Wednesday, August 21, 2024

কলিং বেল চাপ দিলাম।কি বেপার কেউ দরজা খুলছে না কেন? ওই  তো আমার মহারানি দরজা খুলল।
'
ভিতরে ডুকতে যাব তার আগেই দরজা টা বন্ধ হয়ে গেল।আজিব তো।কি হলো।কাহিনী টা কি? আমি কি কোন ভুলটুল করলাম নাকি??আচ্ছা আগে আপনাদের সাথে পরিচিত হই।
আমি তাসফি আহমেদ। আপাতত একটা ভাল জব করি।বিয়ে করেছি বছর ঘনিয়েছে।আমার বউ এর নাম তানহা মেহেজামিন।ভালবেসেই সাদি করেছি। ওকে পেতে যে আমার কত বেগ পেতে হয়েছে বলার বাহিরে।সেদিকে আর যাচ্ছি না।এখন আমার একটাই চিন্তা ও দরজা টা আটকে দিল কেন?
আমি কিছুক্ষণ চিল্লাচিল্লি করলাম মানে ডাকলাম আর কি।কিন্তু তার কোনো আওয়াজ  নেই।কি করি কি করি হ্যাঁ ফোন দেওয়া যায়।
দিলাম ফোন।ধরেছ না কেরে।
আবার দিলাম।দুই তিন বার দিতেই ফোন টা ধরল।
:এত ফোন দিচ্ছ কেন?হ্যাঁ?সমস্যা কি?
আরেপ বাবা এত শক্তি পেল কই।আমার কানের একেবারে ভিতরে ডুকে গেল।মনে হচ্ছে  খুব রেগে আছে।
:কি হইছে বাবু।দরজা খুলোনা কেন গো?
:কি হয় নি সেটা বল।আর তোর কোন জায়গা নেই এই ঘরে। যা ভাগ।
তুই করে বলতেছে মানে আজকে আর আমার রেহাই নেই।কিন্তু আমি করলাম টা কি?আমার মা'টাও দরজা খুলছে না।আর আমি এখন শত বললেও আজ আর দরজা খুলবে না।তাই মুখ্যম চাল টাই চালতে হবে।
তাই বললাম
আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি যদি ঘরে না জায়গা তাহলে আর কি করার।আজ দুপুরে জুইদের বাসায় খাব।ও নাকি আবার খুব ভাল,,,,,,,,,,,,
(হা হা কথাটা শেষ হবার আগেই দরজা খুলে গেল।যারা প্রেম করেন তারাই কাহিনী টা বুজবেন। খুব জ্বলে যখন প্রিয়তমার মুখে অন্য কারো নাম শুনে)
এই আমারে টানছে কে রে।একি সেতি দেখি আমার শার্ট এর কলার ধইরা আমার মায়ের সামনে দিয়া আমাকে ঘরে নিয়ে জাচ্ছে।কিন্তু মা দেখি কিছু বলতেছে না।ঊল্টা মায়ের মুখ দেখে মনে হল
বাবা আজ বুজবা কত ধানে কত চাল।

আমাকে টানতে টানতে ঘরে নিয়ে গেল।তারপর আমাকে রেখে গেল দরজা আটকাতে।মায়ের কথাই সত্যি হবে তাহলে। তানহা আমার দিকে আগুন চোখে তাকিয়ে আছে।মনে হচ্ছে আমারে খেয়ে পেলবে।তাই আমাকে যথা সম্ভব শান্তি বজায় রেখে কথা বলতে হবে।আমি বললাম
:আর হবে না।এই দেখ কান ধরলাম। (কারফিউ যারির কারন টা আমি বুজতে পেরে গেছি।আসলে বাড়িতে আসার সময় একটা সিগারেট খেয়েচিলাম। কখন যে দেখে ফেলল।আমার জানা মতে ও তো এই সময় বেলকুনি তে আসে না।তাই সিগারেট টা খেতে খেতেই আসলাম। কিন্তু তানহা যে কিভাবে দেখে ফেলল।এই কারন টা একটু আগেই খুজে বের করলাম)
:
:কি হল কিছু বল না কেন? বললাম তো সরি।
কোন কথা নেই সরাসরি আট্ট্যাক করল।আমি দোড়াচ্ছি ও আমার পিছনে দোড়াচ্ছে।রুম টা বেশি বড় না। তাই ধরা পড়ে গেলাম।আমাকে ধরেই মারতে শুরু করে দিল।ও প্রতি টি কিলে আমি আমার জন্যে ভালবাসা অনুভুব করলাম।শেষে আর না পেরে ক্লান্ত হয়ে আমার বুকে মুখ গুজল।আমিই আমার বাহু ডোরে ওকে আবদ্ধ করলাম। কিছুক্ষণ পর  আমি অনুভব করলাম ও কান্না করতেছে।ওজে ছাড়িয়ে আমার বরাবর করে ওর দিকে তাকালাম নাকের সামনের খানিকটা লাল হয়ে গেল।
:এই তুমি কান্না করছ কেন?
:আমি সুখে কান্না করি। তুই জানো না সিগারেট খেলে কি হয়।
:হুম জানি।
:তাহলে খাও কেন? আমি তোমাকে হারাতে চাই না।তুমি ছাড়া যে আমি অপুর্ন।আমার জিবন টাই যে তোমাকে  নিয়ে।(এটা বলে আবার আমার বুকে মুখ গুজাল)।তোমাকে ছাড়া আমি বাচব না তাসফি। প্লিজ আর এমন টা করিও না।

