলিং বেলের
আওয়াজে ঘুম ভাঙে অবন্তীর বাবা-মায়ের
কিন্তু এত সকালে কে।দরজা খুলে দেখে
নিস্তব্ধের বাবাকে।অবন্তীর বাবা বলে
আরে ফারুক তুই এত সকালে কেমন আছিস
বলেই জড়িয়ে ধরে।
.
নিস্তব্ধ আবোর নিস্তব্ধ হয়ে যায়।
উফফফফফফ বাবা আগেই চিনতেন আর আমিই
জানতাম না ভালোই হয়েছে বাবার বন্ধুর
মেয়ে মনে মনে চিন্তা করছে নিস্তব্ধ।
ভিতরে গিয়ে বসে তারা।যত সহজে বাবা-
মাকে অবন্তীদের বাসায় নিয়ে আসছে এখন
খুব লজ্জা পাচ্ছে বাবার পরিচিত বলে।
ফারুক সাহেব বলছে তা রফিক শুনবি না এত
সকালে কেনো আসলাম তোর বাড়িতে।
রফিক
সাহেব বলে হ্যাঁ তো বল কি খবর কিসের
জন্য আসলি।
.
ফারুক সাহেব বলে আরে ছেলেকে এত দিন
বিয়ে করাবো তাই মেয়ে দেখার জন্য বলি
ছেলে রাজি না।একদিন বললাম তোর
মেয়ের কথা যে আমার এক বন্ধুর মেয়ে আছে
চল দেখে আসি কিন্তু না সে তখন বিয়েই
করবে না।আজকে ভোর বেলা কই থেকে এসে
ঘুম থেকে জাগিয়ে বলে সে অবন্তী নামে
একজনকে ভালোবাসে তার বিয়ে হয়ে
যাচ্ছে তাই তাদের বাড়িতে গিয়ে কথা
বলতে।আর সেই অবন্তীর বাড়িই তোর
বাড়ি।এই কথা বলার বলার পরে অবন্তীর
আম্মা আব্বু,নিস্তব্ধের বাবা-মা আর মামা
সহ সবাই হাসতে শুরু করে।
.
কিছু সময় পর অবন্তীর আব্বু বলে দাড়া
বুঝলাম সবই কিন্তু অবন্তীর বিয়ে তো হচ্ছে
না এমনকি কোন ছেলেও দেখা হয়নি বা
দেখতে আসেনি তবে কি ভাবে কি।
নিস্তব্ধ বলে অবন্তীই তো তাকে ফোন
দিয়ে এই সব বলে যে তার বিয়ে হয়ে
যাচ্ছে।একটু দূর থেকে দরজার আড়াল থেকে
অবন্তী বলে কেউ যদি তিন মাস বেলুন
ওয়ালা হয়ে আমাকে মিথ্যা বলতে পাড়ে
আমিও তার জন্যই বলেছি যে আমার বিয়ে
হয়ে যাচ্ছে।নিস্তব্ধের আম্মা ডাক দেয়
অবন্তীকে।মায়ের পাশে বসিয়ে বলে কিরে
মা আমার ঘরের মেয়ে হয়ে থাকবি তো?
অবন্তী বলে হুম থাকবো,তবে আপনার ছেলে
যেন আর বেলুন বিক্রি করতে না যায়।সবাই
অবন্তীর কথায় আরো একবার হাসাহাসি
করে।
.
এর পরে দুই পরিবারের কথা ঠিক হয়,১০দিন
পরে তাদের বিয়ে হয়।খুব সুন্দর করেই যাচ্ছে
অবন্তী আর নিস্তব্ধের সংসার জীবন।
নিস্তব্ধের সারাদিন অফিস আর অবন্তী
বাসায় শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকে।এমন
করে দিন মাস গড়িয়ে তিনটা বছর পার হয়ে
যায়।একদিন নিস্তব্ধ অফিসে এমন সময় ফোন
পায়, তার বাবা বলেন অবন্তী মাথা ঘুরে
পরে গেছে।ডাক্তার এসেছে তুই আয়।
.
