Monday, July 25, 2016

আমার দুই পাগলি

আমার দুই পাগলি

-এই উঠো উঠো বলছি?
-কি হল এত সকাল সকাল ডাকছ কেন?
-এখন সকাল কত বাজে খেয়াল আছে।।
-আরেকটু ঘুমাই তুমি ও ঘুমাও।
-মানে কি শুভ্র তোমাকে কিন্তু উঠতে বলেছি।
-আর একটু প্লিজ।
-তুমিও যেমন তোমার মেয়েটাও তেমন।
-কেন আমার মেয়ে আবার তোমার কি করল?
-তোমার মত অলস দেখ নাক ডেকে
ঘুমোচ্ছে।
-বাচ্চা মেয়ে ঘুমোচ্ছে ঘুমাক একটু ক্ষতি কি?
-ও বাচ্চা না?
-হুম আমার ছোট্ট পরী।
-ও হল ফাজিলের ডিব্বা।
-মোটেও না ও অনেক মিষ্টি।
-জান ও কেন ঘুমাচ্ছে এখন?
-কেন?
-সকালে উঠে দুষ্টুমি করছিল আমার পিছে পিছে
ঘুরছিল কয়েকবার এসে তোমার নাকটাও টিপে
দিয়ে গেছে তুমি তো ঘুমে বিভোর টের ও
পাওনি তোমার দুষ্টু মেয়ে কি করেছে।
-ও আমার লক্ষী মেয়ে।
-লক্ষী না কচু আমি যেই বলেছি তিন্নি পড়তে বস
অমনি বলে আম্মু পেটে ব্যাথা ঘুম আসতেছে।
-হা হা হা।
-হাসছ তুমি পেটে ব্যাথা হলে কারো ঘুম পায়
কখনো শুনেছ।
-বাচ্চা মেয়ে অজুহাত তো একটা দিতেই হবে।
-কচু একটুও বই পড়তে চায়না তোমার মত সারাক্ষন
শুধু এদিক ওদিক করে বেড়াবে।
-এই দেখ আমি আবার কি করলাম?
-কেন ভুলে গেছ অনার্স ভর্তি হয়ে সারাদিন ড্যাং
ড্যাং করে ঘুরে বেড়াতে কাজকর্মেও তো
সাহায্য করতেনা আব্বুকে সারাদিন মেয়েদের
পিছনে ঘুরাঘুরি।
-মোটেও না আমি একটা মেয়ের পিছনে ঘুরতাম।
-আরে সে তোমাকে পাত্তা দিতনা তাইতো?
-ধুর বাদ দাও তো ওসব আমি সব ভুলে গেছি
তোমাকে পেয়ে।
-আমিও তো ভুলে গেছি তোমাকে পেয়ে হি
হি হি।
-তিন্নি কোথায় এখন?
-ঘুমের ভান করে নাক ডাকছে যাতে আমি পড়তে
না বলি।
-আমার মেয়েটাও হয়েছে একটা পাগলী।
-তোমারই তো তুমি তো পাগল পাগলের
মেয়ে পাগলীই হবে।
-আচ্ছা মৌ শোননা?
-কি?
-তুমি এত কেন ভাল হলে?
-এই যে মিষ্টার জামাই এখন এত রোমান্টিক হতে
হবে না কাজ আছে হাতে গেলাম।
-এই মৌ শোন তুমি কিন্তু এখনো বললেনা তুমি
সবকিছু জেনেও আমাকে কেন এত ভালবাসলে
আমার সাথে ঘর বাধলে।
-তুমি জান না?
-নাহ সত্যিই জানি না।
-তা জানবে কেন তোমার সব ভালবাসা তো ওই
একটা মেয়েকে ঘিরে ছিল যে কিনা তোমাকে
পাত্তা দিতনা।