আচ্ছা প্রিয় মানুষ টা যদি এমন কথা বলে তাহলে কি আর না করা যায়।
:আচ্ছা ঠিক আছে। এই তোমায় ছুঁয়ে বললাম।আর খাব বা।অকে??
:হুম মনে থাকে যে,?
আমার পাগলি টা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছে।আমিও ধরলাম। কিছুক্ষণ পর আমি বললাম
:এই একটা ইয়ে দাও না।?
:ইয়ে আবার কি?
:আরে তুমি বুঝ না।ইয়ে মানে মিষ্টি।
:না আমি তোমাকে দিব না।
এখন কি বলব ও সেটা জানে।তবুও কিছু করল না।তাই আমি বললাম
:তাহলে জুই,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,(মিষ্টি)    হুহ কি যে মজা (যদিও আমি বাস্তবে কখনওই খাই নি :লেখক)
ধন্যবাদ তোকে জুই।তুই না থাকলে আজ আমার কি হত।আপনাকে ধন্যবাদ লিখা টা পড়ার জন্যে।
#তাসফি_আহমেদ

""" ভালবাসা """
কিছুদিন থেকেই একটা মেয়ে আমার পিচু নিয়েছে। নিয়েছে তো নিয়েছেই।আর ছাড়ার নাম গন্ধ নেই।ওই মেয়েটার জন্যে ফেবু তেও থাকতে পারি না।খালি মেসেজ দেয়।কি যে করি।।।
রাতে শুয়ে শুয়ে একথাগুলোই ভাবছিল তাসফি। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল ও।
:তাসফি। এই তাসফি। উঠ। জলদি উঠ।
:হুম
:জলদি উঠতে বলছি। নামাজ পড়তে হবে।
:এইত উঠতেছি।যাও তুমি।
ওর মা ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর বলছে
:উঠ বাবা।উঠ। জামাত দাঁড়িয়ে যাবে। নামাজ টা পড়ে আয়।পরে না হয় আবার ঘুমিয়ে নিবি।
পরম স্নেহে কথা টা বলল ওর মা।
তাসফি ওর মাকে খুব ভালবাসে।তাই তাড়াতাড়ি উঠে গেল।
নামাজ পড়ে ঘুমায় না তাসফি। করন তখন ওর ঘুম আসে না।তাই সকালের প্রাকৃতি দেখতে বের হয়। চারদিকে ঘুরে বেড়ায় ও।সকালের বাতাস টা ওর খুব ভাল লাগে।মনের সকল বিষন্নতা কেটে যায় তখন।
নাস্তা করে ভার্সিটির পথে পাঁ বাড়ায় ও।ভার্সিটি গিয়ে ক্লাস এ যায়।বন্ধুদের সাথে কিছুহ্মন কথা বলে।যথা সময়ে ক্লাস শুরু হয়।
লাষ্ট ক্লাস টা হবে না।তাই বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেওয়া শুরু করে। ভালই জমে উঠেছে ওদের আড্ডা।
বাসায় পেরার পথে
:ভাইয়া ভাইয়া দাঁড়ান।
:জি বলেন
:আমি ইফতু। আপনাদের এলাকাতেই থাকি।
:কই আপনাকে তো কখনই দেখি নাই।
:তা দেখবেন কি ভাবে। যে ভাবে হাঁটেন।আসে পাশে কি হচ্ছে তার কি খেয়াল রাখেন
:তা ডেকেছিলেন কেন?
:খুব তাড়া আছে নাকি?
:না তা না।তবে দাঁড়িয়ে কথা বলতে ভাল লাগছে না।এমনিতেই যে গরম পড়তেছে। :আচ্ছা তাহলে চলেন। হাঁটতে হাঁটতে কথা বলি।
:হুম তাই ভাল।চলেন।
:আমি আপনার ছোট ভাইয়া। তাই তুমি করে বললেই খুশি হব।
:আচ্ছা তাহলে তাই হবে।
:বাই দা ওয়ে আপনি ফেবু তে আমার মেসেজ এর আনসার দেন না কেন?
:আমার ফ্রেন্ড লিষ্টে তুমি আছো না কি?
:হুম। "কাল্পনিক প্রেম "আইডি টা আমারি।
:ও তাহলে ওই বজ্জাত মেয়েটা তুমি ?
:কিহ আমি বজ্জাত?
:তা নয় তো কি।সারাদিন খালি মেসেজ দাও।পড়ালিখা কর কখন।
:তা আপনার না জানলেও চলবে। হুহ।
:আচ্ছা যাই।আমার বাড়ি এসে গেছে।
:এটা আপনাদের বাড়ি।
:কেন সন্দেহ আছে নাকি?
:না।সন্দেহ থাকবে কেন।
:বাই।
তাসফির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ ডাক দিল
:তাসফি
পিছনে পিরল তাসফি।
:ভাইয়া। আমার মেসেজ এর আনসার দিবেন কিন্তু। তা না হলে খবর আছে কিন্তু।
এই বলে পালাল মেয়ে টা।
তাসফি ভাবছে মেয়েটা এত দুষ্ট হল কোথা থেকে। প্রথমে নাম ধরে ডাকল।তারপর ভাইয়া বলল।আর আজিব বেপার হল ও আমার নাম জানলো কিভাবে।
:কিরে ঘরে আসবি না?
আমি চমকে উঠে পিছনে পিরলাম।মা দাঁড়িয়ে আছে।নিশ্চই তিনি আমাদের কথাফোকথন শুনে পেলেছেন।
আমি ঘরে গেলাম।ফ্রেশ হয়ে খেতে আসলাম। আমি জানি আমার মা খায় নি এখনো। মানুষ মাত্র দুই জন আমরা।তাই আমি আসলে আমার সাথে খায়।
খাওয়া শেষে আমি আমার রুম এ চলে আসলাম। কিছহ্মন পর মাও আসল। আমি মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লাম।মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। কি ভাল লাগছিল না।আমার মনে হয় আমার সারা জিবন এই কোলে থেকেই শেষ করে দিতে পারব।হঠাৎ মা বলে উঠল