নিস্তব্ধ জলদি করেই বাসায় আসে।ডাক্তার
সব দেখে ফারুক সাহেবকে বলেন ফারুক
সাহেব মিষ্টি আনুন আপনি দাদা হচ্ছেন।
একটু না পুরা পরিবার এই খুশির খবরে খুশি
হন।এবার থেকে নিস্তব্ধ খুব ভালো করেই
কেয়ার করতে থাকে অবন্তীকে।সব কাজ
গুলি সেই করে দেয় এক রাতে অবন্তী বলে
তুমি আমার কাছে এসে বসো নিস্তব্ধ।
.
নিস্তব্ধ বলে অবন্তী.......
.
নিস্তব্দ : কি খুব কষ্ট হচ্ছে নড়াচড়া কইরো
না "বাবু" ব্যথা পাবে "লক্ষ্মীটি"
.
অবন্তী : কষ্ট পাই তবুও আমাদের প্রকৃতি
যেন ব্যথা না পায়,তুমি আমাকে আস্তে
করে তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুম
পরিয়ে দাও।
.
নিস্তব্ধ : হুম তুমি ঘুমানোর চেষ্টা করো
আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।
.
নিস্তব্ধ কিছু সময় পরে জিজ্ঞেস করে এই
শুনছো,আমাদের যে মেয়ে হবে তুমি বুঝলে
কি করে?
.
অবন্তী : আমি যে আল্লাহ্ এর কাছে সব সময়
চাইতাম আমাদের যেন মেয়ে হয়।আর তার
নাম হবে প্রকৃতি।
.
নিস্তব্ধ : হুম আর যদি ছেলে হয়....?
.
অবন্তী : না ছেলে হবে না আর হলেও
তোমার মতই পাজি হবে আমি জানি।
অতঃপর নিস্তব্ধ আর অবন্তীর হাসিতে
তাদের প্রকৃতিও সারা দেয় যা শুধু অবন্তীই
বুঝতে পায়।
.
.
আর ৪টি মাস,এখন প্রতীক্ষায় আছে অবন্তী
আর নিস্তব্ধ শুধুই তাদের প্রকৃতির জন্য এই
প্রকৃতির মাঝে আসার।যাকে নিয়ে কেটে
যাবে তাদের বাকিটা জীবন.(সমাপ্ত)
.
.
ডেডিকেটেড টুঃ "লাজুক রাজকন্যা" (পিচ্চি
বউ)
Tuesday, February 14, 2017
গল্প: "ভালোবাসার নিস্তব্ধ প্রকৃতি"
গল্পঃ সাইকো গার্লফ্রেন্ড
গল্পঃ সাইকো গার্লফ্রেন্ড
.
📝 লেখাঃ প্রিয় নীলকাব্য (স্বপ্নপরির হবু
বর)
.
-:ওই তুই অর্দির সাথে এত কি কথা বলিস?
তোকে না বলছি, কোন মেয়ের ধারের
কাছেও না ঘেষতে।
--কোই ঘেষলাম। সর্দি থুক্কু অর্দির সাথে
আমিতো নোট নিয়ে কথা বলছিলাম।
-:নোট-ফোট জাই হোক, আর কোন মেয়ের
সাথে ভুলেও কথা তো দূরে থাক চোখ তুলে
দেখলে তোর পিন্ডি এক্কে বারে গেলে
দিবো।
--কিন্তু....(কিছু না বলতে দিয়েই হন হন করে
চলে গেল)
.
