Friday, September 8, 2017

গল্প: লক্ষী বউ

গল্প: লক্ষী বউ

লেখক:Riyad Ahmed Shihab♦♦♦♦♦

ভোর ৬টা
ঘুমিয়ে আছি.... হঠাৎ শিতল ঠোটের স্পর্শে দেহের শিরা উপশিরা গুলো কম্পিত হতে লাগল,চোখ খুললাম!
দেখি আমার পরিটা মুচকি মুচকি হাসছে
(ভালবাসার মানুষগুলোর ছোয়ার মাঝে এক ধরনের অদ্ভত.... ভাললাগা বিরাজমান!যা কারও কাছে ইলেকট্রিক সর্ট আবার কারও কাছে সাগরের অতলের মত )
.
-- এই ওঠো! অনেক সকাল হয়ছে!
-- হুম(ঘুমিয়েই)
--হুম না ওঠো!
--যাচ্ছ কোথায়? একটু বুকে আসোনা গো!
-- আহা... কি করছো? সবসময় দুষ্টমি করতে হয়! ?
আমার মাথার চুলগুলো এলোমেলো করে দিলো...
--হুম! আর সেটা তোমার সাথেই!
--এই এখন ছাড়ো... ফ্রেশ হয়ে এসো! যাও
-- যাচ্ছি তার আগে একটু আসো তো
এইবলেই আমার পরীটাকে বুকে জড়িয়ে নিলাম, খুব শক্ত করে
ওর ভেজা চুল,চুলগুলো থেকে এক ধরনের অদ্ভুত ঘ্রাণ বের হচ্ছে! যা ঘরটিকে মাতিয়ে তুলছে!
.
--এই এখনতো ছাড়ো।
-- আরেকটু প্লীজ।!!!!!!
--নাহ ছাড়ো!
আমি এবার আরও শক্ত করে ওর দুহাত চেপে ধরলাম!
তারপর নাকের ডগাটা ওর নাকের সাথে ঘসা দিলাম.....
ও আমার বুকের ওপর কয়েকটা কিল ঘুসি মেরে পালালো!
আর যাবার সময় জিব্বাহ কেলিয়ে গেল..... মনে হচ্ছে আমাকে পরে দেখে নিবে!
.
ফ্রেশ হয়ে... দেখি বউ রান্না ঘরে...
মেয়েটি...ছাপা শাড়ি পরে আছে, আচলটা কোমরে গোজা! চুল গুলো খোলা অবস্থায় মাথার সাথে ছোট করে আটকে রাখা! দেখতে তো সেই লাগছে! নাহ আর থাকা যায়না!
.
আস্তে আস্তে গিয়ে পেছন থেকে ওরে যাপটে ধরলাম...
--হুহুহুহু! আবার শুরু করলে?
-- হুম আসলে তোমাকে খুব সুন্দর লাগছেতো তাই আর লোভ সামলাতে পারলাম নাহ! হিহিহি
--ও তাই?
--হুম ঠিক তাই!
--ওওও তাহলে এখন ছাড়ো! রুটি পুরে যাবেতো
এই বলেই আমাকে চিমটি কাটলো!
.
আমি হাল ছেড়ে দিয়ে... রুমে চলে আসলাম!
.
কিছুক্ষণপর
-- এই খেয়ে নাও খাবার রেডি!(চিল্লানি দিয়ে )
--আসতেছি
তারাতাড়ি আসো?
.
এসে দেখি পরিটা খাবার নিয়ে বসে আছে!
--তুমি বস! আমি আসছি!
--কোথায় যাচ্ছ আবার?
ওর হাতটা ধরলাম
-- তুমি শুরু করো! আমি এই যাবো আর আসবো!
--নাহ! একসাথে খাবো!
-- ওকে বাবা আসতেছি...পাগল একটা
এবলেই আমার খাড়া নাকটা বোচা করে দিল!
.
.
চোখাচোখি বসে আছি..দুজনে
-- এই পরি খাইয়ে দাওনা?
-- নিজে খেতে পারোনা? দিন দিন কি আরও ছোট হয়ে যাচ্ছ যে খাইয়ে দিতে হবে?
--নাহ পারছিনা! তুমি খাইয়ে দাও!
--পারবনা!
--ওকে! তুমি না খাইয়ে দিলে আজ খাবোইনা!(অভিমানী সুরে)
--অমনি হয়ে গেল তাইনা
---...............
...
এখন ও আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে!আহ হাহা বউয়ের হাতে খাওয়ার মজাই আলাদা!
(
মাঝে মাঝে রাগ থেকে যদি হয় দারুন কিছু তো রাগই ভাল!)
.
--বাহ দারুন হয়ছে
--সত্যি(মন ভুলানো হাসি দিয়ে)
--হুম
প্রত্যেকটি মেয়েই চায় কিনা জানিনা... হয়তো চায়, যে তার সকল কিছুর প্রশংসা করুক, তাও আবার তার ভালবাসার মানুষটি!
.
এক টুকরো রুটি ছিড়ে....
--এই পরি হা করো
-- আগে তুমি খাওতো তারপর আমি খাচ্ছি!
--নাহ..! হা কর প্লিজ!
--ওকে...
ও আমার হাতটি ধরে... গলগদ্ধকরন করল!
--এই পাগলি কাদছো কেন হুম!?
--ও কিছুনা! এমনিতেই চোখে পানি এসে গেল!
-- দেখি...
ওর চোখের জল গুলো মুছে দিলাম... জানি এই জলটার মূল্য কতখানি! মাঝে মাঝে এই জলই তো বলে নিরবে প্রকাশ করে... ভালবাসি কতটুকু, ভালাবাসা যায়!
.
এরপর ওকেবুকে টেনে নিলাম........
.
এসময় একটা কথায় মনে পরছে....
ভালবাসা ভালবাসে শুধুই তাকে
ভালবেসে ভালবাসায় বেঁধে যে রাখে!(রিয়াদ)