-এই মৌ আমি কিন্তু এখন তোমাকেই সবটুকু দিয়ে
ভালবাসি বিশ্বাস কর।
-আমিও তোমাকে সবটুকু দিয়ে বিশ্বাস করতাম
জানতাম তুমি একদিন আমার হবে তাইতো
তোমাকে এত ভালবাসি।
-সত্যি মৌ আমি হয়ত তোমাকে না পেলে
সারাজীবন অপূর্নই থেকে যেতাম।
-হইছে এবার ওঠেন দেখেন আপনার রাজকন্যা
উঠে কিনা।
-আরেকটু থাকিনা।
-উঠতে বলেছি কিন্তু...
-উঠছি তো.
-হি হি হি
-পাগলী।
-আর তুমি কি পাগল।
-হুম।
.
মৌটুসি ছোট্ট করে মৌ ডাকি আমার স্ত্রী।পাঁচবছর
আগে যে মেয়েটাকে পাত্তাই দিতাম না সেই
মেয়েটাই আজ আমার প্রিয় মানুষ।আগের আমি
আর এই আমি অনেক পার্থক্য।তখন সদ্য ইন্টার পাশ
করে ভার্সিটি ভর্তি হয়েছি।মৌ আমার স্কুল
জীবনের ফ্রেন্ড খুব ভাল বন্ধু।ও আমাকে
মনে মনে ভালবাসত আমি জানতাম না।ভার্সিটিতে
উঠেই একটা মেয়ের সাথে রিলেশন শিপে
জড়িয়ে পড়ি।ওটাকে কখনও প্রেম বলা যায় না কারন
মেয়েটা আমাকে ইচ্ছে মত ব্যাবহার করত আবার
দূরে ঠেলে দিত।তবুও আমি মেয়েটাকে
ছাড়তে পারতাম না কেন জানিনা ভালবেসে
ফেলেছিলাম।মৌ প্রথমত এসব জানত না।হুট করে
একদিন ওর ডায়েরী আমি পড়ে ফেলি যেহেতু
ওর বাসায় যেতাম আমি মাঝে মাঝে।লেখাগুলো
পড়ে চোখের কোনে অজান্তে পানি এসে
যায়।মেয়েটা সেই কবে থেকে আমাকে
মনে মনে ভাল বাসে কিন্তু মুখ ফুটে বলতে
পারেনি।মৌ কে জিজ্ঞাসা করলাম...
-মৌ তুই কি আমাকে ভালবাসিস।
-আমি কেন তোকে ভালবাসতে যাব আজিব।
-আমি কিন্তু তোর ডায়েরী পড়েছি।
-কেন পড়েছিস না বলে হাত দিলি কেন?
-আমার ইচ্ছা হল তাই তুই কি সত্যিই আমাকে ভালবাসিস?
-হ্যা।(মাথা নিচু করল)
-কেন করলি এমন ভুল?
-ভুল মানে তুই কি আমাকে ভালবাসিস না?
-আমি একজনকে ভালবাসি মৌ।
-আমার চোখের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকল।
-ভুলে যা মৌ।(বেরিয়ে আসলাম)
ভেবেছিলাম আমি একটা রিলেশনে আছি জানতে
পারলে হয়ত মৌ আমাকে নিয়ে আর ভাববে না ভালও
বাসবে না।কিন্তু হল তার উল্টোটা মৌ বেশি করে
কেয়ার নিতে শুরু করল।আমার সব ব্যাপারে এমনকি
ওই মেয়েটার সাথে আমার রিলেশন কেমন
চলছে সে ব্যাপারেও।যদিও মৌ আর আমি দুজন দুই
ভার্সিটিতে পড়তাম তবুও কেমন করে যেন সবকিছু
জেনে যেত।