:মেয়েটা কে রে?
:চিনি না মা।আমাদের ভার্সিটি তে নাকি পড়ে।
:তোর সাথে পড়ে?
:না।তবে কোন ইয়ারে সেটা আমার জানা নেই।
:সেকি তুই ওর থেকে জানতে চাস নি যে ও কিসে পড়ে?
:না মা।
:কেন?
:আমার ইচ্ছা হয় নি।
:তাই বলে জানতে চাইবি না ও কিসে পড়ে।
:আচ্ছা পরে জেনে নিতে পারব।এখন তুমি আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দাও তো মা।
:আচ্ছা ঠিক আছে।
:
:
কি বেপার। উনি এখনো ফেবু আসেন নি কেন? আমার কথায় আবার রাগ করেন নি তো।রাগ করলে তো আমি শেষ হয়ে যাব। এইসব ভাবছে ইফতু। ও এবার অনার্স থার্ড ইয়ার এ পড়ে।ইফতু তাসফি কে খুব ভালবাসে। এক কথায় তাসফি কে অন্ধের মতন ভালবাসে। আজ ৫ মাস হতে চলল।তাসফির সম্পর্কিত সব তথ্য ওর কাছে আসে।ও যে তাসফি ক্র ভালবাসে এটা ওর বন্ধু তানহা ছাড়া আর কেউই জানে না।মেয়ে মানুষ তো তাই বলতেও পারে না।বুক ফাটাবে মাগার মুখ ফাটাবে না।
::
::
রাত সাড়ে এগারো টা। তাসফি ফেবু তে ডুকল।সাথে সাথে ইফতুর মেসেজ এসে হাজির।
:কি বেপার আজ এত দেরি করে আসলেন যে।
:এমনি।কিছু পড়া বাকি ছিল।সেগুলা কাবার দিলাম আর কি।
:ওওওও
:আচ্ছা আপনি আমার নাম জানলেন কিভাবে?
:শুধু নাম না।আরও কত কিছু জানি আপনার সম্পরকে।।।।
:কিভাবে?
:হবে কোন এক ভাবে।ডিনার করছেন,
:হুম।আপনি,,?
ওদের মধ্যে অনেকহ্মন কথা হয়।তাসফি ইফতু এর সম্পর্কীয় সকল তথ্য জানে এখন।।ওদের কথা দিন দিন বাড়তে থাকে।এই কয় দিনে তাসফি কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারছে যে ইফতু কি বলতে চায়।কিন্তু ও এসব কিছুই শুনতে চায় না।ওর এমন এক জন কে চাই যে ওর মাকে হাসি খুশি রাখতে পারবে।ওর মাকে কখনই অবহেলা করবে না।আর এগুলা এই মেয়েকে দিয়া হবে না।অন্তত পহ্মে এই এক মাসে এটা বুঝতে পেরেছে। তাই ঈ চাচ্ছে যে ওই মেয়েকে সব জায়গা হতে ব্লক করে দিবে।কোন যোগাযোগ রাখবে না।মেয়েটা কে ওর খুব ভাল ল লাগত।কিন্তু কিছুই করার নেই। খুব ছোট বেলায় ভাবাকে হারায় ও।তারপর থেকে এই মাই ওকে এত বড় করে তুলেছে।তাই ও দুই বছরের সম্পর্কএর জন্যে ২৮ বছরের সম্পরক নষ্ট করতে চায় না।।ওর মাকে ও বৃদ্ধা আশ্রমে পাঠাতে চায় না। (এমন সন্তান বাংলার প্রত্যেক ঘরে থাকা আবশ্যক) মায়ের সুখের জন্য শুধু এই মেয়ে না।আরও অনেক মেয়েকেই এভাবেই ব্লক করে দিছে নিজের জিবন থেকে।
মেয়েটা কে ব্লক মারতে ওর হাত টা কেন যানি কেঁপে উঠল।ও ভাবল ও কোন ভুল করেছ না তো।পরহ্মনে এই সব চিন্তা বাদ দিয়ে ও ব্লক মেরে দিল
:
:
ইফতু যাথ রিতি তে ভার্সিটির পথে পা বাড়ালো।কিন্তু আজ আর পথে তাসফির সাথে দেখা হয় নি।ও ভাবল হয় তো ও আগে চলে গেছে। মনটা খারাপ হয়ে গেল।
ভার্সিটি তে উনি নেই।তাড়াতাড়ি করে ফেবু তে ডুকল।কিন্তু ও যখন দেখল ওকে ব্লক মারছে তখন ওর ভেতর এক অজানা ভয় কাজ করল। চারদিক যে অন্ধকার হয়ে আসল। নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে বাঁধাহিন ভাবে পানি পড়তে শুরু করে।
।কান্না করতে করতে মাটিতে বসে পড়ল। নিজেকে সামলে বাড়িতে চলে আসল।রুম এর দরজা বন্ধ করে বালিশের উপর মুখ চেপে কান্না করতে থাকল।যে কান্নার আওয়াজ এই চার দেওয়াল এর ভিতরেই থাকবে।কেউ শুনতে পাবে না এই কান্নার আওয়াজ। আজ এক সপ্তাহ ও ভার্সিটি যায় না।ঘর থেকেও বের হয় না।কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে কিছু বলে না।ওর মায়ের সাথেও ঠিক মতন কথা বলে না।
আজ তানহা আসল ওকে দেখতে। আসলে তানহাও খুব অসুস্থ। তাই এত দিন আসতে পারে নি।এসেই বন্ধুর এই অনুকুল অবস্থা দেখে জড়িয়ে ধরল। ইফতুও ওকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেংগে পড়ল।
:কাঁদিস না বোন।সব ঠিক হয়ে যাবে।কাঁদিস না।
ও শুধু কান্নাই করতেছে।
::
::
তাসফি রুম এ বসে আছে।নিজেকে কেমন জানি অপরাধী মনে হচ্ছে।কিন্তু ও বা কি করবে।হঠাৎ ওর মা
.......
পরের অংশে শেষ
সরি।পার্ট করে গল্প দেওয়ার ইচ্ছা আমার কোন কালেই ছিল না।বাধ্য হয়ে দিতে হল।
# তাসফি_আহমেদ