গল্প :- পাগলির পাগলামি

গল্প :- পাগলির পাগলামি
,
,
,
-এই তুই উঠবি নাকি
এক বালতি গরম গরম পানি
ঢালব হা
- এই না না
কি বলিস তুই
মাথা ঠিক আছে তোর
-না নাইই
থাম ঢালছি গরম পানি
-এই না না
এইত উঠে পড়ছি আমি
-হুম দেখতেই পাচ্ছি আমি
যা এখন ফ্রেশ হয়ে টেবিলে
আয়। আমি
নাস্তা রেডি করছি
,,,,,,,
,,,,
উফফফ আল্লাহ রহম কর আমাকে
এই পাগলিটা হাত থেকে
এই হচ্ছে আমার পাগলি যাকে আমি অনেক ভালবাসি কিন্তু ভয়ে বলতে পারি না। একদম গুন্ডি টাইপসের।
দেখলেনি তো মানুষ ঠান্ডা পানি ঢালে
কিন্তু এই পাগলি এই গরমে আমার উপড়
নাকি ঢালবে গরম পানি
ওহ আমাদের পরিচয়টা তো আপনাদের
বলাই হয় নি,,,,,
আমি আকাশ লেখা পড়া শেষ এখন একটা প্রাইভেট কোম্পানি তে জব করছি
আর আমার পাগলি আরাধনা
পড়ছে দিনাজপুর
হাজী দানেশে অনার্স ফাস্ট ইয়ারে
,,,,,,
আপনাদের সাথে অনেক কথা বলা হইছে
এখন ফ্রেস হয়ে নাস্তা খাইতে যাই
নাহলে আবার পাগলির
পাগলামি শুরু হবে
,,,,,,,,,
টেবিলে বসে নাস্তা খাচ্চি এমন সময় আমার মায়ের আগমন
-কিরে তুই এত তাড়াতাড়ি আজ
উঠলি যে ঘুম থেকে(মা)
-না উঠে কি কোনো উপায় আছে
অই মহিলাটা যে তান্ডব চালাচ্ছিল
সকালে আমার উপর
-অইইইই তুই আমাকে মহিলা
বললি কেন(আরাধনা)
-তো কি বুড়ি বলব নাকি
তোকে বুড়ি বলতে আমার
কোনো আপত্তি নেই
বয়স তো তোর আর কম হল না
-আন্টি দেখ তোমার ছেলে আমাকে
কি কি সব বলছে
-তোরা যে কিনা
তোদের এই সব ঝামেলায় আমি নেই(মা)
-এই শুন কুত্তি আমি কিন্তু তোর
থেকে বড় সো রিস্পেক্ট দিয়ে
কথা বলবি বুজলি (আমি)
-যা বে যা তুই তো বুইড়া বেডা।
যা যা অফিস যা
(মুখ ভেংচি কেটে আমাকে বল্ল কথাটা)
-হুম হুম যাচ্ছি যাচ্ছি। ভাগ তুই সামনে থেকে,,,,,
,
,কিছুক্ষণ পর অফিসের কাজের ফাকে
ভাবতে লাগলাম আমাদের ছোট বেলার কথা গুলি,,,,
আমি ওর থেকে বড় হওয়ার পরও
আমারা ছোট থেকে পাশাপাশি বাসায়
থাকায় একসাথেই খেলতাম সবসময়।
আর আমার কোনো বোন না থাকায়
আমার বাবা মা ওকে আমার থেকেও বেশি ভালবাসে।
আর ওর ও কোনো ভাই না থাকায়
ওর মা বাবাও আমাকে অনেক ভালবাসে,,,,
,,,,
যাক অফিসের সব কাজ শেষ
এখন একটু বাসায় যাওয়ার পর ওদের বাসায় যাব
বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ওদের বাসায় গেলাম ওদের বাসায়।
ওই পাগলি রুমে ঢুকেই দেখি
পাগলিটা ওর বেডে শুয়ে পা
দূটো দেয়ালের উপর দিয়ে শুয়ে শুয়ে
চিপস খাচ্ছে
পাগল মেয়ে একটা এই বুড়ি বয়সেও চিপস খায়
,,,,
-অই বুড়ি কি করিস রে(আমি)
-রক্ত খাব তোর এখন
-এই মেয়ে বলে কি এই সব
-দে না খাই একটু রক্ত
-ভাগ শাকচুন্নি
-তুই ভাগ, এটা আমার রুম বুজলি
-এহহ ফুটানিতে বাচে না মহারানী
আচ্ছা শুন
-কি বল
-তোর স্টাডি শেষ হলেই আমারা বিয়ে করব বুজলি
-আমরা মানে কারা
মানে কোন দজ্জালনীকে করবি
বিয়ে তুই।
-আমার সামনে একটা বান্দরনি
আছে যে ওর সাথে
-কিহহহহহহহহ(চিৎকার করে)
-অই চিল্লাইস কেন
-তো কি করব।
তোর মত কুত্তা কে আমি করব না বিয়ে
-না করলে নাই
-কি বললি
-না মানে কাউকে না
কাউকে করতেই হবে বিয়ে তাই না
-ওহ হুম
বাট শুন বিয়েটা আমাকেই করিস