মৌ মেয়েটা ভীষন নরম।এ যুগের সাথে বড্ড
বেমানান।বেমানান বলতে অল্পেতে কাঁদে।এত
অবহেলা করি তবুও বারবার ফিরে আসে।মৌ ইন্টার
পড়ার সময় থেকে টিউশনি করায়।ভীষন লক্ষী
একটা মেয়ে ওর আব্বুর পাশে দাড়াতে চায়।আমার
সাথে যখন যেখানে দেখা হবে চোখদুটো
ছল ছল করবে সব বিষয়ে জানতে চাইবে যদিও
আমি বিরক্ত বোধ করি তবুও শোনে।আমাকে
যে কোন অনুষ্ঠানে ছোট খাটো গিফ্ট দেয়
দিয়ে বোধহয় শান্তি পায় তাই আমিও না করিনা।
আমাকে একটা শার্ট দিল যেদিন সেদিন আমার
জন্মদিন ছিল যাকে ভালবাসতাম সে আমাকে উইশ
তো দূরের কথা একবার ফোন ও করেনি।কিন্তু মৌ
ঠিকই আমাকে ভোলেনি।আমি বুঝতাম আমি কেন
এত অবহেলার পরও ওই মেয়েটাকে ভালবাসতাম
আর মৌ কেন এত অবহেলার পর আমাকে ভালবাসত।
অনেক বুঝিয়েছি দেখ মৌ আমি তোকে কখনও
মানতে পারব না তবু সেই এক কথা তুই ছাড়া আর
কাউকে মনে জায়গা দিতে পারব না সাথে কান্না সত্যি
খুব বোরিং লাগত তখন মৌ এর জ্বালাতন গুলো।
কিছুদিন পর ওই মেয়েটি আমাকে সরাসরি স্যরি
বলে সব সম্পর্ক এখানে যেন শেষ হয় বলে
দেয়।সেদিন খুব কেঁদেছিলাম চারপাশটা শূন্য
লাগছিল।রুমে দরজা বন্ধ করেও কেঁদেছি আমি
তো মন থেকে ভালবাসতাম ওকে তাহলে কেন
আমার সাথে এমন হল।সেদিন সবাই দূরে চলে
গেলেও মৌ কিন্তু যায়নি।পাগলীটা কেঁদে কেঁদে
বলে আমাকে বিয়ে করবি শুভ্র তোকে
সারাজীবন ভালবাসব কখনও ছেড়ে যাব না দেখিস।
আমি অবাক হয়ে গেছিলাম মৌ কেমন করে পারে
সব ভুলে এতটা ভাল হতে।পাগলী বলে কিনা...
-আমাকে তোর বৌ বানাবি দেখিস সারাজীবন
তোকে ভালবাসব তোর পাশে থাকব।
-আমাকে আর পাপী করিস না মৌ।আমার সুখের
দিনগুলোতে তোকে অবহেলা করেছি এখন
দুঃখের সময়ে তোকে জড়াতে পারব না এটা
অন্যায় আমি তোকে ব্যাবহার করতে পারব না।
-ব্যাবহার বলছিস কেন পাগল তুই পারবিনা সবকিছু ভুলে
আমাকে ভালবাসতে?
-জানিনা মৌ আমাকে একটু কাঁদতে দিবি তোর কাঁধে
মাথা রেখে।
-হ্যা দিব তবে শুধু কিছুক্ষনের জন্য কারন যে
তোকে ভালবাসেনা তার জন্য কাঁদার কোন
প্রশ্নই ওঠেনা।
-তুই এত কেমন করে সহ্য করিস মৌ।
-তোকে জানতে হবেনা পারবিনা আমার হাতটা
ধরতে।
-জানিনা আমি বাঁচবনা আর।
-ছি শুভ্র এসব কথা মুখেও আনবি না।