এতক্ষন কথা হচ্ছিলো মৌ আর নীলের
সাথে। মৌ অত্যন্ত রাগি। বড়লোক বাপের
একমাত্র মেয়ে। আর ওভার প্রসেসিভ
টাইপের একটা মেয়ে। কিন্তু নীল শান্ত,
ভদ্র, আর একটু ফাজিল টাইপের ছেলে।
তারা দুই জনই দুজনাকে ভালবাসে। সাড়ে
এক বছর থুক্কু কি বলি, দেড় বছর তাদের
রিলেশনশিপ। তাদের রিলেশন শুরু হইছে
নীলের গালে দুইটা ঠাডা পরে। সরমের
কথা আর বলতে চাচ্ছি না। তাহলে বুঝেন
কতটা প্যারাই থাকে নীল।
.
আজকাল মৌ নীলকে একটু বেশিই প্যারা
দিচ্ছে। যেমনঃ
সকাল সকাল ঘুমাতে যাওয়া। (যদি রাতে
ফেবুতে দেখে, তাইলে আমার চৌদ্দ গুষ্টি
উদ্ধার)
খুব ভোরে উঠে নামায পড়ে হাটতে যাওয়া।
(ঘুমালে বাড়িতে এশে তুল কালাম বাধিয়ে
দেয়)
ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করা। বন্ধুদের সাথে
আড্ডা না দেওয়া। (দিতে দেখলে কান ধরে
এনে রাম কেলান কেলায়)
আর অন্য মেয়েদের সাথে কথা তো দূরে
থাক দেখলেয় কি করবে তা বুঝতেই
পারছেন।
.
তাই নীল অনেক ভাবা ভাবি করে (দুই
এক্কে দুই, তিন এক্কে তিন মিললো) তারপর
ঠিক করলো সে আর রিলেশন রাখবে না। সে
জানে রিলেশন না রাখলে কি হবে তার।
তবুও এত প্যারা আর সহ্য করতে পারছে না
নীল। তাই ঠিক করলো সে ব্রেকআপ করবে।
.
কলেজে পুকুর পাড়ে বসে আছে দুইজনঃ
-:কেমন আছে, আমার বাবুটা? (মৌ)
--ভাল আছি, তুমি?
-:আমার বাবুটার মুখ দেখলেই আমি ভাল
হইয়া যায়।
--আচ্ছা ভাল। তোমার সাথে আমার একটা
জরুরি কথা ছিল।
-:তোমার একটা কথা কেন? সারা জীবন শুধু
তোমার কথায় শুনে যেতে চাই। বলো, কি
বলবে?
--আমার ব্রেকআপ চাই।
মৌ নিজের কানকে বিশ্বাস করতে
পারছেনা
-: কি বললে?
--হ্যা, আমি ব্রেকআপ চাই। আমি আর
তোমার সাথে রিলেশন রাখতে চাই না।
-:কি বলছ? প্লিজ এইসব ফালামি কর না।
ভাল লাগে না আমার এইসব। (চোখে পানির
ঢেউ বইছে)
--আমি ফাজলামি করছি না। আমি একদম
সিরিয়াস। আমার ব্রেকআপ লাগবে।
-:প্লিজ নীল এইসব করো না। তুমি জানো
তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না।
কি দোস করেছি আমি? তুমি এমন করছো
কেন? (কেদে দিয়ে)
--আমার ভুল তোমার সাথে রিলেশন করে।
আর সেই ভুল করতে চাচ্ছি না। তুমি ভাল
থেকো। আমাকে ভুলে যাও।
-:নীল...নীল..
কিছু না বলতে দিয়েই নীল চলে গেল। আর
মৌ অঝর ধারাই কাদছে।
.