কেমন বাবু
-তাই নাকি
তুই না বললি করবি না
আমাকে
-আমার অত্যাচার তুই ছাড়া
আর কেউ ঝেলতেও পারবে না
সেটা আমি জানি।
-এই প্রথম তুই একটা সত্যি কথা
বললি তুই
-যা তো ভাগ যা মেজাজ টা খারাপ করাইস নাহ আমার
-আচ্ছা যাই আমাদের বিয়ের ব্যাবস্থা টা করে আসি
-আচ্ছা ওগির আব্বু যাও
-এই মেয়ে বলে কি
-হুম হুম আমাদের ছেলের নাম রাখব ওগি
আর বাবুর খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো, ডায়পার চেঞ্জ করা
থেকে শুরু করে সব কাজ
তুই করবি
,,,,,,
,
,
দেখলেন তো কত্ত বড় পাগল
এই মহিলা। খালি তো বিয়ের
কথা বললাম আর তাতেই বাচ্চার ও নাম ঠিক করে নিল।
এখনও তো প্রপোসও করি নি
প্রোপোস করলে যে কি তান্ডব শুরু করবে আল্লাহ ই জানেন.
না থাক এখন আর প্রোপোস করব না
একদম বাসর রাতে করব.
,,,,
এখন বাসায় যাই,
বাসায় গিয়ে আব্বু আম্মুকে
আমার আর বিয়ের প্রস্তাবটাও দিতে হবে
,
,
-মা মা কই তুমি (আমি)
-কিরে এত চিল্লাইস কেন?(মা)
-শুন না আমার পেয়ারি মা
-বল তো কি হইসে
-বলছিলাম যে আমি না
প্রেম করব একটা মেয়ে খুজে
দাও তো
-আরে বাবু তোর কি
আর প্রেম করার বয়স আছে
নাকি রে
-ওমা তুমি কি বল এই সব।
আমি তো ছোট বাবু
-এই যে ছোট বাবু তোর
বিয়ের বয়স তো হয়ে
গেল রে. জলদি জলদি
একটা বউ মা নিয়ে আয়
নাহলে আর দু দিন পর
আর বৌ পাবি না
তুই বাবু।-তো বাসায় একটা বৌ মা আনলেই পারো
তোমার জন্য
-এই হারামজাদা লজ্জা
লাগে না নিজের বিয়ের কথা নিজে বলতে
-তোমারা তো বিয়ে দাও না তো আমি কি করব বল
-যা তো এখন আমাকে
কাজ করতে দে
,,,,,,
,
বিকেল বেলা খুব গভীর ঘুমে
মগ্ন ছিলাম
হঠাত আম্মুর ডাকে ঘুম ভাংল
,,,,
-এই হারামজাদা তারাতারি
রেডি হয়ে নে
-কেন কি হইসে
-বিয়ে তে যাব চল
-কার বিয়ে?
-ওটা তোর না শুনলেও চলবে
যা ফ্রেশ হয়ে এই পাঞ্জাবিটা
পড়ে আয়
-উফফ কি অত্যাচার
-কথা কম বল
*
*
*
কিছুক্ষণ পর রেডি হয়ে এলাম। রুম থেকে বের হয়ে দেখি আম্মু আব্বু আর আরাধনার বাবা -মা বসে কি জানি বকবক করছে
*
*
*
একটু পর দেখি আরাধনা টুকটুকে নীল রঙের বেনারসি
শারি পড়ে সুন্দর করে সেজেছে
আমি তো দেখে পুরাই থ হয়ে গেলাম, যা সুন্দর লাগছিল ওকে, এক কথায় ডানাকাটা পরি,
কিন্তু সবাই সামনে থাকার কারণে কিছু ওকে মুখ
ফুটে বলতে পারলাম না।
কিন্তু ও বৌদের মত
সেজেছে কেন?
তার মানে আজ কি ওর বিয়ে?
কিন্তু কার সাথে?
,,নাহ আমি ওকে কারো হতে দিব না,,, ও শুধু আমার,,
,
-কি রে তুই মুখটা এমন কেন বানিয়েছিস, মনে তো হচ্ছে
কারো খুন করে ফেলবি(আরাধনা)
-হুম করব তো।
তুই বৌ কেন সেজেছিস
কার সাথে তো বিয়ে হা?
তুই শুধু আমার বুজলি
তোরে আমি কারো হতে দিব
নাহ। তুই জানিস না
আমি তোকে কতটা ভালবাসি। তোকে ছাড়া
আমি কি ভাবে থাকব তুই বল
--এহেম এহেম,,,,, এখানে আমরাও আছি। তোরা কি ভুলে গিয়েছিস সেটা (মা)
-(দিলাম জিব্বায় একটা কামড়।আমি তো রাগের মাথায় সব ভুলেই গিয়েছিলাম। ছি ছি কি লজ্জা আমার)
-আরে কাজী সাহেব এত দেরী হল কেন আসতে( বাবা)
,,,,,
এই সব ক হচ্ছে, সাথে সাথে দেখি সব মেহমানরাও চলে আসছে। আমার মাথায় তো কিছুই ঢুকছে না
.

