Wednesday, August 21, 2024

ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং
- ধুর। এই সাত-সকালে কোন সালায় রে? (ফোন রিসিভ করে)
- অই কুত্তা তুই কি বল্লি?
- (অবাক হয়ে! ফোনে মেয়ে আসলো কোথা থেকে) আপনি কে আফামনি?
- সালা লুচ্চা। আমি তোর আফা লাগি? (ইস্পিতা)
- তাইলে কে আপনি। (রাফি)
- হারামজাদা নাম্বার চেক কর। (রাগের ইমো😈)
- ওকে ওয়েট।
নাম্বার চেক করে দেখে মহারানীর ফোন। (খাইছে আম্রে। আম্রে কেও বাচা!!! সকাল সকাল রাগায় দিলাম। জানিনা আজকে কপালে কি আছে?  মাম্মি মাম্মি আমাকে বাচাও😂😂😂)
-ওওও জানপাখি তুমি। আগে বলবানাহ। আমি তো ভাবছি যে কে না কে ফোন দিসে।
- ওই আমি কে না কে?. কেন আমার নাম্বার তোর মোবাইল এ সেভ করা নাই হা? আয় আজকে তোর খবর আছে।
- ওমা😱 জানপাখি তুমি আমাকে তুই করে বলতেছ কেন।
- তুই জানস না কেন বলতাসি হুহ।👿। আজকে আমাদের কি দেখা করার ডেট ছিলো?
- (উরিম্মা ভুলে ই গেছি। আজকে কপালে শনি, রবি, সোম সব ই আছে) ওহ নু। জানু একদম ভুলে গেছিলাম। তা কখন যেন দেখা করার কথা?
- সকাল ৯টায়।
- আর এখন কয়টা বাজে?
- ৮:৪৯.
- হেহেহে. আর আপনি এখন কোথায়?( লেট লতিফ)
- তোর মতন একটা হারামজাদার জন্য পার্কে অপেক্ষা করতেছি।
- হিহিহি😁😁😁 আপনি শাস্তি রেডি রাখেন ম্যাডাম আমি আসতেছি। (পার্ক এ যাইতে ই লাগে ১৫ মিনিট আর আমার হাতে আছে ১১ মিনিট)
- ওই তুই বকবক রাইখা একটু জলদি আসবি নাকি আমি ই তোর মেস এ আসবো?
- নাহ গো জানপাখি আপনি ৫মিনিট বসেন আমি ১৫ মিনিটে আসতেছি।
- হুম প্লিজ সোনা জলদি আসো। কয়েকটা ছেলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আমার খুব বিরক্ত লাগতেছে (নরম সুরে সাথে আবার তুমি. মাইয়াজাতী তুমি পারো ও)
- কিহ আমার জানের দিকে নজর। আমি আইসা লই। ওদের কে চাবিয়ে চাবিয়ে ডাস্টবিন এ ফালায় দিমু।
- জলদি আসো না জান।
- এইতোহ আইসা পড়ছি।

এইইইইই। যাহ। আপনাদের তো পরিচয় ই দিতে ভুলে গেছি। আমি হলাম রাফি। মধ্যবিত্ত পরিবার এর ২মাত্র শয়তান।।।উপস সর‍্যি। সন্তান। এবার মাস্টার্স শেষ করে শিক্ষিত বেকার হয়ে আছি। আর সে হলো ইস্পিতা। বড়লোক বাবার পিচ্ছিলোক মাইয়াহ। সে অনার্স পাচুর্থ বর্ষে পড়ে। আর আমার একমাত্র ইয়ে। মানে আর কি ইয়ে বুঝেন না?. আর বুঝাইতে পারুম না। বাকিডা বুইঝা লন।

কথা বলতে বলতে পার্কে আইসা পরছি। (তার প্রিয় বেলিফুলের মালা নিতে কিন্তু ভুলিনাই!!! তানাহলে যে আমাকে আর আস্ত রাখবে না)

ওইযে দেখা যায় একটা বেঞ্চের কোনায় গুপটি মেরে বসে আছে। দূর থেকে কত নিষ্পাপ লাগে চেহারা টা। আর যখনি কাছে যাই তখন ভুলে যাই যে আমি এইমুহুর্তে কোনো মানুষের সামনে আছি। মনে হয় মানুষের বাচ্চা বাঘিনীর সামনে দারিয়ে আমি। আমাকে যা যা আদেশ দিবে তা মাথা পেতে মানতে হবে। যাইহোক এবার গল্পে আসি।
- হাই জানু। (হাটু গেরে তার সামনে বসে মালা সহ হাত টা তার সম্মুখে তুলে ধরে)
-  কে আপনি? (চিনেনা আমাকে😭😭😭)
- সর‍্যি জানপাখি। (কানধরে উঠবস শুরু হয়ে গেছে)
- এই এই কি করতেছ তুমি থামো এবার। (দৌড়ে এসে আমাকে থামিয়ে দিলো)
- সর‍্যিহ আর এমন হবে না। প্লিজ।
- প্রতিবার ই তো বল যে আর হবে না। কিন্তু পরের বার তো ঠিক ই লেট কর। আমার বুঝি একা বসে থাকতে খারাপ লাগে না?😖😖😖(মন খারাপ করে)
- এরপর থেকে আর হবে নাহ। সেই ব্যবস্থা ই করতেছি। (মুখে আমার দুষ্টু হাসি)
- তুমি আবার কি করবা?
- আমার লাল টুকটুকে ময়না পাখিটাকে আজীবনের জন্য আমার করে নিবো।
- এই কি বলতেছ এগুলা উল্টা-পাল্টা। আগা মাথা কিছুই বুঝতেছি নাহ। (কাধে মাথা রেখে)
- তোমার কুছু বুঝতে ও হবে না। জাস্ট শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নাও।
- যাহ কি বল এইসব। আমার বুঝি লজ্জা লাগে না? (ন্যাকামো সুরে)😊😊😊
- হায়রে আমার লজ্জাবতী রে। দাড়াও। তোমার লজ্জা আমি দূর করে দিচ্ছি। (বলেই তার মুখের দিকে মুখ এগিয়ে নিচ্ছি আস্তে আস্তে)
- এই কি কর। সবাই দেখবে তো। বলেই হুট করে জরিয়ে ধরলো।
- এই যাহ। মিস করলাম।
- এর উসুল আমি সুদেআসলে উঠাবো।
- হুহ দেখা যাবে। এখন চলো খুব ক্ষুদা লাগছে।
- ওকে ম্যাম চলেন। আমার ও ক্ষুদা লাগছে। সকালে কিছু না খেয়ে ই চলে আসছি।