দুই দিন চলে গেল। নীল খুব ভালই আছে।
স্বাধীন ভাবে যাখন যা ইচ্ছা তাই করছে।
তবে মৌ কে একটু মিস করছে। তা মজা করার
পিছনে ভুলে যাচ্ছে।
এক সপ্তাহ হয়ে গেল। মৌ কে নীল
দেখিনি। কলেজেও আসেনা। বিকেলে
আড্ডা দিয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। বাড়িতে
ফিরছে হেটে হেটে। চারিদিকে অন্ধকার,
হঠাৎ পিছন থেকে মাথার উপরে সজরে
একটা বাড়ি। এক বাড়িতেই বেহুশ নীল।
অনেকক্ষণ পর নীলের জ্ঞ্যন ফিরলো।
মাথাই প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছে। চোখ
খুলতেই নীল নিজে আবিষ্কার করলো সে
কোন পুরাতন গোডাউনে একটা চেয়ারে
বাধা অবস্থায়। মাথার উপরে শুধু একটা
লাইট জলছে। তাছাড়া সব অন্ধকার। এসব
দেখে নীলের আর বুঝতে বাকি থাকলো না
সে কিডন্যাপ হইছে। অনেক চেঁচামেচি
করলো। তাতে তো কোন লাভ হইলো না।
আরো ভয় দেখিয়ে গেল:
--:সালার বেটা, বেশি চিল্লা-পাল্লা
করলে জিভ টাইনাছীড়া ফালাবোনে।
এই কথা শুনে নীল তো একদম চুপশে গেল। আর
কোন কিছু করল না।
সেদিন সারা রাত ইদুরের পার্টির জন্য
ঘুমাতে পারল না। সকালে একটু ঘুম লাগলেও
কিছু কথা শুনে ঘুম ভেংগে গেল।কথা গুলো
ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না।
কিছুক্ষণ পর দরজা দিয়ে তিন জন ভিতরে
ধুকলো। অন্ধকারের জন্য কিছুই বোঝা
জাচ্ছিল না। নীলের মাথার উপর লাইট
জলছিলো আর তার তার সামনে আশতেই
নীল দেখে এমন ভাবে আতকে উঠল, যে ভুত
দেখলেও এমন ভাবে অবাক হতো না।
হ্যা সে মৌ কে দেখল।
নীল মৌকে দেখে মাথাই দশ বারটা ঠাডা
পড়ল। নীলের কিছু বলার ভাষা খুজে পাচ্ছে
না। সে হা করে অবাক চোখে মৌ এর দিকে
তাকিয়ে আছে।
-:আপনারা বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করেন।
আমি যা করার করবো।(মৌ)
---জি আফা।(গুন্ডা)
কথা শুনে নীলের হুশ আসলো।
--তাহলে তুমি আমাকে কিডন্যাপ করেছে!
কিন্তু কেন?
-:খুব অবাক হচ্ছো। তাই না? আমিও
হইছিলাম তুমি যেদিন আমার সাথে
ব্রেকআপ করেছিলে।
--কিন্তু তাই বলে কিডন্যাপ?
-:হ্যা, কিডন্যাপ!
ব্যাগ থেকে বড় একটা চুরি বের করল। আর
আমার সামনে একটা টেবিল নিয়ে এশে
বসলো। এতক্ষণে নীল বুজতে পারল, তার
জীবনের টাইম টা ফুড়ুত হতে চলেছে। সে
আরও দেখল মৌ এর চোখ ফুলে লাল হয়ে
গেছে। মৌ ব্রেকআপের পর থেকে আর ঘুমাই
নি, শুধু কেঁদেছে।
-:জানো নীল, তোমাকে না আমি অনেক
ভালবেসেছিলাম। তোমাকে আমার জীবন
দিয়ে ছিলাম। কিন্তু তুমি তার কখনই দাম
দাও নি। শুধু অভিনয় করেছিলে। আর এই
জীবনে যেহেতু তুমি নেই, তাহলে আর লাভ
কি বেচে থেকে? (কেদে কেদে)
এই বলে মৌ নিজের হাতে এক পোস
মারলো। গল গল করে রক্ত গরিয়ে পড়তে
লাগল।
--মৌ প্লিজ এসব করনা। তুমি দরকার হই
আমাকে মার তবুও নিজে কে মের না।
-:তোমাকে নিয়ে অনেক সপ্ন বেধেছিলাম।
ছোট্ট একটা সংসার হবে আমাদের, ছোট্ট
একটা পরিবার। কিন্তু....