-কিরে হাবার মত দাড়ায়ে আছিস কেন?
আজ তোর আর আরাধনার বিয়ে(মা)
-আরাধনার দিকে তাকিয়ে দেখি ও মিটিমিটি হাসছে
তার মানে ও সব কিছু জানত,
কুত্তিটা রে,
*
*
*
বিয়েটা হয়েই গেল শেষমেশ আমাদের। ভাবতেই পারি নি এই ভাবে বিয়েটা হবে আমাদের।
রুমে ঢুকতেই দেখি পাগলিটা
ইয়া বড় ঘোমটা দিয়ে বসে আছে।
আমাকে দেখে নিচে নেমে আমাকে সালাম করল
ফাস্টে একটু ভয়ই পেলাম
কারণ ওর এমন নিরীহ
রুপ কখনো দেখি নি
,
-অই চামচিকা প্রপোস কর আমাকে (আরাধনা)
-কি বললি তুই
-যা,শুনলি
-অই মহিলা বর কে কেউ এই ভাবে বলে
-যা বলসি তাই কর বুজলি
-পারব না করতে
-পারবি না মানে তোর ঘার করবে
-ধুর পাগল মহিলা খালি হুমকি দেয়
-প্রপোস না করলে কিন্তু আমি
পুলিশ ডাকব
-থাম থাম করছি করছি
এই সব পুলিশ আমার
অনেক ভয় লাগে
*
*
-"এই অসভ্য পাগল মহিলা
তুমি কি আমার কোল বালিশ হবা......
হবে কি আমার বাবু আম্মু.....
প্রতিদিন তোমার লিপ্সটিক নষ্ট করার অধিকার টুকু দেব
আমায়,,,,,,,,,
সত্যি বলছি তোমার অই কাজল কখনও নষ্ট
হতে দেব নাহ সত্যি,,,,,
.....
.
হাটু গেড়ে ওর সামনে একটা
মাউন্টেন দিউর বোতল নিয়ে
কথা গুলো বললাম, দেখি পাগলিটা মুচকি মুচকি হাসছে
..
-এখন কি করি তাহলে(আরাধনা)
-কি আবার করব। ঘুমাব
-কি বল্ললা তুমি ঘুমাবা এখন
বাসর রাতে কেঊ ঘুমায় নাকি হা
-না না ভুতনু ঘুমাব কেন
আমি তো এখন তোমার লিপ্সটিক খাব,
-আগে লাইটটা অফ কর হনুমান
-থাম ভুতনি করছি,,,,,,,,,
.
.
.
লাইট তো অফ হয়ে গেল
এখন আপনারা হা করে কি দেখছেন।
ছি ছি এটা কিন্তু খুব খারাপ অভ্যাস অন্যের রোম্যান্স দেখা। যান যান
আপনারা এখন ঘুমান যান তো
.
.
.
লেখা:aonkkon chowdhury aradhona(চান্দের আরাধনা)