তারপর নাস্তা করে হালকা ঘুরাঘুরি করে তাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসলাম। এবার বলি পাগলি টা আমার হলো কিভাবে।
আমি ছিলাম ফেছবুক-খোর। খাইতে, নাইতে, বাইরে, ঘরে, পড়ার টেবিলে, ঘুমাইতে সময়, এমনকি টয়লেট এও আমার সাথে আমার প্রিয় ফোন থাকতো। ইট জাস্ট ওনলি ফর ফেছবুক। তা একদিন একটা পোষ্ট এ কমেন্ট করলাম। সাথে সাথে ই দেখি আরেকটা কমেন্ট এসে হাজির এবং সেটা আমার বিপক্ষে। বেধে গেলো আমাদের মাঝে তুমুল ঝগড়া। সেখান থেকেই পরিচয়। তারপর ধীরে ধীরে পরিণয়। এবং অবশেষে আমি আর সে এক সুতোয় গাথা।

সারাদিন এদিক ওদিক ঘুরে রাতে বাসায় এসেছি। দেখি তৃণয় টেবিলে মুখে বিজয়ী হাসি নিয়ে বসে আছে। গিয়ে দেখি হাতে একটা হলুদ খাম।

আমি: কিরে ক্যাবলা কান্ত। ক্যালাস ক্যান! আর হাতে কি?. প্রেম পত্র নাকি।।।😂😂😂.
তৃণয়: আরে তুই কখন এলি। আর এটা প্রেম পত্র তোকে কে বলছে.
আমি: তোর যে ভাবসাব দেখা যাচ্ছে।  তাই বললাম আর কি।
তৃণয়: অই🔫 তোএ বকবক থামাবি নাকি মাইর খাবি।
আমি: আচ্ছা যা একদম চুপ মেরে গেলাম। এখন কাহিনী কি বল।
তৃণয়: আগে বল ট্রিট দিবি কবে। আর কোথায়?.
আমি: কিসের ট্রিট। কি যাতা বলছিস.
তৃণয়: আরে এটা তোর জয়েনিং লেটার। কয়দিন আগে যে ইন্টার্ভিউ দিয়ে আসলি সেখানে। ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে। শুরুতেই স্যালারি ৩০ হাজার দিবে। সাথে গারি আর বাড়ি দুইটাই দিবে।
আমি: কি বলিস!!!😱(অবাক হয়ে) দেখি দে তো খাম টা।
খাম থেকে লেটার টা পড়ে তো আমি পুরাই 'থ'. কিভাবে কি হলো। যাইহোক। যা হয় ভালোর জন্যই হয়। আলহামদুলিল্লাহ। এই সুখবর টা আগে বাসায় জানাই।

- হেলো মা।
- হ্যা বাবা বল। কেমন আছিস।
- ভালো মা। তোমরা কেমন আছো
- আছি ভালো আছি বাবা আল্লাহর রহমতে।
- বাবা কেমন আছে মা।
- উনিও ভালো আছে।
- মা একটা সুখবর আছে।
- কি সুখবর বাবা?.
- আমার চাকরি হয়ে গেছে মা। ভালো টাকা বেতন আর ব্যবহারের জন্য বাড়ি গারি দিবে।
- বলিস কি। যাক আলহামদুলিল্লাহ। সুনে ভালো লাগলো বাবা। এবার তোর একটা গতি হোক।
- মানে! তুমি কি বুঝাইতে চাইছো মা।
- বুঝছ ই তো বাবা আমরা বুড়ো হয়ে গেছি। বড় টার তো একটা গতি হয়ে ই গেছে। এবার তোর টা হয়ে গেলেই দায়িত্ব থেকে মুক্ত হই।
- মা। কিসব উল্টা পাল্টা কথা বলতেছো। আর মাত্র চাকরি টা পাইলাম। কয়দিন তো যাইতে দাও নাকি।
- আচ্ছা বাবা আচ্ছা। তোর যা ভালো মনে হয় তাই কর।
- ঠিক আছে মা। বাবাকে সালাম দিয়ো আর সবাই কে সুখবর টা বলিও।
- ঠিক আছে বাবা। তুই ও নিজের খেয় রাখিস।
- আচ্ছা মা। ভালো থেকো। ররাখছি।