আবার হাতে ছুরি দিয়ে পোস মেরে কেটে
দিল। নীল প্রচন্ড জোরা জুরি করছে কিন্তু
কিছুই করে পারছে না। তার শরীর যে
বাধা।
--মৌ, মৌ। দয়া করে থাম। তুমি আমাকে
মেরে ফেল তাও হাত কেটও না। তুমি
বাচবে না।
-:বেচে থাকতে চাই না আমি। তোমাকে না
পেলে.......
অতিরিক্ত রক্ত পড়ে যাওয়ার কারনে মৌ
ঢুলে পড়ে গেল মাটিতে। তা দেখে নীল
চিল্লাতে শুরু করে দিল। বাইরে থেকে
গুন্ডারা এসে মৌ এর অবস্থা দেখে সব
জেনে বুঝতে পারল। তাদের সহায়তায় নীল
মৌ কে হাসপাতালে নিয়ে গেল।
.
হাসপাতালে মৌ কে রক্ত দিল নীল। অনেক
রক্ত দেওয়ায় নীলও অনেক দুর্বল হয়ে
পড়েছে। তাই নীলকেও মৌ এর পাশের
বেডে রাখল।
.
অনেকক্ষণ পর মৌ এর জ্ঞ্যান ফিরল।
জ্ঞ্যান ফিরতেয় মৌ দেখলে নীল তার হাত
ধরে কাদছে। মৌ নীলের হাত শক্ত করে
ধরতেই নীল মৌ এর দিকে তাকাল চোখ
মুছতে মুছতে। কিছু বলতে না দিয়েই নীল
মৌ কে গলাই জড়িয়ে ধরে আরো জোরে
কাদতে লাগল। এই দেখে মৌও আর নিজেকে
সামলাতে পারল না। সেও কেদে দিল।
--তুমি কেন, এমন করলা? তোমার যদি কিছু
হয়ে যেত? (নীল মৌ এর চোখ দুই হাত দিয়ে
মুছতে মুছতে বলল)
-:তুমি কেন, ব্রেকআপ করলে? তুমি জানো
না, তোমাকে ছাড়া আমি বাচব না। (দুই
জনই কাদছে)
--আমি তোমার উপরে কি একটু রাগও করতে
পারব না? আর তুমি কি করে ভাবলে
তোমাকে ছাড়া আমি বাচব।
-:তাহলে কেন ছেড়ে চলে যেতে
চেয়েছিলে? আমি অনেক কষ্ট পাইছি।
--আর কোন দিনও ছেড়ে চলে যাবো না। তার
জন্যই একটা ব্যবস্থা করছি।
-:কি ব্যবস্থা?
--বিয়ে করবে, আমাই? আমার পাগল
বাবুনিটা। (পকেট থেকে আংটি বের করে
সোজা সুজি প্রোপোজ)
মৌ কিছুই বলতে পারছে না। শুধুই কেদে
চলেছে। কিছু না বলতে দিয়েই আংটিটা
পরিয়ে দিল।
-:ওই আমি কি বলেছি। তোমাকে আমি
বিয়ে করবো?
--আইচ্ছা, খুলে দাও। হসপিটালের নার্সগুলা
না যা সুন্দর। তাদের যে কোন একজন কে
পড়িয়ে দিয়ে আসি।
-:ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দিব। আমাকে
বিয়ে করে আবার অন্য মেয়ে দের দিকে
তাকানো।
--তুমিই তো বললা, বিয়ে করবা না।
-:কখন বললাম? তোমাকে বিয়ে করবো
নাতো কাকে করবো। খালি বেশি বুঝে!
--সরি, সরি। মাফ করেন, বউ পাখি।
-:হি হি হি।
নীলকে প্যারা থেকে এই জীবনে আর কেউ
বাচাতে পারবে না। এই ভেবে নীলও হা হা
হা.....
.