সেদিন অনেক কষ্ট হয়েছিল ভেবে ভেবে
মেয়েটা কেন ঠকাল আমাকে।ওর জন্য কিনা এমন
একজনকে অবহেলা করলাম যে আমাকে নিজের
থেকেও বেশি ভালবাসে।তবে বেশিদিন কাঁদতে
হয়নি মৌ বোধহয় যাদু জানে।কেমন করে সব
ভুলিয়ে কখন যে আমার মনে ওর জন্য ভালবাসার
বীজ বপন করে দিল বুঝিনি।সত্যিই মৌ আমাকে
ভালবাসতে বাধ্য করেছিল।আমার জীবনটাও বদলে
গেল।পারিবারিক অনুমতিতেই মৌ কে বিয়ে করি।
আমাদের বিয়ের বয়স এই পাঁচবছর আটমাস।
দেখতে দেখতে অনেকগুলো দিন কেটে
গেল।তবুও মৌ যেন আমাকে আরও নতুন করে
ভালবাসে। মুগ্ধ হয়ে যাই ওকে দেখে।এতটা
ভালবাসা আমার কপালে লেখা ছিল সত্যিই আমি
অনেক ভাগ্যবান।মৌ আর আমার মাঝে এসেছে
ছোট্ট তিন্নি।ওকে ঘিরেই আমাদের সব ইচ্ছে
গুলো এখন সাজানো।ভীষন দুষ্টু হয়েছে
মেয়েটা।
.
-এই শুভ্র কি ভাবছ এত?(মৌ ডাক দিল ধ্যান ছেড়ে
বাস্তবে ফিরলাম)
-কিছু না তো।
-বললে হল কিছু তো ভাবছিলে বল?
-হ্যা তোমার পাগলামী আমাকে ভালবাসতে কতটা
তাই ভাবছিলাম।
-ভালবাসতাম মানে এখন বুঝি বাসি না।
-হ্যা বাস তো।
-তাহলে বললে কেন?
-আরে পাগলী ওটা কথার কথা।
-হুম।এই শোন তিন্নিকে বই নিয়ে পড়াতেই
পারছিনা দেখ না তুমি কিছু বল।
-আমি কি বলব বল?
-একটু ধমক দাও।
-আমি পারব না।
-কেন তুমি না ওর বাবা তোমার কথা নিশ্চয়ই শুনবে।
-শুনবে কিন্তু পরে রাগ করে কতদিন যে কথা
বলবেনা তুমি জান তখন কি হবে।
-তুমি দাও তো কিছু হবেনা।
-এই দাড়াও দাড়াও তুমি না বাচ্চা পড়াতে এখন নিজেরটা
পার না কেন শুনি?
-নিজেরটা তো মহা ফাজিল যাদের পড়াতাম তারা তো
এত দুষ্টু ছিলনা।
-হা হা হা হা।
-আম্মু আম্মু তুমি কাদের পড়াতে?(মা আমার
এসেছে গুটি গুটি পায়ে)
-তোমার মত পুচকিদের পড়াত।(বলেই কোলে
তুলে নিলাম)
-হু আমি পুচকি না বুড়ি।
-ওলে বাবালে তাই তো তুমি পড় না কেন শুনি
আম্মু কিন্তু বকা দিবে।
-বললেই হল আমি পড়ব না পড়াব।
-এ মা কাকে পড়াবে তুমি?(মৌ)
-তোমাকে হি হি হি।
ছোট ছোট দাঁতগুলো বের করে হাসছে
পাগলীটা।আমরাও সাথে যোগ দিলাম।মৌ আমার
হাতে হাত রেখেছে।চোখে চোখ পড়তেই
টিপ্পুনি দিল।এ মা মা মেয়ে দুটোই তো দেখি
ফাজিলের ডিব্বা।।।।।
.
.
লিখা:অন্তহীন শ্রাবন