অত:পর ফোন দিয়ে আমার রাগকুমারী কে খবর টা দিলাম। সে সুনে তো লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে।
পরের মাসেই শিফট হয়ে গেলাম নতুন বাসায়। আর শুরু হয়ে গেলো প্যারাময় অফিসওয়ালা জীবন। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। গ্রাম থেকে বাবা, মা আর ভাবী এসেছে আমার এই ছোট্ট সংসার টাকে গুছিয়ে দিতে। ভাইয়ার কাজের জন্য আসতে পারে নি। এভাবেই দিনগুলা যাচ্ছিলো। তো একদিন কাজ শেষে বাড়ি ফিরে খুব ক্লান্ত লাগছিলো তাই বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। এতই ক্লান্ত ছিলাম যে সাথে সাথেই ঘুমের দেশে তলিয়ে গেলাম। ঘুম ভাংলো অনেক সময় করে।  চোখ মেলে দেখি আমার গায়ে কাথা দেওয়া আর জুতা খুলে রাখা। নিশ্চয় ভাবির কাজ। মানিব্যাগ টা ও দেখি বালিস এর নিচে রাখা। ঘরিতে তাকিয়ে দেখি রাত ১১ টা বেজে গেছে। ফ্রেশ হয়ে সবাই কে নিয়ে ডিনার টা সেরে নিলাম। রুমে এসে আবার ঘুম। সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে ডিউটির জন্য ফরমাল ড্রেস পরলাম। মানিব্যাগ হাতে নিয়ে দেখি কে যেন নাই। ভালোভাবে খেয়াল করে দেখলাম যে ইস্পিতার ছবিটা ই গায়েব। এই কাজ ভাবি ছাড়া আর কারো পক্ষে ই সম্ভব নয়। এইজন্যই তো বলি কাল রাত থেকে ই দেখছি ভাবি আমাকে দেখলেই মুচকি হাসিতেছে। এটাই তাহলে ভাবির মুচকি হাসির রহস্য। আসল বোমাটা ফাটাল নাস্তার টেবিলে। আমি নাকি নিজে নিজে বিয়ে করার জন্য উতলা হয়ে যাচ্ছি, আর মেয়ে ও নাকি ঠিক করে ফেলেছি। মেয়ের ছবি হিসেবে ইস্পিতার ছবি টাকে দেখিয়ে দিলো। আমি আর যাই কোথায়, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে সব বের করে ফেললো। বাবা/মার ও নাকি ইস্পিতাকে পছন্দ হয়েছে। তারা ইস্পিতাকে বাসায় নিতে বল্লো আর ইস্পিতার বাড়ির ঠিকানা চাইলো কারণ আমার বিয়ের পাকাকথা দিতে যাবে। (হাসির ইমু)
বিকালে কাজ শেষে ইস্পিতাকে ফোন দিয়ে বললাম সব। আর এ ও বললাম যে তাকে বাবা/মা দেখতে চেয়েছে। ও বললো ওর বাসার সামনে যেয়ে ওকে নিয়ে আসতে। চলে গেলাম ওর এলাকায়। ওকে নিয়েই বাসায় ফিরলাম। সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম। সবাইও ওকে আপন করে নিলো। এখন এমন অবস্থা যে আমাকেই কেউ চিনেনা। সবার ব্যস্ততা ওকে ঘিরেই। ইস্পিতা ও সবাই কে অল্পতেই আপন করে নিয়েছে। যাইহোক ভালই হলো একদিক দিয়ে। বিয়ের পর নতুন ফ্যামিলি নিয়ে ইস্পিতার কোনো জ্বরতা থাকবে না। কয়েকদিন এর মধ্যেই ইস্পিতার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হলো। আর বিয়ের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেলো। বুঝতেই পারছিলাম যে ব্যাচেলর জীবন থেকে পরিত্রাণ পেতে যাচ্ছি খুব শিঘ্রই। অবশেষে তিন কবুলের মাধ্যমে বিয়েটা হয়েই গেলো। কনে নিয়ে ফেরার সময় ইস্পিতার ক্রন্দন দেখে আমার ই কান্না চলে আসছে! আবেগ টাকে কন্ট্রোল এ রেখে তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলাম! তারপর ও কত কত ঝামেলা। আগে জানলে বিয়ে ই করতাম নাহ। সব শেষে আসলো সেই মহিন্দ্রখন। যেটা নিয়ে একজন মানিষের হাজারটা সপ্ন থাকে। সেই সপ্নের বাসর। কিন্তু বিধিবাম এখানে ও এখন রাজনীতি। নিজের ঘরে নিজের একমাত্র নতুন বৌ এর কাছে যাবো তাও নাকি ট্যাক্স দিতে হবে। নাহলে ঢুকতে দিবে না। কি আর করার বাসর রাতে বৌকে ছাড়া থাকার ইচ্ছা কারই বা থাকে। সাপের লেজে পা দিছি। ছোবল তো খেতে ই হবে। সব ঝামেলা পার করে গেলাম রুমে। আসলে কাল পর্যন্ত এটা আমার রুম ছিল। আজ থেকে আমাদের হয়ে গেলো এই যাহ। আমি দরজা লাগিয়ে খাটে উঠতে যাবো বৌ অমনি আমাকে থামিয়ে খাট থেকে নেমে পা ছুয়ে সালাম করলো। আমি তাকে বুকে টেনে নিলাম। কিন্তু হঠাৎ সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে খাটে ফেললো আর আমার উপরে চরে বসলো। তারপর।।।।তারপর

এইযে ভাই/বোনেরা। কিছু তো প্রাইভেসি দেন। আর নিচে নামার দরকার নাই।

"অবয়ব"

আমি জানি না জিনিশ টা কি। এতোদিন যাবত আমার সাথে আছে কিন্তু আমি ধরতে পারছি না যে কি এটা। হতে পারে আমার দেখার ভুল কিংবা অন্য কিছু। স্পর্শ টা খুব পরিচিত, গন্ধ টা খুব আপন। আমি যখনি কোনো বিপদের সম্মুখীন হই অথবা হতে যাচ্ছি এমন কিছু ঠিক তখনি এটা এসে আমাকে আগাম বার্তা দিয়ে সাবধান করে দেয়।

আমি মারুফ। অনার্স এ পড়ি। পরিবার বলতে এক ছোট ভাই আর দাদু ছাড়া আর কেউ নাই। বাবা মারা গেছেন যখন ক্লাস ৮ এ পড়ি তখনি। আর মা ও তার ৩ বছর পর আর এক জনের সাথে ঘর বাধেন। তখন থেকে ভাইটি কে আর দাদু কে ঘিরে ই আমার পৃথিবী। ভাইটা এবার কলেজ এ ভর্তি হল। খুবি ছিমছাম একটা পরিবার আমার। আমি অবশ্য পড়ালেখার পাশাপাশি একটা ছোটখাটো চাকরী করি। কারন বর্তমানে ফ্যামিলি টা আমার উপর ই পুরোপুরিভাবে নির্ভরশীল। এই ই তো আমি। সাধারন একটা ছেলে।

এতক্ষণ যে কথা বলছিলাম সেটা হল একটা অবয়ব। আর এটার সাথে পরিচিতি আমার অনেক দিনের। কারন অবয়ব টা আমার বাবার। সবাই বলে যে 'মানুষ নাকি দাত থাকতে দাতের মর্ম বোঝে না।' আমি ও সেরকম ই একজন। বাবা যখন জীবিত ছিল তখন তার সাথে যে কিরকম ব্যাবহার করতাম একমাত্র আমি ই জানি। কিন্তু এখন বাবা বলে ডাকার কেউ আর নাই। খুব মনে পরে বাবাকে। এইজন্য ই হয়তোবা বাবা এসে তার উপস্থিতি আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে যায়। যে বেটা সামনে এগিয়ে যাও  তোমার পেছনে তোমার বাবা আছেন। ভয় পেয়ো না।