Saturday, September 2, 2017

--: স্বপ্নের বিপরীতে তুমি কিন্তু পুরোটা ভালবাসা :--

--: স্বপ্নের বিপরীতে তুমি কিন্তু পুরোটা ভালবাসা :--
:
......................দিশাহিন সুলতান
:
:
বাইরের দিকে তাকিয়ে অনবরত পা নাচাচ্ছে মাইশা। তার পা
নাচানোর কারণে টেবিলের উপর রাখা গ্লাসের পানি
কাঁপছে, আর তা দেখে অমিতের কলিজাটাও কাঁপছে। মাইশার
রিক্টারস্কেলে ১০ মাত্রার এমন কাঁপন দেখে তার ভাবি পায়ে
চিমটি কাটে।
-আউচ! ভাবি লাগছে তো।
-পা নাচাচ্ছিস কেন? দেখ ছেলেটা কিভাবে তাকিয়ে
আছে।
-এটা আমার অভ্যাস। জানো না মনে হয়! ছেলেকে
বাইরে তাকাতে বল।
কথা গুলো ফিশফিসিয়ে বললেও মাইশার ইচ্ছে করছে
জোরে চেচিয়ে চেচিয়ে বলতে, যাতে ছেলেটা
ভেগে যায়। কিন্তু সে পারছে না। দাদি বলেছে বিয়ের
কনেদের আসতে কথা বলতে হয়, লাজুক ভাব নিতে হয়।
কিন্তু লাজুক ভাবতো দুরের কথা মাইশা পুরো রাগি ভাব নিয়ে
বসে আছে। অমিতের দিকে এই প্রথম তাকাল মাইশা।
"সে কি! ছেলেটা স্পাইক করে আসছে কেন! বাবাটা যে
কি না! জানে আমি এমন গলা ছাঁটা মোরগ মার্কা ছেলে একদম
পছন্দ করিনা। তবুও কিভাবে পারলো? নামের সাথে চেহারার
কোন মিল নেই!" মনে মনে রাগে গরগর করতে থাকল
মাইশা। মাইশা আর অমিতকে কথা বলতে দিয়ে মাইশার ভাবি সরে
পরে।
অনেকক্ষণ নিস্তব্ধতা! টেবিলে রাখা চিকেন ফ্রাইটার দিকে
একবার তাকাল মাইশা। তার খুব পছন্দের। কিন্তু আসার সময় দাদি
এও বলে দিয়েছে "বিয়ের কনেদের বরের সামনে
খেতে নেই। তোকে সাধলেও খাবি না" "উফ! দাদিটা যে
কি! সব কিছুতেই তার পুরনো খেয়াল। এখন সামনে বসা
মোরগটাকেই সহ্য করতে হবে"
- কিছু বললেন?
চমকে উঠে মাইশা! "ছেলেটা কিছু শুনেনি তো!"
-নাহ বলিনি।
-তা আপনি কিসে পড়ছেন?
-বাইও ডাটা দেখেন নি?
-হ্যাঁ দেখেছি তো।
-তো জিজ্ঞেস করছেন যে?
-না আসলে কথা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আপনার কিছু জানার আছে?
-আছে?
-জি বলুন
-আপনার নামের সাথে আপনার চেহারার মিল নেই কেন?
-কি রকম?
-এই যেমন নামটা অমিত, আর চেহারা বলছে আমার নাম রকি!
-হাহাহাহা! তা অমিতদের চেহারা কেমন হতে হয়?
-অমিতদের চেহারা হঠাৎ বৃষ্টি ছবির ফেরদৌসের মত হয় কিংবা
হুমায়ুন আহমেদের শুভ্রের মত হতে হয়।
-হাহাহা.......মজার তো!
-হুম আসলেই মজার
মাইশা আবার অন্যমনস্ক হয়ে যায়। তার জীবনটাই কেন যেন
মজার হয়ে গেছে। এই যেমন তার বাবা-মা খুব মজা নিয়ে
তাকে বিয়ে দিচ্ছে। নিজেকে টেবিলে রাখা চিকেন
ফ্রাইটার মত মনে হচ্ছে তার। সবাই মজা নিয়ে খাচ্ছে আর
সে দেখছে।
আজ একটা বিরক্তিকর দিন গেছে মাইশার। অমিতকে পছন্দ না
হলেও বাবাকে বলেছে হয়েছে। কেন বলেছে তাও
জানে না। জানতে ইচ্ছেও করছে না তার, জানতে চাইলেই
হয়তো অমিতকে মেনে নেওয়া কষ্ট হবে। মাইশার একটু
নাক উঁচু স্বভাব আছে, জগতের কোন কিছুই যেন তার মত
করে হয়না। এই যেমন তার দাম্ভিক প্রকৃতির মানুষ পছন্দ অথচ
তার আশেপাশের মানুষগুলো সব কেমন জানি "দিলে বড়
জ্বালা" প্রকৃতির। সে নিশ্চিত অমিত ছেলেটাও এমন হবে।
ছেলেটার মধ্যে এখনো পিচ্চি পিচ্চি ভাব। সে হয়তো
কখনও বুঝবে না প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আইসক্রিম খাওয়ার মজা, অমিত
হয়তো বুঝবে না তপ্ত গরমে রবীন্দ্র সঙ্গীত
মুহূর্তেই সময়টাকে শীতল করে দিতে পারে, হয়তো
বুঝবে না বর্ষায় কোন একাকীত্ব নেই বরং হাজার হাজার
বৃষ্টির ফোঁটা বন্ধু হয়ে থাকে তোমার অজান্তে,
হয়তো......... মাইশার এসব ভাল লাগাকে সবাই উচ্চতর
পর্যায়ের পাগলামি ভাবে। মাইশার খুব ইচ্ছে করে ছাদের
রেলিং-এ পা ঝুলিয়ে বসে থাকতে। কিন্তু একবার বসতে
গিয়ে যা কেলেঙ্কারি হল। তার দাদি ভেবে বসে সে
আত্মহত্যা করতে চেয়েছে। সেই থেকে সে আর
বসে না। তার সব উদ্ভট ইচ্ছে গুলোর সাক্ষী হয়ে
থাকে একটা ডায়েরী।
ডায়েরীটার দিকে তাকিয়ে সে প্রায়ই ভাবে "এই
ডায়েরী ছাড়া হয়তো আর কেউ জন্মায়নি যে চোখের
ইশারাতেই বুঝে নিবে সব কিছু। যাকে ভালবাসি বলে চাপিয়ে
দেওয়া যাবে নিজের পাগলামি গুলো। ইশ! উপন্যাস পরে
আমার মাথা গেছে। সেই বিশেষ মানুষটা যে উপন্যাসের
নায়ক হতে হবে এমন তো কোথাও লিখা নেই" এসব
ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে।
মোবাইলে কলের শব্দে ঘোর কাটে মাইশার।
-হ্যালো!
-কেমন আছেন?
-কে বলছেন?
-আমি স্বপ্ন [হাসি]
-কিন্তু আমি তো জেগে আছি।
-আমি কি ঘুমের স্বপ্নের কথা বলেছি?
-ও আপনার নাম স্বপ্ন? তাহলে আমি দুঃখিত। এই নামে কাউকে
আমি চিনি না। রাখছি..........
-হ্যালো হ্যালো রাখবেন না প্লিজ। আমি অমিত।
-আমি জানতাম।
-কিভাবে?
-ভাবি আপনার নাম্বারটা মোবাইলে সেইভ করে দিয়েছিল
-তার মানে আপনি নিতে চান নি?
-মানে! ["এই ছেলে কিভাবে জানে এটা!"]
-মানে হল আমাদের মোবাইলে অন্য কেউ তখনি নাম্বার
সেইভ করে দেয় যখন আমরা নাম্বারটা নিতে চাই না, তাই না?