গল্পঃ বয়‌ফ্রেন্ড যখন কুরিয়ার ম্যান!!!•®

দারোয়ান আমার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষন ।
চোখ জুড়ে খানিকটা বিশ্ময় !
আসলে বেচারা ঠিক মেলাতে পারতেছে না ।

আমি আবার বললাম-এটা তো ২৭৫/সি তাই না ?-
জি !-
দুই তলায় জামান সাহেব থাকেন?
-জি !
-উনার নামে পার্সেল এসেছে !
-উনি তো এখন বাসায় নাই !

দারোয়ান এখন ও আমার দিকে সন্দের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে! আমার পোষাকের দিকে তাকিয়ে বিশ্বাস করতে পারছে না যে আমি কুরিয়ারের লোক হতে পারি !

আমি বললাম- আসলে উনার নামে না ঠিক । পার্সেল এসেছে উনার মেয়ের নামে ।
উনার মেয়ের নাম তো নিশি ?
তাই না ?
-হু !
-উনি আছেন ?
দারোয়ান কিছু যেন ভাবলো কিছুক্ষন ।
সন্দেহ এখন ও যাচ্ছে না ।

আমি বললাম-কি আছেন উনি ?
দেখুন আমার আরো কাজ আছে ।
আরো কয়েক জায়গায় যেতে হবে ।
এই দেখুন কত পার্সেল দিতে হবে ।
এই বলে আমার পিছনে থাকা
ব্যাগটার দিকে ইঙ্গিত করলাম।

আবার বললাম-
দয়া করে মিস নিশিকে একটু ডাক দেন ।-
নিশি আফা আছে কি না তো এখনও জানি না । তয় উনার মায়ে আছে ।-
উহু । মা থাকলে হবে না ।
পার্সেল উনার নামে আছে ।
উনাকেই সেটা নিতে হবে ।

-আফা তো পড়া শুনা করে ।
ক্লাসে যাইতে পারে ।-
আরে না । আজকে তার ক্লা........।
কথাটা বলতে গিয়ে আটকে গেলাম । দারোয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম ।নাহ !
বেটা ঠিক মত লক্ষ্য করে নাই আমি কি বলতে গেছি ।
নিজেকে একটু সাবধান করলাম ।
নিশির ক্লাস আছে কি না সেটা আমার জানার কথা না কিছুতেই ।
অপু মিয়া চুপচাপ বসে থাকো ।
এবং অপেক্ষা কর !
কথাবার্তা বল সাবধানে !

দারোয়ান আমাকে কিছুক্ষন দাড় করিয়ে রেখে বলল-
আচ্ছা আপনে খাড়ান । আমি ডাইক্যা আনি ।আমার মনটা খুশি হয়ে উঠলো ।
এই তো নিশি এখনই আসবে !
আমি এইবার জিতে যাবো ।

    আয় নিশি আয় !
আয়  নিশি   ডাক পারি !
     আমার নিশি কোন বাড়ি !

কিন্তু কয়েক মিনিট পরে দেখি নিশি না দারোয়ানের সাথে এক মহিলা নেমে আসছে ! একটু ভাল করে লক্ষ্য করতে বুঝতে পারলাম তিনি হয়তো নিশির মা হতে পারে ।
চেহারায় তো খানিকটা মিল আছে !
দারোয়ান আমার কাছে এসে বলল-
আফায় ঘুমাইতাছে ।
আপনে উনার মার কাছে দেন !
আমি একটু লক্ষ্য করে দেখলাম নিশির মা ও আমাকে খানিকটা সন্দের চোখে দেখতেছে ।নাহ !

এই শার্ট টা পরে আসা মোটেই উচিৎ হয় নাই । যে কারো সন্দেহ হতে পারে । নিশির মা আমার দিকে তাকিয়ে বলল-
তুমি কুরিয়ারের লোক ?
-জি ?
-কোন কুরিয়ার ?
-জি ! আমাজানবন !
-আমাজান বন ? এটা আবার কোন কম্পানি ? সুন্দরবন কুরিয়ার শুনেছি ! আমাজান বন তো শুনি নাই !

আমি খানিকটা অবাক হওয়ার ভাব করে বললাম-কি বলেন আন্টি ? নাম শুনেন নাই ? সুন্দরবন তো বাংলাদেশে আর আমাজান বন হল পুরা বিশ্বের । আন্তর্জাতিক মানের কুরিয়ার কোম্পানি । বিশ্বের সব গুলো মহাদেশে আমাদের শাখা আছে ।
-আচ্ছা ।
ঠিক আছে । ঠিক আছে । আমাকে দাও ।

-জি না আন্টি ! এটা হবে না । আমাদের কোম্পানি আন্তর্জাতিক মানের ! এখানকার নিয়ম ও আন্তর্জাতিক মানের । যার নামে পার্সেল তাকেই দিতে হবে ! তা না হলে আমার চাকরী থাকবে না ।-

আরে তোমার কোম্পানী কি জানে নাকি কে নিলো বা না নিলো ! আমিই যদি নিশি হয়ে নেই তাহলে তো সমস্যা নাই !