[চলতে থাক তাদের খুনশুটি ভালবাসা। কোন
কিছু জাতে ভাংতে না পারে তাদের এই
বাধন। সবাই দোয়া করবেন।]
গল্পঃ অনুভূতি।
গল্পঃ অনুভূতি।
লেখকঃ Md Bayazid (আবেগহীন মানব).
.
.
পাগলিটা গাল ফুলিয়ে বসে আছে। আমাকে
গান শোনাতে বলেছিলো কিন্তু আমি ত
গান পারিনা। তাই উনি অভিমান করেছেন
আমার উপর।
-আচ্ছা গান শোনাব তাহলে আমাকে কি
দেবে?
-তুমি যা চাও তা যদি সাধ্যের মধ্যে হয়।
(অনেক খুশি হয়ে)।
-না। দেখি তুমি আমাকে কি দাও।
-অতো দেখতে হবেনা। কি চাও সেটা বল।
পাগলীটাকে আরো রাগালে সে আবার
অভিমান করে বসে থাকবে তাই আমি কিছু
না বলে একটা গান সুরু করলাম।
"াজ শ্রাবণের ভরা বরষায়, আমি ভিজবো
তোর সাথে, আমার এই হাত দুটো তো
থাকবে তোরি হাতে। তোর জন্য আনব
কিনে একটি রংিন দিন, সময়টাকে থামিয়ে
দিয়ে হবো জে রংিন। আমি তোকে নিয়ে
ভাসব সুখের মেঘের ই ভেলায়, তোর সাথে
কথা হবে বসে নিরালাই, তুই রাজি কিনা
বলে দে আমায়, তোকে ভালবেসে বাচতে
দে আমায়।
তোকে নিয়ে পুর্নিমার চাদের আলই কর্ব
জোৎস্না স্নান, তোর কোলে মাথা রেখে
গাইব সুখের গান। চাদের ও আলো মাখিয়ে
দেবো তোর ওই মুখে, সারারাত জেগেই
কাটিয়ে দেবো তোর অসুখে, তুই রাজি
কিনা বলে দে আমায়, তোকে ভালবেসে
বাচতে দে আমায়, তুই রাজি কিনা বলে দে
আমাই, তোকে ভালবেসে বাচতে দে
আমায়।"
.
একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ও।
আমিও তাকিয়ে আছি ওর মায়াবী চোখের
দিকে।
।
আমি একটা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি
করি তাই খুব ব্যাস্ত থাকতে হয়। তাই
পরিবারকে হয়্ত যথেষ্ট সময় দিতে পারিনা
তাতে অবষ্য পাগলিটার কোনো অভিযোগ
নেই। পাগলিটার সাথে আমার বিয়ে
হয়েছে মাত্র ১৫ দিন আগে। সব ঝামেলা
শেষ করে আজ ই এই বাড়ীটাতে উঠেছি। ওহ।
ওর নামটাই ত বলা হয়্নি। অর্নি নাম ওর।
-আইস ক্রিম খাব।
-এই রাতে? ঠান্ডা লাগবে তো।
-আমি খাব। চুপচাপ নিয়ে আসো।
জানতাম পাগলিটা খুব আইস ক্রিম পছন্দ
করে তাই আগে থেকেই নিয়ে এসেছিলাম
নাহলে এখন বাইরে জাওয়া লাগতো।
-এই নাও তোমার আইস ক্রিম।
-খাইয়ে দাও।
-অক। এদিকে আস। নাও।
-এবার আমার হাতে দাও।
-কেনো? আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
-না দাও।
একটু মন খারাপ করে ওর হাতে দিয়ে
দিলাম। মুচকি হেসে নিয়ে নিলো।
-দেখি হা করো।
-কেনো?
-এবার আমি তোমাকে খাইয়ে দেবো।
-না আমি খাব না।
-এত খেলে আমার ঠান্দা লাগ্বে তো।
কেমোন একটা অনুনয় এর সুর পেলাম। ওর
দিকে তাকিয়ে আর না করতে পারলাম না।
-দাও।
-হুম। নাও। এবার আমাকে খাইয়ে দাও।
-অকে পাগলি।
-হিহিহিহি। পাগল একটা।
-হুম। তোমার পাগল।
-ছাদে যাবে?