saw your love with your eye of love

saw your love with your eye of love

সে যখন চোখ বন্ধ করে থাকবে তুমি তখন
তার দিকে তাকাবে। যখন সে চুপ করে বসে
থাকবে তুমি কান খাড়া করে কিছু শোনার
চেষ্টা করবে। সোজা কথা, তোমাকে তার
অন্তরের সুরঙ্গপথে প্রবেশ করতে হবে।
কাজটি কঠিন। গুগল ম্যাপে অন্তরের কোন
মানচিত্র নেই।
একটা মানুষ বাইরে থেকে কতটা ভাল কাজ
করছে, কতটা সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলছে,
দেখা মাত্রই চট করে মানুষটাকে
আইডেন্টিটি করবে না। প্রতারকরা সব
সময়ই মিষ্টিভাষী হয়। গোলাপ ফুল দিয়ে
কাছে এনে জোর করে কনডম লাগানোর
ইতিহাস লাখ লাখ।
আইরিশ নাট্যকার জর্জ বার্নার্ডশ এর
বাসায় এসে এক মহিলা অবাক হয়ে বললেন
''আপনার ঘরে দেখছি একটাও ফুলদানি নেই।
আমি ভেবেছিলাম, আপনি এত বড় একজন
লেখক; আপনি নিশ্চয়ই ফুল ভালোবাসেন।
তাই আপনার বাসায় ফুলদানিতে বাগানের
তাজা, সুন্দর ফুল শোভা পাবে।’
বার্নার্ডশ এর জবাব ছিল '‘ আমি বাচ্চা
ছেলেমেয়েদেরকেও ভালোবাসি। তার অর্থ
এই নয় যে, আমি তাদের মাথা কেটে নিয়ে
এসে ঘরে সাজিয়ে রাখব।''
পার্থক্যটা এখানেই...
যে মানুষ পয়সা খরচ করে তাজা ফুল এনে
ঘরের ফুলদানিতে রেখে পাপড়ির বিন্দু
থেকে প্রতিটি ঘ্রাণ শুকে শুকে উপভোগ
করে ; সে ভালোবাসে ফুলের দেহ এবং
বার্নার্ডশ ভালোবাসে অন্তর !
সারা পৃথিবী চলছে এই দেহ তত্বে।
কোম্পানির মালিক যখন প্রোডাক্ট এর মান
যাই হোক না কেন উপরের আবরণটা
আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যস্ত থাকে; তখনও
আমি আতংক বোধ করি না। প্রোডাক্টের
উপর রাগ করে কী হবে ? মানুষ গুলো সব একে
একে প্রোডাক্ট হয়ে যাচ্ছে !! উপর দিয়ে
পরিপাটি। ভেতরে চার গিট্রূ।
ছেলেরা সাধারণত ভুল মেয়েদের ফাঁদে
পড়ে। দুদিন পর যার সৌন্দর্য ধুয়ে পানি
খেতেও ইচ্ছে করে না। মেয়েরা সাধারণত
ভুল পুরুষের প্রেমে পড়ে। যে তাকে বীর্য
ছাড়া আর কিছুই দিতে পারে না।

লেখাটি লিখেছেনঃ- Zunayed Evan

power of crying powered by boys

power of crying powered by boys

"পৃথিবীর একটা অন্যতম দুর্লভ ক্ষমতা মনে
হয় নিঃশব্দে কাঁদা ... সবাই ওটা
পারে না ... শুধুমাত্র ছেলেরাই
নিঃশব্দে কাঁদতে পারে ... খুব
ভালোভাবেই কাঁদতে পারে !!
ফোনের ঐ পাশে ছেলেটা যে
কাঁদছে, সেটা একটা মেয়ের বুঝার
সাধ্য নেই ... কন্ঠটা খুব স্বাভাবিক
রেখে সে খুব গোপনে অশ্রু ঝরাতে
পারে ... বোকা মেয়েটা মাঝে
মাঝে সন্দিহানভাবে জিজ্ঞেস
করেঃ
"তুমি কি কাঁদছো ??"
ছেলেটা একটা ঢোক গিলে আস্তে
করে বলেঃ
"কই ?? না তো !!"
বোকা মেয়েটা চোখ বুজে কথাটা
বিশ্বাস করে ফেলে !!
শুধুমাত্র এই একটা সময়েই ছেলেটা চায়,
মেয়েটা তার কথাটা বিশ্বাস না করুক
... দাঁতে দাঁত চেপে আরেক ফোঁটা অশ্রু
ঝরিয়ে সে খুব করে চায় মেয়েটা সব
বুঝে ফেলুক আর তাকে জিজ্ঞেস করুকঃ
"মিথ্যে বললে কেন ??"
সময় গড়ায় ... অশ্রু গড়ায় ... মেয়েটা
বোঝে না ... নিঃশব্দে কাঁদার ক্ষমতা
কিংবা নিঃশব্দ কান্না বোঝার
ক্ষমতা - কোনটাই মেয়েদের নেই !!"