কসকি মমিন ? আপনে নিশি হইলে তো কামই হইতো!! আমি অতি বিনীত স্বরে বললাম-আন্টি এটা সম্ভব না কিছু তেই !
হয়তো আমি ধরা পড়বো না কিন্তু নিজের কাছে অপরাধী হয়ে থাকো .....।

আমর কিছু নীতি কথা শুনিয়ে দিলাম ।
এতে দেখলাম আন্টির মানে নিশির মায়ের সন্দেহ আরো গাঢ় হল !
আমার দিকে তাকিয়ে বলল-তুমি আসলেই কুরিয়ারের লোক তো ?
-জি আন্টি !
আইডি কার্ড দেখাবো ?
আমি খানিটা সঙ্কিত হলাম ।
কারন এখন যদি আন্টি আমার আইডি কার্ড দেখতে চায় আমি দেখাতে পারবো না ।
আসলে আমার নিজেরই খানিকটা সন্দেহ হচ্ছিল হয়তো আন্টি এখনই আমার আইডি কার্ড দেখতে চাইবে তাই নিজে থেকেই দেখাতে চাইলাম ।
এখান আল্লাহ ভরশা !
আমি তাকিয়ে আছি আন্টির দিকে ।
মুখটা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করতেছি ।আসলে সব দোষ ঐ ফাজিল মেয়েটার ।

ঐ দিন রাতে বলা নাই কওয়া নাই আমাকে বলল-তুমি আমাকে ভালবাসো না ?
-হুম বাসি তো !
-তাই ?-হুম
তো !-আচ্ছা । তোমাকে আমি তিন দিন সময় দিলাম । এই তিন দিনের ভিতরে আমার সাথে তোমার দেখা করতে হবে !-
আরে আবার কেমন কথা হল ?
চল কালকেই দেখা করি ।-
না ! আমি করবো না ! তুমি দেখা করবা । আমি বলবো না আমি কোথায় যাচ্ছি বা না যাচ্ছি । তুমি নিজে আমাকে খুজে বের করবা !

ঠিক আছে ?
-দেখ ! এটা কিভাবে হবে ? তুমি যদি নাই বল যে কোথায় আছো তুমি তাহলে আমি কিভাবে দেখা করবো?
-এটাই তো ! যদি পারো !
ভাল !
দেখা যাক !
আমি কত ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু কোন লাভ হল না !

তিন দিন সময় দিয়েছিল ।
বাকি দুই দিনে আমি সম্ভাব্য সব জায়গায়ই ঘুরে বেরিয়েছি কিন্তু ওর দেখা পাই নাই !
আজকে শেষ দিন ছিল ।
বাধ্য হয়ে এই পথে আসতে হয়েছে !নিশির মা আমার দিকে তাকিয়ে রইলো !
কিন্তু আইডি কার্ড দেখতে চাইলো না ।
আমার যখন মনে হল তিনি দেখতে চাইে না তখন আমি নিজেই আইডি কার্ড বের করার ভাব করলাম ।

আন্টি বলল-আচ্ছা ঠিক আছে । তুমি দাড়াও !আমি নিশিকে পাঠাচ্ছি !!আমি অপেক্ষা করতে থাকি ।
কিছুক্ষনের ভিতরেই নিশি হাজির ।
আমাকে দেখে খানিকটা অবাক আর বিশ্ময় ভাব নিয়ে তাকিয়ে রইলো আমার দিকে ।

কিছু বলতে যাবে আমি চোখের ইশারায় আমি ওকে মানা করলাম ।
বেশ কিছুক্ষন সময় লাগলো আসলে কি হচ্ছে সেটা বুঝার জন্য !
যখন সব কিছু বুঝতে পারলো তখন ওর সারা মুখে একটা মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে পরলো !
ওকে বললাম-ম্যাম আপনার নামে পার্সেল এসেছে !
-তাই ! কোথা থেকে ?
-একজন অতি আগ্রহে আপনার কাছে পাঠিয়েছে !
-কিভাবে বুঝলেন যে সে অতি আগ্রহে পাঠিয়েছে !
-না মানে আমাদের কুরিয়ারের এটা একটা রুলস । যে পার্সেল পাঠায় সাথে সাথে তার খানিকটা আবেগ ও দিয়ে দেয় ! এটাতে আমরা বুঝতে পারি কারটা কত জরুরী !

নিশি কিছু বলল না আর ।
কেবল মিসমিস করে হাসতে লাগলো !
আমি ওর কাছে একটা সিগনেচার বই এগিয়ে দিলাম ।
-এই খানে সই করেন ম্যাম !
নিশি সই করলো !
কিন্তু তাকিয়ে দেখি সেখানে সে নিজের নাম লিখে নাই । লিখছে
           "আই লাভ ইউ   " !
আমি বললাম-বাহ ! আপনি তো অনেক সুন্দর নাম সই করতে পারেন !নিশি কেবল হাসলো ।আমি হাটা দিলাম ।
আমার কাজ শেষ ।
এখানে থেকে আর নাভ নাই ।

আর আজ বিকালে তো দেখা হচ্ছেই!!
আমি যতবার পিছন ফিরে তাকালাম ততবারই দেখলাম নিশি আমার দিকে তাকিয়ে আছে !মুখে সেই মিষ্টি হাসিটা লেগেই আছে !