আজকে ই যেমন আমি যখন বাস এ উঠবো তখন বাবার অবয়ব টা আমার সামনে দিয়ে চলে গেলো। আর আমি ও বাসে না উঠে সেই অবয়ব টা কে ফলো করতে তার পিছু পিছু চলে গেলাম। প্রায় ৫-৭ মিনিট পর অবয়ব টা গায়েব হয়ে গেলো। তার ও ঘন্টা খানেক পরে শুনলাম যে যেই রাস্তায় আমি চলাচল করি সেই রাস্তার একটা বাস নাকি উল্টিয়ে গেছে। আসলে দাদু আমাকে ফোন করে খবর টা জানালো আর আমি যেন সাবধানে যাই তাই বললো। আমি ও খবর নিয়ে ঘটনাস্থল এ গিয়ে দেখি আমি যেই বাস এ উঠতে গিয়েছিলাম সেই বাস টা ই এটা।

মায়ের কথা মাঝেমাঝে মনে পড়তো এখন আর পরে না। তার বিয়ে হওয়ার কিছুদিন ঠিক ই যোগাযোগ ছিল। এখন পুরোপুরিভাবে সেটা ও বন্ধ। আমি আসলে এই মহিলা টাকে নিতে পারি না। তার জন্য ই বাবার সাথে খারাপ ব্যাবহার করা শিখেছিলাম। একবার সবাই নানু বাড়ী ছিলাম বাবা বাসায় একা ছিল তখন বাবা অসুস্থ ছিল। সন্ধের দিকে বাবা ফোন করে আমাকে অনেক রিকুয়েস্ট করলো যে "আয় না বাবা আমার সাথে ঘুমুবি। আমার আর একা ভাললাগেনা। ভয় হয়। আমি ও সাফ না করে দিলাম। বাবা তারপর ও অনেক অনুরোধমত করলেন তবু ও আমি রাজী হইনি। আর এখন বাবাকে জরিয়ে একটি রাত ঘুমানোর জন্য মনটা অস্থিরপ্রায় থাকে সবসময়। বাবা টা যখন এই দুনিয়া থেকে চলে গেল তখন আমি তার মাথার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম। আর সে আমাকে/আমাদের একা করে চলে গেলো। একেবারে। যেখান থেকে ফেরার নয়। আর তারপর থেকে ই বুঝতে শিখলাম যে বাবা কি জিনিস। বাবা যদি অচল হয়ে ও জীবিত থাকে তাহলে সবসময় মনে হয় যে মাথার উপর বাবার হাত টা আছে। কারন বাবা তো বাবা ই।