Sunday, July 24, 2016

ছোট্ট এক পরীর গল্প

ছোট্ট এক পরীর গল্প,
.
.
ছোট্ট বেলায় যখন ঘুমাতাম নাহ তখন আম্মু
পাশে শুয়ে
পরীদের গল্প শোনাতো আর পরীদের বর্ণনা
দিত।মনে
মনে তখন পরী দেখার নেশা জাগতো আর
আন্দলন হত
আমার অন্তরে।মাঝে মাঝে হঠাত করেই
ছাদে চলে
যেতাম পরী দেখতে বা ঘুমের ঘোরে পরীর
রাজ্যে।কিন্তু
বুঝতাম নাহ যে পরীরা মাটিতে নয়
আকাশে তাদের
বিচরণ।
.
সেদিনের সেই আম্মুর কথা সত্যি না হলেও
আজকে আমার
চোখে দেখা পরীটা সত্যিই।এই মুহুর্তে
আমার দুই হাতের
মাঝে ছোট্ট একটা পরী।সদ্য জন্ম নেওয়া
পরী।এখন
আম্মুকে ডেকে বলতে ইচ্ছে করছে,
--দেখো আম্মু,পরী খুজতে আমাকে পরীদের
দেশে
যাওয়া লাগেনি।আল্লাহ আমাকে সত্যিই
পরী দিয়েছে।
এক পরী থেকে আর এক পরী জন্ম নিয়েছে।
এক পরী আমার
সামনে বেডে শোয়া আর এক পরী আমার
বাহুবন্ধনে
আবদ্ধ।
.
ছোট ছোট আর গুলু গুলু আংগুল সাথে
নাদুসনুদুস শরির
আমার পরীটার।এত্ত কিউট হইছে আমার
পরীটা তা বলে
বোঝানো যাবেনা।একদম ওর মায়ের মত।
এখন আমার ঘরে
দুইটা পরী,দুইটা পরীর রাজত্ব।
.
আমার পরীর হাত আর পায়ের নখ গুলা খুব
ছোট ছোট আর
মাথাই সেতো কোঁকড়ানো চুল।পরীর নাকটা
দেখতে একদম
আমার আম্মুর মত হইছে।
.
যখন আমার আম্মু আমার ছোট্ট পরীটাকে
দেখল তখন তো
আমাকে বলেই ফেলল,
--হ্যা রে রনি,তোর ছোট্ট পরীটাকে দেখে
যে তোর
আব্বু আমার দিকে তাকাবেই নাহ।
.
আব্বু তখন মুচকি হেসে বলল,
--আসলে ভাংগা রেডিও দিয়ে আর কতদিন?
এখন নতুন
রেডিও বাজবে আমার মনে।
.
আব্বুর মুখে এমন কথা শুনে আম্মু গোমড়া মুখ
করে বলল,
--আমাকে তো আর ভাল লাগবেই নাহ।
আমিতো আর পরী
নাহ।
.
মান অভিমান নিয়ে আম্মু আর আব্বু রুমের
বাইরে চলে
গেল।আর যাই হোক ছেলে আর ছেলে বউয়ের
সামনে তো
আর মান অভিমান ভাংগানো যাইনা তাই
আম্মু জানে
বাইরে গেলেই আব্বু তার মান অভিমান
ভাংগাবে।
.
ছোট্ট পরীকে কোলের মধ্যে নিয়ে বড়
পরীটার পাশে
বসলাম।পাশে বসতেই সে বলল,
--ছোট্ট পরীকে পেয়ে বউপরীকে ভুলে
গেলে?
.
আমি হালকা হাসি দিয়ে আমার
বউপরীটার কপালে
একটা আলতো করে চুমু খেলাম।কিছু সময় এর
জন্যে
হসপিটালের এই
রুমটা আনন্দে আর হাসিতে ভরে
উঠল।কারোর দাদু দাদি হওয়ার
আনন্দ,কারোর প্রসবের যন্ত্রনার কস্ট
বেদনা
আর আমার বাবা হওয়ার আনন্দটা,সব
মিলিয়ে পরিবেশটা জীবনের
একটা স্মৃতি হয়ে ফ্রেমে বাধা
হয়ে গেল।আমার কথা শুনে আমার
ছোট্ট পরীটা ফিক করে হেসে
দিল।যদিও কেও দেখেনি আমি
ছাড়া।বাবা মেয়ের এই হাসির
খেলা কেও না দেখলেও দেখছে
যে অন্তরজামী।
.
Muhaimenul Rony(Unknown Fellings)