#আ‌লোহীন__ল্যাম্প‌পোস্ট

গল্পঃ #ভালোবাসার_ভালোবাসা
.
ঘড়িতে দৃষ্টি যেতেই দেখতে পারে রাত প্রায় ১১:৫৫ মিনিট বেজে গেছে। বন্ধুদের বিদায় জানিয়ে হালকা লাজুক মুখে নিজের রুমে প্রবেশ করলো সাইমন। রুমে প্রবেশ করতেই দেখতে পেলো পুতুল সাঁজে অপরুপ এক সুন্দরী কন্যা তার বেডে বসে আছে। ও হ্যাঁ বলতেই ভুলে গেছি আজ সাইমনের বাসর রাত। মনে একরাশ স্বপ্ন এবং মুখে এক চিমটি হাসি নিয়ে এগিয়ে যেতে লাগলো তার পুতুল বউয়ের কাছে। অনেকক্ষন ধরে আমতা আমতা করার পর প্রথম বিয়ের নার্ভাসনেস দূর করে সাইমন যেই তার নববিবাহিত বউ ইশরাতকে স্পর্শ করতে যাবে ঠিক তখনি ইশরাত সাইমনের দিকে তাকিয়ে বলে আমার কিছু বলার আছে। সাইমন ছোট্ট করে একটা হাসি দিয়ে বলে জ্বি বলুন কি বলতে চান?
.
----আমার বয়ফ্রেন্ড আছে এবং এই বিয়েটা আমার বিনা অনুমতিতেই হছে। আমি কখনোই আপনাকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে পারবো না এবং ভবিৎষতেও কখনো স্বামীর অধিকার দিতে পারবো না।
.
---- কতদিনের সম্পর্ক আপনাদের এবং তাহলে আমাকে বিয়ে করলেন কেনো??
.
----ওর সাথে আমার পরিচয় স্কুল লাইফেই। তখনো বুঝতাম না ভালোবাসার আসল মানে,শুধু ভাবতাম একটা ছেলে-মেয়ে হাসাহাসি,গল্প করা এবং একে-অন্যের পাশে থাকাই হলো ভালোবাসা। ভালোবাসার আসল মানে বুঝতে শুরু করলাম কলেজ লাইফে উঠে। মনে মনে ওকে অনুভব করতে লাগলাম। যখন ও অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলতো,হাসাহাসি করতো তখন আমার খুব রাগ লাগতো। মন চাইতো ওর সবগুলা চুল ছিঁড়ে ফেলি। এইসব রাগ থেকে আস্তে আস্তে আমি বুঝতে পারলাম আমি ওর প্রেমে পড়ে গেছি। এর কিছুদিনের মধ্যেই ও আমাকে প্রপোজ করে বসে। আমার সাদা কালো দুনিয়া যেনো তখন থেকেই রঙ্গিন হয়ে গেলো। কলেজ পাশ করে দুজন একি সাথে একই ভার্সিটিতে ভর্তি হলাম। সারাদিন এক সাথে বসে আড্ডা দেয়া,ঘুরাঘুরি করা এবং দিন শেষে রাতে চুটিয়ে ফুসকা খাওয়া। এইভাবেই চলছিলো আমাদের সম্পর্কটা। এই রঙ্গিনময় ভালোবাসার জীবনে হঠাৎ করেই নেমে আসে কালো অন্ধকারের ছায়া। বাবা আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। সমবয়সী হওয়ায় ওরো তখন কিছু করার ছিলো না। বার বার মানা করতে করতে অবশেষে পরিবারের চাপে এবং ভালোবাসার মানুষটি প্রতিষ্ঠিত না হয়ে উঠার কারণে বাধ্য হয় আপনাকে আমার বিয়ে করতে হয়।
.
---- তো আপনি এখন কি চাচ্ছেন,ডিভোর্স!!!
---- হুম,,আমার বয়ফ্রেন্ড একটা ভালো জব পেলেই আমি তার কাছে চলে যাবো। এর মধ্যে আপনি ডিভোর্স পেপার রেডি করুন।
.
কথাটা বলেই ইশরাত হাসা শুরু করে দেয়,সাইমনের মুখেও তখন দেখা দিয়েছে হাসির প্রতিচ্ছবি।
.
ডিভোর্স!!!! দিচ্ছি তোমাকে ডিভোর্স, দাড়াও দেখাচ্ছি মজা বলেই সাইমন ইশরাতকে জড়িয়ে ধরে। ইশরাতও হাসি মুখে সাইমনকে জড়িয়ে ধরে এবং মুখ ভেঙ্গচিয়ে বলে উঠে এই পাঁজি ছেলে কি হচ্ছে শুনি।
.
না,ইশরাতের বিয়ে অন্য কারো সাথে না তার ভালোবাসার মানুষটির সাথেই হয়েছে। সাইমনই হলো তার ভালোবাসার মানুষ,যাকে সে আজ চিরদিনের জন্য আপন করে পেয়েছে। অদ্ভুত রকমের এক পাগলি মেয়ে হচ্ছে ইশরাত। সারাদিন সব অদ্ভুত অদ্ভুত চিন্তা তার মাথায় বিরাজ করে। সাইমন এবং ইশরাত ভালো একটা চাকরি পাওয়ায় খুব সহজেই তাদের দুজনার পরিবার তাদের সম্পর্কটা মেনে নিয়ে বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। খুব সহজেই মেনে নেওয়ায় ইশরাতের মনে একটা অদ্ভুত ইচ্ছা জাগে যে বিয়ের রাতে সে সাইমনের সাথে একটু মজা করবে যেনো তার বিয়ে এক অপরিচিত ছেলের সাথে হয়েছে। সাইমনও ভালোবাসার মানুষটির এই দুস্টামি ময় আবদারটা হাসি মুখে মেনে নেয়।
.
---- এতো দেরি করে আসলে কেনো, হ্যাঁ? সেই কখন থেকে অপেক্ষা করে আছি আমি।
---- আমার বউটার দেখি আর তর সইছে না।
----- যাও ফাজিল কোথাকার,এইসব কি বলো আমার লজ্জা করে তো।
----ওরে আমার লজ্জাবতী বউ এতো লজ্জা করলে চলবে তাও আবার আমার কাছে কথাটা বলেই সাইমন ভালোবাসার এক পবিত্র চিহ্ন এঁকে দিলো ইশরাতের ঠোঁটে। রুমের লাইট বন্ধ হওয়ার সাথেই শুরু হয়ে গেলো তাদের ভালোবাসার নতুন জীবনের ভূমিকাময় বাসর রাত যেখানে থাকবে শুধুই ভালোবাসার মানুষটির অফুরন্ত ভালোবাসা।
.
লেখকঃ  #ShahaRier_Nasim_Sweet.