"""""""বাসর রাতে গল্প"""""
'
আমি কোল বালিশটাকে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।মিহিন নিশ্চই আমার দিকে রাগান্বিত হয়ে তাকিয়ে আছে।থাকুক! আমার কি? আমি কি ভয় পাই নাই? ওর কি একার রাগ আছে নাকি? আমার নেই?
মিহিন! যার সাথে আমার আজকে বিয়ে হয়েছে।আর আজ আমাদের বাসার রাত।বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়েছে।বিয়ের পূর্বে যে কয়দিন সময় ছিল সে কয়দিনে মেয়েটাকে অনেকটাই পটিয়ে পেলেছি।আমার অবশ্য মেয়ে পটানোর অভিজ্ঞা বেশ ভালোই আছে।আগেই দু'টাকে পটিয়েছিলাম।সেই সুবাদে কিছুটা অবিজ্ঞতা আছে আমার।
আমি ভাবতে পারি নি বাসর ঘরে আমার জন্যে এমন কিছু অপেক্ষা করছে।
ও যখন আমাকে সালাম করে বিছানায় বসল ততক্ষণ পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাকই ছিল।কিছু বিষয় নিয়ে ওর সাথে কথা বলছিলাম।হঠাৎ করেই ও বলে উঠল,
:তোমাকে একটা কথা বলার ছিল।
আমি ওর গম্ভিরতা দেখে অভয় দিয়ে বললাম,
:হুম।বল।সমস্য নেই।
আমি ভেবেছি সাধারণ কোন বেপার নিয়ে কথা বলবে ও।কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটা হুট করেই বলে ফেলল,
:তুমি কি আগে কখনও প্রেম করেছ?
আমি চট করেই ওর দিকে করে তাকালাম।চেহারায় গম্ভির ভাব এখনও কাটে নি।তাই মৃদু হেসে ওকে বললাম,
:কি যে বল না।আমি আর প্রেম! কোথায় কি।আমি এসবে কখনও জড়াই নি।এসব একদম ভালো লাগে না আমার কাছে।
ও চেহারার গম্ভির ভাব কাটিয়ে কপট রাগ নিয়ে আমার দিকে তাকাল।বলল,
:সত্যিই তো?
:আরে হ্যাঁ।সত্যি।আমি মিথ্যা বলি না কখনও।
:আরেক বার ভেবে দেখ।
আমি কিছুটা আঁচ করতে পেরেছি যে মিহিন আমার মিথ্যাটা ধরে ফেলেছে।কিন্তু ও তো আমার মিথ্যা ধরতে পারার কথা না।তাহলে?
আমি ছোট খাট মিথ্যা বেশ ভালোই বলতে পারি।কেউ কখনও ধরতে পারে নি।এই শেষ মেশ যদি নতুন বউয়ের কাছে ধরা খাই তাহলে আর উপায় নেই। মান সন্মান সব ধুলোয় মিশে যাবে।না! তা হতে দেওয়া যাবে না।আমি গলা খাকিনী দিয়ে বললাম,
:আরে ভাবার কি আছে। আমি কি মিথ্যা বলছি নাকি? যা সত্যি তাই বললাম।
:ও।তাই না! সত্যি বলছ আমার কাছে?
:হুম।তুমিই তো আমার জান পাখি।তোমার কাছেই তো সত্য বলব নাকি।
ও আঙ্গুল উঁচিয়ে বলল,
:এই একদম নেকামি করবা না।কি ভেবেছ কি? আমি কিছুই জানি না।আমি সব জানি!
:ক-ক-কি জান তুমি?
:রুপা এবং নিতুর সম্পর্কে সব কিছু জানি আমি ।
আমি অনেকটাই চুপসে গেলাম।অবশেষে বউয়ের কাছে ধরা খেতে হল? আমি মাথা নিচু করে বললাম,
:দুর্ভাগ্যের বেপার হল এরা দুজনের একজনই আমার হয় নি। দুজনেই আপন স্বামি নিয়ে বেশ আয়েশেই আছে।
ও কিছুটা ঝাড়ি দিয়ে বলল,
:চুপ কর! এই মুখ নিয়ে কথা বলছ কিভাবে।যাও।বালিশ নিয়ে ফ্লোরে শুয়ে পড়।
:কেন? ফ্লোরে শুব কেন?
:ওটা তোমার শাস্তি।
শালার ওই দুই মাইয়ার জন্যে আজ আমার এই অবস্থা। হাতের কাছে পেলে কয়েকটা দিতাম।ও বালিশটাকে আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
:যাচ্ছ না কেন? জলদি যাও।আমার ঘুম পাচ্ছে। আমি ঘুমাব।
আমি কিছু একটা ভেবে বালিশটাকে রেখে উঠে দাঁড়ালাম।আলমারি খুলে আমার বউয়ের শত্রুকে খুঁজতে লাগলাম এবং কাঙখিত জিনিসটা পেয়েও গেলাম। কোল বালিশ টা নিয়ে এগিয়ে গেলাম খাটের দিকে। ও আমার হাতে কোলবালিশ দেখে কিছুটা অবাক হল।তবে কিছু বলল না।আমি কোন কথা না বলে চট করেই শুয়ে গেলাম খাটে। বললাম,
:খাটটা তোমার না।আমার।আমার বাবা কিনে দিয়েছে। যদিও এখন বলবে আমারও সমান অধিকার আছে।তাই আগেই তোমাকে অর্ধেক দিয়ে দিলাম। যাও! খাটের বাকি অংশ তোমার।
এই বলে শুয়ে গেলাম। ও কিছু না বলে আমার সাহস দেখে অবাক হল।ও নিজেও কিছু বলল না। চুপচাপ বসে রইল।
আমি কোলবালিশ জড়িয়ে ধরে চোখ খুলে ওর দিকে তাকালাম।ওর মুখটা কেমন জানি আষাঢ়ে আকাশের মত হয়ে গেল।রাগ আর কান্না মিশ্রিত মুখটা দেখে আমার কেন জানি মায়া হল। আমি বললাম,
:কি ব্যাপার বসে আছ যে?