-এতো রাতে?
-হুম।
-আমি কিন্তু কোলে করে নিয়ে যেতে
পারবো না।
-আমি তোমার কোলে করেই যাবো।
ওকে কোলে তুলে নিলাম। আর আমার
গলাটা দুহাতে জড়িয়ে ধরলো। ছাদে পৌছে
হাল্কা চাদের আলোতে ওকে অসম্ভব
মায়াবী লাগছে।
-তুমি ঘেমে গেছ তো।
-তোমার মতো মুটকি কে কোলে নিতে হলে
আমি তো ঘেমে যাবই।
-ওকে। থাক। নামিয়ে দাও আমাকে।
(অভিমানি সুরে)।
-না। নামাব না। আমার বৌকে আমি
কোলে রাখবো। তাতে তোমার কি?
আমার দিকে তাকিয়ে থেকে ওর আচল
দিয়ে আমার মুখটা মুছে দিলো। আমিও ওর
চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-এবার তুমি আমাকে গান শোনাও।
কিছু না বলে গান শুরু করলো,
" আমারো পরাণে যাহা চায়, তুমি তাই,
তাই গো আমারো পরাণে যাহা চাই।"
-খুব সুন্দর।
-না।
-কে বললো না?
-তাহলে তুমি আরেকটা গান শুনাও।
-এখন?
-ত কখন?
-ওকে।
"েই চাদের আলোই তোকে রাখব বেধে,
পারবি কি তুয় আমায় হতে? আলকিত রাত
টাও অন্ধকার হলে, তোকে আগলে রাখব
আমার কোলে, তুই থাকবি কি না সেটা
তোর ইচ্ছা, তোকে শোনাব চাদের ও
কিচ্ছা! মেখে দেব তোর মুখে চাদের ও
আলো, তাকিয়ে থাকব আমি নিভে যাক না
আলো! তোকে নিয়ে সাজাবো একটা মুহুর্ত,
থাকবে সেখানে তোর সব শর্ত। তুই থাকবি
কিনা সেটা তোর ইচ্ছা, আমি শোনাব
তোকে চাদের ও কিচ্ছা। তুই শুনবি কিনা
সেটা তোর ইচ্ছা!"
গান শেষে ওর কপালে একটা চুমু একে
দিলাম। আর ও লজ্জাই লাল হয়ে উঠলো।
-দেখ, চাদটা লজ্জা পেয়ে মেঘের আরালে
গেছে। (আমি বললাম)।
-লজ্জা ভাংবে কখন?
-জানিনা। তবে আমার কোলে যে চাদটা
আছে সেটা তো আর লুকাতে পারবে না।
একথা সুনে আমার বুকে মুখ লুকালো ও।
অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম তাই ওকে
নামিয়ে দিলাম কোল থেকে। তারপর
আমার কাধে মাথা রেখে বসলো ও।
-চলো room এ যাই।
-থাকি আরেকটু?
-সেহরি খেতে উঠতে হবে চলো।
-আচ্ছা।
আবার কোলে করে নামিয়ে আনলাম ওকে।
-তুমি আজ সোফাই ঘুমাবে। (অর্নি)
-কেনো? (আমি)
-আমার ইচ্ছা তাই।
-হাহাহাহা।
-হাসো কেনো?
-ঘুমাতে পারবে?
-এত কথা বলো কেন?
পাগলিটাকে জরিয়ে ধরে সুয়ে পরলাম। একটু
পরে বাচ্চাদের মতো জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে
পরলো। আমি কিছুক্খন ওর দিকে তাকিয়ে
থাকলাম। কি ইনোসেন্ট চেহারা! আমিও
ঘুমাবো এখন নাহলে সেহরি মিস হয়ে যেতে
পারে।