গল্পের নামঃ কালো বউ
_______ লেখকঃ Sajib Mahmud Neel (সিওনির মুগলি)
.
.
.
. . বাসর ঘরে ডুকেই দেখি মেয়েটা লাল ঘোমটা দিয়ে বসে আছে।
দেখে মনে হয়ে একটা কালো ড্রামকে লাল কাপড় দিয়ে ডেকে রাখা হয়েছে।
কালো মানে একটু বেশিই কালো।
বিয়ের আগে কেউ জানতাম না।
মেয়ে দেখানোর সময় অন্য একটা মেয়েকে আমাদের সামনে আনা হয়েছিলো।
বিয়ের সময় জানতে পারি ওটা ওর চাচাতো বোন ছিলো।
বাবা এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিত্ব তাই ঝামেলা করে নি।
বাবা বিয়ের আসরে কানে কানে এসে বললো, এখন বিয়েটা করে নে পরে ছেড়ে দিবো।
বাবার কথায় রাজি হয়েছিলাম ইচ্ছার বিরুদ্ধে। মেয়েটা বসে আছে খাটে।
কাছে যেতেই মেয়েটা দৌড়ে এসে পা ধরলো।
-  আরে আরে কি করছো এই টা ছাড়ো বলছি।
-  প্লিজ আমাকে মাফ করে দেন!
আমি বিয়ে করতে চাই নি আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়েছে আপনার সাথে!
-মানে?
-  আমার চাচা তার মেয়েকে দেখাইছিলো আর আমাকে বিয়ে দিয়ে দিছে।
ছোট বেলায় বাবা মাকে হারিয়েছি!
আমি কালো বলে আমার বিয়ে হচ্ছিলো না আর চাচা চাচি আমাকে দেখতে পারে না তাই তাদের বাড়ির আপদ বিদায় করতে এমন টা করেছে। -  মানে কি সে তো তোমার বাবা!
-  না মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিয়েটা দিয়েছে।
ওর কথা শুনে থো হয়ে গেলাম।
মেয়েটা অঝর নয়নে কাদছে।
কোন কথা না বলেই বালিশ নিয়ে বেলকোনীতে চলে আসলাম।
ভাবছি কি হতে কি হয়ে গেলো।
একটু পর কারও পায়ের আওয়াজ পেলাম!
ওঠে দেখি মেয়েটা।
-  কি হলো যাও ঘুমাও
-  না মানে আপনি বিছানায় যান আমি এখানে ঘুমাচ্ছি।
-  বেশি কথা না বলে যাও।
মেয়েটি ভয় পেয়ে গেছে।
বুজলাম জোরে কথা সইতে পারে না।
সকালে বাইরে যেতেই সবার কানা ঘোষা শুনতে পেলাম।
ওদের কথার প্রতিবাদ করার শক্তি নেই।
বাসায় চলে আসলাম।
বাসায় আত্বীয় সজনের ভীড় পরে গেছে।
সবাই গোল হয়ে বসে আছে আর মাঝখানে মেয়েটা। সবাই ওর উদ্দেশ্য নানান কটু কথা বলছে কিন্তু কোন উওর না দিয়ে মাথা নিচু করে বসে আছে। গাল বেয়ে বেয়ে পানি পড়ছে।
আমি যেতেই সবাই চুপ হয়ে গেলো।
-  সজীব এই মেয়েকে নিয়ে তুই সংসার করতে পারবি ছেড়ে দে তোর জন্য আরও অনেক মেয়ে দেখবো।
-  খালা আপনি আমার বিয়েতে আসছে আমার জীবন সাজানোর দ্বায়িত্ব আপনার না আর হ্যা নিজের ঘর ঠিক করেন! মেয়েকে সাবধান করেন নইলে আমার তো একটা জুটেছে ওর সেটাও জুটবে না।
-  সজীব!
-  মন খারাপের কথা না এটা সত্যিটা বললাম!
-  তাই বলে এই মেয়েকে নিয়ে সংসার করবি?
-  ওই যে বললাম নিজের জীবন নিজেই সাজাবো।
-  যা ইচ্ছা কর পরে দোষ দিতে পারবি না বলে দিলাম।
-  ভুল বললেন খালা!আচ্ছা যাই হোক নিতুকে দেখে রাখেন অনেক তো হলো আর কত?
আমার কথার কোন উওর না দিয়ে ডিং ডিং করে চলে গেলো।
-  এই যে আপনি কি যেন বলছিলেন ওকে ও হ্যা বউ আনলে সুন্দরীই আনতে হবে তাই তো। পাশের বাসার আন্টির উদ্দেশ্য করে বললাম।
-  হুমমম তাই তো
-  আপনার মেয়ে কে কোথায় যেন বিয়ে দিলেন? তারা কি এমন কথা বলেছে?
-  মানে?
-  ওই যে আপনার মেয়ের তো একটা চোখের সমস্যা তাই না?
বুঝলাম এই মহিলার আমার গুষ্টি উদ্ধার করে দিয়ে চলে গেলো।
-  আর হ্যা আপনি কি যেন বললেন বউ সুন্দর না হলে সমাজে বের করা যাবে না তাই তো।