-আপনি তো বড়ই চালাক মানুষ।
-জি ["বোকা বউ পেলে সব পুরুষই চালাক হয়"]
-এক্সকিউজ মি! বিড়বিড় করে কি বললেন?
-না কিছু না। রাখছি ভাল থাকবেন। বিয়েতে দাওয়াত রইল।
মনের অজান্তে হেসে দেয় মাইশা। নিজেকে এমন
রূপে দেখে একটু অবাকই হল মাইশা।
এরই মধ্যে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে যায়। গায়ে
হলুদের দিন। অমিত তাকিয়ে আছে মাইশার দিকে। সাদা শাড়ি আর
হলুদ পাড়ের একটা শাড়ি পরেছে। হলুদের সাঁজে নাকি
মেয়েদের অনেক সুন্দর লাগে। এতটা লাগবে অমিত
জানতো না। অমিতের খুব গান গাইতে ইচ্ছে করছে, এটা
তো আর সিনেমা না যে নায়ক প্রেমে পরল আর পরের
দৃশ্যেই গান শুরু হয়ে যাবে। নাহ গানটা মাইশাকে একাই
শুনাবে। যদিও হলুদের অনুষ্ঠানে গাওয়া যেত, কিন্তু এটা একটু
বিশেষ গান।
গানের আসরের আয়োজন চলছে। মাইশা এক পাশে
অন্যমনস্ক হয়ে বসে আছে। হঠাৎ একটা মায়াবী ভরাট
কণ্ঠের গান মাইশার কানে ধাক্কা খেল।
"আমার ভেতর ও বাহিরে
অন্তরে অন্তরে আছ তুমি হৃদয় জুড়ে"
গায়কের দিকে তাকিয়ে মাইশা কি বলবে বুঝে উঠতে
পারেনি। অমিত তারই দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে গান গাইছে। এই
প্রথম মাইশা লজ্জা পেল। একদম আদর্শ নতুন বউয়ের
লজ্জা। তার স্বপ্নের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে এই
প্রথম ভাল লেগে উঠল। হয়তো তার প্রিয় গান গাওয়াতে,
কিংবা অন্যকিছু। আপাতত এই "অন্যকিছুর" কোন নাম দেওয়া যায়
না। বিয়েটা এত দ্রুত হয়ে গেল যে দুইজন দুইজনকে জানার
সময়টা পেল না। বিয়ের ঝামেলায় কেউ কাউকে খেয়ালি
করতে পারেনি এতদিন। বিয়ের দুইদিন পর। মাইশা, অমিত ও তার
বোন গল্প করছে। কিছুক্ষন পর অমিতের ছোট বোন
চিৎকার দিয়ে উঠে,
-ভাইয়া ভুমিকম্প!
-কই না তো।
-হ্যাঁ! বিছানা কেঁপে উঠল।
ততক্ষণে মাইশা পা নাচানো বন্ধ করে দিল। অমিত মাইশার
দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হেসে বলছে, "হ্যাঁ রে।
রিক্টারস্কেলে মে বি ১০ মাত্রা হবে"
মাইশা আড় চোখে অমিতের দিকে তাকাল। তার খুব হাসি
পাচ্ছে। কিন্তু দমে আছে। কয়েকদিন যেতে না
যেতেই মাইশা লক্ষ্য করল অমিত তার খুব কেয়ার নিচ্ছে।
নতুন পরিবেশে মাইশা যাতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে
প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে সেটা নিজ দায়িত্বে খেয়াল
রাখছে। মাইশাকে ভাবিয়ে তুলে, "এই ছেলেটা এমন
কিভাবে হতে পারে? আমি যেমন ভেবেছি তার বিপরীত।"
অনেকদিন পর ডায়েরীতে লিখতে বসে মাইশা। অমিত
আসার পর এই প্রথম লিখা। "ছেলেটাকে আজকাল বড্ড
বেশি ভাললাগে। একটু পিচ্চি তবুও। এই 'তবুও' র উপর নির্ভর
করে কোথাও হারিয়ে যেতে পারলে মন্দ হত কি? হ্যাঁ, ও
হয়তো চোখের ইশারায় সব বুঝবে না। আমি না হয় বুঝিয়ে
দিব। চোখ দিয়ে যদি সব হত উপর আলা তো আর মুখ
দিতেন না" লিখতে লিখতে সে খেয়াল করল সব কিছুতেই
তার এই পিচ্চি বরটা চলে আসছে। আর লিখার সাহস পাচ্ছে না।
ছাদে একা দাঁড়িয়ে আছে মাইশা। পেছনে অমিত এসে
দাঁড়ালো।
-কি আমার কথা ভাবছ? হিহি
-না তো। তুমি কি ভাবার বিষয়?
-আমি স্বপ্নের বিষয় না হলেও ভাবার বিষয়। হিহি
-হাসি ছাড়া তুমি কথা বলতে পার না?
-নাহ একদম না। তুমি হাসো না বলে কি আমিও হাসব না? দুইজনই
মুখ গোমরা করে রাখলে তো ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তার উপর
কোন অঘটন ঘটলে দেনমোহর তো আমাকেই দিতে
হবে তাই না? হিহি
মাইশাকে অমিত অবাক করেই চলেছে। হয়তো রুপকথার
রাজপুত্রের মত নয়, ডায়েরির পাতায় লুকিয়ে থাকা সেই
কেউ একজনের মত।
-মাইশা, তোমার নিশ্চয়ই এখন ছাদের রেলিং এ পা ঝুলিয়ে
বসতে ইচ্ছে করছে?
এবার মাইশা আকাশ থেকে মাটিতে না পরে, মাটি থেকে
যেন আকাশে উঠে পরেছে। কারণ মধ্যাকর্ষণ শক্তির
বিপরীতে আকাশে উঠাটাই সব চেয়ে অবাক করার মত কিছু।
- তুমি কিভাবে জানো?
-ম্যাজিক বুঝলে ম্যাজিক!
-তুমি কিছু লুকাচ্ছ!
অমিত পেছনে লুকিয়ে রাখা একটা জিনিস বের করল।
-আমার ডায়েরী! এটা কোথায় পেলে? আমাকে দিয়ে
দাও।
-নাহ দিব না। একটা কলম ৫ টাকা বুঝলে? কলম নষ্ট করে
ডায়েরিতে না লিখে আমাকে বলা যায় না?
-অমিত! আমার ডায়েরী দাও।
অমিত নিষ্পাপ চেহারায় ডায়েরী দিতে দিতে বলে, "আচ্ছা
এই তবুওর উপর নির্ভর করে কোথাও না হারাও কিন্তু কিছুক্ষণ
পাশে বসে থাকা যায় কি?"
-আমার সব উদ্ভট বায়নার ধারক হবে তো?
মাথা চুলকাতে চুলকাতে অমিত বলল, " আর যাই কর, ছাদের
রেলিং এ বসতে বল না প্লিজ। হিহি"
-পিচ্চি!
খোলা ছাদে বসে আছে দুই জন, মেঘলা আকাশ আর?
আর সেই বাকি থাকা গানটা-
"বধুয়া আমার চোখে জল এনেছে হায় বিনা কারণে
নীল আকাশ থেকে একি বাজ এনেছে হায় বিনা কারণে
দিনে দিনে মূল্য বিনে
সে যে আমায় নিলো কিনে"
--------------------- সমাপ্ত ---------------------