ও কিছু বলল না।অন্য দিকে মুখ ফিরাল।আমার আবারো খুব মায়া হল ওর প্রতি। আমি উঠে বসে ওর দিকে তাকালাম।আস্তে করে ওর হাতটা ধরলাম। ও ঝটকা দিয়ে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিল।আমি আবার ধরলাম। ও আবার ছাড়িয়ে নিল।আমি ওর চুপ করে থাকা দেখে বললাম,
:কি হয়েছে? এমন করছ কেন?
ও আবার আমাকে ঝাড়ি দিয়ে বলল,
:তো কি করব আমি? নাচবো?
আমি মাথা নিচু করে বললাম,
:দেখ! ওরা আমার অতিত ছিল।ওদেরকে নিয়ে আমার যত স্বপ্ন ছিল সব ভেঙ্গে গিয়েছি।সময়ের সাথে সাথে সব ধুলোয় মিশে উড়ে গেছে হাওয়ায়। হ্যাঁ। আমার কষ্ট হয়েছিল।কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আমি নিজেকে সামলে নিয়েছি।আমার সব কিছু এখন তোমাকে নিয়ে মিহিন।তোমার চরিত্র প্রবেশ করেছে আমার জিবনের নাটকে।যত দিন সেই নাটক স্থাই হবে ততদিন তোমাকে বেঁধে রেখে দিব।ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করব তোমাকে।এখন আমার কাছে তোমার চরিত্রটাই বেশি প্রয়োজনীয় মিহিন।প্লিজ অতিতের জন্যে আমাকে কষ্ট দিও না।প্লিজ!
কিছুটা অনুনয় করে বললাম।একেবারে নরম স্বরে।যেন মন গলে যায় মেয়েটার।এ কয় দিনে মেয়েটাকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি আমি।তাই ওকে হারাতে চাই না।
ও কি জানি ভাবল।রাগের আভা অনেকটাই মুছে গিয়েছিল ওর মুখ থেকে।আমি কিছুটা খুশি হয়ে ওর হাতটা ধরলাম। ও কিছুক্ষন কিছু বলল না।আমি আরেকটু বেশি খুশি হলাম।ও আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আবার ঝটকা
নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিল।মুখে আবার পূর্বের ন্যায় রাগের আভা চলে এসেছে।বলল,
:কি ভেবেছ? নরম কথা বলে আমার মন নরম করবা? এত সহজ নয় বুঝলা।তোমাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।
আমি আরো নরম হয়ে বললাম,
:আচ্ছা আমার দোষটা কি বল? প্রেম করেছি। এটাই কি দোষ?
:ওমা।প্রেম তো আমিও করেছি।আমি যদি প্রেম না করতাম তাহলে তোমার প্রেম করাটাও দোষের আওতাভুক্ত হত। তোমার দোষ হল তুমি মিথ্যা বলেছ আমাকে।এটাই তোমার দোষ।
:অ্যাই! তুই প্রেম করেছ?
:হুম।তুই করতে পার, আমি পারি না?
:তুমি আমাকে আগে বল নি কেন?
:কেন? আগে বললে কি বিয়ে করতে না? আর তাছাড়া তুমিও তো আমাকে আগে বল নি?
আমি কিছু বললাম না।কিছু সময় চুপ করে থাকলাম।মিহিনও কিছু বলছে না।চুপ করে আছে।আমি আড় চোখে তাকে একটু দেখলাম।বললাম,
:তাহলে হিসেব অনুযায়ী তুমিও আমাকে মিথ্যা বলেছ। আর তাই তোমাকেও শাস্তি পেতে হবে
:ওমা! আমি আবার কখন মিথ্যা বললাম। তুমি কি আমাকে কখনও জিজ্ঞেস করেছ নাকি?
আমি আটকে গেলাম।আসলেই আমি বোকা। বড্ড বোকা আমি।আমি কিছু বললাম না।চুপ করে রইলাম।মিহিনের দিকে তাকিয়ে দেখি মিহিনও চুপ করে আছে।আমি আবার বললাম,
:আচ্ছা তোমারা কি প্রতিদিন দেখা করতে? দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে?
ও হয়ত বুঝতে পেরেছে আমি কি বলতে চাইছি।ও বলল,
:আরে নাহ! ওর সাথে আমার ফেবুতে পরিচয় হয়।কখনও সামনাসামনি দেখা হয় নি।শুধু কয়েকটা ছবি দিয়েছে ও আমাকে।আর খুব ভালো গল্প ও কবিতা লিখত ও।আমি রিতিমত ওর একজন ভালো পাঠিকা ছিলাম।এর থেকেই প্রেম হয়।কিন্তু হঠাৎই একদিন সব কালো হয়ে গেল।আমাকে না জানিয়ে আমার নীল জগৎ টাকে কালো করে কোথায় হারিয়ে গেল শয়তানটা।অনেক খুঁজেছি।ফোনও দিয়েছি।কিন্তু সব জায়গায় আমাকে ব্লক করে ও।কালো করে দেয় আমার দুনিয়াকে।তুমি যেমনটা ভাবছ।তেমন কিছুই হয় নি।
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে ওর দিকে চেয়ে রইলাম।সাদা মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছে।চোখ গুলো চিক চিক করছে ওর।যেন কয়েক ফোটা জল এখনই গাল বেয়ে পড়বে।
আমি চট করেই ওর হাতটা ধরলাম।খুব শান'ত ভাবে বললাম,
:সরি!