পাশের বাসার আরেক আন্টিকে বললাম!
-  হুমমম সত্যিটাই তো বললাম।
-  ও আচ্ছা আপনার ছেলের বউ তো অনেক সুন্দর তাই না?
-  হুমমম তা তো হবেই দেখতে হবে না কার ছেলের বউ!
-  ঠিক বলছেন যেমন শাশুর তেমন বউ!
-  কি বলতে চাচ্ছো তুমি?
-  ওই যে সেইদিন শুনলাম আপনার ছেলের বউ আর পাশের বাসার ছেলেটার নাকি ভিডিও অাপলোড হইছে দেখছেন?
কথাটা শুনার সাথে সাথে মহিলার মুখ কালো হয়ে গেলো। সবাই চলে গেলো!
মেয়েটা বসে আছে আগের মতই।
ওর কাছে গেলাম!
-  ওই মেয়ে তোমার মুখে কোন কথা নাই?
ওরা বলছে আর তুমি শুনছো?
ওদের কিছু বলতে পারো না যত্তসব!
-  কি বলবো!
-  কিছু বলতে হবে না যাও ঘরে! মেয়েটা ঘরে গেলো!
সত্যিই মেয়েটা অনেকটাই কালো!
তবে একটু মায়াবতীও বটে।
কালো মেয়েরা মনে হয় এমনি হয়!
বাবার ঘরে গেলাম।
বাবা বসে আছে সাথে মাও।
আমাকে দেখেই বললো,
-  আয় বাবা কিছু বলার ছিলো।
-  হুমমম বাবা বলো
-  দেখ যা হবার হয়ে গেছে এখন মেয়েটার পরিবারকে কিছু টাকা দিয়ে না হয় ডিভোর্স দিয়ে দিই কি বলিস!
-  থাক না বাবা!
-  মানে
-  ছাড়বো না
-  কিন্তু......
-  বাবা আমি যদি ওকে নিয়ে সুখে থাকি তোমরা সুখি হবে না বলো?
-  তবুও তোর জীবন টা এই ভাবে!
-  আমার জীবনের কিছু হয় নি তোমরা দোয়া করো সব ঠিক হয়ে যাবে।
ঘর থেকে বের হয়ে আসলাম!
জানি বাবা মা খুব খুশি হইছে।
রুমে এসে দেখি মেয়েটা বসে বসে কাদছে।
-  এই মেয়ে সমস্যা কি হুমমমম সব সময় এমন করে কাদো কেন?
-....................!
-  কি হলো!
-  কিছু না।
-  চলো তোমাকে নিয়ে বাইরে যাবো!
-  না আমি যাবো না আপনিই যান।
-  আবার বেশি কথা বলে যা বলছি তাই করো রেডি হও!
একটু জোরেই কথাটা বললাম।
কথাটা শুনে ওর ঠোট কাপতে লাগলো ভয়ে। ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
-  কি যাবে না বাইরে?
কোন উওর না দিয়ে মাথা নাড়লো।
রিকশায় বসে আছি উদ্দেশ্য আমাদের আড্ডা খানায় যেখানে আমরা সব বন্ধুরা আড্ডা দিই। ওকে নিয়ে গেলাম ওখানেই।
বুঝলাম সবাই কানাকানি করছে আমার ব্যাপারে। মেয়েটা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।
সবাই আমার কাছে আসলো।
-  সজীব তুই এমন একটা কালো মেয়েকে বিয়ে করলি? (সজল)
-  দোস্ত একটা কাজ করতে পারবি?
-  বল কি!
-  তোর বউটা আমাকে দিয়ে দে!
-  মানে?
-  মানে আর কি এটা তো কালো তাই ভাবছি তোর সুন্দরী বউকে আমি নিবো!
আমি জানি তোর কোন সমস্যা হবে না অনেক ছেলেরই তো ছোয়া পেয়েছে তোর সুন্দরী বউ তাই না?
সজল কোন কথা বলছে না।
চলে আসলাম ওখান থেকে।
আসার পর মেসেজ দিলাম "সরি "
আমি আর আমার বউটা বসে আছি একটা খোলা মাঠে।
ছেলেরা খেলা করছে আর আমরা প্রেম।
-  আপনার তো আমাকে নিয়ে অনেক সমস্যা হলো তাই না?
-  কিসের?
-  এই যে কেউ আমাকে পছন্দ করে না
-  আমি তো করি তাই না?
-  তবুও ওদের সাথে তো জগড়া হলো!
-  ওরা তো বন্ধু পরে ঠিক হয়ে যাবে!
-  ও
-  ভালোবাসবে তো সারাজীবন?
আমার প্রশ্ন শুনে আমার মুখের দিকে তাকালো! মনে হলো ওকে প্রশ্ন করা হয়েছে এমন কিছু যার উওর দেওয়া খুব কষ্টকর। অনেক ক্ষন পর বললো, ""বাসবো""
ওর কোলে মাথা রেখে সুয়ে আছি! পশ্চিমাকাশে সূর্ষটা ডুবতে চলেছে আর তার সাথেই শুরু হলো আরেকটা প্রেমের গল্প। __________________ সমাপ্ত