Friday, September 1, 2017

গল্পের নামঃ মায়াবী হাসি

গল্পের নামঃ মায়াবী হাসি
.
লেখকঃ নীল অর্দ্র (সিওনির মুগলি)
.
.
হাটছি উদ্দেশ্য একটা কাপড়ের দোকানে।
নিজের জন্য না ছোট বোনটার জন্য।
কালকে রাতে ফোন করে বললো.....
-ভাইয়া  এই বার ঈদে বাড়ি আসবি না?
-না রে আপু তোর কিছু লাগবে?
-ভাইয়া জানিস পাশের বাড়ির মেয়েটা একটা জামা নিয়েছে, আমাকে একটা কিনে দিবি?
বলেই জামার বিবরন দিলো!
মনে হলো তিনের কম হবে না!

>শহুরে থাকি।
গ্রামে মা আর বোনটা থাকে।
বাবা যখন মারা যায় তখন বয়সটা সবে ১০ পেড়িয়ে  বোনটার বয়স ৩।
মানুষের বাসায় কাজ করে লেখাপড়াটা শিখালো মা।

চাকরির খোজে শহুরে।
কিন্তু মামা আর খালু নেই  তাই ভাগ্য হলো না চাকরি। বাধ্য হয়ে টিউশনি।
তাতে যাই পাই বেশির ভাগটাই বাড়িতে পাঠাই।
ছোট বোনটা লেখাপড়া করছে।
এইবার এসএসসি দিবে।
কোন দিন কিছু চায় নি আমার থেকে গতকাল রাতেই প্রথম চেয়েছে।
দোকানে যেতেই অনেক ভিড়।
এই সময় ভিড়টা হওয়াই স্বাভাবিক।
খুব কষ্ট  করে ঠেলে ডুকলাম ভিতরে।
মুন্নির বর্ননা দেওয়া জামাটা চাইলাম।
প্রাইজ ৩০০০+।
পকেটে জামার কিনার টাকাটা হবে কিন্তু  পুরো মাস উপোস।
কোন কথা না ভেবেই কিনে ফেললাম।
পাঠিয়ে দিলাম গ্রামে।
জামাটা পাওয়ার পর খুব খুশি হইছে পাগলিটা।
সুয়ে আছি মেসে।
মেসের বড় ভাই এসে বললো মাসের মেস ভাড়াটা দিতে।
পকেটে মাএ ৩০০ টাকা পড়ে আছে।
এতেই পুরো মাসটা চলতে হবে।
জানি আমি পাড়বো।
মেসে মিলের খরচ লাগে না।
কারন আমি বাইরে খাই।
এতে কিছু টাকা বেচে যায়।
সকালে ৫টাকার বিস্কুট খেলেই চলে এক দুপুর।
দুপুরে রাস্তার ফুটফাত থেকে ভাত কিনে খেলেই চলে যায় রাতে খেলে খেলাম না খেলা খেলাম না। পানি তো আছেই।
ইদানিং ফুটফাতেও দামটা বেড়েছে।
এক প্লেটের জায়গায় আধা হলেই চলে।
সার্টের হাতাটা একটু ছিড়ে গেছে।
সেলাই করলে চলবে আরও কিছু দিন।

ঈদের মার্কেট বলতে কিছু নেই।
ঈদে বাড়ি না যাওয়ার উদ্দেশ্য হলো...
অধিক ভাড়া।
আগেই যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু টিউশনের টাকাটা না পাওয়াতে যাওয়া আর হলো না।
ভেবেছিলাম তবুও যাবো।
টিকেট-কাউন্টারে  গিয়ে ঘুরে আসতে হলো।
নীলু অবশ্য গ্রামের বাড়ি চলে গেছে।
ও জানে আমিও গ্রামে যাবো।
কিন্তু আমার আর যাওয়া হলো না।
ভাবছি বসে বসে।
ঘরির দিকে তাকিয়ে দেখলাম নয়টা পার।
সাড়ে ১০টায় মেসের গেট বন্ধ করে দিবে।
পেটটা একটু চিনচিন করছে।
খালি পেটে পানি খাওয়ার ফলেই হয়তো।
মোবাইল বেজে উঠলো...
-হ্যালো (আমি)
-কই তুমি?
-গ্রামে কেন?
নীলু ফোন দিয়েছে তাই মিথ্যাটা বললাম। কারন  ও যদি  জানতো আমার কাছে টাকা নেই।
ও নিজেই দিতে চাইলো।
নেওয়া হলো না বিবেকে বাধলো।
বড়লোকের মেয়ে টাকার কমতি নেই।
ওখান থেকে কিছু আমি নিলেও কিছু যায় আসে না নীলুর।
তবে বিবেকে বাধে খুব।
এখন যদি বলি টাকার কারনে গ্রামে যাই না তাইলে শহুরে চলে আসবে।
এটা আমি চাই না।
এমনিতেই ওর কাছ থেকে যা পেয়েছি এটাই অনেক।
বড্ড বেশিই ভালোবাসে মেয়েটা।
-খাইছো? (নীলু)
-হুমমম খেয়ে একটু গ্রামের পুকুরের পাশে বসলাম।
তুমি কি করছো ?
-কিছু না ভালো লাগছে না আমি তোমার গ্রামে যাবো?
-আরে না না
-কেন?
-ও তুমি বুঝবে না।
-বুঝাই বলো।
-পরে এখন বাই কালকে কথা হবে বাড়ির বাইরে থাকলে সমস্যা হবে এটা গ্রাম।
ফোনটা কেটে দিলাম।
ওকে একবার আমাদের বাড়িতে নিয়ে গেছিলাম।
মাটির বাসা।
সে কি পাগলামি,ছোটবাচ্চার মত।
নাহ্ এখনো মেসে যেতে হবে না হলে রাস্তায় থাকতে হবে।
রুমে যেতেই আবিদ ভাই ডাক দিলো,
-নীল শোনো
-বলেন ভাই।
-এই মাসের টাকাটাও বাকি?
কোন কথা না বলে মাথা নিচু করে আছি।
-এই ভাবে আর কত দিন?
যদি মনে করো চলে যেতে পারো।
টাকা মাফ পাবে অর্ধেক।