আমি কয়েক মূহুর্ত ওর হাতের দিকে তাকিয়ে রইলাম।না! ও এবার আমার হাত ছাড়িয়ে নিচ্ছে না।আমার কেন জানি খুব ভালো লাগল।আমি ওর দিকে ভালো করে তাকালাম।ও অঙ্গুল দিয়ে চোখের কোনাটা মুছল।এক ফোটা জল যেন না পড়তে পারে তার চেষ্টা। মেয়েটার মুখটা কেন জানি কালো হয়ে আছে।ওর ঠোটের দিকে চোখ যেতেই দেখলাম গোলাপি ঠোটটা কেমন জানি শুকিয়ে আছে।আগে তো এমন ছিল না।আগে ওর ঠোট জোড়া দেখলেই আমার খুব ইচ্ছে হত ওকে একটা চুমু খাই।কিন্তু ভয়ে পারি নি।আমি ওর গোলাপি ঠোঁটটার দিকে তাকিয়ে রইলাম।আমার কি হল আমি জানি না।আমি চট করেই ওকে একটা চুমু খেলাম।শুকনো ঠোটটা ভিজিয়ে দিলাম।ও হয়ত ব্যাপারটা আগেই বুঝেছে।কিন্তু তার আগেই আমি ওকে চুমু দেই।নরম ঠোট জোড়ার মিলনে কেমন জানি অতৃপ্ত স্বাদ পেলাম। খুব ইচ্ছে হল আবার খাই।কিন্তু মহারানি যেভাবে তাকিয়ে আছে।যেন আস্ত খেয়ে ফেলবে।আমি ওটাকে উপেক্ষা করে ওর দিকে এমন ভাবে তাকালাম যেন কিছুই হয় নি।বললাম,
:জীবনে অনেক সময় পাবা আমাকে শাস্তি দেওয়ার। যত পার দিও।আমি মাথা পেতে নিব।অন্তত আজকে, আমাদের বাসররাতে এমন করিও না।এস! শুয়ে পড়।
আমি কোলবালিশটাকে জড়িয়ে ধরে আমি শুয়ে গেলাম।ও কপটা রাগ নিয়ে আবারো আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আমি বললাম,
:কি ব্যাপার ঘুমাবে না?
ও কিছু বলল না।কিছুক্ষণ পর
হুট করেই আমার কোলবালিশ টানতে শুরু করল।আমি বোকার মত ওর দিকে তাকিয়ে বললাম,
:অ্যাই! অ্যাই মিহিন। করছ কি? কোলবালিশ টানছ কেন? ও টানটানি ছেড়ে রাগি স্বরে বলল,
:তুমি কোলবালিশ নিয়ে শুয়ে আছ কেন?
:তো কি করব? এটাই তো আমার একমাত্র সম্বল।
:তো আমাকে নিয়ে আসছ কেন হুম?
:তোমাকেই তো এনেছিলাম কোলবালিশের পরিবর্তে।কিন্তু তুমি তো আর সেটা হচ্ছ না।তাই কোলবালিশই আমার সম্বল।
:সরাও এটা।আমি ঘুমাব।
:ঘুমাও না।পাশেই তো জায়গা আছে।
:না।আমি ওখানে ঘুমাব না।তোমার বুকে ঘুমাব।সরাও এই কোলবালিশ।
আমি কোলবালিশ সরিয়ে অতিব খুশি হয়ে বললাম,
:কি ব্যাপার বউ! আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছ বুঝি?
ও ঠোট বাঁকিয়ে বলল,
:হা হা হা।ক্ষমা? কাল সকাল থেকেই দেখবে ক্ষমা কাকে বলে।
আমি অসহায় হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।সুখের দিন শেষ। তেজপাতার দিন শুরু। কি আর করব।আমি মৃদু হেসে বললাম,
:সে দেখা যাবে। আস! ঘুমাও।
ও কোলবালিশটা নিচে ফেলে আমার বুকে এসে মাথা গুঁজল।অদ্ভুত শান্তির শিহরণ বয়ে গেল আমার হৃদয়ে। খুব ভালো লেগে উঠল।আমি জড়িয়ে ধরে বললাম
:একটা জিনিস চাইব। দিবা?
:কি? আবার চুমু খেতে মন চাইছে তাই না?আমি তখন তোমার চোখ দেখেই বুঝেছি। তোমার এখনও স্বাদ মিটে নি।:বুঝতেই যখন পারছ তখন...
ও আমার বুক থেকে মাথা উঁচিয়ে বলল,
:পাবে।এক শর্তে।
আমি কিছুটা বিব্রত হয়ে বললাম,
:আবার কিসের শর্ত?
:তোমাকে শপথ করতে হবে।
:কিসের জন্যে?
:কিছুক্ষন পরেই টের পাবে। কি প্রস্তুত?
আমি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বললাম,
:হুম।প্রস্তুত।
:বল,আমি।
:বল,আমি।
:তাসফি? একদম ফাজলামো করবা না।
:আচ্ছা ঠিক আছে।
:বল,আমি
:আমি
:আমার বউ থাকতে
:আমার বউ থাকতে
:অন্য কোন মেয়ের দিকে খারাপ নজরে
:এই ছি:ছি:আমি এত খারাপ না।
:সেটা আমি ভালো করেই জানি।যা বলতে বলছি বল।
:আচ্ছা।কি জানি বলছিলে?
:অন্য কোন মেয়ের দিকে খারাপ নজরে তাকাব না।
:অন্য কোন মেয়ের দিকে খারাপ নজরে তাকাব না।
:এবং তাদের বোনের চোখে দেখব।
:এই আমার আর বোন লাগবে না।যেটা আছে ওটার জ্বালায় বাঁচি না আবার...
:তাসফি?
:আচ্ছে ঠিক আছে বলছি।তাদের বোনের চোখে দেখব।
:এই তো গুড বয়।
:দাও! দাও! আমার আর তর সইছে না।
:কি দিব?
:সেকি ভুলে গেলে নাকি? মনে নেই কি বলেছিলে?
:আচ্ছা তুমি কি বোকা।
:অনেকটাই।
:তুমি কখনও দেখেছ ফল গাছ থেকে ফল আপনা আপনি কারো মুখে আসতে।গাছ কি এসে ফল দিয়ে যায়?
:না।পেড়ে খেতে হয়।
:তবে তাই কর না।পেড়েই খাও।যত খুশি তত। আজকে বাংলালিংক দামে পাবে।
আর কি লাগে।আফার যেহেতু আছেই হাত ছাড়া না করাই ভালো।কি বলেন।যত খুশি,তত বার।
,
বিয়ের ছয় মাস পেরুল।কিন্তু আমি আমার প্রিয় বন্ধু কোলবালিশটার কোন খোঁজ পেলাম না।কোথায় যে লুকিয়ে পেলল মেয়েটা।
ভুলত্রুটি মার্জনীয়
-তাসফি আহমদ।