এটাই তো ভালবাসা

এটাই তো ভালবাসা

আমরা দু জন দু জনকে ভালোবাসি। অনেক
ভালোবাসি কিনা বলতে পারবো না কারন অনেক
বললে তো একটা লিমিটেশন চলে অাসে, আমরা
আসলে ইনফিনিটিভ ভালোবাসি! ভালোবাসাটা যদি
লিমিটেড করে নেই তবে তো স্থায়িত্ব টাও
লিমিটেড হয়ে যাবে। আমরা তো নিজেদের
একাল আর ওকালের বাধনে বেঁধে নিয়েছি।
.
ভাবছেন আমাদের ভালোবাসাটা অনেক সুন্দর নাহ?
মোটেও না, আমরা ভিষণ রকম ঝগড়াটে। দিনে
মিনিমাম ৬/৭ বার ঝগড়া করাটা অভ্যাস। সবাই আমাদের
বলে এ সম্পর্ক টা টিকবেনা। জানেন, যারা বলে
তাদের অনেকের সম্পর্ক টিকে নেই কিন্তু
আমাদের এই ঝগড়াটে সম্পর্কটা এখনো মাথা উচু
করে টিকে আছে। খুব বিশ্বাস রাখি মাথা উচু করেই
বীরদর্পে টিকে থাকবে অনন্তকাল।
.
সবাই বলেনা অতীত নিয়ে আমরা কথা বলবো না।
আমরা কিন্তু এমন নাহ। আমাদের কথা বলার সময়টার
অনেকটা জুড়েই অতীত থাকে। আপনারাই
বলেন তো অতীত না জানলে দু জন দু জনকে
বুঝবো কি করে? আমরা দুজনেই অতীতের
গল্প বলি তারপর অভিমান করে বলি 'তুই কেনো
আগে আসলিনা, তুই থাকলে কি আমার কষ্ট পেতে
হতো?'। আর অন্যজন চোখে জল নিয়ে
অনুশোচনা করতে থাকি কেনো আমি আসলাম না
আগে। তবে তো তাকে কষ্ট পেতে হতো
না। আমরা দু জন মিলেই দু জনের ভালো থাকাটা
নিশ্চিত করতে চাই। হাজার টা কষ্ট, অতৃপ্তি বুকে
নিয়েও অনেক দাপটের সাথে আমরা বলতে পারি
ভালোবাসি শব্দটা।
.
জানেন, আমরা অনেক ঝগড়ার পর যখন ফোনটা
রেখে দেই তখন বলি 'তুই খেয়েনিস'।
ফোনের অন্য পাশ থেকেও বলে ' তুইও
খেয়েনিস'। তারপর বলি খাওয়া শেষে মেসেজ
দিবি। তুই মেসেজ দিলে আমি খাবো। তারপর
আবার ঝগড়া কে আগে খাবে। পরে দুজন যখন
একসাথে খেতে বসি মনে হয় পাশাপাশি বসে
খাচ্ছি। একজন অন্য জনকে খাইয়ে দিচ্ছি। অনেক
দূরে থেকেও অনেক কাছে আমরা...!
.
এসব যখন লিখছি তখন পাগলটা ভিষণ অভিমান করে
আছে আমার উপর। একটু অসুস্থ আমি, ডাক্তারের
কাছে যাওয়ার কথা ছিলো যাইনি তাই... ফোন
ধরছেনা। তার ছোট বোনকে ফোন দিয়ে
ছিলাম। সে নাকি কিশোর কুমারের একটা গানের এই
লাইনটা রিপিট দিয়ে বারবার শুনছে
"ওপারের ডাক যদি আসে শেষ খেয়া হয় পাড়ি
দিতে, মরণ তোমায় কোনদিনও পারবেনা কভু
কেড়ে নিতে"। এতো ভিতু পাগলটা...।
.
শোন না প্রিয়, আমাকে মরণও তোর থেকে
কেড়ে নিতে পারবেনা। বিধাতাই তোর
ভালোবাসাকে হারতে দিবেনা। শোন গল্পটা
পড়ে কিন্তু তুই হাসবি, আমাকে ফোন দিবি...
-
লিখাঃ প্রিয়ন্তী পূর্ণতা
উৎসর্গঃ আমার পাগলাটারে...