সরাসরি  না বললেও ইঙ্গিত দিয়ে বুঝিয়ে দিলো তার মনের কথা।
কোন কথা না বলেই রুমে চলে আসলাম।

সকালে নীলু ফোন দিলো।
-তারাতারি সব কিছু নিয়ে মেস থেতে বের হও আমি বাইরে আছি।
-মানে?
-আগে আসো।
বলেই ফোনটা কেটে দিলো।
দৌড়ে বাইরে গেলাম।
নীলু বাইরে দাড়িয়ে আছে রিকশা নিয়ে।
আমাকে দেখেই বললো,,,
-কি হলো কানে কথা যায়  নি কি বললাম?
-কিন্তু!
-তুই যাবি নাকি ঘাড়ে..........
কথাটা পুরো শেষ করতে দিলাম না।
রাগে গেলে এমন করেই বলে নীলু।
মেয়েটা যে কেন এতো বেশি ভালোবাসে বুঝি না।
জিনিস বলতে বেশি কিছু না।
কাপড়-চোপড় ছাড়া কিছুই নেই।
আমাকে দেখেই নীলু রাগে ফুলছে।
জানি আমার অপরাধ দুইটা।
(১) আমি মিথ্যা বলেছি (২) টাকার দরকার মেস থেকে চলে যেতে  বলেছে সেটা ওকে বলি নি।
বলতে বিবেকে বাধে।
কি করবো?
-তুই নাকি গ্রামে? তো এখানে কেন?
নীলু প্রশ্নের উওর না দিয়ে বসে আছি রিকশায়।
উওর নেই আমার কাছে।
দেখলাম আমার কাধে মাথা রেখে অন্য দিকে তাকিয়ে আছে।
-কালকে সোহানকে ফোন দিয়ে  জানতে পারলাম তুমি গ্রামে যাও নি আর তোমার মেসে সমস্যা হইছে।
আমাকে কেন বলো নি বলো?
-কি বলতাম?
-জানি না কিছু জানি না এখন আমি যা বলবো তাই করবা।
রিকশাটা বড় একটা বাসার নিচে থামলো।
বাসাটা তো নীলুদের না।
তাইলে?
ভিতরে নিয়ে গেলো।
চাবি খুলে বললো এই বাসাতে থাকবা আর মাসে মাসে ভাড়া দিবা।
রান্না আমিই করে দিয়ে যাবো।
-কিন্তু..!..
-হুমমমম প্রতি মাসে ভাড়া দিবা।
এতে সমস্যা কি?
-গ্রামে টাকা পাটাতে হয় তো।
-হুমমমম কত পাঠাও?
-৫,০০০ টাকা
-এইবার থেকে ১০,০০০ পাঠাবা।
-মানে কি?
-হুমমমম বাসা ভাড়া ৪হাজার টাকা।
-নীলু তুমি কি পাগল হয়ে গেছো?
-হ্যা হ্যা আমি পাগল হয়ে গেছি, যখন শুনি তুমি সকালে ৫ টাকা দিয়ে একদুপুর কাটিয়ে দেও। দুপুরে এক প্লেট ভাতের বদলে আধা প্লেট খাও।
আর রাতে পানি।
-দেখো নীলু যার যেটা সামর্থ  সে তো সেটাই করবে তাই না?
-না তুমি করবা না বলেই একটা কাগজ দিলো হাতে।
-এটা কি নীলু?
-কাল থেকে তোমার জয়েন্ট ঠিকানা মত চলে যেও।
মাসে ২২,০০০ দিবে।
বাসায় ১০হাজার  দিবা আর বাসা ভাড়া ৪ হাজার  ৬ হাজার দিয়ে  সারামাস চলবে,আর বাকি ২ দিয়ে ছুটির দিনে আমাকে নিয়ে ঘুরতে বের হবা যা  লাল চুরি কিনে দিবা প্রতিবার ঘুরতে গেলে।
আমার আমি তোমার কাধে মাথা রেখে বসবো।
কি চলবে?
-কিন্তু?
-তোরে মাইরাই ফেলামু এই চাকরি না করলে।
বলেই আমার বুকে মুখ লুকালো।
-আচ্চা নীল আমাকে তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে দিবে না?
করো না বাবু চাকরি টা তোমার জন্য না হলেও তোমার মা আর বোনের জন্য আমার জন্য করো।
সব ছেড়ে তোমার কাছে চলে আসবো।
দুইবেলা দুই মুঠো খেতে দিতে পারবে না?
ছোট করে উওর দিলাম "পারবো। "
-না পারলেও পারতে হবে। হি হি হি
হাসিটাতে আমাকে পাগল করে জানিনা কি মায়া আছে তাতে।
জানতে চাই না আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে দেখতে চাই ওই হাসিটা।
________________সমাপ্ত
.
.
লেখকের আইডিঃ নীল অর্দ্র(সিওনির মুগলি)