গল্পটা কাল্পনিক হলেও পড়ে দেখেন ভালো
লাগলেও লাগতে পারে,,,,,
,
,
হোস্টেল এর পাশের বাসায় একটা ছেলে
থাকে
বোধহয়। তিথি প্রত্যেকদিন সকাল নয়টা
বাজতেই
শুনতে পায় "আম্মা আমি গেলাম"। গলা
ফাটিয়ে
কেউ একজন এই কথাটা বলছে। সাথে সাথেই
আরেকটা আওয়াজ "আরেকটু আগে উঠলে তো
একটু
নাস্তা করার সময় পাস। আর কত বিরক্ত করবি
আমাকে"। তিথির তখন কলেজ যাওয়ার সময়।
তাই
মা ছেলের বাকি কথোপকথন সে না শুনেই
কলেজ
এ যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়।
আবির প্রত্যেকদিন অফিসে যাওয়ার সময়
দেখে
কলেজ ড্রেস পড়া একটা কিউটি চুইংগাম এর
বেলুন
ফোলাতে ফোলাতে অপেক্ষা করে রিক্সার
জন্যে। অসম্ভব সুন্দর সেই মেয়েটা তিথি।
আবিরের সাথে প্রায়ই চোখাচোখি হয় তার।
একদিন আবির আর তিথি দুজনেই অপেক্ষা
করছে
রিক্সার জন্য । একটা রিক্সা দেখতেই আবীর
ডাক দিলো ডাক দিলো। আর কাছে আসতেই
তিথি লাফ দিয়ে উঠে গেলো রিক্সায়। আবীর
বললো"এটা কি হলো???" সাথে সাথেই উত্তর
এল
"দেখুন ভাইয়া কলেজ এ আমার ইয়ারচেঞ্জ
এক্সাম। সো আই কান্ট ওয়েট" এদিকে আবিরের
নতুন চাকরি। প্রায়শই তার লেট হয় ঘুমের
কারণে।
আজ অফিসে তার মিটিং। দেরি করে গেলে
রক্ষা নেই।
আবীর বলল "তুমি বাচ্চা মানুষ। দেরি করে
গেলেও চলবে তোমার। আমার অফিস আছে।"
বাচ্চা বলাতে বেশ রেগে গেলো তিথি। বলল
"আম এম নট এ কিড" মেয়েটার কথা শুনে বেশ
হাসি পেয়ে গেলো আবিরের। আবির
জিজ্ঞেস
করলো কলেজ কোথায় তিথির। তিথি উত্তর
দিলো। আবীর বললো তোমার কলেজ তো
সামনেই। এর চেয়ে আমি যাওয়ার সময়
তোমাকে
নামিয়ে দিয়ে যাবো কলেজে।" তিথি
দেখলো
আর কোন অপশন নেই তার কাছে। এক্সাম এর
টাইম
হয়ে গেছে। তিথি একটু সরে গিয়ে আবীরকে
বসার জায়গা দিলো। আবীর দেখলো মেয়েটি
একমনে চুইংগাম চিবিয়ে যাচ্ছে। কলেজ এর
সামনে আসতেই তিথি নেমে গেলো। আর
রিক্সাওলাকে জিজ্ঞেস করলো ভাড়া
কতো???
আবীর বলল রিক্সা সে ডেকেছে। তাই ভাড়া
সে
দেবে। তিথি আর কথা না বাড়িয়ে চলে
গেলো।
কলেজ থেকেআসার পর সেছাদে গেলো বৃষ্টি
তে
ভিজতে। এদিকে আবীরে মা ছাদে এসেছে
শুকনো কাপড় নিতে। তিথিকে ভিজতে দেখে
বললেন "মেয়ে ঘরে যাও। ঠান্ডা লাগবে"
তিথি
কিছু না বলে চুপচাপ চলে গেল। পরেরদিন
সকালে
আবার দেখা হলো আবীরে মায়ের সাথে।
কয়েকদিনেই তিথির বেশ ভাব হয়ে গেলো
আবিরের মায়ের সাথে। একদিন তিনি
তিথিকে
জোর করে নিয়ে গেলেন তার বাসায়। তিথি
আগে থেকেই জানতো এই বাসায় একটি ছেলে
থাকে। কিন্তু সেই আন্টির সাথে আবীরের ছবি
দেখে সে বেশ অবাক হলো। ছবির দিকে
তিথিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আবিরের মা
বললো "আমার ছেলে। গত বছর পড়াশোনা শেষ
করে একটা চাকুরি তে ঢুকল"।
এদিকে গল্প করতে করতে আবিরের মা জানতে
পারলেন বাবা-মা নেই তিথির। চাচার
সংসারেই মানুষ যদিও তার চাচী তাকে
একেবারেই পছন্দ করে না। কিন্তু চাচা খুব
আদর
করে। তিথিকে বিয়ে দিতে পারলেই যেন তার
শান্তি। কিন্তু তিনি যে সব ছেলের সাথে
তিথির বিয়ের কথা বলেন তাদের কারোরই
পড়াশোনা তেমন একটা নেই বললেই চলে।
আবীরের মায়ের কেমন যেন একটা অদ্ভুত মায়া
পড়ে গেলো মেয়েটার উপর। নিজের মেয়েকে
তিনি চাইলেও আদর করতে পারেন না।
আবিরের
একমাত্র বড় বোন তার স্বামীর সাথে কানাডা
থাকে। বছরে একবার আসে। তাই কেন যেন
তিনি
মনে মনে মেয়েটিকে নিজের মেয়ে বানিয়ে
রাখতে চাইলেন।
কথা শেষ করতে করতে আবীর চলে এল।
তিথিকে
দেখে সে তো অবাক। মুখ ফসকে জিজ্ঞেস
করে
ফেললো "মিস চুইংগাম, তুমি আমার বাসায় ???"
আবিরের মা বললো"ও তিথি। আমাদের বাসার
পাশের হোস্টেল এ থাকে।" তিথি সে দিনের
মত
চলে গেল। কিন্তু আবিরের মায়ের সাথে
সখ্যতা
তার দিন দিন বেড়েই চলেছে। রাস্তায়
কতগুলো
বখাটে ছেলে তিথিকে খুব বিতক্ত করতো।
আবিরদের এলাকারই। একদিন অফিস থেকে
ফেরার সময় আবির দেখলো ছেলেগুলো
তিথিকে
ঘিরে দাড়িয়ে আছে। আবীর রিক্সা থেকে
নেমে এগিয়ে গেলো। আবীরের পেছনে গিয়ে
দাড়াল তিথি। ভয়ের চোটে মনের অজান্তেই
খামচে ধরলো সে আবিরের শার্ট। আর
আবিরকে
দেখে ছেলেগুলো ভয় পেলো বললো"আবি র
ভাই
বুঝতে পারি নাই উনি আমাগো ভাবি। ভুল হইয়া
গেসে। মাফ কইরা দিয়েন" ছেলেগুলোর কথা
শুনে
তিথি বেশ অপ্রস্তুত হয়ে গেলো। সাথে
আবিরও।
বাইরে শোরগোল শুনেইআবিরের মা বাইরে
বেরিয়ে এলেন। তিথিকে দেখে তিনি বুঝলেন
মেয়েটা অনেক ভয় পেয়েছে।তিথি হোস্টেলএ
যেতে চাইলো কিন্তুআবিরের মা তাকে
বাসায়
নিয়ে গেলেন। তিথি আবিরের মাকে জড়িয়ে
কাদতে লাগলো। তিথির কান্না দেখে আবির
বললো "মিস চুইংগাম তো দেখি ভারী
ছিঁচকাঁদুনী " মায়ের চোখ রাঙানো দেখে
আবীর
থেমে গেলো।
তিথির হাত দুটো শক্ত করে ধরে তিনি বললেন
"থাকবি আমার বাসায় আমার ছেলের বউ
হয়ে???
রোজ শুধু আমার ঘুমকাতুরে ছেলেটাকে ঘুম
থেকে
জাগিয়ে দিলেই হবে। রোজ রোজ কলেজ
থেকে
ফিরে হোস্টেল এর জঘন্য খাবার আর খেতে
হবে
না" তিথির মনে হতে লাগলো সে যেন সে তার
মাকে খুজে পেয়েছে। তিথি মাথা নিচু করে
দাড়িয়ে রইলো। আবিরকে ডেকে তিনি
বললেন
"তিথির সাথে তোমার বিয়ে" মায়ের কথা
শুনে
আবির হা করে তাকিয়ে রইলো। "কিন্তু এই
বাচ্চামেয়েকে কিভাবে বিয়ে করবো
আম্মা???
আর আব্বা তো কিছু জানে না"
''তোর আব্বা তো সারাজীবন সংসারে রাষ্ট্র
পতির ভূমিকা পালন করলো। এইবারও তাই
করবেন। বলবেন দেখো ততোমার যা ভালো
মনে
হয় তাই করো। আমার মনে হইতেসে তোরে
বিয়ে
করানোর সময় হইসে" বলেই তিনি চলে গেলেন।
আবির মনে মনে বেশ খুশি। বিকেলেই তিথির
চাচাকে ফোন করে বাসায় আনলেন আবিরের
মা।
বললেন "দেখেন ভাইসাহেব মেয়েটা একা একা
হোস্টেলে থাকে। মেয়েটা আমাকে দিয়ে
দিন।
আমার ছেলের বউ করে রাখবো। এখানে
থেকেই ও
কলেজ এ যাবে। "খুশিতে চোখে পানি চলে এল
তিথির চাচার। হোস্টেল থেকে তিথির সব
জিনিসপত্র এনে রাখা হলো আবিরের রুম এ।
রাতেই বিয়ে হলো। আবির রুম এ এসে দেখলো
তিথি তার আলমারি,ল্যাপটপ রাখার টেবিল
সব
জায়গায় ভাগ বসিয়েছে। আবির বললো "মিস
চুইংগাম আজ থেকে মিসেস চুইংগাম "
এখন রোজ সকালে তিথি আবিরকে ডেকে
তোলে
ঘুম থেকে। কলেজ এ যাবার আগে শাশুড়ি কে
একটু
আধটু সাহায্য করে। আর আবির রোজ চুইংগাম
খাওয়া কলেজ ড্রেস পড়া একটি মেয়েকে
কলেজ এ
নামিয়ে দিয়ে অফিস এ যায়।
_ আকাশের চাঁদ
#taufiq